Home "ধারাবাহিক গল্প অনুভবে শুধুই তুমি অনুভবে শুধুই তুমি পর্ব-৩১+৩২+৩৩

অনুভবে শুধুই তুমি পর্ব-৩১+৩২+৩৩

0
639

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব৩১

***************************
ফজরের আযানের পূর্ব মুহুর্ত। হঠাৎ করে ঘুমের মধ্যেই ছটফট করে উঠলো মৌ। থেকে থেকে তলপেটে চিনচিন ব্যথা অনুভব করছে মেয়েটা। ব্যথাটা আরেকটু বাড়তেই ঘুম ছুটে গেলো ওর। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে কোনোরকমে উঠে বসলো বিছানায়। উঠতে অনেক কষ্ট হয়েছে তবুও মাহিরকে ডাকেনি। কেমন একটা চাপা অভিমান কাজ করছে ভেতরে ভেতরে। কারণ এখনো বারবার মাথায় ঘুরছে মাহির ওকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিছুতেই মাহিরকে ডাকবে না সে। মৌ ভাবলো হয়তো এমনিতেই ব্যথা করছে। কিছুক্ষণ লম্বা লম্বা শ্বাস টেনে আবার ছাড়লো মেয়েটা। ভাবলো এতে করে ব্যথা কমে যাবে। মাত্র তো ৩৬ সপ্তাহ চলছে। নরমাল ডেলিভারিতে এখনো সপ্তাহ তিনেক বাকি। তাছাড়া ডাক্তার বলেছে সি’জার করালেও ৩৭ সপ্তাহ পরে করাবে। তাই আপাতত মৌ ভাবলো হয়তো বা গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা হচ্ছে ওর। হবে নাই বা কেনো? গোটা প্রেগ্ন্যান্সি জুড়েই গ্যাসের ঔষধ খেতে হয়েছে মেয়েটার। শুরু থেকেই গ্যাস্ট্রিকের কারণে মাঝে মাঝে হালকা ব্যথা নয়তো বুক জ্বালা-পোড়া করতো ওর। তাই এবারো সেই ব্যথাই ভাবলো মেয়েটা।

ব্যথাটা ধীরে ধীরে বাড়ছে বৈ কমছে না। মৌ আর টিকতে পারছে না। ভাবলো একটু ওয়াশরুমে যাওয়া দরকার। যদি এতে করে একটু হলেও স্বস্তি পায়। বিছানা থেকে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো মেয়েটা। তিন থেকে চার কদম এগোতেই ঘটলো বিপত্তি। ফ্লোর জুড়ে তরলে ভরে গেলো। মৌ প্রথমে খুব লজ্জা পেলো। ভাবলো ও নিজেকে কন্ট্রোল করতে না পেরে কাপড় ভিজিয়ে ফেলেছে। পরক্ষণেই ব্যথা বেড়ে গেলো কয়েকগুন । মাহিরকে এবার লজ্জায়ই ডাকতে পারছে না। ওকে এই অবস্থায় দেখলে কি ভাববে মাহির। ছিঃ!!কি লজ্জার ব্যাপার। কিন্তু হঠাৎ করেই ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রভাবে বাড়তে লাগলো। এবার মৌয়ের মস্তিষ্ক সজাগ হলো। ওর তো প্রস্রাবের বেগই ছিলো না। তাহলে এতো পানি কিভাবে….চোখ বড় বড় হয়ে গেলো ওর। তাহলে কি পা….পানি ভেঙে গেছে ওর? থরথর করে শরীর কাঁপতে লাগলো মেয়েটার। এক পা এগোনোর শক্তি নেই শরীরে। ভয়ে রিতীমত কাঁপছে মৌ। কোনোরকমে সাহস যুগিয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে ডাকলো….

~~~ম…ম…মাহির…. মাহির….

কিন্তু মাহির তখনো বেঘোরে ঘুমোচ্ছে। আরোও কয়েকবার ডাকলো মৌ। কোনো সারাশব্দ পেলো না। অতঃপর ব্যথা সহ্য করতে না পেরে মেয়েটা গগনবিদারী এক চিৎকার দিলো। অমনি মাহির লাভ দিয়ে উঠে বসলো। ডিম লাইটের আলোয় মৌকে খুঁজতে এদিক ওদিক তাকাতেই দেখলো মেয়েটা প্রায় ব্যথায় আর্তনাদ করতে করতে ঢলে পরে যাচ্ছে। মাহির দৌঁড়ে গিয়ে ধরলো মৌকে। পায়ের নিচে পানি লাগতেই মাহির অবাক হয়ে বললো….

—— মৌ,তুমি এখানে কেনো……

ওমনি মৌ এক কিল মারলো মাহিরের পিঠে। ব্যথায় চোখমুখ খিঁচে ফেললো ছেলেটা।রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।

~~~ হি’সু করিনি আমি। পানি ভেঙে গেছে আমার। কতক্ষন ধরে ডাকছি আমি শুনতে পাস না? আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চল. এক্ষুনিইইইই…

মাহির অবাক হতেও ভুলে গেলো। মৌ ওকে তুই তুকারি করছে ? আজ পর্যন্ত তো কখনো এভাবে তুই তুকারি করেনি মেয়েটা। মনে মনে একটু কষ্ট পেলো তবুও শান্ত থাকলো মাহির। বুঝলো বউ তাঁর ব্যথায় হিতাহিতজ্ঞানশূন্য হয়ে গেছে।

——- ত….তুমি একটু বসো আমি বড় আম্মু আর আম্মুকে ডাকছি।

~~~ জলদিইইইই….

রাগে কটমট করতে করতে বললো মৌ। মাহির পাশে রাখা টিশার্ট জড়িয়ে দৌঁড়ে গেলো মায়ের ঘরে। রেহানা খান মাত্রই নামায শেষ করে দাঁড়িয়েছেন। দরজায় টোকা পরতেই গিয়ে দরজা খুললো….

—— আম্মু জলদি চলো,মৌ কে হাসপাতালে নিতে হবে।

রেহানা খানও অবাক হলেন। মাত্র তো ৩৬ সপ্তাহ। এখনই কেনো? তবুও প্রশ্ন না করে বললো….

“আসছি”

——- বড় আম্মুকে ডাকতে যাচ্ছি। তুমি মৌ এর কাছে যাও,ও একা ঘরে ।

রেহানা খান দৌঁড়ে মৌ এর ঘরে গেলেন। মেয়েটা ব্যথায় শুয়ে পরেছেন ইতোমধ্যে । গিয়েই ওকে জড়িয়ে ধরে উঠে বসালেন।

“এই তো মা একটু ধৈর্য্য ধরো। আমরা এক্ষুনি হাসপাতালে যাবো।”

~~~ আপনার ছেলেকে আসতে বলুন মা, আমার সহ্য হচ্ছে না এই ব্যথাআআআআআ…….

ততক্ষণে তানিশা আহমেদ ও চলে এসেছেন। মাহির ফাইলপত্র সব গুছিয়ে ফেলেছেন।

“তোরা ওকে নিয়ে হাসপাতালে যা। আমি সবকিছু গুছিয়ে মিম আর মিতুকে জাগিয়ে রেখে আসছি। নিয়ে যা ওকে জলদি।”

মৌ তখনও সমানে আর্তনাদ করেই চলেছে। মাহির আর রেহানা খান ওকে ধরে গাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেলো। মুজাহিদ আহমেদ তখনও মসজিদে। আর মুশতাক আহমেদ দেশের বাইরে। মৌকে ধরে গাড়িতে বসালো মাহির। তীব্র ব্যথার মাঝেও কেনো যেনো একবার চোখ বুলালো পুরো বাড়িটার উপর।

সাঁই সাঁই করে হাসপাতালের দিকে ছুটতে লাগলো গাড়িটা। মৌ তখনো ব্যথায় ঠোঁট কামাড়ে সমানে আর্তনাদ করেই চলেছে। রেহানা খান এটা সেটা স্বান্তনার বাণী শোনাচ্ছে এবং সাহস দিচ্ছে। মাহির যত দ্রুত সম্ভব গাড়ি চালাচ্ছে হাসপাতালের দিকে। সকাল সকাল হওয়ায় জ্যাম নাই দেখে দ্রুতই পৌঁছে গেলো হাসপাতালে।

হাসপাতালে পৌঁছাতেই মৌকে ইমারজেন্সি লে’বার রুমে নেওয়া হলো। মাহির খুব করে চাইছিলো মৌ এর সাথে যেতে কিন্তু বাঁধ্য হয়েই ওকে বাইরে থেকে যেতে হলো । লে’বার রুমে নেওয়ার সময় মৌ মাহিরের হাতটা ছাড়তে চইছিলো না। কিন্তু বাঁধ্য হয়েই ওকে ছাড়তে হলো।

মাহির সমানে বাইরে পায়চারি করছে আর রেহানা খান তসবিহ পড়ছেন। দো’য়া দুরুদ পাঠ করছেন। ততক্ষণে মুজাহিদ আহমেদ এবং তানিশা আহমেদ ও চলে এসেছেন। আধাঘন্টা পরে ভেতর থেকে জোড়ে জোড়ে একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ ভেসে আসতেই সবার চোখ-মুখ খুশিতে জ্বলজ্বল করে উঠলো।

#চলবে…..

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব৩২

***********************************
লে’বার রুম থেকে শিশুর কান্নার শব্দ ভেসে আসতেই বাইরে অপেক্ষরত সবার মুখে স্বস্তির ছাপ ফুটে উঠলো। মাহিরের বুকের ভেতর জমে থাকা পাথরটা যেন একটু হলেও নড়ল। সে প্রায় ছুটে দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। প্রথম বার বাবা হওয়ার অনুভূতি, সন্তানের মুখ দেখার আনন্দ তাঁকে অন্যরকম এক আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো। এই মুহুর্তে তাঁর ঠিক কেমন লাগছে বলে বুঝাতে পারবে না। মাহির সহ সবাই অধির আগ্রহ নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া প্রাণটির অপেক্ষায়।

কিন্তু হঠাৎ করেই ভেতরের পরিবেশটা কেমন যেনো বদলে গেল।কয়েকজন নার্স দ্রুত এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করতে লাগল। বাহির থেকে আরেকজন মহিলা ডাক্তার তাড়াহুড়ো করে ভেতরে ঢুকে গেলেন। আরেকজন নার্সের হাতে জরুরি কিছু যন্ত্রপাতি। ডাক্তারের পেছন পেছন সেও ভেতরে প্রবেশ করলো। এসব দেখে মাহিরের বুকটা ধক করে উঠল। ওর মৌ ঠিক আছে তো? সেই মুহুর্তে একজন নার্স বাহিরে বের হলো তোয়ালে মোড়ানো ছোট্ট একটি বাচ্চা কোলে নিয়ে। তাঁকে দেখে মনে হলো সেও খুব তাড়াহুড়ো করছে। মাহিরের তখন বাচ্চার প্রতি খেয়াল ছিলো না। রেহানা খান দ্রুত কোলে নিলো। মাহির কৌতূহল দমিয়ে রাখতে পারলো না।

—— কী হয়েছে? সব….সব ঠিক আছে তো? আমার….আমার স্ত্রী ঠিক আছে তো?

নার্স কিছু না বলেই ভেতরে ঢুকে গেলো। এমনকি কি বাচ্চা হয়েছে সেটাও বললো না। এতো তাড়াহুড়ো করলো সে। কোনো প্রকার উত্তর দিলো না।
রেহানা খান সহ বাকি সবাই অবাক হলেন। তোয়ালেটা একটু সরিয়ে দেখে নিলেন। নাতনি হয়েছে তাঁর। তানিশা আহমেদ এবং মুজাহিদ আহমেদকে জানালেন। মাহিরের সেদিকে ধ্যান নেই। এতোক্ষণ ধরে যার অপেক্ষায় ছিলো এখন আর তাঁর জন্য মনে কোনো কৌতুহল জাগছে না। সব ধ্যান জ্ঞান ঐ লেবার রুমের ভেতরে আটকে আছে।

সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড যেন একেকটা বছরের সমান দীর্ঘ মনে হচ্ছে মাহিরের কাছে। ভেতর থেকে কোনো নার্স বা ডাক্তার কেউ বের হচ্ছে না।।
অবশেষে একজন ডাক্তার বেরিয়ে এলেন। তাঁড়া দিয়ে বললেন।

“O- রক্তের ডোনার রেডি করুন যতদ্রুত সম্ভব। রুগীর ব্লিডিং হচ্ছে প্রচুর পরিমানে। আমরা ও.টি তে নিচ্ছি।”

আকাশ ভেঙে মাথায় পরলো মাহিরের। ও.টি! ব্লাড! এসব কেনো? মৌ এর না নরমাল ডেলিভারি হলো? তাহলে? কিন্তু কিচ্ছু জিজ্ঞেস করার আগেই ডাক্তার ভেতরে চলে গেলো আবারো।

মাহির সাথে সাথে রক্তের খোঁজ করতে চলে গেলো। ওদের কারো রক্তের গ্রুপ O- নয়। আসলে মৌ ওর মায়ের রক্তের গ্রুপ পেয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত ব্লিডিং হওয়ার ধরণটাও। মায়ের থেকেই জেনেটিকভাবে পাওয়া। আলেয়ারও মৌ এর জন্মের সময় অতিরিক্ত ব্লিডিং হয়েই মৃত্যু হয়েছিলো। এখন মৌ এর ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে।

সবাই খুব টেনশনে পরে গেলো। এতো অল্প সময়ে এতো রেয়ার একটা গ্রুপের রক্ত পাওয়া খুবই মুশকিল। ডাক্তাররা অলরেডি ও.টি তে নিয়ে গেছে মৌ কে। হাসপাতালে যত ব্যাগ রক্ত ছিলো তা দিয়েই ও.টি শুরু করেছেন। নার্স এসে বারবার রক্তের জন্য তাগাদা দিচ্ছে কিন্তু কেউ ম্যানেজ করতে পারছে না। যাদের পাচ্ছে O+ নেগেটিভ নেই। অবশেষে মাহিরের দুজন পরিচিত লোকের রক্ত পাওয়া গেছে। মাহির তাঁদের লোকেশন পাঠিয়ে দিয়েছে। রাস্তায় তাঁরা।

ও.টির বাইরে মাহির এসে সবেই দাঁড়িয়েছে। তখনই ভেতর থেকে একজন ডাক্তার বের হলেন। তিনি কিছুক্ষণ নীরব রইলেন। ডাক্তারের নিরবতা দেখে মাহির সহ সবার ভেতরে একটা চাপা ভয় এবং উদ্বেগ কাজ করলো। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পাচ্ছে না। মাহির শুকনো ঢোক গিললো। মাহির সহ সবার অবস্থা দেখে ডাক্তার নিজ থেকেই বললেন…..

“আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।কিন্তু রোগীর হঠাৎ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হচ্ছিলো। ব্লিডিং এতো পরিমানে হচ্ছিলো যে আমরা রক্ত দিয়েও কুলোতে পারিনি।”

মাহিরের শরীর হঠাৎ অবশ হয়ে গেল। অজানা আশঙ্কায় বুক কাঁপলো ছেলেটার।

—- মৌ? আমার মৌ ঠিক আছে তো? এখন কেমন আছে ও? ওকে কি আমি দেখতে পারবো?

ডাক্তার মাথা নিচু করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।তারপর কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললেন…..

—— আমরা দুঃখিত।

সামান্য দু’টো শব্দ শুনে মাহিরের পৃথিবীটা থমকে গেল।মাহির প্রথমে যেনো বুঝতেই পারল না কথাটার অর্থ। তারপর ধীরে ধীরে যখন কথাটার ওজন বুঝতে পারলো সাথে সাথেই মাথায় ঘুরে পরে গেলো সে।

**************************
মাহির ঠিক কতক্ষণ ধরে জ্ঞানহীন ছিলো তা জানা নেই। তবে জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে আবিষ্কার করলো গেস্ট রুমের বিছানায় যেখানে প্রথমবার এসে মৌ থেকেছিলো। ও তো হাসপাতালে ছিলো। মৌ এর পেইন উঠেছিলো। ওরা ওকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়েছিলো। তাহলে এখন এখানে কি করছে? মস্তিষ্ক জানান দিতেই মাহির পাগলের মতো দরজার দিকে ছুটল!

—- মৌ! মৌ! মৌ!

পুরো বাড়ি তখন মানুষে ভর্তি।মাহিরকে এভাবে পাগলের মতোন ছুটতে দেখে অনেকে তাঁকে আটকাতে গেলেও কেউ তাঁকে আটকাতে পারলো না। লিভিং রুমে যেতেই দেখলো মিম আর মিতু সোপায় বসা। কান্নারত অবস্থায় একটি ছোট্ট বাচ্চাকে ফিডার খাওয়াতে ব্যস্ত। মাহির স্তব্ধ হয়ে সেই দৃশ্য দেখলো। তাহলে কি তাঁর সন্তানেরও মায়ের বুকের একফোঁটা দুধ নসিব হলো না? তাঁর স্ত্রীর মতোন তাঁর সন্তান টাও মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হলো?

মাহিরের পা দু’টো থেমে আছে। মুজাহিদ আহমেদের কন্ঠ শুনে মাহির চমকে পেছনে তাকালো….

“গরম পানি হয়েছে? জলদি করো। ওকে গোসল করাতে হবে তো। গোসল করাবে মহিলারা তাড়াতাড়ি করতে বলছে। ”

মাহির অপলক চেয়ে রইলো বাবার দিকে। রেহানা খানকে তাগাদা দিচ্ছেন গরম পানির জন্য। তাহলে এসব সত্যি? মাহিরের মৌ টা আর নেই? চলে গেছে ওকে ছেড়ে? এতো অভিমান তাঁর?

মুজাহিদ আহমেদ তখনোও মাহিরকে খেয়াল করে নি। মিম মিতুর চোখ পরলো স্তব্ধ মাহিরের দিকে। মিতু কাঁদতে কাঁদতে ডাকলো…

“ভা….ভাইয়া!!”

ওমনি মিতুর দিকে কপাল কুঁচকে তাকালো মাহির। তারপর কি যেনো মনে করে সদর দরজার দিকে ছুট লাগালো সে। বাইরে আসতেই দেখল সাদা চাদরে ঢাকা একটা নিথর শরীর।খাটিয়ার উপর রাখা । এটা মৌ? এখানে শুয়ে আছে কেনো? রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।

মাহির দৌড়ে গিয়ে কাপড় সরালো। হ্যাঁ, এটা তো
তাঁর মৌ-ই।যে মেয়েটা কয়েক ঘণ্টা আগেও অভিমান করলো,ব্যথায় কাতর হয়ে তুই তুকারি করলো, হাসপাতালে নিতে তাগাদা দিলো, ব্যথার মধ্যেও তার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিল।
আজ সে নিশ্চুপ।একদম নিশ্চুপ। এভাবে এখানে শুয়ে আছে? কেনো? মাহির দেখলো মৌয়ের মুখে অদ্ভুত এক শান্তি।যেন গভীর ঘুমে আছে। সে চুপচাপ পাশে বসলো। মাথায় হাত বুলিয়ে ডাকলো….

—- মৌ… উঠো, এই মৌ, ভে..ভেতরে আমাদের বা…ববুটা কান্না করছে, মিম আর মিতু ওকে খাওয়াতে পারছে না। তুমি একটু খাওয়াও তো গিয়ে। এই মৌ, শুনতে পাচ্ছো? উঠো না, ত্যাড়ামি করছো কেনো? উঠোনা পাখি। মৌ?

কাঁপা কাঁপা হাতে তার কপাল ছুঁল মাহির। শরীরটা বেশ ঠান্ডা মনে হলো ওর কাছে।

—– দেখো, আমি ভয় পাচ্ছি তো। আর না করবো না। যা বলবে তাই শুনবো। অনেক অনেক আদর দিবো। তুমি না চাইলেও দিবো। তবুও অভিমান করো না পাখি। উঠো। বাবুটা কাঁদছে। এই মৌ। উঠোনা! প্লিজ!

মৌ এর কোনো সাড়া নেই।

—- তুমি তো বলেছিলে আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না… তাহলে? এমন করছো কেনো পাখি? প্লিজ উঠো না, জান। মৌ, এই মৌ?

মাহিরের গলাও ভেঙে আসছে এবার।

—-প্লিজ, একবার চোখ খোলো। এই মৌ?

মাহিরের চোখের পানি ঝরে পড়তে লাগল মৌয়ের নিথর হাতের উপর।কিন্তু সেই হাত আর নড়ল না।

ওদিকে সদর দরজার সামনে দাড়ানো রেহানা খান ছেলের এ অবস্থা দেখে ভেঙে পড়লেন।তাঁকে আগলে রাখলো শাহানা খান। বোনের এই দুঃসময়ে তিনিও সকল মান অভিমান ভুলে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।তানিশা আহমেদ ফুঁপিয়ে কাঁদছেন।
মুজাহিদ আহমেদ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছেন।
মিম আর মিতুও চুপচাপ দাঁড়িয়ে অশ্রুবিসর্জন দিচ্ছে। কতোশত স্মৃতি তাঁদের ভাবির সাথে। কি করে ভুলবে সেসব?

হঠাৎ করেই মাহিরের কানে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ আসলো। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখলো সবাই দাঁড়িয়ে আছে। মাহির ধীরে ধীরে গিয়ে বাচ্চাটার কাছে । মিম এগিয়ে দিলো শিশুটিকে।

“তোমার মেয়ে ভাইয়া”।

মাহির এই প্রথমবার উপলব্ধি করলো সেও এক কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছে। কাঁপা কাঁপা হাতে বাচ্চাটিকে কোলে নিলো মাহির। ছোট্ট শিশুটির কান্না যেনো থামছেই না। এতো কাঁদছে কেনো?
সে তো আর জানে না, পৃথিবীতে আসার প্রথম দিনেই সে তাঁর মাকে হারিয়েছে।

কান্নারত ছোট্ট মুখটা দেখেই বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো মাহিরের। মৌ আর তাঁর ভালোবাসার চিহ্ন, মৌয়ের দেওয়া শেষ উপহার।তাঁর শেষ নিঃশ্বাসের বিনিময়ে পাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান আমানত এখন তাঁর কোলে।
মাহির শিশুটিকে বুকে চেপে ধরে চোখ ঘুরিয়ে মৌ এর খাটিয়ার দিকে তাকালো। সৃষ্টির নিয়ম বড়ই অদ্ভুত…

“একদিকে নতুন জীবনের আগমন,
অন্যদিকে আরেক জীবনের চির’বিদায়। “

#চলবে…….

#অনুভবে_শুধুই_তুমি
#রুখসাত_রুষা
#পর্ব৩৩

***********************************
সৃষ্টিকর্তার নিয়ম বড়ই অদ্ভুত। একটু আগেও যে মেয়েটার পরিচয় ছিলো কারো মেয়ে,কারো পুত্রবধূ , কারো ভাবি,কারো সহধর্মিণী, সদ্য জন্ম নেয়া এক শিশুর মা, সময়ের ব্যবধানে আজ তাঁর পরিচয় এখন কেবল সে একটি লা’শ। যে বাড়িতে একদিন গাড়িতে করে সশরীরে প্রবেশ করেছিলো, আজও সেই বাড়িতে প্রবেশ করেছে তবে এ’ম্বুল্যান্সে চড়ে নি’থর দেহে। যে বাড়ির চৌকাঠে একদিন তাঁকে বরণ করা হয়েছিলো আজ আর সেই চৌকাঠ মাড়াতে পারে নি। তাঁর অবস্থান হয়েছে বাহিরের বাগানে। যে বাগানে করে ননদদের সাথে কতো আনন্দ করেছে, পেঁয়ারা গাছ থেকে পেঁয়ারা পেরে খেয়েছে, আম গাছ থেকে আম পেরে খেয়েছে, বড়ই গাছ থেকে বড়ই পেরে খেয়েছে, স্বামীর সাথে নানান খুনসুটিতে মেতেছে যেই বাগানে,আজ সেই বাগানের সেই আম গাছের নিচেই বড়ই পাতা আর গরম পানি দিয়ে তাঁর শেষ গোসল হচ্ছে। তাঁকে শেষ বিদায় দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

মাহিরের বর্তমান অবস্থান তাঁর নিজ ঘরে। পুরো ঘর জুড়েই মৌ এর স্মৃতি। এখানে দম বন্ধ হয়ে আসছে ওর কিন্তু তবুও নিজেকে শক্ত রাখছে কেবলমাত্র ঐ ছোট্ট প্রাণটার জন্য। মাহির চায়না মৌ এর মতো ওর সন্তানও পিতৃস্নেহ ব্যতীত বড় হোক। মাহির তাঁর সন্তানের জন্য নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছে। এই সন্তান আল্লাহর তরফ থেকে ওর জন্য নেয়ামত আর মৌ এর আমানত। এতটুকুন অবহেলাও ও করবে না ওর সন্তানের প্রতি। ওর বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল এখন শুধুমাত্র এই সন্তান-ই। মৌ এর আমানত। ওদের ভালোবাসার শেষ চিহ্ন। মাহির আর মৌ এর অংশ।

মাহির গোসল সেড়ে একটা পাঞ্জাবী গায়ে জড়িয়ে নিলো। পাঞ্জাবীটা মৌ কিনে দিয়েছিলো। মাহিরের কোনো এক জন্মদিনে। সেটাই পরেছে সে। তারপর কিছু একটা খুঁজলো। মৌ এর বালিশের নিচে রাখা ওর ডায়েরীটা। প্রেগন্যান্সির শুরু থেকেই মৌ ডায়েরী লিখা শুরু করেছিলো। প্রথম কতোগুলো পৃষ্ঠা মাহিরের পড়া। বেবির কথা কবে জানতে পেরেছিলো, কেমন অনুভূতি হয়েছিলো, প্রথমবার শোনা বেবির হৃৎস্পন্দনের শব্দ, প্রথম লাথি সবকিছু তারিখ দিয়ে লিখে রেখেছে মৌ। শেষের কয়েকটা পৃষ্ঠা মাহিরের পড়া হয়নি। সেগুলোই পড়তে শুরু করলো….

“ জানো বেবি আজ আমি আবারো তোমার পাপার সাথে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। তাঁরা বলেছেন তোমার নাকি ওজন একটু কম। তাই আমাকে বেশি বেশি করে খেতে বলেছে। এ কথা তোমার পাপা তোমার দীদাদেরকে বলে দিয়েছে। এখন তোমার দুই দীদা মিলে আমাকে জোড় করে করে খাওয়ায়। আমার একটুও খেতে ভালো লাগে না। তবুও তোমার জন্য খাই। তুমি যেনো সঠিক পুষ্টি পাও সেজন্য। মা তোমাকে অনেক ভালোবাসি। “

ঝাপসা চোখে মাহির আরেকটা পৃষ্ঠা উল্টালো…..

“ জানো বেবি আজ আমি তোমার পাপার সামনে ভুল করে বলে ফেলেছিলাম আমি মনে হয় বাঁচবো না, সে কি যে রাগ করলো। এখনো গাল ফুলিয়ে বসে আছে। আমার ফোনও ধরছে না। মেসেজের রিপ্লেও করছে না। বাড়িতে আসলেই জনাবের রাগ ভাঙাতে হবে এতোটুকু বুঝে ফেলেছি। কিন্তু সত্যি কথা বলতে আমার কেনো যেনো মনে হয় আমি তোমাকে দেখতে পাবো না। কিন্তু বিশ্বাস করো আমার খুব ইচ্ছে তোমাকে দেখার। আদর করার।তুমি তোমার মায়ের বুকের দুধ খাবে আর আমি তোমাকে মন ভরে দেখবো। আমি চাইনা যে কষ্ট আমি পেয়েছি তুমিও তা পাও। আমি চাইনা আমার মতো তোমার কপালেও এক ফোঁটা মায়ের দুধ না পড়ুক। আমি চাই না। কিন্তু কেনো যে মনে এসব খেয়াল আসে জানিনা। যা কিছু হয়ে যাক না কেনো,সবসময় জানবে মা তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি।“

পৃষ্ঠাটা মাহিরের চোখের পানিতে ভিজে গেলো। মাহিরের চোখ ঘোলা হয়ে গেছে। মৌ হয়তো আগে থেকেই বুঝতে পেরেছিলো। কাঁপা কাঁপা হাতে মাহির আবারো পৃষ্ঠা উল্টালো…..

“ আজ সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ঐ লোকটার সাথে দেখা হয়েছিলো। সে সম্পর্কে তোমার নানুভাই হয় কিন্তু আমও তাঁকে বাবা ডাকি না। তুমি তাঁকে দাদাভাই ডাকবে। তাঁর পরিচয় সে কেবল তোমার পাপার বড় আব্বু। জানো, উনি আজ আমাকে দেখে কেমন আছে জিজ্ঞেস করেছে। আমি ভালো আছি বলেছি। কিন্তু বিশ্বাস করো আমি তাঁকে মন থেকে ক্ষমা করতে পারিনি। আমার আর তোমার নানুমনির সাথে করা অ’ন্যায় ভুলতে পারি না। আমি যদি মরেও যাই আমি চাইবো না ঐ লোকটা আমার জানাজায় শরীক হোক বা আমার কবরে মাটি দিক। আমার মায়ের কবরে যেমন উনার হাতের এক চিমটি মাটিও পরেনি। আমিও চাই আমার কবরেও যেনো না পড়ুক।”

এইটুকু পড়ে মাহিরের চোয়াল শক্ত হলো। সিদ্ধান্ত নিলো মৌ এর এই ইচ্ছেটা পূর্ণ করবে মাহির। হ্যাঁ করবেই। পরবর্তী পৃষ্ঠা উল্টালো….

“ আমি তোমার পাপার সাথে কাট্টি। একটু ভালোবাসা চাইলাম দিলো না। আচ্ছা আমার থেকে কি ঘুম বড়ো বলো? জানি সকালবেলা রাগ ভাঙাতে ঠিকই কাছে আসবে। কিন্তু আমি আমার অভিমান ভাঙবো না। না মানে না। আমাকে কিভাবে প্রত্যাখ্যান করলো। আমি মোটা হয়ে গেছি বলে কি এখন আর আমাকে ভালো লাগে না? আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। তাই তোমার পাপার সাথে কাট্টি। কাট্টি কাট্টি।“

মাহির ফুঁপিয়ে উঠলো। বুঝলো গত রাতেই এসব লিখেছিলো মৌ। হয়তো ও ঘুমিয়ে যাওয়ার পরে লিখেছে। কেনো যে ওর এতো ঘুম পেয়েছিলো সেরাতে। যদি না পেতো তাহলে মৌ এর অভিমানও হতো না আর অভিমান নিয়ে মৌকে দুনিয়া ছাড়তেও হতো না। সে যদি জানতো এই অভিমান আজীবনও ভাঙাতে পারবে না। ভাঙানোর মানুষটাই থাকবে না তাহলে অভিমান হতেই দিতো না।শেষ বারের মতোন আদরে আদরে ভরিয়ে দিতো মৌকে। কিন্তু তা পারলো কই। মেয়েটা অভিমান নিয়েই চিরবিদায় নিলো।

*************************

মুশতাক আহমেদ ইন্ডিয়াতে গিয়েছিলেন কিছু কাজের জন্য। মৌ এর খবর পেয়েই ভদ্রলোক রওনা করেছেন। আসতে আসতে রাত হবে। মুজাহিদ আহমেদকে বারবার কল করে বলে দিয়েছেন তিনি আসলেই যেনো মৌকে মাটি দেওয়া হয়। এজন্য সবাই রাজিও ছিলো। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই মাহির বলছে যতদ্রুত সম্ভব মৌ কে মাটি দিতে। এ কথা বলার কারণ কেউ বুঝলো না। সবাই বলছে মুশতাক আহমেদ আসলেই না হয় মৌকে মাটি দেওয়া হবে। কিন্তু মাহির নাছোড়বান্দা। সে এখনই মৌকে নিয়ে মৌ এর গ্রামের বাড়িতে রওনা হবে। এটাই মৌ এর শেষ ইচ্ছে ছিলো। ওর মা আর নানুমনির পাশে যেনো ওকে শায়িত করা হয়। রুখসাত রুষা পেইজে ফলো এবং লাইক দিয়ে নতুন নতুন গল্প পেতে পাশে থাকুন।

অগত্যা মাহিরের জেদের কাছে হেরে সবাই মৌকে নিয়ে রওনা হলো ওর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে। সেখানে ওকে ওর মা আর নানুমনির পাশে চির নিদ্রায় শায়িত করা হলো। সবাই সাথে সাথে চলে আসলেও মাহির আসলো অনেক পরে। ছেলের পাশে ছিলেন মুজাহিদ আহমেদ। ছেলেকে একা ছাড়েননি ভদ্রলোক। দুর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছে ভঙুর ছেলেকে যে কিনা এই মুহূর্তে নিজ অর্ধাঙ্গিনীর ক’বরের মাটি স্পর্শ করে কি যেনো বিড়বিড় করতে ব্যস্ত।

——- এটা তুমি ঠিক করোনি পাখি। একদম ঠিক করোনি। যদি এতো তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার ছিলো তাহলে হুট করে কেনো আমার জীবনে এসেছিলে? তিনটি বছরে কেনো তোমাকে আমার অভ্যেসে পরিনত করলে? বলো? এভাবে ফাঁকি দিয়ে আমাকে নিঃস্ব করে চলে যাওয়ার জন্য? যাওয়ার আগে আমাকে এতো বড় দায়িত্ব কেনো দিয়ে গেলে মৌ? এখন তো আমি চাইলেও তোমার কাছে আসতে পারবো বা। তোমার দেয়া দায়িত্ব আমাকে আসতে দেবে না। এতো অভিমান করে কেনো চলে গেলে জান? আমি যদি জানতাম তুমি এভাবে চলে যাবে তাহলে তোমাকে একটুও ফিরিয়ে দিতাম না। আদরে আদরে ভরিয়ে দিতাম। আমার বুকের মধ্যে ব’ন্দী করে রাখতাম। এই আফসোস নিয়ে আজীবন বেঁচে থাকার মতোন শাস্তি না দিলেও পারতে পাখি। সহ্য করতে পারছি নাতো। নিজেকে বড্ড অ’সহায় এবং অ’পরাধী লাগছে জানো। শেষ সময়ে তোমাকে একটু ভালোবাসতেও পারলাম না।সেই আক্ষেপ নিয়ে তুমি অভিমান করে চলে গেলে। তবে তুমি চিন্তা করো না। পরপারে আমাদের আবারো দেখা হবে মৌ। আমরা আবারো একসাথে থাকবো। তুমি যেনো পূর্ণ অধিকার নিয়ে আমাকে চাইতে পারো সেটা নিশ্চিত করবো আমি। তুমি শুধু আমার অপেক্ষায় থেকো পাখি। তোমার মাহির তোমার জন্যই বাঁচবে এবং তোমার কাছেই ফিরবে। তুমি শুধু আমার অপেক্ষায় থেকো। তোমার পরিচয় তুমি খন্দকার মুহতাসিম মাহিরের স্ত্রী। আর আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমার স্ত্রী থাকবে কেবল মাহিবা জান্নাত মৌ। এই তোমার ক’বরের মাটি ছুঁয়ে কাছে প্রতিজ্ঞা করলাম। পরকালেও তুমি পূর্ণ অধিকার নিয়ে আমাকে চাইতে পারবে। আমিও কেবল তোমাকেই চাইবো। আমরা দু’জন শুধুমাত্র দু’জনারই থাকবো মৌ। আমি কেবল তোমারই থাকবো।

মাহির মনে করছে মৌ ওর উপর অভিমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বি’দায় নিয়েছে কিন্তু বোকা মাহির জানে না অভিমান নিয়ে নয় বরং মাহিরের ভালোবাসা নিয়ে মৌ দুনিয়া ছেড়েছে। মাহিবা জান্নাত মৌ এর জীবনের শেষ সাত মিনিটে শুধু মাহিরের অস্তিত্ব ছিলো। সেখানে কেবলমাত্র খন্দকার মুহতাসিম মাহিরের রাজত্ব ছিলো।

#চলবে?