Home "ধারাবাহিক গল্প "গোধূলী লগ্নে তুমি গোধূলী লগ্নে তুমি পর্ব-০১

গোধূলী লগ্নে তুমি পর্ব-০১

0
2

#গোধূলী_লগ্নে_তুমি
#কলমে_ফাহিমা_ইসলাম
#সূচনা_পর্ব

“ আমায় কখনো, আমায় হিসেবে দেখেছেন আপনি?”

“ কখনো আমার দিকে ভালো লাগার দৃষ্টিতে তাকিয়েছেন?”

“ কখনো আমায় ভালোবাসার চেষ্টা করেছেন?”

উত্তর আছে আপনার নিকট? জানি নেই, তাই চলে যাচ্ছি। আমি নামক অদৃশ্য অস্তিত্ব থেকে মুক্তি দিচ্ছি। অনুমতি দিচ্ছি, আপনার ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে নেওয়ার। আমি পারিনি তো কী হয়েছে? আপনি আপনার ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে পান। রোজ ভালোবাসুন, যেমনটা করে আমি চেয়েছিলাম। অথচ ভাগ্য আমায় সেই ভালোবাসা পাওয়ার সৌভাগ্য দিয়ে জন্ম দেয়নি। তাতে কী হয়েছে? আপনি তো তাকে পাবেন। আপনার সকালটা আর তাকে ছাড়া হবে না। রোজ ভালোবাসার মানুষটাকে দেখে আপনার দিবা শুরু হবে এবং অস্তও যাবে তার মাঝেই বিভোর থেকে। চলে যাচ্ছি অনেক দূরে। ফিরব না আর, এটা নিয়ে নিশ্চিত থাকুন। বাধা হব না আপনার আর আপনার ভালোবাসার মানুষটার ওপর। ভালো থাকবেন, খুব ভালো থাকুন।

ইতি,

আপনার চিলেকোঠায় একপাশে থাকা স্ত্রী।

চিঠিটুকু পড়ে স্তব্ধ হয়ে ঠায় বসে রইল আয়াশ। স্তব্ধ হয়ে রইল চারপাশ। শব্দ বয়ে বেড়াচ্ছে না তার চারদিকে। ঠিক তার সামনেই একজন নারী অবয়ব ঘোরাফেরা করত তার সামনে, রোজ নিয়ম করে। সব কেমন ফাঁকা ফাঁকা হয়ে আছে। মনে হচ্ছে, তার ঘরটা মৃত হয়ে পড়েছে কারও যাওয়াতে। খালি কী ঘরটা মৃত হয়েছে? সে নিজেও কেমন অনুভূতিশূন্য হয়ে বসে রয়েছে। অথচ মেয়েটা থাকা অবস্থায় একটি বারের জন্যও তাকে নিয়ে ভাবেনি আয়াশ। অথচ আজ ভীষণভাবে মেয়েটার শূন্যতা অনুভব করতে পারছে এই কয়েক ঘণ্টায়। আয়াশের চারদিকটা কেমন করে সবকিছু ঘুরছে। সে তাকিয়ে দেখল আনমনে সারা রুমটা। কোথাও কেউ নেই, ঠিক যেমনটা একটা পরিত্যক্ত বাড়ি খালি হয়ে পড়ে থাকে। আয়াশ উঠে দাঁড়াল। আবারও ফোন হাতে নিয়ে কাঙ্ক্ষিত নম্বরে ডায়াল করল। কিন্তু বরাবরের মতোই অপর পাশ থেকে একটা কথাই ভেসে এলো,
“আপনার কাঙ্ক্ষিত নম্বরটি এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। অনুগ্রহ করে আবার কিছুক্ষণ পর চেষ্টা করুন।”

এই বার্তা শোনার পরও আয়াশ একইভাবে ফোন করে যাচ্ছে। অথচ কেউই ফোনটা তুলছে না। যেখানে একদিন আগেও সে ফোন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা তুলে নেয়। আজ কিছুই হচ্ছে না। আজকে মেয়েটার সবুজ রঙের শাড়ি পরে দরজার ধারে অপেক্ষা করার কথা। এই দিনটাতে তো রমণী নিজেকে রাঙিয়ে তোলে তার পছন্দের সবুজ রঙের শাড়িতে। অথচ আজকে আর কেউ সবুজ শাড়ি পরে অপেক্ষা করছে না তার জন্য। তিন বছরের বিবাহবার্ষিকীতে এমন কিছু শূন্যতা সে চিন্তা অব্দি করেনি। আয়াশ পাশ ফিরে টেবিলের ওপর কালকের আনা ব্যাগটার দিকে তাকাল। সেটাও একই জায়গায় পড়ে রয়েছে। অথচ মেয়েটা সব জিনিস যত্ন নিয়ে গুছিয়ে রাখে। সে বাড়িতে পা রাখা মাত্রই হাসিমাখা একটা মুখশ্রী উপহার দিত। সঙ্গে নিয়ে থাকত লেবুজল, যেটা খেয়ে সে ক্লান্তি দূর করত। অথচ আজকে এমন কিছুই হচ্ছে না। আসার পর থেকে কেউ এই ঘরেও আসেনি, তার কিছু প্রয়োজন আছে কি না সেটা জানতে।

মেয়েটা কোথায় যাবে? সে ছাড়া তো মেয়েটা গন্তব্যহীন!

রজনীর কৃষ্ণাভ চাদর ধীরে ধীরে নগরীর বক্ষ জুড়ে বিস্তার লাভ করছে। একে একে জ্বলে উঠছে সোডিয়াম বাতির স্বর্ণাভ দীপ্তি, চারপাশে যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন গুঞ্জন, দূরবর্তী কোনো মসজিদ থেকে ভেসে আসা এশার নামাজের সুমধুর ধ্বনি। আয়াশ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বাড়ির মূল ফটকের সামনে। মুখাবয়ব অবশ, অথচ অন্তর্লোক যেন তুমুল আলোড়নে বিপর্যস্ত। এমন অনুভূতি তার জীবনে পূর্বে কখনো আসেনি। বুকের ভেতর কোথাও এক অদৃশ্য শূন্যগহ্বর সৃষ্টি হয়েছে, যার গভীরতা সে নিজেও পরিমাপ করতে পারছে না। কয়েক মুহূর্ত আগেও সে নিজেকে বুঝিয়েছে, ইনায়া চলে গেলে কী-ই বা হবে? সে তো কেবল নিজের দায়িত্ব পালন করেছে। ভালোবাসা নয়, মায়া নয়, নিছক মানবিক কর্তব্যই ছিল তার সম্পর্কের ভিত্তি। অনাথ মেয়েটিকে আশ্রয় দেওয়া, পড়াশোনার ব্যবস্থা করা, নিরাপদ জীবন দেওয়া এসবই ছিল তার কাছে একটি দায়িত্বের নামমাত্র। কিন্তু, আজ কেন বারবার সেই মুখটাই স্মৃতির ক্যানভাসে স্পষ্ট হয়ে উঠছে? কেন মনে হচ্ছে, এই বিশাল বাসার প্রতিটি কোণ থেকে যেন কারও নরম পায়ের শব্দ হারিয়ে গেছে? কেন ড্রয়িংরুমের সোফা, ডাইনিং টেবিল, এমনকি বারান্দার দোলনাটাও নিঃসঙ্গতার ভাষায় তাকে বিদ্রূপ করছে? আয়াশ গভীর শ্বাস নিল। নিঃশ্বাসের সঙ্গে যেন বুকের সমস্ত স্থিরতাও বেরিয়ে গেল। নিজের মনকেই প্রশ্ন করল সে-

“তাহলে কি, আমি এতদিন নিজেকেই প্রতারণা করে এসেছি?”

উত্তর এলো না। বরং উত্তরহীনতার ভার আরও গাঢ় হয়ে বসে রইল তার সমগ্র অস্তিত্বে। হঠাৎই তার দৃষ্টি গিয়ে আটকাল ইনায়ার ঘরের অর্ধখোলা দরজায়। অদ্ভুত এক আকর্ষণে পা দুটো সেদিকে এগিয়ে গেল। ঘরে প্রবেশ করতেই নাকে এলো পরিচিত সুগন্ধ। টেবিলের ওপর এখনো পড়ে আছে অর্ধেক পড়া একটি উপন্যাস, জানালার পাশে ছোট্ট টবের মানিপ্ল্যান্টে জল দেওয়া হয়নি আজ, বিছানার কোণে ভাঁজ করে রাখা ওড়নাটা যেন এখনো অপেক্ষা করছে তার মালিকের স্পর্শের। আয়াশ ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে ওড়নাটা হাতে তুলে নিল। তারপর অজান্তেই আঙুলের ফাঁকে শক্ত করে চেপে ধরল কাপড়খানা। কণ্ঠনালিতে জমাট বাঁধা দীর্ঘশ্বাস আর আটকে রাখতে পারল না সে।

“তুমি সত্যিই চলে গেলে, ইনায়া…?”

কথাটা উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে কক্ষজুড়ে নেমে এলো আরও গভীর নৈঃশব্দ্য।সেই নীরবতাই যেন বিদ্রূপ করে জানিয়ে দিল এই ঘরে এখন আর কেউ নেই। ঠিক তখনই আয়াশ আচমকা সজাগ হয়ে উঠল। যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি তাকে স্থির থাকতে দিচ্ছে না। না,এভাবে বসে থাকলে চলবে না।
সে জানে না ইনায়া কোথায় গেছে, কার কাছে গেছে, আদৌ নিরাপদে আছে কি না। কিন্তু একটা বিষয় আজ নির্মম সত্যের মতো স্পষ্ট। মেয়েটিকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত তার ভেতরের এই অস্থিরতা থামবে না। দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে এল সে। টেবিলের ওপর পড়ে থাকা গাড়ির চাবিটা তুলে নিয়ে এক মুহূর্তও বিলম্ব করল না।

আলোকমালায় সজ্জিত নগরীর ব্যস্ত রাজপথ পেরিয়ে, অলিগলি অতিক্রম করে, পরিচিত প্রতিটি মোড়ে দৃষ্টি বুলিয়ে আয়াশ ছুটে চলেছে এক অজানা গন্তব্যের দিকে।
কোথাও হয়তো ইনায়া আছে। হয়তো বাসস্ট্যান্ডের কোনো বেঞ্চে নিশ্চুপ বসে। হয়তো নদীর ধারে একা দাঁড়িয়ে। হয়তো কোনো অচেনা আশ্রয়ে চোখের জল লুকিয়ে নিজেকে শক্ত রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করছে। প্রতিটি সম্ভাবনাই আজ আয়াশের হৃদস্পন্দনকে অসহনীয়ভাবে ত্বরান্বিত করে তুলছে।স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে সে প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করলো, কিছু মানুষ জীবনে থাকাকালীন তাদের উপস্থিতি অনুভব করা যায় না; অথচ তারা চলে যাওয়ার পর তাদের অনুপস্থিতিই সমগ্র অস্তিত্বকে গ্রাস করে ফেলে। আয়াশ
অবশেষে গভীর নিশ্বাস ফেলে সে বাড়ির পথ ধরে। বাড়ির মূল ফটক দৃশ্যমান হতেই অকারণেই বুকের ভেতর আশার এক ক্ষীণ প্রদীপ দপদপ করে জ্বলে ওঠে।

“হয়তো ফিরে এসেছে।”

অকারণ এই বিশ্বাসের কোনো যুক্তি নেই, তবুও মানুষ আশাতেই বাঁচে। গাড়ি থামিয়ে প্রায় তাড়াহুড়ো করেই ভেতরে প্রবেশ করে আয়াশ।

“ইনায়া…?”

ডাকটা অজান্তেই ঠোঁট ছেড়ে বেরিয়ে আসে। কোনো উত্তর আসে না। সে আবারও ডাকে-
“ইনায়া!”

তবুও চারপাশ নিস্তব্ধ। বাড়িটার প্রতিটি দেয়াল যেন আজ নির্বাক দর্শকের মতো তার ব্যাকুলতা প্রত্যক্ষ করছে। যে অন্দরমহল একসময় নরম পায়ের শব্দে, টুকটাক কথোপকথনে, চায়ের সুগন্ধে প্রাণবন্ত হয়ে উঠত, আজ সেখানে নেমে এসেছে এক অচেনা শূন্যতার রাজত্ব।
আয়াশ ধীর পায়ে ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়ায়। মুহূর্তেই অসংখ্য স্মৃতি ঝাঁপিয়ে পড়ে তার মস্তিষ্কে। সে অফিস থেকে ফিরলেই ইনায়া লেবুজল দিয়ে মৃদু হাসিতে বলত-

“এসেছেন? হাত-মুখ ধুয়ে আসুন, আমি খাবার দিচ্ছি।”

কখনো আবার তার মুখখানা দেখে বলত-

“আজ খুব ক্লান্ত লাগছে আপনাকে। একটু বসুন, আমি কফি বানিয়ে দিচ্ছি।”

আয়াশ কখনো গুরুত্ব দেয়নি। বরং সেসবকে স্বাভাবিক বলেই ভেবেছে। আজ সেই স্বাভাবিক মুহূর্তগুলোর অনুপস্থিতিই তার হৃদয়জুড়ে সবচেয়ে অসহনীয় অসামান্যতায় পরিণত হয়েছে। সে ধীরে ধীরে সোফায় বসে পড়ে। চারপাশে এত নীরবতা যে, নিজের হৃদস্পন্দনের শব্দও স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। একটা বাড়ি কতটা ফাঁকা হতে পারে, তা আজ প্রথম উপলব্ধি করছে সে। ইট-পাথরের এই বাড়ি কখন যে নিঃশব্দ সমাধিক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে, তা সে বুঝতেই পারেনি। কিছুক্ষণ স্থির বসে থাকার পর হঠাৎই যেন অদৃশ্য কোনো টান তাকে আবার টেনে নিয়ে যায়। ইনায়ার ঘরের সামনে এসে থেমে যায় সে। দরজাটা আধখোলা।
ঠিক যেমন করে সে রেখে গিয়েছিল। আয়াশ ধীরে ধীরে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরের বাতাসে এখনো মিশে আছে পরিচিত সুবাস। জানালার পর্দা মৃদু বাতাসে দুলছে, যেন কারও প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায়। বিছানার পাশে ছোট্ট বুকশেলফ, টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা কয়েকটি কলম, আর গুছিয়ে রাখা বইগুলো নিঃশব্দে জানিয়ে দিচ্ছে, এই ঘরের অধিবাসিনী ছিল ভীষণ যত্নশীলা।

হঠাৎই তার দৃষ্টি গিয়ে থামে স্টাডি টেবিলের এক কোণে।
সেখানে রাখা রয়েছে গাঢ় নীল মলাটে মোড়ানো একটি ডায়েরি। এটা যাওয়ার সময় চোখে পড়েনি, হয়তো তাড়াহুড়োর কারণে। ডায়েরির মলাটের কিনারাগুলো স্পর্শে ক্ষয়ে গেছে, যেন অসংখ্য রাতের নীরব সাক্ষী হয়ে নিজের ভাঁজে ভাঁজে জমিয়ে রেখেছে এক মানুষের অপ্রকাশিত অনুভূতির ইতিহাস। আয়াশ ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।
ডায়েরিটার ওপর আলতো করে আঙুল রাখতেই বুকের ভেতর অকারণ কম্পন জেগে ওঠে।

*

আজ আমায় দেখতে আসবে। কথাটা জানার পর থেকে কেমন জানি অনুভূতি হচ্ছে। বুঝতে পারছি না, আমার কী প্রতিক্রিয়া করা উচিত। জীবনের বহু বসন্ত পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু প্রেমময় বসন্ত এখনো আমার জীবনে আসেনি। কারণটাও খুব অস্বাভাবিক নয়। আমাদের মতো অনাথের আবার কিসের বসন্ত? বসন্ত তাদের জন্যই, যাদের জীবনে রংধনুর মতো রং রয়েছে। কিন্তু আমার জীবনে সেই রংধনু কখনো ওঠেনি। তাই জীবনে প্রেম নামক বসন্তেরও আগমন ঘটেনি কোনোদিন। আজকাল ডায়রি লিখতে বেশ ভালো লাগে। আগে এমনটা ছিল না। সারাদিন কাজের ফাঁকে কখন ডায়রি লিখব, সেটাই ভেবে পেতাম না।

বাবা-মা ঠিক কেমন দেখতে, সেটাও জানা নেই। আমার স্মৃতির পাতায় তাদের কোনো স্থান হয়নি কোনোদিন। কারণ, বুঝ হওয়ার আগেই তারা আমাকে ছেড়ে দূর দেশে পাড়ি জমিয়েছে। তারপর আমার স্থান হয়েছে ঢাকার এক অনাথ আশ্রমে। মামাই আমাকে এখানে রেখে গিয়েছিল। তারাও আমার স্মৃতির পাতায় কোথাও স্থান পায়নি। কারণ, আমার শুরু থেকে শেষ অবধি আমি একাই ছিলাম। অনাথ আশ্রমে যে বেশ ভালো ছিলাম, এমনটা নয়। আবার খুব যে ভালো ছিলাম, এমনটাও না। ছিলাম কোনোরকম বেঁচে থাকার মতো। বুঝতে শিখলাম, জীবন কী। অনাথদের ছোট থেকেই বুঝতে হয়, জীবন কী? তাই যেই সময়টা খেলে-কুদে বেড়ানোর সময়, সেই সময়টাই আমাদের শিখতে হয়েছে প্রতিনিয়ত, কীভাবে বাঁচতে হয় এই সমাজে। কারণ, আমাদের মতো অনাথদের একাই পথ চলতে হয়। কেউ এগিয়ে এসে হাত ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে না।

আশ্রমের নিয়ম অনুসারে ১৮ বছর পা দিলে আশ্রম থেকে চলে যেতে হয়। তারপর ১৮ বছর হওয়ার পর আশ্রম থেকে বের হয়ে নতুন জীবনের সূচনা হলো। আগে থেকে তিনটা টিউশনি পড়াতাম। সেখান থেকে মাসে পাঁচ হাজারের মতো টাকা আসত। আশ্রমে থাকাকালীন খাওয়া-দাওয়ার কোনো সমস্যা ছিল না। তাই আশ্রম থেকে বের হওয়ার পর সেটা আর আগের মতো সম্ভব হয়নি। যতটুকু টাকা জমানো ছিল, সেই টাকা দিয়ে মেয়েদের একটা মেসে থাকার ব্যবস্থা করলাম। তারপর বের হলাম নতুন কাজের উদ্দেশ্যে। হাতে জমানো ছিল কিছু টাকা। এই সময়ের মাঝেই একজন আমাকে পড়া থেকে বাদ দিয়ে দিল। তাই টাকার সংকটের পরিমাণ বাড়ল। হাতে জমানো টাকাগুলো প্রায় শেষের পথে। সমাজে আমাদের মতো অনাথরা বরাবরই অবহেলিত কীটপতঙ্গ। কেউ জানতে পারে আমি অনাথ। তারা দয়ার বদলে মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়। দিনরাত খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে একটা চাকরি পেয়েছি, এপেক্সের শোরুমের স্টাফের কাজ। সেই কাজের জন্যই এসেছি। যদি ভাগ্যে কাজটা জুটে যায়। আর আজ হয়তো ভাগ্যটাও ভালো ছিল, তাই কাজটাও পেয়ে যাই।

বেতন দশ হাজার, যা আমার জন্য এই মুহূর্তে খুব বেশি। তিনটা টিউশন পড়িয়ে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। সেটা দিয়ে একা এই শহরে চলাটা মুশকিল। মাঝে মাঝে এইসব থেকে দূরে সরে যেতে ইচ্ছে করে। বাবা-মা কীভাবে মারা গেছেন, সেটা অবধি জানা নেই আমার। খালি জানি আমি অনাথ! আশ্রমে থাকাকালীন অন্যদের থেকে বেশ অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। আমার বয়সী কিছু মেয়ে আমাকে সেই ছোট থেকেই সহ্য করতে পারে না। বিনা কারণে আমার সঙ্গে সবাই খারাপ ব্যবহার করত। তখন খুব কষ্ট পেতাম। রোজ কাঁদতাম, মারও খেতাম খুব। আশ্রমের বড় আপা চাইলেও সব সময় বাঁচাতে পারতেন না আমায়। আশ্রমে আরও অনেক বাচ্চা রয়েছে। একা আমার পেছনে সময় দেওয়ার মতো সময় নেই তাঁর।

তাই ছোটবেলাটাও খুব বাজেভাবে কেটেছে। কতবার কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়েছি, তবুও কেউ একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার মতো মানুষ ছিল না। আশ্রমের জন্য অনেকেই টাকা দিত। সেখানকার একজন ছিলেন রিয়াজুল হাসান। তিনি অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তিনি আশ্রমের বাচ্চাদের পড়াশোনার ব্যয় বহন করতেন। সেই সুযোগেই পড়ালেখাটাও হয়েছিল। উনি আমায় খুব স্নেহ করতেন। শুধু আমায় নয়, বাকিদেরও করতেন। কিন্তু আমার বেলায় সেটার পরিমাণটা একটু বেশি ছিল। মাসে একবার আসতেন। সেই সময়টাতে ওনার সঙ্গে আমরা সবাই সময় কাটাতাম। উনি যখন আসতেন, তখন সবার জন্য কিছু না কিছু আনতেন। তবে আমার সঙ্গে বেশি সময় কাটাতেন। আমি নাকি ওনার খুব পছন্দের ছিলাম। উনিও মারা গিয়েছেন বছর খানেক হলো। তারপর জীবন সেইভাবেই চলছিল। পড়াশোনায় বেশ ভালোই ছিলাম। তবে পরীক্ষার আগে ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

তবুও পেট চালানোর জন্য হলেও কাজ করতে হয়েছে। এইসবের কারণে ঢাবিতেও টিকিনি একটুর জন্য। তবে আল্লাহ আমায় নিরাশ করেননি। ইডেন কলেজে ঠিকই চান্স পেয়েছিলাম। তারপর হলেই থাকা শুরু করি। যে মেসে থাকতাম, সেখানে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হতো। এখানে দুই-তিন হাজারে হয়ে যায়। হাতে তিন হাজার টাকার মতো বেঁচে যেত। এইভাবেই দুই বছর কাটল। তারপর হুট করেই জানতে পারলাম, আমার নাকি মামাও রয়েছে। সে নাকি আমায় নিতে এসেছে। আমার যে মামাও ছিল, সেটাও ভুলে গিয়েছিলাম প্রায়। তারপর তিনি হুট করেই নিজের সঙ্গে তাঁদের বাড়িতে আনলেন। এত বছর পর কিসের জন্য আমাকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন, সেটা প্রথমে বুঝতে পারিনি।

তাঁদের কাছে আশাও রাখিনি কিছু। কারণ আমাদের মতো মানুষদের আশা করতে হয় না। আমরা বাঁচিই দুই বেলা খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য। সেখানে বিলাসিতা তো বহুদূরে। মামাদের বাড়িতে এসে জানতে পারলাম, আমাকে এখানে আনা হয়েছে মায়ের ভাগের যে টুকু সম্পত্তি রয়েছে, সেগুলো মামাদের দিয়ে দিতে। যেহেতু আমিই একমাত্র সন্তান ছিলাম আমার বাবা-মায়ের, তাই সেই অংশটুকু আমার নামেই দিয়ে গেছেন। এই বাড়িতে আছি দুইটা বছর হলো। কয়েকদিন আগেই অনার্সের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এই দুই বছরে আমার স্থান হয়েছে বাড়ির স্টোররুমে, যেখানে আছি কোনো রকমে।

এ বাড়িতে আসার পর থেকে বাড়ির সবাই যেন হাত-পা ছেড়ে দিয়েছে। রান্না থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ আমাকেই করতে হয়। কথাও শুনতে হয়। তবুও রেখেছে সম্পত্তির আশায়। আমি দিতে রাজি নই। বাবা-মা বলতে তাঁদের এইটুকুই আমার কাছে রয়েছে। তাই সেটা দিতে চাইনি। আমি আমার পথে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মামা আর যেতে দেননি। একপ্রকার জোর করেই রেখেছেন। এই বাড়িতে বিনা পয়সায় কাজের লোক আমি। নিজের ক্লান্তি ভুলে বাকিদের কাজ করি। তবুও এইখানেই পড়ে আছি। কারণ ওই একটু ভালোবাসা। ছোট থেকে ভালোবাসা না পেতে পেতে, সেটা স্বাদ কেমন হয়, সেটা জানা নেই। তাই একটু ভালোবাসার জন্যই এইখানে এতটা সময় পড়ে আছি। এইভাবেই দিন চলছিল।

আর হুট করেই বিয়ের প্রস্তাবটা এলো, আমার এই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে কেউই খুশি হয়নি। কারণ বাড়িতে মামাদের মেয়েরাও রয়েছে, আমার জন্য যে ঘর এসেছে সেটা বেশ ভালো ঘর। ছেলে নাকি চাকরি করে আশি হাজার টাকার, বাবা-মা’রও সম্পত্তি রেয়েছে বেশ। তাই কেউই এই প্রস্তাব আমার জন্য আসায় খুশি হয়নি, কিন্তু প্রস্তাবটা আমার জন্যই এসেছে। আর যে প্রস্তাবটা দিয়েছে সে হলেন, সেই আশ্রমের রিয়াজুল হাসান। তার নাতির জন্য, নাত বউ হিসেবে আমাকে নাকি পছন্দ করে রেখেছিলেন। আর আশ্রম থেকে চলে আসার পর আমায় নাকি অনেক খুঁজেছেন তার পরিবার। এতো খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে আমার সন্ধান পেয়েও গেলেন।

মামারা চেষ্টাও করেছিলেন বিয়ের প্রস্তাবটা ভেস্তে দিতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেন নি। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই মেনে নিয়েছেন। আমি সবটা জানি, তবুও কিছু বলিনি। বিকেল হতেই মামি একটা শাড়ি এনে দিলেন, নীল রঙের শাড়ি৷ এটা নাকি মায়ের শাড়ি। শাড়িটা পাওয়ার পর পরই সেটা বুকের সঙ্গে শক্ত করে মিশিয়ে নিয়েছিলাম, যদি একটু খানি মায়ের গন্ধ খুঁজে পাই! তারপর সেটা পরেই বরপক্ষের সামনে উপস্থিত হয়েছিলাম। আমি অপরূপ কোনো সুন্দরী মেয়ে নই, আর পাঁচটা মেয়ের মতোই। তবে হ্যাঁ আমার চুলগুলো ছিলো হাঁটু অব্দি, কালো,ঘন,গাঢ় তাই সবার চোখ সেখানটায় আঁটকে যেতো। অতি সাধারণ ভাবেই সবার সামনে উপস্থিত হয়েছিলাম, ছিলনা কোনো সাজসজ্জা৷ খালি শাড়িটা পরেছিলাম, সঙ্গে বিশ টাকা দিয়ে কেনা কাজল লেপ্টে দিয়েছিলাম নেত্রোকোণে। সঙ্গে কেউ ছিলো না সাহস দেওয়ার জন্য যে-“ইনায়া আমরা আছি তো৷ এতো ভয় কিসের?”

কিন্তু কেউ তার পাশে দাঁড়ায়নি, জীবনে প্রেম বলতে কোনো বসন্ত আসেনি আমার। তাই ওইসময়ের অনুভূতিগুলো বোঝার মতো সাধ্য আমার নেই। ভিতরে আমার ঝর বইছিলো, কি হবে? তার নাম কি? আমায় পছন্দ হবে তো? কত কত প্রশ্ন দলা পেকেছিলো পেটের মধ্যে। যখন আমায় তাদের মাঝে নিয়ে আসা হলো তখন মনে হচ্ছিল এই বুঝি আমি জ্ঞান হারাবো। কিন্তু পরে জানতে পারি যার সঙ্গে বিয়ে সে আসেনি, তাই একটু খারাপও লেগেছিলো। তবুও মানিয়ে নিয়েছিলাম নিজেকে বুঝিয়ে। তাদেরও নাকি আমাকে পছন্দ হয়েছে বেশ৷ আমাকে সেদিন আংটি পরিয়ে চলে যায়৷ বিয়ের তারিখ অব্দি ঠিক করা হয়েছে, কিন্তু বিয়েটা হবে কমিউনিটি সেন্টারে।

তারাও হয়তো বুঝতে পেরেছেন বাড়ির সবাই কেমন, বিয়ের যাবতীয় কেনাকাটাতেও মাঝেও যার সঙ্গে আমার পুরোটা জীবন জুড়ে যাবে কয়েকদিন বাদে, তার সঙ্গে এখন অব্দি কথাও হয়নি, একটা ছবি দেখেছিলাম খালি। ছবিতে দেখেই বুঝতে পেরেছি লোকটা গম্ভীর, তবুও একরাশ ভালো লাগা কাজ করছিলো। না চাইতেও লজ্জা লাগছিলো, কয়েকদিন পর এই মানুষটার সঙ্গেই তো থাকবো আজীবনের জন্য। অন্যরাও আমায় খুব আদর করে, তাই সেই বাড়ির বউ হয়ে যাওয়ার তর সইছিলো না।

সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দিনটা এলো, না চাইতেও কেমন ভীষণ রকমের কান্না পাচ্ছিলো। বাবা-মার কথা মনে পরছিলো, জীবনের অনেক কঠিন সময় পার করেছি। তাই সবকিছু সইতে সইতে আমার খারাপ লাগা কাজ করতো না। লাগলেও নিজেকে সামলাতে পারতাম, কিন্তু এইদিনটাতে পারিনি৷ প্রতিটি মেয়ের জন্য বিয়ে কেমন হয়ে থাকে সেটা মেয়েরাই বোঝে। অথচ এই সময়টাতে তার পাশে কেউ নেই, কেউ একটু মাথায় ভরসার হাত রাখার মানুষ নেই। কেঁদেছিলাম সেদিন বহুক্ষণ, তারপরও মনটা ভীষণ রকমের পু’ড়ছিলো।

মনে পাথর নিয়েই বসেছিলাম বিয়েতে, শেষ অব্দি যখন কবুল বলে অচেনা একজনকে আপন করলাম। মনে হলো জীবনে নতুন কিছু পেয়েছি, কিন্তু সেটা সুখের নাকি দুঃখের সেটা বুঝতে পারিনি। বিয়ে পরানোর পর প্রথমবারের মতো আমাকে যখন ওনার পাশে বসানো হলো৷ তখন আমি অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপছিলাম। সারা অঙ্গে বয়ে চলছিলো এক ঝর। চোরা চোখে কয়েকবার তার দিকে তাকিয়েছিলাম, অথচ পাশে বসা মানুষটা আমাকে একবারের জন্যও চোখ তুলে তাকায়নি৷ মনে প্রশ্ন জাগলো আমায় কি পছন্দ নয়? নাকি জোর করে এই বিয়ে করেছেন উনি? উত্তর তখনো অজানা আমার। তবুও নীরবো সবটা মেনে নিলাম; যেভাবে এতোকাল মেনে নিয়ে এসেছি। লোকাকে দেখতে একদম নায়কের মতো। হ্যাঁ আমার নায়ক, একদম আমার নায়কের মতো দেখতে।

বাসর ঘর!

প্রতিটা মেয়ের জন্যই হয়তো এই রাত জীবনের সবচেয়ে বিশেষ রাত হয়ে থাকে। হাজারও জল্পনা-কল্পনা থাকে এই রাতকে ঘিরে, আমারও আছে। ফুলের বিছানায় মাথায় গোমটা দিয়ে বসে আছি। ভয় কাজ করছে বেশ! তবুও নিজেকে বুঝিয়ে চলেছিলো৷ অপেক্ষা প্রহর শেষ করে রুমে উনি প্রবেশ করলো। দরজা লাগানোর শব্দের আমি আরও ভয়ে ছিটিয়ে উঠলাম। অস্থিরতায় হাত কাঁপা শুরু করেছে; অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও কেউ এগিয়ে এলো না আমার দিকে। এবার লজ্জা ভুলে একটু চোখ তুলে তাকালাম, দেখতে পেলাম মানুষটা ফ্রেশ হয়ে বের হচ্ছে। মানুষটা এখনো আমার দিকে তাকাচ্ছে না; যেনো আমি অদৃশ্য কোনো বস্ত যাকে সামনে থাকা মানুষটা দেখতে পাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর গম্ভীর,শীতল একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো-

“ফ্রেশ হয়ে আসুন, এইভাবে না থেকে।”

আমি কেঁপে উঠলাম। প্রথমবার কোনো পুরুষ মানুষের সঙ্গে এইভাবে রয়েছি। জীবনে প্রেমের বসন্ত বলতে আমার কিছুই নেই। সেই বসন্তের খাতা শূন্য হয়ে রয়েছে। আমি শুনলাম, কারণ আমিও প্রচুর ক্লান্ত। সারাদিন এইসব ভারি শাড়ি আর গয়না পরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। আমি তার কথামতো শাড়ি নিয়ে ফ্রেশ হওয়ার জন্য চলে যাই। শাড়ি পরতে পারি। জীবনে একা চলার পথে সবকিছু জানতে হয়, তাই সবই জানা রয়েছে। না খেয়ে থাকার থেকে শুরু করে রান্না পর্যন্ত।

বের হয়ে আসার পর দেখতে পেলাম, সাজানো ফুলের বিছানাটার ফুলগুলো নিচে ঝেড়ে ঝেড়ে ফেলছেন মানুষটা। কেমন বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে রয়েছে সেগুলো। ইনায়া সামনে পা বাড়ালো না। কিছুক্ষণ পর লোকটা আমার দিকে তাকালো। মানুষটার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমার আত্মা অবধি কেঁপে উঠল। ঢোক গিলে নিলাম আমি। মানুষটা আমার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে,

“ওখানে খাবার আছে, খেয়ে নেবেন। আর আমি শুয়ে পড়ছি। আপনি খেয়ে শুয়ে পড়বেন।”

ব্যাস, এতোটুকুই। তারপর আর একটা শব্দও ব্যয় করেনি লোকটা। শুয়ে পড়ল বিছানার এক সাইডে। আমি স্তব্ধ হয়ে গেছি। এমন হয় বাসর রাত? সে ভেবেছিল, এই রাতটা মানুষটার সঙ্গে গল্প করবে। পরিচিত হবে একে-অপরের সঙ্গে। কিন্তু শুয়ে থাকা মানুষটার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই আমার ওপর। কান্না এলো কেন জানি। জীবনে কি আর একটা ঝড় আসবে আবার? নতুন করে কি আবারও কষ্ট পাব আমি? ভাবতে ভাবতে খেতে বসলাম। কিন্তু বেশি খেতে পারলাম না। খাবারগুলো কেমন গলায় আটকে যাচ্ছিল! তাই হালকা খেয়েই উঠে পড়লাম। একরাশ অস্থিরতা নিয়ে শুয়ে পড়লাম একদম বিছানার কাছ ঘেঁষে। এত নরম বিছানা আমার সহ্য হলো না। কথায় আছে, কু’ত্তার পেটে ঘি হজম হয় না। তেমনি তার মতো মাটিতে, শক্ত কাঠের ওপর শুয়ে বড় হওয়া মানুষদের কাছে এই নরম বিছানাও সহ্য হচ্ছে না। তবুও মানিয়ে নিলাম, কারণ এটাই আমার ঠিকানা আজ থেকে। হাজারো প্রশ্ন মাথায় ঘুরছে। একবার পাশ ফিরে তাকালাম উল্টোপিঠ করে শুয়ে থাকা স্বামী নামক মানুষটার দিকে। একই বিছানায় শোয়ার পরও অদৃশ্য এক বেড়াজালে আবদ্ধ আমরা। ভাবতে ভাবতে সেভাবেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

#চলবে