থার্টি ফার্স্ট নাইট পর্ব-১৮

0
619

@থার্টি ফার্স্ট নাইট
#পর্ব_১৮
#লেখিকা_নুসরাত_জাহান_নিপু

রেশমির বলা কথাগুলো অনাহিতার মস্তিষ্কে বহু দিন আটকে থাকলো।সময়ের সাথে সাথে সবকিছু স্বাভাবিক রঙ ধারণ করলোও বটে।

রাতে খাবারের পর সবাই বসেছে নিশির জন্মদিন কীভাবে পালন করবে সেটা নিয়ে পরিকল্পনা করতে।নিশি রাতের খাবার খেয়ে রুমে চলে গেছে।

কাকতালীয় ভাবে নিশি জন্মদিন পহেলা জানুয়ারি।অর্থাৎ সবকিছু তৈরি করবে ৩১ই ডিসেম্বর রাত বারোটার আগে।ইংরেজিতে যাকে বলে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’।এই সময় বাড়ির সবাই মিলে নিশির জন্মদিন প্লাস থার্টি ফার্স্ট নাইট দু’টোই বাড়িতে পালন করে।

রোমিলা বেগম পান মুখে দিয়ে বললেন,”এবারে সূর্যকেও ইনভাইট করা যায়।”

অভিনব বলল,”ইনভাইট তো করায় যায়।এবারেও কী বাড়িতেই করতেছি?”

ছেলের কথা শোনে রোমিলা বেগম ভ্রু কুঁচকে বললেন,”বাড়িতে নয়তো কোথায়?”

প্রেমশা দাঁড়িয়ে বলল,”নো,আমরা ঘুরতে যাবো।বাব্বা,থার্টি ফার্স্ট নাইটে আমরা ঘুরতে যাই?”

অভিনব বলল,”ঘুরতে?”
-“হ্যাঁ,বাব্বা।আমরা তো কোথাও যাইনি এ বছর।চলো না বাব্বা।”

সবাই কিছুক্ষণ চুপ করেই রইলো।ভ্রমণের জন্য সঠিক সময় হলো শীতকাল।ব্যস্ততার জন্য কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি।এদিকে রুমি,ইশিকা,কামাল মিয়া শ্রোতার কাজ করছে।

অনাহিতা বলল,”আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।”

রোমিলা বেগম ভ্রু কুঁচকে বললেন,”কী প্ল্যান?”
-“আমরা সবাই মিলে সিলেট ঘুরতে গেলাম।জন্মদিন সিলেটেই পালন করবো।”

অভিনব বলল,”আজকে ৩০ তারিখ।সিলেট গিয়ে সবকিছু প্ল্যান করা,রেডি করা…নট পসিবল।জন্মদিন না হয় বাড়ি করে তারপর ঘুরতে গেলাম।”

রোমিলা বেগম বাধা দিয়ে বললেন,”নাহ,এভাবের জন্মদিন অন্যভাবে করতে চাইছি।সব সময় একই রকম…”

ইশিকা বাঁ’হাত তুলে বলল,”আমি একটা কথা বলি?”

অনাহিতা বলল,”বলো।”
-“আমরা কাল রাতে সিলেট যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠলাম।আর ট্রেনেই জন্মদিন পালন করলাম।নতুন বছরের সাথে নতুন রকমের জন্মদিন?”

সবাই কিছু সময় নিয়ে ভাবলো।তারপর প্রেমশা বলল,”ইয়েস,থার্টি ফার্স্ট নাইটে পার্টি হব্বে…!”

রোমিলা বেগম বললেন,”প্ল্যানটা আমার ভালো লেগেছে।অভি,তোর কেমন লেগেছে?”

অভিনব বলল,”মন্দ মনে হয়নি।অনাহিতা?”
-“আমারও ভালো লেগেছে।নিশি নিশ্চয়ই সারপ্রাইজড হয়ে যাবে।প্রেমশাও খুশি,জন্মদিনও পালন করা হলো।থার্টি ফার্স্ট নাইটের পার্টিও হয়ে গেল।”
-“হুম।তাহলে আমরা ট্রেনে করেই যাবো?”

রোমিলা বেগম বললেন,”হ্যাঁ,নিশির ট্রেন ভালো লাগে।আর সূর্য?ও কে বলবো?”

অভিনব বলল,”আমি ফোন করে বলবো।আজকেই তাহলে বুকিং করে দিচ্ছি?”

অনাহিতা বলল,”হ্যাঁ,সময় তো নেই।আমরা সবাই তো যাচ্ছি?”

রুমি বলল,”আমি যামু না।বাড়িতেই থাকমু।”

রোমিলা বেগম বললেন,”কেন?”
-“আমি যাইয়া কী করমু?আমার বড়ো খালার বাসায় যাইতে হইবো।”
-“ওহ।”

রুমি সমস্যা থাকায় সে বাড়িতেই থাকবে ঠিক হলো।বৈঠক মহলের সবাই উঠে যে যার রুমে এলে আসলো।অনাহিতা বিছানা গোছাচ্ছে।অভিনব সোফায় বসে ল্যাপটপ ঘাটতে ঘাটতে বলল,”একটা কেবিন বুকিং করলে হবে তো?”

অনাহিতা নিজের কাজ করতে করতে বলল,”কেবিন তো হবে।কিন্তু কেবিনে ভালো লাগে না আমার।যতটুকু জানি নিশিরও ভালো লাগে না।”

প্রেমশা বুঝে না বুঝে বলে উঠলো,”আমারও ভালো লাগে না।”

অভিনব বলল,”কেবিন ছাড়া জন্মদিন পালন করা?”

অনাহিতা বিছানায় বসে বলল,”দু’টোরই টিকেট কাটেন।মা তো হইহুল্লার মধ্যে ঘুমাতে পারবে না।দু’টোই করেন।”
-“সিট কয়টা করবো?”
-“উমমম…চারটা।”
-“সিওর?”
-“হুম।”
-“সাড়ে ৮ টায় বুকিং দিলাম।”
-“কয় টায় পৌঁছে যাবো?”
-“ভোরে আর কী।শোনো,ট্রেনে উঠে মা’র সাথে নিশিকে সিটে বসিয়ে রাখবে।আর তুমি,ইশিকা,কামাল ভাই কেবিন সাজাবে।”

অনাহিতা কোমরে হাত রেখে বলল,”আর আপনি?”

অভিনব ভেবাচেকা খেয়ে গেল।সে কী করবে?আমতা আমতা করে বলল,”আমি…আমি কী করবো?”

অনাহিতা ঝগড়ার সুরে বলল,”বা বাবা বাহ!আমরা সবাই মিলে কাজ করবো আর আপনি গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরবেন?”
-“বাতাস লাগিয়ে কেন ঘুরবো?কোনো না কোনো কাজ করবো।”
-“কোনো না কোনো, নাহ।আপনি আমাদের সাথে কাজ করবেন।”
-“আচ্ছা বাবা ঠিক আছে।”
-“বাবা?কে বাবা?আপনার বাবা হই আমি?”

প্রেমশা মুখে হাত দিয়ে তার সুপার মাম্মা, বাব্বার ঝগড়া দেখছে।কিছু একটা মনে পড়ায় সে নিঃশব্দে উঠে গিয়ে চিপস নিয়ে হাজির হলো।দুপুরে তার সুপার মাম্মা বানিয়ে ছিল চিপস।এখন ফ্রি-তে মুভি দেখার সময় কাজে লাগছে।

অভিনব বিরক্ত হয়ে বলল,”আমি কথার কথা বলছি।তুমি সব সময় ঝগড়া করার জন্য সব সময় প্রস্তুত কেন থাকো?মাথায় কী সব সময় গণ্ডগোল লেগে থাকে?”

অনাহিতা রেগে গিয়ে বলল,”আশ্চর্য!ঝগড়া করার জন্য কে প্রস্তুত থাকে?আমি না আপনি?”
-“অভিয়সলি তুমি।”
-“আয়নায় নিজের চেহারা প্রতিদিন দেখেন?আমার সাথে ঝগড়া করার জন্যও যোগ্যতা লাগে।হুহ্!হুতোমপেঁচার মতো চেহারা নিয়ে…”
-“তুমি আমাকে হুতোমপেঁচা বললে?তোমাকে তো পেত্নী বললেও কম হবে।দূরে দাঁড়িয়ে পেত্নীরা হাসবে।”
-“হুয়াট ননসেন্স।লিমিট ক্রস করবেন না মিস্টার বাসি কাঁঠাল।”
-“কাঁঠাল?কাঁঠালের আঠায় লেগে থাকলে বুঝবে।”
-“আঠায় তো লেগে আছি।ছেড়ে যেতে পারছি কই?”
-“তার মানে তুমি আজীবন থাকছো?”

অনাহিতা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল,
-“হ্যাঁ থাকছি।এটা আমার সংসার।”
-“বাবা!”

অনাহিতা অগ্নি দৃষ্টি নিয়ে বলল,”আবার বাবা বললেন?আমাকে দেখে আপনার বাবা মনে হয়?”
-“উফ,কথার কথা।তুমি আবার বাবা কেন হবে?অর্ধাঙ্গিনী হও আমার!”

‘অর্ধাঙ্গিনী’ শব্দটা শুনতেই অনাহিতার সমস্ত রাগ গলে তরলে পরিণত হলো।অভিনব তাকে প্রেমশার মা থেকে ‘অর্ধাঙ্গিনী’র জায়গায় বসিয়েছে?তবে কী সুখের দেখা পেলো সে?

মাত্র মুখ ফসকে বেরিয়ে আসা কথাটি নিয়ে অভিনব দ্বিধায় পড়ে গেল।হুট করেই সে কী বলে বসেছে?অনাহিতা রেগে গেল না তো?

আড়চোখে অনাহিতার চেহারা দেখে অভিনব নিশ্চিত হলো সে রেগে নেই।বরং চেহারা শীতল দেখাচ্ছে।অভিনব মৃদু হাসলো।হোক না হোক মেয়েটা তারই স্ত্রী!

অনাহিতা নিজের অনুভূতি আবদ্ধ করে ব্যাগ গুছিয়ে নিলো।প্রেমশার জন্যই বেশি পোশাক নিলো।বাচ্চারা তাড়াতাড়ি জামা নষ্ট করে ফেলে।প্রেমশার তো এক দন্ড বাদে বাদে জামা পালটানোর রোগ আছে।কাল শপিং করাও দরকার।

.
রাত ৩টার দিকে নিশির ঘুম ভেঙে গেল দ্বিতীয় কারো উঞ্চ নিঃশ্বাসে।ধড়ফড়িয়ে উঠে দেখে সূর্য তার পাশে বসে আছে।বসার ভঙ্গিমা হলো গালে এক হাত দিয়ে আধো ঘুম।নিশি লাইট জ্বালিয়ে দু’এক বার আবারো ভালো করে দেখলো।

মানুষটি ‘সূর্য আহমেদ’ সেটা নিশ্চিত হতেই সে চমকে উঠলো।এত রাতে এখানে কী মানুষটা?

সূর্যের মুখে দেওয়া হাতটা নিশি ছাড়িয়ে নিলো।তখনি সূর্যের আধো ঘুম উড়ে গেল।হাই দিয়ে সে বলল,”এতক্ষণে ঘুম ভাঙলো তোমার?”

নিশি ফিসফিস করে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,”আপনি এখানে কী এত রাতে?”

সূর্য পাশ থেকে পানির গ্লাস নিয়ে পানি খেল।তারপর বলল,”তোমাকে দেখতে ইচ্ছে হলো,তাই চলে এলাম।”
-“হুয়াট?রাত তিন টায়?তিন টায় দেখতে ইচ্ছে হলো?”
-“হ্যাঁ,এখন চলো।”
-“কোথায়?”
-“জুতো পায়ে দাও।চলো এখন,নো মোর কুয়েশ্চন।”

নিশি আর কিছু বলার সাহস পেলো না।তবে নাইটি পালটে সালোয়ার কামিজ পড়ে নিলো।দু’জনে চুপিচুপি বেরিয়ে পড়লো জানালা দিয়ে।
.

আঁধারের রাস্তা সোডিয়াম বাতির আলোই হলদে রঙ ধারণ করে আছে।রাস্তার দুই ধারে সবুজ গাছ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী নেই।নীরবে ঘেরা চারদিক থেকে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক কানে ভেসে আসছে।

নিশির মতে গভীর রাতের শহরটা বেশি সুন্দর।থাকে না কোনো হৈ-হুল্লোর,থাকে না কোনো ব্যস্ততা।থাকে তো শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি।নিশাচর প্রাণীরাই এই সৌন্দর্য উপভোগ করার ক্ষমতা রাখে।

এক দল শীতল হাওয়া এসে নিশিকে জড়িয়ে ধরলো।নিশি চোখ বন্ধ করে প্রকৃতির সৃষ্টি উপভোগ করছে।কোথা থেকে বেলিফুলের গন্ধ নাকে আসছে।

সূর্য তাকে এক নজর বুলিয়ে নিয়ে বলল,”ভালো লাগছে?”

চোখ খুলে নিশি আনন্দের সাথে বলল,”ভী-ষ-ণ!”
-“ঘুম ভাঙ্গিয়ে তাহলে ভালো করলাম বলো?”
-“হুম।একটা ছোট্ট ধন্যবাদ পাবে।”

সূর্য মৃদু হাসলো।তার গায়ে আছে ধূসর রঙের গেঞ্জি,উপরে বোতাম খুলে রাখা খয়েরী শার্ট।পায়ে নখ দিয়ে সূক্ষ্ম ভাবে জুতোয় আঘাত করছে।এটা তার অন্যতম অভ্যাস।

নিশি উৎফুল্লতার সাথে বলল,”শোনো,আমরা বিয়ের পর প্রায় এভাবে রাতে হাঁটতে বের হবো।ঠিক আছে?”
-“হুম।রাতের পরিবেশ সুন্দর!”
-“হুম।তোমার আর আমার পছন্দ এই জায়গায় মিল।তোমারও রাত পছন্দ,আমারও।”
-“আর কোনো কিছু মিল নেই?”
-“থাকবে হয়তো।খেয়াল করিনি।”

কারণ ছাড়ায় শেষ কথা বলে নিশি হাসতে লাগলো।সূর্য মুগ্ধ হয়ে তার প্রেমিকার হাসি দেখছে।মেয়েটা হাসে কম।কিন্তু হাসলে প্রকৃতির সৌন্দর্যও তার কাছে হার মানে।এই যেমন সূর্য প্রকৃতির মায়া ছেড়ে মেয়েটাকে দেখছে!

মেয়ের গালে টোল থাকলে তবেই নাকি হাসলে সুন্দর দেখায়।কিন্তু নিশির টোল না পড়েও কত সুন্দর হাসি!ঠোঁটের সাথে তার চোখ জোড়াও হাসছে।এটা স্পষ্ট চেহারায় ভেসে উঠছে।

সূর্য চোখ সরিয়ে নিলো।এই মেয়েটার চেহারার দিকে তাকালে তার ধ্বংস অনিবার্য।জাদু জানে মেয়েটা!

নিশি বলে উঠলো,”আচ্ছা, জুতো খুলে হাঁটি?”

বাধা দিয়ে সূর্য বলল,”ব্যথা পাবে।”
-“কিছু হবে না।”

নিশি তার জুতো জুড়া খুলে হাতে নিলো।আজ নিশিকে দেখে মনে হচ্ছে সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি।

হঠাৎ সে আফসোসের স্বরে বলল,”ইশ!এই ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়ার সাথে আইসক্রিম হলে মন্দ হতো না।”

সূর্য আড়চোখে তাকিয়ে বলল,”সিওর খাবে?”

নিশি অবাক হয়ে বলল,”কোথায় পাবো?”

যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে সূর্য উত্তর দিলো,”আর একটু সামনে চলো।”

নিশিও বিপরীতে কিছু বলল না।কেন যেন তার মনে হচ্ছে সামনে বড়ো সারপ্রাইজ আছে।

সত্যি সত্যি সামনে এগুতেই আইসক্রিম নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন ব্যক্তিকে দেখা গেল।নিশির মুখটা হা হয়ে গেল।খুশিতে লাফিয়ে উঠে সে বলল,”ওয়াও!আইসক্রিম?এত রাতেও পাওয়া যায়?”
-“শুধু আপনার জন্য ম্যাডাম।”

নিশি অচেনা লোক দু’টো সামনে গিয়ে দেখলো তারা কয়েক ফ্লেভারের আইসক্রিম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।নিশি চকলেট ফ্লেভারের নিলো।

সে আইসক্রিম নিতেই লোক দু’টো মাথা নুইয়ে চলে গেল।সূর্যের উদ্দ্যেশে নিশি বলল,”আরে,তুমি স্পেশালি সবকিছু করেছো।তাই না?”
-“যাহা বলিবেন আপনি রাণী।”

নিশি হেসে আইসক্রিমে কামড় দিলো।দু’জনে আরো কিছু দূর গেল।গিয়ে দেখলো ফুচকাওয়ালা দাঁড়িয়ে আছে।

নিশি আড়চোখে সূর্যের দিকে তাকালো।সূর্য হেসে বলল,”আমি জানি তুমি ফুচকাও খাবে।”

নিশি দৌড়ে লোকটার কাছে গিয়ে দাড়ালো।সূর্য পেছন পেছন আসলো।লোকটির উদ্দেশ্যে নিশি বলল,”চাচা,ঝাল-টক বেশি দিবেন।”

সূর্যকে তাক করে বলল,”আগে ফুচকা তারপর আইসক্রিম হলে বেটার হতো।”
-“সমস্যা নেই।ফুচকা খেয়ে আবার আইসক্রিম খেয়ো।”

একটা পর একটা করে নিশি অনেক গুলো ফুচকা খেয়ে ফেললো।তারপর নিশিকে আট বছরের একটা ছেলে এসে চকলেট দিয়ে গেল।নিশি তাকে কিছু বলার সময়ই পেল না।

এরপর আবারো নীরব পরিবেশ।সামনের দিকে এগুতে এগুতে দেখলো চারপাশটা বেলুন দিয়ে সাজানো।নিশি বলল,”বাহ!সব পরিকল্পনা আগে থেকেই করে রেখেছেন।ইমপ্রেসিং!”

সূর্য পাশ থেকে লাভ আকারে বেলুন নিয়ে নিশির উদ্দেশ্যে বলল,”ভালো লেগেছে?”
-“হুম।”

মুহুর্তে অনেক গুলো জ্বলজ্বল করা জোনাকি পোকা চলে এলো।নিশি সবটা দেখে হো হো করে হাসতে শুরু করলো।সূর্য বুকের বাঁ পাশে হাত রেখে বলল,”হায়!এভাবে হেসো না।”

নিশি জোনাকি পোকা ধরার চেষ্টা করে বলল,”কেন?”

মাদকা মিশ্রিত কণ্ঠে সূর্য তার দিকে এক পানে তাকিয়ে উত্তর দিলো,”মরেই যাবো।এত সুখ সহ্য হয় না।”

এ কথা শোনে নিশি তার দিকে তাকালো।অন্য রকম ভাবে প্রথম শুভ দৃষ্টির মিলন হলো।এই দৃষ্টিতে নিশি অন্য এক জগতে হারিয়ে গেল।যেখানে শুধু ভালোবাসা,সূর্য আর সে!

সূর্য এক পা এক পা করে এগিয়ে তার কাছাকাছি চলে আসলো।কমে গেল দু’জনের মাঝে দূরত্ব।হারিয়ে গেল একে অপরের দৃষ্টিতে,ভালোবাসায়।

সূর্য তার হাত জোড়া নিশির কৃষ্ণকেশে ডুবিয়ে দিলো।মিলে গেল দু’জনের ওষ্ঠদ্বয়।নিশি উপলব্ধি করছিল তার জীবনের অন্য রকম অনুভূতি উদয় হয়েছে।সে বারংবার ডুবে যাচ্ছে সে সুখে!

সুখের সাক্ষী হয়ে রইলো সৌন্দর্যের রাণী প্রকৃতি।জ্বলজ্বল করা জোনাকি পোকা,কৃত্রিম কিছু বেলুন!
.
(চলবে)