থার্টি ফার্স্ট নাইট পর্ব-২০

0
655

@থার্টি ফার্স্ট নাইট
#পর্ব_২০
#লেখিকা_নুসরাত_জাহান_নিপু

আমিন উড়ো খবর পেয়েছে আজকে খুশির বিয়ে।এটা শোনে তার মাথায় রক্ত উঠে গেছে।মেয়েটাকে সে আগেই সন্দেহ করেছে।তাকে বোকা বানিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করা অতো সহজ না।

খুশিকে বেশ কয়েকবার কল করেও সে পেল না।তখন মানিব্যাগ টাকায় ভর্তি করে,বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।গন্তব্য স্থল খুশির বাড়ি।কিন্তু তার রাগ আরো বেড়ে গেল খুশিদের বাড়ির বড়ো দরজায় লাগানো তালা দেখে।

তাতক্ষণিক সে বুঝতে পারলো ওরা বিয়েটা অন্য কোথাও দিচ্ছে।আমিন সিম কোম্পানিতে কাজ করা তার এক বন্ধুকে কল দিয়ে বলল খুশির ফোন কোথায় আছে সেটা জানাতে।

আধ ঘন্টার মধ্যে তার বন্ধু ঠিকানা জানিয়ে দিলো।আমিন আগের মতোই দ্রুত বেগে গাড়ি চালালো।খুশিকে সামনে পেলে সে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে।
.

রুমিকে বাড়ি সামাল দিতে বলে সবাই বেরিয়ে পড়লো স্টেশনের উদ্দেশ্যে।অনাহিতা গাড়িতে বসার মিনিট কয়েক পর কল এলো।

মোবাইল নিয়ে দেখে সে অচেনা নাম্বার।ভ্রু কুঁচকে সে কল রিসিভ করলো।ওপাশ থেকে বলে উঠলো,”হ্যালো,ভাবি?আমি নিসান বলছি।”

অনাহিতা থমকে গেল।এতদিন পর নিসান কী মনে করে?সেদিন নিসান কেন এসেছিল তাও জানা হয়নি।আড়চোখে সে প্রেমশার পাশে বসে থাকা অভিনবের দিকে তাকালো।সে তাকাতেই অভিনব ইশারায় ‘কী’ জিজ্ঞেস করলো।ঠোঁটে কৃত্রিম হাসি ঝুলিয়ে সে ‘কিছু না’ বলল।তারপর প্রেমশার হাত জোড়া শক্ত করে ধরে রাখলো।

ওপাশ থেকে নিসান বলল,”ভাবি?শুনতে পাচ্ছো?”
-“হা,হ্যাঁ।নিসান বলো?”

অস্ফুট সুরে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসলো।অনাহিতার বুক কেঁপে উঠলো।সব ঠিক আছে তো?জিসান…জিসান ঠিক আছে?

কান্নার সুরেই নিসান বলল,”ভাবি,ভাইয়া এক্সিডেন্ট করেছে।তুমি একবার আসতে পারবে?হাসপাতাল…”

অনাহিতা অস্থির কণ্ঠে বলল,”ক…কী হয়েছে?কখন?”
-“একটু আগে।বাইক এক্সিডেন্ট।তোমাকে দেখতে চাইছে ভাবি।”

অনাহিতা বাইরের দিকে তাকিয়ে নিজের চোখের জল লুকানোর চেষ্টা করলো।কাঁপা স্বরে প্রশ্ন করলো,”আমাকে কেন?”
-“ভাবি,ভাইয়া নিজের ইচ্ছায় কিছু করেনি।সবটা মায়ের কথামতো করেছে।মা ব্ল্যাকমেইল করেছিল।ভাইয়ের বিয়ের দিন তুমি এসে বিয়ে আটকালে বিয়েটা হতো না।তাই আমি তোমার খুঁজে গিয়েছিলাম।”

অনাহিতা ঠোঁট চেপে ধরেছে।নিসান আবারো বলল,”ভাইয়া তোমাকে ভালোবাসে ভাবি।একবার আসো প্লিজ…”

অনাহিতা কল কেটে দিয়ে,সাইলেন্ট করে রাখলো।সহ্য করতে পারছে না সে।তার ভাগ্যের লিখনটা এমন কেন হলো?জিসানের কী অবস্থা এখন?আঘাত বেশি পেয়েছে?মনে হয় পেয়েছে।

অনাহিতা আড়ালেই চোখের জল মুছে নিলো।কিন্তু প্রেমশা তা দেখতে পেয়ে বলল,”সুপার মাম্মা?তুমি কাঁদছো?”

অনাহিতা মৃদু হেসে উত্তর দিলো,”ক…কই?না তো।চোখে কী পড়েছে মনে হয়।”

অভিনব অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,”কেউ যখন চোখের জল লুকাতে চায় তখন জাতীয় মিথ্যা কথা বলে ‘চোখে কী পড়েছে মনে হয়’।হা হা হা!”

অভিনব সবটা খেয়াল না করেই বলেছে।কিন্তু যখনই দেখলো অনাহিতার চোখ জোড়া সত্যি লাল লাল।তখন তার হাসি থেমে গেল।অস্থির স্বরে বলল,”অনাহিতা?কাঁদছো কেন?কী হয়েছে?কে কল করেছে?”

অনাহিতা মোবাইল হ্যান্ড ব্যাগে ঢুকিয়ে বলল,”কিছু না তো।কী পড়েছে চোখে…”

অনাহিতার মিথ্যা কথা ধরে ফেলে অভিনব বলল,”গাড়ির কাঁচ বন্ধ।কীভাবে চোখে কী পড়লো?শরীর খারাপ লাগছে?”

অনাহিতা ফের মিথ্যা বলল,”হ্যাঁ,মাথা ব্যথা করছে।”
-“মাথা ব্যথা?ড্রাইভার,হাসপাতালের দিকে গাড়ি ঘুরাও,কুইক।”

অনাহিতা বিস্মিত হয়ে বলল,”আশ্চর্য তো!ড্রাইভার,দরকার নেই।”

থেমে অভিনবের উদ্দেশ্যে বলল,”খারাপ মানুষ তো আপনি।সবাই ঘুরতে যাচ্ছি,এখান আপনি হাসপাতাল…”
-“তোমার মাথা ব্যথা বেশি করছে বলেই তো কাঁদছো।”
-“কোনো বেশি না।চুপ করে বসে থাকেন।আপনার বকবকের কারণে আমার আরো ব্যথা করছে।”

প্রেমশা তাকে বলল,”সুপার মাম্মা,মাথা এই নিচু করো।আমি টিপে টিপে দিবো।”

বুকে শত কষ্ট জমিয়েও অনাহিতা স্মিথ হাসলো।এরা বাপ-বেটি থাকলে সে সবকিছুই মোকাবেলা করতে সক্ষম।অনাহিতা নিচু করলে প্রেমশা তার মাথা টিপে দিতে লাগলো।

যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনাহিতা নিয়ে ফেলেছে।জিসানের জীবনে সে আর কোনো দিন প্রবেশ করবে না।প্রশ্নই উঠে না।দু’জন এখন আলাদা।দু’জনের দু’টো জীবন তৈরি হয়েছে।

একটু পরেই সে মোবাইল নিয়ে নিসানের নাম্বারে কল দিলো।নিসান যেন তার ফোনেরই অপেক্ষা করছিল।রিসিভ করে বলল,”ভাবি,আসছো?”
-“নাহ,আমি আমার সংসার নিয়ে ব্যস্ত।”
-“ভাবি,কী বলছো তুমি?তুমি না ভাইয়াকে ভালোবাসো?”
-“হ্যাঁ।আমার ভালোবাসাকে আমি সম্মানও করি।তাই বলে আমাকে নিয়ে পুতুল নাচ দেখাতে পারবে না।ভালোবাসি বলে আমি তার হাতের পুতুল না।”
-“ভাবি…”
-“আমি তোমার ভাবিও না।এক্সিডেন্ট করেছে,ডক্টর আছে চিকিৎসা করবে।তার বউ আছে সেবা করবে।আমি কেউ না।”

অনাহিতা কল কেটে দিলো।অনাহিতা সত্যিই তো তার কেউ না।ভালোবাসে বলেই শুধু ভেতরটা পুড়ে,জিসানের ব্যথার খবরে অন্তরটা খা খা করছে,মরে যাচ্ছে হাজার বার।তাকে এক পলক দেখতে ইচ্ছে করছে।কিন্ত সব ইচ্ছেকেই প্রধান্য দিতে নেই।পাপ হয় এতে!

অভিনব তার দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।বিনিময়ে সে হাসলো।আজ কারণে-অকারণে হাসতে মন চাইছে।হাসি তো সব ব্যথার ওষুধ!

.
আমিন ঠিকানা অনুযায়ী বিয়ে বাড়ি উপস্থিত হয়ে দেখে বরযাত্রী চলে এসেছে।বিয়েটা মোটেও বড়ো অনুষ্ঠান করে হচ্ছে না।দুই পরিবারের মধ্যে হচ্ছে।তবুও খাবারের ঘ্রাণ নিয়ে বুঝা যায়!

আমিন শোনতে পেল কেউ একজন বলছে ‘বউ রেডি হয়ে পাশের রুমে আছে।কখন নিয়ে আসবো?’

ব্যস!সে সবার আড়ালে জানালা দিয়ে রুমে প্রবেশ করলো।তাকে দেখার বিন্দুমাত্র সুযোগও খুশি পেলো না।তার আগেই সে তার মুখে রুমাল চেপে অজ্ঞান করে ফেলেছে।একই ভাবে জানালা দিয়ে তাকে নিয়ে নেমে গেল।কল করে তার এক বন্ধুকে আসতে বলল।যাতে বাইকটা নিয়ে যেতে পারে।আর সে টেক্সি নিয়ে রেলস্টেশনে পৌছে যায়।

খুশির তখন জ্ঞান ফিরছে ফিরছে।তখন আমিন তাকে টেনে হিঁচড়ে ট্রেনে উঠিয়ে নিয়েছে।

খুশি চোখ খুলে দেখে অপরিচিত জায়গায় সে শুয়ে আছে।চোখ কচলে বুঝতে পারলো এটা চলন্ত ট্রেন।ওমনি তার মনে পড়ে গেল কেউ একজন তার মুখে রুমাল চেপে ধরে ছিল।

ভয়ার্ত দৃষ্টিতে সে চারপাশ চোখ বুলালো।তখন নজর আটকে গেল একটু দূর থেকে এগিয়ে আসা আমিনের দেখে।তখনি সে বুঝে গেল আমিনই তাকে কিডন্যাপ করেছে।ভয় পেয়ে সে শুকনো ঢোক গিললো।

আমিন তার পাশে এসে বসলে তার ঘাম শুরু হয়।আমিন তাচ্ছিল্যের সুরে হেসে বলে,”এই শীতকালেও ঘামছো কেন?নাও নাও,পানি খাও।”

খুশির পরিস্থিতি এমন যে এই জায়গা থেকে সে উধাও হতে পারলে বাঁচে।কিন্তু যমের হাত থেকে বাঁচা যায়?কাঁপা হাতে সে পানির বোতল নিয়ে পানি খেলো।আমতা আমতা করে বলল,”আম…আমি,আমি কীভাবে এলাম?”

আমিন তার হাত থেকে বোতল ছিনিয়ে নিয়ে বলল,”আমি নিয়ে এসেছি।বিয়ে করার শখ না তোমার?আমরা বিয়ে করবো।”

আচমকা খুশি কেঁদে উঠলো।সে জানে কাঁদলে আমিন নরম হয়ে যাবে।কিন্তু আমিন উলটো হেসে উঠলো।খুশি কাঁদতে কাঁদতে বলল,”আমি…আমাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছিলো।আমি ইচ্ছে করে…ইচ্ছে করে বিয়ে করিনি।”

আফসোসের স্বরে আমিন বলল,”ইশ!কিন্তু জানেমন বিয়েটা হয়নি।জোর করে বিয়ে দিতে পারেনি।তোমার বিয়ে আমার সাথেই হবে।”

খুশি বুঝতে পারলো তার কোনো নাটকেই এখন কাজ হবে না।শেষমেশ এই রাক্ষসের সাথেই তার বিয়েটা হবে?এর চেয়ে তো মরণ ভালো!

চেহারা ভঙ্গি ক্রোধে পরিণত করে আমিন বলল,”তুমি কাজটা একটুও ভালো করোনি খুশি।আমাকে ধোঁকা দিয়ে অন্য কারো সাথে সংসার করার প্ল্যান করেছ?স্যরি টু সে,তোমার জীবনের কালো দিন আজকে থেকে শুরু।স্টার্ট নাও!”

খুশি মাথা নিচু করে রইলো।এখন বিচলিত হয়ে কিছু করা সম্ভব না।সে মৃদুস্বরে বলল,”এখন আমরা কোথায় যাচ্ছি?ট্রেন কোথায় যাবে?”

হেয়ালি করে আমিন উত্তর দিলো,”জানি না আমি।”
-“জানি না মানে?টিকিট?”
-“টিকিট কাটিনি।”

খুশির মুখটা হা হয়ে গেল।এই কোন রাক্ষসের সাথে সে সম্পর্ক করছিল?প্রথম দেখায় ক্রাশ খেয়ে ছিল।এখন বাঁশে পরিণত হয়েছে।

আমিন দূরের একটা লোককে উদ্দেশ্য করে বলল,”এই যে ভাই,ট্রেন কোথায় যাচ্ছে?”

লোকটা এমন ভান করলো যেন দিনের বেলায় চাঁদ উঠেছে।আমিন ধমক দিতে যাবে তার আগেই লোকটা উত্তর দিলো,”সিলেট।না জাইনা টেরেনে উঠছেন কেল্লায়?সাথে নয়া বউ নিয়ে আইছেন।পাগল লোক!”

.

নিশিকে সাথে নিয়েই রোমিলা বেগম জানালার পাশের সিটে বসে আছেন।নিশি তার মায়ের উপর অত্যন্ত বিরক্ত।একটা কেবিন বুক করা হয়েছে কিন্তু তাকে কেবিনে যেতেই দিচ্ছে না।ইশিকা,অনাহিতা,প্রেমশা আর অভিনব কেবিনে ঢুকে আটকে আছে।আর কামাল মিয়া একবার ঢুকছে, আরেকবার বের হচ্ছে।অসহ্য!

রোমিলা বেগম ব্যাগের ভেতর চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।তিনি মনে করে পান-সুপারি ব্যাগে নিয়ে ছিলেন।অথচ এখন পান পাওয়া গেছে কিন্তু সুপারি পাওয়া যাচ্ছে না।

আগের চেয়ে পান খাওয়ার পরিমাণটা এখন রোমিলা বেগমের বেড়ে গেছে।এখন সকাল,দুপুর,রাত তিন বেলা পান খান।চিন্তা বেড়ে গেলে পান খান।

অনেকক্ষণ খুঁজাখুঁজির পর তিনি সুপারি পেলেন।আরাম করে সুপারি দিয়ে পান মুখে দিতে যাবেন তার আগেই নিশি বলল,”মা,তুমি যদি পান মুখে দাও তাহলে তোমাকে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিবো।”

এহেন কথায় রোমিলা বেগম হা করে রইলেন।নিশির মেজাজ ঠিক নেই।সত্যি সত্যি ফেলেও দিতে পারে।তিনি মুখ গোমড়া করে বানানো পানটা ব্যাগে ভরে রাখলেন।

নিশি নিজের ফোন টিপতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।বাড়ির সবার উপরই তার রাগ বাড়ছে।এভাবে এক কোণে ফেলে রাখার মানে কী?

কামাল মিয়া তার পাশে এসে দাঁড়ালো।নিশি বিরক্তি নিয়ে বলল,”কামাল ভাই,আমাকে এক কাপ চাওয়া খাওয়াতে পারবেন?”

কামাল মিয়া বাধ্য লোকের মতো বলল,”জ্বে আপা।কী চা খাইবেন?”
-“চিনি ছাড়া এক কাপ রং চা।”
-“আপনের ডায়াবেটিস তো নাই আপা।চিনি ছাড়া খাইবেন ক্যান?”

নিশির ইচ্ছে করছে তার কামাল মিয়াকে এক আঙুলে তুলে তার মায়ের মাথায় ফেলতে।এতে দু’জনেই শাস্তি পেয়ে যাবে।

দাঁতে দাঁত চেপে সে উত্তর দিলো,”চিনি ছাড়া খেতে ইচ্ছে করছে।”
-“জ্বে আপা।যাই তাইলে?খালা,আপনের কিছু লাগবো?”

রোমিলা বেগম এতক্ষণ দু’জনের দিকে তাকিয়ে তাদের কথাবার্তা শুনছিল।তার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন হতেই তিনি বললেন,”পান খেতে চেয়ে ছিলাম।কিন্তু খেতে পারছি না।পান খাওয়ার জন্য একটা জায়গা চাই।”

কামাল মিয়া এমন উত্তরে হতভম্ব হয়ে গেল।পান খাওয়ার জন্য আলাদা জায়গা হয় নাকি আবার?সে নিঃশব্দে হেঁটে চলে গেল।

নিশি তার মায়ের উদ্দেশ্যে বলল,”পান খাও।কিন্তু মুখ যেন বিশ্রী না হয়।”

রোমিলা বেগম অনুমতি পেতেই মুখে পান ভরে দিলেন।নিশির উদ্দেশ্যে তিনি বললেন,”তুই সূর্যকে কল করেছিস?”
-“নাহ।”
-“কেন?”
-“করবো এখন।”

বলতে বলতে সে সূর্যের নাম্বারে ডায়াল করলো।রোমিলা বেগম কান খাড়া করে রাখলেন কিছু শুনতে পাওয়ার উদ্দেশ্যে।

নিশি শীতল কণ্ঠে বলল,”তোমার সাথে হিরোইন শ্রদ্ধার এনগেজড হয়েছিল?”

এ কথা শুনে সূর্য থমকে গেল।নিশির কাছে এই নিয়ে সে কোনো কথা বলেনি।সে বলল,”তো…তোমাকে কে বলল?”
-“আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।”
-“নিশি লিসেন,আমি তোমাকে আগেই বলতে চেয়ে ছিলাম কিন্তু অতোটা ইম্পর্ট্যান্ট না বলে আমার বলা হয়নি।তুমি প্লিজ রাগ করো না।”
-“আমি রাগ করছি না।আন্সার মি?”

দীর্ঘশ্বাস ফেলে সূর্য বলল,”হ্যাঁ,হয়েছিল।”
-“এনগেজড শ্রদ্ধা ভেঙে দিয়েছিল?কেন ভেঙেছিল?”
-“কে বলেছে তোমাকে এসব?শ্রদ্ধা কেন ভাঙবে?নিশি আমি তোমাকে সবটা বলছি।উলটা-পালটা বুঝো না।”
-“হুম।”
-“শ্রদ্ধার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছিল দাদু তিন বছর আগে।আমাদের পারিবারিক ভাবে এনগেজডও হয়েছিল।কিন্তু এর মধ্যে দাদু জানতে পারে শ্রদ্ধার…শ্রদ্ধার চরিত্র খারাপ।ডিরেক্টরদের সাথে ওর খারাপ সম্পর্ক ছিল।ওর জন্য ডিরেক্টর মোহনের সংসার ভেঙে গেছে।সবকিছু জেনেই দাদু এনগেজড ভেঙে দেয়।আমার সাথে ওর আর কোনো লেনদেন নেই।”
-“তুমি ও কে পছন্দ করো না?”
-“পছন্দ, অপছন্দ কোনোটাই করি না।ও আমার কাছে জাস্ট অ্যান এক্টর।”
-“আমি এসব কেন বিশ্বাস করবো?”
-“বিকজ ইউ লাভড মি অ্যন্ড আই লাভ ইউ।তোমাকে মিথ্যা বলা মানে নিজেকেই ঠকানো।”
-“তোমাকে কয়েকটা ছবি দিচ্ছি,এগুলো দেখে বলো।”
-“কী ছবি?তার আগে বলো তোমাকে কে বলেছে এসব?”

নিশি উত্তর না দিয়ে কল কেটে দিলো।শ্রদ্ধার পাঠানো ছবিগুলো সে সেন্ড করলো।রোমিলা বেগম তার দিকে ফেলফেল করে তাকিয়ে আছে।

(চলবে)