#রহস্যে_ঘেরা_ভালবাসা
#পর্ব_২১
#M_Sonali
রাত ১২ বেজে ৫ মিনিট,
আমার রুমের সেই আয়নাটার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সারা শরীরের লোম দাঁড়িয়ে উঠেছে ভয়ে। কিন্তু ভয় করলে চলবে না ভেবে যতটা সম্ভব ভয় কে জয় করার চেষ্টা করছি। মনে মনে নিজেকে যতটা সম্ভব প্রস্তুত করে নিচ্ছি। কারণ এখনই আয়নার মাঝে প্রবেশ করতে হবে আমায়। আর সন্ধান করতে হবে সেই মুকুটের। আয়নায় প্রবেশ করার সাথে সাথে চারিদিক থেকে নানা রকমের বিপদ ঘিরে ধরবে আমায়। কিন্তু সেই বিপদে একটুও মনোবল হারালে চলবে না। ভয় পেলেই মৃত্যু অনিবার্য সেখানে। তবুও আমাকে এই পথে পা বাড়াতে হবে। কারণ আমি প্রতিজ্ঞা করেছি নিজের বাবা-মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেব ইফ্রিত জিনদের থেকে। আর সকল ইদ্রিস জিনদের মুক্ত করব ওদের কবল থেকে।
আজ সারাদিন মীর ও বাসার সবার সাথে সময় কাটিয়েছি। দিনটা ভীষণ ভালো ছিল আমার। বাসার সবাই জানে আমি মীরের সাথে হানিমুনে গিয়েছি কিছুদিনের জন্য। শুধুমাত্র মীরের বাড়ির সবাই জানে আসল কাহিনী। তাছাড়া আমার বাড়িতে কেউ জানে না আসলে আমি কোথায় যাচ্ছি। জানিনা এই পথ থেকে ফিরে আসতে পারব কিনা! তবুও সকলকে হাসিমুখে বিদায় দিয়ে হানিমুনের নাম করে চলে গেছি। তারপর আবার মীরের সাথে ফিরে এসেছি এই রুমে। রাত ১২ টা বাজার সাথে সাথে মীর অদৃশ্য হয়ে গেছে। সে আর সামনে আসবে না আমার। তবে যাওয়ার আগে অনেক কিছুই বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। এসব কথা ভাবতে ভাবতেই প্রায় অনেকটা সময় পার করে ফেললাম। হঠাৎ আয়নায় ওঠা ঢেউগুলো দুধের মত সাদা হয়ে যেতে লাগলো। বুঝতে পাড়লাম এখনি আয়নাতে প্রবেশ করতে হবে আছে। নিজের সাথে করে বেশ কিছু শুকনো খাবার আর পানি নিয়ে বিসমিল্লাহ বলে আয়নায় প্রবেশ করলাম।
মুহুর্তের মাঝে সুড়ঙ্গের মতো একটি জায়গায় পৌঁছে গেলাম। যার সামনে-পিছনে চারিদিকে শুধু বিশাল এক সুরঙ্গ। দূরদূরান্ত অব্দি কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে আমি কোন গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাচ্ছি। প্রথমেই ঘাবড়ে গেলে চলবে না ভেবে মনকে শক্ত করলাম। তারপর হাতের মুঠো শক্ত করে একপা একপা করে গুনতে গুনতে সামনে এগিয়ে গেলাম। এভাবে ৭ পা এগিয়ে যেতেই আমার নজরে পড়ল সামনের একটি মাটির ঢিপির ওপর একটি রুপালি রঙের থলে রাখা।
আমি আর দেরি না করে দ্রুত থলে টাকে বিসমিল্লাহ বলে হাতে তুলে নিলাম। তারপর ছোট করে একটি নিশ্বাস ফেললাম। থলেটা এপাশ-ওপাশ করে ভালোভাবে দেখে নিলাম। ভীষণ চকচকে এবং সুন্দর একটি থলে এটা। এমন থলে এর আগে কখনো দেখিনি। দেখে মনে হচ্ছে যেন কোন কিছুর চামড়া দিয়ে তৈরি করা। তবে উপরের রুপালি রঙের চকচকে ভাব টা এতটাই যে, দূর থেকে দেখলে যে কেউ ভাববে এটা রুপা দিয়ে তৈরি করা।
থলেটাকে ভালোভাবে দেখে নিয়ে সামনে তাকাতেই যেন আকাশ থেকে পড়লাম। এতক্ষণ যে সুড়ঙ্গের মাঝে অবস্থান করছিলাম সেটা যেন নিমিষেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। আর আমি এসে পড়েছি বিশাল বড় এক মরুভূমিতে। যার আশেপাশে কিচ্ছু নেই শুধু ধুধু মরুভূমি ছাড়া। আর এই মরুভূমিটা সেটাই যেটা আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম। ভীষণ ভয়ানক লাগছে, অনেক দূরে দূরে একটি করে গাছ দেখা যাচ্ছে। যেটা মোটেও গাছ নয়, হয়তো কোন সাপ ঠিক আমার স্বপ্নের মত। কথাটা ভাবতেই যেন সারা শরীর দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল ভয়ে। শরীরের প্রতিটা লোম দাঁড়িয়ে গেলো। কিন্তু এখন ভয় পেলে চলবে না। সাহস রাখতে হবে। তাই চোখ দুটো বন্ধ করে মনে সাহস জোগানোর চেষ্টা করলাম। তারপর চোখ খুলে দ্রুত থলে টা খুলে তার মাঝে হাত দিলাম। সাথে সাথে হাতে একটি কাগজের টুকরো পেতেই সেটা বের করে নিলাম। কাগজের ভাজটা খুলে পড়তে শুরু করলাম। তাতে লেখা,
“ভয় যদি করো অধিক
পাবে না গন্তব্যের খোঁজ,
প্রথম পদেই মরবে তুমি
হবে এখানেই নিখোঁজ।
মনে যদি রাখো সাহস
তবে সামনে এগিয়ে যাও,
যে কেউ তোমায় ডাকুক পিছু
ভুলেও ফিরে নাহি চাও।
এভাবে যখন যাবে এগিয়ে
বেশ অনেকটা দূর,
তখনি কানে শুনবে আওয়াজ
ঝর্ণার পানির সুমধুর।
সেখানে শেষ হবে প্রথম ধাপ
দ্বিতীয় ধাপে রাখবে পা,
তখন থলের সাহায্য নিতে
একটুও ভুলো না।
লেখাটা একবার পড়ে কোন কিছুই বুঝতে পারলাম না। মীরের কাছ থেকে যতটুকু শুনেছি তাতে বুঝতে পারছি এটা ছন্দ এবং ধাঁধার মাধ্যমে আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে কি করতে হবে। তাই সেখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে লেখাটা বারবার পড়তে লাগলাম। আর সবকিছু মিলিয়ে দেখে বোঝার চেষ্টা করতে লাগলাম। এভাবে প্রায় ছয় সাত বার পড়ার পর যখন সব কিছু বুঝতে পারলাম! তখন সেই কাগজটা আবারো ভাঁজ করে থলের মধ্যে রেখে বিসমিল্লাহ বলে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম। কয়েক পা সামনে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ পিছন থেকে আম্মুর কন্ঠ শুনতে পেলাম। সে আমাকে ডেকে বলছে,
–“কিরে আব্রু তুই এদিকে কোথায় যাচ্ছিস! আমার কাছে আয় তোর রাস্তা তো এই দিকে।”
আম্মুর কন্ঠ শুনতেই অবাক হয়ে পিছনে তাকানোর জন্য ঘুরতে নিলাম। তখনই কোথা থেকে যেন মীরের কন্ঠ ভেসে আসল। সে আমার কানের কাছে এসে ফিসফিসিয়ে ডেকে বলছে,
–” ভুল করেও পিছনে ফিরে তাকাবেনা আব্রু। থলের মধ্যে কার ছন্দটা কে ভাবো। সেখানে তোমাকে কি বলা হয়েছে। পিছন ফিরে তাকালে মৃত্যু অনিবার্য। সামনে এগিয়ে যাও। যে কেউ ডাকুক না কেন পিছনে ফিরবে না।”
মীরের কথা শুনতেই আমার মনে পড়ে গেল ছন্দের কথাগুলো। আর এখানে আম্মু আসবে কোথা থেকে। আমাকেই বা আম্মু কিসের রাস্তার কথা বলবে? তার মানে এটা একটা ফাদ ছিল। না কোনোভাবেই পিছনে ফিরে তাকাবো না। সামনে এগিয়ে যাব আর ভাবাভাবি নয়। যদিও মনের মাঝে ভীষণ ভয় হচ্ছে তবুও আর পিছু না ফিরে আরও দ্রুত সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল করলাম চারিদিকের সেই গাছ রুপি সাপ গুলো আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আর ভীষণ ভয়ানক ভাবে ফোস ফোস শব্দ করছে। এগুলোকে এগিয়ে আসতে দেখে যেন অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো। কলিজা শুকিয়ে যেন কাঠ হয়ে গেল।
মুহুর্তের মাঝে সাপগুলো আমাকে চারিপাশ থেকে ঘিরে ফেলল। এখন কি করবো আমি? কি করা উচিত আমার? কোন কিছুই মাথায় আসছে না। এ ব্যাপারে থলেটাতেও কিছু লেখা নেই। হঠাৎ মনে পড়ে গেল সেদিন স্বপ্নের মাঝে দোয়া দরুদ পড়ার কথা। মনে পরতেই দেরি না করে চোখ বন্ধ করে একমনে সূরা পড়তে লাগলাম। যদিও ভয়ের চোটে মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। তবুও একের পর এক সুরা তেলাওয়াত করে যাচ্ছি। এভাবে বেশ কয়েকটা সূরা পড়তেই খেয়াল করলাম আমার চারিপাশে একদম নিরব নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। সূরা পড়তে পড়তেই চোখ মেলে তাকালাম। তাকিয়ে দেখলাম সব গুলো সাপ রুপি জিন খুব দ্রুত বেগে আমার সামনে থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। অনেক দূর চলে গেছে তারা। এবার একটি ছোট করে নিশ্বাস ফেললাম। মনে বেশ সাহস যুগিয়ে ফেলেছি হয়তো। এখন আর ভয় করছে না একটুও। হয়তো ভয়কে জয় করে নিয়েছি। কথাটা ভাবতেই মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠল। আর দেরি না করে আবারও সামনে হাঁটতে শুরু করলাম। বেশ কয়েক পা এগিয়ে যেতেই প্রচন্ড পানির পিপাশা অনুভব করতে লাগলাম। গলা শুকিয়ে যেন কাঠ হয়ে যাচ্ছে।
এই জায়গাটা যেন কেমন। বিশাল বড় মরুভূমি হওয়া সত্বেও আকাশে কোন সূর্য বা মেঘ কোন কিছুই নেই। তবে আকাশটা একদম ধবধবে সাদা। পৃথিবীতে এমন আকাশ দেখিনি কখনো। সাদা রঙের আকাশ থেকে প্রচণ্ড আলো এসে পড়ছে মরুভূমির গায়ে। দেখে মনে হচ্ছে যেন পুরো সূর্যটাই আকাশ হয়ে আছে। কিন্তু তাপ সে তুলনায় অনেকটাই কম। তবুও গলা শুকিয়ে কাঠ আমার। তাই দেরি না করে সেখানে একটু দাঁড়ালাম।সাথে করে নিয়ে আসা পানির বোতলটা বের করে সেটাতে চুমুক দিলাম। বেশ কয়েক ঢোক পানি খেয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করলাম। তারপর বোতলটা যথাস্থানে রেখে আবারও সামনে হাটতে শুরু করলাম।
বেশ কয়েক কদম সামনে এগিয়ে যেতেই পেছন থেকে মীরের কন্ঠে শুনতে পারলাম। সে আমাকে ডেকে বলছে,
–” আব্রু তুমি ওদিকে কোথায় যাচ্ছ? ওটাতো ভুল রাস্তা। তোমাকে এই দিকে যেতে হবে। এদিকে আসো দুজনে একসাথে যাই।”
ওনার কন্ঠ শুনতেই খুশিতে মনটা ভরে উঠলো। ওনাকে একসাথে সামনে থেকে দেখতে পারব ভেবে। যখনি পিছনে ঘুরতে যাবো, তখন’ই আমার খেয়াল হল পিছনে কেউ নেই। আর তাছাড়া যতক্ষণ না মুকুট খুঁজে পাব মীর আমার সামনে আসবে না। তাহলে এটাও নিশ্চয় কোন ফাঁদ। আমি আর পিছনে ঘুরলাম না। সামনের দিকে তাকিয়েই একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। হাতের মুঠো শক্ত করে নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা করলাম। এদিকে পিছন থেকে মীর আমাকে ডেকেই চলেছে। আমি মনে মনে সংকল্প করলাম যা কিছু হয়ে যাক না কেন পিছনে ফিরে তাকাবো না। মনে মনে দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে সামনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যেতে লাগলাম। এভাবে বেশ কিছুটা দূরে যেতেই হঠাৎ খেয়াল করলাম সামনে বিশাল বড় এক নদী। আর সেই নদীতে পানির বদলে ছোট ছোট সাপের অসংখ্য বাচ্চা কিলবিল করছে।
ছোটবেলা থেকেই আমি সাপ অনেক ভয় পাই। আর এতগুলো ছোট ছোট সাপ একসাথে দেখে যেন এবার ভয় পেয়ে সারা শরীর ঝাকি দিয়ে উঠলো আমার। আমি আর এক পাও সামনে এগোতে পারলাম না। দ্রুত কয়েক পা পিছনে সরে এসে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলাম। সারা শরীর ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল। মনে হতে লাগল এখনই হার্ট অ্যাটাক করে মারা যাব। তখনই খেয়াল করলাম সাপের সকল বাচ্চাগুলো অদ্ভুতভাবে ফোঁনা পেতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। যেন তারা আমার ভয় পাওয়ার অপেক্ষাই করছে। তখন’ই কোথা থেকে যেন মীরের কন্ঠের আওয়াজ এলো,
–” ভয় পেয়োনা আব্রু, চোখ বন্ধ করে সামনে এগিয়ে যাও। মনে মরে দোয়া পড়তে থাকো। তোমার সামনে যে জিনিসগুলো রয়েছে, তা সকলই মরীচিকা। শুধুমাত্র তোমাকে ভয় পাওয়ানোর জন্য। যদি তুমি অতিরিক্ত ভয় পাও। আর ভয় পেয়ে কোন ভুল কিছু করে বসো, তাহলে এখানেই তোমার মৃত্যু অনিবার্য।”
এতটুকু বলে মীরের কন্ঠটা আবারো হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। আমি এবার বুঝতে পারলাম মীর কি বোঝাতে চাইছে। কিন্তু তবুও মনের মাঝে কোন ভাবে সাহস করতে পারছিনা। আর সামনে এগিয়ে যেতেও সাহস হচ্ছে না। কিন্তু এভাবে ও তো চলবে না। যত ভয় পাবো ততই হার মেনে নেব। কিন্তু এত দ্রুত হার মানার পাত্রি আমি নই। তাই চোখ বন্ধ করে নিলাম। মনে মনে যতটা সম্ভব সাহস জোগানোর চেষ্টা করলাম। একের পর এক সূরা পাঠ করতে লাগলাম। তারপর ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। এভাবে বেশ অনেকটা পথ এগিয়ে আসার পর শুনতে পেলাম বহমান ঝর্ণার কলকলানির মিষ্টি আওয়াজ।
ঝর্ণার আওয়াজ কানে আসতেই চোখ মেলে তাকালাম। দেখলাম আমার সামনে বিশাল বড় ঝর্ণা বয়ে যাচ্ছে। সেই ঝর্ণার অসম্ভব সুন্দর আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। মুহুর্তেই মনটা খুশি হয়ে গেল আমার। কারণ আমি প্রথম ধাপ পেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। থলেতে পাওয়া লেখা অনুযায়ী এটাই হলো আমার দ্বিতীয় ধাপ। চারিদিকে চোখ মেলে তাকালাম। দেখলাম চারিপাশে অনেক অনেক ফুলের বাগান। প্রতিটা ফুল গাছে রংবেরঙের সুন্দর ফুল ফুটে আছে। আর সেই ফুলের ঘ্রানে ম ম করছে চারিদিক।
এত সুন্দর ফুলগুলো দেখে যেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলাম। ইচ্ছা করছে দৌড়ে গিয়ে ফুল গুলোর সাথে খেলা করি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। আমি এক প্রকার দৌর লাগানোর জন্য প্রস্তুত হলাম ফুলগুলোর কাছে। তখন’ই অদৃশ্য থেকে মীরের কন্ঠে আওয়াজ এল,
–“আব্রু, এখান থেকে এক পাও সামনে এগিয়ো না। আগে থলে থেকে চিরকুট পড়ে নাও। এরপরে দ্বিতীয় পদক্ষেপে পা বাড়াও। কারণ তুমি এখানে নিশ্চিত নও, তোমার জন্য কোথায় কি অপেক্ষা করছে।”
এতোটুকু বলে কন্ঠটা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। এবার যেন ভিষন রাগ হতে লাগলো। কি দরকার ছিল আমাকে আটকানোর। সামনে এত সুন্দর ফুলের বাগানের ফুলগুলো দেখে নিজেকে ধরে রাখা যে সত্যিই ভীষণ কষ্টকর। কিন্তু মীর যখন আমায় থামিয়েছে তাহলে নিশ্চয়ই এখানে কোনো কারণ আছে। তবুও মনে মনে ভীষণ আফসোস হতে লাগলো। কিন্তু আফসোস করে কোন লাভ হবেনা তাই একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে থলেটা বের করলাম। সেটা খুলে তার মধ্যে হাত রাখলাম, আবারো আগের মত একটি চিরকুট হাতে পেতেই সেটা খুলে পড়তে শুরু করলাম। তাতে লেখা,
“মনকে কর শক্ত এখন
সামনে মহা বিপদ,
যেটা দেখতে হবে সুন্দর
সেটাই ভয়ানক ফাঁদ।
ভুল করে আবেগের বশে
যদি সেই ফাঁদে রাখো পা,
সেখানেই হবে মৃত্যু তোমার
কাজে সফল হবে না।
সামনে সবই মরিচিকা
মিথ্যে চোখের ভুল,
যেটা দেখবে আগ্নেয়গিরি
সেটাই নদীর কূল।
চোখটা করে বন্ধ তোমার
সামনে এগিয়ে যাও,
দ্বিতীয় ধাপও করবে পার
ভয় যদি না পাও।
লেখাটা পড়ে মাথা ঘুরতে শুরু করলো। এদিকে হাটতে হাটতে পা টাও ভিষন ব্যথা করছে। তাই ধপ করে নিচে বসে পরলাম। লেখাটা সামনে ধরে বেশ কয়েকবার পড়লাম। কিছুটা বুঝে আসলেও পুরোটা ঠিক বুঝলাম না।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,