#ছদ্মবেশে_লুকানো_ভালোবাসা
#মৌমি_দত্ত
#পর্ব_২৯
আফিম তাহজিবকে ধাক্কা দিয়ে ছুটে গেলো ভিতরে। তাহজিব আটকাতে চাইলো কিন্তু পারলো না। আফিম অন্ধকারে ছুটে যেতে যেতেই লাইট জ্বলে উঠলো। অবাক হলো উপস্থিত সবাই। পুরো ঘর কোন অনুষ্ঠানের জন্য সাজানো। ইনায়াত অবশ্য অতোদিকে দেখছে না। ও জমে দাঁড়িয়ে আছে নিজের জায়গায়। হয়তো প্রচন্ড ভয়ে। আফিম আগপিছ না ভেবে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো ইনায়াতকে বুকে।
– ইটস ওকে ইনায়াত,,, দেখো উপরে,,, জায়ান্ট বেলুন ছিলো ওটা। ইটস ওকে।
ইনায়াত আফিমের কথা শুনে রোবটের মতো একবার উপরে তাকিয়ে দেখলো। পরক্ষনেই আবারও আফিমের বুকে গুটিশুটি মেরে লেগে থাকলো। রুহি,, তাহজিব আর স্পন্দন ভিতরে এলো। ভেতর ঘর থেকে লাবিবা কান ধরে নিয়ে আসলো আফরাকে। আর জোসেফ তাদের পিছু পিছু আসছে।
– কে করেছে এসব?? কেয়ারটেকার??? কেয়ারটেকার??
লাবিবাদের না দেখেই চিৎকার করে উঠলো আফিম রেগেমেগে। তখনই লাবিবাদেরকে দেখলো স্পন্দন,, রুহি,, তাহজিব আর আফিম। অবাক হলো সবাই। ইনায়াত ইতোমধ্যেই শান্ত হয়ে আফিমের বুক থেকে সড়ে এসেছে।
– এই বাঁদর মেয়েকে ধর,,, ঐ করেছে সব।আফরার কান ধরে বললো লাবিবা। আফরা কান ছাড়ানোর জন্য মোচড়ামুচড়ি করতে করতে বললো,,
– আহ মা!! লাগছে তো। ছাড়ো না।
স্পন্দন তো আফরাকে দেখেই দিন দুনিয়া ভুলে বত্রিশ দাঁত দেখিয়ে তাকিয়ে আছে ভ্যাবলা বনে। জোসেফ স্পন্দনকে জিজ্ঞেস করলো,
– ভালো আছো স্পন্দন??
স্পন্দনের তো হুশই নেই। স্পন্দন কোন সাড়া দেয়নি দেখে সবাই স্পন্দনের দিকে তাকালো। লজ্জা পেলো আফরা নিজের দিকে স্পন্দনকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে। তাহজিব মুখ টিপে হাসছিলো। রুহি কনুইয়ের খোঁচা দিয়ে ইশারায় না হাসতে বললো। ইনায়াত নিজের ভাইয়ের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো কোমড়ে হাত দিয়ে ভ্রু কুঁচকে। স্পন্দনের কানের কাছে গিয়ে দিলো এক চিৎকার,,
– ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়া!!!
স্পন্দনের হুশ ফিরলো।
– হ্যাঁ?? হ্যাঁ,,,,কি হয়েছে??
সবাই মুখ চেপে হাসতে লাগলো। জোসেফ বললো,,
– কিচ্ছু হয়নি। বসো সবাই।
আফিম তখনই এগিয়ে এসে বললো,,
– মা,, বাবা,, কাল একটা পিচ্চি সাহসী মেয়ের কথা বলেছি না?? ওই যে ও।
রুহির দিকে তাকালো লাবিবা। এগিয়ে গেলো রুহির দিকে হাসি মুখে। রুহিকে বুকে জড়িয়ে ধরলো আদরে। রুহিও জড়িয়ে ধরলো।
– বাহ!! কি মিষ্টি মেয়ে!! যেন ছোট্ট ইনায়াত একটা।
ইনায়াত আর স্পন্দন হাসলো। মুখে হাসি ফুঁটলো তাহজিবেরও। তখনই লাবিবা বললো,,,
– ইশশ!! আমার আরেকটা ছেলে থাকলে তার জন্য তোমাকে নিয়ে আসতাম বিয়ে করিয়ে। আফিম তো ইনায়াতের জন্য।
এই কথা শুনে মাথায় বাজ পড়লো তাহজিবের। দ্রুত দৌড়ে এসে রুহির পাশে দাঁড়িয়ে রুহির হাত ধরে বললো,,
– আন্টি ও আমার উডবি।
হাসলো লাবিবা তাহজিবের কান্ড দেখে। আফিম কালই সবার পরিচয় আর সবটা ঘটনা খুলে বলেছে তাদের।
– সরি বাবা,, কিছু মনে করো না।
তাহজিব মাথা নাড়িয়ে ইশারায় বুঝালো ঠিকই যে সে কিছু মনে করেনি। কিন্তু আসলে সে তখনও হাত ধরে ছিলো রুহির।
– কেমন লাগলো সারপ্রাইজ মা??
জোসেফ জানতে চাইলো ইনায়াতের কাছে। ইনায়াত মুচকি হেসে বললো,,
– অনেক ভালো স্যার।
ভ্রু কুঁচকে ফেললো জোসেফ আর লাবিবা।
– তুই আমাদের স্যার আর ম্যাম ডাকিস কেন আজকাল??
ইনায়াত একবার আফিমের দিকে তাকালো। আফিম ইশারায় কিছু না বলতে বললো। কানে ধরে সরিও বললো। কিন্তু কাল বেসুরা গান শুনিয়ে কানের বারোটা বাজানোর প্রতিশোধ নিতে মন চাইলো ইনায়াতের। শয়তানি হেসে বললো,,
– আফিম স্যার মানা করেছে আংকেল।
জোসেফ আর লাবিবা কটমটিয়ে তাকালো আফিমের দিকে। আফিমের মুখ শুকিয়ে এলো। যেন সে নিষ্পাপ শিশু। ইনায়াত বলতে লাগলো আরো কিছু।তা-ও বানিয়ে বানিয়ে,,
– স্যার আমাকে বের করে দিবে বলেছে,,, কারণ তোমাদের সাথে সম্পর্ক জুড়ে আমি নাকি ন্যাকামো করছি। আফরাকে যাতে কাছে ঘেষতে না দিই। আমি নাকি ভালো না। আমি বিরক্তিকর।
ইনায়াতের এতো সুন্দর মিথ্যাগুলো শুনে আফিম তো হা। সে তো ইনায়াতকে সফট কেক ভেবেছিলো। কেকটা যে স্পাইসি হবে কে জানতো?? স্পন্দন আর তাহজিব মুখ চেপে হাসছে। আফিম তাদের দিকে তাকিয়ে গাল ফুলালো যেন।
– তোমরা বসো না।
ছেলেরা সবাই বসলো সোফায়। জোসেফ বসতে যাবে এমন সময় ইনায়াত বললো,,
– অফিসের কি হবে?? আমরা সবাই তো এখানে।
আফিম বিরক্ত হয়ে তাকালো। মেয়েটা কি অফিস কাজ এসব ছাড়া বুঝে না?? জোসেফ হেসে বললো,,,
– আরেহ অফিসের ছুটি দিয়েছি দুই সপ্তাহের । কতো কাজ করবি বলতো?? আফিমকে সামলানো কি কম কষ্টের??
ইনায়াত শয়তানি হেসে আফিমের দিকে তাকিয়েই বললো,,
– হ্যাঁ আংকেল,,, এমন বুড়া বাচ্চা সামলানো কি কম কঠিন??
আফিম কটমট করে তাকালো ইনায়াতের দিকে। তাকে অপমান করা??? স্পন্দন আর তাহজিব ফিক করে হেসে ফেললো। স্পন্দন বিড়বিড় করে বললো,,
– বুড়া,,
তাহজিব বললো,,
– বাচ্চা,,
আফিম ওদের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বললো,,,
– আমরা সেইম এইজের।
তা শুনে স্পন্দন আর তাহজিবের টাই টাই ফুস। তা দেখে আফিম বিশ্বজয়ী হাসি দিলো।
একদিকে জোসেফ ছেলেদের সাথে বিজনেস আর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছে। অন্যদিকে আফরা,, ইনায়াত আর রুহি যেন সেকেন্ডেই দুধে আমে মিশে গেছে। তাদের খিলখিল হাসির আওয়াজ মুগ্ধতা নিয়ে শুনছে তাদের প্রেমিকরা আলোচনার মাঝেই। তখনই লাবিবা রান্নাঘর থেকে এলো। তার পিছু পিছু এলো সার্ভেন্ট ট্রে নিয়ে। সবার জন্য খাবার আছে তাতে। লাবিবা তা টেবিলে রাখতে রাখতে বললো,,
– তোমরা সবাই কটাদিন এখানেই থাকবে কেমন?? ব্যাপারটা পিকনিক বা ভ্যাকেশন ভেবে নাও।
জোসেফও বলল,,
– হ্যাঁ,, কটাদিন আনন্দ করো।
কথাটা আফরা ইতোমধ্যেই রুহি আর ইনায়াতকে বলে ফেলেছে। তারা দুজনেই রাজি। কথাটা ছেলেদের কানে যেতেই আফিমও অনুরোধ করলো। স্পন্দন হালকা অস্বস্তি নিয়ে আফরার দিকে তাকালো। আফরা কিউট ফেইস করে তাকালো স্পন্দনের দিকে। স্পন্দন রাজি হয়ে গেলো। তাহজিব রুহির দিকে তাকাতেই রুহি চোখ রাগিয়ে তাকালো। আর রাজি হতে বললো ইশারায়। তাহজিবও সুবোধ বালকের মতো রাজি হয়ে গেলো। স্পন্দন মুখ চেপে হেসে বললো বিড়বিড় করে,,
– জরু কা,,
– গোলাম।
লাইন সম্পন্ন করলো আফিম। তাহজিব সেদিকে তাকিয়ে বললো,,
– স্পন্দন তো থাকছো না?? বোনকে নিয়েই চলে যাবে??
স্পন্দন কেশে উঠলো। আফিমও এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো। হবে নাই বা কেন?? বুঝতে তাদের কষ্ট হয়নি যে এটা তাহজিবের দেওয়া স্পেশাল বাঁশ ছিলো আফিম ও স্পন্দনের জন্য। কারণ স্পন্দন আফরাকে দেখতেই থেকে গেছে। আর আফিম ইনায়াতকে দেখতেই স্পন্দনকে থাকবার অনুরোধ করছে। তখনই লাবিবা বললো,,
– আসিফ আর কামালকেও ডাকিয়ে নাও এক্ষুনি। আমি সবার জন্য রুম খুলে দিয়েছি।
তখনই আফরা বলে উঠলো,,,
– আমরা মেয়েরা এক ঘরে শুবো।
তা শুনে লাবিবা হেসে বললো,,
– ঠিক আছে বাবা,, ঘুমাস।
তখনই আফিম তাকালো তাহজিবের দিকে। বিড়বিড় করে বললো,,
– ইরশাদ আর জনকে শুধুমাত্র গার্ডের ভরসায় রাখবো??
তাহজিবও বিড়বিড় করে বললো,,
– অসম্ভব।
স্পন্দন বিড়বিড় করে বললো,,
– অতো ভাবনার কি আছে?? আজকেই খেলা খতম হোক। মেয়েরা আর কখনো ওদের কথা জানবে না। ভয় পাবে জানলে।
তাহজিব,, আফিম স্পন্দনের দিকে।তাকালো। একে অপরের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ জানালো তিনজনেই এই আইডিয়ায়। এরপর আফিম বলে উঠলো,,
– বাবা,, একটা কাজ আছে আমাদের। ওটা শেষ করেই আসছি।
রুহি এতোক্ষন ছেলেদের বিড়বিড় করে বলা কথা না শুনলেও পর্যবেক্ষণ করলো তাদের ভালো ভাবে। ইনায়াতের দিকে তাকিয়ে বললো,,
– আপি,, আমার মনে হচ্ছে ওরা ইরশাদদের ব্যবস্থা করতে যাবে।
এই কথা শুনে আফরা আর ইনায়াত তাকালো ছেলেদের দিকে। ইনায়াত কিছুক্ষন চুপ থেকে বললো,,
– আন্টি,,, আমাদেরও কাজ আছে। একটু বাইরে যাবো। আফরা আপুকে নিয়ে যাই??
অবাক হলো আফরা আর রুহি। ছেলেরাও অবাক। কি হলো এটা??
লাবিবা হেসে বললো,,
– তো কি হয়েছে?? নিয়ে যা।
ছেলে আর মেয়েরা বের হয়ে এলো জোসেফ আর লাবিবাকে বলে। বাইরে এসে গাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে আফিম জিজ্ঞেস করলো,,
– কোথায় যাচ্ছ তোমরা??
ইনায়াত বাঁকা হেসে বললো,,
– ইরশাদ এর বারোটা বাজাবে তোমরা আমরা দেখবো না??
ছেলেরা তো অবাক।
– তোমরা কিভাবে জানো??
তাহজিব জিজ্ঞেস করলো,,
– আমি কমিশনার এর মেয়ে।
রুহি নিজের জামার অদৃশ্য কলার ধরে ভাব নিয়ে বললো। মেয়েরা ভাব নিয়ে উঠলো এক গাড়িতে। ছেলেরা অন্য গাড়িতে উঠলো। মেয়েদের গাড়ি ইনায়াত ড্রাইভ করছে। আর ছেলেদের গাড়ি তাহজিব।
দুটো গাড়িই এসে পৌছালো তাহজিবের বাড়িতে। স্পন্দন কল করে বলে রেখেছিলো আসিফকে সব কিছু রেডি করতে। মেয়েরা বাসার ভিতর আগে ঢুকলো। তাদের পিছু পিছু ছেলেরা। সবাই গেলো বেসমেন্টে। বেসমেন্টটাও রুমের মতো সাজানো। শোফা আছে,, টিভি আছে। মেয়েরা গিয়ে দেখলো জন আর ইরশাদের হুশ নেই। মাতালের মতো টলছে। আফরা জিজ্ঞেস করলো,,
– এরা টলছে কেন??
স্পন্দন উত্তর দিলো,,
– ওদের ড্রাগস দিয়েছি। যাতে হুশ না থাকে।
ছেলেরা গিয়ে বসলো সোফায় তিনজনই। মেয়েরা দাঁড়িয়ে আছে।
– রুহি?? এরা কাদের তুলে নিয়ে গেছে??
জানতে চাইলো ইনায়াত। এমন একটা অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে অবাক হলো আফরা আর রুহি। তবুও রুহি জবাব দিলো,,,
– আমাদেরকে,,
– তাহলে এদের শাস্তিও তো আমাদের পছন্দের হওয়া দরকার তাই না??
শয়তানি হেসে বললো ইনায়াত। আফরা আর রুহি তাকালো ইনায়াতের দিকে। ইনায়াত দুজনকে ইশারায় কাছে ডাকলো। রুহি আর আফরা কান এগিয়ে দিলো। ইনায়াত নিজের প্ল্যানিং বলতে লাগলো যা সে কাল রাতেই ভেবে রেখেছে। ছেলেরা ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে মেয়েদের দিকে।
– কি ব্যাপার??
বললো স্পন্দন।
– এরা কি নিয়ে ফুসুরফাসুর করছে??
জানতে চাইলো তাহজিব।
– কুচ তো লোচা হে।
বললো আফিম।
আসিফ আর কামাল গার্ডদের সাথে দাঁড়িয়ে ছিলো। তারা নীরব দর্শক। মেয়েরা ফুসুরফাসুর ছেড়ে ছেলেদের দিকে ঘুরে তাকালো।
– ভাইয়া!! আমরা এদের শাস্তি দিতে চাই,, কিছুটা এঞ্জয় করতে চাই।
ইনায়াতের স্পষ্ট আবেদন। চমকে উঠলো তিন ছেলে। তিনজন ছেলেই একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখে চোখে যেন আলোচনা করে নিলো কিছু একটা। পরক্ষণেই স্পন্দন বললো,,
– ওকে!!
– তবে আমাদের গার্ডস,, আসিফ ভাইয়া আর কামাল ভাইয়ার সাহায্য দরকার।
বললো রুহি। ছেলেরা আরো অবাক হলো। তবে মাথা নাড়িয়ে সায় দিলো।
আফরা ডাকলো কামালকে।
– কামাল ভাই,, এদিকে আসুন। আসিফ ভাই আপনিও।
কামাল আর আসিফ নিজেরাও অবাক। তবুও এগিয়ে এলো। ইনায়াত তাদের কানে কানে কিছু একটা বললো। এরপর সড়ে দাঁড়িয়ে বললো,,
– পারবেন তো যোগাড় করতে??
আসিফ আর কামালের মুখ হা। আসিফ কাঁপা গলায় বললো,,
– সত্যিই লাগবে??
– হ্যাঁ,, লাগবে।
রুহি বললো। আসিফ আর কামাল কিছু গার্ডস নিয়ে বের হয়ে গেলো বেসমেন্ট থেকে। ছেলেরা অবাক,, কি হচ্ছে তা জানা নেই। মেয়েরা পৈশাচিক এক হাসি দিলো। যা দেখে ছেলেদের গা শিউরে উঠলো।
প্রায় ৪০ মিনিট পর আসিফ এলো খালি হাতেই। কামাল এলো ব্যাগ নিয়ে হাতে। তার পিছনে গার্ডসদের হাতেও ব্যাগপত্র দেখা যাচ্ছে শপিংয়ের। আরো কিছু অচেনা মুখ দেখা যাচ্ছে। মেয়েরাও এতোক্ষন সোফায় বসেছিল। আসিফ আর কামালকে দেখেই দাঁড়িয়ে গেলো খুশীতে লাফিয়ে।
– আসিফ ভাই?? পেয়েছেন??
জানতে চাইলো ইনায়াত।
– হ্যাঁ পেয়েছি।
– কামাল ভাই,, এনেছেন??
– এনেছি বোন। কিন্তু তোমরা কি শিউর এটা করবে??
প্রশ্নটা করে কামাল একটা শুকনো ঢোক গিললো। আসিফ ও কামালের মুখের ভয় স্পষ্ট। ছেলেরা কিছুই আন্দাজ করতে পারছে না। মেয়ে তিনজন একসাথে উত্তর দিলো,,
– হ্যাঁ,, আমরা শিউর। ওদের রুমে পাঠিয়ে দিন।
কামাল গার্ডদের ব্যাগপত্র নিয়ে সামনের ছোট্ট একটা রুমে পাঠিয়ে দিলো ইরশাদ ও জনকে। অচেনা মুখগুলোও চলে গেলো ঐ রুমে। মেয়েরা এসে বসলো আবারও।সোফায়। নিজেদের মধ্যেই মেয়েলি গল্প চালিয়ে যেতে কাগলো। হঠাৎই আফরা চিৎকার করে বলে উঠলো,,
– কামাল ভাই,, আসিফ ভাই,, পপকর্ন আর ঠান্ডা হবে??
কামাল আর আসিফ ইতোমধ্যেই অস্বস্তি আর ভয়ে ছিলো। এই কথা শুনে অবাক হলো। মেয়েগুলো কি রে বাবা?? এমন আইডিয়া বের করলো?? আর এর উপর পপকর্ন আর ঠান্ডা চাইছে?? তবুও আসিফ মাথা নাড়িয়ে বললো,,
– হবে না কেন?? দুনিয়ার সবই হবে।
– তাহলে সবার জন্য নিয়ে আসুন। আপনাদের জন্য সহ কিন্তু।
কামাল আর আসিফ মুখ চাওয়া চাওয়ি করে চলে গেলো পপকর্ন আর ঠান্ডা আনতে। ছেলেরা আন্দাজ করে নিয়েছে ইতোমধ্যে। তারা ভাবছে ইরশাদ ও জনকে হয়তো অপমান করা হবে। কিন্তু তারা জানেনা তারা ভুল।
.
.
প্রায় ঘন্টাখানেক পর সেই অচেনা ছেলে মুখ গুলো বের হয়ে এলো ঐ বন্ধ রুম থেকে। ইনায়াত স্পন্দনের কাছে গিয়ে বললো,,
– ভাই এদের পে করো। এরা বিউটেশিয়ান।
স্পন্দন চুপচাপ পেমেন্ট করে দিলো নগদ টাকা দিয়ে । ছেলেরা এখন সত্যিই কৌতুহলী। আফরা গার্ডসদের দিকে ফিরে বললো,,
– কি ব্যাপার?? ইরশাদ আর জনকে বাইরে আনো।
গার্ডসরা চলে গেলো রুমের ভিতর। ইরশাদ আর জনকে বাইরে আনা হলো। সবার চোখ ছানাবড়া। ইরশাদ আর জনকে দেখে একদম সেই লাগছে। মুখে দাড়ি নেই,, গোঁফ নেই। উইগ সুন্দর করে নায়িকার মতো পড়ানো। মুখে সুন্দর মেকাপ। গায়ে উত্তেজক মেয়েলি জামা।
ছেলেরা দেখে হা। ইরশাদ আর জন যেন একদম মেয়ে হয়ে গেছে বিউটেশিয়ানদের হাতের কামালে। তখনই রুহি ইরশাদ আর জনের সামনে গিয়ে বললো,,
– এবার হবে খেলা।
– আসিফ ভাইয়া!! যাও। তাদের নিয়ে এসো। এর আগে গার্ডসরা যান,, এই কীট দুটোকে ফেলে আসুন ঐ রুমে।
গার্ডরা ইনায়াতের কথা মতোই কাজ করলো। আসিফ তখনও দাঁড়িয়ে আছে। তা দেখে আফরা বললো,,
– কি ব্যাপার ভাইয়া?? ডাকুন তাদের।
– তুমি শিউর বোন??
আসিফ ভয়ে ভয়ে জানতে চাইলো। মেয়েরা সবাই হাসি দিয়ে সম্মতি জানালো। আসিফও আর কি করবে?? বাইরে গিয়ে নিয়ে আসলো ভিতরে অতি কাঙ্ক্ষিত মানুষগুলোকে। যাদের আনতেই আদেশ করএছে মেয়েরা তাকে। রুহি আর আফরা গিয়ে নিজ নিজ লাভ পার্টনারের কাছে গিয়ে হসলো। ইনায়াত সদ্য ঘরের ভিতর আনা ছেলেগুলোর কাছে গিয়ে বললো,,
– কতো টাইম আপনারা কাজ করবেন আর কতো টা সাউন্ড এফেক্ট পাবো। তার উপর নির্ভর করে এমন একটা টাকার এমাউন্ট দেবো যা অনেক কষ্টের পর আর্ন হয় আপনাদের।
ছেলেগুলো হাসিমুখে মাথা ঝাঁকিয়ে সায় দিলো। ইনায়াত হাতের ইশারায় দেখিয়ে দিলো রুম। ছেলেগুলো চলে গেলো রুমের ভেতর। ভয়ার্ত আসিফ আর কামালের হাত টেনে নিয়ে গিয়ে একটা খালি সোফায় বসালো। আর তাদের মাঝখানে বসলো সে নিজে। হাতে তুলে নিলো পপকর্ণ।
একটু বাদেই রুমের ভিতর থেকে ভেসে আসলো গগন কাঁপানো আর্তনাদ। ইরশাদ আর জনের চিৎকার যেন পুরো রুম ভারি হয়ে উঠেছে ক্রমশ। ছেলেদের বুঝতে কষ্ট হলো না যে ভিতরে আসলে কি হচ্ছে। ইরশাদদের মেয়ে সাজানো,,, ছেলেগুলোকে রুমে টাকা দিবে বলে ঢুকানো আর এরপর এই আর্ত্নাদ বুঝতে কষ্ট হলো না ছেলেদের। তবুও কাঁপা স্বরে তাহজিব জিজ্ঞেস করলো,,
– এসব কি হচ্ছে?? অরা কারা ছিলো??
– কেন?? ওরা গে এস্কোর্ট।
কথাটা শুনেই চমকে উঠলো স্পন্দন,, আফিম আর তাহজিব। তিনজন তিনজনের দিকে চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলো। মেয়েদের মাথায় এমন ভয়ানক নিষ্ঠুর কল্পনা আসবে ভাবতে পারেনি তারা।
– এটা কার আইডিয়া??
আবারও জানতে চাইলো তাহজিব। আফরা পপকর্ন খেতে খেতে বললো,,
– কেন?? ইনায়াতের।
সবাই ঝট করে তাকালো ইনায়াতের দিকে। যে চোখ বন্ধ করে আয়েশ করে পপকর্ন খাচ্ছে। তাকে দেখলে কেও বলিতে পারবে না সে কি করছে। দেখে তো মনে হচ্ছে কোন সুন্দর মিউজিক উপভোগ করছে। আহা!! আহা!!
.
.
প্রায় দেড় ঘন্টা পর চিৎকার থেমে গেলো একদমই। কিছু মিনিট বাদে বের হয়ে এলো ছেলেগুলো ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে। ইনায়াত উঠে তাদের কাছে গেলো। স্পন্দনের দিকে তাকিয়ে বললো,,
– ভাইয়া!! এদের দুহাত ভরে টাকা দাও।
স্পন্দন গার্ডকে বলে এক লাখ টাকা তুলে দিলো সেই ৪ জন এস্কর্টের হাতে। তারা খুশী মনে বের হয়ে গেলো। মেয়েরা উঠে দাঁড়ালো।
– আমাদের কাজ শেষ। এবার যা ইচ্ছে তোমরা করো। আমরা রুহির কিছু জামা প্যাকিং করতে গেলাম। আয়রে রুহি!!
বলেই ইনায়াত বের হয়ে এলো। আফরা আর রুহিও বের হয়ে এলো ইনায়াতের পিছু পিছু। ছেলেরা এখনো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকে। স্পন্দন গার্ডসকে ইশারায় ডাকলো,,,
– অবস্থা কি দেখো তো।
গার্ড চারজন ঐ রুমে ঢুকলো। তবে সেকেন্ড বাদেই দ্রুত গার্ডগুলো বের হয়ে এলো। একটা গার্ড তো রীতিমতো কোণায় গিয়ে বমিও করে ফেলেছে এক গাল। তা দেখে শুকনা ঢোক গিকলো তিন ছেলে। এমনই কি বাজে অবস্থা যে গার্ডদের সহ্য হল না??
চলবে…