#রোদ্দুরে_মেঘের_বর্ষন❤️
#লেখিকা:#তানজিল_মীম❤️
— পর্বঃ২২
“রিয়াদের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তানজু!’ভিষনই ফাঁকা ফাঁকা লাগছে তার রুমটা!’তানজু দীর্ঘ শ্বাস ফেলে নিজের লেহেঙ্গা ধরে ভিতরে ঢুকে পরলো!’এখনও যেন রিয়াদের গায়ের গন্ধ যায় নি রুম থেকে!’এই রুমটা তানজুুরই ছিল, রিয়াদ আসবে তাই ওর রুমটাই দেওয়া হয়েছিল রিয়াদকে!’অবশ্য বিষয়টা রিয়াদ জানে না!’তানজু রুমে ঢুকে জানালার পর্দাটা হাত দিয়ে হাল্কা সরিয়ে দিল,সাথে সাথে দুপুরের চিক চিক করা রোদ্দুর এসে পড়লো তার মুখে,পুরো বাড়িটাই যেন একদম নিরিবিলি হয়ে গেছে,পাখিরাও ডাকছে না আজ হয়তো অভিমান হয়েছে তাদের!’এমন সময় সামনের গাছের ডালে দুটো হলদে পাখি এসে বসলো!’ তানজু তাকিয়ে রইলো তাদের দিকে!’
“পাশাপাশি দুটো পাখি বসে আছে!’কারো মুখেই কোনো কথা নেই,হয়তো দুজন দুজনের উপর কোনো কারনে রাগ করেছে,আনমনেই হাসলো তানজু,কিছু একটা নেই নেই মনে হচ্ছে তার!’হয়তো রিয়াদের শূন্যতা…
____
“আচমকা ট্রেনের শব্দ কানে আসতেই হাল্কা চমকে উঠলো রিয়াদ!’গাড়িতে বসে মোবাইল দেখছিল সে!’এমন সময় ট্রেনের শব্দ ভেসে আসলো তার কানে!’হয়তো তার মতো ট্রেনেরাও পাড়ি জমাচ্ছে কোথাও,চোখের সামনে তানজুর সাথে আসার মুহূর্তগুলো মনে পড়ছে রিয়াদের,এক অজানা ভালোলাগা আর শূূন্যতা ফিল হচ্ছে তার!’রিয়াদ তার মেবাইলের গ্যালারিতে থাকা ফটো দেখছে,হঠাৎই তানজু আর তার কিছু ফটো ভেসে আসলো,সচারাচর তানজু তেমন ফটো তুলে নি রিয়াদের সাথে!’তারপরও মাঝেসাঝে হুটহাট এসে পড়েছে তানজু রিয়াদের সেলফির মাঝে!’যেমন একটা ছবিতে রিয়াদ সেলফি তুলছিল তার অনেকটা দূরেই তানজু চুপচাপ চেয়ারে বসে নিজের মোবাইল দেখছে, তানজু রিয়াদের পিছনে থাকায় রিয়াদের সেলফিতে এসে পড়ে সে!’এই ছবিটা রিয়াদ তার শুটিং এর সময় তুলেছিল!’
“আর গ্রামের এই বিয়ে বাড়িতে টুকটাক ছবি তুলেছিল সে!’আড়াল থেকেই তুলেছিল রিয়াদ তানজুর ছবি!’আনমনেই ছবিগুলো দেখে মুচকি হাসলো রিয়াদ!’
“গাড়ির জানালা বন্ধ থাকায় বাহিরের বাতাস ভিতরে আসতে পারছে না তেমন!’রিয়াদ কিছু একটা ভেবে গাড়ির জানালা খুলে ফেললো,সাথে সাথে বাহিরের রৌদ্রময়ী বাতাস এসে লাগলো তার গায়ে!’সময়টা দুপর হওয়ায় আশেপাশে তেমন কেউ নেই বললেই চলে,মাঠ-ঘাট প্রায় খালি,মাঝেসাঝে দু’একজন দেখা যায়!’এরই মাঝে দূর আকাশে উড়ে যাচ্ছে একঝাঁক পাখি!’রিয়াদ আনমনেই তাকিয়ে রইলো সেদিকে…
“বেশ কয়েক ঘন্টা পর…
“রিয়াদের গাড়ি এসে থামলো রিয়াদের বাড়ির সামনে!’রিয়াদ হাল্কা ঘুমিয়ে পড়েছিল হঠাৎই গাড়ি থামতেই হকচকিয়ে উঠলো সে!’রিয়াদের একজন গার্ড এসে গাড়ির দরজা খুলতেই রিয়াদ নেমে পরলো গাড়ি থেকে!’তারপর আস্তে আস্তে চলে গেল রিয়াদ বাড়ির ভিতরে!’বাড়ির দরজা খোলায় ছিল হয়তো রামু চাচা সে আসবে বলে আর আটকায় নি!’রিয়াদ বেশি কিছু না ভেবে চলে যায় তার রুমের দিকে,বড্ড ক্লান্ত লাগছে তাঁর!’…
“রিয়াদ দুই সিঁড়িতে উঠতেই রামু চাচা এসে হাজির কিছুটা হতভম্ব হয়ে বললেন উনিঃ
—“রিয়াদ বাবু আপনে আইছেন?’
“উওরে মৃদুু কন্ঠে বললো রিয়াদঃ
—“হুম কেমন আছো তুমি?’
—“আমি তো ভালা আছি আপনে বাবু..
—“হুম ভালো, আচ্ছা শোনো আধ ঘন্টা পর আমার জন্য হট কফি বানিয়ে পাঠিয়ে দিও…
—“ঠিক আছে,আচ্ছা রিয়াদ বাবু আপনে একা তানজু আহে নাই…
—“না ও পড়ে আসবে…
—“ওহ!’
—“হুম, আচ্ছা শোনো গাড়িতে আমার কিছু ব্যাগপএ আছে কোনো এক সার্ভেন্টকে দিয়ে আনিয়ে নিও..
—“আচ্ছা বাবু…
“উওরে রিয়াদ আর কিছু না বলে চলে যায় তার রুমের দিকে….
“রামু কিছুক্ষন রিয়াদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে থেকে চলে যায় তার কাজে….
“রুমে ঢুকে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেয় রিয়াদ,সবকিছুই যেন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে তাঁর!’রিয়াদ কিছুক্ষন শুয়ে থেকে চলে যায় ওয়াশরুমে সাওয়ার নিবে সে….
___
“সন্ধ্যা_৭ঃ০০টা….
“গায়ে ভাড়ি লেহেঙ্গা জড়িয়েই বিছানায় ঘুমিয়ে আছে তানজু!’চোখে মুখে এখনো সাজ রয়েছে তাঁর!’বাহিরের ঘন কালো অন্ধকারে ঢেকে গেছে প্রায়,রুমের জানালা খোলা থাকায় যেন আরো বেশি গভীরতা সেটার!’এমন সময় তানজুর রুমে আসলো হিয়ামিনি তানজুকে এভাবে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে ডেকে তুললো সে!’প্রথম ডাকে না উঠলেও পর পর কয়েকবার ডাক শুনে লাফ মেরে উঠে বসলো তানজু!তারপর আশেপাশে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে উঠলঃ
—“কিছু কি লাগবে স্যার….
“তানজুর কথা শুনে হিয়ামিনি হেঁসে বলে উঠলঃ
—“আমি তো স্যার নই তানজু,স্যার তো ঢাকায় পৌঁছে গেছে…
“সাথে সাথে চমকে উঠলো তানজু, চোখ বড় বড় করে বললো সেঃ
—“কি….
—“হুম কিছুক্ষন আগে রিয়াদ ভাইয়া ফোন করেছিল…
—“সত্যি…
—“হুম, কতক্ষন আগেই পৌঁছেছেন উনি…
—“ওহ তা আমায় ডাকিস নি কেন?’
—“তুই তো ঘুমিয়ে ছিলি তাই আর ডাকি নি…
—“ওহ ঠিক আছে…
—“তা মহারানী আপনি কি আজ এভাবেই থাকবেন নাকি…
“হিয়ামিনির কথা শুনে কিছুটা অবাক হয়ে বললো তানজুঃ
—“কোনভাবে…
“তানজুর কথা শুনে হিয়ামিনি তানজুর গায়ে হাত দিয়ে ওর গলায় থাকায় নেকলেস আর কানের দুল দেখিয়ে বললোঃ
—“এই যে ভাড়ি লেহেঙ্গা,ভাড়ি দুল, ভাড়ি নেকলেস, ভাড়ি সাজ…
“হিয়ামিনির কথা শুনে এতক্ষন পর তানজুর মনে পড়লো সে এখনো বিয়ের সাজে সজ্জিত!’কিছুটা বিস্মিত কন্ঠে বললো সেঃ
—“ওহ দেখছো আমি একদমই ভুলে গিয়েছিলাম,আসলে তখন আপুকে বিদায় দেওয়ার পর মনটা খারাপ থাকায় এই রুমে এসে ছিলাম কখন যে বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বুঝতেই পারি নি….
—“হুম বুঝছি…
—“কি বুঝছোস?’
“তানজুর কথা শুনে হিয়ামিনি কিছুটা অন্যরকম কন্ঠে বলে উঠলঃ
—“এটাই যে আপুর জন্য মনখারাপ হচ্ছে তোর..
—“কি বলতে চাইছিস বলতো…
—“আরে আমি আবার কি বলতে চাইবো,আচ্ছা একটা কথা বলি তানজু…?’
—“হুম বল…
—“তুই রিয়াদ ভাইয়াকে মিস করছিস?’
“সাথে সাথে চুপ হয়ে গেল তানজু,তানজুকে চুপ থাকতে দেখে বলে উঠল হিয়ামিনিঃ
—“কি হলো কথা বলছিস না কেন?’
—“আরে, ওনাকে মিস করার কি আছে..
—“ওহ,তুই মিস করছিস না আমি তো খুব মিস করছি…
—“আচ্ছা তুই বসে মিস করতে থাক আমি এক্ষুনি ফ্রেশ হয়ে আসছি…
“এতটুকু বলে বিছানা থেকে নেমে চলে যায় তানজু বাহিরে…
“এদিকে হিয়ামিনি তানজু যেতেই গালে হাত দিয়ে বললোঃ
—“তুই কি সত্যি মিস করছিস না তানজু…?’
_____
“কফি হাতে বিছানায় বসে আছে রিয়াদ,সামনেই ল্যাপটপে একটা ইংলিশ গান বাজছে!’
– Could you Find A Way to Let me Down slowly♪
– A little sympattly,I Hope you Can show me♪
– if you Wanna go then i’ll Be so lonely♪
– if you’re leaving Baby Let me Down slowly♪
– Let me Down, Down♪
Let me Down,Down♪
“গানটা শুনছে আর কফিতে চুমুক দিচ্ছে সে!’সাথে নিজের ফেসবুক ইনস্টাগ্রামের হাজার হাজার মানুষের তাকে নিয়ে করা পোস্ট দেখতে ব্যস্ত সে!’কিছুদিন অনলাইন না আসাই অনেকের মনেই অনেক প্রশ্ন!’কেউ কেউ তো কান্নার ইমোজি দিয়ে ভরিয়ে ফেলেছে তার ফটোর কমেন্ট বক্সে!’হাজারো ফ্যানদের ভালোবাসার মাঝেও আজ যেন কিছুই ভালো লাগছে না রিয়াদের!’মন খারাপ করে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো রিয়াদ তারপর কফিটা টেবিলের উপর রেখে হাঁটতে হাঁটতে চলে যায় সে বেলকনির কাছে!’
“বেলকনির রেলিং এর সামনে গা ঘেঁষে দাঁড়ায় রিয়াদ,আকাশে আজ কোনো তাঁরা নেই, দূর সীমানায় মেঘের আড়াল থেকে চাঁদটাকে দেখা যাচ্ছে খুব,রিয়াদ সেদিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো!’সাথে সাথে ভেসে আসলো তার চোখের সামনে তানজুর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোর কথা…
“জোৎসা ভরা রাতে সারারাত ছাঁদের দোলনায় একসাথে কাটানোর কথা,রোদ্দুরে মেঘের বর্ষনে তানজুর ভেজালো মুখের কথা,অন্ধকারকে লুকাতে আলোকিত মোমবাতিদের ভিড়ে তানজুকে জড়িয়ে ধরার কথা,পাশাপাশি সকাল বেলা গ্রামীণ পথ পেরিয়ে হাঁটার কথা,সাথে ছোট্ট টং দোকানে একসাথে রং চা খাওয়ার কথা,কানাডার বিখ্যাত নায়াগ্রা ফলসে একসাথে ঘুরে বেড়ানোর কথা,সাথে বরফ নিয়ে তানজুর লাফালাফি করার কথা…
“সবই যেন আজ একে একে ভেসে আসছে রিয়াদের চোখের সামনে!’তাড়াতাড়ি চোখ খুলে ফেললো রিয়াদ!’একরাশ অস্থিরতা ফিল করছে তার!’রিয়াদ কিছুক্ষন আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে চলে আসলো তার রুমে!’এমন সময় ফোনটা বেজে উঠল উপরে ডিরেক্টরের নাম দেখে রিয়াদ ফোনটা তুলে বলে উঠলঃ
—“হ্যালো…
—“তুমি এসেছো রিয়াদ…
—“হুম..
—“গুড কাল সকাল ১০ঃ০০টায় শুটিংজোনে চলে এসো….
—”ওকে…
“বলেই ফোনটা কেটে দেয় রিয়াদ!’হাত থেকে ফোন রাখতে না রাখতেই আবার ফোন বেজে উঠলো রিয়াদের!’এবার উপরে তানজুর নাম দেখতেই বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেল রিয়াদের!’রিয়াদ তাড়াতাড়ি ফোনটা তুলে বললোঃ
—“হ্যালো…
“রিয়াদের “হ্যালো” শুনে অপরপাশে তানজু বলে উঠলঃ
—“হ্যালো স্যার কেমন আছেন?’
—“হুম ভালো তুমি…?’
—“হুম ভালো, ঠিকভাবে পৌঁছাতে পেরেছেন তো স্যার রাস্তায় কোনো অসুবিধা হয়নি তো…?’
—“না কোনো অসুবিধা হয় নি,তারপর তোমাদের ওখানে সব ঠিকঠাক তো…
—“হুম স্যার,ডিনার করেছেন?’
—“না এখনো করি নি….
—“এখনো করেননি স্যার রাত_১০ঃ০০টা বাজে তাড়াতাড়ি করে আসুন..?
—“হুম করবো তুমি করেছো..?’
—“হুম স্যার…
“এরপর আরো কিছুক্ষন কথা বললো রিয়াদ তানজুর সাথে!’কিছুক্ষন পর…
—“ওকে স্যার ভালো থাকেন আর তাড়াতাড়ি ডিনার সেরে নিয়েন…
—“ঠিক আছে বাই..
—“হুম গুড নাইট স্যার..
—“গুড নাইট…
“বলেই ফোন কাটে রিয়াদ!’ফোন কেটেই জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে শুরু করলো সে!’এতক্ষণ যেন শ্বাস আঁটকে আসছিল তার,সাথে নার্ভাস নার্ভাস ফিল হচ্ছিল রিয়াদের!’কিছুটা বিচলিত কন্ঠে বলে উঠল রিয়াদঃ
—“আশ্চর্য!’আমি এতটা নার্ভাস কেন হয়ে গিয়েছিলাম,
“ভাবতে ভাবতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল রিয়াদ….
!
!
!
!
!
!
!
!
!
!
#চলবে………
[ভুল-ত্রুটি ক্ষমার সাপেক্ষ!”আর গল্প কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবে কিন্তু!’]
#TanjiL_Mim♥️