রৌদ্রর শহরে রুদ্রাণী পর্ব-১৪+১৫

0
966

#রৌদ্রর_শহরে_রুদ্রাণী
#পর্বঃ১৪
#Saiyara_Hossain_Kayanat

ঘুমের মধ্যে আচমকা ‘কাসফি’ বলে জোর চিৎকার দিয়ে উঠলো আরশি। আরশির চিৎকারে আদ্রাফ নীলা আর নীল উত্তেজিত হয়ে কেবিনে ছুটে আসলো। ঘুমের মধ্যে ভয়ে বিরবির করার জন্য আরশিকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দু ঘন্টা পেরুতেই আরশির ঘুম ভেঙে যাবে এটা হয়তো কেউ ধারণা করেনি। আদ্রাফ আরশির কাছে এসে চিন্তিত গলায় বললো-

“আশু কি হয়েছে?? তুই ঠিক আছিস তো??”

আদ্রাফ আরশির কাছ থেকে কোনো প্রতিত্তোর পেল না। আরশি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। চোখে মুখে আতংকের ছাপ। ভয়ার্ত দৃষ্টিতে বার বার আশেপাশে তাকাচ্ছে। নীলা আরশির কাছে এসে ওর শরীরে হাত দিতেই আরশি নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করলো। আদ্রাফ আর নীল দ্রুত কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। কাসফিয়া অন্য একটা কেবিনে ঘুমিয়ে আছে। সেখানেই আরশি আর কাসফিয়ার আব্বু বসে আছে। আদ্রাফ আর নীল কাসফিয়ার কেবিনে এসে আরশির আব্বু আদিব হাসানের উদ্দেশ্যে বলল-

“আংকেল আরশির ঘুম ভেঙে গেছে। তবে ও কেমন যেন করছে।”

আদিব হাসান দ্রুত চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন-

“কেন কি হয়েছে আরশির?? এত তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে গেল কিভাবে!!”

আদিব হাসান উত্তরের অপেক্ষা না করেই আরশির কেবিনের উদ্দেশ্যে অস্থিরতার সাথে ছুটে চলে গেলেন। আর ওনার পেছন পেছন আদ্রাফ আর নীলও চলে যাচ্ছে। কাসফিয়া এতক্ষনে ঘুম থেকে থেকে উঠে বসে আছে। রেজাউল হক ওনার মেয়ের কাছে এগিয়ে আসলেন। কাসফিয়া উদ্বিগ্নতার সাথে বলল-

“বাবা আমি আরশির কাছে যাবো।”

রেজাউল হক ওনার মেয়েকে চোখের ইশারা সম্মতি জানালেন। কাসফিয়াকে ধরে বেড থেকে নামিয়ে দাঁড় করালেন। হাতে প্লাস্টার লাগানোর ফলে নড়াচড়া করতে বেশ অসুবিধে হচ্ছে কাসফিয়ার। আদিব হাসান কেবিনে এসে মেয়েকে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে বসে থাকতে দেখে তার চোখ ছলছল করে উঠলো। তার হাস্যজ্বল মেয়ের জীবনটা হঠাৎ করেই একটা ঝড় এসে এভাবে লন্ডবন্ড করে দিয়ে যাবে এমনটা তো সে আশা করেনি। আদিব হাসান আরশির কাছে এগিয়ে এসেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ছেড়ে দিলেন। মেয়েটা আজ কত বড় একটা ঘৃণ্যতম পরিস্থিতির শিকার হয়েছে ভাবতেই তার বুক বার বার কেঁপে উঠছে। একটা মেয়ের জন্য হয়তো এর থেকে ভয়ংকর পরিস্থিতি আর কিছু নেই। আরশি কিভাবে সামলিয়ে উঠবে এই পরিস্থিতি থেকে!! কিভাবে তার মস্তিষ্ক থেকে এই জঘন্য স্মৃতি গুলো মুছে ফেলবে!!

কাসফিয়া কেবিনে আসতেই আরশি মাথা তুলে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকালো। অপলকভাবে তাকিয়ে আছে কাসফিয়ার হাতের দিকে। আজ তাকে বাঁচাতেই তো কাসফিয়ার হাতের এই অবস্থা হলো। যদি আজ কাসফিয়া না থাকতো তাহলে কি হতো?? একজন ধর্ষিতা হয়ে যেত!! কথাটা ভাবতেই ভয়ে আরশির আঁতকে উঠছে বার বার।

—————————

আজ দশদিন হয়েছে। অথচ আরশির কোনো চিঠি পেলো না রৌদ্রর। অনেক বার ফোন করেছিল আরশির নাম্বারে তবে প্রতিবারই ফোন অফ এসেছে। এমনকি আরশির ফ্ল্যাটে এসেও কোনো খোঁজ পায়নি। কাসফিয়ার কোনো নাম্বারও রৌদ্রর কাছে নেই যে যোগাযোগ করবে। তাই আজ বাধ্য হয়েই আরশির ভার্সিটিতে এসেছে খোঁজ নেওয়ার উদ্দেশ্যে। ভার্সিটিতে এসে কিছু স্টুডেন্টদের কাছে জানতে চেয়েও কোনো খোঁজ পায়নি। রৌদ্রকে প্রচন্ড রোদে ক্লান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে দেখে ভার্সিটির দারোয়ান রহিম মিয়া ভ্রু কুচকে বললেন-

“কাউরে খুজেন নাকি স্যার?? মেলা সময় ধইরা দেখতাছি পোলাপানদের কিছু জিগাইতাছেন।”

রৌদ্র কিছুটা সময় চুপ থেকে। শার্টের হাতায় কপালের ঘাম মুছে ক্লান্তিমাখা কন্ঠে বললো-

“আসলে আংকেল এখানের দুটো মেয়েকে খুজছিলাম। হঠাৎ করেই ওদের সাথে যোগাযোগ অফ হয়ে গেছে তাই আরকি।”

“যোগাযোগ বন্ধ হইলো কেমনে?? ফোন নাম্বার নাই?? আর মাইয়াগো নাম কি?”

রৌদ্র দারোয়ানের কিছুটা কাছে এগিয়ে এসে বললো-

“নাম্বার ছিল কিন্তু এখন অফ। ওদের নাম আরশি আর কাসফিয়া। আপনি যদি কোনো ভাবে একটু হেল্প করতেন তাহলে খুব ভালো হতো আংকেল।”

দারোয়ান রহিম মিয়া খানিকটা সময় ভেবে বললেন-

“আপনে কি ওই পাঁচ জনের কথা কইতাছেন সব সময় যে এক লগে থাহে। আর দুইটা তো মনে হয় আবার জমোক পোলাপান। সব সময় দেখতাম আশু আশু কইরা চিল্লায় সব গুলা।”

আশু নামটা শুনেই খুশিতে রৌদ্রর মুখ ঝলঝল করে উঠলো। অস্থির কন্ঠে বললো-

“হ্যাঁ হ্যাঁ… আশু আর কাসফির কথা বলছি। আপনি কিছু জানেন ওদের কথা??”

সাথে সাথেই রহিম মিয়ার মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। মলিন মুখে বলল-

“ওরা পাঁচজনেই বইলে ছুটি কাডানের লাইগা গ্রামে গেছিল। বেশি কিছু তো শুনি নাই কিন্তু কয়দিন আগে কয়ডা পোলাপানের মুখে শুনলাম ওরা যাওয়ার পথেই বইলে এক্সিডেন্ট করছে। মনে হয় বড়সড় এক্সিডেন্টই হইছিলো এরপর থাইক্কাই ওগো আর দেহি নাই।”

কথা গুলো শোনার সাথে সাথেই রৌদ্রর বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। রৌদ্র স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো খানিকটা সময়। মনে হচ্ছে কিছু বলার মতো শক্তি তার মধ্যে নেই। রৌদ্রর কোনো কথা না বলেই চুপচাপ হেঁটে যাচ্ছে ফুটপাত দিয়ে।

————————

নীল, আদ্রাফ, নীলা আর কাসফিয়া মন খারাপ করে তাকিয়ে আছে আরশির দিকে। ছাদের এক কোণায় নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরশি। অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশের দিকে নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। হসপিটাল থেকে আসার পর একদমই চুপচাপ হয়ে গেছে। দিনের বেশিরভাগ সময়টাই কাসফিয়ার সাথে চুপচাপ বসে থেকে কাটিয়ে দেয়। আর সুযোগ পেলেই ছাদে এসে আকাশের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। নীলা আরশির দিকে তাকিয়ে থেকেই মৃদুস্বরে বলল-

“ডক্টর তো বলেছিল ভয় কেটে গেলেই আরশি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। এতদিন হয়ে গেল অথচ আরশি এখনো সব সময়ই মনমরা হয়ে থাকে।”

আদ্রাফ নীলের কাধে হাত রেখে আরশির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল-

“চল আরশির কাছে।”

সবাই এসে আরশির দু পাশের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে গেল। কাসফিয়া বাম হাতে আরশির কাধে রেখে বলল-

“এত রাতে এখানে কি করছিস আশু??”

আরশি সব সময়ের মতো এবারও ভাবলেশহীন ভাবে ছোট্ট করে উত্তর দিল-

“কিছু না।”

আদ্রাফ আরশির দু কাধে হাত দিয়ে নিজের দিকে ঘুরিয়ে শান্ত গলায় বললো-

“আশু এটা কিন্তু তুই একদমই ঠিক করছিস না। আমাদেরকে তোর বাসা নিয়ে এসেছিস এভাবে চুপচাপ বসে থাকার জন্য!! শোন আশু যা হয়েছে সব ভুলে যা। এখনো কেন ওইসব নিয়েই মন খারাপ করে বসে আছিস বল তো??”

আরশি চুপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। আদ্রাফের পাশ থেকে নীল শক্ত গলায় বললো-

“একে বুঝিয়ে কোনো লাভ নেই আদ্রাফ। ও ওর মতোই থাকবে। আমাদের কোনো মূল্য আছে নাকি ওর কাছে?? পনেরো দিন ধরে আমরা এখানে আছি অথচ একটা দিনও দেখেছিস ও আমাদের সাথে একটু ভালো মতো কথা বলেছে!! আরশি তুই তোর মতোই থাক আমরা সবাই কালকেই এখান থেকে চলে যাব।”

নীলের কথা গুলো শুনে আরশি মাথা তুলে তাকালো ওদের দিকে। কাসফিয়া নীলের কথায় সায় দিয়ে বলল-

“নীল ঠিকই বলেছে। শুধু শুধু এখানে থেকে কি করবি!! তোরা সবাই না হয় কাল সকালেই ঢাকা চলে যা।”

নীলা আরশিকে বললো-

“আরশি তুই বরং এখানেই থাক আমরা এখন নিচে যাই। সব কিছু গোছগাছ করতে হবে।”

“হ্যাঁ চল সবাই।”

আদ্রাফ কথাটা বলেই ছাদ থেকে চলে গেল। সাথে সাথে নীল আর নীলাও চলে গেলো। আরশি ওদের যাওয়ার পথে তাকিয়ে আছে। কাসফিয়া আরশির কাধে হাত দিয়ে বললো-

“তুই এটা একদমই ঠিক করলি না আশু। ওরা সবাই কত চেষ্টা করে যাচ্ছে তোর সাথে একটু কথা বলার জন্য। তোকে হাসানোর জন্য কত কিছু করেছে এই ক’দিন কিন্তু তুই তো নিজের মতোই মনমরা হয়ে বসে থাকিস। যা হয়ে গেছে তার জন্য শুধু শুধু আমাদেরকে দূরে ঠেলে দিচ্ছিস কেন!! আমাদের সবাইকে কেন কষ্ট দিচ্ছিস!! তোকে এইভাবে দেখে আংকেল আন্টি কতটা কষ্ট পাচ্ছে জানিস তুই?? একবারও খেয়াল করেছিস ওনারা তোকে নিয়ে কতটা চিন্তায় থাকে সারাক্ষণ!!”

কাসফিয়ার কথায় আরশি মাথা নিচু করে ফেললো। চোখ পানিতে চিকচিক করেছে। মনে হচ্ছে এখনই চোখ থেকে গড়িয়ে পরবে। কাসফিয়া গম্ভীর ভাবে পা ফেলে নিচে চলে গেল। সাথে সাথেই আরশির গাল বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পরলো। আরশি ঝাপসা দৃষ্টিতে কাসফিয়ার যাওয়ার পথে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে৷ সবাই কি তাহলে আরশিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে?? আরশি মনে মনে কথাটা ভেবেই নিশ্চুপে চোখেরজল ফেলে যাচ্ছে।

————————

রৌদ্র বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাখিগুলোকে খাবার দিচ্ছে। আর মাঝেমধ্যে পাশের বারান্দায় তাকাচ্ছে।আরশিদের ভার্সিটি থেকে আসার পরেই রৌদ্র খুব গম্ভীর হয়ে উঠেছে। সারাদিন হসপিটালে নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে যেন আরশির কথা তার মাথায় না আসে। এতো ব্যস্ততার পরেও দিন শেষে চাতক পাখির মতো অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার পাশের বারান্দার দিকে। এখন আর আগের মতো আরশি আর কাসফিয়ার চেচামেচির শব্দ শোনা যায় না। পাখিটাও আর কোনো কথা বলে না। বারান্দায় এখন আর লাল রঙের চিরকুট পাওয়া যায় না। রৌদ্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকাশের দিকে দৃষ্টি দিল। এভাবেই কি শেষ হয়ে যাবে সব কিছু?? রুদ্রাণী কি আর আসবে না তার শহরে!! কেমন আছে আরশি?? আরশির কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? খুব বড় এক্সিডেন্টই কি হয়েছে?? রৌদ্র প্রশ্ন গুলো ভেবে নিজের মনেই আওড়াতে লাগলো উত্তরের খোঁজে। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও নিরাশ হলো।

ভোর সকাল সাড়ে পাঁচ টায় আরশি মাথায় ওড়না পেচিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। দোতালা বড় বাড়ির পাশের পাশের দোতলা বাড়িটাই কাসফিয়াদের। দু বাড়ির মাঝে এক বিশাল দেয়াল। দেয়ালের মাঝখানেই বড় একটা গেইট। এই গেইট দিয়েই দু পরিবারের মানুষ একে অপরের বাসায় আসা যাওয়া করে। দিন রাত চব্বিশ ঘণ্টা এই গেইট খোলাই থাকে। আরশি বাগান পেরিয়ে কাসফিয়াদের বাসায় চলে গেল। নীলা আর কাসফিয়া আরশির বাসায় আরশির রুমে ঘুমাচ্ছে। তারা দু’জন আরশির সাথেই থাকে আর কাসফিয়ার বাসায় থেকে আদ্রাফ আর নীল এক সাথে থাকে। আরশি কলিং বেল বাজানোর খানিকটা সময় পরেই কাসফিয়ার আম্মু রাবেয়া বেগম দরজা খুলে দিলেন। ঘুম ঘুম চোখে আরশির দিকে তাকয়ে ওনার ঘুম নিমিষেই চলে গেল। চোখ বড় বড় করে আরশির দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হয়ে বললেন-

“আরশি মামুনি তুই এই সময় এখানে কি করছিস?? তুই ঠিক আছিস তো??”

আরশি চোখের ইশারা হ্যাঁ বলেই ভিতরে চলে আসলো। রাবেয়া বেগম আরশির পেছন পেছন যাচ্ছে। আরশি ওয়াশরুম থেকে এক বালতি পানি নিয়ে দোতলায় চলে যাচ্ছে। আরশির এমন অদ্ভুত কাজে রাবেয়া বেগম অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। পেছন থেকে কিছুটা উঁচু গলায় আরশিকে জিজ্ঞেস করলো-

“আরশি কি করছিস এসব! পানি নিয়ে কোথায় যাচ্ছিস মা??”

আরশি কিছু না বলে নিজের ঠোঁটে আঙুল দিয়ে ওনাকে চুপ থাকতে ইশারা করলেন। আরশি নীল আর আদ্রাফের রুমে এসে তাদের দিকে এক পলক তাকিয়ে থেকেই পুরো বালতির পানি ঢেলে দিল তাদের উপর। রাবেয়া বেগম হতবাক হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে আরশির কর্মকাণ্ড। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করেই গায়ে পানি পরায় একপ্রকার লাফিয়ে উঠে গেল আদ্রাফ আর নীল। চোখ ভালো মতো না খুলেই দু হাত দিয়ে আশেপাশে আওড়াতে লাগলো। দু’জনেই চিল্লাচিল্লি করে যাচ্ছে চোখ বন্ধ করে।

চলবে…..

#রৌদ্রর_শহরে_রুদ্রাণী
#পর্বঃ১৫
#Saiyara_Hossain_Kayanat

সবাই মুগ্ধ হয়ে আরশির হাসি দেখছে। বাচ্চাদের মতো খিলখিল করে হেসে উঠেছে আরশি। নীল আর আদ্রাফের এমন অবস্থা দেখে যেন আরশির হাসি থামতেই চাইছে না। আদ্রাফ আর নীলের রাগান্বিত চোখগুলো এখন বিস্ময়ে গোলাকৃতি হয়ে গেছে। কয়েক সেকেন্ড আরশির দিকে তাকিয়ে থেকে ওদের মুখেও আনন্দের ছাপ ফুটে উঠলো। কাসফিয়া ঘুমের মধ্যে আরশিকে পাশে না পেয়ে সাথে সাথেই উঠে বসে পরলো। নীলাকে নিয়ে পুরো বাড়ি খুঁজেও যখন পেল না তখন আরশির বাবা-মাকে জানায়। সবাই পুরো বাড়ি আর ছাদ খুঁজে অবশেষে কাসফিয়াদের বাসায় এসেছে। দোতলা থেকে কারও হাসির শব্দ পেয়ে সবাই উপরে এসেই কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে গেল। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আরশির দিকে। সকাল সকাল আরশিকে এভাবে হাসতে দেখা তাদের জন্য হয়তো অবিশ্বাস্যকর কিছু মনে হচ্ছে। আজ কতদিন পর আরশিকে এভাবে হাসতে দেখছে সবাই৷ সকলের অগোচরে আরশি মা নিজের চোখের পানি মুছে ফেললেন। কাসফিয়ার চোখ চিকচিক করছে নোনাজলে। কাসফিয়া নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে রাগী ভাব নিয়ে আরশির দিকে এগিয়ে গেল। আরশির সামনে দাঁড়িয়ে রাগী কন্ঠে বললো-

“কতক্ষন ধরে আমরা সবাই পাগলের মতো তোকে খুঁজে যাচ্ছি। আর তুই এখানে এসে দাঁত কেলিয়ে হাসছিস!! ফাজিল মেয়ে কোথাকার!”

আরশি কাসফিয়ার রাগ পাত্তা না দিয়ে। আদ্রাফ আর নীলের দিকে তাকিয়ে হাসি থামানোর চেষ্টা করতে করতে বলল-

“আমাকে পরে বকিস আগে তুই এই গুলারে দেখ; বিছানার মধ্যে কীভাবে সাঁতার কাটে। নীলা তোর ভাই কি প্রতিদিন এইভাবেই বিছানার সাঁতার কাটে?? পুরো পেঙ্গুইনের মতো লাগছিল ওদের।”

কথা গুলো বলেই আবার পেটে হাত দিয়ে হেসে যাচ্ছে। আরশির কথা শুনে সকলেই হাসছে। আদ্রাফ আর নীলের কাছে আজ এই অপমান গুলোই মজাদার মনে হচ্ছে তাই সব সময়ের মতো রেগে না গিয়ে বোকার মতো হেসে উঠলো। সকাল সকাল ঘুমের ঘোরে তাদের এমন বোকামি করাটা তাদের কাছে এখন স্বার্থকতা মনে হচ্ছে। নীল রাগী কন্ঠে বললো-

“আশু তুই কিন্তু আমাদের অপমান করছিস সবার সামনে।”

আদ্রাফও গম্ভীর গলায় বললো-

“এতো সকালে এইসব কি শুরু করেছিস তুই?? পানি দিয়েছিস কেন আমাদেরকে??”

আরশি হাসি থামিয়ে দুহাত ভাজ করে কঠিন গলায় বললো-

“যা করেছি খুব ভালো করেছিস। তোদের সাথে এমনই করা দরকার। কাল আমাকে কত কথা শুনিয়েছিস মনে আছে!! কিছু বলি না বলে খুব সাহস বেড়ে গেছে তোদের তাই-না!!”

নীলা মুখ গোমড়া করে বললো-

“ভালোই করেছিস আশু ওদের ঘুম থেকে তুলে দিয়েছিস। কিছুক্ষন পরেই তো আমরা চলে যাবো। আটটায় আমাদের ট্রেন।”

নীল বিছানা থেকে উঠে আদ্রাফের দিকে তাকিয়ে বলল-

“আদ্রাফ ওঠে যা তাড়াতাড়ি। না হলে দেরি হয়ে যাবে আমাদের।”

আরশি প্রচন্ড রেগে নীলের দিকে তেড়ে এসে ধমকিয়ে বলল-

“খবরদার যদি এখন যাওয়ার কথা বলেছিস থাপ্পড় দিয়ে সব গুলাকে একদম বয়রা বানিয়ে দিবো বলে দিলাম।”

আদ্রাফ অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে অভিমানের গলায় বললো-

“শুধু শুধু এখানে থেকেই বা কি করবো আমরা!!”

আদ্রাফের কথায় আরশির রাগে জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠলো। হুংকার দিয়ে বলল-

“বাবা তুমি কি ওদেরকে কিছু বলবে!! আমি কিন্তু সত্যি সত্যিই এখন এই হারামি গুলারে মেরে ফেলবো আরেকবার যদি এখান থেকে যাওয়ার কথা বলে।”

আদিব হাসান ওনার মেয়ের কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন-

“আচ্ছা রাগ করতে হবে না আমি বুঝিয়ে বলছি ওদেরকে।”

আরশির আব্বু কিছু বলবে তার আগেই কাসফিয়া, নীলা, আদ্রাফ আর নীল এক সাথে হাসা শুরু করলো। সবাই ভ্রু কুচকে ওদের দিকে তাকিয়ে আছে। আরশি ধমকের স্বরে বললো-

“এভাবে পাগলের মতো হাসছিস কেন তোরা??”

নীল হাসি থাময়ে বলল-

“আমরা জানতাম সোজা আঙুলে ঘি উঠে না তাই আঙুলটা একটু বাঁকা করলাম। আমরা কেউ-ই আজ ঢাকা যাবো না। আমরা তো টিকিটই কিনি নাই।”

আরশি ভ্রু বাঁকিয়ে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো-

“তাহলে কাল যে বললি সবাই আজ চলে যাবি!!”

আদ্রাফ নীলের কাধে হাত রেখে বেশ ভাব নিয়ে বলল-

“ও গুলা তো এমনিতেই মিথ্যে বলেছি। তুই আমাদের সাথে কথা বলিস না তাই একটু নাটক করছিলাম।”

“হ্যাঁ আমরা জানতাম আমরা যদি তোকে এভাবে কথা গুলা বলি তাহলে তুই নিশ্চিত আমাদেরকে যেতে বাধা দিবি। কিন্তু তুই যে এভাবে এই বলদা দুইটাকে সকাল সকাল গোসল করিয়ে দিবি সেটা কি আর আমরা জানতাম না-কি!!”

নীলা কথা গুলো বলেই আবার হাসতে লাগলো। সবাই আজ প্রান খুলে হাসছে আর তাদের সাথে আরশিও হাসছে।

—————————

আরশি গাল ফুলিয়ে রাস্তা দিয়ে চুপচাপ হেঁটে যাচ্ছে। সকাল সকাল ভেবেছিল ঘুরতে বের হবে। কিন্তু এখন তো নিজেকে খুনের আসামী মনে হচ্ছে আরশির। কাসফিয়া আর নীলা সামনে হাটছে। আর আরশি হাটছে আদ্রাফ আর নীলের মাঝে। আরশির ডান পাশে নীল আর বাম পাশে আদ্রাফ। আরশিকে একটুর জন্যেও ওদের মাঝখান থেকে যেতে দিচ্ছে না। হঠাৎ করেই আরশির চোখ পরলো একটা পাখির দোকানের দিকে। দোকানের বাহিরে একটা খাচায় ময়না পাখি ঝুলানো। পাখিটা দেখে তৎক্ষনাৎ চিঠির কথা মনে পরে গেল। চিঠির কথা মনে পরতেই মনটা খচখচ করে উঠলো আরশি। কিছু না ভেবেই পা বারালো ডান পাশের দোকানটার দিকে। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারলো না তার আগেই নীল আরশির চুল টেনে ধরে থামিয়ে দিল। আরশি পেছন ফিরে তাকাতেই নীল রাগান্বিত হয়ে বলল-

“কোথায়া যাচ্ছিস কিছু না বলে!!”

আরশি একটা মেকি হাসি বললো-

“ওই যে পাখির দোকানটায়। আয় তোরাও চল আমার সাথে।”

পাখির দোকানে এসেই আরশি ময়না পাখিটা কিনে ফেললো। পাখির টাকা আদ্রাফ আর নীলের কাছ থেকেই হাতিয়ে নিয়েছে। আরশি একটা কাগজে বেশ কিছুক্ষন ধরে কিছু লিখে যাচ্ছে কেউ কিছু বুঝতে না পারলেও কাসফিয়া ঠিকই বুঝতে পারছে আরশি কি করছে। আরশি একটা চিঠি লিখে পাখিটার সাথেই কুরিয়ার করে দিতে বলল রৌদ্রর ঠিকানায়। নীলা খুব উত্তেজিত হয়ে আরশিকে জিজ্ঞেস করলো-

“পাখিটা কাকে পাঠাচ্ছিস আশু?? আর সাথে চিঠিই বা লিখলি কেন?”

আরশি দোকান থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল-

“জানি না কাকে পাঠাছি।”

আদ্রাফ চমকে উঠে বলল-

“জানিস না মানে কি!! না জানলে পাখিটা কুরিয়ার করলি কোথায়?”

আরশি শান্ত গলায় বললো-

“আমার পাশের বারান্দায়। এসব কথা পরে বলবো এখন তাড়াতাড়ি চল দশটা বেজে যাচ্ছে। আমার খুব খিদে লেগেছে।”

সবাই আরশির পেছন পেছন হেঁটে যাচ্ছে। ওরা খুব ভালো করেই জানে এখন আরশিকে জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলবে না। তাই শুধু শুধু আর কিছু জিজ্ঞেস করলো না।

————————

রৌদ্রর রাত প্রায় একটায় বাসায় এসেই ক্লান্ত শরীর নিয়ে বারান্দায় চলে গেল। হসপিটালে সারাদিন ব্যস্ততায় কাটিয়ে দিলেও দিন শেষে বাসায় ফিরলেই অস্থিরতার পোকা কিলবিল করে ওঠে। তার জীবনটা মনে হচ্ছে বিষাদে ভরে আছে। আরশির বারান্দার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে রৌদ্র বারান্দার কাউচে বসেই ঘুমিয়ে পরলো।

ছাদে সবাই আরশিকে ঘিরে ধরে বসে আছে। বিরক্তিতে আরশি চোখ মুখ খিচে বসে আছে। আদ্রাফ আরশিকে সন্দিহান কন্ঠে বললো-

“আশু প্লিজ বলে দে সব কিছু। কতক্ষন এভাবে বসিয়ে রাখবি!!”

আরশি সরু চোখে আদ্রাফের দিকে তাকিয়ে বলল-

“আমি কি বলেছি তোদের এখানে বসে থাকতে?? তোরাই তো আমাকে এখানে জোর করে বসিয়ে রেখেছিস।”

নীল ফটাফট করে বলল-

“তুই যতক্ষন না পর্যন্ত সব কিছু আমাদেরকে বলবি তখন পর্যন্ত এখানেই বসে থাকতে হবে।”

কাসফিয়া ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলে বলল-

“আরশি ওদেরকে বলে দে তো। হুদাই এভাবে রাত জেগে এখানে বসে থাকার কোনো মানে হয় না।”

আরশি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চিঠির কথা সবকিছু খুলে বললো। আরশির কথা শুনে কাসফিয়া বাদে বাকি সকলের চোখ আপনা আপনি বড় হয়ে যাচ্ছে। আরশির কথা শেষ হতেই নীলা তীব্র উৎসাহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো-

“তোর চিঠিওয়ালা ছেলে না-কি মেয়ে?”

“জানি না”

আরশির নির্লিপ্ত জবাবে আদ্রাফ অতিমাত্রায় চমকে উঠে চেচিয়ে বলল-

“কি??? চিঠিওয়ালা ছেলে না-কি মেয়ে সেটাও এখন পর্যন্ত জানিস না!!!”

আরশি মাথা ডানে বামে নাড়িয়ে না জানাতেই আদ্রাফ আরশির মাথায় একটা চাটি মেরে বললো-

“তুই তো দেখি আসলেই একটা গাধা। পাশাপাশি বারান্দায় থেকেও একজন আরেকজনকে না দেখে চিঠিতে কথা বলিস এমনকি মানুষটা ছেলে না-কি মেয়ে সেটাও জানিস!!”

আরশি আদ্রাফের বাহুতে একটা থাপ্পড় দিয়ে চুপ করিয়ে দিল। সবাই তব্দা খেয়ে বসে আছে। নীল কিছু একটা ভেবে শান্ত গলায় বললো-

“ওইদিন ভিডিও কলে মনে হচ্ছিল কেউ আরু বলে ডাকছে। ওটা কি তাহলে ওই ময়না পাখির নাম ছিল??”

আরশি মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি জানালো। নীল সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলল-

“আচ্ছা এখন সবাই নিচে চল অনেক রাত হয়েছে। এসব নিয়ে পরে কথা হবে।”

নীলের কথায় সবাই যে যার মতো নিচে চলে গেল।

—————————

রোদের তীর্যক রশ্মিতে রৌদ্রের চোখমুখ কুচকে এলো। কপালে বিরক্তি ভাজ পরে গেছে। রোদের তীব্রতা যেন কাটার মতো বিধে যেতে চাইছে রৌদ্রর সারা শরীরে। তবুও রৌদ্র চোখ বুজেই কাউচে বসে সাথে। এই মুহূর্তে সে কিছুতেই চোখ মেলে সামনের বারান্দায় নজর দিতে চাইছে। কলিং বেলের শব্দে রৌদ্রর বিরক্তি বিরক্তি ভাব আরও দ্বিগুণ হয়ে গেল। প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়েই চোখ মেলে তাকালো। আড়মোড়া দিয়ে আস্তে আস্তে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজা খুলে কুরিয়ারের লোক দেখে ভ্রু কুচকে ফেললো রৌদ্র। কুরিয়ারে লোকটা রৌদ্রর হাতে একটা খাম ধরিয়ে দিয়ে পাশ থেকে পাখির খাচাটা সামনে এনে দিতেই রৌদ্রর বিস্মিত হয়ে গেল। লোকটা নিজের কাজ শেষ করে চলে যেতেই রৌদ্র অতিমাত্রায় উত্তেজিত হয়ে খামটা খুলে ফেললো। ভিতরে একটা চিরকুট দেখতে পেয়ে তার চোখ খুশিতে চিকচিক করে উঠলো।

প্রিয় রৌদ্র,

আশাকরি পাখি গুলো আর পাখির মালিক সবাই ভালো আছে। অনেকদিন পর চিঠি লিখছি আর লাল কাগজও পাইনি তাই সব মিলিয়ে খুব অস্বস্তি লাগছে। এই প্রথম হয়তো বারান্দা দিয়ে নয় আপনার ফ্ল্যাটের সামনের দরজা দিয়েই আমার চিঠি আপনার হাতে পৌঁছাবে। আজ অনেকদিন পর একটু বাহিরে বেরিয়ে ছিলাম। পাখির দোকানে এই পাখিটা দেখি আপনার পাখিগুলোর কথা মনে পরে গেল। তাই তৎক্ষনাৎ চিঠি লিখে লিখে ফেললাম। আপনার ময়নাপাখিটা একা ওর জন্য একটা সঙ্গী পাঠিয়ে দিলাম।

[বিঃদ্রঃ আমাকে ভুলে গিয়েছিলেন না-কি!! অবশ্য উত্তরটা আমার জানা আছে। দুঃখিত অল্প কিছুদিনের কথা বলে এতোটা সময় পর আপনাকে চিঠি দেওয়ার জন্য।]

ইতি,
রুদ্রাণী

রৌদ্র চিঠিটা পড়ে মূর্তি ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে আছে। এই মুহূর্তে তার কেমন রিয়েক্ট করা উচিত সেটাও রৌদ্র বুঝে উঠতে পারছে। অপ্রত্যাশিত কিছুতে এতোটা আনন্দ হয়তো কেউ হয়না যতটা রৌদ্র হয়েছে। রৌদ্র এতটাই চমকে গেছে এই চিঠি পেয়ে যে নিজের অনুভূতিই প্রকাশ করতে ভুলে গেছে। আচমকাই চিঠিটা বুকে চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে বড় বড় কয়েকটা শ্বাস নিল।

———————

চার দিন পর আরশি ঢাকা এসেছে। আসার পথেই নতুন ফোন আর পুরনো সিম উঠিয়ে এনেছে। ওইদিন ধস্তাধস্তিতে কোথায় যেন ফোন হারিয়ে গেছেছিল আরশি নিজেও জানে না। আরশি ফ্রেশ হয়ে ঘুমানোর জন্য বিছানায় শোয়ার সাথে সাথেই ফোন বেজে উঠলো। আরশি বেশ অবাক হলো। রাত প্রায় এগারোটা বাজে কে ফোন দিতে পারে তাকে!! আদ্রাফ ওরা হয়তো জার্নির ফলে ক্লান্ত হয়ে এতক্ষনে ঘুমে বেহুশ হয়ে আছে। আরশি ফোনটা হাতে নিতেই অচেনা নাম্বার দেখে ভ্রু কুচকে ফোনটা রিসিভ করলো। আরশি কিছু বলার আগেই অপরপ্রান্ত থেকে গম্ভীর গলায় বললো-

“মিস আরু আপনি কি বাসায় আছেন!!”

মিস আরু নামটা শুনে আরশির বুকের ধুকপুকানি আবারও বেয়াদবের মতো শুরু হয়ে গেল এতদিন পর। আরশি নিম্ন স্বরে ছোট্ট করে উত্তর দিল-

“হুম”

রৌদ্র আবারও গম্ভীর গলায় বললো-

“পাঁচ মিনিটের মধ্যে নিচে আসুন খুব জরুরি দরকার ছিল।”

আরশির কিছু বলার আগেই রৌদ্র ফোন কেটে দিল। আরশি হতভম্ব হয়ে বসে আছে। আরশি মনে মনে ভাবছে – “এই লোকটা হুটহাট ফোন করে নিজের মতো কথা বলেই ফোন রেখে দেয় কেন আজব!! আর এতো রাতে আবার কিসের দরকার?? এখন কি আমার নিচে যাওয়া ঠিক হবে??” আরশি মনে মনে নানানরকম চিন্তা ভাবনা করতে লাগলো। আর অপর পাশে রৌদ্র ফোন রেখেই বুকে একটা ফু দিয়ে বড় করে শ্বাস নিল। হসপিটালে যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিল। বারান্দায় এসে আরশিদের ফ্ল্যাটে লাইট জ্বালানো দেখেই আরশিকে কল দিয়েছিল। কিন্তু কল দিয়ে ফোন অন পাবে সেটা একদমই আশা করেনি। তবুও নিজেকে সামলিয়ে গম্ভীরমুখে কথা বলেছে আরশির সাথে।

চলবে…..