#চায়ের_কাপেই_জমুক_প্রেম (পর্ব ১৫)
সায়লা সুলতানা লাকী
সেদিন ইজ্জত বাঁচাতে ফয়সালের জন্য অর্নিদের কেনা নতুন পাঞ্জাবি পরে বাসায় ফিরতে হয়েছিল মৃদুলকে। ছোট বাচ্চাটার উপর রাগ করতে পারেনি । বাচ্চা তো আর ইচ্ছে করে প্রসাব করেনি। তাই এটাকে এক্সিডেন্ট ভেবেই পরিস্থিতিটা মানিয়ে নিয়ে ছিল।
রাতে বাসায় এসে ওর আম্মুকেও সুন্দর মতো বুঝিয়ে বলেছিল উর্মি আর ফয়সালের বিয়ের ব্যাপারটা সম্পর্কে। ফয়সাল ওর পূর্বপরিচিত সিনিয়র ভাই যার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ওর, শুধু এটুকুই মিথ্যা বলেছে ও ওর আম্মুকে। বাকিটা সত্য বললেও উর্মির বিষয়টা পুরোপুরি চেপে গিয়েছিল। বলেছিল ফয়সালের রিকোয়েস্টেই ও এই বিয়ের মধ্যস্ততা করেছে।
ওর মা নানান প্রশ্ন তুললেও ও তেমন কোনো উত্তর দেয়নি। অর্নির আম্মু আসবে দাওয়াত দিতে তা জানিয়েই বিষয়টা ক্ষান্ত দিয়েছিল।
এদিকে মৃদুলের ভাবি এই বিষয়টা এখানেই ক্ষান্ত দিতে পারেনি। সে ঘ্যান ঘ্যান লাগিয়েই রাখল শাশুড়ির সাথে মৃদুল কেন নিজের বিয়ের চিন্তা বাদ দিয়ে অন্যের বিয়ে নিয়ে এত মাতামাতি করছে।এটা মোটেও তার কাছে সুবিধাজনক লাগছে না।
মৃদুল জানে ওর ভাবির এত মনোকষ্ট কেন? ওর ভাবি আসলে বাসায় তার একজন সঙ্গী চায়। মৃদুলের বিয়ে হলে ওরা দুই জায়ে মিলে সময়টা ভালোই কাটাবে, এই আশায় সর্বক্ষণ প্রহর গুনে কবে কখন মৃদুল বিয়েটা করবে।
ফয়সালের অনুরোধে মৃদুল অফিসে ছুটি চেয়েছিল কিন্তু পায়নি। নিজের বিয়ে হলে ভিন্ন কথা কিন্তু অন্যের বিয়ের জন্য প্রাইভেট কোম্পানিগুলো ছুটি দিবে তা প্রায় অবিশ্বাস্য।
তারপরও অফিস শেষে মাঝে মধ্যেই ফয়সালের সাথে বেরোই বিয়ের নানান কাজের জন্য। মৃদুলকে অবাক করে দিয়ে ফয়সাল ওর নানা বাড়ি ও দাদাবাড়িতেও যোগাযোগ করেছে যাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিজের পুরো পরিবার সহ উপস্থিত হতে পারে।
এদিকে ফয়সালের বোনটা খুবই নাজুক স্বভাবের। কেবল মাত্র ওদের মায়ের উপরই ভরসা করা যায় বিয়ের দায়িত্ব সামলাতে । তিনি সব ভুলে শুধু অর্নিকে নিয়েই ছেলের বিয়ের জন্য শপিং করে সময় কাটাচ্ছেন। এরই মধ্যে একদিন যমুনা ফিউচার পার্কের গিয়েছেন দুই পরিবার একসাথে তখনই শেরওয়ানির মাপঝোঁকের জন্য ফয়সালকে ডাকা হল। সেই সময়তে ফয়সাল আর মৃদুল ছিল বৌভাতের আয়োজনের জন্য কনভেনশন হল বুকিং এর কাজে বসুন্ধরাতেই। ব্যাটে বলে মিলে যাওয়ায় ফয়সাল জোর করেই মৃদুলকে সাথে নিয়ে এল শপিংমলে।
লিফট থেকে নামতেই সামনের ফুড কোর্টে উর্মিকে দেখেই মৃদুলের মন ভালো হয়ে গেল। ওর আন্দাজ ছিলো না যে ওর সাথে দেখা হবে। যদিও মনটা খুব করে চাচ্ছিলো গত দুদিন ধরে উর্মিকে একটি বারের জন্য হলেও দেখতে। এ এক অন্য রকম তৃষ্ণা যা আগে কখনো অনুভব করেনি।
উর্মির পাশেই বসে ছিল মিথিলা, ওদের দুজনকে দেখে ও-ই প্রথম হাত নেড়ে ডেকে উঠল।
সামনে আসতেই উর্মি উঠে গেল ওর মায়ের কাছে, জানাতে যে মৃদুলও এসেছে সাথে। ওর আম্মু মৃদুলকে কিছু গিফট করতে চাচ্ছিলেন কিন্তু ও কী মনে করে তা ভেবে সিদ্ধান্ততে স্থির রাখতে পারেননি।
উর্মি চলে যাওয়ার সময় মৃদুলের সাথে আই কন্ট্রাক্ট হতেই ও মুখ বাঁকিয়ে সামনে এগোলো যা দেখে মৃদুল আনমনেই হেসে উঠল।
মিথিলা বসতে ইশারা করতেই মৃদুল একটা চেয়ার টেনে বসল
— স্যরি ভাইয়া সেদিন আমার বেবি নাকি…
—- হা হা হা, এর জন্য আপনি স্যরি বলছেন কেন? বেবি কী জানতো ও কারো কোলে আছে এখন..
— কিন্তু আমি তো জানি ও কী করবে, তাইতো উর্মিকে বলেছিলাম ডায়পার না খুলতে।
— মানে?
— মানে হল এটা ওর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে ডায়পার খোলার পরপরই ইউরিন পাস করা। বেবি টেককেয়ার করা খুব টাফ বুঝলেন ভাইয়া!
— হুমম, শুধু বেবি না বড়দের টেককেয়ার করাও খুব কঠিন। বলে মুখটা একটু বাকালো উর্মির দিকে তাকিয়ে। আর মনে মনে বলল
(তার মানে তুমি জেনে শুনে সেদিন ওই সিচুয়েশনে ফেলেছিলে। এত্ত পাজি তুমি? দাঁড়া…)
— ভাইয়া আম্মুর খুব ইচ্ছে আপনি আমাদের সাথে একদিন খান। আম্মু নিজে রান্না করবে আপনার জন্য।
— জি, আসলে আমি সময় ম্যানেজ করতে পারছি না। ফয়সাল ভাই বলেছিলেন কিন্তু…
— ভাইয়া এই পৃথিবীতে আপনি আমাদের…
— আপু প্লিজ এসব কথা আর তুলবেন না। ভুলেও পেছনের কথা মনে করবেন না। দেখেন এই মুহুর্তে যে কেউ আপনাদের দেখলে জানবেই না পেছনে আপনাদের কোনো সমস্যা ছিল। অযথা পেছন মনে করে আন্টির, আর আপনার বর্তমান সময়কে অপচয় করবেন না।
— আপনি আসলেই একজন অন্য রকম মামুষ।
— হুমম আপু একদম ঠিক বলেছেন তিনি একেবারেই একজন ভীন গ্রহের মানুষ।
পেছন থেকে এসে উর্মি কথাটা খোঁচা দিয়ে বলে পাশে দাঁড়ালো।
মৃদুল মুখ তুলে ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে আন্দাজ করতে চাইল এই মুহুর্তে ওর মনে কী চলছে।
এরই মধ্যে সবার ডাক পড়তেই একসাথে সব এগিয়ে গেল দলের কাছে।
সবাইকে দেখা গেলেও, ওখানে মিলল না অর্নি আর ফয়সাল। ওদের খোঁজ করতেই উর্মি জানালো ওরা লেহেঙ্গা পছন্দ করতে গিয়েছে। অর্নির আম্মু খুব লজ্জা পেলেন এই কথা শুনে। বাসা থেকে পইপই করে বুঝিয়ে এনেছে যেন আগেভাগেই নিজে কোনো কিছু পছন্দ না করে। অন্তত একবার শাশুড়ি ননদের পছন্দটা দেখে। কিন্তু মেয়ে সেই কথা বেমালুম ভুলে গেল। বাসাতেই তর্ক জুড়ে দিয়েছিল মায়ের সাথে ও ওর মায়ের মতো জীবন চায় না বলে। ছোট থেকেই দেখে এসেছে সংসারে ওর আম্মুর কোনো পছন্দ নেই। সব দাদি ও আব্বু চাচ্চুরা ঠিক করেন। ও ওর জীবনটাকে নিজের মতো করে ভোগ করতে চায়।
মায়ের মলিন মুখটা দেখে উর্মি বুঝেগেল তার কারণ। আর তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বলে উঠল
— যাক বাবা, তারা তো বেশ স্মার্ট। আমাদের কিনে দিতে হবে বলে নিজেরাই একা একা চলে গেল৷ বুঝলেন কিছু মিথিলা আপু? এসব করেও লাভ নেই, এত সহজেই আমরা ছাড়ছি না।
বলে হিহিহি করে হেসে উঠল।
— বেশ করেছে ওরা দুজন গিয়ে। বিয়ের দিন একটা স্মরণীয় দিন। ওদিন ওরা কী পরবে তা ওরাই পছন্দ করুক এতে ওদের দুজনেরই মন ভালো থাকবে।
ফয়সালের আম্মু বেশ খুশি হয়েই কথাগুলো বললেন।
এতে কিছুটা বোঝা কমল অর্নির মায়ের মন থেকে।
এরপর একটা শাড়ির দোকানে ঢুকে তারা শাড়ি দেখতে ব্যস্ত হলেন আর তখনই মৃদুলের মোবাইল বেজে উঠল।
উর্মির ধ্যান না চাইতেও ওইদিকেই গেল। কি কথা হল তা শত চেষ্টাতেও শুনতে পেল না। তাই মৃদুলের দিকেই আড় চোখে তাকিয়ে থাকল ওর হাবভাব বোঝার জন্য। মৃদুল মোবাইলটা নামিয়ে ওর দিকে তাকাতেই চোখাচোখি হয়ে গেল।
মৃদুল চোখ নামিয়ে জানালো যে ফয়সাল মিথিলা ও উর্মিকে নিয়ে উপরের ফ্লোরে যেতে বলেছে।
মিথিলা ইচ্ছে করেই গেল না, ও শাড়ি কিনবে কয়েকটা তাই ও ওর মায়ের কাছেই থাকল। পরে উর্মি গেল মৃদুলের সাথে। এস্কেলেটরে দাঁড়িয়ে মিনমিন করে বলল
— আমাকে সেদিন ইচ্ছে করে ওই রকম সিচুয়েশনে ফেলার কারণ জানতে পারি? এখন তো আর কোনো লেনদেন নেই। অযথা ঝামেলা বাড়ানোর কী দরকার ছিল?
— কেউ বললেই লেনদেন শেষ হয় না। আমি উর্মি কারো ভাবে অভ্যস্ত না। কেউ যখন ভাব ধরে তারে আমি কী তা চিনিয়ে দিতে একটুও ছাড় দেই না।
— ওরে বাপরে! কী হুমকি! ভয় পেয়েছি।
শেষ কথাটা বেশ ঢং করেই ব্যাঙ্গাত্মক ভাবে বলল মৃদুল। আর তাতে উর্মির মেজাজ আরও গরম হয়ে উঠল। রীতিমতো অপমান বোধ করল। রাগে নাক ফুলে উঠল চোখও ছোট হয়ে এল।
মৃদুল এবার ওর দিকে তাকিয়ে কেমন এক হাসি যেন হাসল যা দেখে উর্মি দাঁতে দাঁত চেপে বিরবির করে বলল
— আমার উপর মজা নাও, আবার বিটলা হাসি হাসো? তোমার একদিন কী আমারও একদিন, সুযোগটা পাই আগে…
মৃদুল এবার আর ওর দিকে একবারও তাকালো না। সোজা গন্তব্যে গিয়ে ঢুকল। ওদেরকে দেখেই অর্নি চিৎকার করে বলে উঠল
— এই তুই কী এবারও সাদা পরবি? যেভাবে সাদার প্রেমে পড়েছিস দেখে তো মনে হচ্ছে ইহজনমে আর এই সাদা থেকে টেনে তুলতে পারব না।
অর্নির কথা শুনে মৃদুল খেক করে হেসো উঠল। আর তাতে আগুনে ঘি ঢালার মতো অপরাধ হয়ে গেল যেন ওর।
— এই আপনি এমন ফাজিলের মতো হাসলেন কেন? আপনার সমস্যা কী? আর আপু, তোমারই বা সমস্যা কী? আমি কী পরব তা…
— আরে ধুর… তোরে দেওয়ার মতো অত সময় নাই আমার। আমার বিয়ে, আমি আমারটা পছন্দ করেই তাল মিলাতে পারছি না, তার উপর তোর ঝামেলা কে নিবে? এখানে একটা সাদা লেহেঙ্গা পেলাম তাই তোকে ডেকে পাঠালাম। তুই সাদা পরবি বলে আম মৌমি, তন্বি আর নিশিকেও সাদা পরতে বলেছি। ওয়াও কী দারুন লাগবে আমার চারপাশে সাদা আর আমি মাঝখানে লাল টুকটুকে এক বৌ। ভাবতেই আনন্দ লাগছে। বলেই চোখ বন্ধ করে কল্পনায় ভাসছে তেমনটাই অভিনয় করল।
উর্মির ধমক খেয়ে যে মৃদুল দমে যাবে না তা তো আর উর্মি বোঝেনি। ওর ধারনা এই মুহুর্তে মৃদুল আর ওর সাথে উল্টাপাল্টা কিছু করবে না বরং এখন অর্নিকেই সামলানোর জন্য পুরো ধ্যান দিতে হবে। তাই মাথা কিছুটা স্থির করে বলল
— ইয়া খোদা, এটা তুমি কী করছো? ওরা সাদা পরবে মানে? সাদা কী সবার উপর যায়? ওদের একেকজনকে তো ভূত মানে অদ্ভূত লাগবে সেদিন। আর আমিও তো সাদা পরব না ।
— যাক কেউ একজন বুঝেছে সাদা সবার উপর যায় না। গায়ে সাদা চাপালেই হয় না। উফফ এই যাত্রায় তবে সাদা বেঁচে গেল। এই কয়দিন সাদার অপমৃত্যু দেখেছি আর সয়েছি।
মৃদুলও এবার দাঁতে দাঁত চেপে মিনমিন করে বলে হাফ ছেড়ে বাঁচল তেমনটাই অভিনয় করল ।
— মানে? কী বলতে চান আপনি? আমি সাদা পরাতে সাদার অপমৃত্যু হয়েছে? আপনি কী চোখের মাথা খেয়ে ফেলেছেন? সৌন্দর্যের বোঝেন কিছু?
— শান্ত হও শ্যালিকা, শান্ত হও। তাহলে কী আরেকবার সাদা নিয়ে দেখিয়ে দিতে চাও সাদা তোমার উপর মানায় কী না?
— অসম্ভব, আর না। আমার বয়েই গেছে কাউকে প্রমান দেওয়ার জন্য। আমি সাদা আর জীবনেও পরব না। এই দেখি আমাকে ডিপ কোনো কালার দেখান। আমি এবার ভিন্ন কিছু পরব।
উর্মি এবার সেলসম্যানের সাথে আলাদা করে কথা বলতে শুরু করল একটু সরে গিয়ে। আর ও সরতেই মৃদুল আবার খেক করে হেসে উঠল।
— এই আপনার এত হাসি আসছে কেন? আমার বোনকে রাগিয়ে খুব মজা পাচ্ছেন তাই না? আমি কিন্তু একটুও সহ্য করব না এসব।
— আহ অর্নি তুমি আবার ওদের মাঝে পড়তে যাচ্ছো কেন? ওদেরটা ওদেরকেই দেখতে দাও। দেখো এবার উর্মি কী করে।
— আপু সেদিন আমার ওই অড সিচুয়েশনটা এক্সিডেন্ট ছিল না। আপনার বোন জেনে বুঝে আমাকে লজ্জায় ফেলতে বেবিটার ডায়পার খুলে আমার কোলে বসিয়ে ছিল।
— হুমম, আমি জানি তো, আমরা এতজন ওখানে বসা, সেখানে সব বাদ দিয়ে আপনার কোলে বসিয়েছে, কারণ তো কিছু একটা নিশ্চয়ই ছিল। আপনি তো আর দুধে ধুয়া তুলশী পাতা নন। উর্মিকে প্রচন্ড জ্বালান….
— হা হা হা, ভাই সাবধান তারা দুজনই…
— তুমি আমাকে সাবধান বলছো? তোমার সবে শুরু আর আমার হল সারা…
কথাটা শেষ হতেই ওরা দুজন একসাথে হা হা হা করে হেসে উঠল।
দুপাশ থেকে ওরা দুই বোন অবাক হয়ে তাকালো ওদের হাসির শব্দে।
আজ মৃদুল অফিসে বসেই জানতে পারল অর্নির আম্মু আর ওর দাদি গিয়েছিল ওদের বাসায়। দুজনেই সেদিনকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে এসেছেন মৃদুলের পরিবারের কাছে। সাথে অর্নির হলুদ ও বিয়ের দাওয়াত দিয়ে এসেছে। তাদের রিকোয়েস্ট ফেলতে পারেননি মৃদুলের মা বাবা। তারা কথাও দিয়েছেন হলুদ ও বিয়েতে যাবেন বলে।
মৃদুলের আম্মু আব্বু বিষয়টা সহজভাবেই নিয়েছেন দেখে বেশ স্বস্তি পেল। তারা মেনে নিলে আর ওর ভাবির ঘ্যানঘ্যান প্যানপ্যান কারো কাছে পাত্তা পাবে না।
কাজে মন ডুবাতেই টের পেল সামনে কেউ দাঁড়িয়ে। মাথা তুলে তাকাতেই দেখল উর্মি হাতে কিছু প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অফিসে এভাবে ও আসবে তা ওর ধারনায় ছিলো না। তাই একবার দেখে বিশ্বাস করতে পারেনি। প্রথম দেখায় ওর ভ্রম ভেবে চোখ নামিয়ে রেখেছিল। এরপর উর্মির খুকখুক আর্টিফিশিয়াল কাশির শব্দে দ্বিতীয়বার মুখ তুলে তাকালো। আর তখনই উর্মি বলল
— সবার সামনে শান্ত শিষ্ট লেজ বিশিষ্ট ভদ্রলোক আর আমার বেলায় সাধারণ সৌজন্যবোধ টুকুও উধাও। কী আজব পাবলিক এই বান্দা!
— স্যরি, আপনি? আসলে আপনি এখানে আসবেন তা ভাবতে পারিনি। তাই…
— দেখেও, ভাবতে পারছেন না? আজাইরা ঢং করবেন না প্লিজ। আপনাকে আমি চিনি…
— আমি চিনি না।
— লেইম
— বসেন, তা কী মনে করে।
— আপনার টিশার্ট দিতে এসেছি। সেদিন যে ফেলে এসেছিলেন… মনে আছে তো!
— মনে থাকবে না আবার?
— রাখেন আপনার জিনিস, এটা দেখবেন আর আমার সাথে ভাব নেওয়ার আগে দশবার ভাববেন।
কথাটা শেষ করে উর্মি আর দাঁড়ালো না সোজা বেরিয়ে এল অফিস থেকে।
মৃদুলও আর উঠলো না। চুপচাপ ওর চলে যাওয়া দেখল। ওর ঠোঁটের হাসিটুকুই বলে দিল ও খুব মজা পেয়েছে উর্মির কথায়।
চলবে