#শেহরোজ — ২
#ইসরাত_জাহান_দ্যুতি
***
“ওমা! এই দৈত্যটা কে?”
বিড়বিড়ানোর পর শাজ সগর্বে দাঁড়ানো সামনের ঢেঙা ব্যক্তিটিকে আগাপাছতলা দেখতে থাকল। ফুল চেক ট্রাওজারের ওপর নীল তোয়ালে জড়ানো উজ্জ্বল বর্ণ গায়ে। পেশীবহুল বলিষ্ঠ হাতের জন্যই বোঝা যাচ্ছে শরীরটা ইস্পাত-দৃঢ়। লোকটির মুখভর্তি কালো বাদামী রঙা দাড়ি আর নাকের নিচে গজানো গোঁফের কারণে যেন পাতলা ঠোঁটজোড়া একেবারেই গায়েব। দাড়ি-গোঁফের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মনে হয় বাদামী চুলগুলোকেও বড়ো করেছে ব্যাটা৷ সেজন্য কপালের এক পাশে ঝুলে পড়া চুলের অস্তিত্ব আর পেছনে ঘাড়ের ওপর ছোটোখাটো একটা ঝুঁটির অস্তিত্বও দেখা যাচ্ছে। ত্রিভুজ আকৃতির মুখ, সরু নাক, বড়ো কপাল, কুচকুচে কালো মনির ভাসা-ভাসা চোখ। সে চোখের চাহনি কেমন পাথর আবার শান্তও — মাথা চক্কর দিয়ে উঠতে চাইলো শাজের। এত দারুণ দৈত্য সে তুর্কি সিনেমা, হলিউড সিনেমায় দেখে। বাংলাদেশের পথে-ঘাটে তো চোখে পড়েনি আগে! তাহলে ঝুমা আন্টির বাসায় কী করে এলো এ? না-কি সে ভুল করে ভুল ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েছে? নখ কামড়াতে কামড়াতে ঘরের ভেতর চোখ বুলাল শাজ জলদি। না না, কোনো ভুল করেনি। ওইতো, উত্তরের দেওয়ালে টাঙানো ঝুমা আন্টির ছেলে-মেয়েদের বাচ্চাকালের ন্যাংটো ছবি দেখা যাচ্ছে। ঝুঁটিওয়ালার দিকে চোখ ফেরাল এবার। “আপনি কে?” জিজ্ঞেস করল তাকে।
“আপনি যদি ভুলবশত এসে না থাকেন’, শাজকে পর্যবেক্ষণ করতে করতে জানাল অপরিচিত ব্যক্তি, “তাহলে আমি আপনার ডার্লিংয়ের বাসার গেস্ট। পিয়ালের বন্ধু।”
“ইম্পসিবল!” নিমেষেই ছোটোখাটো চিৎকারে অস্বীকৃতি জানিয়ে বসল শাজ। তারপর নিজেরই অসংযত আচরণে থতমত খেয়ে দ্রুত শুধরালো, “মানে পিয়াল ব্রো-এর তো পোস্ট গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট হয়নি এখনো।”
“ইয়া, নো ডাউট৷ আমিও বোধ হয় বলিনি কমপ্লিট হয়ে গেছে?”
“না, বলেননি”, অপ্রতিভ হাসল শাজ।
“দেন হোয়াই ইজ দ্য ম্যাটার মেনশনড?”
“হোয়াই?” চিন্তিত হয়ে যেন নিজেকেই প্রশ্ন করল শাজ। কীভাবে বলবে সে, লোকটাকে দেখতে লাগছে পিয়াল ভাইয়ের থেকে বড়োসড়ো কেউ? অবশ্য বয়সের তুলনায় মাস্টার্সের অনেক ছাত্রকেই বেশি বড়ো দেখা যায়৷ তবে এই কথা তো আর উল্লেখ যায় না। তাই বলল, “পিয়াল ভাইয়ের সব ফ্রেন্ডকে চিনি তো। আপনাকে আগে কখনো দেখিনি। তাই আরকি…” এই অবধিই থামল সে৷ তারপর মিনিটখানিক চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল এ আশায় — জবাবে তাকে কিছু বলবে লোকটা। কিন্তু বলল না। তাই নিজেই জিজ্ঞেস করল, “কবে থেকে থাকছেন?”
“এক মাস।”
“ও আচ্ছা। আমি ছিলাম না এক মাসের মতো। তাই দেখতে পাইনি আপনাকে।”
পাথর চোখের চাউনি একটু বদলালো যেন লোকটার! বিরক্ত হচ্ছে না-কি? একবার খোলা দরজার দিকেও তাকাল হঠাৎ। কেন? ওকে বিদায় হওয়ার ইঙ্গিত করছে বলে মনে হচ্ছে।
অথচ শাজ ওর কৌতূহলী আর উত্তেজিত মনটাকে ঠান্ডা না করে এত তাড়াতাড়ি বিদায় নিতে চাচ্ছে না৷ পরিচয়টা ভালোভাবে জানার জন্য আরও কিছুক্ষণ থাকা প্রয়োজন। তাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা ঝুঁটিয়ালকে জিজ্ঞেস করল, “আপনার নাম কী? পিয়াল ভাইয়ার সঙ্গেই পড়ছেন?”
“শেহরোজ আহমাদ। হ্যাঁ, পিয়ালের সঙ্গেই পড়ছি।” কাটাকাটা জবাব দিলো সে। শাজের তা খেয়াল হলো না। ‘শেহরোজ’ নামটা একাধিকবার মনে মনে উচ্চারণ করল৷ নামটি এত অন্যরকম সুন্দর কেন? তা ভাবতে ভাবতে নামটির সাথে উচ্চারণ করল নিজের নামটিও, “শাজ… শেহরোজ। শেহরোজ… শাজ।” ঠোঁটের কোনায় মুচকি হাসি ফুটে উঠতে গেলে জলদি সামলাল। জিজ্ঞেস করল তারপর, “একই ভার্সিটিতেই?”
জবাব দিলো না শেহরোজ। পাথুরে চাহনির চোখদুটোই শুধু নীরবে চেয়ে থাকল ওর দিকে। সে দৃষ্টি দেখে শাজ বুঝল, সে কী একটা বোকার মতো প্রশ্ন করে বসেছে! এক সঙ্গেই পড়ছে বলল যেহেতু। আবার পিয়াল ভাইয়ের বাসাতেও থাকছে। তার মানে তো একই ভার্সিটিতেই পড়ছে মানুষটি৷ আর পিয়াল ভাইয়ের ভার্সিটি মানেই ওর ভার্সিটি। চাপা আনন্দে এবার মুচকি হাসিটা দেখা দিয়েই ফেলল ঠোঁটে। তা বোঝামাত্র আবারও নিজেকে সামলে নিলো দ্রুত। এবার জিজ্ঞেস করল, “আন্টিকে দেখছি না যে?”
“ডায়বেটিস বেড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পিয়াল ডক্টরের কাছে নিয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে।” চটপট নীরস গলায় জানিয়ে দিলো শাজকে।
“ইস!” আফসোসের সঙ্গে বলতে থাকল শাজ, “খাওয়াদাওয়াতে একদমই রুটিন মেইনটেইন… ”
কিন্তু কথাটা শেষ করতে দিলো না শেহরোজ। জিজ্ঞেস করে বসল মুহূর্তেই, “আপনার কিছু চাই?”
“হ্যাঁ…!” মৃদু চমকে গিয়ে বিব্রত হলো শাজ৷ কথার মাঝে এমন প্রশ্ন করে বসতে পারে, তা ভাবেইনি৷ ওর ‘হ্যাঁ’ শুনে আবার লোকটি ভুল অর্থ তৈরি করে জিজ্ঞেস করল, “কী চাই বলুন?”
কী চাই শাজের, তা তো শাজ এত জলদি বলতে পারবে না। কিন্তু কিছু তো চাওয়ার কথা বলতে হবে। ভাবতে ভাবতেই ফট করে মুখ থেকে বেরিয়ে পড়ল, “নাশতা চাই।”
“নেই।”
“নেই?” যেন না থাকাটা খু্ব বিস্ময়কর লাগল শাজের কাছে।
“না”, প্রতিবারই ক্ষিপ্রতার সঙ্গে জবাব দিচ্ছে লোকটি। “খেয়ে নিয়েছি আমি।” কথাটা বলেই চোরাচোখে ডাইনিং কর্নারে তাকাল সে। শাজের চোখে তা ঠিক ধরা পড়ে গেল। তার দৃষ্টি অনুসরণ করে দেখল, টেবিলে খাবারের পাত্রগুলো ঢাকুনিতে ঢাকা। ওতে নাশতা তৈরি করা আছে বলেই তো ঢেকে রাখা৷ অথচ মিথ্যা বলল ওকে!
“স্যরি, আপনি কি পিয়ালের এখানে খাওয়া-দাওয়া করতেন?”
“ইয়েস”, রুক্ষতার সঙ্গে এবং অধিকারের সঙ্গে বলল শাজ, “এখানেই ব্রেকফাস্ট করি। মাঝেসাঝে ডিনারও।”
“ওহ। কিন্তু, আন্টি এমন কিছু বলে যাননি আমাকে৷”
“কারণ, আন্টি জানে না আমি ফিরেছি৷”
“ও.কে”, মৃদুভাবে একবার ঘাড় নাড়াল শেহরোজ। “আমি জানিয়ে দেবো আপনি ফিরেছেন। আশা করছি কাল থেকে ব্রেকফাস্ট পাবেন।” বলে দেওয়াল ঘড়িতে দৃষ্টি ছুঁড়ে আবার চকিতে শাজের দিকে চোখ ফেরাল৷ তখন মনে হলো শাজের, ওকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে আবারও।
হ্যাঁ, এবার চলেই যাবে সে। আলাপসালাপ গোল্লায় যাক। খেতে দেবে না বলে মিথ্যা বলল ওকে! আদব ছাড়া ব্যাটা! আবার বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বারবার ইশারা ইঙ্গিতও দিচ্ছে। কেন ও কি দেখতে একেবারেই মন্দ? না-কি একটু স্বাস্থ্যবান বলে ভালো লাগেনি? না-কি একটু যেচে আলাপ করতে চেয়েছে বলে সস্তা ভেবে নিয়েছে? ঠিক! এটাই ভেবেছে।
কোনো বিদায় সম্ভাষণ ছাড়াই হনহনিয়ে বেরিয়ে এলো সে ঘর থেকে৷ দরজার এপাশে পা দেওয়া মাত্রই লোকটিও কোনো কথাবার্তা ছাড়া দরজাটা বন্ধ করে দিলো৷ চূড়ান্ত লৌকিকতাবর্জিত আচরণ। অপমানে চোয়াল ঝুলে পড়ল শাজের৷ যেচে পড়ে আলাপ করতে যাওয়ার ফলাফল। বিমূঢ়তা কাটিয়েই রেগেমেগে বিড়বিড়িয়ে উঠল, “ঝুঁটিয়াল শালা, তুই আমার ব্যাকগ্রাউন্ড জানিস না বলেই পারলি আমাকে এত সস্তা ভাবতে! শালা, নেহাত ক্রাশ অ্যান্ড ফার্স্ট সাইট! নয়ত তোকে পাঁচটা মিনিট সময় ক্যান, পাঁচ সেকেন্ডও সময় দিতাম না।”
***
বেলা ১:০৭ ।
মাত্রাতিরিক্ত গরমে ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে প্রতিদিন। রাস্তায় পাঁচটা মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে গেলে রোদের তাপে যেন চাঁদি ফেটে যেতে চায়। তাই বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হলো না শাজের৷ জোরে জোরে পা চালিয়ে রাস্তার মোড়ে এসে সিএনজি-তে উঠল। অস্থির গলায় চালককে বলল, “কাকা, ঢাকা মেডিকেল জলদি।”
চালক একজন মুরুব্বি। পেছনে ফিরে ঘামে ভেজা শাজের মুখটা দেখে বুঝল, খুব চিন্তার মধ্যে আছে মেয়েটা। ভ্রু, কপাল কুঁচকে ফোনের কি-বোর্ডে পাগলের মতো আঙুল চালাচ্ছে। সিএনজি চালু করে জিজ্ঞেস করলেন ওকে, “আম্মা, আপনার কারুর কিছু অইছে?”
“হ্যাঁ, কাকা। আমার বান্ধবীর ক্রাইসিস অবস্থা নাকি।”
মুরুব্বি খুব আন্তরিক মানুষ। শাজের মুখে অতটুকু শুনেই আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন আর বললেন শাজকে, যেন চিন্তা না করে সে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে। খুব দ্রুতই টানতে থাকলেন সিএনজি৷ হাসপাতালের সামনে পৌঁছনোর পর শাজ তাড়াহুড়ো করে নামতে নামতেই জিজ্ঞেস করল, “ভাড়া কত, কাকা?”
চালক আশি টাকা বললে শাজ নিজের কাছে একশো টাকার ভাংতিও পেলো না। এদিকে বান্ধবীর অবস্থা শোচনীয়। ভাংতি করার সময় একদমই নেই৷ চালককে পাঁচশো টাকার নোট ধরিয়ে বিদায় দিতে গেলে চালক বললেন, “আমি খাঁড়াই থাহি আফনে না আসা পন্ত। সমেস্যা নাই।”
“আমি কখন বের হব তার ঠিক নেই, কাকা৷ আপনি এর ভেতর কত প্যাসেঞ্জার ওঠাতে পারবেন! আমার জন্য সারাদিনের ইনকাম লস দেওয়ার দরকার নেই৷ কোনোদিন সুযোগ হলে সেদিন শোধ করে দিয়েন না হয়।” বলে ছুটে হাসপাতালের ভেতর ঢুকে পড়ল শাজ। চালকের হতবাক চেহারা আর তারপর তার আবেগে কাতর চোখজোড়ার চাউনি দেখা হলো না ওর।
করিডর ধরে এগিয়ে এসে কাঙ্ক্ষিত ওয়ার্ডে ঢুকল শাজ। ভেতরে এসে বহু রোগীর মাঝে নিজের বন্ধুদের খুঁজে পেতে সমস্যা হলো না৷ মিতুর বেড পাঁচ নম্বরে। তার মাথার কাছেই অঙ্কন, সালমান, প্রিয়া, তানহা, চার বন্ধুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে৷ বড়ো বড়ো কদম ফেলে ওদের কাছে পৌঁছল সে৷ ঘুমন্ত মিতুর স্যালাইন চলছে৷ কপালের এক কোনে বড়ো এক ব্যান্ডেজ লাগানো তার, নিচের ঠোঁটটা ফোলা। এটুকু ক্ষতই চোখে পড়ল শাজের। গলা অবধি চাদর থাকায় শরীরের আর কোনো ক্ষত দেখা গেল না৷ অঙ্কন দেখতে পেতেই শাজ ওদেরকে ক্ষোভের সঙ্গে বলল, “গতকাল রাত থেকে ও ভর্তি। আমি আজকে তোদের কল না করলে জানাতিই না আমাকে।”
“তুই পা ভেঙে ঘরে পড়ে আছিস”, অঙ্কন না জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করল, “তোর এই অবস্থায় জানালে দেখা যেত ল্যাংড়াতে ল্যাংড়াতে চলে আসতি। তাই ভেবে কেউ জানাইনি। জানিয়েছিস না-কি যে পা ঠিক হয়ে গেছে?”
“আমার সারপ্রাইজ দেওয়ার স্বভাব তা জানিস।” তেতে উঠল শাজ, “আর না-ই বা জানাই তোদের। তাই বলে ওর এত খারাপ অবস্থার খবর দিবি না?”
“আচ্ছা, শাজ থাম”, তানহা বোঝালো, “এসব নিয়ে ঝগড়ার সময় না এখন। মিতুর অবস্থা আজকে দেখব। ভালো না হলে ওর বাড়িতে খবর দেবো ভাবছি।”
“ওর বাড়িতে জানাসনি এখনো?”
“না।” বলল সালমান, “ওর আব্বা বৃদ্ধ মানুষ। দোকানদারি করে। দোকান ফেলে এখানে আবার ছুটে আসবে, অসুস্থ হয়ে পড়বে। এসব ভেবে বলিনি। খরচাপাতি আমরা যতটুকু সম্ভব দিচ্ছিই তো।”
মিতুর শিথানের কাছে এসে দাঁড়াল শাজ। মাথায় হাত দিতে গিয়েও থেমে গেল। বাইরে থেকে এসেছে, ঘেমে-নেয়ে একাকার। তাই একটু দূরে এসেই দাঁড়াল৷ বান্ধবীর দিকে চেয়েই জিজ্ঞেস করল ওদের, “খুলে বল তো। হঠাৎ এত খেপল কেন ওর ওপর?”
“খেপা তো আগে থেকেই ছিল ওর ওপর।” বলতে থাকল প্রিয়া, “ওর রুমে যে দুইটা চোগলখোর আছে, ওই দুই চোগলখোর চুগলিগিরি করেছে ইরার সাঙ্গপাঙ্গর কাছে গত পরশুদিন। যে ও নাকি রুমের সবাইকে ঠিকমতো ঘুমাতে দেয় না, পড়তে দেয় না, বাথরুমের পানি অপচয় করে অজুর বাহানায়, সবাইকে নামাজ পড়ার জন্য কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করে রাত চারটায় ঘুম ভাঙায় দেয়। তারপর ওর পড়ার সাউন্ডে রুমের বাকিদের কানের তালা ফেটে যাওয়ার দশা হয়৷ এসব আর কতদিন সহ্য করবে ওরা! এই ইস্যু নিয়ে ওকে রাত এগারোটায় সাদিয়ার দল ডেকে পাঠায় ওদের রুমে। ও যাওয়া মাত্রই দরজা আটকিয়ে জেরা শুরু করে। ওদের দেওয়া দোষ ও অস্বীকার যদি করতে পারে — সাদিয়া, লাবণ্য আর মুন্নী মিলে এলোপাথাড়ি চড়, থাপ্পড়, লাথি শুরু করে দেয় সঙ্গে সঙ্গে৷ মার খেতে খেতেই ও ওদের পা ধরে মাফ চায়৷ এক পর্যায়ে সাদিয়া কন্ডিশন দেয় যে, ‘পানি যেহেতু অপচয় করিস। তোর পানিসমেন্ট হবে আজকে ভোর পর্যন্ত সবার ঘরে দুই বালতি করে পানি দিয়ে আসা।’ হলের পেছন দিকে যে ট্যাপ আছে, ওই ট্যাপ থেকে বালতিতে পানি নিয়ে চারতলায় উঠতে হবে ওকে। ও তখন আবারও মাফ চাইলে ওকে লাথিগুতা মেরে বের করে দেয় ঘর থেকে। সাথে যায় মুন্নী আর লাবণ্য৷ তারপর শুরু হয় ওর পানিসমেন্ট৷ টানা বিশবার ও বালতি ভর্তি পানি নিয়ে চারতলায় ওঠে। একুশবারের মাথায় সেন্সলেস হয়ে সিঁড়িতে পড়ে যায়। পড়ে গিয়ে এই যে কপাল ফেটে গেছে।”
“ভর্তি করেছিস কখন?” জিজ্ঞেস করে শাজ প্রিয়ার কাছে।
“রাত আড়াইটার দিকে খবর পাই আমি আর তানহা। ওর হলে আসার পর দেখি জ্ঞান ফেরাতে পারছে না কেউ৷ সেই সময়ই অঙ্কনদের ফোন করে মিতুকে চারজন ধরে বের হই হল থেকে। সালমান আর অঙ্কন এলে হসপিটাল নিয়ে আসি ওকে। এর মাঝে জ্ঞান ফিরেছে কয়েকবার৷ কিন্তু প্যানিক অ্যাটাক আসায় অবস্থা ক্রিটিক্যাল হয়ে যায়৷ ডাক্তার ঘুমের ওষুধ দেওয়ার পর থেকে এখন ঘুমাচ্ছে।”
মিতুর ফ্যাকাসে মুখটা দেখতে দেখতে শাজ আচমকা চোখ-মুখ খিঁচে অকথ্য গালি দিয়ে বসে অঙ্কন আর সালমানকে, “কীসের দল **স তোরা? তোদের ছাত্রশক্তির একেকটা **বাচ্চা নেতা-নেত্রীরা আসলে কুত্তার পেট থেকে পয়দা হয়েছে। ওদেরকে জন্ম দিয়েছে রাস্তার ওই নাপাক কুত্তাগুলো। আর তাদের দিনভরে ভজিস তোরা!”
“শাজ”, ধমকে উঠল সালমান। “সব সময় এক বালের কথা মারাবি না। পরিস্থিতি, পরিবেশ, সবই জানিস। ক্যাম্পাসের খবর তো জানিস না কী হচ্ছে! না জেনে গলাবাজি করবি না বলে দিলাম!”
***
চলবে।