#মেঘলা_আকাশে_রংধনু_হবো
#লেখনীতে_তাইয়েবা_বিনতে_কেয়া
#পর্ব_১৭
হিয়া নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নেয় দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ করে সে রেডি হয়ে নেয়। কি রেডি হবে তার হাত টা রীতিমতো কাঁপাকাপি করা শুরু করছে কি হবে মামির সামনে গেছে হয়তাে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাহির করে দিবে। আর হৃদানের যে রাগ ওর সাথে এমন করলে হয়তো পুরো গ্রামে আগুন লাগিয়ে দিবে কি হবে হিয়া শুধু সেটা ভাবতে থাকে।
হৃদান রেডি হয়ে যায় ওদের সাথে আরো কিছু গাড়ি থাকবে হৃদান বুঝতে পারে হিয়া ভয় পাচ্ছে। হৃদান গাড়িতে উঠে পড়ে হিয়া গুটিগুটি পায়ে এসে গাড়িতে উঠে বসে নিজেরে বুকের কাঁপন নিজের কানে শুনতে পারছে সে। হৃদান একটু আড়চোখে হিয়াকে দেখে আর বলে –
“- এতো ভয় পেতে হবে না আপনার আমি আছিতো আপনার সাথে কিছু হবে না “।
হিয়ার যতটা না ভয় নিজেকে নিয়ে তার চেয়ে বেশি ভয় হৃদানকে নিয়ে মামির যে রাগ আর হৃদানের তার চেয়ে বেশি রাগ। দুইজনে মুখোমুখি হলে হয়তো বিশ্বযুদ্ধ হয়ে যাবে হিয়া তখন কি করে সামলাবে সেটা হিয়া নিজে ও জানে না। হিয়া বলে –
“- আপনি আমার সাথে রয়েছেন সেটা জন্য আমার ভয় আপনি যে ঠান্ডা মাথার মানুষ। কিছু হলেতো রাগ করতে জানেন না তাই ভয় করছি “।
“- আপনার মনে হয় আমার মাথা গরম আমি সবসময় রাগ করে থাকি “।
“- আমার মনে হয় মানে আমি একশো ভাগ সিউর আর আপনার রাগের জন্য আমার সব সময় সমস্যায় পড়তে হয়। কে বলেছিলো বিয়ের দিন এভাবে কিডন্যাপ করতে হুম “।
“- কোনো ইচ্ছে ছিলো না আমার আপনাকে কিডন্যাপ করার শুধু দায়িত্ব নিতে চাই আপনার। আর হৃদান চৌধুরী সব পরিস্থিতি মাথা গরম করে না সে জানে কোন মানুষকে কি করে সামলে রাখতে হয় “।
“- হুম আপনি সব দায়িত্বর জন্য করেন আজকে দায়িত্বের জন্য একটা বিয়ে করছেন। কালকে দেখা যাবে চারটা বিয়ে করবেন কয়েকদিন চারটা বাচ্চাও নিয়ে নিবেন। এই পুরো পৃথিবীর সব দায়িত্ব আপনার ঘাড়ে আর দেশের সরকার শুধু বস থাকবে “।
হৃদান হিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখে মেয়েটা আগে কতো শান্ত ছিলো কিন্তু এখন কতো ত্যাড়া ত্যাড়া কথা শিখে গেছে। শুনেছি ভয় পেলে মানুষ কম কথা বলে কিন্তু এই মেয়ে ভয় পেলে আরো বেশি কথা বলে অদ্ভুত। হৃদান বলে –
“- হুম দায়িত্বের জন্য চারটা বিয়ে করতে পারি ইসলামে চারটা বিয়ে জায়েজ রয়েছে আর চারটা বাচ্চা হলে সমস্যা নাই। ওদের দায়িত্ব নেওয়ার মতো টাকা আমার কাছে আসে কিন্তু যদি একটা বউও আপনার মতো বাঁচাল আর ঝগড়াটে হয় তাহলে সয্য করতে পারব না “।
“- হুম তাহ পারবেন কোনো আমাকে আপনার ভালো না অন্য মেয়েদের ভালো লাগে সেটা বলেন। পুরুষ মানুষের চরিত্র কখনো ভালো হয় না সেটা জানি আমি “।
“- চরিত্র খারাপ হওয়ার মতো কি করেছি আমি আপনি আমার বউ কিন্তু আজ অবদি বজে কোনো মতলবে আপনার গায়ে হাত দিয়েছি। কখনো আপনাকে জড়িয়ে ধরেছি আমি “।
“- আপনাকে ধরতে মানা কে করেছে শুনি “।
“- কি বললেন “।
হিয়া চুপ হয়ে যায় আসলে ভয় পেলে ও একটু বেশি কথা বলে ফেলে এইটা ওর অভ্যাস আর খুব বাজে অভ্যাস। হিয়া নিজের মুখের আঙুল দেয় চুপ করে থাক হিয়া চুপ। কিন্তু গ্রামের দিকে যতো যাচ্ছে তার ভয় বাড়ছে মামির রাগী মুখ দেখে সব গুলিয়ে যাচ্ছে তার। হৃদান একটু হিয়াকে দেখে মানে হৃদান চৌধুরী ওয়াইফ এইরকম ভীতুর ডিম হতে পারে সেটা ওর জানা ছিলো না। হৃদান গাড়ি থামিয়ে দেয়।
হিয়া গাড়ি থেমে গেছে থেকে তাকিয়ে দেখে না এখনো গ্রামে এসে পৌঁছায় নাই তারা। তাহলে গাড়ি থামালো কোনো রাস্তা কি ভুলে গেছে ভুলে যেতে পারে সেই রাতের অন্ধকারে দেখছে হৃদান রাস্তাটা। হিয়া বলে –
“- আপনি এখানে গাড়ি থামালেন কোনো এখনো গ্রামে আসি নাই আমরা। আপনি কি “।
হিয়ার কথা বলা শেষ হওয়ার আগে হৃদান ওর ঠোঁট নিজের আঙ্গুল রাখে। হিয়া চুপ হয়ে যায় এরপর নিজের হাত দিয়ে হিয়ার মুখের উপর চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দিয়ে গালে দুইহাত রেখ৷ নিজের কাছে নিয়ে আসে। হিয়া হার্টবিট বেড়ে গেছে লোকটা কাছে এসেছে ওর অনেকবার কিন্তু কখনো এতো কাছে এভাবে টার্চ করে নাই। হিয়া হৃদানের মুখের গরম শ্বাস অনুভব করতে পারছে। হৃদান বলে –
“- কি হয়েছে ভয় করছে অনেক আপনার মামি কি করবে বা গ্রামের মানুষ কি ভাবে নিবে সেটা নিয়ে। কোনো এতো টেনশন করেন হিয়া হৃদান চৌধুরী সবসময় আপনার সাথে আছে। যদি কোনো বিপদ আসে তাহলে আগে হৃদানের সামনে আসবে তারপর হিযার কাছে আসবে। আমি থাকতে আপনার কোনো ভয় নাই “।
হিয়া দুইচোখে ভয়ের রেশ কেটে গিয়ে শুধু ভালোবাসা আর বিশ্বাস রয়েছে ইচ্ছা করছে হৃদান যোনো এইভাবে তাকে ছুঁয়ে থাকুন। তার গালের ভাঁজে আলতো করে নিজের হাত রাখুন ওর নিশ্বাসের মাঝে হিয়াকে মিশিয়ে রাখুক। হিয়া এই জীবনে কখনো এই বাধঁন থেকে মুক্তি পেতে চাইবে না সবসময় হৃদানের মাঝে বিলীন হয়ে থাকবে।
হিয়া গালে থাকা হৃদানের হাতে হাত রেখে নিজের মায়াবী চোখ দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দেয় সে তার আর কোনো ভয় নাই। হৃদানের মুখে একটা হাসি ফুটে উঠে হিয়ার বিশ্বাস দেখে বা ওর হাতে রাখা দেখে। এই মেয়েটার একটু ইশারা এক টুকরা হাসির রেশ যথেষ্ট হৃদানের সব হতাশা দূর করার জন্য। এই অদ্ভুত সোমমোহে দৃষ্টিতে হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসতে পারবে না।
হৃদান আবার একটু দূরে গিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয় কিন্তু ওর হাত হিয়া ছাড়ে না আর ছাড়বে না কখনো। হিয়া হৃদানের হাত নিজের কাছে নিয়ে গিয়ে শক্ত করে ধরে রাখে মনে হচ্ছে হৃদান এখুনি পালিয়ে যাবে। হৃদানের হাতের বাঁধনের মাঝে নিজের হাতকে আবদ্ধ করে রাখে তার ভয় ফানুসের মতো আকাশে উঠে চলে গেছে। হিয়া একটা লজ্জায় রাঙা নারীর মতো মধুর হাসি দেয় আর হৃদান গাড়ি চালাতে থাকে। একটু পর পর আড়চোখে নিজের হিয়াকে দেখে এক অদ্ভুত মায়াবী রূপসী ।
সময় দূরে গতিতে চলে যায় হৃদান আর হিয়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে যায় হিয়া হৃদানের হাত আরো শক্ত করে ধরে। হৃদান ওকে গাড়ি থেকে নামতে বলে পরে আবার হিয়া হাত ধরে ফেলে। হিয়া মামার বাড়ির সামনের গিয়ে ঢুক গিলে হৃদান ওকে ইশারা দেয় হিয়া বলে –
“- মামি মামি কোথায় তুমি মামা “।
হিয়ার মামি ঘরে একটা কাজ করছিলো হিয়া চলে যাওয়ার পর সব কাজ তাকে করতে হয়। হঠাৎ কারে ডাক শুনে বাহিরে এসে দেখে হিয়া ডাকছে ওকে দেখে মামির মাথা গরম হয়ে যায়। মামি এসে বলে –
“- কি রে তুই এখানে কোনো তোকে না বলেছি আর কখনো এই বাড়িতে আসবি না। কি হলো তোর নাগর কি তোকে আর রাখে নাই যা বাড়ি থেকে বের হয়ে যা “।
হিয়া কোনো কথা বলতে যাবে তখন পাশে থাকা হৃদান সামনে আসে ওর মামির কাছে যায়। হৃদান কি রাগ করবে না কি করবে সেটা ভেবে হিয়ার একটু ভয় করছে। কিন্তু একদম অন্যরকম কাহিনি করলো হৃদানে –
“- আসলে মামি আমি হিয়া স্বামী মানে আপনার ভাষায় যাকে বলে নাগর। হিয়াকে আমি ছেড়ে দেয় নাই শুধু আপনাদের সাথে দেখা করতে নিয়ে এসেছি এখানে “।
মামি হৃদানকে ভালো করে দেখে দেখে বুঝা যাচ্ছে এই ছেলে অনেক বড়লোক পিছনে তাকিয়ে দেখে অনেক গাড়ি রয়েছে। হিয়া এতো বড়োলোক কাউকে বিয়ে করতে পারে সেটা ও ভাবতে পারে নাই কিন্তু সত্যি এই ছেলে অনেক বড়োলোক। মামি বলে –
“- ওহ তাহ আমাদের দেখা হয়ে গেছে তাই না তাহলে এখন চলে যাও “।
হৃদান কোনো কথা না বলে পিছনে থাকা আর বর্ডিগাডদের ইশারা দেয় তারা একটা সুটকেস নিয়ে আসে। হৃদান হেঁসে বলে –
“- আসলে আমি চলে যেতাম কিন্তু শুনেছি মামার নাকি অসুস্থ তাই ওনাকে এই বেশি না লাখ তিনের মতো টাকা দিতে এসেছি। হিয়ার মামা মানে আমার মামা তাই না কিন্তু আপনি যখন বলছেন তখন চলে যায় “।
মামি টাকার কথা শুনে জিভে জল চলে আসে তিনলাখ টাকা দিবো। এই কথা শুনে মামির কথার সুর পাল্টে যায় মামি বলে –
“- আরে জামাই তুমি বাড়ি থেকে চলে যাবে মানে তুমি এই বাড়ির মেয়ের জামাই হিয়াতো আমার মেয়ের মতো। দেখেছো আমি ও কতো বোকা তোমাকে এখানে দাঁড় করিয়ে রেখে কথা বলছি আসো আসো ঘরে এসো “।
হিয়ার দুটি চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে থাকে মামির দিকে কি মিষ্টি কর কথা বলছে। কি করে ভয়েস মূহুর্তের মধ্যে পাল্টানো যায় সেটা মামিকে দেখে শিখা উচিত। হৃদান ওর কাছে যায় আর বলে –
“- কি বলেছিলাম না হৃদান চৌধুরী খুব ভালো করে জানে কাকে কি ভাবে সামলাতে হয়। এই পৃথিবীতে টাকা এমন একটা জিনিস যা দিয়ে সব কেনা যায় টাকা থাকলে পুরো পৃথিবী আপনার গোলাম আর না থাকলে আপনি পুরো পৃথিবীর গোলাম। তাই পড়াশোনা করেন আর খুব টাকা কামান “।
“- হুম ঠিক বললেন টাকা দিয়ে সব কিনতে পাওয়া যায় কিন্তু টাকা গোলামি করা শিখায়। আর ভালোবাসা মানুষের মনে নিজেকে রানী বানিয়ে রাখে এইটা দিয়ে আপনি পুরো পৃথিবীর মানুষের মন জিতে তাদের মনের উপর রাজত্ব করতে পারবেন “।
“- এইসব কথা কেউ বিশ্বাস করে না “।
“- একদিন বুঝতে পারবেন আমার কথা ঠিক না ভুল “।
হিয়া আর হৃদান ঘরে চলে যায় তার মামা আজকে অফিসে গেছে হৃদান রুমে যায় গ্রামের রুম তাই একটু নোংরা আর টিনের ঘর। হৃদানের এইরকম বাড়িতে থাকার অভ্যাস নাই এসি নাই খুব গরম করছে। কিন্তু কি করবে এখন যখন এসে পড়েছে তাহলে কি করার আর
#চলবে
#মেঘলা_আকাশে_রংধনু_হবো
#লেখনীতে_তাইয়েবা_বিনতে_কেয়া
#পর্ব_১৮ ( এক জোসনা রাতে তুমি আমি)
হৃদান অনেক সময় ধরে ড্রাইভ করে এসেছে তাই প্রচুর টার্য়াড লাগছে ওর এখন ফ্রেশ হওয়া দরকার। কিন্তু ওয়াশরুম কোথায় ও বাসায় সাধারণ ওয়াশরুম ঘরে থাকে কিন্তু এখানে দেখছে পারছে না। হৃদান হিয়াকে জিজ্ঞেস করে –
“- হিয়া আপনাদের এখানে রুমে ওয়াশরুম কোথায় দেখছে পারছি না তো “।
হিয়া বুঝতে পারে হৃদানের অসুবিধা হচ্ছে কোনো ওই শহর ছেড়ে গ্রামে আসতে গেলো। ওনার কি এইসব জিনিসে অভ্যাস রয়েছে হিয়া বলে –
“- আপনাদের শহরের মতো আমাদের গ্রামের বাড়িতে ওয়াশরুম থাকে না সেই দূরে রয়েছে ওয়াশরুম। সেখান থেকে গোসল করতে হবে আপনার “।
“- রিয়েলি সত্যি এতো দূরে ওয়াশরুম রয়েছে “।
“- হুম এতো দূরে সেখানে কল রয়েছে বালতিতে পানি রয়েছে সেটা দিয়ে মাথায় পানি দিতে হবে। আগে জানতাম আপনার এখানে থাকতে অসুবিধা হবে কোনো এতো জেদ করেন আপনি হুম। এখন এখানে কি করে থাকবেন কতো কষ্ট হবে আপনার “।
“- আমার কষ্ট হলে আপনার কি “।
“- আমার কি হবে কিছু না আপনি যান ওয়াশরুমে যান “।
হৃদান একটু হেঁসে ওয়াশরুমে চলে যায় হিয়া মনে মনে ভাবে আসলেই হৃদানের গ্রামে এসে কষ্ট হচ্ছে এতে ওর কি। হৃদান নিজে আসতে চেয়েছে এখানে এসেছে এখন বুঝতে পারবে কেমন মজা লাগে। কিন্তু লোকটা কি কল থেকে পানি ঠিক করে তুলতে পেরেছে।
হৃদান একটু কষ্ট করে হলেও গোসল করে আসে বিকালে গোসল করছে বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা লাগছে শরীর। ঘরে এসে চুল শুকানোর জন্য হেয়ার ড্রাইয়ার খুঁজে কিন্তু পায় না। হৃদান বলে –
“- হিয়া আপনাদের হেয়ার ড্রাইয়ার কোথায় চুল শুকাবো “।
হিয়া অবাক হয় এই গ্রামে আবার কেউ হেয়ার ড্রাইয়ার ব্যবহার করে নাকি এই নাম কেউ শুনে নাই। হিয়া গিয়ে বাহির থেকে একটা গামছা নিয়ে আসে আর বলে –
“- এই নেন গামছা এইটা দিয়ে সুন্দর করে মুছে নেন মাথা অবেলা গোসল করেছের জ্বর আসতে পারে “।
হৃদান দেখে গামছা যদি টাওয়াল হতো তাহলে ও মেনেজ করা যেতো কিন্তু কি আর করার। তবে ওর মাথা মুছা হচ্ছে না হিয়া সেটা দেখে এমনি বিকালে গোসল করেছে যদি চুলে পানি থাকে তাহলে রাতে জ্বর আসবে। হিয়া কাছে গিয়ে গামছা হাতে নেয় এরপর নিজে মাথা মুছতে থাকে আর বলে –
“- এইভাবে মাথা মুছতে হয় বুঝতে পারলেন আর আমি ফ্যান ছেড়ে দেয় আপনি একটু রেস্ট নেন “।
হৃদান কোনো কথা বলে না হিয়ার এই কেয়ার ওর কাছে খারাপ লাগছে না মায়ের চলে যাওয়ার পর এই প্রথম কেউ এতো যত্ন নেয় ওর। হৃদান শুধু তাকিয়ে থাকে হিয়ার দিকে। হিয়া নিজের কাজ করছে কিন্তু হৃদান বেশ লম্বা ওর মাথায় হাত দিয়ে মাথা মুছতে থাকা কঠিন হয়ে যায়। হিয়া একটু উঁচু হয়ে মাথা মুছতে যাবে তখন ও পড়ে যেতে গেলে হৃদান ধরে ফেলে।
হিয়া নিজেকে সামলে রাখতে পারে না কিন্তু হৃদান ওকে নিজের দুইহাত দিয়ে আলতো করে ধরে ফেলে। এক টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসে খুব কাছে হিয়া তাকিয়ে দেখে সামনে থাকা পুরুষের দিকে। মাথায় চুল বেয়ে পানি পড়ছে বর্ষণ শেষ হলে যেমন ঝিঝি রিঝি আকাশ থেকে থেকে বৃষ্টির পানি পড়তে থাকে। ঠিক তেমন ঝিরিঝিরি পানির অজস্র ফোঁটা রয়েছে হৃদানের মুখে।
হৃদান ওর সদ্য গোসল করা ঠান্ডা হাত দিয়ে হিয়াকে ধরে শরীরে যেনো একটা ঠান্ডা ও অদ্ভুত শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। হিয়ার এইরকম মায়া ভরা চাহনি দেখে হৃদানের ঘোর লেগে যায় হিয়াকে ভালো করে সামলে রেখে। নিজের হাত হিয়ার মুখে নিয়ে আসে সামনে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দেয়। হিয়া লজ্জায় মাথা নিচুঁ করে ফেলে হিয়া ওর গাল দুটো আলতো করে ধরে কপালে একটা কিস করতে যাবে তখন হিয়া চোখ বন্ধ করে ফেলে। হৃদানের ঠোঁট কপালে যাওয়ার আগে কেউ একজন দরজায় টোকা দেয়।
হিয়া চোখ খুলে ফেলে একটু আগে কি হয়ছিলো কথা মনে করে লজ্জা পায় হৃদান নিজেকে সামলে নেয়। বাহিরে থাকা মানুষ এবার ঘরে ঢুকে আসে সেটা আর কেউ না হিয়ার মামা। হিয়াকে দেখে তার চোখে জল চলে আসে কতোদিন পর দেখছে মেয়েটাকে। মামা এসে বলে –
“- হিয়া মা তুমি সত্যি বাড়িতে ফিরে আসলে “।
হিয়ার নিজের মামাকে দেখে এ অবস্থা চোখে পানি এসে গেছে। হিয়া দৌড়ে গিয়ে তার মামাকে জড়িয়ে ধরে বলে –
“- মামা তুমি কেমন আছো হুম। আর একদম শরীরের যত্ন নেও না তুমি হুম কতো শুকিয়ে গেছো তুমি দেখো “।
“- আমার হিয়াকে ছাড়া আমি কি করে ভালো থাকি হুম।
হিয়া আর তার মামার ভালোবাসা দূরে দাঁড়িয়ে দেখছে হৃদান। যখন হিয়াকে বিয়ে করেছিলো তখন মনে করছে শুধু টাকা দিয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ করে ফেলবে। কিন্তু তার ধারণা এখন সম্পূর্ণ ভুল সত্যি কারে দায়িত্ব নেওয়া মানে তার দায়িত্ব নেওয়া না। তাকে ভালো রাখা হাসিখুশি রাখা সে যেই জিনিস ভালোবাসে সেটা তাকে দেওয়া।
মামা হিয়ার চোখের পানি মুছিয়ে দেয় এরপর হৃদানকে দেখে সে বুঝতে পারে এই হলো হিয়ার হাজবেন। মামা হৃদানের কাছে যায় আর ওর হাত ধরে বলে –
“- তোমাকে অনেক ধন্যবাদ বাবা আমার হিয়াকে বিয়ে করার জন্য যানো অনেক টেনশনে থাকতাম আমি। যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলে হিয়াকে কে দেখে রাখবে কিন্তু তুমি আমাকে সেই টেনশন থেকে মুক্তি দিলে “।
“- আরে না না মামা ধন্যবাদ দেওয়ার কি আছে। আসলে হিয়া অনেক ভালো মেয়ে ওর জীবনে ভালো হবে। উপর ওয়ালা ওর জন্য সবসময় ভালো কিছু ঠিক করে রেখেছে “।
“- হুম আমি জানি আমার মেয়ে অনেক ভালো তাই তো তোমার মতো একজন ভালো মানুষের সাথে বিয়ে হয়েছে। তুমি ওকে কখনো কষ্ট দিও না বাবা সবসময় খুশি রেখো। আর জীবনের প্রতি মূহুর্তে ওর পাশে থেকো “।
হৃদান কি সত্যি এই কথাটা রাখতে পারবে হিযার পাশে মে সারাজীবন থাকতে পারবে না। সত্যি জানলে হিয়া নিজেই ওকে তার জীবন থেকে তাড়িয়ে দিবে তবুও যতদিন সম্ভব হিযার পাশে থাকবে সে। হৃদান বলে –
“- যতদিন হিয়ার চাইবে ততদিন পাশে থাকবে আমি ওর “।
হিয়া হৃদানের কথা শুনে লোকটা সত্যি খুব ভালো এই বাড়িতে আসার পর কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করে নাই। হিয়া হাসে মামা চলে যায় হিয়া ফ্যান চালিয়ে দেয় হৃদান একটু রেস্ট নেয়। হিয়া মামির সাথে রান্না ঘরে সাহায্য করতে থাকে গ্রামে মোবাইলের নেট খুব কম হৃদান একটু জাহিদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে কিন্তু সম্ভব না।
হিয়া এসে দেখে হৃদান উঠে পড়েছে সে বলে –
“- আপনি উঠে পড়েছেন মামি জিজ্ঞেস করছিলো আপনি রাতে কি খাবেন সেটা জানতে “।
“- না তেমন কিছু খাবো রাতে বেশি খায় না আমি “।
“- ওহ আচ্ছা তাহলে আমি যায় “।
“- আচ্ছা হিয়া আমার একটু জাহিদের সাথে কথা বলতে হবে কিন্তু নেটওয়ার্ক নাই। কথা বলা জরুরি “।
“- আসলে গ্রামে ঘরের ভিতরে নেট পাওয়া যায় না আপনাকে বাহিরে যেতে হবে “।
হিয়া হৃদানকে বাহিরে নিয়ে যায় আজ বাহিরে কি সুন্দর চাঁদ উঠেছে চাঁদের আলোয় পুরো উঠানে পড়ছে। হৃদান জাহিদের সাথে কথা বলতে থাকে হিয়া চাঁদ দেখে। সারা উঠন জুড়ো চাঁদের আলোর ঝিলিক দেখা যাচ্ছে হৃদান কথা বলা শেষ করে। হিয়াকে দেখে চাঁদ দেখছে হৃদান জিজ্ঞেস করে –
“- কি হলো কি দেখছেন এমন করে “।
“- চাঁদকে দেখছি কি সুন্দর তাই না শহরে হাজার হাজার ইট পাথরের ভিড়ে চাঁদকে দেখা যায় না। কিন্তু গ্রামে উন্মুক্ত আকাশে এক রাশ চাঁদের ঝিলিক কতো সুন্দর লাগে তাই না “।
হিয়া চাঁদ দেখছে কিন্তু হৃদান চাদেরঁ মিটিমিটি আলোতে হিয়াকে দেখতে থাকে কি সুন্দর রূপ তার। চাদেঁর আলো ফিকে যায় তখন তোমাকে খুব কাছে পেয়ে যায় হিয়া। হিয়া তাকিয়ে দেখে হৃদান ওকে দেখছে হিয়া জিজ্ঞেস করে –
“- চাঁদ না দেখে কি দেখছেন আমাকে “।
“- আমি আমার নিজস্ব চাঁদকে দেখছি এই চাঁদের বেশি রূপ লাবণ্য তার মধ্যে রয়েছে। তার মায়াবী মুখ চাঁদের সৌন্দর্যকে হার মানিয়ে দেয় “।
“- বাহ হঠাৎ করে এতো রোমান্টিক হয়ে গেলেন “।
“- হঠাৎ করে আপনি আসলেন যে আমার জীবনে তাই প্রেম নতুন করে উঁকি দিলো মনের বাগানে “।
#চলবে