#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১০
সন্ধ্যার নামার আগে থেকে ঝুম বৃষ্টি নেমেছিলো। একটু আগে বৃষ্টি ছাড়লো এখন বাজে রাত নয়টা।
বৃষ্টি পরে এবং আগে রাতের সৌন্দর্য অসাধারণ। বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ এবং আকাশের নীলচে ছায়া রাতকে এক নতুন রূপ দেয়। বৃষ্টির টপটপ শব্দে যেন এক সুরেলা সঙ্গীত বাজে, যা মনকে শান্ত করে।
চাঁদের আলো যখন ভিজে মাটিতে পড়ে, তখন চারপাশে একটি মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হয়। জল জমে থাকা পুকুরে তারার প্রতিফলন দেখে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজেই রূপকথার জাদু বুনছে। এই রুপকথার জাদু দেখতে ব্যস্ত সহস্র মানুষ কেউ জানালার পাশে বসে, কেউবা বেলকুনি কিংবা ছাঁদের কিনারায় দাঁড়িয়ে উপভোগ করছে আর ভাবছে এই দৃশ্যে প্রিয় মানুষটার সঙ্গ হলে মন্দ হতো না। আলাপ হতো ভালোবাসার, বন্ধুত্বের।
এই সময়ের বাতাসে তাজা অনুভূতি থাকে, যা মনকে মুক্ত করে। অনেকেই এই সময়ে বসে ভাবতে ভালোবাসেন, কারণ বৃষ্টি আমাদের হৃদয়ে এক বিশেষ আবেগ তৈরি করে। রাতের এই বৃষ্টিমাখা সৌন্দর্য আমাদের আত্মায় এক গভীর শান্তি এনে দেয়।
রুহি রাতে ছাঁদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে।বৃষ্টির পরে পরিবেশ এমনি শীতল তার মধ্যে হাল্কা শীতল বাতাস, পরনে বাসায় ব্যবহত প্লাজু আর লং গেঞ্জি এজন্য গাঁ শিউরে ওঠছে। চারদিক অন্ধকার সুদূরে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো দেখা যাচ্ছে। আকাশে মেঘ জমে থাকার কারণে চাঁদের দেখা নেই। শূন্য আকাশ পানে তাকিয়ে আছে রুহি।
মনে মনে বলছে,
চাঁদ বিহীন আকাশ যেমন শূন্য লাগে,
তেমন আপনি বিহীন আমার বিষন্ন লাগে।
হঠাৎ কিছু পড়ার শব্দে চমকে পিছনে তাকায় কিন্তু অন্ধকারে কাউকে দেখতে পায় না। সামনে তাকাতেই মনে হলো পিছনে কেউ আছে তক্ষনাৎ পিছনে ফিরে দেখে কেউ নেই মনে হলো কেউ ছিলো তাকানোর আগে সরে গেল, মুখে ভূ.ভূ..ভূতের নাম আসছে। পর পর আবার দুইবার ঢিল ছোড়ার শব্দ হলো এবার ভয়ে রুহির গাঁ ঝিম ঝিম করছে এতো রাতে আবার ভূত আসলো না তো?রাতে একা কখনো ছাঁদে আসা হয় না আজকে আবহাওয়া দেখে আসলাম ভূতের কথা মনেও আসেনি কিন্তু এখন কি হবে ভূতের ভয়ে শরীর ঘামছে নড়তেও পারছে না ছাঁদের দরজা ওপাশে ভয়ে ছাঁদ থেকে নেমে যেতে পারছে না।
অন্ধকারে কারো অবয়ব সামনে দাঁড়াতেই রুহি চিৎকার দেয়, সামনের মানুষটা মুখ চেপে ধরে আওয়াজ কেউ শুনতে না পেলেও রুহি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে সামনের ব্যক্তির গাঁয়ে ঠলে পড়ে।
রুহিকে নিজের কোলে শুয়ে দিয়ে গালে থাবড় দিয়ে ডাকছে,
এই রুহি? রুহি?…
কোনো রেসপন্স নেই জ্ঞান হয়ে গেছে।
“মহা মুশকিলে পড়লাম তো এখন জ্ঞান ফিরাবো কিভাবে?
আশে পাশে তাকিয়ে দেখে ছাঁদের ওইপাশে পানির লাইন আছে ফুলের গাছে পানি দেওয়ার জন্য।
রুহিকে ছাঁদের দেওয়ালে হেলান দিয়ে রেখে পানি এনে ওর চোখে মুখে ছিটিয়ে দেন। জ্ঞান ফিরে আসে চোখ মেলে সামনে কেউ আছে কিন্তু মুখ দেখা যাচ্ছে না ভূত মনে করে আবারো ভয় পেয়ে চিৎকার করতে নিলে ওর মুখ চেপে ধরে বলে,
এই চুপ আর একবার চিৎকার করলে ছাঁদ থেকে ফেলে দিবো।
পরিচিত কন্ঠ শুনে রুহি দমিয়ে যায়। মুখ থেকে হাত সরিয়ে ফোনের লাইট অন করে।
রুহির পরিচিত মুখটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে।
” আপনি এখানে কেন?
রিশাদ মজার ছলে বলে,
“দূর থেকে দেখলাম ছাঁদে একটা পেত্নীর ছাঁয়া দেখা যাচ্ছিলো তাই আমিও একটু ভূত হয়ে ভয় দেখাতে আসলাম।
রুহি রাগি চোখে তাকায় দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
আপনি মজা নিতে এমন করছেন আর আমি সত্যি ভয় পেয়েছি।
রিশাদ হাঁসে এতে রুহির আরো রাগ বাড়ে।
‘ইচ্ছে করছে গলা টিপে দেই।
” আমার গলা টিপে দিবি এতো সাহস তোর আছে?
রিশাদের কথায় রুহি হাঁ হয়ে যায়।
‘ মনে মনে ভাবে এই বেডা বুঝতে পারলো কিভাবে?
“আমি সবই বুঝতে পারছি আর শোন আমার গলা টিপে দিবে এমন সাহস তোর বাপের নেই।
‘রুহি খানিকটা রেগে মেগে বলে,
সব সময় আব্বুকে নিয়ে বলবেন না উনি আমার বাবা হন ভুলে যাবেন না।
” ভুলে যাইনি উনি কাজ গুলো এমন করেন যে এসব বলতে বাঁধ্য হই। তার অবৈধ সব কাজে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বলে আমায় দেখতে পারে না।
‘আমার আব্বু খারাপ না আর খারাপ কোনো কাজে জড়িত না।
“খারাপ না কিন্তু মানুষের কথা শুনে খারাপ হচ্ছে অন্যের কানপড়া শুনে লোভের দিকে এগোচ্ছে তোর ভাইকে তোর বাপের দিকে একটু দেখতে বলিস শুধু নিজে মহান হলে হবে না বাবাকে এমন করে যেন নয়তো সব ধ্বংস হয়ে যাবে।
রুহি রিশাদের কথার মানে কিছু বুঝলো না তাই শুধু তাকিয়ে আছে।
” এভাবে কি দেখছিস? আমি সুন্দর সেটা মানি তাই বলে যেখানে সেখানে তাকিয়ে থাকবি?
কথা গুলো রুহিকে রাগাতে বলে।
রুহিও রেগে যায়।
‘আপনি সুন্দর কে বলেছে?দেখতে তো আস্ত গুন্ডা টাইপ।আপনার থেকে আমি সুন্দর! কত ছেলে পিছনে ঘোরে।
রুহির কথায় রিশাদ ওর হাত টান দেয় যার ফল স্বরুপ রুহি রিশাদের শরীর সাথে ধ্বাক্কা খায় মাথা গিয়ে ঠেকে বুকে। নিজেকে সামলাতে চেঁপে ধরে রিশাদের শার্টের কলার।
রুহির শরীর কাঁপছে এতো কাছে আসায় হাত,পা অবশ হয়ে আসছে।
“এতো কাঁপছিস কেন?একটু স্থীর হো বলে,
রুহিকে দুহাতে আগলে নিয়ে জড়িয়ে ধরে।
রুহির কাঁপুনি কিছুটা কমে শান্ত হয়ে লেপ্টে আছে রিশাদের বুকে বুকের মাঝে ধুকধুক করছে সাথে ভালোবাসা সংমিশ্রণ অনুভূতি।
” আমি গুন্ডা টাইপ যখন তাহলে আমাকে ভালোবাসিস কেন?
“রুহি জবাব দেয় আপনি যেমন হন তবুও আমি ভালোবাসি আর আপনাকেই বাসবো।
” তোর বাবা তো মানবে না তার বিরুদ্ধে যাইতে পারবি?
এবার রুহি একটু থমকে যায় কি উত্তর দিবে ভেবে পায় না। তাকে ভালোবাসে আবার বাবা কে ভালোবাসে।
রিশাদ বলে এতো ভাবা লাগবে না তোর বাবার থেকে অনুমতি নিয়ে তার তোকে নিয়ে যাবো যদি না দেয় তখন আমার তোর বাপের ভাষায় বেয়াদবি করবো আর কি বলে হেঁসে ওঠে।
‘আপনি আমায় ভালোবাসেন?
“কোনো সন্দেহ আছে?
‘নেই তবে শুনতে চাই আপনার মুখে।
রিশাদ রুহিকে বুক থেকে সরিয়ে মুখোমুখি হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে বলে,
” আই লাভ ইউ। লাভ ইউ এ্যা লট।
রুহি নিজে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে আবারো জড়িয়ে ধরে মানুষটাকে চোখে খুশির ঝলক মুখ হাঁসি।
ভালোবাসার মানুষের মুখে “ভালোবাসি” শব্দটি শোনার অপেক্ষা সবসময় এক বিশেষ অনুভূতি তৈরি করে। এটি যেমন একটি স্বপ্নের মতো, তেমনই এটি একটি প্রতিশ্রুতি। যখন সেই মানুষটি তোমার দিকে তাকিয়ে সেই শব্দগুলো উচ্চারণ করে, তখন যেন সময় থমকে যায়।
এই শব্দটি শোনার জন্য যে আগ্রহ, তা শুধুমাত্র একটি উক্তির জন্য নয়; বরং এটি একজন প্রিয় মানুষের হৃদয়ের গভীরতার প্রতি একটি আকাঙ্ক্ষা। প্রতি মুহূর্তে তাদের সাথে কাটানো সময়ে, তাদের হাসিতে, চোখের তাকানোতে একটি আশা লুকিয়ে থাকে।
ভালোবাসা শব্দটি বিশ্বাস এবং সম্পর্কের শক্তির প্রতীক। যখন সেই শব্দটি আসে, তখন জীবন যেন নতুন এক রূপে বদলে যায়। প্রেমের এ অনুভূতি আমাদের কল্পনাকে ছুঁয়ে যায়, আমাদের হৃদয়ের গহীনে এক অদ্ভুত উষ্ণতা নিয়ে আসে। ভালোবাসার মানুষের মুখে সেই শব্দ শোনার জন্য অপেক্ষা, সত্যিই এক অসাধারণ যাত্রা।
সে অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়ে ভালোবাসি শুনতে পেল।
প্রায় পাঁচ মিনিট কেটে গেছে।রুহির এখনো রিশাদের বুকে আছে।
জড়িয়ে থাকা অবস্থায় রিশাদের অবাধ্য মনে এক অবাঁধ্য ইচ্ছে জাগে, রুহিকে বুক থেকে সরিয়ে মুখোমুখি হয়ে বলে,
“ক্যান আই ওয়ান কিসিং ইউ?
রিশাদের কথায় রুহি লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয়।মুখে নেই কোনো কথা।
একটু পর রিশাদ হো হো করে হেঁসে ওঠে। রুহি ভ্রু কুচকে তাকায়।
আমি মজা করে বললাম তুই কি বলিস দেখার জন্য বলছি।রিশাদ মির্জা নিজেকে সামলাতে জানে গভীর ভাবে সেদিন ছুঁয়ে দিবো যেদিন তুই একান্ত আমার হবি।
থাকবে না কোনো বাঁধা সেদিনের অপেক্ষায় থাকবো।
কথা বলার মাঝে মনে হলো
ছাঁদের দিকে কেউ আসছে। কারো পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
রিশাদ তাড়াতাড়ি রুহিকে ছেড়ে দেয়। লুকিয়ে পড়ে ছাঁদে থাকা ফুলের টবের পিছনে।
‘কি রে রুহি তুই এতো রাতে ছাঁদে কেন?
রোহানের কথায় রুহি থতমত খেয়ে যায়।
রুহি ঠুকি গিলে উত্তর দেয়,
আসলে ভাইয়া বৃষ্টির পর পরিবেশটা সুন্দর লাগছিলো এজন্য আসছিলাম।
‘সবই বুঝলাম কিন্তু আসার সময় আমার মনে হলো কারো হাঁসির শব্দ শুনলাম?
এই রে এবার কি বলি?
” কই ভাইয়া কে হাঁসবে? কেউ তো নেই?
ওহ হ্যাঁ আমি তো হাঁসছিলাম।
মিথ্যা বলতে গিয়ে কথা গুলিতে গেছে।
রোহান সন্দেহের সৃষ্টিতে তাকায়। রুহি ভয় পেয়ে যায় কিছু বুঝতে পারলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।
‘আজকাল কি ভূত পেতের সাথে হাঁসি তামাশা করিস নাকি?
“হে হে তাই করি কারন এ বাড়িতে হাঁসি তামাশা করার মতো কেউ নেই তাই ভূতের সাথে করি। তুমি যদি একটা বউ আনতে তবুও তো তার সাথে হাঁসি তামাশা করতাম।
‘দাঁত বন্ধ কর কি বিচ্ছিরি লাগছে কয়দিন থেকে ব্রাশ করিসনি বলতো?
রোহানের কথায় রুহি রেগে যায়।
” ব্রাশ আমি প্রতিদিন করি তুমি করো না।
‘ডাক্তার রোহান চৌধুরী সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে। আর বললি না একটা বউ আনতে ভালো হতো?
তোর বান্ধবী থাকলে বলিস বউ করে আনবো।
রুহি চটাচট উওর দেয়,
“রাফিয়া আছে তো ও খুব ভালো কিন্তু সমস্যা একটাই জানো তো রশিদ মির্জার মেয়ে।
‘সমস্যা কি? এমন ও তো হতে পারে একদিন সব শত্রুতা শেষ হয়ে গেছে।
রুহি মনে মনে বলে এরকম হলে সবচেয়ে বেশি খুশি আমি হবো।
‘অনেক রাত হয়েছে গিয়ে শুয়ে পড় আর এমন রাত বিরেতে যেন একা ছাঁদে আসতে না দেখি।
ভাইয়ের কথা মতো রুহি ছাঁদ থেকে নেমে আসে পিছু পিছু রোহান ও নামে।
রুহিকে ওর রুমে দিয়ে রোহান নিজেও আসে নিজের রুমে এসে ফোন দেয় রাফিয়া কে। বিকেলে ওকে বাসায় ছেড়ে দিয়ে আবারো হসপিটালে যেতে হয় একটু আগে হসপিটাল থেলে এসে রুহির রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রুমে কাউকে দেখতে না পেয়ে ছাঁদে এসেছিলো।
রাফিয়ার সাথে কথা বলার সুযোগ হয়নি।
রাফিয়া ফোন ধরে সালাম দেয়,
“আসসালামু আলাইকুম
‘ ওয়ালাইকুম আসসালাম।
সরি তোমাকে নামিয়ে দিয়ে আবার হসপিটালে যেতে হয় হয় এজন্য ফোন দিতে পারিনি।
বাসায় আসার পর কোনো সমস্যা হয়নি তো?কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেনি?
” না কোনো সমস্যা হয়নি আব্বু তো অফিসে ছিলো, ভাইয়া বাহিরে কোথাও ছিলো আর আম্মু জিজ্ঞেস করেছিলো এতো দেরি হলো কেন?
আপনার জন্য বানিয়ে বানিয়ে আম্মুকে মিথ্যা বলেছি রুহির সাথে ঘুরতে গেছিলাম। আম্মু বলেছে আর যেন এমন দেরি কখনো না হয়।
রোহান নিঃশব্দে হাঁসে অতঃপর বলে,
মায়াবিনী ভালোবাসলে একটু আধটু মিথ্যে বলতে হয়।
রোফিয়া বলে ওঠে,
“মানুষ তো বলে ভালোবাসলে নাকি কলঙ্কের দাগ গাঁয়ে লাগে হয় কথাটা কি সত্যি?
‘কিছুটা সত্যি তবে সবার ক্ষেত্রে না। সেই ভালোবাসায় কলঙ্কের দাগ লাগে যে ভালোবাসা ছেড়ে যায়, ভালোবেসে মানুষ জানাজানি হয়ে চলে যায় সে ভালোবাসায় কলঙ্কের দাগ লাগে। যদি ভালোবাসার পূর্ণতা দিতে জানে তাহলে কখনো কলঙ্কের দাগ গাঁয়ে লাগবে না।
তুমি ভয় পেয় না মায়াবিনী। তোমাকে আমি পবিত্র বন্ধনে জড়িয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসবো।
” ভয় পাইনি। ভালোবাসলে ভয় ডর দূরে রাখতে হয়।
‘বাহ অনেক কিছু জানো দেখছি।
“জানতে হয় না পরিস্থিতি আসলে সব আপনাআপনি মনে চলে আসে। অনেক রাত হলো আপনি ঘুমান কালকে আপনার হসপিটালে যেতে হবে।
‘বউ বউ ফিল আসছে নাকি? বউদের মতো বলছো।
” আজ না হই একদিন তো হবোই।
‘জ্বী মায়াবিনী তা হবেই। এবং খুব শিগগিরই হবে।অনেক রাত হয়েছে বললে আজ ঘুমোয় কালকে কথা হবে।
লাভ ইউ, গুড নাইট বলে রোহান কল কেটে দেয়।
চলবে……?