তুমি আমার সেই প্রিয়শী পর্ব-১৪+১৫

0
167

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১৪

সারাটাদিন কেটে গেছে এখন রাত প্রায় এগারোটা। রাতের অন্ধকারে রুমের লাইট অফ করে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে আছে রুহি চোখ দিয়ে পানি ঝরছে। মনে মনে বুলি আউড়াচ্ছে,

“আপনি কেন এমনটা করলেন?কেন দূরত্ব বাড়াতে বাঁধ্য করলেন আমায়? এখন না পারবো আপনাকে ছাড়া থাকতে আর না পারবো আপনার কাছে যেতে। ভালোবাসার বদলে ঘৃণা করতে বাঁধ্য করলেন। বাবা মা,র বিরুদ্ধে গিয়ে আপনার হতে চেয়েছিলাম কিন্তু না আমি ভুল ছিলাম, আমার ভুল ছিলো শত্রুর ছেলে কে ভালোবাসা।

এদিকে রাফিয়া রোহান কে একের পর এক ফোন দিয়ে চলছে কিন্তু রোহানের ধরার নাম নেই বার বার কেটে দিচ্ছে। রোহান বিষন্ন মনে বেডে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে পাশে ফোনটা বাজছে এবার সহ্য করতে না পেরে ফোনটা ধরে।
” কি সমস্যা তোমার?দেখছো না ফোন ধরছি না তার পর ও বার বার কল দিচ্ছো কেন?

রোহানের ধমকে ফোনের ওপাশ থেকে রাফিয়া ভয় পেয়ে যায়।
‘আপনি এভাবে রেগে কথা বলছেন কেন? কি হয়েছে?

“কি হয়েছে জানোনা? তোমার অসভ্য ভাই কি করেছে শোনোনি?

‘আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে ভাইয়া এমন করতে পারে না।

” ভুল হচ্ছে মানে কি?আমি নিজে চোখে দেখেছি?

‘অনেক সময় চোখের দেখা ভুল হয়।

“আমি এতো কথা শুনতে চাই না তুমি আমাকে আর কখনো কল দিবে না।

রাফিয়া চমকে ওঠে জিজ্ঞেস করে,
‘কেন?

” মির্জা বাড়ির সাথে চৌধুরী বাড়ির সম্পর্ক হওয়া সম্ভব নয়।

‘তাহলে সেদিন সপ্ন দেখালেন কেন?

“সেদিন তো জানতাম না রিশাদ মির্জা এতোটা নিচু মনের অসভ্য যে বাবার বয়সি মানুষের সাথে এমন করতে পারে।

রাফিয়ার এবার ভাইয়াকে বাজে বলায় গায়ে লাগে রুক্ষ কন্ঠে বলে,
‘একদিন ভাইয়া প্রমাণ করে দিবে সে কিছু করেনি সেদিন আপনার ভুল ভেঙে যাবে কিন্তু আমি দূরে চলে যাবো। আজকের বলা কথা গুলো আমার মনে থাকবে ভালো থাকবেন বলে কল কেটে দেয়।
প্রথমের কথা গুলো রুট ভাবে বললেও শেষের কথা বলতে গিয়ে কন্না দলা পেকে যায় কোনো মতো ফোন রেখে রাফিয়া হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে।

রোহান রাগের মাথায় অনেক কিছু বললেও নিজেও কষ্ট পাচ্ছে তার চোখের কোনে জল চিকচিক করছে।
” পেয়েও কি তবে হারিয়ে ফেলতে হবে? কেন তৈরি হলো এমন পরিস্থিতি সবই ঠিক ছিলো।

রিশাদ কাউকে ফোন করে,
“দুই দিনের মধ্যে আমার সমস্ত ইনফরমেশন চাই অ্যান্ড খোরশেদের উপর সম্পূর্ণ নজর রাখবি।

কেটে গেল আরো একদিন সবকিছু চুপচাপ হয়ে গেছে। চারদিক নিস্তব্ধতা মনে হচ্ছে সম্পর্কে জড়িয়ে থাকা মানুষ গুলো নিশ্চুপ হয়ে আছে।

সকাল বেলা মিজানুর চৌধুরী হাঁটতে বাহির হয় রাস্তার দিকে সেখানে যেতেই পিছন থেকে কেউ সালাম দেয়,
” আসসালামু আলাইকুম চাচা কেমন আছেন?

মিজানুর চৌধুরী পিছনে তাকিয়ে একটা ছেলেকে দেখতে পায় পাশে আছে প্রতিবেশী সেলিম সাহেব।
“ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুমি কে ঠিক চিনতে পারলাম না।

সেলিম সাহেব এগিয়ে আসে,
” চেয়ারম্যান সাহেব চিনতে পারছেন না?ও আমার ছেলে সাদিব। এতোদিন বিদেশে লেখা পড়া করতে গেছিলো কালকে রাতে এসেছে।

‘ওহ আচ্ছা এবার বুঝতে পেরেছি তা বাবা এখন কি করবে ভাবছো?

“আংকেল পড়াশোনা তো শেষ ভাবছি আব্বুর বিজনেসের হাল ধরবো আব্বু একা আর কত সামলাবে।

‘ভালো ডিসিশন নিয়েছো তা একদিন আমাদের বাসায় এসো রোহান আছে দেখা হবে।

” জ্বী চাচা নিশ্চয়ই যাবো। বলে মিজানুর চৌধুরী অন্য দিকে চলে এলেন আসতে নিলেই।

সেলিম সাহেব বলেন,
” চেয়ারম্যান সাহেব আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো একদিন যে আপনার মেয়ে আমার ছেলের বিয়ের বিষয়ে বললাম আপনি বললেন আগে দেশে আসুক। এখন তো এসেছে আপনার মতামতটা জানাবেন?

‘আজকে আমি বাসায় যাই আগে রোহান ওর মা এর সাথে কথা বলে জানাবো আপনাকে।

“ঠিক আছে। চলেন তাহলে চা খাই

‘অন্য কোনোদিন খাবো আজ যেতে হবে ওদিকে একটু কাজ আছে।

তখনি সেলিম সাহেব বলে ওঠেন,
” মির্জা সাহেব কেমন আছেন? আজকাল দেখা যায় না আপনার ছেলের নামে কিসব শুনছি।

মিজানুর চৌধুরী রাস্তার পাশে রশিদ মির্জা কে দেখে বলে,
“বুঝলেন সেলিম সাহেব সবাই ছেলে মানুষ করতে পারে না কারো কারো সন্তান অভদ্র আর বেয়াদব হয় যে বড়দের সম্মান করতে পারে না।

রশিদ মির্জা বুঝতে পারছে কথা গুলো তাকে বলছে ভেবে উনিও বলেন,
‘বুঝলেন সেলিম সাহেব মানুষ তাদের কাছে খারাপ হয় যাদের খারাপ কাজে বাঁধা দেয় তারা তো খারাপ বলবে মানুষের ভালো করা যদি হয় অভদ্রতা আর বেয়াদবি তাহলে এরকম সন্তান পেয়ে আমি খুশি এরকম সন্তান বা কয়জনের হয়।

মিজানুর চৌধুরী অপমানিত বোধ করে সেখান থেকে চলে আসে বাড়ি।

রিশাদের দিন যাচ্ছে অতন্ত্র খারাপ প্রিয় মানুষটা ভুল বুঝেছে এতে মনমানসিকতা ভালো নেই চোখে নেই ঘুম চোখ বন্ধ করলেও তার কান্নারত মুখটা ভেসে ওঠছে শুনতে পাচ্ছে ঘৃণা করি কথাটা। এসব ভাবতেও প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে এক পর্যায়ে বাসা থেকেবেরিয়ে পড়ে প্রিয়শীকে বোঝাতে।

রুহির মনমানসিকতা ভালো নেই তাই কালকে কলেজে যায়নি রাফিয়া ফোন করলেও ধরেনি কিন্তু আজকে কলেজে যেতে হবে সামনে টেস্ট পরীক্ষা আছে না গেলে সমস্যা হবে এই ভেবে হাজারো মন খারাপ নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্য বেরিয়ে পড়ে। রাস্তায় রিশাদ কে দেখতে পায় কিন্তু দেখেও না দেখার ভান করে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। রিশাদ রুহির মুখোমুখি দাঁড়ায় অতঃপর বলে,

” রিকশা থেকে নামো কথা আছে।

‘না আমি নামবো না আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই চলে যান।

রিশাদ রুহির কথা শোনোনা হাত ধরে রিকশা থেকে নামায় রুহি হাত ছাড়াতে চাচ্ছে আর বলছে,

“হাত ছাড়ুন।

‘ছাড়বো না আগে কথা শুনবে তার পর আমি কলেজে দিয়ে আসবো।

রুহি ঝটকা দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নেয় চিৎকার করে বলে,
” আপনার মতো মানুষের সাথে কথা বলতে আমার রুচিতে বাঁধছে আপনি এমন কখনো ভাবতে পারিনি আপনি এতো নোংরা কালকে বুঝেছি আপনি একটা মেয়ের সাথে ছি…

রিশাদ রুহিকে জিজ্ঞেস করে আমি একটা মেয়ের সাথে কি বলো?

রুহি বলে না কালকে রাতে রুহির ফোনে একটা আননোন নাম্বার থেকে কয়েকটা ছবি আসে যেখানে রিশাদের সাথে একটা মেয়ের ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িয়ে ধরে আছে। একে বাবার সাথে ঘটা ঘটনা সাথে ছবিগুলো সব মিলিয়ে রুহির মনে রিশাদের জন্য আরো বেশি ঘৃণা জন্মেছে।

রুহি সে কথা চেঁপে যায় কি দরকার থাক যে যার মতো ভেবে অন্য কথা বলে,

“যে আমার বাবাকে সম্মান করতে পারে না তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই বলে রুহি আবার আসতে নেয়
রিশাদ আবার হাত টেনে ধরে এবার রুহি রেগে গিয়ে থাপ্পড় মেরে বসে রিশাদের গালে।
বললাম না হাত ছাড়েন আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেই আমি আপনাকে ঘৃণা করি যে আপনাকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম ভেবেছিলাম সব কিছু বিরুদ্ধে যেতে হলেও যাবো কিন্তু না আপনি তো ভালোবাসার যোগ্য না আপনি হলেন ঘৃণার যোগ্য।
কথাগুলো বলে রুহি চোখের পানি মুছতে মুছতে চলে আসে রিকশায় বসে রওনা দেয় কলেজের উদ্দেশ্যে পিছন থেকে নিস্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে সামনের মানুষটার যাওয়ার পথে হয়তো সে ভাবেনি রুহি এমনটা করবে।

ভালোবাসায় অবিশ্বাস একটি জটিল বিষয়। যখন বিশ্বাস ভেঙে যায়, তখন সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়।
রুহির চোখে দেখা ঘটনা বিশ্বাস করছে সম্পর্কে দেখা দিয়েছে ফাঁটল।

রিশাদ মনে মনে আওড়ায়,
” সত্য কি তা জানবে আর একদিনের অপেক্ষা।
রিশাদ গাড়ি নিয়ে স্থান থেকে চলে যায় তখন আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একজন মানুষ ফোনে তোলা রিশাদ আর রুহির হাত ধরা ছবি পাঠায় আরেকজনকে সেই ছবি দেখে হেঁসে ওঠে মানুষটা আর বলে,
“ছবির একশন প্ল্যান একটু পর শুরু হবে আর রাতে হতে চলেছে বড় ধামাকা।

চলবে………?

#তুমি_আমার_সে_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১৫

মিজানুর চৌধুরী সোভায় বসে আছেন গম্ভীর মুখে রাগে চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে। অপেক্ষা করছেন রুহির আসার জন্য। দুপুরে সাদিব যখন রুহি আর রিশাদের ছবি গুলো দেখালো তার পর থেকে চোখে মুখে রাগের ফুলকি রোহান এতো বুঝিয়ে মাথা ঠান্ডা করতে পারছে না।রাগে চিল্লাছে আর বলছে,

“শত্রুর ছেলের এতো সাহস আসে কোথা থেকে আমার মেয়ের হাত ধরে আর তুই কি করিস দেখে রাখতে পারিস না?তাড়াতাড়ি রুহিকে বাসায় আসতে বল।

রোহানকে বললেও রোহান চুপ করে যায় সে না জানলেও কিছুটা বুঝতে পেরেছিলো বটে।

মিজানুর চৌধুরী রোহানকে বলে ,
” আসতে বললি নাকি আমি নিতে যাবো?

‘আব্বু মাথা ঠান্ডা করো রুহি হয়তো ক্লাসে আছে তাই ফোন ধরছে কিছু সময়ের মধ্যে ক্লাস শেষ হলে তো চলপ আসবে আর তুমি ওকে আগে কিছু বলিও না আগে ওর থেকে শুনতে হবে।

রুজিনা বেগম ভয়ে আছেন তবুও রোহানের সাথে তাল মিলিয়ে বলে হ্যাঁ আগে ওর থেকে শুনতে হবে ছোট মানুষ ভুল করতেও পারে।

মিজানুর চৌধুরী রুজিনা বেগমের দিকে তাকালে তিনি মাথা নিচু করে নেয়।

“মা ছেলে আমায় কিছু বলতে আসবে না আমার কি করা দরকার তা আমি ভেবে নিয়েছি।

_থ্যাঙ্কিউ সো মাচ সুইটি তুমি আমাকে অনেক বড় সাহায্য করলে। তুমি ছবি গুলো তুলে পাঠিয়িলে বলে কাজটা হলো যদিও আমাদের প্ল্যান আগে থেকে ছিলো।

“থ্যাঙ্কিউ দেওয়ার কিছু নেই আমি রিশাদকে পাওয়ার জন্য সব করতে রাজি আছি। ওকে নিজের করে নিবো সাথে রাজত্ব করবো মির্জা বাড়িতে।

_আমার তো রাজকন্যা রাজত্ব সবই হতে চলেছে।

“বেশি খুশি হইয়ো না রুহি কিন্তু রিশাদকে ভালোবাসে হয়তো ভুলবোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে বলে ঘৃণা করে বলছে কিন্তু ভালোবাসা ঠিকই।

_মিজানুর চৌধুরী আছে না উনাকে যা বুঝার আব্বু আর মিলে বুঝিয়ে দিয়েছি এখন যা করার উনি করবেন।আমি জানি মিজানুর চৌধুরী জীবনেও রিশাদের হাতে তুলে দিবে না।

“ওকে সব আমাদের প্ল্যান মাফিক হলে ভালো।

_হুম তুমি শুধু রিশাদের উপর নজর রাখো।

” রিশাদ তো আজকে অফিসে আসেনি।

সাদিবের ভ্রু কুচকে আসে সুইটিকে বলে,
_এই রিশাদ আবার নতুন কোনো প্ল্যান করছে না তো?

“জানিনা করতেও পারে মাথায় কি চলে সে জানে।

_যেই প্ল্যান করুক লাভ হবে না আজকে তো ধামাকা হবে সেটা রিশাদ মির্জা জানতে পারবে কিন্তু কিছু করতে পারবে না।
তুমি এবার যাও আমার আরো কিছু কাজ আছে।

সুইটি চলে যায় সাদিবের মুখে হাঁসির রেখা। মনে মনে বলে,

_মিস্টার রিশাদ মির্জা তুমি আমাকে এতো বোকা ভাবো?
কি ভেবেছিলে খোরশেদ কে ধরে সব সত্যি বাহির করবে কিন্তু আফসোস খোরশেদ কে খুঁজে পাবে না।

রুহি কলেজ শেষ করে রিকশা থেকে নেমে বাসার ভিতরে আসতেই দেখে মিজানুর চৌধুরী ও রোহান বসে আছে পাশে দাঁড়িয়ে আছে রাশেদা মির্জা।
মিজানুর চৌধুরী গম্ভীর মুখ দেখে রুহি এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে আব্বু?

এই কথা বলতে দেরি সাথে সাথে রুহির গালে পড়ে এক থাপ্পড় রুহি নিজেকে সামলাতে না পেরে দুকদম পিছিয়ে যায়। বুঝতে পারছে না থাপ্পড় মারার কারণ কি?

মিজানুর চৌধুরী গালে আরো দুটো থাপ্পড় মারে আর বলে,

” তোমাকে আমও এসব করতে কলেজে পাঠাই? আমার ভালোবাসা আর বিশ্বাসের মূল্য এই দিলে?

রুহি এখনো বুঝতে পারছে না কি হচ্ছে ও জিজ্ঞেস করে, -কি করেছি আমি?

রোহান ওকে ছবি গুলো দেখা।
বাবা কথা অনুযায়ী ফোনে থাকা ছবি গুলো দেখায়,আর বলে এসব কি রুহি?

রুহি ছবি গুলো দেখে চমকে যায়। মনে মনে বলে এগুলো কিভাবে পেলো কেইবা তুললো।

;কি হলো বল এগুলো কি?

রুহির উত্তর দেওয়ার আগে মিজানুর চৌধুরী আবার মারতে আসলে রুজিনা বগেম রুহিকে জড়িয়ে ধরে সরিয়ে নেয়।
মেয়ের গায়ে হাত তুলতে নেই।

“মেয়েকে ভালোবাসা দিয়ে এমব করেছি ও কি করে পারলো শত্রুর ছেলের সাথে সম্পর্ক করতে ও কি জানেনা মির্জা বাড়ির সাথে আমাদের শত্রুতার কথা। একবারো ভাবেনি আমার কথা। যে ছেলে আমাকে অসম্মান করে ধ্বাক্কা দেয় তাকে….. আমার ভাবতে রাগ লাগছে এই ভালোবাসার মূল্য দিলো আমার মেয়ে।

রুহির নিজেকে পুস্তত করে নেয় আর উত্তর দেয়,

-ভালোবেসেছিলাম ঠিকই শত্রুতা এসব নিয়ে ভাবিনি তবে ভালোবাসা চাঁপা পড়ে গেছে দুইদিন আগে যখম উনি তোমার গায়ে হাঁত দিয়েছিলেন আর দেখেছিলাম কিছু সত্য। ভালো আমি তোমাকেও বাসি বাবা আর আজকে যে ছবি গুলো দেখছো তোমরা যেগুলো তখন আমি আমার হাত ছাড়িয়ে নিতে চাচ্ছিলাম।

“মিজানুর চৌধুরী মেয়ের কথা শুনে বলে,
” ঠিক আছে আমি সব মানলাম তবে আজকে সাদিবের তোমার বিয়ে হবে।

বিয়ের কথা শুনে রুহি চমকে যায়। রিশাদ কে ছাড়া কখনো কাউকে নিয়ে ভাবেনি যতই মুখে বলি ভালোবাসি না কিন্তু মন জানে তাকে ছাড়া কতটা অসহায় ভালোবাসি কতটা।

‘আব্বু আমি এখন বিয়ে করতে চাচ্ছি না।

মিজানুর চৌধুরী আবারো রেগে যায়।
“এখন বিয়ে করবে না কেন?ওই শত্রুর ছেলের জন্য? তাহলে শোনো এরকম যদি ভেবে থাকো তাহলে যাও আমার দরজা খোলা আছে তুমি দরজা দিয়ে বাহির হবে আর আমার লাশ দেখবে কিছু সময় পর। শত্রুর ঘরে যাবে মানুষ নানান কথা বলবে আমার সম্মানে আঘাত হানবে এটা দেখার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।

রুহি কান্না চোখে তাকায় বাবার দিকে অঝড়ে পড়ছে চোখের পানি।
‘আমি তো বললাম উনার কাছে যাবো না।

” তাহলে বিয়ের জন্য তৈরি হও রাতে বিয়ে।

-ঠিক আছে আমি রাজি তোমরা ব্যবস্থা করো বলে রুহি দৌড়ে উপরে চলে যায়। রোহান মনে মনে ভাবছে রিশাদ আব্বুর সাথে এমনটা না করলে আমি নিজে সাহায্য করতাম। ভালোবাসার মানুষ কে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা কত কঠিন রুহির মতো আমাকেও কি তেমন করতে হবে? আমি কি পাবো না তাকে? মনের প্রশ্ন মনে থাকে ফোনের স্কিনে রাফিয়ার ছবিটা দেখে সেদিন কল কেটে দেওয়ার পর থেকে রাফিয়া আর কল দেয়নি আর না দিয়েছে রোহান।

মিজানুর চৌধুরী সাদিব ও ওর বাবাকে জানিয়ে দেয় রুহি রাজি হয়েছে রাতে বিয়ে হবে কয়েকজন লোক নিয়ে শুধু বিয়ে পড়ানো হবে আর পরে বড় করে অনুষ্ঠান করা হবে।

রুহি রুমে গিয়ে বেডে শুয়ে কান্না করতে থাকে আর ভাবে৷ তার জায়গায় অন্য কাউকে কি করে মেনে নিবো। না পারবো অন্য কাউকে মেনে নিতে আর পারবো উনাকে মেনে নিতে কেন আমাকে ঠকালেন? আমার ভালোবাসায় আমি বেহায়া ছিলাম পরে আপনিও কেন শায় দিলেন ভালোবাসি বলে অন্য কারো সাথে…..
কথা শেষ করতে পারে না কান্নার জন্য সব দলা পাকিয়ে যাচ্ছে।
আব্বুর জন্য বিয়ে করবো তাকে ভালোবাসতে না পারলেও মানিয়ে নিতে হবে। তাকে আর সত্যি পাওয়া হলো কপালে লেখা ছিলো না তার ভালোবাসা।
যদি নাই থাকে তাহলে ভালোবাসায় শায় দিশে ঠকালেন কেন?এরকম হাজারো অভিযোগ মনে।
না আর ভাববো না তাকে নিয়ে উনি ভালো থাক আমি ভালো রাখি।
বিয়ে করলে আব্বু খুশি ভালো থাকবেন আমার ভালো না থাকলেও চলবে বলে চোখের পানি মুছে নেয়।

রুজিনা বেগম একটা শাড়ি দিয়ে যায় রুহিকে আর বলে এটা একটু পর পরে রেডি হয়ে নিস বলে তিনি মেয়ের মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে চলে যায়। তার যে কিছু করার নেই।

রুহির বিয়ের কথা এখনো রিশাদের কানে পৌঁছায়নি।

রিশাদ দুইদিন খোরশেদ কে তন্ন করে খুঁজেছে কিন্তু পায়নি। কোথায় যেতে পারে সেসব ভেবে মাথা কাজ করছে না।
আকাশ পাশ থেকে বলে,

“এতো চিন্তা করিস না খোরশেদ আমাদের কাছে না থাকলেও প্রমান তো আছে এই যে সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে খোরশেদ তোর পিছন থেকে মিজানুর চৌধুরী কে ধ্বাকা দিয়েছে।

‘খোরশেদ কে পেলে ভালো হতো আমার মনে মনে হচ্ছে ওর সাথে আরো কেউ আছে যে এসব করতে বলছে।

” তোর কেন মনে হচ্ছে এর পিছনে আরো কেউ আছে?

‘কারণ মিজানুর চৌধুরীর কাছে আমাকে খারাপ করে মোরশেদের কোনো লাভ নেই তাহলে ও এটা করবে কেন?তার গুডাউনে আগুন দিয়ে,উনাকে ধ্বাকা দিয়ে আমার দোষ দিয়ে তার লাভ কি?

“হ্যাঁ তাই তো আমি এটা ভেবে দেখিনি এর পিছনে তাহলে আছে কে?কার সাথে তোর শত্রুতা?

‘সেটা তো খুঁজে বাহির করতে হবে তাহলে পুরো প্রমাণ পাওয়া যাবে।

রিশাদ আর আকাশের কথা বলার মাঝে রিশাদের ফোনে কল আসে রিশাদ ফোনে ধরে অপর পাশের ব্যক্তির কথা শুনে বলে অস্থির হয়ে যায় কল কেটে তাড়াহুড়ো করে বাহির হতে চায় আকাশকে বলে চল এখনি যে তে হবে না হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।

” কি হয়েছে আগে বলবি তো?

রিশাদ সমস্ত ঘটনা খুলে বলে।

আকাশ বলে,
“রুহি অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি হলো?

‘ভুলবোঝাবুঝিতে ঘৃণা করে আমায় এজন্য রাজি হয়েছে তবে আমি আমার ভালোবাসা শেষ হতে দিবো না যে করে হোক বিয়ে আটকাবো তাতে যদি যুদ্ধ লেগে যায় তাবুও লড়বো।

” শোন মাথা গরম করিস না এখন রুহি তোর কথা শুনবে না আর না শুনবে মিজানুর চৌধুরী তোর বাবা জানলেও মানবে না।

“সেসব নিয়ে আমি এখন ভাবছি যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে রাতে বিয়ে এখন সন্ধ্যা হতে চলেছে।

‘ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে সব শোন আমি যা বলছি তাই করা ছাড়া উপায় নেই রুহি ও রাজি না ও রাজি থাকলে না হয় নিয়ে আসা হতো।

আকাশ আর রিশাদ প্ল্যান করে নেয় কিভানে কি করবে।

প্ল্যান শেখ রিশাদ বাঁকা হেঁসে বলে,

” আমি আসছি অপেক্ষা করো জীবন থাকতে অন্য কারো হতে দিবো না। ভুলবোঝাবুঝি যত হোক তবুও তোমাকে আমার চাই। তুমি রেডি হও বউ হওয়ার জন্য তবে অন্য কারো নয় এই রিশাদ মির্জা মিসেস মির্জা হওয়ার জন্য।

চলবে……………….?