তুমি আমার সেই প্রিয়শী পর্ব-১৬+১৭

0
187

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১৬

চৌধুরী বাড়িতে সাদা মাটা ভাবে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে আপন কয়েকজন ছাড়া কেউ নেই। সাদিবের বাবা এসেছে সাথে কয়েকজন লোক এসেছে বিয়েতে তেমন মানুষ না আসলেও আপন কয়েকজনে বাড়ি ভরে গেছে।
রুহিকে শাড়ি পরিয়ে রেডি করে দিয়েছে চোখ বেয়প পানি পড়ছে তার মুখে কথা নেই দৃষ্টি ডেসিন টেবিলের আয়নায় যেখানে দেখতে পাচ্ছে তাকে সিম্পল ডিজাইনের লাল শাড়িতে সাজানো হয়েছে।

“লাল শাড়ি পরার চেয়ে সাদা শাড়ি পরে পরপারে চলে গেলেও এতো কষ্ট পেতাম না যতটা কষ্ট অন্যের জন্য লাল শাড়ি পরে বিয়ে করলে পাবো।
আল্লাহ কেন করলো এমন যদি ভাগ্যে ভালোবাসা না লিখো তাহলে তার জন্য মনে ভালোবাসা দিয়েছিলো কেন?
ভালোবাসলাম যাকে পেলাম না তাকে পরিবারে কথা ভেবে বিয়ে করতে হচ্ছে অন্য কাউকে হাহ নিয়তী এমব কেন?

ভালোবাসা আর বিয়ের মাঝে যখন দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন হৃদয়ের মাঝে এক অনিঃশেষ যন্ত্রণা সৃষ্টি হয়। একজনকে গভীরভাবে ভালোবাসলেও, পরিবারের চাপের কারণে অন্য কাউকে বিয়ে করতে হয়—এটা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন। অনুভূতিগুলো অস্পষ্ট হয়ে যায়, হৃদয়ের এক পাশে প্রেমের আকাঙ্ক্ষা, অন্য পাশে দায়িত্বের বোঝা। এই দ্বন্দ্ব মানুষকে দ্বিধায় ফেলে, স্মৃতির ভাঁড়ারে রেখে যায় অম্লমধুর মুহূর্ত। সত্যিকার অর্থে, ভালোবাসা আর বাধ্যবাধকতার মাঝে যে সংগ্রাম চলে।

এমনটা অনেকের ক্ষেত্রে হলে আমার না কারণ,
আমার ভালোবাসা ভুল ছিলো শুধু পরিবারের দোষ দিয়ে লাভ নেই সে যে আমায় ভালোবেসেও অন্য কাউকে বাসতে পারেছে।

‘রুহি চল তোকে নিচে নিয়ে যেতে বললো বিয়ে শুরু হবে।

ভাইয়ের ডাকে পিছনে ফিরে রুহি চোখের পানি মুছে নেয়।
রোহান বোনের কান্নামাখা মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। এগিয়ে আসে বলে,
কষ্ট পাস না আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করে। আল্লাহর উপর ভরসা রাখ ভালো কিছু হবে।

ভাইয়ের কথা শুনে রুহি হু হু করে কেঁদে ওঠে ভাইকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে ফেলে।
রোহান বোনের মাথায় হাত দিয়ে সান্ত্বনা দেয়।
” চল দেরি হয়ে যাচ্ছে আব্বুরা অপেক্ষা করছে।
রোহান বোনের হাত ধরে নিচে নামে রুহিকে সাদিবের পাশে সোফায় বসানো হলো কাজি এসে গেছে বিয়ে পড়ানো শুরু হয় তখনি কারেন্ট চলে যায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায় সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে আলো খুঁজতে হঠাৎ কারেন্ট যাওয়ার কারণ খুঁজে পেল না মিজানুর চৌধুরী রোহান কে বলে কারেন্ট কেন গেল দেখো তো?
আর জেনেটার চালু করে দেও।

রোহান একটু পর ফিরে আসে বলে,
“আব্বু কারেন্ট নেই উপরে কিছু সমস্যার কারণে।

‘তাহলে জেনারেটর চালু করো।

” আব্বু জেনারেটর চালু হচ্ছে না।

সেলিম সাহেব এগিয়ে আসে মিজানুর চৌধুরী কে বলে কারেন্ট কি আসবে না? যদি না আসে তাহলে ফোনের আলো বা মোমবাতি জ্বালিয়ে বিয়েটা সেরে নেই তার পর না হয় বাকি সব দেখা যাবে।

সেলিম সাহেবর কথায় মিজানুর চৌধুরী মত জানায় অন্ধকারে ফোনের আলো জ্বালিয়ে বিয়ে শুরু হয়।
বরের মুখ রুমাল দিয়ে ঢাকা দেখে সেলিম সাহেব জিজ্ঞেস করে,
-সাদিব তুই রুমাল দিয়ে পুরো মুখ ঢেকেছিস কেন?

সাদিব কথা বলছে না। তখনি রোহান সেলিম সাহেব কে টেনে নিয়ে যায়।
আংকেল এদিকে আসুন আব্বুর পাশে বসুন।

কাজির বিয়ে পড়ানো শেষ ছেলে কবুল বলেছে এবার পালা মেয়ের কবুল বলা কিন্তু রুহি চুপ করে আছে কাজি তাড়া দেয় কবুল বলতে রুহি চোখে পানি নিয়ে বহু কষ্টে কবুল বলে ফেলে চোখের সামনে রিশাদের মুখটা ভেসে ওঠছে। মনে চলছে যন্ত্রণার তোলপাড় ইচ্ছে করছে মরে যাই।

কবুল বলায় বিয়ে সম্পূর্ণ হয় সকলে আলহামদুলিল্লাহ বলে।

তখনি কারেন্ট আসে সামনে বসা বরকে দেখে সবাই চমকে যায় মিজানুর চৌধুরী বলে ওঠে,
“তুই এখানে কি করছিস?

রুহি মাথা নিচু করে কান্না করছিলো বাবার কথা শুনে নিজের সামনে তাকায় দেখতে পায় বর বেসে রিশাদকে দেখে সেও চমকে যায়।

রিশাদ মিজানুর চৌধুরীর কাছে যায়।
” শশুড় মশাই নিজের জামাইকে কি তুই তোকারি করছেন এটা কিন্তু ঠিক না মেয়ের জামাইকে ভালোবেসে জামাই বাবা বলতে হয়।

‘তুই আমার জামাই হতে যাবি কেন আমার মেয়ের জামাই তো সাদিব ওর সাথে বিয়ে হয়েছে।

“সাদিব কোথায় ডাকুন আছে নাকি? বিয়ে তো আমার সাথে হয়েছে বিশ্বাস না হলে রেজিস্ট্রার পেপার দেখুন বলে কাজির হাতে থাকা কাগজটি মিজানুর চৌধুরীর হাতে দেয়।
মিজানুর চৌধুরী বরের নামের জায়গায় রিশাদের নাম দেখে কিন্তু কিভাবে সম্ভব?
রেগে গিয়ে তিনি রিশাদের শার্টের কলার ধরে বলে,
তুই কারেন্ট যাইয়েছিস তাই না? তার পর সাদিবকে সরিয়ে নিজে বিয়ে করছেস?
রেগে গিয়ে তিনি একটা চড় মেরে বসেন রিশাদ কিছু বলে না।
“তুই কোন সাহসে এমন করলি?আমার মেয়েকে তোকে কখনো দিবো না।

রিশাদ নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়
‘শশুড় মশাই এতো উত্তেজিত হবেন না এই যে মেয়ের জামাইয়ের গায়ে হাত তুললেন এর ফল আপনার মেয়ের উপরেও পড়তে পারে।

” আমার মেয়েকে তোর হাতে দিবোই না তাহলে ফল ভোগ করার কথা আসছে কি করে? তুই এখনি আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যা।

‘যাবো তো অবশ্যই আপনি যখন জামাই আদর করবেন তাহলে চলে যেতে হবে তবে একা যাবো না আপনার মেয়েকে নিয়ে যাবো।

সেলিম সাহেব রিশাদের কাছে যায় দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
:আমার ছেলে কোথায়?

“আরে চাচা চিন্তা করবেন না আপনার ছেলে ঠিক আছে তেমন কিছু করিনি শুধু অজ্ঞান করেছিলাম পাশের রুমে গিয়ে দেখেন পড়ে আছে।

সেলিম সাহেব ক্ষোভ নিয়ে কিছু বলতে চেয়েও বলেনা দৌঁড়ে যায় পাশের রুমে ছেলের কাছে।

রিশাদ রুহির কাছে যায় হাত ধরে তুলে নিয়ে যেতে চায় রুহি দাঁড়িয়ে থাকে নড়ছে না।
‘আমি আপনার সাথে যাবো না আপনি আমাকে ঠকিয়েছেন আপনি প্রতারক।

রিশাদ হাঁসে রুহির কানের কাছে গিয়ে বলে,
“তুমি চুপচাপ যাবে নাকি আমাকে এখানে তুলকালাম ঘটাবো কোনটা? আর চুপচাপ না গেলেও জোর করে নিয়ে যাবো আর সে অধিকার আছে।

রুহি জানে যা হওয়ার হয়ে গেছে এখন যদি না যাই তবে তুলুম কিছু হতে পারে ভেবে আর কিছু বলেনা আর অবাক হয় নিজের ভাইকে দেখে পাশে দাঁড়িয়ে আছে অথচ রিশাদকে কিছু বলছে না কিন্তু কেন?আজকে সকালে ও যে রিশাদের উপর ক্ষেপে ছিলো সে কিছু বলছে না।

রিশাদ রুহিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে মিজানুর চৌধুরী বাঁধা দিতে গেল রোহান আটকায়।
‘রোহান তুই ছাড় আমায় আটকালি কেন?ওই শত্রুর ছেলেকে আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে দিবো না ওই রশিদ মির্জা এসব প্ল্যান করে নিজের ছেলেকে পাঠিয়েছে যাতে আমার মেয়েকে নিয়ে গিয়ে কষ্ট দিয়ে প্রতিশোধ নিতে পারে।

” আব্বু শান্ত হও আমার কথা শোনো তুমি চাইলেও আটকাতে পারবে না কারণ রুহি লিগ্যালি রিশাদের সাথে বিয়ে হয়েছে ওর বউ হয়ে গেছে এখন রুহির উপর তোমার থেকে রিশাদের অধিকার বেশি।

‘সে যাই হোক আমি আমার মেয়ের জীবন নষ্ট হতে দিবো না তুই যে করে হোক রুহিকে আনার ব্যবস্থা কর।

ঠিক আছে এ নিয়ে পরে ভাববো তুমি একটু বসো নয়তো তোমার পেসার ওঠে যাবে।
মিজানুর চৌধুরী যায় রোহান মনে মনে বলে,
‘আব্বু তোমার মেয়ে কষ্টে থাকবে না রিশাদ ওকে কতটা ভালোবাসে তা বুঝতে পেরেছি আর বুঝতে পেরেছি ওকে ভুল বুঝে কত বড় ভুল করেছি হয়তো পরিবারিক শত্রুতা আছে তার প্রভাব আমার বোনের উপর পড়বে না এতটুকু বিশ্বাস আছে। যাকে ভালোবাসা যায় তাকে কষ্ট দেওয়া যায় সে যতই শত্রুর মেয়ে হোক সেটা আমি নিজে বুঝি।
সে হয়তো অভিমান করে আছে ভুল আমারি অন্যের জন্য তাকে কষ্ট দিলাম আবার যে কারণে কষ্ট দিলাম সেটাও ছিলো মিথ্যে। তার অভিমান বেশি গাঢ় হওয়ার আগে ভাঙাগাতে হবে।
রোহান রাফিয়ার বলা শেষ কথাটা মনে করে একটু ভয় পায় যদি সত্যি আর না পাই যদি অভিমান ভেঙে ফিরে না আসে।

রিশাদ রুহিকে নিয়ে এসে গাড়িতে বসিয়ে দরজা লক করে দেয় বাহিরে আকাশ দাঁড়িয়ে ছিলো ওর সাথে কথা বলার জন্য আসে।
“আকাশ তুই বাড়ি যা আমিও যাই।

‘তুই একা যাবি বাড়িতে গেলে আংকেলের সাথে ঝামেলা হবে আমি জানি আংকেল ও মানতে চাইবে না আমি তোর সাথে যাই আংকেল কে বুঝাবো।

” ভালোবাসা আমার আর লড়াইটাও আমার তাই একাই লড়তে হবে। তুই গেলে আব্বু তোকে রাগের মাথায় কিছু বলতে পারে কারণ সে জানে আমার সাথে তুই থাকিস তুই সব জানিস।

‘ঠিক আছে যা আর মাথা গরম করিস না বুঝিয়ে বলবি আমাকে ফোন করে জানাবি কি হয়।

“ওকে জানাবো।

আকাশ বাইক নিয়ে চলে যায় রিশাদ গাড়িতে থাকা শাড়ি পরিহির নারীর দিকে তাকিয়ে ভাবে,
শেষমেশ আমার নামে করে তোমাকে পেলাম এখন পৃথিবী আমার বিপক্ষে গেলেও আমার ভয় নেই কারণ তুমি আনার সঙ্গে আছো।
হয়তো ভুল বুঝে আছো তবে সেও ভুল ধারণা বদলে যাবে।

চলবে……….?

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:১৭

রিশাদ মির্জা বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে ওর পাশে রুহি মাথা নিচু করে টলমল চোখ দাঁড়িয়ে আছে রিশাদ কলিং বেল বাজাতে রাশেদা মির্জা দরজা খুলে দেন উনার মুখে ভয়ের ছাপ বার বার পিছু তাকাচ্ছিলেন রিশাদ সেদিকে খেয়াল করে দেখে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন মুখের আবরণ দেখে মনে হচ্ছে প্রচন্ড রেগে আছেন। রাফিয়া চিন্তিত হয়ে সোফায় বসে আছে মনে মনে ভাবছে না জানি আজ কি হয় তবে মনে মনে ভীষণ খুশি।

রিশাদ রুহিকে নিয়ে ভিতরে আসতে গেলে রশিদ মির্জা বলে ওঠেন,

‘ওখানে দাঁড়াও! শত্রুর মেয়েকে নিয়ে এই বাড়িতে প্রবেশ করবে না। তুমি কি করে পারলে আমার শক্রর মেয়েকে বিয়ে করতে? তুমি আমার ছেলে হয়ে আমার সম্মান রাখলে না।

রাশেদা মির্জা এগিয়ে আসে নিজের স্বামিকে বলেন,
ওদের আগে ভিরতে আসতে দেও তার পর বলো যা বলার।

রশিদ মির্জা স্ত্রীর দিকে রাগি চোখে তাকাতে উনি চুপ হয়ে গেলেন। এবার রিশাদ বললো,

“আব্বু এখানে অসম্মান করার কি আছে? আমি রুহিকে ভালোবাসি তাই বিয়ে করেছি। ভালোবাসা বন্ধু কিংবা শত্রুতা দেখেনা আর এমনিতেও তোমার শত্রুতা ওর বাবার সাথে ওর সাথে নয় তাই তোমাদের শত্রুতার জন্য আমি আমার ভালোবাসা ত্যাগ করতে পারবো না আর ভলোবাসা কি অপরাধ?

‘ ভালোবাসা অপরাধ কি না সেটার জবাব দিতে পারবো না কিন্তু শত্রুর মেয়েকে ভালোবাসা তোর অন্যায়।

রিশাদের সহসা উত্তর,
” তাহলে সে অন্যায় আমি প্রতিদিন করতে চাই।

রিশাদের কথা শুনে রশিদ মির্জা ক্ষেপে যায়।

কাল যখন মানুষ বলবে কি রশিদ মির্জা শেষমেশ শত্রুর মেয়েকে বাড়ির বউ করলে তখন কি উত্তর দিবো?আজ তোর জন্য ওই মেয়ের বাবা মিজানুর চৌধুরী আমাকে ফোন করে অপমান করতে পারলো। তোর জন্য আমাকে এতো কথা শুনতে হলো। তোকে এই জন্য মানুষ করেছিলাম যাতে বড় হয়ে তোর জন্য মানুষের কাছে অপমানিত হতে হবে?

রিশাদ জিজ্ঞেস করে,

” কে তোমাকে অপমান করেছে?কেন অপমান করেছে?

‘মিজানুর চৌধুরী ফোন করে অপমান করেছে বলেছেন কেমন ছেলে মানুষ করেছেন যে জোর করে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে,বেয়াদব ছেলে জন্ম দিয়েছি
অবশ্য ঠিকই বলেছেন সন্তান মানুষ করতে পারলে তো আজ এউদিন দেখতে হতো না।

সাথে এ্যাও বলেছেন আমি সন্তান মানুষ করতে পারিনি তোকে তার মেয়ের পিছনে লেলিয়ে দিয়েছি অতীতের প্রতিশোধ নিতে।

রিশাদ রাগ হয়ে ওঠে কিছু একটা ভেবে রাগ কন্ট্রোল করে রশিদ মির্জাকে বলে,

“আব্বু তোমাকে তোমার ছেলে কথা দিলে যে মিজানুর চৌধুরী বলেছে বেয়াদব ছেলে জন্ম দিয়েছো সেই মিজানুর চৌধুরী একদিন বলবে শ্রেষ্ঠ সন্তান জন্ম দিয়েছো।
আর অতীতের প্রতিশোধ বলতে কোন বিষয়টা আব্বু?

রিশাদের প্রশ্নে রশিদ মির্জা মুখের আবরণ কাঠিন হয়ে যায় বলে,
‘সে উত্তর তোমাকে দেওয়ার হলে আগেই দিতাম আমি চাইনা তুমি এই প্রশ্ন আর কখনো জিজ্ঞেস করো।
আর এই মেয়েকে( রুহিকে ইঙ্গিত করে বলে) ওর বাবার কাছে দিয়ে আসো মিজানুর চৌধুরী বলেছে তার মেয়েকে তার কাছে না দিলে কালকে সকালে পুলিশ পাঠাবে তোমার নামে কেচ করবে তার মেয়েকে জোর করে বিয়ে করার অপরাধে।

রুহি চুপচাপ বাবা ছেলের কথা শুনছিলো রিশাদ রুহির হাতটা ধরে বলে,

” ওর হাত ধরেছি তিন কবুল বলে বিয়ে করেছি তখন ভয় ভয় পাইনি আর এখন তো ও আমার স্ত্রী তাই এসব পুলিশে ভয় পাইনা তুমি কি ভয় পাচ্ছো?

‘মির্জা বংশ কাউকে ভয় পায়না বরং তাদের সবাই ভয় পায়।

“তাহলে মিজানুর চৌধুরী হুমকিতে ভয় পাচ্ছো কেন?
আর তোমার শত্রুতার তার সাথে তার মেয়ে তো তোমায় কিছু করেনি।

রশিদ মির্জা চুপ হয়ে যান একবার রুহির মুখের দিকে তাকান।
চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা দেখতে কিছু বাচ্চা মুখে মায়াবী ভাব আছে কিন্তু পরখনে কিছু একটা ভেবে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

রাফিয়া এবার সাহস করে রশিদ মির্জা কে বলে,
-আব্বু ভাইয়া আর ভাবিকে ভিতরে আনি?

রশিদ মির্জা রাফিয়ার দিকে তাকিয়ে আর একবার রিশাদের দিকে তাকিয়ে মুখ কালো করে বলে,
‘তোদের যা ইচ্ছে কর আমার যা অপমান করার তা তো করেই ফেলেছে।

কথাগুলো বলে রশিদ মির্জা উপরে চলে যান। রাফিয়া দৌঁড়ে রাশেদা মির্জার কাছে যায়।
-আম্মু মিষ্টি আনো ভাইয়া ভাবিকে মিষ্টি মুখ করিয়ে ভিতরে আনতে হবে।

রাশেদা মিষ্টি আনতে যায় রাফিয়া রুহির কাছে গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরে বলে,
-জানিস তো আজ আমি খুব খুশি তুই সত্যি আমার ভাইয়ের বউ হয়েছিস তোর স্বপ্ন পূরন হয়েছে।

রুহি মলিন কন্ঠে বলে ওঠে,
;” স্বপ্ন কোনো একদিন ছিলো কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে দুইদিন আগে আজ এখানে এসে দাঁড়িয়েছি ইচ্ছের বিরুদ্ধে তোর ভাই না বলে ছলনা করে নিয়ে এসেছে।

রাফিয়া সব বুঝতে পারে তখন রুহিকে প্রশ্ন করে,
-আমার ভাইকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করলে ভালো থাকতি?তুই কি নিজের ইচ্ছেতে বিয়েটা করতে চেয়েছিলি?
তোকে একটা কথা বলবো আমার ভাইকে ভুল বুঝেছিস ভুল ভাঙলে সেদিন বুঝতে পারবি তখন আপসোস করতি।

রুহি কিছু বলার আগে রাশেদামির্জা মিষ্টি নিয়ে হাজির হয় রাফিয়া রুহির কাছ থেকে সরে পাশে দাঁড়ায় রাশেদা মির্জা হাঁসি মুখে রুহির মুখের সামনে মিষ্টি ধরে রুহির মন খারাপ থাকলেও মিষ্টিটুকু মুখে নেয় এটা ভেবে সামনে থাকা মানুষটাকপ খুবই ভালো তাকে দেখলেই মায়ের মতো লাগে।
মিষ্টি খাওয়া শেষে রাশেদা মির্জা বাড়ির ভিতরে আসতে বলে।
রিশাদ ভিতরে আসার জন্য রুহির হাত ধরে কিন্তু রুহি আস্ত করে হাত ছাড়িয়ে নেয় তার পর একা একা ভিতরে আসে ওর পরে রিশাদ আসে।

রাশেদা রুহিকে খাবার খেতে দিতে চাইলে বলে খাবো না আন্টি আমার ভালো লাগছে না।

রুহির কথা পরবর্তীতে রাশেদা মির্জা কিছু বলেনা শুধু রাফিয়াকে ইশারা করে চলে যায়।

রাফিয়া রুহিকে বলে,
-চল তোকে রুমে দিয়ে আসি তুই নিশ্চয়ই টায়ার্ড।

রুহি চুপচাপ রাফিয়ার সাথে উপরে আসে। রাফিয়া রুহিকে রিশাদের রুমে নিয়ে আসে।
-এই নে তোদের রুম রেস্ট নে আমি গেলাম।
রাফিয়া যেতে গিয়েও আবার ফিরে এসে বলে,
মন খারাপ করিস না ভাইয়া তোকে অনেক ভালোবাসে।

তোর কপাল অনেক ভালো রে নিজের ভালোবাসা কে পেলি বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে ভুল বুঝাবুঝিতেও একজন দূরে যেতে চাইলেও অপরজন যেতে দেয় না জোর করে বা ছলনা করে হলেও নিজের কাছে নিয়ে আসলো আর আমার কপালে ভালোবাসা এসেও দূরে চলে গেল পরিবারের শত্রুতার ভুল বুঝাবুঝিতে আমাকে দূরে সরিয়ে দিলো অথচ একদিন বলেছিলো পরিবার হোক আর যাই হোক শত বাঁধা পেরিয়ে হলেও নিজের করবে হারিয়ে যেতে দিবে না ভালোবাসা। সেসব কথা সেদিন মিথ্যা প্রমান করেছে।

রাফিয়া এই কথা গুলে রোহানকে ভেবে মনে মনে বলে।
চোখে অজান্তেই পানি আসে আজকে সকাল থেকে রোহান ফোন করলেও ধরেনি কল ধরলে হয়তো বুঝাতে পারতো সেদিনের বলা কথা গুলো রাগের মাথায় বলেছিলো।

চলবে……….?