তুমি আমার সেই প্রিয়শী পর্ব-২০+২১

0
229

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:২০

রিশাদ চারদিক হর্নে হয়ে রুহিকে খুঁজতেছে কিন্তু কোথাও দেখা পেল না রুহির কলেজে গেলো সেখানে রাফিয়া ছিলো ও সবে কলেজ থেকে বাহির হয়েছে কলেজের সামনে ভাইকে অস্থির হয়ে দেখে জিজ্ঞেস করে,

-কি হয়েছে ভাইয়া এতো অস্থির হয়ে আছো কোনো সমস্যা?

“রুহি বাসায় নেই আম্মুকে কিছু না বলে বেরিয়েছে ভাবলাম তোর কাছে কলেজে এসেছে নাকি।

-না ভাবি তো এখানে আসেনি। তুমি কি ভাবির বাবার বাসায় খোঁজ নিয়েছিলে? ওখানে যেতে পারে।

” রোহানকে ফোন করেছিলাম কিন্তু ধরেনি।

-আমার মনে হয় ও বাড়ি গেছে।

“আমার টেনশন হচ্ছে যদি ও বাড়ি না যায়।

-চলো ও বাড়ি গিয়ে দেখে আসি ওখানে গেছে কিনা।

রাফিয়ার কথায় রিশাদ সম্মতি জানায় দুই ভাই বোন মিলে গাড়িতে ওঠে পড়ে রওনা দেয় রুহিদের বাড়ি।

চৌধুরী বাড়ির সামনে গাড়ি থামায় দুই ভাই বোন নেমে গেইট দিয়ে আসলে গেলে দারোয়ান ঢুকতে বাঁধা দেয়।

” কি সমস্যা যেতে দিচ্ছেন না কেন?

‘মির্জা বাড়ির কাউকে এ বাড়িতে প্রবেশ নিষেধ করেছেন।

“কে নিষেধ করেছেন?

‘মিজানুর চৌধুরী।

” সেটা আমি বুঝে নিবো বলে দারোয়ানকে জোর করে সরিয়ে রিশাদ আর রাফিয়া ভিতরে যায়।

কলিং বেল বাজলে রুহি দরজা খুলে দেয় সামনে রিশাদ আর রাফিয়া কে দেখে অবাক হয়। রিশাদের দিকে তাকালে দেখে রিশাদ রাগি চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে দাঁত দাঁত চেপে বলে,

“ননসেন্স বাবার বাড়ি এসেছো বলে আসোনি কেন?

-তুমি কে যে তোমায় বলে আসতে হবে?

কারো আওয়াজ শুনে তাকিয়ে দেখে মিজানুর চৌধুরী কথাটা বলেছেন রিশাদ হেঁসে সামনে গিয়ে বলে,

” আমি আপনাক জামাই শশুড় মশাই এতো তাড়াতাড়ি ভুলেন। চেয়ারম্যান হয়ে স্মৃতিশক্তি কম হলে চলে।

-তুমি আমার বাড়িতে এসেছো কেন? দারোয়ান আটকায়নি? বলেনি এ বাড়িতে মির্জা বাড়ির কারো প্রবেশ নিষেধ।

“বলেছিলো কিন্তু সে নিয়ম তো আগেই ভেঙে গেছে কারণ মির্জা বাড়ির বউ আপনার বাড়িতে এসে আছে তাকে নিয়ে যেতে এসেছি।

-রুহি তোমায় সাথে যাবে না আমি তোমার মতো অভদ্র ছেলেকে আমি জামাই হিসাবে মানিনা খুব শিগগিরই তোমার সাথে আমার মেয়ের ডিভোর্স করাবো।
তুমি এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও।

” ঠিক আছে যাচ্ছি। রুহি তাড়াতাড়ি এসো?

রুহি এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে দেখে রিশাদ হাত ধরে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু রুহি নড়ে না হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে ,

‘আমি যাবো না আপনি আমায় ঠকিয়েছেন আব্বু যা বললো তাই হবে।

রিশাদ রেগে যায়।
“রুহি আমাকে আরো রাগিয়ো না তাড়াতাড়ি চলো।

‘যাবো আপনি কি করবেন? জোর করবেন? জোর করে যদি নিয়ে যান তাহলে আজকেই আমার শেষ দিন হবে।

রুহির কথায় রিশাদ থেমে যায় কোনো কথা না বলে রাফিয়াকে নিয়ে বাহির হয়ে আসে।

মিজানুর চৌধুরীর হাঁসি মুখে ফোন লাগায় সাদিবকে প্রথম প্ল্যান সাকসেসফুল সেটা জানায়।

রিশাদ আর রাফিয়া বাহির হয়ে গেটের কাছে আসতে রোহানকে দেখতে পায় হাতে অনেকগুলো ঔষধ রিশাদ জিজ্ঞেস করে,

” কার ঔষধ এসব?

-আম্মু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো উনার ওষুধ আনতে গেছিলাম।

“তোকে ফোন করেছিলাম ধরলি না আর রুহি এ বাড়িতে এসেছে বলিসনি কেন? ওকে খুঁজে না পেয়ে আমার মাথা কাজ করছিলো না।

‘সরি আমি টেনশনে ছিলাম রুহিকে আব্বু ফোন করে আম্মুর অসুস্থতার কথা জানায় ও তখনি চলে আসে তাই হয়তো কাউকে জানাতে পারেনি।

” ঠিক আছে তোর বোনকে দেখে রাখিস আর বাসায় গিয়ে তোকে ফোন দিবো কিছু কথা আছে।

‘রুহিকে নিয়ে যাবি না?

“তোর বোন যাবে না আমি নাকি ওকে ঠকিয়েছি। তোর বাবা বলেছে আমার সাথে তার ডিভোর্স করাবে আর রুহি সে কথা মানবে।

‘আমি ওকে বুঝাবো আব্বু নিশ্চয়ই ভুলভাল বুঝিয়েছে তুই বাসায় যা আমি পরে কথা বলবো।

রিশাদ গাড়ির কাছে যায় রাফিয়া দাঁড়িয়ে ছিলো রোহানের দিকে একবার তাকিয়ে আর তাকায়নি রোহান এবার রাফিয়ার দিকে তাকায় মুখে হাঁসি নিয়ে বলে,

:কতদিন দেখিনা তোমায় হয়তো সময়ের সাপেক্ষে ভুল বুঝেছিলাম অভিমানের পাল্লা কি বেশি ভারি হয়ে গেছে।

রাফিয়া না তাকিয়ে উত্তর দেয়,
‘আমি অভিমান যার তার উপর করিনা মিস্টার রোহান চৌধুরী আর আপনি কে? আপনাকে আমি চিনিনা।

:মায়াবিনী এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে আমি তোমার মনের মালি।

‘আপনার রঙের কথা শুনার আমার সময় নেই বলে রাফিয়া রেগে চলে যায় গাড়িতে বসতেই রিশাদ রাফিয়া গেইট পেরিয়ে রাস্তায় অনেকটা চলে যায় রোহান সেদিকে তাকিয়ে হেঁসে বলে,

:ভালোবাসো বলেই অভিমান করেছো সে আমি জানি,
অপেক্ষা শুধু সময়ের অভিমান ভাঙ্গাতে আমি হয় আমি সেটা মানি।

সারাদিন কেটে গিয়েছে দিনের আলো ফুরিয়ে অন্ধকার নেমে এসেছে অনেক সময় আগেই। রুহি দুপুর ঢুকেছে আর বেরোয়নি। রাত নয়টা বাজে মায়ের ওষুধ খাওয়াতে হবে বলে রুহি রুম থেকে বেরিয়ে মা বাবার রুমে যায়।
মা কে খাবার খাইয়ে দিয়ে ওষুধ খাইয়ে দেয়।
খাওয়া শেষে মা কে আদেশ শুরে বলে ঘুমিয়ে পড়ো বলে নিজের রুমে আসতে গেলে মিজানুর চৌধুরী পিছু ডাকে রুহি থেমে যায় পিছনে তাকায়,

‘তুমি কি আমার সিদ্ধান্ত মানতে রাজি?

” কোন সিদ্ধান্ত আব্বু?

‘তখন বললাম যে ওই বেয়াদব ছেলের সাথে তোমার ডিভোর্স করাবো তার পর আবার সাদিবের সাথে বিয়ে দিবো।

রুহি চকিত নয়নে বাবার দিকে তাকায় তার পর কিছু ভেবে মাথা নিচু করে নেয় কিছু বলে না।

মিজানুর চৌধুরী বলে,
‘তাহলে আমি কি ভেবে নিবো তুমি আমার সিদ্ধান্তে রাজি?

“আমার সিদ্ধান্ত আমি কালকে জানিয়ে দিবো।

‘আশা করছি আমাকে নিরাস করবে না। সব সময় মনে রাখবে বাবা কখনো তোমার ক্ষতি চাইবে না।

” জ্বী বলে রুহি রুম থেকে বেরিয়ে আসে দরজার বাহিরে রোহানকে দেখতে ভাইয়ের দিকে এক নজর তাকিয়ে নিজের রুমে চলে যায়।

রোহান সবকিছু শুনেছে বাবা কে কিছু বলতে চেয়েও বললো না কারণ তাকে বলে লাভ নেই যা করার এখন আমাকেই করতে হবে বলে রুহির রুমের দিকে হাঁটা শুরু করে।

রোহান রুহির রুমের দরজায় টোকা দেয়।

-রুহি দরজা খোল।

ভাইয়ের আওয়াজ শুনে রুহি চোখের পানি মুছে নেয়। দরজা খুলে দিতে রোহান ভিতরে আসে বলে,

-তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।

“কি কথা বলো?

-তুই কালকে আব্বুকে কি ডিসিশন দিবি? রিশাদকে ডিভোর্স দিতে রাজি হয়ে যাবি?

” তাছাড়া আর কি করবো ঠকবাজ মানুষের সাথে তো সংসার করা যায় না।

-দেখ তুই রিশাদকে ভুল বুঝছিস ডিভোর্সের কথা মাথাতেও আনিস না পরে পস্তাবি।

“তুমি উনার হশে সফাই গাইছো কেন? সেদিন আব্বুর সাথে হওয়া ঘটনা ভুলে গেছো? বিয়ের রাতে উনি তোমাকে ফোন করে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন তাই না?তুমি তাকে সাহায্য করেছো যে আব্বুর সাথে এমন করেছিলো আমাকে ঠকিয়েছে।

– না ভুলিনি আর কে করেছে সেটা ভালো করে জানি অনেক সময় চোখের দেখা ঘটনা মিথ্যা হয়।

” কি বলতে চাইছো ভাইয়া?

-বলতে নয় দেখাতে হবে নয়তো বিশ্বাস করবি না যদিও রিশাদ তোকে বলতে মানা করেছিলো কিন্তু না দেখালে তুই অনেক বড় ভুল করবি বলে রোহান ফোন বাহির করে একটা ভিডিও দেখায়।

ভিডিও দেখে রুমি চমকে যায়। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখতে পায় রিশাদ নয় আব্বুকে ধ্বাকা দিয়েছিলো আব্বুর বিশস্ত কর্মী খোরশেদ।

রোহান ফোনটা রাখে রুহিকে বলে,
-এবার বিশ্বাস হলো তো, দেখলি কে করেছে এসব? আমিও তোর মতো রিশাদ কে ভুল বুঝেছিলাম তার পর বিয়ের দিন রিশাদ আর আকাশ আমার কাছে এসে সব ক্লিয়ার করে তাই তোকে পেতে সাহায্য করেছিলাম কারণ আমি জানতাম রিশাদ তোকে অনেক ভালোবাসে আর তুই ও বাসিস।

“বাসতাম অনেক ভালোবাসতাম কিন্তু সব ভেঙে গেছে আব্বুর ঘটনা মিথ্যা হলেও সে ঘটনা তো মিথ্যে নয়।

রোহান চোখ কুঁচকে জিজ্ঞেস করে কোন ঘটনা?

রুহি ফোন থেকে সুইটি আর রিশাদের ছবি গুলো বের করে রোহানের সামনে ধরে।
” এই দেখো ভালোবাসার নমুনা যার সম্পর্ক অন্য মেয়ের সাথে।

রোহান ফোনটা হাতে নেয় ছবিগুলো ভালো করে দেখে রুহি কে জিজ্ঞেস করে,
– এসব ছবি তোকে কে দিয়েছে?

“ওই মেয়েটাই পাঠিয়েছে।

রোহান জোরে হেঁসে ওঠে। এই সিরিয়াস মহূর্তে ভাইকে হাঁসতে দেখে রুহি বাঁকা চোখে তাকায়।
” হাঁসছো কেন?

-হাঁসবো না তো কি করবো? তুই এতো বোঁকা কেন রে?

“মানে?

– মানে হলো এসব ছবি এডিট করা মেয়েটার সাথে ছেলেটা রিশাদ নয় অন্য কেউ ছবিতে রিশাদের মুখ লাগিয়েছে ভালো করে দেখলেই বুঝতে পারবি। এই দেখ একটু মোটা লাগছে আর রিশাদ কি এতো সর্ট?

রুহি ভালো করে খেয়াল করে দেখে তাই তো রিশাদ তো এমন না।ছবি দেখে মন ভেঙে গেছিলো এতো সুর্খ ভাবে দেখা হয়নি।

– এজন্য বলেছিলাম ভুল বুঝে সিদ্ধান্ত নিবি না। প্রমান হলো তো রিশাদের কোনো দোষ নেই ও তোকে নিজের চেয়ে ভালোবাসে।

রুহির মন ভালো হয়ে মুখে হাঁসি রেখা ভাইকে জড়িয়ে ধরে বলে,

” ধন্যবাদ ভাইয়া ভুলটা ভেঙে দেওয়ার জন্য ভুল বুঝে উনাকে কত কথা শুনিয়েছি উনি নিশ্চয়ই কষ্ট পেয়েছেন।

-ধন্যবাদ দিতে হবে না। ভুল বুঝে ভালোবাসার মানুষকে অনেক কথা বলে ফেলি সেটা তখন না বুলেও পরে বুঝতে পারি কিন্তু সেটা দেরিতে ওপাশের মানুষটা কষ্ট পায় সেটা তো তখন ভাবিনা।

রুহি চুপ করে থাকে ভাইয়া তো ঠিকি বলেছে কত কষ্ট দিয়েছি উনি কত বলেছিলো ভুল বুঝেছি আর যেদিন ভুল ভাগবে সেদিন আফসোস করবো আজ সেটা সত্যি হলো আফসোস করছি কেন একটু বুঝতে চেষ্টা করলাম না, সত্যিটা জানতে চাইলাম না।

-শোন ভুল যখন ভেঙেছে সব মিটমাট করে মিবি আর কালকে ওই বাড়ি চলে যাবি।

“ঠিক আছে যাবো বলে মাথা নাড়ায়। রোহান রুহির রুম থেকে বেরিয়ে যায় দরজা পেরিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসে দেখে রুহি জিজ্ঞেস করে কিছু বলবে?

– হ্যাঁ! ওই মেয়ের সাথে রিশাদের এডিট করা ছবি গুলো আমাকে দে রিশাদকে দেখাতে হবে আর ওই মেয়েকে শায়েস্তা করতে হবে ওর সাহস কি হয় এসব করার বলে ছবি গুলো নিজের ফোনে নিয়ে রোহান চলে যায়।

রুহি দরজা দিয়ে এসে ভাবে এডিট করা ছবি দেখে ভুল বুঝেছি উনি জানতে নিশ্চিত হাঁসবে সাথে রাগ ও করবে কত কষ্ট দিয়েছি উনাকে আজকে যা নয় তাই বলেছি চুপচাপ চলে গেছিলো নিশ্চয়ই আমার ব্যবহারে আঘাত পেয়েছে।
ভুল যখন করেছি শুধরে নিতে হবে উনার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে রাগ,অভিমান ভাঙাতে হবে।
কিন্তু তার আগে তো উনাকে কাছে পেতে হবে তার পর তো সব হবে।
কি করে কাছে আনবো?
ভেবে একটা বুদ্ধি বাহির করে। হ্যাঁ এটাই করবো তাহলে আসতে বাঁধ্য হবে বলে নিজের মনে হেঁসে ওঠে।

চলবে………..?

#তুমি_আমার_সেই_প্রিয়শী
লেখিকা:#শ্যামলী_রহমান
পর্ব:২১

রিশাদ সবে বাহির থেকে এসে রুমে ঢুকেছে রাতের খাবার খায়নি। রাশেদা মির্জা এতো করে বলেও খাওয়াতে পারেনি। মন খারাপ থাকলে খাবার গলা দিয়ে নামে না একটা কথা আছে পেটের খিদার চেয়ে মনের খিদা বড় জ্বালা আমার মনের চাওয়া তাকে আমার সব সময় পাশে চাই, সাথে চাই, হাতে হাত রেখে অন্ধকার পথ পাড়ি দিতে চাই আর সে আমার থেকে দূরে যেতে চায় কিন্তু আমি থাকতে তো তা হতে দিবো না একবার যখন পেয়েছি ছাড়বো না জীবন থাকতে।
বিষন্ন মন নিয়ে বদ্ধ করে বসে এসব ভাবছিলো রিশাদ তখনি ফোনে কল বেজে ওঠে। রিশাদ ফোনের দিকে তাকায় তার থেকে একটু দূরে টেবিলে ফোন খানা চার্জে দেওয়া একটু আগেই দিয়েছি।
প্রথম কল কেটে গেলো ফোন আবারো বাজছে রিশাদ অনিহায় ওঠছে না।
কেইবা হবে আকাশ নিশ্চয়ই এই ভেবে বসে থাকে।

এদিকে রুহি কল দিতে দিতে হাফাই গেছে।

‘দূর ফোন ধরছে কেন?
বলে রুহি রাগে বিরক্তিতে ফোনটা বেডে ছুড়ে মারে।

‘ফোন ধরছে না এখন কি করবো?
সব কিছু জানার পর কথা না বলে নিজের অস্থির লাগছে ইচ্ছে করছে ছুটে যাই উনার কাছে।
আইডিয়া!
আমি বরং ওই বাড়ি যাই।
কিন্তু এতো রাতে যাবো কিভাবে আর গিয়ে বলবো না কি?
আমি তো আর ছেলে না যে ওয়াল বেয়ে উনার রুমে যাবো।

নিজের মনে শতশত প্ল্যান করছে আবার নিজেই ক্যান্সেল করছে। কি করবে ভেবে না পেয়ে ছুটে চলে ভাইয়ের রুমে।
রোহানের রুমের দরজা খোলা ছিলো এসে দেখে ভাই কাউকে লাগাতার কল দিচ্ছে কিন্তু বার বার বন্ধ বলছে এতে তার চোখে মুখে বিরক্তি সাথে আকুলতা কিন্তু কার জন্য এই আকুলতা তা রুহি বুঝতে পারে না।
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বলে,

‘ভাইয়া আসবো?

রোহান পিছনে ফিরে রুহিকে দেখে ফোনটা কান থেকে নামিয়ে তড়িঘড়ি করে পকেটে রেখে হেঁসে বলে,

-আয়। কিছু বলবি?

রুহি মাথা নিচু করে বলে,

‘ভাইয়া তুমি একটু উনাকে বলে দিও তো কালকে যেন আমায় নিয়ে যায়।

-আমি কেন? তুই ফোন করে বল।

‘ফোন করেছিলাম ধরেনি।

-ঠিক আছে বলে দিবো তুই গিয়ে ঘুমিয়ে পড় টেনশন করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে বলবো না সব ঠিক করতে হবে তোকে বুঝলি?

রুহি মাথা ঝাকায় যার অর্থ হ্যাঁ বুঝেছি।

রুহি চলে যায়। রোহান ফোন বাহির করে এবার রিশাদের ফোনে কল দেয় অনেক বার দিয়ে ধরে না দেখে রেগে বলে,

-সালা দুই ভাই বোন এক কেউ ফোন ধরে না।
একজন সামান্য ভুলে দূরত্ব বাজায় রাখছে আরেকজন নিশ্চয়ই বিরহে কাতর হয়ে সব ভুলে গেছে।

নিজের মনে বকবক করে রিশাদকে মেসেজ দেয় জুরুলি কথা আছে আর সাথে রুহির থেকে নেওয়া ছবি গুলো পাঠায়

বেডে বসে পড়ে অনেক ভেবে দেখে আজ কিছুতেই দেখা পাওয়া সম্ভব নয় কালকে ওই বাড়ি চলে যাবো।

কিন্তু আব্বুকে কি বলবো?আমি ওই বাড়ি আব্বুর কথার বিরুদ্ধে গেলে নিশ্চয়ই রাগ হবে।
না আমি যাবো আব্বুকে যা বলার বলবো শুধু আজকের রাতটা পার হোক।

রিশাদ এখনো নিশ্চুপ হয়ে বেডে মাথা নিচু করে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।
“ফ্রেশ হওয়া দরকার কিন্তু ক্লান্ত শরীর নিয়ে ওঠতে ইচ্ছে করছে না তার পর ও নিজেকে জোর করে ওঠে ওয়াশ রুমে যায়।

রিশাদ ওয়াশ রুম থেকে ফ্রেশ হয়ে বাহির হয় মাথা পুরো ভিজে গোসল করেনি কিন্তু মাথায় পানি দিয়েছে এখন কিছুটা ভালো লাগছে যদিও মন ভালো নেই।
তোয়ালা দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে চার্জে লাগানো ফোনের দিকে নজর যায় মনে হয় তখন ফোন দিচ্ছিলো আকাশ বোধ-হয় তখন মন মেজাজ ভালো না থাকায় অনিহায় ফোন ধরা হয়নি জরুলি কিছু হতেও পারে ভেবে ফোনটা চার্জ থেকে খুলে নেয় তখন স্কিনে দুটো নাম্বারে কল আসেছে দেখতে পায়।
আশ্চর্য হয়ে চেয়ে থাকে প্রথম কল রুহির আর এতো বার কল দিয়েছে আর দ্বিতীয় নাম্বার রোহানের ও অনেক বার কল দিয়েছে।
কিছু হয়নি তো আবার ভেবে তাড়াতাড়ি করে কল লিস্টে প্রথমে ওঠে থাকা রোহানের ফোনে কল দেয়।

রোহান রাফিয়ার নাম্বারে এমনকি ফেসবুকে সব জায়গায় কনট্রাক করার চেষ্টা করেও পারেনি ব্যর্থ হয়ে সবে ঘুমানোর জন্য বিছানায় শুয়ে পড়েছে তখনি রিশাদের কল আসে ফোনের রিংটোন শুনে রোহাম চটকে ওঠে হাঁসি মুখে ফোন হাতে নেয় কিন্তু যখন দেখে রিশাদ ফোন করেছে তখন আবার মুখটা চুপসে যায় ও ভেবেছিলো রাফিয়া ফোন করেছে কিন্তু তার ধারণা ভুল।

রোহান ফোন ধরতেই রিশাদ অস্থির হয়ে বলে,
” তোর বোন এতোবার ফোম দিয়েছিলো তুই ও এতো বার ফোন দিয়েছিলি কারো কিছু হয়েছে নাকি?

রোহান রাগি কন্ঠে বলে,
‘সালা এতোক্ষণ কই ছিলি? তোকে ফোন দিয়ে পাওয়া যায় কেন?

“সরি! আসলে মনমানসিকতা ভালো নেই জানিস তো এজন্য ফোন হাতে নেইনি। কি হয়েছে সেটা বল সব ঠিক আছে তো?

‘হ্যাঁ সব ঠিক আছে তবে রুহি ঠিক নেই।

রুহি ঠিক নেই কথা শুনতেই রিশাদের অস্থিরতা বেড়ে যায় মুখের আদল পরিবর্তন হয় তাগিদ কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,

” কি হয়েছে রুহির তাড়াতাড়ি বল? আমি কি আসবো?

‘আরে রিল্যাক্স এতো অস্থির হচ্ছিস কেন?
রুহির কিছু হয়নি কিন্তু ওর ভুল ভেঙেছে তোকে ভুল বুঝে ভুল করেছে এর জন্য ও অনুতপ্ত ভুল বুঝতে পারার পর থেকে রুহির মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছিলো তোর কাছে যাওয়ার জন্য।

রিশাদ কিছুটা শান্ত হয় তার পর কিছু ভেবে রোহানকে প্রশ্ন করে,
“রুহির ভুল ভাঙলো কি করে?
তুই ওকে সব বলে দিয়েছিস?

‘হ্যাঁ বলে দিয়েছি আর ভিডিওটা দেখিয়েছি তবুও অবিশ্বাস ছিলো অন্য এক কারণে যেটা দেখলে তুই ও আবাক হবি তোর ফোনে কিছু ছবি পাঠিয়েছি চেক কর।

রোহানের কথা মতো ওকে কলে রেখে মেসেনজারে যেতেই নোটিফিকেশন আসে ইনবক্সে গিয়ে দেখে কয়েকটা ছবি এসেছে সেখানে চাপ দিতে দেখতে পায় সুইটি আর তার নিজের কিছু ছবি কোনটাতে হাত ধরা আবার কোনটাতে জড়িয়ে রাখার ছবি। নিজের সাথে সুইটির ছবি দেখে অবাক হয় রোহানকে বলে,

” এগুলো ছবি কই পাইলি?সব ছবি তো এডিট করা।

‘আর বলিস না ছবি গুলো রুহির কাছে কে জানি পাঠিয়েছে নাম নেই। রুহি এই ছবি গুলো দেখে আরো বেশি ভুল বুঝেছে সরি ভুল বুঝানো হয়েছে ও মনে করেছে ওই মেয়ের সাথে তোর সম্পর্ক আছে।

“তোর বোনের মাথায় বুদ্ধি নেই? এমনিতে তো ভালো কথা জানে কাকে কিভাবে কথায় আঘাত করতে হয় সেটাও জানে তাহলে বুঝতে পারেনি কেন এগুলো ফেক ছবি।

‘এখানে রুহির দোষ নেই ও এসবের কিছু বুঝেনা আর নিখুঁত ভাবে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না রুহির তো আমার আর তোর মতো বুদ্ধি বা জ্ঞান কোনোটাই হয়নি।

” ভাই হোস বোনের সাপোর্ট তো নিবি ভালোবাসার মানুষের দূরে চলে যেতে চাওয়া আর কথায় আঘাত যে কতটা কষ্ট দেয় সেটা বুঝবি না।

রোহান মনে মনে বলে,
‘তোর চেয়ে কম জানিনা বরং বেশি জানি যেটা আমিও প্রতিনিয়ত বুঝছি।
রুহি তোকে কালকে এসে নিয়ে যেতে বলেছে।

“তোর বোনকে বলে দিস আজকে যখন নিতে গেছিলাম তখন আসেনি যখন আমি আর নিতে যেতে পারবো না সে যেমন কাউকে না জানিয়ে একা যেতে পেরেছে তেমন একা আসতে পারবে।

‘রুহি একা যেতে গেলে আব্বু ঝামেলা করবে তুই আসলে ভালো হবে।

” এবার লড়াইটা ওর একা ভালোবাসাকে দূরে সরে দিয়ে ও চলে গেছিলো এখন আবার কাছে আসতে হলে ওকে একা আসতে হবে আমি সদরে গ্রহন করবো তবে আমাকে দেওয়া কষ্টের শোধ নিবো একটু (পরের কথাটা রিশাদ রশিকতার সুরে বলে)

রোহান ভাবুক কন্ঠে বলে,
‘কি শোধ নিবি?

“সেটা তোর বোন বুঝতে পারবে তবে চিন্তা করিস না মারবো না, কাটবো না শুধু একটু…….
থাক এখন বলবো না তোর নিজের বোন এসব শুনতে নেই।
অনেক রাত হলো ঘুমাই কতদিন পর একটু শান্তিতে ঘুমাবো।

‘সালা তুই তো শান্তিতে ঘুমাবি কিন্তু আমার রাত কাটবে অশান্তিতে, অস্থিরতায়।

” কেন? প্রেমিকা কি রাগ করেছে?

রোহান আফসোসের রেখায় বলে,
‘রাগ করেনি তবে দূরে চলে যেতে চায় অবশ্য দোষ তার না আমার নিজরই দোষ তাকে কোনো কারণ ছাড়াই ভুল বুঝেছি যা নয় তাই বলেছি।
সেদিন ও কান্না করে বলেছিলো ভুল ভাঙলে আফসোস করবো আর তখন ওকে চাইলেও পাবো না।
ওর কথা ঠিকই ছিলো ভুল ভাঙলো আফসোস করছি তবে ওকে দূরে যেতে দিবো না যত যাই হোক।

রিশাদ এক মিনিট চুপ করে সব শোনে আর কিছু জিজ্ঞেস করে না ফোন রাখার আগে বলে,

“তোর জন্য আমার তরফ থেকে একটা গিফট আছে।

‘কিসের গিফট আর কি জন্য?

” এই যে আমাকে তোর বোনের জামাই বানালি অনেক সাহায্য করলি এজন্য দিবো।

‘ঠিক আছে বলে ফোন রেখে রিশাদ বিছানায় শুয়ে পড়ে চোখ বন্ধ করে হাঁসে আর বলে,

“শান্তির ঘুম আজ দিবে ধরা,
রাতের পরে হবে বেলা,
তার পর শুরু হবে আমার খেলা।

চলবে………..?