#বছর_দুয়েক_পর
#পর্ব_৯
#সারিকা_হোসাইন
********
সারা দিনের নরম রোদ মিইয়ে গিয়ে সন্ধ্যার কুয়াশা ঘেরা কালিমার হাতছানি।মৃদু উষ্ণ ধরণী ধীরে ধীরে শীতলতায় ছেয়ে যেতে শুরু করেছে।অদূরে মাইকে মাগরিবের আজান ধ্বনি বেজে উঠলো।সেই আজানের কোমল সুরে ঘুম ভাঙলো তাথৈ এর।পিটপিট চোখে চারপাশে নজর বুলাতেই ডিম লাইটের আবছা নীলচে আলোয় পুরো ঘরটা নজরে এলো।দরজা জানালা বন্ধ।হয়তো শীত নিবারনের জন্য আগে ভাগেই সবকিছু রুদ্ধ করা হয়েছে।বাইরে থেকে টুংটাং আওয়াজ আসছে।বোধ হয় রান্না ঘরে সন্ধ্যার চা নাস্তা তৈরি হচ্ছে।দুর্বল শরীরে পুনরায় চোখ বন্ধ করে ফেললো তাথৈ।মাথাটা বেশ ভারী হয়ে আছে সাথে কিঞ্চিৎ ব্যাথা।সারা শরীর অসহনীয় টনটনে হয়ে আছে।হাত পা নাড়াতে গেলে ব্যথায় চোখ মুখ কুঁচকে এলো।পা দুটো যেনো দুই মণ ভারী হয়ে রয়েছে।গলা বাড়িয়ে কাউকে ডাকতে চাইলো তাথৈ।কিন্তু অল্প ফ্যাসফ্যাসে আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই বেরোলো না।এদিকে পিপাসায় গলা ফেটে চৌচির।কাঁপা বল হীন হাতে নাগালের মধ্যেই ফোনটা খুজলো।নাহ সেটাও নেই।মুহূর্তেই রাগে ক্রোধে চোখ উপচে জল এলো।
একদিকে অসহনীয় ব্যথা তার মধ্যে প্রচন্ড পিপাসা।বার কয়েক শুকনো ঢোক গিললো তাথৈ।এরপর পুনরায় ডেকে উঠলো
“আম্মু”
আশেপাশে কোথায় হয়তো মেহেরিন নেই।মায়ের এমন উদাসীনতায় এবার ফুঁপিয়ে কেঁদেই ফেললো তাথৈ।এই অন্ধকার ঝাপসা কক্ষে ভয় লাগছে তার।চোখ বন্ধ করলেই সকালের ভয়ানক দৃশ্য খানা নজরে ভেসে উঠছে।
হঠাৎই খুট করে খুলে গেলো কক্ষের দরজা খানা।ভীত তাথৈ উঠে বসার চেষ্টা করলো।কিন্তু সর্বাঙ্গের ব্যথায় হার মেনে সামান্য ককিয়ে উঠলো।বেশ পরিচিত পুরুষালি গন্ধ টুকু নাকে বাড়ি খেলো।ধক করে উঠলো ছোট হৃদয় খানা।ধীরে ধীরে গন্ধের তীব্রতা বাড়লো।তাথৈ এর পানে সামান্য ঝুকে ভিয়ান তৎপর হয়ে শুধালো
“তুমি ভয় পাচ্ছিলে?
তাথৈ মাথা উপর নিচ করে নিজের ভীত স্বীকারোক্তি জানালো।ভিয়ান নিজের পুরুষালি বলিষ্ঠ হাতের সহায়তায় বালিশে হেলান দিয়ে আধশোয়া করালো তাথৈকে।এরপর শক্ত খসখসে কড়া পড়া হাতে নরম গালের জল মুছিয়ে আদুরে স্বরে জিজ্ঞেস করলো
“পানি খাবে?
শুকনো মরুভূমির ন্যয় গলায় তাথৈ অল্প করে বললো
“হু”
“জাস্ট টু মিনিট হুম?
উদ্বিগ্ন স্বরে কথাটি বলেই দৌড়ে বেরিয়ে এলো ভিয়ান এরপর নিজের কক্ষ থেকে পানির বোতল নিয়ে পুনরায় ফিরে এলো তাথৈ এর রুমে।দ্রুত ক্যাপ খুলে নিজ হাতে পানি তুলে ধরলো তাথৈএর মুখে।বেশ খানিকটা পানি খেয়ে বড় শ্বাস ছাড়লো তাথৈ।বুকে যেনো প্রাণ এলো তার।
গলায় কিছুটা শক্তি এনে ভিয়ানের পানে তাকিয়ে নিচু স্বরে তাথৈ শুধালো
“আম্মু কোথায়?
বোতলের ক্যাপ লাগাতে লাগাতে ভিয়ান অবলীলায় বলে উঠলো
“আন্টিকে ছোট বেলায় যেই মহিলা লালন পালন করতেন উনি নাকি হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।তাই তিহান এর সাথে ওই বাড়িতে গিয়েছে উনাকে দেখতে।যাবার আগে অবশ্য সবাইকে বলেছে তোমার খেয়াল রাখতে।বড় মামী ছোট মামী দুজনেই রান্নার কাজে ব্যস্ত এজন্য বোধ হয় কেউ তোমার ডাক শুনেনি।
আর কথা বাড়ালো না তাথৈ।লোকটার সামনে তার লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে আসছে চরম অস্বস্তি হচ্ছে আবার ভালোও লাগছে।এ কেমন ভিন্ন ধর্মী যন্ত্রনা?
বালিশে হেলান দিয়ে চোখ বুজে পরে রইলো তাথৈ।ভিয়ান হয়তো তাথৈ এর অসস্তির কারন বুঝলো।তাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে বলে উঠলো
“তুমি রেস্ট নাও আমি তুলতুল কে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
কথাটি বলেই প্রস্থান নিতে চাইলো ভিয়ান তার আগেই তাথৈ ফট করে ছোট মিহি স্বরে বলে উঠলো
“আপনি ই থাকুন প্লিজ,আমার ভালো লাগছে”
কথাটি বলেই লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো ষোড়শী।
তাথৈ এর কথায় কি ছিলো ভিয়ান জানেনা ।তাথৈ এর মুখ নিঃসৃত কথাগুলো শোনার সাথে সাথেই তার প্রশস্ত বুক থর থর করে কেঁপে উঠলো।পুরো শরীরের র/ক্ত উপচে পড়া সমুদ্রের বড় ঢেউ এর ন্যয় ছলকে উঠলো।অসহনীয় উত্তপ্ততায় পুরো শরীর মাথা ছেয়ে গেলো।
বেড সাইড টেবিলের উপর পানির বোতল রেখে তাথৈ এর বিছানা ঘেঁষে হাটু মুড়ে বসে গেলো ভিয়ান এরপর ঘোর লাগানো কন্ঠে শুধালো
“সত্যি?
তাথৈ লাজুক লতার ন্যয় নুইয়ে অস্ফুট স্বরে বলে উঠলো
“সত্যি।
একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের কাছে লাজুক রমণীর ভালোবাসা মিশ্রিত বাণী সহজেই বোধ্যগত।তাথৈ এর থেকে প্রাপ্ত ইঙ্গিত এ ভিয়ান এতটুকু সিউর হয়েছে মেয়েটি ও তাকে পছন্দ করে বা করতে শুরু করেছে।নিজের সব কিছু আদায়ে ভিয়ান শত ভাগ তৎপর।সহজেই পছন্দের কিছু না পেলে কিভাবে তা হাসিল করতে হয় এই বিষয়ে ভালো জ্ঞান রয়েছে তার।কিন্তু তাথৈ এতো দ্রুত তার অনুভূতি বুঝে যাবে এটা সে স্বপ্নেও ভাবেনি।নিজের শক্ত পুরুষিয় শিকলে নিজেকে আর বেঁধে রাখতে পারলো না ভিয়ান।নিমিষেই মিলিয়ে গেলো তার দম্ভ আর অহংকার।ঝুরঝুর করে ক্ষয়ে পড়লো সকল গাম্ভীর্যতা।সকলেই যে ভিয়ানকে দেখে অভ্যস্ত এই ভিয়ান সে নয়।আজকের এই মুহূর্তের ভিয়ান সম্পূর্ণ নতুন এবং আলাদা।
ভিয়ান তাথৈ এর ছোট দুই হাত নিজের বৃহৎ হাতের করপুটে বন্দি করে দরদ মিশ্রিত কন্ঠে শুধালো
“আমার বউ হবে তাথৈ?লাল টুকটুকে ছোট্ট একটা বউ?যাকে আমি আমার এই প্রশস্ত বুকে লুকিয়ে রাখবো আর অসহনীয় ভালোবাসায় প্রতিনিয়ত সিক্ত করবো।হবে আমার বউ তাথৈ?
বউ শব্দ টি শুনে কিঞ্চিৎ কেঁপে উঠলো তাথৈ।লজ্জায় তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা।পুরুষটি আকুতি ভরা নজরে এখনো তার দিকে উত্তরের অর্ত্যাশায় তাকিয়ে রয়েছে।এই অপরিচিত মানব কে হঠাৎই কেনো জানি খুব ভালো বাসতে ইচ্ছে হচ্ছে তার।কিন্তু বয়সে সে অনেক ছোট।তাই বলে কি বয়সের শিকলে ভালোবাসা কে বেঁধে রাখা যায়?
নিজের মস্তক অবনত রেখেই তাথৈ রিনরিনে ছোট কন্ঠে জবাব দিলো
“আমি এখনো অনেক ছোট।
“তোমার বড় হবার জন্য আমি অপেক্ষা করতে রাজি আছি।তোমার জন্য যন্ত্রনা দায়ক অপেক্ষা করতে আমার একদম কষ্ট হবে না।ট্রাস্ট মি….
ভিয়ানের দরদ ভরা সৎ কন্ঠে মাথা তুলে ভিয়ানের দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিলালো তাথৈ।নীলচে আবছা আলো যেনো এই সুদর্শন পুরুষকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে।মৃদু আলো তার চোখের গভীরতা দকটুও দমাতে পারেনি।লালচে ঠোঁটের নিচের মাঝারি কালো তিলটা বেশ আকর্ষণীয়।তাথৈ এর খুব ইচ্ছে হলো ওই খাড়া উঁচু নাকটা ,টকটকে ঠোঁট টা আর ঠোঁটের নিচের তিলটা একটু ছুঁয়ে দিতে।ভাবনার সাথে সাথে অবচেতন মনে কখন যে এই কাজ সে করে বসলো সে নিজেও জানেনা।
তাথৈ এর শিহরণ জাগানো স্পর্শ পেয়ে চোখ বন্ধ করে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেললো ভিয়ান।প্রচন্ড গরম লাগছে তার।দরদর করে ঘাম বেয়ে পড়ছে চিবুক বেয়ে।হৃদ যন্ত্রটা অস্বাভাবিক লাফাচ্ছে।সহসাই বিদ্যুৎ গতিতে তাথৈ এর ছোট হাত নিজের মুখের উপর থেকে সরিয়ে হাসকি কন্ঠে ভিয়ান বলে উঠলো
“আমার এই কক্ষ পরিত্যাগ করা উচিত তাথৈ।তোমাকে সব সময় পবিত্র রাখতে চাই আমি।
আর দাঁড়ালো না ভিয়ান।রুমের লাইট জ্বালিয়ে তাথৈএর পায়ের ব্যন্ডেজ এ নজর বুলিয়ে হনহন করে কক্ষ ত্যাগ করলো।
ভিয়ানের যাবার পানে তাকিয়ে লাজুক হাসলো তাথৈ।
“আপনি পৃথিবীর সবচাইতে শুদ্ধতম পুরুষ ভিয়ান নাওয়াফ।আপনাকে চিনতে মোটেও ভুল করিনি আমি।
**********
নিজের কক্ষে এসে গায়ের শীত বস্ত্র খুলে মেঝেতে ছুড়ে মেরেছে ভিয়ান।শরীরের উত্তপ্ততা কিছুতেই যেনো কমছে না।নিজের শরীর নিজের বসে থাকছে না।অসহনীয় যন্ত্রনায় হিংস্র হয়ে উঠেছে পুরুষ সত্তা।এতো দিনের দমিয়ে রাখা জৈবিক চাহিদা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।সুপুরুষ হিসেবে এসব দোষের কিছু নয়।কিন্তু নিজের ভালোবাসার মানুষের উপর এক বিন্দু কলঙ্ক আসতে দিতে নারাজ সে।কোনো ভাবেই নিজেকে আয়ত্তে না আনতে পেরে টাওয়েল নিয়ে ঢুকে পড়লো শাওয়ার নিতে।বরফ সম শীতল পানি কি আর দেহের জলন্ত আ/গু/ন নেভাতে পারে?
তাথৈ এর কক্ষে ভাবুক হয়ে বসে আছে তুলতুল।ভিয়ানের হিসেব টা কিছুতেই মেলাতে পারছে না সে।তার দেখা ভিয়ান আর এই ভিয়ান এক নয়।কোথায় যেনো একটা গড়মিল।কিন্তু কি সেটা?
গালে ফর্সা আঙ্গুলি ট্যাপ ট্যাপ করতে করতে ইংরেজি বাংলা মিশেলে তুলতুল তাথৈ এর উদ্দেশ্যে অবাক হয়ে শুধালো
“ভিয়ান কি কোনো ভাবে তোমার প্রেমে পড়লো তাথৈ?হি সীমস সো ডেসপারেট ফর ইউউ….
তুলতুল এর মুখে ভিয়ানের ডেসপারেট হবার কথা শুনে তাথৈ স্মিত হেসে শুধালো
“কি কি করেছে উনি?
তুলতুল বড় বড় চোখ করে এক এক করে হড়বড়িয়ে বলতে শুরু করলো
“তিহান ভাইয়ার বিয়ে উপলক্ষে কেনা গরুর শিং ই ভে/ঙে ফেলেছে উনি ঘুষি মেরে।বেচারা লালুর একটাই অপরাধ সে তোমাকে দাবড়িয়েছে।তোমার অজ্ঞান হবার পর তার ভাব দেখে মনে হচ্ছে সে ই জ্ঞান হারাচ্ছে।আর দিনে কতবার তোমাকে এক নজর দেখতে লুকাচুপি খেলেছে তার ইয়ত্তা নেই।তাই হিসেব মিলাতে পারছি না আরকি।
তাথৈ লজ্জায় কম্বল দিয়ে নাক মুখ ঢেকে বলে উঠলো
“মানবিক কারনে করেছে বোধ হয়।
তুলতুল ভ্রু কুঁচকে ছাদের উল্টো পিঠে তাকিয়ে বলে উঠলো
“তাহলে উনার জন্য গত বার আমার বার্থডে পার্টি তে যেই মেয়েটা সুইমিং পুলে ঝাঁপিয়ে পড়লো তার কি অন্যায় ছিলো?বেচারি একটু কেয়ার এর আশায় ঢক ঢক করে কতো গুলো পানি খেলো।অথচ সে তাকিয়েই দেখলো না।অবশেষে হোটেল কতৃপক্ষ টেনে হিচড়ে তুলে পেট থেকে পানি বার করলো।আহ কি বিচ্ছিরি ঘটনা।
“হয়তো তার মনে হয়েছে মেয়েটি ভালো নয়”
“না তাথৈ মেয়েটি ভালো,আমার নেইবর।যদিও ভিন দেশি কিন্তু খুবই সুশ্রী আর সভ্য।তবুও ভিয়ান তাকে পাত্তা দিলো না।আসলে তোমার ব্যপারটা বুঝতে পারছি না।বাট যা ভাবছি তা যদি হয় তুমি অনেক লাকি হবে।
তাথৈ নিজের মুখের উজ্জ্বলতা লুকিয়ে বলে উঠলো
“বয়সে সে আমার থেকে এগারো বছরের বড়”
তাথৈ এর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে তুলতুল বলে উঠলো
“বয়স ডাজেন্ট ম্যাটার।ছোট বড় ট্রেন্ড চলছে এখন।এটাই নাকি কিউট।ভালোবাসা বেশি বেশি পাওয়া যায় হাবীর থেকে।তুমি তো তার সামনে ছোট পিঁপড়ের মতো।এক হাতে কোলে নিয়ে নাচাবে তোমাকে উফ কি কিউট ব্যাপার স্যাপার!
তুলতুল এর এহেন কথায় লজ্জায় লাল নীল বেগুনি হয়ে কম্বলের তলায় লুকালো তাথৈ।আজ রাতেই বুঝি তার ম/রণ হবে।
*********
রাত আটটার দিকে মেহেরিন চৌধুরী আর তিহান বাড়িতে ফিরলেন।এসেই তাথৈ এর খুজ নিলেন।তাথৈ এর ফর্সা পা টা ফুলে গোলাপি বর্ণ ধারণ করেছে।মেয়েটা নেতিয়ে বিছানায় পরে রয়েছে।তুলতুল আর তিহান কে নির্দেশ দিতেই ড্রয়িং রুমে ধরে ধরে এনে বসানো হলো তাকে।একে একে বাড়ির প্রত্যেকটা মেহমান এসে জমা হলো সেই বৈঠক খানায়।ঝরঝরে ফ্রেস ভঙ্গিতে ভিয়ান এসে তাথৈ এর মুখোমুখি বসলো।ভিয়ান কে চোৱা চোখে এক পলক দেখে নিলো তাথৈ।এরপর লজ্জা জনিত হাসি খানা মুখে হাত চেপে লুকিয়ে চুপটি করে বসে রইলো।কঠিন হৃদয়ের ভিয়ান শক্ত চোখে তাথৈ কে এক পলক দেখে তিহানের সাথে কথা বলতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো।
সকলকে একসাথে ডাকার কারন ছোটরা জানে না।বৃদ্ধ মকবুল বৈঠকের মধ্যমনি হয়ে সকলের উদ্দেশ্যে গলা খাকরি দিলেন ।এরপর তাথৈ এর শারীরিক অবস্থা জেনে নিলেন।
“নানা ভাই কেমন লাগছে এখন?কেনো ময়নালের নিষেধাজ্ঞা শুনলে না বলো তো?
কথা গুলো শুধিয়ে তাথৈ এর কা/টা হাতটা নিজের কোলের উপর নিয়ে জহুরী নজরে দেখতে লাগলো।
ভীত তাথৈ সকালের ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনা মনে করে শুকনো ঢোক গিললো।এরপর কন্ঠ খাদে ফেলে মিহি স্বরে বলে উঠলো
“বুঝতে পারি নি নানা ভাই।আমি আর কখনো কোনোদিন কোনো গরুর কাছে যাবো না।
বৃদ্ধ মকবুল তপ্ত শ্বাস ছেড়ে বলে উঠলো
“আজ ভিয়ান দাদা ভাই না থাকলে কি যে হতো আমরা জানিনা।আল্লাহ সহায় ছিলেন তোমার উপর এজন্য বেঁচে গেছো।সকালের দৃশ্য মনে পড়লে এখনো আমার বুকের খাঁচা ধরফড়িয়ে উঠে।
তাথৈ আরেকবার ভিয়ানের পানে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলে উঠলো
“আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
স্মিত হেসে শক্ত কন্ঠে ভিয়ান বলে উঠলো
“এটা আমার দায়িত্ব ছিলো, আর এই দায়িত্ব পালনে আমি মৃ/ত্যু/র পরোয়া পর্যন্ত করবো না ।
#চলবে