প্রতিশোধের অঙ্গীকার পর্ব-০১

0
912

#প্রতিশোধের_অঙ্গীকার
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_সূচনা

বাসর রাতে স্বামীর অবর্ণনীয় অত্যা/চার সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পরে আছে নববধূ হানিয়া। কিন্তু সেদিকে বিন্দু মাত্র খেয়াল নেই তার সদ্য বিয়ে করা বরের। সে শান্তি করে ঘুমাচ্ছে বেডে। তার ঘুম দেখে মনে হচ্ছে অনেকদিন পর কোন বড় ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। অথচ তারই দেওয়া আঘা/তে জর্জরিত হয়ে ফ্লোরে অ-জ্ঞান হয়ে পরে আছে,, সেটা নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই।

কেন জাভিয়ান তার সদ্য বিয়ে করা নববধুকে এমন অমানুষের মতো মা-রলো?কি দোষ ছিলো তার? আর সেই বা তার স্ত্রীকে এমন ভাবে মেরে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে কেন? আসেন তাহলে একটু আগের ঘটনা শুনে আসি।

_____________________

কয়েক ঘন্টা আগের ঘটনা~~

আজ বিশিষ্ট শিল্পপতি আরসাল তালুকদারের ছেলে জাভিয়ান তালুকদারের বিয়ে ছিলো। বধূ হিসেবে ছিলো হানিয়া মির্জা। মির্জা আফতাব সাহেবের কন্যাদ্বয়ের মধ্যে বড়জন সে। কাছের আত্নীয় স্বজন নিয়ে মোটামুটি ধুমধাম করেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে তাদের । বিয়ের আগে ও বধূ বরণের পর সবই ঠিক ছিলো। কিন্তু বেঠিক হওয়া শুরু হয় তখন,, যখন কি না জাভিয়ান ঘরে ঢুকেই তার নববধূকে কোন কথা বার্তা ছাড়াই বেড থেকে টেনে নামিয়ে মা-রতে শুরু করলো। প্রথম চড়-থাপ্পড়ে সীমাবদ্ধ থাকলেও একসময় সে বেত দিয়ে মা-রতে থাকে। যখন বেতটাও ভেঙে গেলো তখন প্যান্টের বেল্ট দিয়ে পি-টিয়ে তাকে আরো র-ক্তাক্ত করতে শুরু করলো।

এই গল্পের সকল পর্ব এবং আপডেট জানতে “সাদিয়ার গল্পের জগৎ” পেইজটাকে ফলো করতে পারেন।
হানিয়া নিজেকে রক্ষা করবে কি সে যেন প্রতিক্রিয়া দেখাতেই ভুলে গেলো। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে বসে বসে অপেক্ষা করছিলো সে তার অর্ধাঙ্গের। তার কাঙ্ক্ষিত পুরুষটি তো আসলো কিন্তু আসতেই যে এমন নির্যা-তন শুরু করবে সে ঘুনাক্ষরেও টের পায় নি। হানিয়ার উপর মনের সব ক্ষোভ মিটিয়ে তারপর শান্ত মনে ঘুমিয়ে পরে জাভিয়ান। এদিকে স্বামীর অবহেলা,,অবর্ণনীয় অত্যা-চার না সইতে পেরে ফ্লোরেই অ-জ্ঞান হয়ে পরে থাকে হানিয়া।

____________________________

সকাল ৭টা~~

অনেকদিন পর কাল বেশ শান্তি করে ঘুমাতে পারায় আজ সকাল সকালই ঘুম ভেঙে যায় জাভিয়ানের। বেশ উৎফুল্ল মনে ঘুম থেকে উঠে আড়মোড়া দেয়। বেড থেকে নেমে কয়েক কদম এগোতেই হানিয়াকে ফ্লোরে অ-জ্ঞান অবস্থায় পায়। তাকে এই অবস্থায় দেখে জাভিয়ানের মনটা আরো খুশিতে ভরে উঠে। সে মনে মনে ভাবে–

–“কালকের ডোজটা তাহলে ভালোই ছিলো যার কারণে ম্যামের ঘুমটা এখনো ভাঙেনি।”

একটা ভেবেই একটা বাকা হাসি ফুটে তার মুখে। সে মনে মনে বলে–

–“ঘুম ভাঙে নি তো কি হয়েছে,, আমি আছি না। তার ভালোবাসার স্বামী। আমি খুব সুন্দর করে তাকে ঘুম থেকে উঠাচ্ছি।”

কথাটা ভেবে সে কয়েক কদম পিছিয়ে আবার বেডের কাছে যায়। বেডের পাশে রাখা টেবিলটার উপর থেকে পানির জগটা উঠিয়ে আবার হাটা দেয় হানিয়ার দিকে। তার থেকে দুয়েক কদম দূরত্ব রেখে জগের সব পানি ছুড়ে মারে হানিয়ার মুখে।

হঠাৎ মুখের উপর পানি পরায় হানিয়ার জ্ঞান ফিরে আসে। সে পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায়। চোখ খুলে আশেপাশে চোখ বুলিয়ে সে চিনতে পারে না রুমটাকে। এটা তো তার রুম না। আসলে হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠায় সে চিনতে পারে না,,তার উপর কাল রাতে ভালো করে জাভিয়ানের রুমটাও দেখা হয়নি।

–“শুভ সকাল বধূয়া”।

একটা ভারী গলায় সকাল সকাল এমন কথা শুনে হানিয়া কিছুটা হকচকিয়ে যায়। কথার উৎপত্তি স্থল কোথায় দেখতে সে ঘাড় উঁচু করে উপরের দিকে তাকায়। দেখতে পায় অতিমাত্রার এক সুদর্শন পুরুষকে। পুরুষটিকে একবার দর্শন করেই তার মনে হলো লোকটিকে আল্লাহ নিজ হাতে খুব যত্ন করে সৃষ্টি করেছেন। পুরুষটির চোয়াল জুড়ে চাপ দাড়ি,,খাড়া নাক,,ছোট ছোট চোখ জোড়া সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয়। হানিয়া একটু ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো সুদর্শণ পুরুষটির চোখের আইবল গুলো ব্রাউন কালার।ঠোঁটজোড়ায় ফুটিয়ে রেখেছে বাঁকা হাসি। হানিয়া তার পুরো মুখে কয়েকবার চোখ বুলায়।
এই গল্পের সকল পর্ব এবং আপডেট জানতে “সাদিয়ার গল্পের জগৎ” পেইজটাকে ফলো করতে পারেন।

–“আমাকে দেখা হয়ে গেলে উঠুন মহারানী। এটা আপনার শ্বশুর বাড়ি,,বাপের বাড়ি না যে আপনি বেলা করে ঘুম থেকে উঠবেন।”

সামনের পুরুষটির এমন হেয় কথায় ঘোর কাটে হানিয়ার। সে ধরফরিয়ে ফ্লোর থেকে উঠতে গেলে অনুভব করে শরীরের অবস্থান করা ব্যথা গুলো। ব্যথার দাপটে সে আবার শুয়ে পরে ফ্লোরে। হুহু করে কেঁদে দেয়। তার কান্না দেখে জাভিয়ানের চিত্ত উল্লাসে মেতে উঠে। এটাই তো চেয়েছিলো সে। মির্জা বাড়ির সদস্যদের কাঁদাতে। আজ একজন কাঁদছে। ভবিষ্যতে এই পরিবারের সকলে কাঁদবে। যেমনটা তারাও একদিন কেঁদে ছিলো।

জাভিয়ান তার মজা নিয়ে বলে–

–‘আহারে! কাল বুঝি আমার ভালোবাসার ডোজটা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিলো?? কিন্তু কি করবো বলো,,আমার ভালোবাসা প্রকাশের ধরণটাই এমন। এবং তোমাকে এইগুলো সহ্য করেই আমার সাথে থাকতে হবে। (এই পর্যায়ে চোয়াল শক্ত করে বলে) বেশি ন্যাকামি না করে ১০ মিনিটের মধ্যে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসো। নাহলে সকাল সকাল আরেকটা ডোজ এসে পরবে তোমার উপর।

কথাটা শুনে হানিয়ার অন্তর আত্না কেঁপে উঠে। সে তাড়াতাড়ি করে উঠতে চায় কিন্তু পারে না। বিয়ের ঝামেলায় সে বেশি কিছুদিন ধরে খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম করছিলো। তার উপরে কাল রাতে স্বামীর ওমন মা-র খেয়ে তার অবস্থা ভীষণই করুণ। পায়ে কোন শক্তিই পাচ্ছে না। তাও দুয়েক বার উঠার চেষ্টা করে কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়।

তার এই সকল কর্মকান্ড এতোক্ষণ দাড়িয়ে দাড়িয়ে শকুনের নজর দ্বারা দেখছিলো জাভিয়ান। সে বুঝতে পারে মেয়েটা উঠতে পারছে না কালকের অতিরিক্ত মার খেয়ে। সে আর কিছু না ভেবে হালকা ঝুঁকে ঝট করে হানিয়াকে কোলে তুলে হাটা দেয় ওয়াশরুমের উদ্দেশ্য। হানিয়া হকচকিয়ে যায় তার এমন কাজে। সে অবাক হয়ে জাভিয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে।

এই গল্পের সকল পর্ব এবং আপডেট জানতে “সাদিয়ার গল্পের জগৎ” পেইজটাকে ফলো করতে পারেন।
জাভিয়ান তাকে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে পানি ভরা বাথটাবে ঠাস করে ফেলে দেয়। হানিয়া এক প্রকার হাবুডুবু খেতে থাকে পানিতে। জাভিয়ান হাত বাড়িয়ে হানিয়ার খোপা করা চুলের গোছাটা ধরে তাকে উপরে তুলে। তারপর বলে–

–“১০ মিনিট। সেফ্র ১০ মিনিট। এর মধ্যে যদি না বের হয়েছিস তাহলে তোকে আজ সারাদিন এই বাথটাবেই বসিয়ে রাখবো। মনে রাখিস।”

কথাটা বলে জাভিয়ান হানিয়াকে ছেড়ে ধুপধাপ পা ফেলে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে যায়। যাওয়ার সময় সশব্দে দরজাটা লাগিয়ে যায়। হানিয়া ওখানেই বসে ভাবতে থাকে কি এমন করেছে যে তার সদ্য বিয়ে করা বর তার সাথে এমন করছে।

________________________

জাভিয়ান সিগারেটের প্যাকেট আর লাইটার টা নিয়ে এসে পরে বেলকনিতে। এটাকে বেলকনি না বলে রুফটপ বললে বেশি একটা ভুল হবে না। কেন? কারণ তার বেলকনিটা দেখতে ওমনি। বেশ বড় আর খোলামেলা। বেলকনির একপাশে ছাউনি দিয়ে সেখানে সোফা আর ছোট একটা টি-টেবিল রাখা হয়েছে। পুরো রুফটপ টায় বেশ কয়েক ধরনের ফুলের গাছ লাগানো আছে। ফুল জাভিয়ানের তেমন একটা পছন্দের না আবার অপছন্দও করে না। রুফটপ টা তার হলেও এই ফুল গাছগুলো অন্য একজনের। যে কিনা জাভিয়ানের খুব কাছের কেউ। তার পছন্দ বলেই সে চলে যাওয়ার পরও এই গাছগুলোর খেয়াল জাভিয়ান রাখে।

এই গল্পের সকল পর্ব এবং আপডেট জানতে “সাদিয়ার গল্পের জগৎ” পেইজটাকে ফলো করতে পারেন।
জাভিয়ান একটা সিগারেট ধরিয়ে সেটা টানতে থাকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে ওই উপরে বসে থাকা একজনকে বলে দেয় নিজের মনে জমানো সব কথাগুলো। অভিযোগ করে অনেক কিছু সম্পর্কে। কিছু একটা মনে করে নিজের টাউজারের পকেট থেকে ফোনটা বের করে। গ্যালারি ঘেটে এক রমণীর ছবি বের করে। বোরকা-হিজাব পরিধান করা রমনীটির হাস্যোজ্জ্বল মুখটা দেখে কেন যেন জাভিয়ানের অস্থির চিত্ত শান্ত হয়ে যায়। জাভিয়ানের চোখজোড়া ঘুরতে তাকে রমণীটির পুরো মুখ জুড়ে। যতই দেখছে ততই যেন ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুনটা একটু একটু করে নিভে যাচ্ছে।

হুট করে নিজের সব শক্তি দিয়ে ফোনটা ছুড়ে মারে ফ্লোরে। ফোনটা কয়েক টুকরো হয়ে ভেঙে পরে থাকে।এক হাত দিয়ে নিজের চুল শক্ত করে চেপে ধরে বলে–

–“না না। এমনটা হতে দেওয়া যাবে না। এই বুকে জ্বলতে থাকা আগুন নিভতে দেওয়া যাবে না। বরং আরো বাড়াতে হবে। যাতে করে এর তেজে জ্বলে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যায় ওই মির্জা পরিবার। তাদের হাসি গুলো কান্নায় পরিণত হয়। তাদের সুখগুলো দুঃখের সাগরে ভেসে যায়।”

একটু দম নিয়ে আসমানের দিকে তাকিয়ে বলে–

–বলা হয়ে থাকে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বড় কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু মনুষ্য জাতি কি জানে এর চেয়েও একটা সম্পর্ক আছে যার গভীরতা ভালোবাসার চেয়েও বেশি। কি সেটা? তা হলো ঘৃণার সম্পর্ক। হ্যাঁ ঘৃণার সম্পর্ক। আমরা যখন কাউকে ভালোবাসি তাকে কিন্তু একদম মন থেকেই ভালোবাসি। কিন্তু যখন কাউকে ঘৃণা করি তখন কিন্তু আমরা তাকে মনের গভীর থেকেই ঘৃণাটা করি। “ভালেবাসার অবস্থান হলো মনে আর ঘৃণার অবস্থান হলো মনের গহীনে”। যাকে আমরা ঘৃণা করি তাকে কিন্তু সহজে ভালোবাসতে পারি না। আবার যাকে আমরা ভালোবাসি তাকে যদি ঘৃণা করার কথা হয়,, তাহলে আমাদের মনে হয় এর চেয়ে মৃত্যু কি শ্রেয় নয়?? আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি হানিয়া,, যখনই তুমি আমার প্রতি ভালোবাসা ফিল করবে তোমাকে এমন সব কারণ দিবো যাতে করে তুমি আমাকে ঘৃণা করে বাধ্য হও। তোমার জীবনটা আমি এতোটাই দূর্বিষহ করিয়ে তুলবো তুমি বেঁচে থাকার জন্য পস্তাবে। তোমার এই পস্তানো দেখে কষ্ট পাবে তোমার পরিবার। আর তাদের এই কষ্টই আমার বুকে জ্বলতে থাকা আগুনকে শান্ত করবে। এটা আমার নিজের কাছে নিজের অঙ্গীকার। প্রতিশোধের অঙ্গীকার

কথাটা বলতে বলতে জাভিয়ানের মুখে ফুটে উঠে একটা বিধ্বংসী হাসি। চোখেমুখে জ্বলজ্বল করতে থাকে প্রতিশোধ নেওয়ার আকুল চাহিদা।

~~চলবে?