প্রণয় সমাচার পর্ব-১২+১৩

0
29

#প্রণয়_সমাচার
#নুজহাত_আদিবা
পর্ব ১২

সকালে ক্লাসের জন্য নিচে নামতেই অপলার সঙ্গে তাঁর চোখের বালি উসামা বিন লাদে’নের দেখা। অপলা তাঁকে দেখেও না দেখার ভান করলো। উসামা বাইকের সামনে গিয়েও আবার অপলার নিকট ফিরে এলো। কোমড়ে হাত দিয়ে বললো,

” কী প্রবলেম সলভ করতে হবে?”

উসামার ভাবভঙ্গি অপলার কাছে সুবিধাজনক মনে হলো না। ভন্ডটা আজ এত ভালো কী করে হয়ে গেল? নিজে থেকে এসে সাহায্য করতে চাইছে? এত ভালো মানুষ তো সে না! অপলা শক্ত গলায় বললো,

” আমার কারো সাহায্যের প্রয়োজন নেই। অহংকারী মানুষদের সাহায্যের জন্য বসে নেই আমি।”

উসামা আড়চোখে অপলার দিকে তাকালো। অপলা আর অপেক্ষা করলো না। দ্রুত পায়ে গেট থেকে বাইরে বেড়িয়ে গেল। এই লোকটার সঙ্গে কথা বলাই উচিত না। কালকে মুখের ওপর কীভাবে নাকচ করে দিলো! গেট থেকে বের হয়েই সে শান্ত নামের অশান্ত ছেলেটাকে দেখতে পেল। অপলাকে দেখেই সে বিভৎস এক হাসি দিলো। অপলার তা বিষের মতো বিষাক্ত মনে হলো।চোখে কেমন অদ্ভুত কামুকতার ছাপ। অপলার পুরো শরীরে কেমন যেন কম্পনের সৃষ্টি হলো। বাইরে আর এক পা ও না ফেলে অকস্মাৎ অপলা গেটের ভেতরে ঢুকে গেল। তাঁর হাত পা কেমন যেন কাঁপছে। যেতে হবে না আজ তাঁকে ক্লাসে। উসামাও অপলাকে হুট করে এভাবে গেটের মধ্যে ফিরে আসতে দেখে চমকিত হলো। অপলার গতিবিধি কেমন যেন অস্বাভাবিক মনে হলো। উসামা সামনে এগিয়ে গেল। কিন্তু, অপলা তাঁর দিকে ফিরেও তাকালো না। গটগট করে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে চলে গেল। উসামা বিস্মিত হয়ে অপলার প্রস্থান দেখলো।

কলিংবেলের আওয়াজ পেতেই শায়েলা এসে গেটটা খুললেন। অপলাকে আবার এত জলদি ফিরে আসতে দেখে অবাক হলেন। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই অপলা বললো,

” শরীরটা ভালো লাগছে না। আজ যাবো না ক্লাসে। ”

শায়েলা আর কিছু বললেন না। শরীরের ওপর কী মানুষের মর্জি চলে?

দুপুরে খেয়েদেয়ে শায়েলা মমোকে নিয়ে কোচিংয়ের জন্য বের হয়ে গেলেন। কিছুদিন আগে মেয়ে যা কাহিনি করেছে। এরপর তাঁকে একা ছাড়া দায়! শায়েলা যাওয়ার পর অপলা গেট লাগিয়ে ঘুম দিলো; তাঁর বড্ড ঘুম পাচ্ছে।

জানালা, বারান্দার দরজার বারি খাওয়ার আওয়াজে অপলার ঘুম ভাঙলো। জানালার পর্দা গুলো বাতাসের তীব্রতায় এলোমেলো হয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। অপলা জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। মনে হয় ঝড় আসবে। শায়েলার কোনো খবর নেই। সন্ধ্যা প্রায় নেমে এসেছে। হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। অপলা ফোনের স্ক্রিনে শায়েলার নাম দেখতে পেয়ে ফোন রিসিভ করলো। শায়েলা বললেন,

” অপলা মা শোন, ছাঁদে অনেকগুলো কাপড় শুকাতে দিয়েছি। ডালের বড়ি দিয়েছি ভেবেছিলাম আমি-ই গিয়ে নিয়ে আসবো। কিন্তু, আকাশের যা অবস্থা মনে হয় না আমি বাড়ি আসা পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে। বৃষ্টির পানিতে ডালের বড়িগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। তুই ড্রয়িংরুমের দরজাটা বাইরে থেকে লাগিয়ে দিয়ে ছাঁদ থেকে জিনিসগুলো নিয়ে আয় না বাবু।”

অপলা শায়েলার কথায় সম্মতি জানিয়ে ফোনটা রেখে দিলো। দ্রুত পায়ে ছাঁদের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলো। গিয়ে সে হতভম্ব হলো! অবাক করা বিষয় উসামা আজকে ছাঁদে কাপড় নিতে এসেছে! উসামার হাতে এক গাদা কাপড়। অপলা এমন ভান করলো যাতে সে কাউকে দেখতেই পায়নি। কাপড়গুলো তুলে নিয়ে; বড় স্টিলের থালায় রাখা ডালের বড়িগুলো নিয়ে সে ছাঁদ থেকে নেমে আসার আগ মুহূর্তেই কে যেন অপলা বলে ডাক দিলো। অপলা পেছন ফিরে তাকালো। উসামা তাঁর দিকে এগিয়ে এসে বললো,

” তোমরা মেয়েরা সোজা কথা সোজা ভাষায় বলতে পারো না কেন? সব বিষয়কে জটিল করে তোলা কী আসলেই জরুরি? ”

অপলা প্রথমে উসামার কথার মানে ধরতে পারলো না। এরপর কথার অর্থ এবং উসামার দৃষ্টির তাকিয়ে সবকিছু ধরতে পারলো। নিজেও কিছুটা তটস্থ ভঙ্গিতে বললো,

” সোজা কথা বুঝতে গেলে সোজা মন থাকতে হয়। আপনার মনের পরদে পরদে জিলাপির প্যাচঁ। আপনি কীভাবে সোজা ও জটিলের পার্থক্য বুঝবেন?”

উসামা অপলার হেয়ালিতে কান দিলো না। সোজা ভাষায় বললো,

” ও আর ডিস্টার্ব করবে না। নো টেনশন অনলি চিল!”

অপলা কোনো প্রতিত্তর করলো না। হেল্প যদি করার ছিল তবে কাল এতকিছু বলার কী প্রয়োজন ছিল? অপলার নিকট হতে কাঙ্খিত জবাব না পেয়ে উসামা বললো,

” অবশ্য তোমাদের দুজনকে মানাতো ভালো। শান্তর মাথা তো চলেই গেছে আজেবাজে নে’শার জিনিসপত্র খেয়ে। আর তোমার মাথা তো আগে থেকেই নষ্ট। একেবারে পারফেক্ট কাপল। মেইড ফর ইচ আদার।

অপলার মেজাজ ভরকে গেল। অপলা তবুও কিছু বললো না। আসল বিপদ তো কেটে গেছে এটাই অনেক। অপলা বাড়তি কথা না বাড়িয়ে ঘরে চলে এলো।

পরদিন ক্লাসে যাওয়ার সময় বাড়ির নিচে কাউকে না দেখে নিশ্চিত হলো। উসামার কাছে সে কিছুটা ঋনী হয়ে রইলো। ওই শান্ত নামের ছেলেটাকে দেখলে আসলেই অপলার বড় ভয় করতো।

সন্ধ্যার বেশ অনেকটা পড়ে মমোকে নিয়ে শায়েলা বাড়ি ফিরলেন। এসে বসতে বসতেই জেসমিন হাতে এক গাদা জিনিসপত্র নিয়ে আসলেন। শপিং ব্যাগ থেকে সবগুলো জিনিস শায়েলাকে দেখাতে দেখাতে বললেন,

” ভাবী এই যে এই শাড়িটা কমলার জন্য কিনেছি। কাল সকাল সকাল ওরহানকে দিয়ে পাঠিয়ে দিবো। ইচ্ছে ছিল আরো কিছুদিন পর সবকিছু করার। কিন্তু, ওরহান আবার চলে যাবে কিছুদিনের মধ্যেই। ওকে ছাড়া সবকিছু একা হাতে করা আমার দ্বারা সম্ভব না। তাই এমন হুটহাট সবকিছু প্ল্যান করা।”

অপলা আড়চোখে তাকিয়ে সবকিছু দেখলো। বউয়ের পাল্লায় পড়ে উসামা বিন লাদেনের যদি বুদ্ধিসুদ্ধি হয় আরকি! নাহলে মাথা ভর্তি গরুর গোবর! গরুর গোবড় তো তাও সারের বেশে গাছের কাজে লাগে। উসামার বুদ্ধি কোনো কাজেই লাগে না। উসামার মাথা ভর্তি আসলে পঁচা পানি। পঁচা পানি প্রকৃতপক্ষে মানুষের কোনে কাজে লাগে না।

মমো কেমন উদাসী ভঙ্গিতে অপলার নিকট এলো। অপলা তাঁর দিকে ফিরে তাকাতেই। মমো বুকে হাত দিয়ে বসে পড়লো। অত্যন্ত ফিল্মি ভঙ্গিতে বললো,

” আমেনার মা!”

অপলা বিস্ফোরক দৃষ্টিতে মমোর দিকে তাকালো। মমো বুকে হাত দেওয়ার ভঙ্গিতেই বলতে লাগল,

” আমেনার মা! আমার ক্রাশের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। আমি কী নিয়ে বাঁচবো? আমাকে একটু বি’ষ এনে দাও খেয়ে ম’রে যাই।”

অপলা টেবিল থেকে এক প্যাকেট পাইন আপেল বিস্কিট এনে মমোর হাতে তুলে দিয়ে বললো,

” ধর, দুধ দিয়ে আনারসের বিস্কুট খেয়ে ম’রে যা। আমারও আপদ বিদায় হয়।”

চলবে…

#প্রণয়_সমাচার
#নুজহাত_আদিবা
পর্ব ১৩

গত বেশ কিছুদিন যাবত উসামাকে একবারের জন্যও দেখেনি অপলা। আগে তো ক্লাসে যাওয়ার সময় দেখা হতো। কাপড় তুলতে ছাঁদে গেলেও দেখা হতো। যদিও উসামার খুব সম্ভবত এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। সে এখন বউ নিয়ে মহা ব্যস্ত! দুজনকে যদিও বেশ মানায়। কমলার সত্যি-ই তুলনা নেই।
সাত পাঁচ চিন্তা করতে করতে শায়েলা হুট করে দৌড়ে এসে অপলাকে বললেন,

” এই আমি একটু দোতলায় যাচ্ছি। দরজাটা একটু লাগিয়ে দে। জেসমিন ভাবী প্রেসার হাই করে আজ মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেছে। হঠাৎ যে কী হলো!”

অপলা সম্বিত ফিরে পেয়ে শায়েলার পিছু পিছু এসে দরজাটা লাগিয়ে দিলো। হঠাৎ কী এমন হলো? যদিও জেসমিন আন্টিও কয়েকদিন যাবত আসেননি। অপলা বিষয়টা নিয়ে তাৎক্ষনিক তেমন মাথা ঘামালো না। হতেও পারে ছেলের এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত। ঘন্টা দুয়েক পরে শায়েলা এসে বেশ কয়েকবার দরজায় কলিংবেল দিলেন। মমো গিয়ে দরজা খুলতেই শায়েলা ভেতরে ঢুকলেন৷ কেমন উত্তেজিত গলায় বললেন,

” চিন্তা করতে পারবি না কী হয়েছে! ”

অপলা শায়েলার এরূপ অবস্থা দেখে শায়েলাকে এক গ্লাস পানি এগিয়ে দিলো। শায়েলা পানির গ্লাস হাতে নিয়ে বললেন,

” অপলারে! আনি নিচে জেসমিন ভাবীর কাছে গিয়ে তো পুরা অবাক! ভাবী প্রেসার হাই করে শুয়ে আছেন। ওরহানের বউ ভাবীর মাথায় পানি ঢালছে। আমি তো জানতাম যে উসামার এনগেজমেন্টের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত ভাবী। কিন্তু, ভেতরে ভেতরে যে এত কাহিনি তা কে জানতো?”

নিজের উত্তেজনা না ধরে রাখতে পেরে মমো বললো,

” এত কাহিনি না করে আসল ঘটনা বলো। মেইন জিনিস না বলে কী প্যা প্যা করছো?”

শায়েলা প্রথমে কড়কড়ে দৃষ্টিতে মমোর দিকে তাকালেন। মমো মায়ের দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিলো। শায়েলা জোরে জোরে দম ফেলে অপলাকে বললেন,

” কমলার সঙ্গে উসামার তো অনেক আগে থেকেই বিয়ে ঠিক। ভাবী তো ওদের এনগেজমেন্টের জন্য শাড়িও কিনে ফেলেছিলেন। এখন হুট করে উসামা বেঁকে বসেছে। কোনোভাবেই সে কমলাকে বিয়ে করবে না। কমলাকে নাকি সে বোনের চোখে দেখে এসেছে ছোট বেলা থেকে। এখন তাঁর পক্ষে এসব মেনে নেয়া অসম্ভব। এটা নিয়ে বাড়িতে প্রচুর কথা কাটাকাটি। উসামা আজ কয়েকদিন যাবত বাড়ি আসছে না। জেসমিন ভাবী কেঁদে কেটে অস্থির! ছেলেকে ফোনের ওপর ফোন করে যাচ্ছে। ছেলে তো ফোন তুলছেই না। এত ভালো এত সুসভ্য ছেলেটার হঠাৎ করে কী যে হলো! আমি শিওর কেউ ওকে তাবিজ করেছে।

অপলা হা করে তাকিয়ে সবকিছু শুনলো। এই বুইড়া ব’দমায়েশের আবার কী হলো? কমলার সঙ্গে তো তাঁর বেশ ভাব ছিল। এখন বিয়ে ভাঙতে এত উঠে পড়ে লেগেছে কেন?

এভাবেই আরো বেশ কিছুদিন উসামার অপেক্ষায় কাটলো। জেসমিন, ওরহান, শায়েলা সকলে যেন উসামার পথ চেয়ে বসে আছে। উসামা যেন লাপাত্তা! কোথাও তাঁর টিকি টুকুও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে ফোনও বন্ধ ; জেসমিন শায়েলার কাছে এসে উদাস মুখে বসে থাকেন। আগের মতো গল্প তেমন করেন না।

” এত ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে যাচ্ছিস কোথায়?”

শায়েলার প্রশ্ন শুনে অপলা ব্যাগের চেইন লাগিয়ে উত্তর দিলো,

” ফুপি আমার ভালো লাগছে না। একটু বাসা থেকে ঘুরে আসবো।”

শায়েলা আর অপলাকে কিছু বললেন না। ঘুরে আসুক মেয়েটা কিছুদিনের জন্য। অনেকদিন যাবতই বাড়ির সঙ্গে ওর যোগাযোগ নেই। পরদিন সকালে আজলান এসে অপলাকে নিয়ে গেল। এবার আর আগের বারের মতো ঝামেলা নেই। আগের বার বাড়িতে এসে যা ধোঁকা খেয়েছিল সে! হঠাৎ অপলার ফোন বেজে উঠলো।স্ক্রিনে শায়েলার নাম ভেসে উঠলেও অপলা ফোন ধরতেই মমোর গলার আওয়াজ শুনতে পেল। মমো ফোন ধরে বললো,

” বাসায় আজকে বিরাট কাহিনি ঘটেছে আপু।”

অপলা বিছানা ঝাড়ু দিতে দিতে বললো,

” কী হয়েছে? ”

মমো নির্দ্বিধায় বললো,

” আমার ক্রাশ ইজ ব্যাক। ”

অপলা ফোনটা কানের সামনে ধরে বললো,

” ওই ব”দমাশ বান্দর মিচকেটা ফিরে এসেছে? ”

মমো গলায় কৃত্রিম রাগ এনে বললো,

” আমার ক্রাশকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলবে না আপি!”

অপলা ফের প্রশ্ন করলো,

” এরপর কী হয়েছে? জেসমিন আন্টি দিয়েছে নাকি দু’ঘা?”

মমো বিরক্ত হয়ে উত্তর দিলো,

” এত বড় খাম্বাকে আবার মা”রা যায় নাকি? আন্টি খুব চিল্লাপাল্লা করেছে। ওরহান ভাইয়া বকা দিয়েছে। উসামা ভাইয়া একেবারে সাফ সাফ বলে দিয়েছে সে কমলাকে বিবাহ করিবে নট। বাসায় বড়সড় লংকা কান্ড ঘটার পর আপাতত সব ঠান্ডা। যা বুঝলাম উসামা ভাইয়ার জেদের কাছে কেউ টিকতে পারেনি। আসলে উসামা ভাইয়া মেইবি আমাকেই বিয়ে করবে। তাই এতসব কেচ্ছা শুরু করেছে। বাট নো প্রবলেম আমি এক পায়ে খাঁড়া আছি উসামা ভাইয়াকে সাদি করার জন্য। আই হ্যাভ নো প্রবলেম!”

অপলা ফোনের মধ্যেই মৃদুস্বরে মমোকে একটা ঝাড়ি দিলো। তবে, ঝাড়ির প্রভাব মমোর ওপরে সেভাবে পরলো না। মমো নিজের আজগুবি কথাবার্তা চালিয়ে-ই গেল। খুশির মুহূর্তে তাঁর মাথা ঠিক থাকে না!

বাড়িতে অপলার তেমন একটা ভালো লাগছে না। সময় যেন কাটতেই চায় না। ওই বাড়িতে ফুপি আর মমোর সঙ্গে থাকলে সময়ের খেয়ালই থাকে না। কখন যে সময় কেটে যায় বোঝাই দায়। বাড়িতে বাবাও তেমন থাকেন না। আজলাম ভাইয়া বেশিরভাগ অফিসেই থাকে। মিলার সঙ্গে অপলা মিশতে চাইলেও মিলা তেমন পাত্তা দেয় না অপলাকে। কেমন একটা এড়িয়ে চলে তাঁকে। বাধ্য হয়ে অপলাও আর তেমন ভাব জমাতে যায় না মিলার সঙ্গে। দরকার কী এত আগ বাড়িয়ে আলাপ জমাবার? দুদিন থেকেই আবার নিজের গাট্টি বস্তা নিয়ে অপলা শায়েলার কাছে চলে এলো। অপলাকে দেখে শায়েলার ঠোঁটের হাসি প্রসারিত হলো। সেই সময় বাড়িতে জেসমিনও ছিল। শায়েলার সঙ্গে গল্প করতে এসেছিল। অপলাকে আজ জেসমিন কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে বারবার ঘুরে ঘুরে দেখছিল। সচারাচর জেসমিন অপলার দিকে এভাবে তাকায় না। বারবার ঘুরে ঘুরে দেখেও না। অপলা কেমন অস্বস্তি চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল। আজ কী হলো হঠাৎ?

” কীরে অপলা আমাকে ছাড়া কেমন কাটলো রে? মিস করিসনি আমাকে?”

অপলা শায়েলার কোলে মাথা রেখে বললো,

” তা আর বলতে? আমার তো এখানেই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। মা মা’রা যাওয়ার পর থেকে ওই বাড়ি হয়ে গেছে পরের বাড়ি! তবুও কেমন যেন অদ্ভুত টানে আমার বারবার ছুটে যেতে ইচ্ছে করে সেখানে।”

শায়েলা অপলার মাথায় বিলি কাটতে কাটতে বললো,

” এত তাড়াতাড়ি ফিরে এলি এবার? আমি ভেবেছিলাম আরো কিছুদিন হয়তো থাকবি।”

অপলা চোখে অকস্মাৎ পানি চলে এলো। সে যথাযথ চেষ্টাও করলো শায়েলার দৃষ্টি হতে নিজের চোখের পানি আড়াল করতে। ভাঙা ভাঙা গলায় অপলা বললো,

” বাবা তো আগে থেকেই বাড়িতে একটু কম থাকে। ব্যবসার কাজ সামলে রাতে বাড়ি ফেরে। আজলান ভাইয়ের আছে অফিস। আমার সঙ্গে কথা বলার এত সময় কই তাঁর? ”

শায়েলা প্রশ্ন করলো,

” তোর ভাবী মিলা আছে তো। ওর সঙ্গে সময় কাটাবি। ওর সঙ্গে মিশলে তোর ভালো লাগবে।”

অপলা আক্ষেপ করে বললো,

” ভাবী আমাকে পছন্দ করে না ফুপি। আমি মিশতে চাইলেও কেমন এড়িয়ে এড়িয়ে চলে। খুব একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না। তাই, আমিও আগ বাড়িয়ে মিশতে যাই না।”

শায়েলা অবাক হয়ে বললো,

” সে কী রে! বিয়ের প্রথম প্রথম তো বেশ খাতির ছিল তোর সঙ্গে। কোনো ঝগড়া ঝামেলা হয়েছিল নাকি?”

অপলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,

” ফুপি মা থাকাকালীন-ই ভাবী ভাইয়ের বিয়ের পরপরই ভাবীর খালামনি তাঁর ছেলের জন্য আমাকে চেয়েছিলেন। মা কিংবা বাবার কারোই এই বিষয়টা ভালো লাগেনি। এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা গিয়েছিল ছেলের আগে বিয়ে হয়েছিল। সবকিছু আমাদের কাছ থেকে গোপন করে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাই মা কিংবা বাবা কেউই সম্পর্কটা নিয়ে এগোতে চাচ্ছিলেন না। বাবা সাফ না করে দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই ভাবী আমার সঙ্গে কেমন একটা দূরত্ব বজায় রাখেন। আমি জানি না এতে আমার দোষ কী? আমিও তাই আগ বাড়িয়ে মিশতে যাই না। ”

অপলার সব কথা শায়েলা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন। দীর্ঘ সময় চুপ করে থাকার পর বললেন,

” আচ্ছা অপলা তোকে একটা প্রশ্ন করি?”

শায়েলার অপলার চুলে বিলি কেটে দেওয়ায় আরামে অপলার চোখ বুজে আসছিল। অপলা তবুও শায়েলার কথায় সায় দিলো। অপলার সায় শুনে শায়েলা বললো,

” আচ্ছা অপলা উসামাকে তোর কেমন লাগে?”

চলবে….