শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৩১
গেট ধরেছে মিলির কলিগেরা। একেবারে ঝগড়া শুরু করেছে সাধনা আর সবুজের ফুপাতো বোন। অনেক কষ্টে দুই পক্ষকে সামলে ভিতরে নেওয়া হলো জামাইকে। এখানে অবশ্য গ্রামের মতো ঝাল শরবত বানিয়ে জামাইকে খাওয়ানো হয়না। শরবত আর মিষ্টিমুখ শেষে কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করলেন। বিয়ে পড়ানো হলে, সবাই দুহাত তুলে মোনাজাত করলো নব দম্পতির জন্য,মিলনের চোখ ভিজে আসে খেজুর বিতরণ হলো। খাবারের আয়োজন ছাদে। সবাইকে ডেকে নিলেন মিলন। সালেহা মোহরানা নিয়ে বেশ উচ্চবাচ্য করে শান্তি পেয়েছেন! নিম্মির চেয়ে এই মেয়ের বয়স বেশি, তালাকপ্রাপ্ত বাচ্চার মা। দু চার কথা শুনিয়ে দিয়েছেন ভরা মজলিসে। এবার খাবারের ত্রুটি বের করার পালা। পোলাওয়ের সাথে রোস্ট নামের মিষ্টি মুরগির গোসত পোষায় না তার। ঝাল গোসত আনতে বললেন, মিলির ভাবী নিজে তদারকি করছে। মিলন বাকিদের দেখছে। সবুজ দাতে দাত চেপে মায়ের কান্ড দেখেছে। জামাই বৌয়ের আলাদা টেবিল, সেখানে হইচই করছে মিলির কলিগ আর সবুজের চাচাতো ফুপাতো ভাইবোনরা। প্রচুর ছবি তুলছে। রাত হয়ে যাচ্ছে সেই দোহাই দিয়ে এসব বেহায়াপনা বন্ধ করতে ছুটলেন সালেহা কিন্তু সাধনা আর তার জামাই ও আনন্দ করছে দেখে থেমে গেলেন। সাধনা খুব একটা আসেনা বাপের বাড়ি। তবে শাড়ি গহনা দেখে তো ভালোই মনে হচ্ছে, সুখেই আছে মেয়ে! সালেহা নিচে মিলিদের বাসায় গিয়ে বসলেন, সেখানে গুঞ্জন মিলির শাশুড়ি একটা জাহিল মহিলা! নিজের রাগ সামলে হাসিমুখে বসে রইলেন সালেহা। মিলির চাকরি নেই, গ্রামেই সংসার করবে। নিম্মিদের মতো বাড়ি নেই, লেখাপড়ার বড়াই। লেখাপড়া করে কি এমন রাজ্যজয় হয়েছে? আরেকজন নিম্মি লেখাপড়া করে জজ ব্যারিস্টার হবে যত্তসব! যতদিন মেয়েরা স্বামী সংসারে মন দিবেনা ততদিন মেয়েদের কল্যাণ সম্ভব না! অবশেষে শেষ হলো এদের নখরা এবার বিদায়ের পালা। মিলি কেঁদেকেটে একাকার, মিষ্টি তো কিছুতেই মাকে যেতে দেবেনা। অবশেষে সবুজ মিষ্টিকে নিজের কোলে বসালো। দুই দিন পর দিয়ে যাবে বলে গাড়িতে উঠলো। মিলির মনে হলো, ভুল মানুষকে পছন্দ করেনি সে। সালেহা অন্য গাড়িতে বসেছে,
• আমি দুঃখিত
• কেন?
• মায়ের আচরণের জন্য, দেনমোহরের কথা আমি বাড়িতেই বলে নিয়েছিলাম, কিন্তু সে এতগুলো কথা বলে দিল
• আমিও প্রস্তুত ছিলাম, আমার জন্য তোমাদের বাড়ি খুব বেশি অনুকূল জায়গা হবেনা
• আমাদের বাড়িতে আমি তো আছি, সব প্রতিকূলতায় ঢাল হয়ে আমিই দাড়াবো
মিলির স্বপ্নের জীবন শুরু হল। কিন্তু বিয়ের রাতেই সবুজের ঘর দেখে তার মন খারাপ হয়ে যায়। বাড়ির শেষ মাথায় ছোট একটা ঘর। ওয়াশরুম যেতে গেলে পুরো আঙিনা পার হয়ে যেতে হয়। গ্রামের বাড়িতে বেশিদিন থাকেনি। খুব একটা অভ্যাস নেই। এখানকার সবকিছুই আলাদা আলাদা, বাথরুম আলাদা রান্না ঘর আলাদা, একটু বৃষ্টি পড়লেই উঠান কাদা হয়ে যায়, হয়তো অভ্যাস হয়ে যাবে। যদিও বর্ষাকাল চলে, থেকে থেকে বৃষ্টি পড়ছে, কিন্তু গরমের কমতি নেই। জানালা খুলে দিলে, পিছনে সুপারির বাগান দেখা যায়। অবশ্য এখান থেকে বৃষ্টির দৃশ্য দেখতে বেশ ভালো লাগে। মিষ্টি এসেই খেলাধুলা শুরু করে দিয়েছে। দুদিনের কথা বলে সাত দিন রয়ে গেছে। মিলি শাশুড়িকে এড়িয়ে চলে। একদিন ঝামেলা লেগে গেল, শাশুড়ি হাতে করে চা নাস্তা আনছিলেন, ঠিক তখনই মিষ্টি দেয় এক ছুট, সালেহার হাত থেকে ট্রেটা পড়ে যায়, খাবার নষ্ট হয় বাসন ভাঙ্গে, এরকম দুষ্টুমি যে কোন বাচ্চাই করতে পারে। উনার নিজের নাতি হলেও করতে পারত। কিন্তু উনি সাথে সাথে মিষ্টি কে ধরে দু হাতে ঝাকান, ভীষণ চিৎকার করেন। পুরো ব্যাপারটা মিলি নিজের চোখে দেখে। কিছুই বলেনা সে শাশুড়িকে। সবুজ বাসায় নেই, ফোন করে তাকে বাসায় আসতে বলে। সবুজ একটু ভয় পেয়ে যায়, দ্রুত পায়ে বাসায় ফেরে। নিজের ঘরে যাওয়ার আগেই মায়ের সামনে পড়ে, কি হয়েছে এক দফা তার জানা হয়ে যায়, সে বাড়িতে নেই চা, নাস্তা কিসের সেটাই সে বুঝতে পারছে না। এদিকে মিলি ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছে বাড়ি চলে যাবে!
• আহা কি হয়েছে? আমাকে সবকিছু খুলে বল
• কি করবে তুমি? কোন কিছু করার মুরোদ আছে তোমার?
• আহ এভাবে বলছ কেন?
• বাড়িতে একমাত্র রোজগার করা বান্দা তুমি, আর তোমার ঘর সুপারি বাগানের পাশে, বাড়ির সবচেয়ে ভালো ঘরটা নিয়ে রেখেছে সাধনা, তার বিয়ে হয়ে গেছে, এখনতো ঘরটা আমরা পেতে পারি, ওয়াশ রুমে যেতে গেলে পুরো আঙিনা পার হয়ে যেতে হয়
• বাসার সমস্যা আমি ধীরে ধীরে সমাধান করব, সবকিছু তাড়াহুড়ো করে হলো, তাছাড়া সামনে বৌভাতের একটা খরচ আছে
• আমার মেয়েটাকে এরকম বকা দেওয়া হল কেন?
• আসলে গ্রামে বাচ্চাদের এভাবেই বড় করা হয়, গ্রামের শাসনের মর্ম অনেক
• হ্যাঁ যেন গ্রামের শাসনের ঠেলায় তোমরা পৃথিবী শ্রেষ্ঠ সন্তান হয়েছ
• মিলি আমার মাকে বুঝিয়ে বলতে হবে, তিনি শহুরে কৃষ্টি কালচার বোঝেন না
• বোঝেন না তুমি বসে বসে বুঝাও, আমাকে বাসায় দিয়ে এসো
• বিয়ের মাত্র ৭ দিনেই চলে যাবে তুমি?
• বসবাসের যোগ্য হলে তো থাকবো?
• আচ্ছা চলো মিষ্টিকে দিয়ে আসি
• ও আচ্ছা এখন আমার মেয়ের আর জায়গা হবে না এ বাড়িতে?
• মিলি তুমি এমন আচরণ করছ কেন? মিষ্টির প্রতি আমার কোনো অবহেলা কখনো দেখেছো? ও যা খায় যেভাবে খায় সবকিছু এনে দিয়েছি আমি, এ বাড়িতে পিনাট বাটার, জেলি, ব্রেড, মেয়োনিজ, আরো কি কি সব কখনো আনাই হতো না
• কয়টা খাবার জিনিস কিনে খাইয়েছো বলে এখন তার খোটা দিচ্ছ?
• সবকিছু তুমি এভাবে দেখছো কেন?
• যেভাবে দেখার সেভাবেই দেখছি, আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসবে, ভালো থাকার ব্যবস্থা নাহলে আমি আর আসব না
এই মিলিকে সবুজ চেনে না। সদাহাস্য, মিশুক, নম্র ভদ্র মিলির এই কি রূপ? তাহলে কি সে আবার ভুল করেছে? নিম্মিকে ছেড়ে নিজের ভালোবাসা নিয়ে সুখী হতে চেয়েছিল। ভেবেছিল মিলি সব বুঝবে। গাড়ি ভাড়া করতে হলো, মিলি বাসে যাবেনা। বারাবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও মিলি তার সমস্ত ব্যবহার্য জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে নিয়েছে। মাকে কিছু না বলেই বের হলো তারা। মিষ্টির মন খারাপ। খুব মজা করে খেলছিলো সে। দাদুটার সাথে ধাক্কা লাগলো, সে দাদুকে স্যরি বলতে চেয়েছিল, কিন্তু দাদুটা ভীষণ রেগে গেল! আর এখন ঐ খোলামেলা জায়গা থেকে তাকে বাড়ি ফিরে স্কুলে যেতে হবে। এটা কোন কথা?
মিলন, রিমি কেউ বাসায় নেই। চাবি ছিল মিলির কাছে। সে গাড়ি ভাড়া দিয়ে দেয়। সবুজ চুপ করে দাঁড়িয়ে।
• কি হয়েছে? তুমি থাকবে না গ্রামে ফিরে যাবে?
• তুমি কি চাও?
• আমার চাওয়া না চাওয়াতে তো কিছু আসে যায় না?
• দেখো আমি মানছি আমার বাড়ির অবস্থা ভালো না, এও মানছি যে আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল একদম আলাদা, নিজেদেরকে জানতে বুঝতে আরো অনেক সময় দিতে হবে আমাদের
• নিজের মামাতো বোনের সঙ্গে সংসার করতে পারলে না, সে তোর আলাদা পরিবেশের কেউ ছিল না
• আমি নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছি তোমার অতীত নিয়ে কখনো খোঁচাখুঁচি করব না, আমি আশা করব তুমিও এটা মেনে চলবে
• তো নিজের মাকে ওটা শেখাও
• বিয়ের সময় কার রাগ তুমি এখনো পুষে রেখেছো?
• উনি কি আমার সঙ্গে আদৌ ভালো ব্যবহার করেছেন কখনো?
• এই যে প্রতিবেলা রেঁধে পেট ভরে খাওয়াতো, এটা কি তোমার কাছে ভালো ব্যবহার মনে হয়নি?
• আমি ঐ পরিবেশে রান্না করতে পারতাম না, কাঠের চুলায় আমি কোনদিন রান্না করিনি, তাই উনি আমাকে করে খাইয়েছেন, যদি বলতেন মিলি এসো আমি তোমাকে শিখিয়ে দিচ্ছি, আমি যেতাম, আমার মেয়ের সঙ্গে এরকম জঘন্য ব্যবহার না করলেও চলত
• গ্রামে বাচ্চাদেরকে ধরে পেটানো হয়, বাচ্চারা খোলা পরিবেশে অনেক দুষ্টু হয়, পড়াশোনা করতে চায় না, সেখানে রাগ করে কথা বলাটা কোন শাসনের পর্যায়ে পড়ে না, আমার মা এই বিষয়টা বোঝেন না, তুমি যেমন রান্নার বিষয়টা বললে, আজ তো তুমি মার সাথে কথা বলতে পারতে, তাকে বলতে পারতে বাচ্চাদের কিভাবে শাসন করতে হয়, জোরে চিৎকার করতে হয়না
• আমি কথা বলব তোমার মায়ের সাথে? তবেই হয়েছে
• এরকম করলে কোনদিন দূরত্ব ঘুচবে না, আমি আজ আসি তোমার মাথা ঠান্ডা হলে কল দিও
সবুজ বেরিয়ে গেল। গাড়িটা ওভাবে তখন টাকা দিয়ে বিদায় না করে দিলে, সবুজ গাড়িতে ফিরতে পারত। মিলির মনে হল সে বাড়াবাড়ি করেছে। যা হবার তো হয়েছে। কয়েকদিন বাসায় থেকে সবুজকে কল দিবে নিতে আসার জন্য। ভাই ভাবি কোথায় গেছে খোঁজ নেওয়া দরকার।
শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৩২
তারানা তাসনুবা বৃষ্টি
নিম্মির টেস্ট পরীক্ষা শেষ। আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম নেবে। ঠিক করলো নানী বাড়ি যাবে। রাইসা, রাফিয়ার সাথে এখন খুব ভালো সময় কাটে। গাছের আমড়া পেড়ে মাখিয়ে খাচ্ছে তিনজন মিলে আর কোন স্যার কি করেন ক্লাসে তা নিয়ে হাসাহাসি করছে, হঠাৎ রাইসা রিফাতের এক স্যারের গল্প করে বসে, স্যার রিফাতকে এত মেরেছিল স্কুলের ফল চুরির অপরাধে, যে জ্বর চলে এসেছিল, অথচ পরে দারোয়ান বলেন রাতে স্কুলের ফল চুরির দলে রিফাত ছিলই না! রিফাতের নাম শুনে চুপচাপ হয়ে যায় নিম্মি। মাখা খেয়ে দুই বোন বাড়ি চলে যায়, মাকে রান্নাঘরে সাহায্য করতে হবে।
নিম্মি বিকালে কোচিং সেন্টার থেকে ক্লাস নিয়ে বের হয়েছে। টেস্ট পরীক্ষা শেষে কয়দিন ক্লাস নেবে ঠিক করেছে। ক্লাস প্রতি যা পায়, হাতখরচ হিসেবে কাজে লাগবে। রাস্তায় রিফাতের সাথে দেখা। নিম্মি ভাবলেশহীন দৃষ্টি দিয়ে চলে যাচ্ছিল, রিফাত থামায়।
• কেমন আছো?
• আলহামদুলিল্লাহ
• একটু কথা বলা যাবে?
• কথা তো বলছেন
• না মানে এভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে না
• তাহলে কোথায় কথা বলতে চান?
• কোন একটা কফি শপে
• বেশ চলুন
শহরের কফি শপের এলাকায় এক সাথে অনেকগুলো দোকান, পাশাপাশি। রিফাত নতুন একটা দোকানে ঢুকে, ভিতরে কোন টেবিলে এক যুগল বসে আছে, এছাড়া সব খালি, তার একটা টেবিলে বসে পড়ে, সামনাসামনি। এভাবে কোন পুরুষ মানুষের সাথে এই প্রথম নিম্মির কফি খেতে আসা।
• অর্ডার দেই?
• দিন
• কোনটা নেবে?
• নরমাল কফি,দুধ,চিনি দিয়ে
• দুটো ক্যাপুচিনো অর্ডার দিলো রিফাত
• কি বলতে চেয়েছিলেন বলুন
• আমি আসলে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি
• ওসব কথা থাক
• তুমি কি আমাকে মাফ করতে পারবে?
• মাফ করার মতো বড় মন যদি কোনদিন হয় তাহলে নিশ্চয়ই মাফ করে দেব
• তোমার মন তো অনেক বড়, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিলে। প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও
• আমার জীবনের অনেক বড় একটা পরিবর্তন এসেছে, বলা যায় আমূল পরিবর্তন, আর আমি কোন ব্যক্তিগত আলোচনা আপনার সাথে করতে চাইনা
• আমি সব ঠিক করে দেবো, তোমার জীবনের সঙ্গে এখন আমার জীবন জড়িয়ে গেছে তোমার সব স্বপ্ন আমি পূরণ করার চেষ্টা করব
• আর কোনদিন কাউকে বিশ্বাস করতে পারবো কিনা জানিনা, আপনাকে ধন্যবাদ রাইসা,রাফিয়া কে আমাদের বাড়িতে পাঠানোর জন্য, ওরা যদি আরো আগে আমার বন্ধু হতো তাহলে এই দিন দেখাই লাগতোনা, আসি
নিম্মি উঠে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এক কাপ কফির বিল কাউন্টারে রেখে চলে যায়। পিছু নেয় রিফাত। রাস্তায় জ্যাম। তাই বেশি এগিয়ে যেতে পারেনি নিম্মি সহজেই ধরে ফেলে, নিশব্দে পাশাপাশি হাটে তারা। জ্যামে রিকশায় বসে ছিলো সবুজ। মিলির বাড়ির কাছেই কফি শপটা।
একবার মনে হয় নেমে পড়ে আবার মনে হয় কলেজের সহপাঠী হতে পারে। নিম্মি তার বিবাহিতা স্ত্রী এভাবে পর পুরুষের সাথে সে ঘুরে বেড়াতে পারেনা। মামাকে জানাতে হবে। রিকশা নিয়ে সোজা নিম্মিদের বাড়িতেই হাজির হয় সে। টেস্ট শেষ। মাস খানিক বাকি আছে এইচএসসি পরীক্ষার, নিম্মিকে নিতে এসেছে বলে সবুজ। নাজিমুদ্দিন বাড়িতেই ছিলেন। থমকে যান, কি বলে এই ছেলে,
• বিয়ের সাত দিন হয়েছে কেবল, এখন কেন দুই বৌকে এক বাড়িতে রেখে অশান্তি করা?
• অশান্তির কিছু নাই মামা, এখানে পর পুরুষের সাথে ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে স্বামীর ঘরে থাকাই ভালো
• রিফাত ভাই কিছু কথা বলতে ডেকেছিলেন বাবার সপ্রশ্ন দৃষ্টির জবাবে বলে নিম্মি
• নিম্মিকে কোচিং সেন্টারে কাজ দিয়েছে ছেলেটা, কাজের কথাই বলতে গিয়েছিল
• আমার স্ত্রীর প্রতি আমার এতটুকু দাবি নেই যে তাকে আমি বাড়ি নিতে পারি? তাহলে তালাকে আপত্তি কিসের?
• ঠিক আছে বাবা নিয়ে যাও, তবে এবার মাস পার করে দিও না
• না, এবার তা হবেনা
বিস্ময়ে চক্ষু চড়কগাছ সালেহার। নিম্মিকে এনেছে সবুজ। খুশি হয়ে জড়িয়ে ধরেন নিম্মিকে। সেই পুরনো ঘর, নিম্মির কেমন যেন মনটা উদাস লাগে, এই বাড়িটা তো শুধু তার হতে পারত, উঠানে পড়া চিরল আলোয় সে আর সবুজ শীতকালে ওম উপভোগ করতে পারতো ,ঐ কাঠের চুলায় রান্না লাউ, বোয়ালের ঝোলের এক লোকমা ভাত সবুজ তার মুখে তুলে দিয়ে বলত, খুব সুন্দর রানছ বৌ! কিন্তু না! তার কিছুই সম্ভব না। খবর শুনে সাধনা ছুটে এসেছে বিকেলেই, মুরগি জবাই দেওয়া হলো, আর বড় মাছ কেনা ছিলো তাই দিয়ে জামাই আদর হলো। নিম্মি তার না হওয়া সংসারের দায় ভার আবার গ্রহণ করলো। যদিও সে জানে খুব সাময়িক তার এখানে বসবাস। মিলি তাকে সহজভাবে নেবেনা।
পরদিন সকালেই, বাইরের লোকের কথাবার্তায় ঘুম ভাঙল নিম্মির। আজ তাকে কেউ সকালে ডাকেনি। কাল জার্নি করেই রান্নাঘরে কাজ করে একেবারে কাহিল হয়ে গেছে। সাধনার স্বামী বয়স্ক হলেও ভদ্রলোক। কোন উল্টো পালটা আচরণ করেনা। সকালের নাস্তা খেয়ে সে বাড়ি চলে গেছে, সাধনা থাকবে কিছুদিন। অপরিচিত শব্দের উৎস হলো সুপারি বাগান কেটে তাতে নতুন ঘর উঠবে, সুপারি বাগানের পিছনের ঝোপঝাড় কেটে, পুরাতন মজা পুকুর সাফ করে তাতে শান বাধানো ঘাট করা হবে! বিশাল পরিকল্পনা। সবুজ মাপজোখ শেষে ঘরে এসে পানি চাইলো। নিম্মি পানি আনতে গিয়ে শোনে সালেহা,সাধনার ফিসফাস, কান না দিয়ে পানি নিয়ে ঘরে আসে নিম্মি।
• মিলি আপার জন্য আলাদা ঘর
• হুম
• ভালো
• তোমাকে আগেই বলেছি পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে রাখবো, আমি আমার কথা রেখেছি, তুমি বল ঐ ছেলের সাথে তোমার কি সম্পর্ক?
• আপাতত কোন সম্পর্ক নাই
• তার মানে ভবিষ্যতে সম্পর্ক করার ইচ্ছা আছে?
• সেটা ভবিষ্যতে জানা যাবে
• তোমার লক্ষণ তো আগে থেকেই সুবিধার না! করতেই পার যা খুশি
• মিলি আপা বাসায় নাই, ফুপুর রান্নাঘরে কষ্ট হচ্ছে বলে আনলেই হত, তালাকের ভয় দেখিয়ে, বাজে কথা বলার কোন দরকার ছিলো না
বলে নিম্মি চলে গেল। সবুজ থমকে গেল। মেয়েটা এত বুদ্ধিমতী কেন? নিম্মিকে বাধ্য রাখার একটা মোক্ষম ওষুধ হলো এই তালাকের ভীতি। কিন্তু কয়দিন থাকবে এই ভীতি?
মিলির কলিগ নাতাশা এসেছে বাসায়। বিয়ের পরের দাওয়াত করতে। একটা রেস্তোরাঁয় সবাই মিলে ট্রিট দেবে, ফোন করে জেনেছে বাসায় আছে মিলি তখন দেখা করতে এসেছে,
• তুই হঠাৎ বাসায় চলে এলি?
• ওখানে যে কি খারাপ অবস্থা
• কিরকম খারাপ?
• সবুজ ওই বাড়ির জন্য সবকিছু করে, ধুমধাম করে বোনের বিয়ে দিয়েছে, আর ওর রুমটা কোথায় জানিস? উঠানের একদম শেষ মাথায়, পিছনে একটা সুপারি বাগান সেটা পার হয়ে পুকুর, শুনেছি ওর বউটাকে নাকি ওই পুকুরে গোসল করাত
• তো কি ভয় পেয়ে চলে এলি?
• ভয় কেন পাব? আমি বলেছি যতদিন সবকিছু ঠিক হবে না আমি ও বাড়িতে যাচ্ছি না
• দেখ একটা গ্রামের ছেলেকে তুই বিয়ে করেছিস, তার ওপর আবার দ্বিতীয় স্ত্রী, প্রথম স্ত্রী সম্পর্কে যা শুনেছি, মেয়েটা বেশ মানিয়ে গুছিয়ে চলে, তার ওপর তোর শাশুড়ির ভাইঝি
• তাতে কি সবুজ ওকে ভালোবাসে না
• নারী পুরুষের সম্পর্কটা খুব অদ্ভুত! ওরা স্বামী-স্ত্রী কাছে আসতে কোন সমস্যা আছে?
• তাহলে তোর আমায় বিয়ে করত না
• ছেলেদের মন তুই বুঝবি না, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শশুর বাড়ি চলে যা
• একটা গ্যাসের চুলা নাই জানিস?
• এটা বিয়ের আগে ভাবতে হতো
• তখন তো আসলে….
• এখন ওখানে থেকে নিজেকে মানিয়ে চলতে হবে, আর ভাইয়াকে বলবি ধীরে ধীরে সবকিছু কিনে দিতে
• হ্যাঁ সে রাজি হয়েছে
• তাহলে তো মিটে গেল
• আচ্ছা ভাইয়া ভাবি আসুক, আমি কথা বলি
• বিয়েটা জেদ করে করেছিস এখন আর কারো পরামর্শ শুনতে হবে না
• তুই ঠিক বলেছিস। আমার এভাবে আসা উচিত হয়নি।
• তাহলে এক কাজ করি সামনের শুক্রবারের পরের শুক্রবার প্রোগ্রাম করি, ভাইয়াকে নিয়ে সকাল সকাল চলে আসিস
• তাই হবে, চা কফি কিছু খা
• আজ না রে, আজ অনেক কাজের চাপ
• আন্টি শরীর এখন কেমন?
• এই বয়সে যেমন হয় আর কি, চলি ভালো থাকিস, আর বোকার মত কোন কাজ করিস না
• আচ্ছা এরপর থেকে তোকে জিজ্ঞেস করে করে করব
• না সংসারে মাঝখানে কাউকে ঢুকতে দিবি না, আমাকেও না
• চমৎকার বলেছিস
শ্রাবণের মধ্যদুপুর
৩৩
শরতের পরিষ্কার আকাশ। সূর্যের আলোয় সবকিছু যেন পুড়ে যাচ্ছে। এই রোদ মাথায় করে সবুজ বাজার করে এনেছে। বড় মাছ সবজি, গোস্ত, সাধনা স্বামীসহ আসবে। সবুজ বাজারের ব্যাগ থেকে, সবকিছু বের করে দিচ্ছে, নিম্মি আর কাজের মেয়েটা সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছে। সালেহা সেখানে দাঁড়িয়ে। মিলি বাস থেকে নেমে ভেবেছিল কল করবে সবুজকে।রাস্তায় সবুজের বন্ধু আরিফকে পেয়ে যায়, আরিফ বলে চলেন ভাবি আপনাকে এগিয়ে দেই, মিলির কাছে বিয়ের ভারী শুটকেস। আরিফ এগিয়ে না এলে বিপদেই পড়তো। আরিফ সুটকেস বহন করে এগিয়ে দিয়ে গেল। দাঁড়াতে চাইলো না কোন একটা কাজের অযুহাতে চলে গেল। মিলি উঠানের দৃশ্য দেখে প্রচন্ড রেগে গেল,সে রাগ করে চলে গেছে দুই দিন হল, এর মাঝে সবুজ নিম্মিকে এনেছে।
• বাহ এখানে তো দেখছি দাওয়াতের প্রস্তুতি চলে
• তুমি একাই কিভাবে এলে? সবুজ অবাক
• আমি নাই আর বড় বউকে নিয়ে আসছো
• না সেরকম কিছু না
• আমি বলছি বড় বউকে আনতে, আজ সাধনা আর ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের দাওয়াত, সালেহা বলেন
• কই সবুজ আমাকে জানায়নি তো
• তুমি ভিতরে চলো
ঘরে নিম্মির জিনিসপত্র দেখে আরেকপ্রস্থ রাগারাগি করে মিলি। নিম্মি দ্রুত জিনিসগুলো ব্যাগে ভরে ফেলে। ব্যাগটা সালেহার রুমে রেখে দেয়। তার ইচ্ছে করছিল ওই মুহূর্তেই বের হয়ে যেতে। কিন্তু সে তো কোন অপরাধ করেনি। অপরাধ যদি কেউ করে থাকে তাহলে সেটা মিলি নিজে করেছে। সবুজ আরেকজনের স্বামী এ তো সে জেনেই বিয়ে করেছে। তাহলে এখন এত অবাক হওয়ার কি আছে? নিম্মির অধিকার আছে এই বাড়িতে। সে থাকতেই পারে এখানে। চোয়াল শক্ত করে নিম্মি রান্নাঘরে যায়।
• নিম্মি ওর কথা কানে নিও না, রান্নাবান্না ভালোমতো করো, ওই মিষ্টি একটা মুরগির তরকারি করো না (রোস্ট) ওইটা সাধনার জামাই খুব ভালোবাসে,ওইটা করো
• হ্যাঁ কাজ করার জন্যই তো এনেছেন, কাজ তো করবোই
এই প্রথম নিম্মি মুখে মুখে কথা বলল। কিন্তু সালেহা কোন প্রতিউত্তর না দিয়ে চলে গেলেন। বড় মাছ কাটছে ফরিদা। পেটি সুন্দর করে কাটতে হবে। উনি সেই দিকে এগিয়ে গেলেন।
নামাজের আযান দেওয়ার আগেই সাধনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন চলে এলাম। চকচকে একটা লাল শাড়ি পড়েছে সাধনা। গাল ভর্তি পাউডার, টকটকে লাল লিপস্টিক। গলায় মোটা সোনার চেন, হাতে সোনার বালা। বেশ দেখাচ্ছ তাকে। হেলাল পায়ে ছুয়ে সালাম করে সালেহাকে। শরবত বানিয়ে আনে নিম্মি। সবার হাতে হাতে তুলে দেয়। আবার রান্নাঘরে যাওয়ার সময় হেলাল তাকে বলে, ভাবী আপনার রান্না খুব ভালো।
নিম্মি অপ্রস্তুত হাসি দিয়ে চলে যায়। হেলাল বয়সে অনেক বড়।
দুপুরে খাবার টেবিলেও খুব প্রশংসা হয় নিম্মির রান্নার। মিলি সেখানে উপস্থিত, কেউ তাকে ঘাটায় না। সাধনা খেয়ে দেয়ে মায়ের ঘরে আসে, নিম্মি গোসল করে চুল মুছছে।
• পরীক্ষা শেষ?
• না কেবল টেস্ট পরীক্ষা হলো
• পরীক্ষার ক্ষতি হচ্ছে না?
• হ্যাঁ চলে যাব
• ছোট ভাবী তোমারে কিছু বলছে?
• না, কি বলবে?
• শুনলাম চেঁচামেচি করেছে
• তেমন কিছু না,তুমি বিশ্রাম নাও
• আমার ঘরে হেলালের বোন, ভাগনি সব শুয়ে আছে
• এখানে ঘুমাও
• না, পুকুর পাড়ে বসবো, তুমি যাবা?
• আমার খাওয়া হয়নি
• খেয়ে আসো এক সাথে যাই
নিম্মি বুঝলো সাধনা কিছু বলতে চায়। এমনিতেও তার খাওয়ার খুব একটা রুচি ছিলো না। দুই মুঠ খেয়ে উঠে যায়।
রোদ পড়ে গেছে। হালকা বাতাস বইছে পুকুর পাড়ে। মিস্ত্রিদের আজ আনাগোনা নেই। সবুজ নিষেধ করেছে। শুক্রবার এরা খুব ফাঁকি দেয়। খাওয়া, নামাজে আধা দিন পার করে।
সাধনা, নিম্মি পুকুর পাড়ে বসে,
• ঘাট বানাইবো ভাই?
• তাই তো শুনলাম
• তোমারে কিছু কথা বলবো রাগ করবা না
• বেশ বল
• তোমারে যে ভালোবাসত মনে করো সে ফিরে আসলো, তোমারে তার জীবনে ফিরতে কইলো কি করবা তুমি?
• আমার এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিলো, তুমি ভালো করেই জানো
কিছুক্ষণ দুজন চুপ করে রইলো, দূরে রোজিনার মা ছাগল চরিয়ে বেড়াচ্ছে,বিশাল আম বাগান তারপর অবারিত ধানের ক্ষেত।
• তোমার সাথে কি মাসুদ যোগাযোগ করেছে?
• হুম
• এবার বুঝতে পেরেছি, তোমায় কিছু কথা বলতে চাই রাগ করবে না তো?
• না কথা তো বলতেই চাইলাম
• মাসুদকে তোমার ভালো লেগেছিল কারণ সে চেয়ারম্যানের আত্মীয় ছিল, এলাকায় একটা প্রভাব, হাতে কাঁচা টাকা পয়সা, দামি মোবাইল, বাইক, তোমার মনে হয়েছিল এর সাথে প্রেম করলে তুমি নিজেও কিছুটা সুবিধা পাবে, কিন্তু সে তোমাকে ড্রাগ দিয়ে একদিনের সুখের জন্যই বেছে নিয়েছিল
• আমি আসলে ব্যাপারটা বুঝতে পারি নাই
• না বোঝারই কথা, এবং যে লোক গুলো হৈচৈ করছিল, তারা খবর পেল কোথায়? বৃষ্টিতে প্রাইমারি সেকশন এর ছাত্র-ছাত্রী কম আসার কথা
• কেউ ছিলনা, পুরা ফাঁকা ছিল
• এটাও একটা প্ল্যান, তোমার একটা বদনাম রটিয়ে তোমার কাছ থেকে ফায়দা লোটা
• আমি আসলেই এত কিছু বুঝি নাই
• কিন্তু মাসুদ এটা বুঝতে পারেনি, এত দ্রুত তোমার বিয়ে ঠিক হবে, হেলাল ভাই নিজেও মোটামুটি প্রভাবশালী, মাসুদ তাকে ঘাটাবার সাহস পায়নি, তোমার ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছে, দুই বাড়ি থেকে বেশ ভালো শাড়ি গহনা পেয়েছ, এখন সে তোমাকে আবার টার্গেট করছে, এবারের লক্ষ্য তোমার শাড়ি গহনা, কোন সম্পর্কের ভিত্তি যদি হয় লোভ আর প্রতারণা, সেখানে ক্ষতি ছাড়া আর কি আশা করা যায়?
• আমি মাসুদরে ভালবাসি
• হেলাল ভাইয়ের সাথে তোমার বয়সের ব্যবধান অনেক, তিনি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, দায়িত্বশীল, এতদিন পরিবারের জন্য করেছেন, এখন তুমি তার পরিবার, আমি বিশ্বাস করি উনি তোমাকে যত্নেই রাখবেন
• সব বোঝে কিন্তু মন বোঝেনা
• সব কি একসাথে পাওয়া যায়?
• ভাইরে কিছু কইও না? আমারে মারবো
• তোমার ভাইয়ের সাথে আর আমার আলাপের সুযোগ কই? কাল বাড়ি চলে যাব, আজ থেকে গেছি তোমার আর হেলাল ভাইয়ের সম্মানে
• আমি বুঝতে পারছি, ছোট ভাবি এসে কিছু একটা করছিল
• আসলে সম্পর্কটা জটিল, আমি জানিনা কতদিন এটা টানতে পারব
• ভাই তোমারে আনছিল কেন?
• তোমাদের দাওয়াতের কথা ছিল ফুপু হয়তো আনতে বলে দিয়েছিল
• হ্যাঁ মা তো এখন একা এত কিছু পারেনা, সুমনা তো আবার অসুস্থ
• হ্যাঁ ওর ব্যাপার একটু চিন্তা করা দরকার, তুমি হেলাল ভাইয়ের সাথে কথা বলো না
• কি বলবো?
• তোমার ভাই তো এখন একটু ব্যস্ত, তুমি আর হেলাল ভাই ওকে শহরের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও, টাকা পয়সা না হয় পরে তোমার ভাইয়ের কাছ থেকে নিয়ে নিও
• টাকা পয়সা কোন সমস্যা না
• তাহলে বোনটার জন্য কিছু কর
• আচ্ছা
• সুমনাকে নিয়ে তোমরা দুজন যখন একসাথে কোথাও যাবা, একসাথে আলাপ করবা, শুধু ডাক্তার-খানা না, পার্কে যেতে পারো, তাহলে তোমরা একা এক সাথে বসে কিছু কথাবার্তা বলতে পারবা, যেটা আসলে পারিবারিক পরিবেশের সম্ভব না।
• তুমি তো খুব ভালো বুদ্ধি দিয়েছো
• হ্যাঁ চেষ্টা করে দেখো, কাছে আসার তো বাঁধা নাই তোমাদের, মাঝখানে কেউ নাই, হেলাল ভাই তোমার দিক থেকে আহবান পেলে আরো সহজ হবেন, তোমার মন বুঝবেন, বুঝতে না পারলে বলে আদায় করবা
সাধনা হাসে…. কি যেন একটা ছিলো সেই হাসিতে নিম্মি বোঝেনা। নিম্মি আজকাল অনেক কিছুই বুঝতে পারেনা।
চলবে।