ভুলি কি করে তোকে পর্ব-০১

0
337

♣ গল্পের নাম: #ভুলি_কি_করে_তোকে
** লেখিকা: #নুরজাহান_আক্তার_স্নিগ্ধা
📌 ( Cousin-related | Romance | Thriller | Family Drama )
❌ কপি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
#পর্ব_ ১
অনেক চেচামেচি শব্দের কারণে সকাল সকাল নিশিতার ঘুম ভেঙে যায়।নিশিতা ঘুমু ঘুমু চোখে আস্তে আস্তে চোখটা খুলে দেখে রাদিফ তার দিকে রুষ্ট আর বিরক্তি দৃষ্টি দিয়ে কি যেন বলছে আবার চোখটা বন্ধ করে কয়েকসেকেন্ড পর আবার চোখটা খুলে হঠাৎ ঘুম থেকে ওঠলে ওর আবার মাথা কাজ করে না কিছু বুঝতে না পেরে ওঠে বসে এক মিনিট মাথায় হাত চেপে মাথা নিচু করে বসলো আবার সামনে তাকিয়ে দেখতে পেল রাদিফ ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিধী ও কোমরে হাত দিয়ে ক্ষুব্ধ দৃষ্টি নিয়ে ভ্রুঁ কুচকে তাকিয়ে আছে আর আপুর সাথে বড় আাম্মু দাড়িয়ে আছে নিশিতাকে বসতে দেখে রাদিফ বলতে শুরু করলো

-“নিশিতা সমস্যা টা কি তোর? তোর জন্য আমি টি-শার্ট এনেই শান্তি পাই না।নতুন টি-শার্ট দেখলেই গায়েব করে দিস।টি-শার্টটা পুরো রুম জুড়ে খুঁজেছি তুই দেখেছিস নাকি তোকে জিজ্ঞেস করবো বলে।আমি এসে দেখি তুই নিজেরই পড়া। তোর কেন ছেলেদের টি -পরা লাগবে?”
নিধী ও রাদিফের তাল মিলিয়ে সাথে বলে ওঠলো
-“আমার ওয়ান পিছ এর সাথে মিলিয়ে নতুন প্লাজু টা পরশু আনলাম আর তুই পরে আছিস।এমন কে করিস বলতো।”
সবার কথা শুনে নিরীহভাবে নিশিতা বলে ওঠলো
-“তোমরা এমন কেন করছো একটা টি-শার্ট আর প্লাজু ই তো নিয়েছি।তার জন্য এমন করতে হয় তাও সকাল ভেলা।”
নিশিতার এই কথা যেন আগুনে কেরাসিন ডালার কাজ করলো, রাদিফ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলে ওঠলো

-“এটা শুধু আজকে কথা হলেও মানা যেত। তোর তো পনিত্যদিনের কাজ হয়ে উঠেছে।পছন্দ করে টি-শার্ট এনে নিজে পরতে পারি না তার আগেই গায়েব করে দিস.”

-“তুই এমন কেন করিস বল তো মা?তোকে শপিংয়ে যেতে বললে। তোর শপিং করতে ভালো লাগে না। কিন্তু ওরা কিছু পছন্দ কিনে আনলে তোর ওইটাই নিতে হবে।এখন তো বড় হচ্ছিস।এখন তো শপিং করতে শিখ।”
এতক্ষণ রাহেলা বেগম চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে সবার কথা শুনার পর এবার মুখ খুললেন।রাহেলা বেগম বলা শেষ হতেই রাফি বলে ওঠে…

— “এই যে নিশু আপু… তুমি কি এখন ‘জামাচোরদের কিংবদন্তি’ হইতে চাও? মানে তুমি না গায়েব করলে বুঝি জামা বাঁচে না?”
তার কথায় কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকা নিশিতা হঠাৎ ধীরে ধীরে তার দিকে কটমট করে তাকায়…

— “এই যে এই দৃষ্টি! হাই ভোল্টেজ আপু অ্যাক্টিভেটেড!”
রাদি আবারও বলে ওঠে..
— “বড় আম্মু ,নিধী আপু, আমি বলেছিলাম না—নিশুপু ড্রেস গায়েব করে ঝগড়া লাগায়, আর এখন চোখ দিয়ে গ্রিল বানাইতেছে!”
রাফির কথা শুনে রাহেলা বেগম ঠোঁট টিপে হাসে।নিশিতা দাঁত চেপে বলে…

— “রাফি…! আর একটা কথা বললেই তোর সাথে চকলেট শেয়ার করা চিরতরে অফ করে দিব! বলে দিলাম। ”

চারদিকে কথার ঝড়, ছোটখাটো অভিযোগ, আর রাফির দুষ্টুমিতে পুরো বসার ঘরটা যেন নাট্যমঞ্চ হয়ে উঠেছে। কেউ কথা থামায় না, কেউ আবার রাগে গম্ভীর, কেউ চাপা হেসে সব দেখে—এইসব মিলে শেখ বাড়ির এক চিরচেনা, কিন্তু দারুণ রঙিন সকাল।

ঠিক তখনি…..
দরজার দিক থেকে ভেসে এলো রায়হান শেখের গম্ভীর কণ্ঠ তিনি চারপাশে একবার তাকিয়ে নিয়ে শান্ত গলায় বলেন—

– “যা হওয়ার, হয়ে গেছে। এখন সবাই যার যার কাজে যাও।”
তাঁর গলায় কোনো উচ্চস্বরে রাগ নেই,শান্ত ও গম্ভীর। রায়হান শেখের কথা শুনে নাদিফ আর দাঁড়িয়ে থাকে না।নাদিফ মুখে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে নিশিতার দিকে তাকিয়ে চলে যায়।এর পর রাহেলা বেগম, নিধী,রাফি সবাই ধীরে ধীরে সরে যায় কেউ কিছু বলে না।
রায়হান শেখ ও সবাই চলে গেলে বিনাবাক্যে প্রস্থান করেন।
_____________

আমার নাম মেহেরিনা জাহান নিশিতা। ডাকনামে সবাই আমাকে ‘নিশু’ বলে ডাকে।
আমি থাকি ‘শেখ ভিলা’তে—বাবার, চাচাদের, দাদুর শখের তৈরি এই বিশাল বাড়িতে।
এখানে শুধু দেয়াল না, প্রতিটা কোণ আর মানুষের মাঝে গল্প জমে আছে।

আমাদের পরিবারের মূল কর্তা তিন ভাই—
তাদের চোখের ইশারাই যেন এই বাড়ির আইন। শেখ বাড়ির নিজেস্ব বিজনেস রয়েছে যা অনলাইনের এবং অফলাইনে নিজেদের পরিশ্রম এর মাধ্যমে দেশ বিদেশে বিভিন্ন শাখা রয়েছে দেশে সব শহরে শেখ ইন্ডাস্ট্রি শাখা রয়েছে বংশ গতভাবে রাজনীতির সাথে জড়িত।

**বাড়ির সবচেয়ে বড় কর্তা – রায়হান শেখ (আমার বড় আব্বু)
তিনি এমপি, সাথে বিজনেস করেন। গম্ভীর মানুষ হলেও মাঝে মাঝে মজাও করেন।
তবে সেটা কেবল কাছের মানুষদের সঙ্গেই।

*স্ত্রী: রাহেলা বেগম (আমাদের বড় আম্মু, কথায়-কাজে সবাইকে সামলায়)
*সন্তানরা:
• নাহিয়ান শেখ (২৮) – সবার বড় ভাইয়া, দেশের বাহিরে থাকেন।
• রাদিফ শেখ (২৩) – একটু রগচটা হলেও ভিতরে খুব নরম,মজার
• আরোহি শেখ (১৬) – সবার ছোট, তবে দুষ্টুমিতে বড়দেরও হার মানায়

**মাঝের ভাই – নাহিদ শেখ (আমার বাবা)
সরকারি চাকরি করেন। নিয়ম-কানুনে বিশ্বাসী।
*স্ত্রী: নাদিয়া শেখ (আমার মা, স্কুল টিচার। নরম, শান্ত স্বভাবের,কিন্তু প্রচুর আত্মসম্মানি)
*সন্তানরা:
• নাদিফ শেখ (২৪) – আমার বড় ভাই, একটু নিরব স্বভাবের কিন্তু দারুণ সাপোর্টিভ
• মেহেনুর জাহান নিধি (২০) – আমার বড় আপু, রাগী কিন্তু একদম হৃদয়ভরা
• আমি নিজে, মেহেরিনা জাহান নিশিতা (১৭) – এই গল্পের কথক, বাড়ির প্রাণ

**সবার ছোট ভাই – ইরফান শেখ (আমার ছোট চাচা)
সবসময় হাসি-খুশি। কারো মন খারাপ থাকলে উনিই ঠিক করে দেন।বিজনেস করেন।
*স্ত্রী: সামিয়া বেগম (ছোট আম্মু, রান্নায় এক্সপার্ট)
*সন্তানরা:
• ইরা শেখ (১৪) – টিকটক-ইন্সটাগ্রামে ব্যস্ত, তবে দারুণ মিষ্টি
• রাফি শেখ (১১) – ছোট হলেও ঘরে তার দাপট সবচেয়ে বেশি!
**বাড়ির বড় ফুপু – আয়শা বেগম

তার স্বামী ইকবাল শেখ, যিনি আমাদের চাচা এবং ফুফা—দুই-ই।
কারণ উনি বড় আব্বুর চাচাতো ভাই।
*তাদের একমাত্র ছেলে:
• মাহদি শেখ (২৬) — নেভি অফিসার, স্বভাবে শান্ত আর আত্মভিমানী।

***আরও একজন আছেন – আমাদের ছোট ফুপু মিনুফু……
তার পরিচয়টা একটু আলাদা, একটু রহস্যময়…
এই গল্পে তিনি একেবারে পরে ঢুকবেন—তখন না হয় বলা যাবে!
*এই হচ্ছে আমাদের শেখ পরিবার—
রক্তের চেয়েও গাঢ় সম্পর্ক, যেখানে প্রতিদিন খুনসুটি, আবেগ, প্রেম আর চমক লুকানো থাকে।
______________

সবাই বেরিয়ে যাওয়ার পর এক দম হাফ ছেড়ে নিশিতা বলল—
“উফ্! বেঁচে গেলাম… আরেকটু হলেই আপু আর ভাইয়া খবর করে দিত!”
ভাবতে ভাবতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি — ও মা আল্লাহ! সাড়ে সাতটা বেজে গেছে!
এখনই তৈরি না হলে কলেজ মিস। নিশিতা ওঠে ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেশ হয়ে। কলেজের সাদা ইউনিফর্ম পড়ে চুলটা উচু করে একটা জুটি করে কাধে কলেজের ব্যাগ নিয়ে।সিড়ি দিয়ে নিচে লাফাতে লাফাতে নামতে নিলে খেল এক ধমক
-“এ্যাই! তোর এত তারাহুরো কিসের এইভাবে লাফাতে লাফাতে নামলে মুখ থুবড়ে পড়বি ধিরে সুস্থে নামতে পারিস না।”(রাহেলা বেগম)
ধমক খেয়ে টেবিলের এসে দেখতে পেল আরোহি, নিধী,নাদিফ,রাদিফ সবাই টেবিলে বাড়ি র্কতারা খেয়ে ওঠে গেছেন।চেয়ার টেনে বসে নিতেই রাহেলা বেগম আর সামিয়া বেগম তারাতাড়ি খেতে তার দিল। রাদিফ ভাইয়া রুটি হাতে নাড়িয়ে বলল—
– “এই বাসায় সকালবেলা শুধু রুটি, ডিম,ভাজি! একটা দিন কি মুরগি পড়ে না এই টেবিলে? নাকি মুরগিগুলা রোজারত?”
রাহেলা বেগম পাশ থেকে কড়া চোখে তাকিয়ে বললেন—
— “খাবার নিয়ে এসব কথাবার্তা একদম চলবে না।”
রাদিফ মুখ বাঁকিয়ে বলল—
— “আচ্ছা বড় আম্মু, খাবারকে তো প্রশংসা করলাম! এই এই রুটি ডিম ভাজি তো একদম গোল্ড মেডেল পাওয়ার মতো!”
আরোহী ফিসফিস করে বলল—
— “ভাইয়া সকালে না একটু বেশিই নাটক করে!”

সামিয়া বেগম রসিকতা করে বললেন—
— “রাদিফ তোরে দিয়ে কিছু হয় না, নাটক করেই একদিন বিয়ের পাত্রী পালাবে!”
পরিবারের হাসি ঠাট্টার মাঝে পার হল নাস্তার সময়টা নিশিতা ভদ্র মেয়ে মত খেয়ে আরোহি কে নিয়ে কলেজের জন্য রওনা দিল। বের হয়ে দেখতে পেল তাদের জন্য ড্রাইভার আঙ্কেল দারিয়ে আছে কিন্তু আজ তারা গাড়িতে যাবে না তারা সাইকেল নিয়ে যাবে। সময় পেলেই সাইকেল চালিয়ে যেতে পছন্দ করে। আর এমনিও আজ সকালটা অনেক সুন্দর কি সুন্দর ঠান্ডা হাওয়া বইছে সাইকেল চালিয়ে গেলে অনেক ভালো লাগবে এই আবহাওয়ায় আর সকালের পরিবেশ উপভোগ করে।আগে প্রায়ই সাইকেল চালিয়ে স্কুলে এখন বড় হচ্ছে বলে রাহেলা বেগম সাইকেল নিয়ে যাওয়া তেমন পছন্দ করেন না তাই তেমন চালানো হয় না।কলেজে মুল ফটকে এসে মাঠের এককোনায় সাইকেল রেখে তারপর যে যার যার ক্লাসে চলে যায়
আজ এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে আর সব হারামি ফ্রেন্ডরা আসবেও না বৃহস্পতিবার বলে কথা বন্ধের বাহানা খুজে ভাবতে ভাবতে ক্লাসে ঢুকে দেখতে পেল তার ব্রেস্টি মিলি তার জন্য যায়গা রেখে দিয়েছে আর এটা তার জানা কথাই ক্লাসে তিনটে সাড়িতে বেঞ্চ রাখা শেষের সাড়িতে প্রথম দুটি বেঞ্চ তার আর তার চাংকুপাংকু ফ্রেন্ডদের জন্য আবদ্ধ করা তারা এখানে বসে সবাই জানে। তাদের ফ্রেন্ডশীপ অনেক স্টোং তাইতো পাচঁ বছর যাবত একসাথে এগুলো ভেবে সিট এ যেয়ে ব্যাগ রাখতে রাখতে মিলিকে উদ্দেশ্য করে বললো
-“কিরে মিলু বেবি. কি অবস্থা তোর। কার ভাবনায় গুম তুই?”
নিশিতা এসেছে তারপর কোন প্রতিক্রিয়া নেই। এমনতো হওয়ার কথা না এই মেয়েতো পারলে সারাদিনই ওকে জরিয়ে ধরে রাখে।মিলির কোন বোন নেই একটা মাএ ভাই তাও বিদেশে থাকে।তাই কলেজে আর ফেসবুকে ফ্রেন্ডদের গ্রুপে আড্ডা দিয়ে দিন যায় তার। নিশিতা এসেছে ও বুজতে পেরে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া করেনি নিশিতার দিক এ তাকিয়ে মলিন মুখে একটা মুচকি হাসি দিল..তার পর বলল
-“এই তো ভালো তোর কি আবস্থা”
নিশিতার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে কিছু একটা হয়েছে।ও দেখা মাএ ও লাফালাফি শুরু হয়ে যায় সব সময় মুখে হাসি থাকে..কিন্তু আজ তা নেই. নিশিতা নরম স্বরে বললো
-“মিলু তোর কি কিছু হয়েছে। তোর কি মন খারাপ। কেউ কিছু বলেছে বল আমাকে।”
মিলি নিশিতার দিকে চেয়ে চোখ টলমল করছে ওর…
-নিশিতা আমাকে কিছু দিন যাবত কিছু ছেলে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে আমি ইগনোর করেছি ও অন্য রাস্তা দিয়ে ও আসার ব্যবস্থা নেই। তুই তো কাল আসলি না আমি কোচিং করে বাসায় যাব তখন রাস্তায় কিছু ছেলে বাইকে বসে বাজেভাবে ইভটিজিং করে আজ সকালে আমার হাত ধরার চেষ্টা করে খারাপ কথা মিনিং ও করে।আমি অনেক কষ্ট করে ওখান থেকে বের হয়ে আসি।”
একথা শুনে নিশিতার রাগ উঠে যায় এতো বড় সাহস হয় কিভাবে ভাইদের জানাতে হবে। তার প্রাণপ্রিয় বান্ধবীকে ইভটিজিং ভাই দের বললে অবশ্যই কোন ব্যবস্থা নিবে ভেবে মুখে বলল
-“ওই বেয়াদব এর সাহস কি করে ওদের ঘরে মা বোন নেই।তুই বাড়ি তে জানিয়েছিস ব্যাপার টা। তুই একদম চিন্তা করবি না আমি ব্যাপার টা দেখছি”..

-“আজ ইভান ভাইয়া থাকলে এমন কিছু সম্মুখীন হতে হতো না। বাসায় বললে আম্মু আব্বু টেনশনে শেষ হয়ে যেত তাই জানায়নি।বের ও হতে দিবে না একা আম্মু এমনকিতেই অসুস্থ থাকে। ”
ওদের কথা বলার মধ্যে স্যার চলে আসে..
কলেজের ক্লাস শেষ করে একসাথে কোচিং-শেষ করে নিশিতা চিন্তা করছিলো ছেলে গুলো আবার আসলে কি করবো মিলি কে তো কোন ভাবে একা ছাড়া যাবে না মেয়েটা তেমন সাহসী না আর ও একা ওদের সাথে কিছু করতে পারবো না।আরোহী ও নেই ওতো আগেই চলে গেছে বাসায়। আরোহী থাকলেও তিনজন মেয়ে কাছে অবশ্যই আসতো না। একা পেলেই সমস্যা করতো। মিলিকে দিয়ে আসতে গেলে নিশিতা নিজেই একা আসতে হবে। সে এত ভীতু না কিন্তু ছেলেদের সাথে কি পারা যায়। ভাবনার মাঝেই কিছুটা হেঁটে রাদিফকে দেখতে পেল আড্ডা দিচ্ছে কতো গুলো ছেলেদের সাথে নিশিতা রাদিফকে দেখে কিছু টা স্বস্তি পেল ঠোঁট কিছুটা হাসি ফুটলো নিশিতা আর দাড়ালো না সোজা রাদিফের কাছে চলে গেল কাছে চলে রাদিফের পিছনে দাঁড়িয়ে থেকেই ডাকলো

-“রাদিফ ভাইয়া”…..
রাদিফ নিশিতার কন্ঠশুনে পিছনে তাকলো তার ভ্রুঁ কুঁচকে গেল
-“কি ব্যাপার! তুই এখানে যে বাসায় যাসনি এখনো।এমনে তো রাস্তায় চিনিসই না আজ কি হলো।আরে মিলি যে কেমন আছো?
নিশিতার সাথে মিলিকে দেখতে পেয়ে। মিলি ততক্ষণে নিশিতা পিছনে দাঁড়িয়ে..
-“জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো।আপনি ভালো আছেন ভাইয়া”
-“হ্যা! এই তো খুব ভালো আছি।তো বাসায় যাও না কেন।”
-“জ্বি ভাইয়া যাব।আম্মু অসুস্থ ছিল তাই বের হতে পারিনি। ”
নিশিতাক যে রাদিফের বোন রাস্তায় ও কথা শুনাতে হয় আর মিলি কে দেখলে হুশ থাকে না কি মনে করে নিশিতা কি কিছু বুঝি না (মুখ ভেংচি কেটে) বলতে লাগলো
-“ভাইয়া তুমি কি এখন বাসায় যাবে।না মানে! চলো না মিলু কে ওর বাসায় ড্রপ করে আমরা বাসায় যাই।”

-“তা নাহলে দিয়ে আসলাম। কিন্তু হঠাৎ আজ দিয়ে আসতে হবে কেন। কিছু কি হয়েছে।”
সন্দিহান কণ্ঠে রাদিফ বলে ওঠে।নিশিতা ভাবে এখন কোন ভাবেই বলা যাবে না। রাদিফ যতই মজার মানুষ হোক কিন্তু রাগ উঠলে হিংস্র হয়ে যায়।আর এই কথা শুনেই। রেগে যাবে অবশ্যই।এখানের সব গুলো ছেলে নিয়ে হামলা করবে অবশ্যই মারতে মারতে মেরেই ফেলবে।নিশিতা আটকানোর চেষ্টা করলে আর গালেও ফ্রি থাপ্পড় পরবে।তাই রাদিফকে না বলাই ভালো নাদিফ কে বলবে সে নাদিফ ইজিলি সমাধান করতে পারবে এইসব ভেবে নিশিতা বলে
-“আরেহ্! না ভাইয়া কিছু হয়নি। তোমাকে দেখলাম ভাবলাম আর কি মিলিকে দিয়ে ও আসি আর তোমার বাইকে করে বাসায় ও যাই।”
রাদিফ কিছু একটা ভেবে বলল..
-“আচ্ছা ঠিক আছে! চল তাহলে।আর তোর সাইকেল কই।”
-“কলেজে।দারোয়ান আঙ্কেলে বলে রেখে এসেছি।”
রাদিফ সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলো ওদের সাথে ওদের রিকশা উঠেয়ে দিয়ে রাদিফ বাইক নিয়ে আসছে ওদের রিকশা সাথে সাথে .. ছেলেগুলো তখন ও সেখানে ই ছিলো।মিলি নিশিতাকে ইশারায় দেখিয়ে দেয়।ছেলেগুলো হয়তো বুঝতে পারে ওদের সাথে রাদিফ আছে তাই কাছে আসেনি কিন্তু কি জানি ইশারায় বুঝাচ্ছিল তা রাদিফ দেখে রেগে গিয়েছিল।কিন্তু নিশিতারা সাথে বলে কিছু বলেনি..

বাসায় ফিরে…
সন্ধ্যা ঠিক ছ’টা। দরজা খুলেই নিশিতা এক ঢিলে নিঃশ্বাস ফেলল। ক্লান্ত চোখ, মুখে সারাদিনের ধকল। বইয়ের ব্যাগটা এক পাশে ছুঁড়ে ফেলে ধীর পায়ে চলে গেল বাথরুমে। ফ্রেশ হয়ে একটা ওভারসাইজ্ড টি-শার্ট আর পাজামা পরে নিল—এটাই যেন শান্তির ইউনিফর্ম।

নাস্তার টেবিলে বসতেই সামিয়া বেগম বলল,
— “চোখ মুখ কেমন হয়ে গেছে তোর, ঠিক আছিস তো?”
নিশিতা হালকা হাসলো,
“হুম, মাথাটা একটু ধরেছে।”
দুইটো পিস চিকেন নাগেট আর এক গ্লাস জুস খেয়েই শরীর আর দিচ্ছিল না। খাওয়া শেষে একেবারে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ল। ঘুম নয়, শুধু শরীরটা বিশ্রাম চাচ্ছিল। শরীর ক্লান্ত, কিন্তু পড়া তো বন্ধ করা যাবে না—এই ব্যাপারে সে খুব সিরিয়াস।
সন্ধ্যা ৭:৩০ বাজতেই উঠে পড়ার টেবিলে।
একটু ধীরে ধীরে, মাথা হেলিয়ে বইগুলো বের করল। গুনে গুনে অ্যাসাইনমেন্টগুলো শেষ করতে করতে কখন যে ১০:৩০ বেজে গেছে, টেরই পায়নি।

রাতের খাবার সবাই একসাথে খায় শেখ পরিবারে।
আজও সব ভাইবোন আর বড়রা ডাইনিং টেবিলে।
খাবার শুরু হতেই এক অদ্ভুত নিঃশব্দ শৃঙ্খলা—বড়রা সামনে থাকলে কেউ উচ্চ স্বরে তেমন একটা কথা বলে না।শুধু প্লেটের আওয়াজ, আর মাঝে মাঝে কারও চামচে পড়ে যাওয়া।

খাওয়া-দাওয়া শেষে নাদিফ, রাফিদ, নিধি, নিশিতা, আরোহি, ইরা আর রাফি—এই সাতজনের মিলিত আড্ডা শুরু হয়।
এটা যেন শেখ বাড়ির সবচেয়ে প্রাণবন্ত সময়।
একজন বালিশ ধরে বসে আছে, কেউ আবার পায়ের ওপর পা তুলে লাফাতে লাফাতে গল্প বলছে।
— “ইরা, তুই ওইদিন মিস সুমির ক্লাসে কী করছিলি রে?”(আরোহী)
— “আরোহি তো পরীক্ষার দিন বই নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, হাহাহা!”(নিধী)
রাফি হেসে বলল,
“নিধী আপুর হাসি শুনলে রাইস কুকারের মতো লাগে, থাম না এবার!”
ভাইবোনদের আড্ডায় তার প্রান খুলে হাসি ঠাট্টা মেতে ওঠে , এমনকি বড়রাও কখনও বাধা দেয় না।
বরং মা বা চাচি মাঝে মাঝে এসে গল্পে অংশ নেয়,
— “তোমাদের শৈশবেও আমরা এমনই ছিলাম…”
তারপর হেসে চলে যায়।
তবে একটা নিয়ম অটল—১২:৩০-এর মধ্যে সবাইকে বিছানায়।
শুধু ছুটির দিন বাদে।
আজ নিশিতা তেমন কিছু বলল না।
একটু চুপচাপ, একটু ক্লান্ত।
আরোহী ফিসফিস করে বলল,
— “আপু।তোমার চোখ কেমন যেন… ঠিক আছো?”
সে হালকা হাসলো,
— “হ্যাঁরে, মাথাটা একটু ধরেছে।”

সবাই হাসতে হাসতে গল্প করতে থাকলেও নিশিতা ধীরে ধীরে উঠে চলে গেল নিজের ঘরে।
একটা নীরব দরজা বন্ধ হলো।
বিছানায় চুপচাপ শুয়ে পড়ল।

running ,,,,,,,,,,