#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৩৪
মাঝরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় জাভিয়ানের দিকে ঘুরে অভ্যাস বসত শরীরে হাত রাখে হানিয়া। কিন্তু জাভিয়ানের শরীরের স্পর্শ পায় না। ঘুমটা হালকা হয়ে যায় কিন্তু পুরোপুরি ছাড়ে না। চোখ বন্ধ রেখেই জায়গাটা হাতড়াতে থাকে, কিন্তু নাহ জাভিয়ান নেই। এই পর্যায়ে হানিয়া চোখ খুলে। একটু আগেই শুয়েছিলো তারা। ভালো মতো চোখ কচলে ঘুমটা ভালো মতো ছাড়িয়ে তারপর ওয়াশরুমের দিকে তাকায়। নাহ, ওয়াশরুমের দরজাও বন্ধ। তাহলে গেলো কই লোকটা?
হানিয়া বেড ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। চিন্তিত মুখে চপল পায়ে হেঁটে বেলকনিতে উপস্থিত হয়। হ্যা, সেখানেই দাড়িয়ে আছে জাভিয়ান। হানিয়া একটা লম্বা শ্বাস ফেলে তার দিকে এগিয়ে যায়। হানিয়া জাভিয়ানের কাঁধে হাত রাখলে জাভিয়ান চমকে তার দিকে তাকায়। এই সময়ে সে হানিয়াকে আশা করে নি। থতমত খেয়ে বলে উঠে–
—উঠে আসলে যে? ঘুমাও নি তুমি?
—ঘুমিয়েছিলাম তো, কিন্তু এই ফাঁকে আপনি এখানে এসে পরলেন। একা একা দাঁড়িয়ে আবারও আজগুবি চিন্তাভাবনা করছেন, তাই না? এবার বুকে শুধু ব্যথা উঠুক, আমি বাপের বাড়ি যদি না গিয়েছি তাহলে হানিয়া মির্জা না আমার নাম।
খানিকটা রাগ ও প্রিয়জনকে হারানোর ভয় নিয়েই কথাগুলো বলে হানিয়া। জাভিয়ান তার কথা শুনে হেঁসে দেয়। বিয়ের এতগুলো বছরে কয়েক হাজার বার এই হুমকি শুনে এসেছে সে। হানিয়া বলে তো ঠিকই কিন্তু কথাটা বাস্তবায়ন করতে পারে না। হ্যাঁ, রাগ করে থাকে একবেলা কিন্তু জাভিয়ান একটু ভালোবাসা দিয়ে বুকে আগলে নিলেই তার সব রাগ গলে যায়।
বরাবরের মতো এবারও সেই পন্থা অবলম্বন করে জাভিয়ান। হাত বাড়িয়ে প্রিয়তমাকে নিজের বাহু বন্ধনে আগলে নেয়। হানিয়া একটু রাগ দেখিয়ে নিজেকে ছাড়াতে চাইলেও জাভিয়ান হানিয়াকে শক্ত করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখে। একসময়ে হানিয়া শান্ত হয়ে যায়।
জাভিয়ান হানিয়ার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে–
—ঐসব না অন্যকিছু ভাবছিলাম।
—কি ভাবছেন শুনি?
—মেহরিমার কথা ভাবছিলাম। মিসেস চৌধুরী আর জাহানের কথা দ্বারা যা বুঝলাম, মেহরিমা মেয়েটা একটু বেশিই সহজসরল ও ভীতু স্বভাবের। যার কারণে রাহাত যা বুঝিয়েছে তাই বুঝে চুপচাপ নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়েছে।
হানিয়া জাভিয়ানের বুকে মাথা রেখে তার কথা শুনছে। জাভিয়ান আবার বলা শুরু করে–
—আমি ভাবছি এমন একটা ভীতু মেয়ের পক্ষে একা অন্য একটা শহরে গিয়ে সার্ভাইভ করা বেশ কঠিন ও জটিল বিষয় যদি না তাকে কেউ পেছন থেকে সাহায্য করে।
—মানে? কি বুঝাতে চাইছেন আপনি?
—আমি বুঝাতে চাইছি, মেহরিমার গায়েব হওয়ার পেছনে হয়ত রাহাতের হাত রয়েছে। যদিও আমি সিউর না কিন্তু সেদিনের পর থেকে আমার মনে বারবার কথাটা আসছে। আর রাহাতের মেয়ের প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে মনে হচ্ছে সে যা কিছু করতে পারো তার মেয়ের খুশির জন্য।
—আর মেহরিমা যে এই শহরে নেই সেটাই বা বুঝলেন কিভাবে?
—এই কয়েকদিনে আমি আমার সব সোর্সদের কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। তাদের একপ্রকার নাওয়াখাওয়া হারাম করে দিয়েছি মেয়েটাকে খুজে বের করার জন্য। যেমনটা তুমি হারিয়ে যাওয়ার পর করেছিলাম। সে যদি এই শহরে থাকতই তাহলে এতদিনে ধরা পরে যেতো।
হানিয়া জাভিয়ানের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছে। ভালো করে ভেবে দেখলে আপত দৃষ্টিতে জাভিয়ানের কথাগুলোই তার সঠিক মনে হয়।
হানিয়া জাভিয়ানের বুকে মাথা রেখেই তার দিকে তাকিয়ে বলে–
—হায়ার পাপা আমি একটা জিনিস চাই আপনার থেকে।
জাভিয়ান হানিয়ার এমন আবদারের কথায় একটু অবাকই হয়। মেয়েটা কখনোই কোন কিছু মুখ ফুটে তার কাছে চায় নি আজ পর্যন্ত। চাওয়ার প্রয়োজনও পড়েনি, হানিয়া কিছু চাওয়ার আগেই জাভিয়ান তার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে হানিয়া বলার আগেই তার সামনে হাজির করত।
জাভিয়ান খুশি মনেই বলে–
—কি চাও হানি? তোমার জন্য এই জাভিয়ানের জানও হাজির।
—আমি আমার নেতিয়ে পড়া ছেলেটার হাসিখুশি মুখ ফিরে চাই। আমার ছেলে যেটায় ভালো থাকে সেই কারণ টিকে তার জীবনে ফিরিয়ে দিতে চাই। একটা ভরা সংসার চাই ছেলে আর ছেলের বউদের নিয়ে। আপনি প্লিজ কিছু একটা করেন হায়ার পাপা। আমার ছেলের এমন বিষণ্নতায় ঘেরা মুখ আমি দেখতে পারছি না। আমার হাসিখুশি প্রাণবন্ত ছেলেটাকে আমায় ফিরিয়ে দেন জাভিয়ান।
হানিয়া ছলছল চোখে জাভিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। জাভিয়ান তার মুখ নামিয়ে হানিয়ার কপালে ভালোবাসার পরশ দিয়ে বলে–
—তুমি কিছু চাইলে আর আমি দেই নি এমনটা কখনো হয়েছে? খুব তাড়াতাড়ি তোমার এই ইচ্ছেটাও পূরণ করবো ইনশা আল্লাহ। একটু সময় দাও জাস্ট আমায়।
হানিয়া তার উত্তর পেয়ে যায়। সে প্রশান্ত মনে জাভিয়ানের বুকের সাথে নিজেকে লেপ্টে রাখে। রাত বাড়তে থাকায় জাভিয়ান হানিয়াকে নিয়ে রুমে চলে আসে। প্রথমে নিজে শুয়ে হানিয়াকে নিজের বুকে নিয়ে আসে। চাপা উৎকণ্ঠ আর অস্থিরতা নিয়েই চোখ বন্ধ করে। সে যতক্ষণ না পর্যন্ত হানিয়ার ইচ্ছে পূর্ণ করতে পারছে ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তি পাবে না।
__________________________
মুখোমুখি বসে আছে দু’জন পুরুষ। একজনের চোখে প্রচন্ড ক্রোধ তো আরেকজনের চোখে অনুতাপ, ভয় আর অস্বস্তি। পায়ের উপর পা তুলে রাজকীয় ভাবে বসে রাহাতের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জাভিয়ান। বয়স বাড়লেও অ্যাটিটিউড আগের থেকে একবিন্দু পরিমাণও কমেনি। জাভিয়ানকে এমন শিকারী চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাহাত আমতাআমতা করে জিজ্ঞেস করে–
—হঠাৎ আমার বাড়িতে কি মনে করে এই সাতসকালে?
জাভিয়ান চোয়াল শক্ত করে গম্ভীর গলায় বলে–
—তোমার সাথে পিরিতের আলাপ পারতে আসিনি, যা বলার সোজাসাপটাই বলছি, মেহরিমা কোথায়?
জাভিয়ানের ছোট একটা প্রশ্নে রাহাত ভীষণ চমকে যায়। চমকানো ভাবটা তার মুখেও ফুটে উঠেছে। জাভিয়ান তার আচরণ খুবই সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে পরখ করে দেখছে। রাহাতের চমকে যাওয়াটা যেনো জাভিয়ানকে আরো একবার জিতিয়ে দিলো। প্রশ্নটা করার আগ পর্যন্তও জাভিয়ান সিউর ছিলো না বিষয়টা নিয়ে, কিন্তু রাহাতের এমন রিয়েকশন দেখে সে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে যায় রাহাতই মেহরিমাকে গায়েব করেছে।
রাহাত জাভিয়ানের দিকে তাকায়। দেখতে পায় জাভিয়ানের ঠোঁটে ঝুলে আছে এক অদ্ভুত ধরণের হাসি। হাসিটা যেনো তাকে বলছে–
—আরো একবার হারিয়ে দিতে চলেছি তোমায় রাহাত।
—না না। এটা হতে পারে না। সারাজীবন হারতে হারতে এই পর্যন্ত এসে আজ একটা জেতা বাজি কিছুতেই হারতে পারি না
কথাগুলো আমার না রাহাত চৌধুরী। রাহাত নিজেকে স্বাভাবিক করার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাতে জাভিয়ানের কাছে সে ধরা না পড়ে যায়। কিন্তু বোকা রাহাত বুঝতেই পারল না সে অলরেডি ধরা পড়ে গিয়েছে।
রাহাত নিজের অস্থিরতা নিজের মধ্যেই চেপে রেখে বলে–
—আমি কি করে জানব মেহরিমা কোথায়? কি সব আজেবাজে কথা বলছো? হ্যাঁ আমি মানছি, আমি মেহরিমাকে প্রভোক করেছি জাহানের লাইফ থেকে সরে যাওয়ার জন্য, কিন্তু এর ব্যতীত আর কোন কিছুই আমি করিনি।
হঠাৎই জাভিয়ান উচ্চস্বরে হেঁসে উঠে। রাহাত আরো ঘাবড়ে যায় তার এমন হাসিতে। বেশ কিছুক্ষণ হেঁসে জাভিয়ান তারপর থামে। ক্ষণিকের মধ্যে চোখমুখ ইস্পাত কঠিন শক্ত করে ব’লে—
—বলদ মনে হয় আমাকে তোমার তাই না? তুমি বললে আর আমি বিশ্বাস করে ফেললাম। যেই তুমি একটা বাচ্চার মেয়ের মাথা এমন বিশ্রী ভাবে ওয়াশ করতে পারো সে আর কি কি করতে পারো আমার বলা লাগবে না আশা করি।
রাহাত জাভিয়ানের কথা আর মুখভঙ্গি দেখে ভয় পেয়ে যায় মনে মনে। অতীতে জাভিয়ানের রেকর্ড ভালো না সেটা তার জানা। রাহাত নিজেকে সত্য প্রমাণ করার জন্য রাগী গলায় বলে–
—শুনো, আমি যা করেছি সব আমার মেয়ের জন্য করেছি। না জাহানের সাথে আমার কোন শত্রুতা আছে আর নাই বা ঐ এতিম মেয়েটার সাথে। তার বাজে কথা না বলে তুমি এখন আসতে পারো। আমার অফিসে যেতে লেট হচ্ছে।
কথাটা বলে রাহাত নিজের অফিস ব্যাগ নিয়ে তড়িঘড়ি করে চলে যেতে নেয়। কিন্তু জাভিয়ানের কথায় তার পা থমকে যায়। জাভিয়ান সেভাবে বসে থেকেই বলে–
—মনে করো, তুমি গাড়ি চালিয়ে অফিসে যাচ্ছো মাঝপথে তোমার কাছে একটা ফোন আসল। ফোনটা রিসিভ করে তুমি শুনতে পেলে, তোমার বাপ-দাদার এত কষ্টের তৈরি ব্যবসায় কেউ তার কালো থাবা বসিয়েছে, ধসিয়ে দিয়েছে তোমাদের তিন প্রজন্মের কষ্টের তৈরি সুউচ্চ সেই ইমারত। তাহলে তোমার কেমন লাগবে? আমার তো ভাবতেই ভীষণ খারাপ লাগছে। চু..চু..চু..
রাহাত অবাক হয়ে জাভিয়ানের দিকে তাকায়। দেখতে পায় জাভিয়ানের ঠোঁটের কোণে হাসি থাকলেও চোখে ক্রোধ, প্রতিহিংসার আগুন। জাভিয়ান তার বসা থেকে উঠে এসে রাহাতের সামনে দাঁড়ায়। রাহাত তাঁকে বলে–
—কোথাকার কোন মেয়ের জন্য তুমি এমনটা করতে পারো না জাভিয়ান। আমাদের এত বছরের পারিবারিক ও ব্যবসায়ীক সম্পর্ক তুমি এমনভাবে নষ্ট করে দিবে?
—বিশ্বাস করো আমি করতে চাইছি না কিন্তু তোমার মৌনতা আমায় করাবে। মেহরিমা কোথাকার কোন মেয়ে না। সে জাহান তালুকদারের হবু বউ, তালুকদার বাড়ির বড় বউ। যাকে হারিয়ে আমার বড় সন্তান আজ ভীষণ ভেঙে পড়েছে আর তার ভেঙে পড়া দেখে আমার বধূয়া কষ্ট পাচ্ছে। জানো, আমার বধূয়া আমার কাছে তার ছেলের হাসিখুশি মুখটা দেখতে চেয়েছে, পুত্র আর তাদের বধূদের নিয়ে একটা ভরা সংসার চেয়েছে। বউ আমার কাছে কিছু একটা চেয়েছে আর আমি তাকে তা দিবো না এটা আজ পর্যন্ত্র কোনদিন হয়নি আর ভবিষ্যতেও কোনদিন হবে না ইনশা আল্লাহ।
রাহাত নিশ্চুপ হয়ে জাভিয়ানের সব কথা শুনছে। তার চোখেও ক্রোধ ভেসে উঠছে আস্তে আস্তে। জাভিয়ান পুনরায় বলে–
—এখানে আসার আগ পর্যন্তও আমি সিউর ছিলাম না যে, মেহরিমার গায়েব হওয়ার পেছনে তোমার হাত রয়েছে। আমি জাস্ট ধারণা করেছিলাম। কিন্তু আমার প্রশ্ন করার পর তোমার চমকে যাওয়াটা আমায় আরো একবার প্রমাণিত করে দিলো আমার ধারণা ভুল ছিলো না। তুমি বলবে না তো, ঠিক আছে। এই জাভিয়ান জানে কিভাবে গর্তের সাপ বের করতে হয়। কিন্তু তোমায় একটা কথা বলে যাচ্ছি, আজ থেকে তোমার সাথে আমাদের সকল প্রকার সম্পর্ক শেষ। সেটা পারিবারিক হোক বা ব্যবসা হোক না কেন। তোমার কোম্পানির সাথে আমার কোম্পানির বর্তমান তিনটে প্রজেক্টও আমি ক্যান্সেল করলাম। সেই সাথে আমি এটাও দেখবো তুমি নতুন প্রজেক্ট কিভাবে পাও। প্রশ্নটা যখন প্রতিশোধ নেওয়ার, তখন জাভিয়ান তালুকদার নিষ্ঠুরতার সকল সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আসছি ভালো থেকো।
জাভিয়ান কথাগুলো বলে আসতে নিচ্ছিল তখনই মুনতাহা তার পেছন ডেকে বলে–
—ভাইয়া, কিছু মুখে না দিয়েই চলে যাচ্ছেন? বোনের সাথেও বুঝি রাগ করে আছেন?
কথাগুলো বলতে বলতে মুনতাহা বেগম নাস্তার ট্রে’টা টি টেবিলের উপর রাখে। জাভিয়ান তার কথা শুনে পেছন ফিরে বলে–
—বোনদের সাথে ভাইয়েরা কোনদিন রাগ করে থাকতে পারে না।
—তাহলে কিছু অন্তত মুখে দিয়ে যান। এভাবে খালি মুখে গেলে আমার ভীষণ খারাপ লাগবে।
জাভিয়ান মুনতাহার মন রাখার জন্য একপিস আপেলে মুখে দেয়। জাভিয়ান চলে আসার আগে রাহাতের একদম কাছে এসে বলে–
—সময় থাকতে যত্ন করা শিখো রাহাত। একটা হিরে পেয়েও হেলাফেলা করছো। পরে না এর জন্য কাঁদতে হয় তোমায়।
কথাটা বলেই জাভিয়ান গটগট করে হেটে চলে যায়। মুনতাহা রাহাতের দিকে একবার তাকিয়ে সেও চলে যায়। একা ড্রয়িংরুমে রয়ে যায় শুধু রাহাত। সব থেকেও আজ তার কিছু নেই। একজন আপন মানুষ থেকেও নেই।
__________________________
শুনশান এক রাস্তায় প্রাণপণে ছুটে চলেছে এক রমণী। পেছনে কিছু হায়েনা তার নারী কায়ায় নিজেদের বিষাক্ত, কুৎসিত থাবা বসানোর প্রয়াসে ধাওয়া করেছে। দৌড়াতে দৌড়াতে রমণীটির শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। এমনিতেই দু’দিনের জ্বরে শরীরে গাঁটে গাঁটে ব্যথা ছড়িয়ে পরেছে তারউপর আজ জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বের হয়ে এমন ঘটমার সম্মুখীন হতে হলো।
একসময় তার পক্ষে আর দৌঁড়ানো সম্ভব হয়ে উঠে না। পায়ের শক্তি ফুরিয়ে আসে, মাথা ঘুরে চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। শরীরে চেতনা হারিয়ে পা ভেঙে মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে নেয় ঠিক তখনই এক পুরুষালি হাত তাকে নিজের বাহুডোরে আগলে নেয়।
পুরোপুরি অচেতন হওয়ার আগে শুনতে পায় বহুত পরিচিত সেই সম্বোধনটি–
—মেহু……..
শব্দসংখ্যা ~১৬৫০
~চলবে?
#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৩৫
[রোমান্টিক পর্ব এলার্ট⚠️]
নিশুতিরাত। নিঃস্তব্ধতার গভীরে হারিয়ে যাওয়া এক আবেশময় মুহূর্ত। আবছা আলোয় মোড়ানো ঘরটি যেন নীরব কোনো কবিতা, যেখানে দু’টি ভালোবাসার পাখি শুয়ে আছে নিঃশব্দে, একে অপরের গভীর আগলে। এমনভাবে লেপ্টে রয়েছে তারা, যেন এই ছোঁয়া না থাকলে মুছে যাবে অস্তিত্ব, হারিয়ে যাবে কোনও অচেনা শূন্যতায়।
তাদের বুকের গভীরে জমে থাকা ভয় হারিয়ে ফেলার, আবার একা হয়ে যাওয়ার। কারণ, এই মানুষটিকে পেতে হয়েছে অনেক তীব্র ঝড়, ব্যথা আর অপেক্ষার ভিতর দিয়ে হেঁটে। তাই তো আজ, ভালোবাসার এই মুহূর্তে—তারা ধরে রেখেছে একে অপরকে এমনভাবে, যেন বিচ্ছেদের নির্মম যন্ত্রণা আর কখনও না আসে।
হায়া সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবছে মেহরিমার কথা। আশিয়ানের হেল্থ নিয়ে এতটা বিজি হয়ে গিয়েছিলো সে বিয়ের ঐদিকের কোন খোঁজখবরই জানত না। তার মা অবশ্য একবার বলেছিলো তার ভাইদের বিয়ে তাদের ভালোবাসার মানুষদের সাথেই হচ্ছে, কিন্তু নামটা শুনেও খেয়াল করেনি। সে যদি খেয়াল করত তাহলে আজ তার বড়দা ভাইয়ের এতটা কষ্ট সহ্য করতে হতো না। ভালোবাসায় বিচ্ছেদের কষ্ট কতটা নির্মম হয় সে তো জানে, সেই একই যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে তার ভাই যাচ্ছে। বিষয়টি তাকেও পীড়া দিচ্ছে।
তার ব্রেনের সাথে হাতও চালিয়ে যাচ্ছে। বুকের উপর শুয়ে থাকা ব্যক্তিগত পুরুষ টির মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে তাকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার জন্য। হুট করে লোকটার মাথায় আবার ব্যথা শুরু হলে আশিয়ানের থেকে হায়াই বেশি অস্থির ও ভয় পেয়ে যায়। আশিয়ান তার এমন অস্থিরতা দেখে হায়ার বুকে শুয়ে তাকে মাথার হাত বুলিয়ে দিতে বলে। হাত বুলিয়ে দেওয়ার একসময় আশিয়ান আরামে ঘুমিয়ে পরলেও হায়া এখনও জেগে আছে। বিভিন্ন কারণে সে ইদানীং রাতে ঘুমাতে পারছে না।
আশিয়ান একটু নড়েচড়ে ওঠায় হায়া তার হাত চালানো থামিয়ে দেয়। নড়তে চড়তে একসময় আশিয়ানের ঘুম ছেড়ে যায়। সে মাথা উঠিয়ে হায়া’র দিকে তাকালে দেখতে পায়, হায়া তার দিকেই তাকিয়ে আছে। আশিয়ান তার বুকে থুতনি ঠেকিয়ে ঘুমুঘুমু কণ্ঠে বলে–
—ঘুমাওনি জান?
কথাটা যেনো হায়া’র বুকে গিয়ে লাগে। ভালোবাসার পুরুষটির এমন নেশা ধরানো কণ্ঠে হায়া’র ঘোর লেগে যায়। হায়া কাঁপা কাঁপা গলায় বলে–
—না…আস..ছিলো না ঘু..ম।
হায়া’র এমন ছাড়া ছাড়া গলা শুনে আশিয়ানের কপালে ভাজ পড়ে। মেয়েটা তোতলাচ্ছে কেন? আশিয়ান বলে–
—আমি বুকে শুয়ে আছি বলে সমস্যা হচ্ছে? উঠে যাবো?
আশিয়ানের কথা শুনে হায়া’র সব ঘোরটোর টায়টায় ফিস হয়ে যায়। সে তড়াক করে আশিয়ানকে ঝাপটে ধরে ধমক দিয়ে বলে–
—বলেছি আমি সমস্যা হচ্ছে আমার? বেশি বুঝেন কেন সবসময়, ঘুমান চুপচাপ।
কথাটা বলেই আশিয়ানের মাথা চেপে ধরে নিজের বুকে তারপর আবারও হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। আশিয়ান হায়া’র কথা শুনে নিঃশব্দে হেঁসে দেয়। তারপর মুখটা আস্তে আস্তে উপরে এনে তার গলায় মুখ গুঁজে দেয়। কোন কথা বার্তা ছাড়াই ছোট্ট ছোট্ট আদরে ভরিয়ে দিতে থাকে হায়া’র গলদেশ, কাঁধ ও বুকের কাছের কিছুটা অংশ।
আশিয়ানের এমন কান্ডে হায়া’র চলতে থাকা হাতটা থেমে যায়। সারা শরীরে এক আলাদা ধরনের শিহরণ বয়ে যায়। সে একহাত দিয়ে আশিয়ানের কাঁধ খামচে ধরে আরেক হাত দিয়ে বেডশিট। আশিয়ান কিছু সময়ের জন্য তার অসুস্থতার কথা ভুলেই গিয়েছে। হায়া ঘন হয়ে আসা নিঃশ্বাস তার কাঁধে পড়ছে। তার স্পর্শ আরো গভীর হতে শুরু করে সেই সাথে খানিকটা পীড়াদায়কও।
আশিয়ান তার কাজ করতে করতেই একহাত দিয়ে হায়া’র লেডিস শার্টের বাটান খুলতে শুরু করে। দু’টো বাটান খুলতেই হায়া ঠাশ করে চোখ মেলে তাকায়। সে আশিয়ানের স্পর্শে এতটাই ডুবে গিয়েছিল যে, তার অসুস্থতার কথাটাও মাথা থেকে কয়েক সেকেন্ডের জন্য বের হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আশিয়ান যখন তার শার্টের বাটান খোলা শুরু করে তখন সে বুঝতে পারে আশিয়ান কি চাইছে।
হায়া বড় বড় শ্বাস ফেলে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে, কিন্তু তেমন একটা সফল হয় না। আশিয়ান আরেকটা বাটান খোলার আগেই হায়া তার হাত ধরে ফেলে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলে–
—আপনি অসুস্থ আশিয়ান। এখন না প্লিজ।
—এখনি জান প্লিজ।
কথাটা বলে আশিয়ান হায়া’র কাঁধ থেকে মুখ তুলে নিজেদের অধর এক করে দেয়। উন্মাদের মতো শুষে নিতে থাকে হায়ার ওষ্ঠসুধা। সেই সাথে তার অবাধ্য হাতের স্পর্শ তো রয়েছে। আশিয়ানের এমন উন্মাদনায় সাড়া না দিয়ে পারে না হায়া। সেই আশিয়ানের জন্মদিনের রাত্রে তারা কাছাকাছি এসেছিল, তারপর তো আশিয়ানের এক্সিডেন্ট, বিয়ের ঝামেলায় সব মিলিয়ে বেহাল অবস্থা ছিলো তাদের। আজ এতগুলো দিন পর আবার একটু কাছে আসার, ভালোবাসার সুযোগ পেয়ে হাত ছাড়া করতে চাইছে মা কেউই।
তারা দু’জন যখন একে অপরকে ভালোবাসা ছোয়া দিয়ে রাঙিয়ে দিতে ব্যস্ত তখন হায়া’র অসভ্য ফোনটা ককর্শ সুরে বেজে উঠে। প্রথমে তারা পাত্তা না দিলেও তিনবারের বেলায় হায়া নিজেও একটু বিচলিত হয়ে পড়ে। সে বহু করে নিজের অধর মুক্ত করে আশিয়ানের থেকে, তারপর বালিশের পাশ হাতড়ে ফোনটা বের করে।
হায়া ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখে আদিবা ফোন দিয়েছে। এত রাতে ফোন করলো কেন? ঐ বাড়িতে কারো কিছু হয়নি তো আবার? বড়দা ভাই নিজের কোন ক্ষতি করে দেয়নি তো আবার? প্রশ্নগুলো মনে হতেই এক অজানা ভীতি তাঁকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। আশিয়ান তার হাত থেকে ফোনটা কেড়ে নিতে চাইলে হায়া তার মাথায়, পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে শান্ত করতে করতে বলে–
—আপনি একটু শান্ত হন। ঐ বাড়ি থেকে ফোন দিয়েছে। এত রাতে ফোন দিয়েছে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। আমি একটু কলটা রিসিভ করি প্লিজ।
আশিয়ান হায়া’র কথা শুনে তার কাঁধে মুখ গুঁজে শান্ত করার চেষ্টা চালায়। হায়া ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে। ফোনটা রিসিভ হতেই অপর পাশ থেকে আদিবা হুড়মুড়িয়ে বলা শুরু করে–
—হায়া, জাহান ভাইয়া বিয়ে করে ফিরেছে।
জাহান বিয়ে করে ফিরেছে? কাকে? মেহরিমা গায়েব আর জাহান বিয়ে করে ফেললো? তাহলে মেহরিমার কি হবে? প্রশ্নগুলো হায়া’র মাথায় ঝড় তুলতে শুরু করে। হায় বেশ খানিকটা জোরেই বলে–
—বড়দা ভাই বিয়ে করেছে ফিরেছে? কাকে? কখন? কেন? বড়দা ভাই বিয়ে করে ফেললে মেহুর কি হবে এখন?
সবগুলো প্রশ্ন এক নিঃশ্বাসে করে তারপর শ্বাস ফেলে। অন্যদিকে আশিয়ান হায়া’র কথা শুনে বড়বড় চোখ করে তার দিকে তাকায়। জাহান মেহরিমার জন্য কতটা পাগল আর কেমন পাগলামি করতে পারে সেটা সেও দেখেছে। তাহলে আজ হঠাৎ কাকে বিয়ে করে ফেললো?
আদিবা হায়ার পরপর প্রশ্ন শুনে একটু বিরক্তই হয় বটে। মেয়েটা বড্ড অধৈর্য। সে হায়া’কে বলে–
—আমাকে বলতে তো দিবি পুরো কথা।
—আচ্ছা বল।
আশিয়ান হায়া’কে ইশারায় বলে ফোনটা লাউডস্পিকারে দিতে। হায়া তাই করে। তারা দু’জন শুনতে পায় আদিবা বলছে–
—আজ বাবাই কোথা থেকে জানি খবর পেয়েছে মেহু চট্টগ্রাম আছে, এই কথাটা জাহান ভাইয়াকে বলতেই সে রওনা হয় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য। জায়িনও গিয়েছিল, একটু আগে এসেছে। তখন জায়িন বললো ভাইয়া আর মেহু নাকি চট্টগ্রামেই বিয়ে করে ফেলেছে।
আদিবার কথা শুনে হায়া আর আশিয়ান স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। হায়া বলে–
—যাক, আলহামদুলিল্লাহ। দুই পাগল অবশেষে এক সুতায় বাঁধা পড়লো।
—হুম। কিন্তু ভাইয়া তো ঠিক নেই হায়া। এসেছে পর থেকে দেখছি মেহুর সাথে রাগারাগি করছে, মেহুকে কাঁদতে দেখে একবার মারতেও গিয়েছে। ভাইয়ার এমন রূপ দেখে মেহু ভয় পেয়ে আরো কাঁদছে। বাবাই তাকে ধমকেধামকে কোন মতে বসিয়ে রেখেছে, কিন্তু তাও ভাইয়া একটু পরপর ফুঁসে উঠছে।
কথাটা শুনে হায়া’র চোখ বড় বড় হয়ে যায়। তার ভাই মেহরিমাকে মারতে গিয়েছে? অবিশ্বাস্য বিষয় তার কাছে।
—কি বলিস? ভাইয়া এমন করছে কেন? মেহরিমা একটা ভুল করেছে বুঝলাম, কিন্তু ভাইয়া তো জানে মেহরিমা কেমন তাহলে ঐবিষয় নিয়ে এখন রাগারাগি করে লাভ আছে কোন? উল্টো সম্পর্ক আরো খারাপ হয়ে যাবে।
—ভাইয়া হয়ত মেনে নিতে পারছে না মেহু উনাকে ছেড়ে গিয়েছে। তার দিকটাও তো ভেবে দেখতে হবে। সে তো মেহরিমাকে কম ভালোবাসেনি। মেহরিমা এমন অন্যের কাছে ভাইয়াকে ছেড়ে দেওয়ায় সে ভীষণ কষ্ট পেয়েছে সেটা তার চেহারা দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে।
—হুম। আচ্ছা তুই আম্মুর কাছে ফোন দে।
আদিবা ফোনটা হানিয়াকে দেয়। হায়া তার মা’কে বলে–
—আম্মু বড়দা ভাই নাকি রাগারাগি করছে?
—হ্যা রে মা। ছেলেটা এতদিনের রাগ আজ যেন জোয়ালামুখী হয়ে বের হচ্ছে। মেয়েটা জাহানের এমন আচরণ দেখে আরো কাঁদছে।
—শুনো, তুমি আজ মেহুকে তোমার সাথেই রাখো। আর পাপাকে ভাইয়ের সাথে পাঠিয়ে দাও। এই দুইজনকে তোমরা দু’জন বুঝাও তারা কি কি ভুল করেছে আর করছে। বড়দা ভাই পাপার কথা নিশ্চয়ই শুনবে। আর আমি কাল সকালে আসছি।
—আচ্ছা। রাখছি তাহলে।
—হুম আল্লাহ হাফেজ।
—আল্লাহ হাফেজ।
হানিয়া ফোনটা কেটে দেয়। এতক্ষণ চুপ করে আশিয়ান সব কথা শুনছিল। হায়া ফোনটা বালিশের পাশে রেখে আশিয়ানের দিকে তাকালে দেখতে পায় আশিয়ানও তার দিকে তাকিয়ে আছে। হায়া মাথাটা বালিশ থেকে উঠিয়ে আশিয়ানের কপালে টুপ করে একটু চুমু দিয়ে আবারও শুয়ে পড়ে। তার মনটা খুশি-খুশি তাই আদর দিলো একটু। হায়া প্রফুল্লচিত্তে বলে–
—আশিয়ান আমি না ভীষণ খুশি। অবশেষে ভাইয়া আর মেহু এক হলো।
বউয়ের খুশি দেখে আশিয়ান আরো দ্বিগুণ খুশি হয়ে যায়। সে হাসিহাসি মুখে দিয়ে বলে–
—আমিও খুশি। তা তোমার ভাইয়ের বিয়ে হলো আমায় মিষ্টি মুখ করালে না?
হায়া আশিয়ানের কথা শুনে বলে–
—মিষ্টি খাবেন এতরাতে? আচ্ছা সরুন আমি নিচের থেকে গিয়ে নিয়ে আসছি।
—নিচের থেকে আনা লাগবে না। তোমার কাছে যেটা আছে সেটাই দাও।
হায়া তার কথা না বুঝতে পেরে অবুঝের মতো বলে–
—আমার কাছে তো কোন মিষ্টি নেই। কোন মিষ্টির কথা বলছেন আপনি?
আশিয়ান হায়া’র ঠোঁট নিজের আঙ্গুল দ্বারা স্লাইড করতে করতে বলে–
—এর চেয়ে সুস্বাদু মিষ্টি আমার কাছে আর দুটো নেই জান। একদম ইয়াম্মি ইয়াম্মি।
কথাটা বলে সে আবারও হায়াত ওষ্ঠে নিজের ওষ্ঠ মিলিয়ে দেয়। তাদের অসম্পূর্ণ কাজটা সম্পূর্ণ করতে থাকে। একে অপরকে রাঙিয়ে দিতে থাকে নিজেদের ভালোবাসার রঙে।
______________________
গুনগুনিয়ে কান্নার আওয়াজে জাহানের রাগটা চিড়চিড়িয়ে বাড়তে থাকে। ঢাকায় আসার পুরোটা রাস্তা এমন গুনগুন আওয়াজ শুনতে শুনতে এসেছে। কয়েকবার ধমক দিয়েও কোন লাভ হয়নি। জাহান রাগ দমন করতে না পেরে বিকট আওয়াজে আবারও ধমকে উঠে বলে–
—এই তুই চুপ করবি নাকি কানের নিচে একটা দেওয়া লাগবে? এই কে মরছে তোর যে তখন থেকে কেদেই চলেছিস? নাকি আমাকে বিয়ে করে আফসোস হচ্ছে? শুন আফসোস হোক আর যাইহোক আজ থেকে আমি মরার আগ পর্যন্ত তোকে আমার সাথেই থাকতে হবে। না না, আমি মরার পরও তুই কারো হতে পারবি না। চুপ একটা আওয়াজ যদি আমি শুনেছি আর তাহলে কিন্তু খবর করে ছাড়ব তোর।
জায়িন আর আদিবা জাহানের এমন হুংকার শুনে ভয় পেয়ে যায়। জায়িন জাহানের জমজ ভাই হয়েও আজ পর্যন্ত তাকে কখনোই এমন বিভৎস রকমের রেগে যেতে দেখেনি। হানিয়া-জাভিয়ানও বড় ছেলের এমন রাগ দেখে চমকে গিয়েছে। তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে এই বড় ছেলেটা একটু বেশিই চুপচাপ আর শান্ত। জায়িন আর হায়া একটু চঞ্চল হলেও জাহান একদম ঠাণ্ডা। সেই ছেলের এমন রাগ দেখে তারা ভীষণ অবাক হয়ে গিয়েছে।
এদিকে জাহানের এমন রূপ মেহরিমার কাছেও নতুন। জাহান কখনো তার সাথে এমন ব্যবহার তো দূর ধমক দিয়ে পর্যন্ত কথা বলেনি। সেই জাহান আজ মারতে যাচ্ছে, এমন ধমকাচ্ছে দেখে মেহরিমা ভয়ে আরো কাঁদছে।
হানিয়া ইশারায় জাভিয়ানকে বলে বড় ছেলেকে এখান থেকে নিয়ে যেতে। জাভিয়ান ছেলের কাছে এসে বলে–
—যথেষ্ট হয়েছে বাবা। আর বকা দিও না মেয়েটাকে। দেখো তোমাকে ভয় পাচ্ছে মেয়েটা। তুমি আমার সাথে চলো, ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে ঘুমাবে। কাল সকালে বাকি বিষয় দেখা যাবে।
জাহান যেতে চায় না জাভিয়ানের সাথে। জায়িন আর জাভিয়ান টেনে তাকে নিয়ে যায় রুমে। এদিকে হানিয়া মেহরিমাকে নিজের বুকে আগলে নেয়। পিতামাতাহীন সন্তানদের কষ্ট সে একটু হলেও জানে।
~চলবে?
#সাঝের_প্রণয়ডোর
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি
#পর্ব_৩৬
রাতের ডিনারটা সকলে নিজেদের ঘরেই করে ফেলে। কারো মনমানসিকতা তেমন একটা ভালো নেই, কিন্তু কেউই সারাদিন ভালো করে খায়নি তাই যার যার রুমে খাবার পৌঁছে দিয়েছে হানিয়া। জাহান খেতে না চাইলে জাভিয়ান অনেক কষ্টে খাওয়ায়। মেহরিমাকে হানিয়া খাইয়ে তার কাছেই শুইয়ে দেয়। মাতৃস্নেহে তাঁকে আগলে নেয় নিজের আরেক সন্তানের মতো।
শুয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তার জীবনের অনেক কথাই শোনায় মেহরিমাকে যা তার সন্তানরাও হয়ত জানে না। সে মেহরিমাকে বলে–
—মা রে, পুরুষের ভালোবাসা কতটা সুন্দর তুমি কল্পনাও করতে পারবে না। একজন পুরুষ যখন তোমায় নিজের সবটা দিয়ে ভালোবাসবে তখন সে তোমার জন্য পুরো পৃথিবীর বিপক্ষে গিয়েও দাঁড়াতে দুইবার ভাববে না। আজ তোমায় কিছু কাহিনী শোনায়, এসব কাহিনী আমার সন্তানরাও তেমন একটা জানে না। জাহানের বাবা আমাকে বিয়ে করেছিল একটা প্রতিশোধের নেওয়ার জন্য। প্রথম প্রথম অনেক কষ্ট দিতো, আমি শুধু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে ধৈর্য চাইতাম। আমার জীবনের প্রথম পুরুষ সে হওয়ায় বিয়ের পরপরই তাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম, তাই তার দেওয়া কষ্টটা আমার বেশিই আহত করত। তার মনে আমার জন্য কিছু ছিলো না এমনটা কিন্তু নয়, কিন্তু সে প্রতিশোধের নেশায় ডুবে গিয়ে সেটাকে ফিল করতে পারত না। একসময় তার ভুল ধারণা গুলো নিজ দায়িত্ব নিয়ে ভেঙে দিলাম। সে ক্ষমা চাইল, কিন্তু আমার মন ততদিনে অর্ধমৃত । তাকে অন্য এক নারীর হাতে ছেড়ে দিয়ে চলে গেলাম দূর অজানায়। ভেবেছিলাম আমি দূরে গেলে সকলে ভালো থাকবে, সে ভালো থাকবে।
মেহরিমা অনেক আগ্রহ নিয়ে শুনছে। সে কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে–
—তারপর কি হলো আন্টি? আপনারা আবার এক হলেন কিভাবে?
—আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম সবার জন্য। উদ্ভ্রান্তের মতো রাস্তায় হাঁটছিলাম তখন রাতুল ভাইয়ার গাড়ির সামনে এক্সিডেন্ট হয় আমার। রাতুল ভাইয়া হলো রাহা বাবা। (রাতুলের কথা শুনে মেহরিমার মুখটা আঁধারে ছেয়ে যায়) তারা আমায় হসপিটাল নিয়ে চিকিৎসা করায় আর আমার এমন অবস্থার কারণ জিজ্ঞেস করে। আমি তাদের সবটা বললে তারা আমার দিকে সাহায্য, সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেয়। নিজেদের সাথে করে নিয়ে যায়। আমায় প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে। বিসিএস ক্যাডার হলাম তাদের অনুপ্রেরণা আর আল্লাহর অশেষ রহমতে। ঢাকায় ট্রেনিংয়ে এসে আবার দেখা হলো তোমার আঙ্কেলের সাথে। জানতে পারলাম, আমার চলে যাওয়া নাকি সে মানতে পারেনি। আড়াই বছর পাগল হয়ে এই রুমেই বন্দি ছিল সে।
কথাগুলো বলতে বলতে হানিয়ার গলা ভারি হয়ে আসে। চোখে অল্পবিস্তর অশ্রুদের আনাগোনাও দেখা মিলে কিন্তু সেগুলো গড়িয়ে পড়ে না। মেহরিমা এসব শুনে হা করে তাকিয়ে থাকে হানিয়ার দিকে। সে ভাবতে থাকে ঠিক কতটা ভালোবাসলে একজন পুরুষ তার ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়ে পাগল হয়ে গিয়েছিল।
হানিয়া আবার বলা শুরু করে–
—আমি তার জীবনে ফিরে আসার কিছুদিন আগে তার অবস্থা একটু স্থিতিশীল হয়েছিল কিন্তু পুরোপুরি ভালো হয়নি তখনও। আমি বিগত বছর গুলোর ঘটনা জানতে পেরে তার থেকে আর মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারলাম না। তাকে ক্ষমা করে পুনরায় শুরু করলাম সংসার। আলহামদুলিল্লাহ আজ ৩১ বছর পার হয়ে কয়েকমাস পর ৩২ বছরে পা দিবে আমাদের সংসার। তোমাকে এসব বলার কারণ কি জানো?
মেহরিমা অবুঝের মতো মাথা নাড়ায়। সে জানে না কেন বললো হানিয়া এসব। হানিয়া বলে–
—আমি ফিরে এসে জাভিয়ানকে যেমন উদ্ভ্রান্তের মতো পেয়েছিলাম, তুমি চলে যাওয়ার পর আমার জাহানেরও সেই অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। সে কিছু খেতো না, কারো সাথে কথা বলত না, নিজের বা তার কাজের প্রতি কোন খেয়াল ছিল না। আমার পরিপাটি, গুছানো ছেলেটা কেমন ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছিল। শুধু কান্না করত আর বলত– আম্মু, আমি ওকে আমার সবটা দিয়ে ভালোবেসেছিলাম, ও তাও কেন আরেকজনের কথায় আমায় ছেড়ে গেলো? আমায় কেন ভালোবাসল না আমার মতো করে? ওকে আমার কাছে এনে দাও আম্মু।
হানিয়ার কাছ থেকে জাহানের এমন দুর্দশার কথা শুনে মেহরিমা নিজের চোখের পানি আটকে রাখতে পারে না। দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে হুহু করে কেঁদে দেয়। সেও তো জাহানের ভালো থাকার কথা ভেবে থাকে ছেড়ে গিয়েছিল। সে যে এতিম, তার জন্মপরিচয়ের কোন ঠিক নেই আর নাই বা আছে স্ট্যাটাস। সে কি জাহানের পাশে মানায়? মানায় না তো। জাহানরা হাইক্লাস ফ্যামিলির লোক আর তার তো কোন ক্লাসই নেই। এতিমদের আবার ক্লাস, হাহ্!
এসবই তার মাথায় ঢুকিয়েছে রাহাত। বেশ কয়েকদিন সময় নিয়ে ভালোভাবে তার ব্রেইন ওয়াশ করেছে। যার কারণে সে জাহানের ভালোবাসার কথা না ভেবে, তাকে ভবিষ্যতে যাতে কারো কাছ থেকে কটুক্তি শুনতে না হয় তাই তো রাহার কাছে ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কিন্তু সে তো ভাবতে পারেনি জাহান এতটা কষ্ট পাবে, নিজের এমন হাল করবে।
হানিয়া তাকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে তাক শান্ত করার চেষ্টা করে–
—হুশ, কাদে না আর। আহা মেয়ে দেখো কথার আগে কান্না করে। এত কান্না করলে শরীর খারাপ করবে তো মামুনি। কান্না থামাও নাহলে আমি কিন্তু এবার জল্লাদ শ্বাশুড়ির রূপ নিবো। এতদিন ছিলাম বান্ধবীর মা, আজ থেকে তোমারও মা তাই কথা না শুনলে কান মলে দিতে দুইবার ভাববো না কিন্তু।
মেহরিমা হানিয়া জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। হানিয়া সময় দেয় তাকে শান্ত হতে। মেহরিমার কান্না থেমে গেলেও তার ফুঁপানো বন্ধ হয় না। সে ফুপাতে ফুপাতে বলে–
—আন্টি আমিও তো তার ভালোর জন্যই ছেড়ে গিয়েছিলাম। আমি যে এতিম আন্টি, আমার কোন সঠিক জন্মপরিচয় নেই। তাকে যখন কেউ জিজ্ঞেস করবে তার বউয়ের বাবা মা কে? তারা কোথায় বা কি করে তখন তো তাকে বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হবে। আমি তো তাকে এমন বিব্রতকর অবস্থায় দেখতে পারব না বলেই দূরে চলে গিয়েছিলাম। ভালো তো আমিও বাসি তাকে আন্টি, ভালোবাসি বলেই তাকে লজ্জা-বিব্রতকর পরিস্থিতে দেখতে পারব না বলেই চলে গিয়েছিলাম। রাহাত আঙ্কেল বলেছিলেন, বিয়ে করলে নাকি একসময় ঠিক হয়ে যাবে। রাহা নাকি তাকে সামলে নিতে পারবে তাই তো চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি কখনো কল্পনাতেও উনার এমন দূর্দশার কথা ভাবি নি।
কথাগুলো বলতে বলতে মেহরিমা আবারও কাঁদতে থাকে। হানিয়া তাকে বলে–
—তুমি তোমার পিতামাতার পরিচয়ে না নিজের আলাদা পরিচয়ে পরিচিত হবে। আমাকে দেখো, আমি কি তোমার আঙ্কেলের কাছে ফিরে আসার পর চাকরিটা আর কন্টিনিউ করতে চাইনি। পুরোদস্তর গৃহিণী হয়ে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার উনি আমায় এক গুরুদায়িত্ব দিলেন। বললেন, সমাজ সব স্ত্রী’রা তো তাদের স্বামীর নামে পরিচিত হয় আমি আমার স্ত্রীর নামে পরিচিত হতে চাই।
আমায় বললেন— “সমাজে যেনো তুমি ওয়াইফ অফ জাভিয়ান তালুকদার নামে পরিচিত না হয়ে আমি যেনো হাসবেন্ড অফ হানিয়া মির্জা নামে পরিচিত হতে পারি”। তারপর লেগে পরলাম দায়িত্ব পালন করতে, আলহামদুলিল্লাহ আমি সেই দায়িত্ব পালনে সফল হয়েছি। তেমনি তুমিও নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করবে। তুমি অন্যের নামে না নিজের নামে পরিচিত হবে। আমাদের পরিবারে মেয়েদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে কঠোর নজর রাখা হয়। সংসার নিয়ে তেমন চাপ নিবে না, আমায় আল্লাহ তায়া’লা যতদিন সুস্থ রেখেছেন ততদিন আমিই সংসারের দেখভাল করব। তোমরা দুই জা মন দিয়ে পড়ালেখা করবে আর মিলেমিশে থাকবে এইটুকুই আমার চাওয়া। কি পারবে না মামুনি?
মেহরিমা হানিয়ার কথা শুনে অনেক অনুপ্রাণিত হয়। সেই সাথে মুগ্ধও হয় তার মনমানসিকতা দেখে। সে হানিয়াকে জড়িয়ে ধরেই বলে–
—পারবো আন্টি। আপনি শুধু আমাদের পাশে অভিভাবক হয়ে থেকেন আমরা সব পারব ইনশা আল্লাহ।
—আরেকটা কথা, এখন কিন্তু আমি আর তোমার বান্ধবী মা নই, তোমার শ্বাশুড়ি। তাই আন্টি ডাকলে কিন্তু বকা দিবো আমি। আদিবার মতো আমায় আম্মু ডাকতে হবে বলে দিলাম আমি।
মেহরিমা একটু লজ্জা পায় তার কথায়, সে আমতাআমতা করে বলে–
—আচ্ছা আন্টি।
কথাটা বলেই সে জিভে কামড় দেয়, তারপর হানিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখপ সে চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে আছে। মেহরিমা হুড়মুড়িয়ে বলে–
—সরি আম্মু।
হানিয়া হেঁসে দেয়। তারপর দু’জনে আরো কিছু কথা বলে ঘুমিয়ে পড়ে।
_________________________
সকালে ঘুম থেকে উঠে হানিয়া মেহরিমাকে একটা মেরুন রঙের একটা শাড়ি পরতে দেয়। নতুন বউ তাই শাড়ি পরাটা অবশ্যক। হানিয়া নিচে চলে যায় ব্রেকফাস্ট বানাতে আর মেহরিমাকে শাড়ি পরে নিচে আসতে বলে। মেহরিমা শাড়িটা পরে মাথার চুলগুলো মাঝ বরাবর সিঁথি কেটে ছেড়ে দেয়। গোসল করায় চুল গুলো ভিজে থাকায় ছেড়ে রেখেছে। মাথায় ঘোমটা দিয়ে নিচে নেমে আসে।
জাহান-জায়িন আর জাভিয়ান তখন মর্নিংওয়াক করে ফিরেছে বাসায়। কলিংবেল বাজার শব্দ শুনে মেহরিমা এগিয়ে যায় দরজা খুলতে। সে দরজা খুলে দিতেই জাহান জায়িনের সাথে কথা বলতে বলতে বাসায় প্রবেশ করে। মেহরিমাকে খেয়াল করে নি সে। জাভিয়ানও ফোনে কথা বলতে বলতে ভেতরে চলে যায়।
তারা তিনজন সোফায় গিয়ে বসতেই মেহরিমা ডাইনিং টেবিল থেকে তিনজনের জন্য তিন গ্লাস পানি নিয়ে আসে। জাভিয়ানকে পানির গ্লাসটা এগিয়ে দিতেই জাভিয়ান হালকা হেঁসে বলে–
—ধন্যবাদ মামুনি।
মেহরিমা মুচকি হেসে জাহান আর জায়িনের দিকে এগিয়ে যায়। জায়িনকে পানিটা দিতে সেও বলে উঠে–
—ধন্যবাদ ভাবী সাহেবাাাাাাাা।
একটু টেনে টেনে দুষ্টুমি করে কথাটা বলে জায়িন। এদিকে জায়িনের ভাবীসাহেবা ডাক শুনে জাহান ফোন থেকে চোখ তুলে তার দিকে তাকায়। আর এই তাকানো টাই যেনো তার সর্বনাশের কারণ হয়ে দাড়ায়। মেহরিমাকে আজ প্রথম শাড়ি পরা দেখছে সে। শাড়ি পরুয়া মেহরিমাকে এত মোহনীয় লাগছে যে জাহান পানির গ্লাসটা না নিয়েই হা করে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
মেহরিমা লজ্জা পেয়ে যায় জাহানের এমন করে তাকানোতে। তার চিবুকজোড়ায় রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ে। আঁড়চোখে জায়িনের দিকে তাকিয়ে দেখে সে মিটমিটিয়ে হেঁসে তাকিয়ে আছে জাহানের দিকে। এটা দেখে মেহরিমা আরো লজ্জা পেয়ে যায়। মেহরিমা গলা খাঁকারি দিয়ে মিনমিনিয়ে বলে–
—পানি টা নিন।
জাহানের ঘোর তখনও ভাঙেনি। সে সম্মোহনী দৃষ্টি নিয়েই মেহরিমার হাত থেকে পানিটা নেয়। জাহান পানির গ্লাসটা নিতেই মেহরিমা ট্রে’টা নিয়ে তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে কিচেনে চলে যায়। তার চলে যাওয়ার পর জাহানের ঘোর ভাঙে। সে চোখ নামিয়ে একবার হাতের গ্লাস টার দিকে তাকায় আরেকবার তার বাবা আর ভাইয়ের দিকে তাকায়। জাভিয়ান পুরো বিষয়টা খেয়াল করেছে আর ফোন চালানোর বাহানায় মিটমিটিয়ে হাসছে। বাবাকে হাসতে দেখে জাহানও লজ্জা পেয়ে যায়।
জায়িনের দিকে তাকিয়ে দেখে তার গুনধর ভাই দাঁত সবগুলো বের করে হাসছে। জাহান জানে জায়িন এখন তাকে লজ্জার সাগরে ডুবিয়ে মারার পায়তারা করছে। তাই সে পানিটা এক ঢোকে শেষ করে সেখান থেকে উঠে হাঁটা লাগায় নিজের রুমের উদ্দেশ্য। কয়েকটা সিঁড়ি উঠতেই নিচে বাবা আর ভাইয়ের হাসির আওয়াজ শুনতে পায়। তার মুখেও হাসি ফুটে ওঠে। মাথার পেছনের দিকে চুলকাতে চুলকাতে বিড়বিড়িয়ে বলে–
—বিয়ে হতে না হতেই আমার চরিত্র দোষের মিশনে নেমে গিয়েছে।
~চলবে?
[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স 😘]