পাষাণী তুই পর্ব-১৮

0
1

#পাষাণী_তুই
#পর্ব_১৮ ( ধামাকা ২)
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

“- তোমাকে বিয়ে করতে রাজি মেঘ ভাইয়া!

ইনায়ার কথা’য় চমকে তাকালো মেঘ। খুশিতে চোখ ঝলমল করে। আচমকা ইনায়া কে জড়িয়ে ধরে মেঘ। ইনায়া ঘাবড়ে গেলো। ইনায়া নিজেকে সামলে নেয়। মেঘ ইনায়া কে জড়িয়ে ধরে বলল,

“- আমি খুব খুশি ইনায়া। আমার লাইফের বেস্ট একটা দিন। আমি তোকে কথা দিচ্ছি তোকে কখনো কাঁদতে দেবো না। সবসময় হাসিখুশি রাখবো। আমার ভালোবাসা দিয়ে তোর সব কষ্ট দুঃখ ভুলিয়ে দেবো।

ইনায়া আলতো করে মেঘের পিঠে হাত রাখে। ইনায়া চোখে পানি। মেঘ খুশিতে কাঁদছে! ইনায়ার চোখের এক ফোটা পানি মেঘের ঘাড়ে পরে। হঠাৎ করে মেঘ ইনায়ার থেকে ছিটকে দুরে সরে দাঁড়ায়। মেঘ অপরাধীর ন্যায় বলল,
“- স্যরি ইনায়া।

ইনায়া অবাক হয়ে বলল,

“- কিসের জন্য?

মেঘ মাথা নিচু করে বলে,

“- তোর অনুমতি ছাড়াই তোকে টাচ করছি, জড়িয়ে ধরেছি।অ্যই এম সরি।

মেঘের কথা’য় ইনায়া হাসলো। তারপর বলল,

“- একটু আগে যে হাত ধরে টেনে আনলে তখন? তখন মনে ছিল না?

মেঘ ইনোসেন্ট ফেস করে তাকায়। ইনায়া স্বাভাবিক ভাবে বলল,

“- আচ্ছা ঠিক আছে। এবারের মতো কিছু বললাম না। বাট এর পর যেন না হয়।

মেঘ ফট করে বলল,

“- তখন তো তুই আমার বিয়ে করা বউ হবি। বউকে টাচ করতে আবার পারমিশন লাগে নাকি?

ইনায়া ভ্রু দলা করে তাকায়। মেঘ হেসে বলল,

“- আচ্ছা ঠিক আছে পরে দেখা যাবে। এখন চল বিয়ে করতে হবে?

ইনায়া আশ্চর্য হয়ে বলল,

“- হোয়াট…..? তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে? এখন বাজে কয়টা? এই মাঝ রাতে তুমি বিয়ে করতে যাবা?

মেঘ মাথা চুলকে হেসে বলল,

“- আসলে….

“- বুঝছি! আমাকে ভালোবেসে তোমার মাথাটা পুরো গেছে।

মেঘ হাসছে৷ মেঘের হাসির দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ইনায়া। মনে মনে ভাবে, এই বলা টা আগে বললে সবকিছু সুন্দর হতো মেঘ ভাইয়া। কিন্তু কি করার। ভাগ্যে যা থাকবে তা তো হতে দিতেই হবে। লাস্ট পর্যন্ত তুমি হয়তো আমার ভাগ্যে ছিলে। আমার মতো একজন আনলাকি পার্সন কে নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবেসে আগলে নিচ্ছো।

****
রাতটা কোনো রকমে কেটে যায়। সকাল হতেই বিয়ের আয়োজন শুরু করে। খুব সাদামাটা ভাবেই বিয়ে হবে দুজনের। চাইলেই তারা খুব ধুমধাম করে বিয়ে দিতে পারতো কিন্তু ইনায়ার কথা ভেবে করেনি। বাইরের কেউ আসবে না। শুধু বাসার ক’জন ই থাকবে।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। ইনায়া সিম্পল সেজেছে। যেটুকু সেজেছে তা সবটুকু সানায়া সাজিয়ে দিছে।।সকালে মেঘ নিজে গিয়ে ইনায়ার জন্য বিয়ের শাড়ি কিনে এনেছে। দুজনের সাথে ম্যাচিং করে মর্মের জন্য জামা কিনে এনেছে। মর্ম তো মহাখুশি। মেঘের হাত ছাড়ছে না। সবসময় মেঘের সাথে আছে মর্ম।

ইনায়া কে সাজিয়ে সানায়া নিজে রেডি হতে চলে যায়। রুমে একা দাঁড়িয়ে আছে সানায়া। ইনায়া হেটে রুম থেকে বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালো।। শান্ত চাহুনি তে বাইরে তাকিয়ে আছে । তখন ফোন বেজে ওঠে। ইনায়া ঘাড় ঘুরিয়ে টেবিলের উপর তাকায়। ফোনের স্কিনে ছোটো আব্বু নামে সেভ করা নাম্বার জ্বলজ্বল করছে।

ইনায়া একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে ফোন টা হাতে নেয়। তারপর ফোন রিসিভ করে সামনে ধরে। ফোনের ওপাশে তার ছোটো চাচ্চুর পুরো ফ্যামিলি তার দিকে তাকিয়ে আছে। ইনায়া হাসি মুখে তাকিয়ে আছে। ইনায়ার ছোটো আব্বু বলল

“- তোর সিদ্ধান্তে আমরা খুব খুশি হয়েছি ইনায়া মামণি। আমি সবসময় চাইতাম তোর জীবনে এমন একজন কেউ আসুক। যে তোকে তার নিজের থেকেও বেশি ভালো বাসবে। শেষ মেষ আমার মনের আশা টা পূরণ হলো। আমাদের মেঘের মতো ছেলে কি না তোকে ভালোবাসে। এটা সত্যি অবিশ্বাস্য লেগেছে। এত দিন নিজের ভিতরে সবটা লুকিয়ে রেখেছে। তুই সত্যি খুব লাকি মামণি। মেঘের মতো একজন ছেলে কে স্বামী হিসেবে পাবি।

ইনায়া মৃদুস্বরে বলল,

“- হয়তো বা…

ইনায়ার ছোটো আম্মু বলল,

“- ইনায়া আমরা নেক্সট উইকে দেশে আসছি। তখন তোদের বিয়ের আনন্দ করে নেবো। এখন তো আসা পসিবল নয়। তাই নেক্সট উইকে আসব। তোর ছোটো ভাই বোন গুলো তোর কাছে যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে।

ইনায়া মুচকি হেঁসে বলল,

“- সে এসো। তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। সময় নিয়ে তারপর আসবে। তোমাদের জন্য অপেক্ষা করবো।

ইনায়ার চাচাতো ভাই রাফি বলল,

“- আপু তোমার বিয়ে তে আমরা খুব মজা করতে চাইছিলাম। বাট কিছুই হলো না। আমরা নেক্সট উইকে এসে সানু আপুর বিয়েতে ইনজয় করবো কিন্তু?

ইনায়া অবাক হয়ে বলল,

“- সানুর বিয়ে মানে….

“- ওমা তুমি জানো না।

“- না তো ভাই। আমাকে একটু বল।

“- আমরা দেশে এসে সানু আপুর জন্য ছেলে দেখবো। দ্যান আপুকে বিয়ে দিয়ে বিদায় করবো।

রাফির কথা শুনে খিলখিল করে হেসে দেয় ইনায়া। ইনায়ার দেখা দেখি রাফির আব্বু আম্মুও হেসে দেয়। রাফির বোন রামিশা বলল,

“- তোমরা সবাই খুব খারাপ। আমাকে ইনভাইট ও করলে না।

ইনায়া ইনোসেন্ট ফেস করে বলে,

“- ওলে আমার বনু টাহ! রাগ করে না সোনা। নেক্সট উইকে তো আসছো তখন তোমাকে ইনভাইট করা হবে।

মেঘ ইনায়ার খোঁজে ইনায়ার রুমে আসে। রুমে ইনায়া কে না পেয়ে প্রথম ওয়াশরুম দেখে। সেখানে না পেয়ে বেলকনিতে যায়। ইনায়া কে ফোনে কথা বলতে দেখে এগিয়ে যায়। স্কিনে ছোটো চাচ্চুর পরিবার দেখে মুচকি হেঁসে বলল,

“- আসসালামু আলাইকুম। ছোটো আব্বু।

“- ওয়ালাইকুম আসসালাম বাবা।

“- তোমাদের খুব মিস করবো!

“- আমরাও।

“- তোমরা কবে আসবে ছোটো আব্বু?

“- নেক্সট উইকে আসবো। এখন আসতে চেয়েছিলাম বাট হলো না। রাফির এক্সাম আছে।

রাফি চেচিয়ে বলল,

“- ব্রো তুমি কাজ টা একদমই ঠিক করলে না। আর কিছু দিন ওয়েট করতে। বড়ো আপু তো আর হারিয়ে যাচ্ছে না। তোমার সামনেই থাকতো।

রাফির কথা শুনে মেঘ বলল,

“- খুব পাঁজি হয়ে গেছো তাই না। বড়ো দের সামনে এভাবে কথা বলে?

রাফি কলার উঁচিয়ে বলে,

“- উফসস, ব্রো। তুমি লজ্জা পাচ্ছো কেন? আমরা এই জেনারেশনের ছেলেমেয়ে। সামান্য কথায় কেউ লজ্জা পায়।

ইনায়া ছোটো আব্বু রাফি কে চোখ গরম করে বলল,

“- আহ্ রাফি! ভদ্র ভাবে কথা বলো। ও তোমার বড়ো ভাই। সম্মান দিয়ে কথা বলবে।

বাবার কথা’য় মাথা নিচু করে বলে,

“- স্যরি ব্রো। আমি মজা করে বলছিলাম।

মেঘ হেসে বলল,

“- রাফি আমি কিছু মনে করি নাই। তুই স্যরি বলছিস কেন? ভাই বোনেরা একটুকু মজা করতেই পারে। কিন্তু বড়ো দের সামনে এভাবে কথা বলবে না।

“- ঠিক আছে ব্রো।

মেঘ মুচকি হাসলো। তার ছোটো আব্বু আর ছোটো আম্মু বলল,

“- কংগ্রাচুলেশনস মেঘ ইনায়া। তোদের বিবাহিত জীবন সুখের হোক। সবসময় একে অপরের হাত ধরে সবকিছু মোকাবেলা করবি। কখনো কারোর হাত ছাড়বি না

মেঘ মুচকি হেঁসে ধন্যবাদ জানালো। ইনায়া চুপ করে রয়। তারা কল কেটে দেয়। মেঘ ফোনটা ইনায়ার হাত দিয়ে বলল,

“- কি ভাবছিস?

ইনায়া মাথা তুলে তাকিয়ে বলল,

“- তেমন কিছু না।

মেঘ ইনায়ার হাত ধরল। ইনায়া মেঘের দিকে তাকালো। মেঘ বলল,

“- চল একে অপরের হাতে হাত রেখে বাকি টা জীবন এক সাথে থাকি, এক সাথে বাঁচি। আজকে প্রমিজ করলাম। আমি মারা যাওয়ায় আগ পর্যন্ত তোর এই হাত কখনো ছাড়বো না। নিজের সবটা দিয়ে এই হাত আমি আগলে রাখবো।

মেঘের কথা’য় ইনায়ার চোখে পানি চলে আসে। মেঘ সযত্নে ইনায়ার চোখের পানি মুছে দেয়। ইশারায় কাঁদতে মানা করে।

চলবে~