পাষাণী তুই পর্ব-২২

0
1

#পাষাণী_তুই
#পর্ব_২২
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি

সকাল সকাল চৌধুরী বাড়ি তে হইচই পরে গেছে। কারণ সূদুর কানাডা থেকে ইনায়ার ছোটো চাচ্চু আর তার পুরো পরিবার দেশে আসছে। চৌধুরী বাড়ির সবাই খুব খুশি। ইনায়ার চাচ্চু নিজের কর্মক্ষেত্র সন্তান দের ভবিষ্যৎ সবকিছু নিয়ে দেশে আসার মতো সময় তিনি পাননি। মাঝে অনেক গুলা বছর কেটে গেছে তারা দেশে আসেননি। তবে তারা আজ আসবেন। তাদের কে রিসিভ করতে যাবে মেঘ।। তাছাড়া আর কেউ যাবে না।

সকালে হুট করে ফোন দিয়ে জানায় তারা এয়ারপোর্টে। চৌধুরী বাড়ির সবাই তো খুব অবাক। না জানিয়ে ই তাদের এত বড়ো সারপ্রাইজ দিলো। চৌধুরী বাড়ি থেকে বেশিক্ষণ সময় না লাগায় মেঘ দ্রুত যেতে পেরেছে। মেঘ গাড়ি নিয়ে ছুটছে এয়ারপোর্টের দিকে।

ইনায়া আর সানায়া রুম গোছাচ্ছে।। সানায়া’র রুমে থাকবে ওদের চাচাতো বোন। রাফির জন্য আলাদা রুম আর রাফির বাবা মা’র জন্য আলাদা রুম।

রাফি অনার্স ১ম বর্ষে সানায়া’র থেকে বছর দেড়েক ছোটো। রাফির বোন রিসা সে ক্লাস টেনে পড়ে।

****

গাড়ির শব্দ শুনে সবাই সদর দরজায় এসে দাড়ায়। রফিক চৌধুরী রাশেদ চৌধুরী কেউ আজ বাইরে যান নি। বাসায় ই আছেন। ছোটো ভাই আসবে বাসায় না থাকলে চলে। ছোটো ভাই তুহিন চৌধুরী আর তার স্ত্রী সন্তান দের হাসি মুখে স্বাগত জানান। রিসা সবার আগে ইনায়া কে এসে জড়িয়ে ধরল। রাফি মর্ম কে নিজের কোলে তুলে নিলো। চৌধুরী পরিবার আজ আনন্দে মেতে উঠেছে।



দেখতে দুটো দিন কেটে যায়। মেঘ আর ইনায়ার সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালোর দিকে আগাচ্ছে। ইনায়ার সবকিছু পুরোপুরি ভাবে মেনে নিতে একটু তো সময় লাগবে। এতবড় একটা ধাক্কা খেয়ে সেখান থেকে উঠে আসা খুব একটা সহজ নয়!

সানায়া দুদিন ধরে ভার্সিটিতে যায় না। সানায়া’র অচেনা সেই পাগল প্রেমিক তার রুপবতী দেখা না পাওয়া য় অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ভার্সিটির সামনে সানায়া কে দেখার জন্য অপেক্ষা করে কিন্তু এই দুদিন ধরে তার দেখা না পাওয়ায় পাগল হয়ে গেছে। তার রুপবতী ঠিক আছে কিনা ভেবেই তার প্রেশার হাই হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিদিনের মতো আজও সে ভার্সিটির সামনে দাড়িয়ে আছে তার রুপবতী কে এক পলক দেখার আশায়। অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সানায়া ভার্সিটির সামনে আসল। সেই অচেনা প্রেমিক মুগ্ধ হয়ে হাসি মুখে তাকাল। কিন্তু মুহূর্তেই তার হাসি মুখ টা নিমিষেই খারাপ হয়ে গেলো। চোখ মুখ রাগে লাল হয়ে উঠল।

সানায়া হাসতে হাসতে রাফি’র সাথে ভার্সিটির ভিতরে গিয়ে ক্যাম্পাসে দাঁড়ালো। কিছুক্ষণ পর সাথী আসল। সানায়া রাফি’র সাথে সাথীর পরিচয় করিয়ে দেয়।

ছেলে টা গাড়ি থেকে নেমে ক্যাম্পাসে এসে দাঁড়ালো। আশেপাশে ভালো করে তাকিয়ে দেখল অনেক মানুষ। সবে সবাই ভার্সিটি তে আসতে শুরু করেছে। একটু পর আরও ছাত্র ছাত্রী চলে আসবে। ছেলেটা সানায়া’র দিকে তাকালো। সানায়া রাফি’র কাঁধে হাত দিয়ে বলল,

“- রাফি ভাই আমার ভার্সিটি কেমন লাগছে তোর?

রাফি মুচকি হেঁসে সুধালো,

“- জাস্ট বিউটিফুল আপু! আমার খুব ভালো লেগেছে। আমিও যদি এখানে পড়তাম তাহলে খুব ভালো হতো। কিছুটা মন খারাপ করে। সানায়া মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,

“- মন খারাপ করিস না ভাই। একদিন নিশ্চয় সব হবে। তুই যদি চাস তাহলে তো দেশেই থাকতে পারিস।

রাফি মন খারাপ করে বলে,

“- সেটা সম্ভব নয় আপু! আব্বু আম্মু কে ছেড়ে এখানে কিভাবে থাকবো?

“- হ্যাঁ। যদি ছোটো আব্বু দেশে স্যাটেল হয়ে যায় তাহলে কেমন হয় ভাই?

“- মন্দ নয় আপু কিন্তু আব্বুর কি এখানে কোনো ইউনিভার্সিটিতে জব হবে। কানাডার মতো একটা ইউনিভার্সিটির জব টা কি ছাড়া ঠিক হবে।

“- আচ্ছা এই বিষয়ে বাসায় গিয়ে কথা বলবো।

“- হ্যাঁ।

ছেলে রাগে নিজের চুল খামচে ধরে। সানায়া ছেলে টা এভাবে স্পর্শ করছে যা একদম ই তার সহ্য হচ্ছে না কিন্তু ছেলে টা তো জানেই না রাফি সানায়া’র কি হয়? জানলে হয়তো এরকম কিছুই করতো না। নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলে।

হনহন করে সানায়া’র দিকে এগোলো। তার মাথা কাজ করছে না। মুখে মাক্স লাগিয়ে সোজা গিয়ে সানায়া’র সামনে দাঁড়ালো। হঠাৎ একটা ছেলে আসায় দুকদম পিছিয়ে দাঁড়ালো সানায়া। সাথীর দিকে তাকিয়ে ইশারায় জিজ্ঞেস করে চিনে কি না? সাথী মাথা ঝাকিয়ে না বলল।

ছেলেটা হঠাৎ করে সানায়া’র হাত শক্ত করে ধরে দাতে দাত চেপে বলল,

“- তুমি ওকে স্পর্শ করলে কেন? তুমি জানো না তোমাকে স্পর্শ করার অধিকার শুধু আমার! তোমার সাহস হয় কি করে ওই ছেলেটা কে টাচ করার।।অ্যান্সার মি রুপবতী!

ছেলেটার ধমকে সানায়া কেঁপে উঠল। রাফি হতবাক হয়ে গেছে। সাথীও অবাক।

রাফি অবাক হয়ে বলল,

“- এই ছেলে টা কে? তোমাকে এভাবে বলছে কেন?

সানায়া কিছু বলবে তার আগেই ছেলে টা রাফির কলার ধরে বলল,

“- এই তুমি কে? আমার রুপবতী কে স্পর্শ করলে কেন? তোমার সাথে ওর কি সম্পর্ক?

রাফি’র কলার ধরায় সানায়া রেগে চিল্লিয়ে বলল,

“- স্টপ ইট! কে আপনি? ওর কলার ধরার সাহস হয় কি করে আপনার? ওর কলার ছাড়ুন বলছি।

সানায়া’র কথা’য় রাগ হলেও রাফি’র কলার ছেড়ে দেয়। আশেপাশের মানুষ অদ্ভুত ভাবে তাকাচ্ছে তাদের দিকে। পরিস্থিতি বুঝে ছেলে টা নিজেকে সামলে নেয়। তবুও পারছে না।

রাফি আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। যে ছেলে টা এত বকবক করে সেই ছেলে টায় আজ কিছু বলতে পারছে না। একটা শকড খেয়ে চুপসে গেছে।

সানায়া আশেপাশে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“- আপনি কে আমি জানি না। আর জানার ইচ্ছে ও আমার নেই। কিন্তু সবার আগে আপনার ব্যবহার ঠিক করা উচিত মিস্টার। নইলে বিপদে পড়বেন। ছেলে টা কে? তার সাথে আমার কি সম্পর্ক ব্লা ব্লা! আপনার জেনে কি কাজ? আপনি কেন ওর কলার ধরলেন? জানেন এর ফল কি হতে পারে?

ছেলে টা কিছু বলল না। শুধু একটা কথায় বলল,

“- তোমাকে কেউ স্পর্শ করুক সেটা আমি চাই না রুপবতী!

সানায়া চমকে উঠল সাথে সাথীও। সানায়া অবাক হয়ে বলল,

“- রু- প-ব-তী! আমাকে রুপবতী বলছেন কেন? আপনি কে? সানায়া আগে খেয়াল করে নি যে ছেলে টা তাকে আরো কয়েকবার রুপবতী বলে সম্বোধন করেছে।

ছেলে টা মাক্সের আড়ালে বাঁকা হাসলো। তারপর বলল,

“- একটু আগে তুমিই তো বললে আমি কে সেটা তোমার জানার ইচ্ছে নেই? থাক না কিছু অজানা। শুধু একটা কথা’য় বলো? তারপর আমি চলে যাচ্ছি?

সানায়া কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,

“- আপনি সেই না। যে আমাকে চিঠি পাঠিয়ে ছিলেন।

ছেলেটা একটু ও চমকালো না। সানায়া ছেলে টার চোখের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকাল। চোখ দুটো ভিষণ চেনা চেনা লাগছে তার। কোথাও যেন দেখেছে সে। তবে কোথায় দেখেছে মনে করতে পারছে না।

রাফি অবাক হয়ে বলল

“- ভাই আপনি কে? কেন আমার আপু কে এভাবে হ্যারাস করছেন?

ছেলে টা চমকে উঠল। রাফির দিকে তাকাল। রাফি সানায়া কে জিজ্ঞেস করলল,

“- আপু এই ছেলে টা তোমাকে চিঠি দেয় মানে? তুমি এসব কি বলছো?

সাথী বলল,

“- রাফি তোমাকে পড়ে সব বলবো। এখন চুপ থাকো।

রাফি আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। চুপ করে থাকল।

সানায়া এক পা দু পা করে ছেলেটার কাছে এসে দাঁড়াল। সে যে খুব ভুল করে ফেলেছে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। কি দরকার ছিল এভাবে এখানে চলে আসার। সব প্ল্যান তার ভেস্তে গেলো। সানায়া একটু একটু করে হাত বাড়িয়ে ছেলেটা র মুখের মাক্সের দিকে হাত বাড়াল। যখনই মাক্স টান দিয়ে খুলতে যাবে তখনই ছেলে টা সরে দাঁড়াল।

চলবে~