#পাষাণী_তুই
#পর্ব_২৩( বোনাস পর্ব)
#লেখনিতে_ছনিয়া_তাবাচ্ছুম_অনি
সানায়া এক পা দু পা করে ছেলেটার কাছে এসে দাঁড়াল। ছেলেটা যে খুব ভুল করে ফেলেছে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। কি দরকার ছিল এভাবে এখানে চলে আসার। সব প্ল্যান তার ভেস্তে গেলো। সানায়া একটু একটু করে হাত উঁচু করে ছেলেটা র মুখের মাক্সের দিকে হাত টা বাড়াল। যখনই মাক্স টান দিয়ে খুলতে যাবে তখনই ছেলে টা সরে দাঁড়াল। সানায়া হাত টা নামিয়ে নেয়। রাফি আর সাথী দু’জনে নিরব দর্শক।।
ছেলেটা কিছু না বলে চলে যেতে গেলে সানায়া হাত ধরে ফেলে। থেমে যেতে হয় তাঁকে। ছেলে টা নিজেকে অসংখ্য বকা দিচ্ছে। নিজের ভুলের জন্য এখন নিজেকেই পস্তাতে হচ্ছে। সানায়া বলল,
“- পালাচ্ছেন কেন? আজ যেহেতু সামনে চলেই আসছেন তাহলে নিজের ফেইস টা দেখিয়েই তবে যান।
ছেলে টা পিছনে ঘুরে বলল,
“- যদি না দেখায়।
সানায়া মেজাজ দেখিয়ে বলল,
“- আজ দেখে তবেই ছাড়ব। কেন এত লুকোচুরি? সামনে আসতে প্রবলেম কোথায় আপনার? আপনার চোখ দুটো আমার ভিষণ চেনা! আমার মনে কোথাও যেন দেখেছি এই চোখ দু’টো।
সানায়া’র কথা শুনে চোখ কপালে উঠে যায় তার। সে জানতো সানায়া এসব হয়তো খেয়াল করবে না কিন্তু? হুট করে সানায়া ছেলে টা কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে টান দিয়ে মুখ থেকে মাক্স টা খুলে ফেলে।
ছেলে টা শক্ত মুখে তাকিয়ে আছে। সানায়া দুকদম পিছিয়ে গেলো। আপনাআপনি মুখে হাত চলে যায়। সানায়া হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল ছেলেটার দিকে। সানায়া কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
“- আ-প-নি…?
ছেলে টা সানায়া’র দিকে গভীর দৃষ্টিতে একধ্যানে তাকিয়ে রইল। সাথী আর রাফি দু’জনে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। তারা দু’জন না চেনে ছেলে টা কে। তবে দুজনে এতটুকু বুঝতে পেরেছে সানায়া ছেলে টা কে চেনে।
সানায়া একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। চোখে মুখে তার বিস্ময়ের ছাপ। এতদিন উনিই তাঁকে আড়ালে আবডালে এভাবে চিঠি গোলাপ দিয়েছে। কখনো সামনে আসেনি।
ইফাদ স্ট্যাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সানায়া এগিয়ে আসলো। তারপর বলল,
“- আপনিই তাহলে সেই তাই না? এভাবে লুকোচুরি করার মানে টাহ কি?
ইফাদ শান্ত কন্ঠে বলল,
“- হ্যাঁ, আমিই সেই। তোমার অচেনা পাগল প্রেমিক! যাকে এক পলক দেখার জন্য দুইটা দিন ছটফট করেছি কিন্তু তার দেখা পায় নি। রাতে এক ফোটা চোখের পাতা বন্ধ করতে পারে নি। চোখ বন্ধ করলেই বারবার তোমার চেহারা চোখের সামনে ভেসে উঠেছে৷ কখনো তোমার কথা মাথা থেকে ফেলতে পারিনি। দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা শুধু তোমার কথা ভেবেছি। আর তুমি হয়তো আমার কথা একবার ও মনে করো নি। হসপিটালে মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারিনি। আমার সবটা জুড়ে শুধু তোমার বসবাস সানায়া। তুমি কি আমার ভালোবাসা বুঝতে পারছো না?
সানায়া শুনল না। কিছু বলল না। ইফাদ যে বলল তার কথা নাকি সে একবার ও মনে করে নি। সেটা ভুল বলেছে। সানায়া’র খুব মনে পরেছে কে সেই অচেনা ছেলে টা। যে কিনা তার মনের ভিতর গেঁথে গেছে। ইফাদ আবার বলল,
“- আমি সত্যি বলছি ছেলেটা তোমার কে হয় আমি জানি না। যখন দেখলাম তুমি ওকে স্পর্শ করলে তখন মাথা গরম হয়ে যায়। রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে ছুটে এখানে চলে আসি। তুমি প্লিজ এর জন্য আমাকে ভুল বুঝো না। আমি এটাও জানি না ও তোমার কেমন ভাই হয়।
সানায়া মনে মনে হাসল। তারপর গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
“- আপনি যে ভুল করেছেন তার কোনো ক্ষমা হয় না। আপনি জেনে কেন আমার ভাই কে সবার সামনে হ্যারাস করলেন সেটা বলুন?
ইফাদ ইনোসেন্ট ফেস করে বলে,
“- প্লিজ রুপবতী! আমাকে ক্ষমা করে দাও। তোমাকে ভালোবাসি তার জন্য ই তো ভুল করে এমনটা করে ফেলছি।
“- রাফি আমার সাথে প্রথম বার আমার ভার্সিটিতে এসেছে আর আপনি কি করলেন? আপনি আমার ভাইয়ের কাছে স্যরি বলুন।
ইফাদ তার রুপবতীর কথা মতো রাফি’র কাছে গিয়ে বলল,
“- স্যরি ভাই! আমি না জেনে তোমার সাথে খারাপ আচরণ করে ফেলেছি। আমি খুব দুঃখিত!
রাফি হেঁসে বলল,
“- আরে দুলাভাই আপনি এভাবে বলছেন কেন? আপনি কি জানতেন নাকি আমি কে? যদি জানতেন তাহলে তো আর এই ভুল করতেন না। আমি কিছু মনে করিনি।
রাফি’র কথা শুনে চেতে ওঠে সানায়া। রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
“- রাফি উনাকে তুই দুলাভাই বলছিস কেন? না জেনে কোনো কথা বলবি না কিন্তু। খুব খারাপ হয়ে যাবে কিন্তু।
সানায়া’র কথা আমলে নেয় না রাফি। রাফি হালকা হেঁসে ইফাদের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,
“- হাই আমি রাফি চৌধুরী। আপনার রুপবতী ছোটো চাচা’র ছেলে ওরফে আপনার রুপবতীর ছোটো ভাই।
ইফাদ হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে দিলো। নিজের পরিচয় দিল।
“- আমি ইফাদ আহমেদ।। পেশায় একজন ডক্টর। তোমার মেঘরাজ ভাইয়া আমাকে চেনে। তার সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। সে নিজেও জানে আমাদের ব্যাপারে।তোমার সাথে পরিচয় হয়ে ভালো লাগল শালাবাবু!
সানায়া জাস্ট হতভম্ব হয়ে গেলো। এরা কিসব বলা বলি করছে। মুহূর্তে মেজাজ বিগড়ে গেল সানায়া’র। রাফি’র মাথায় থাপ্পড় দিয়ে বলল,
“- তোকে আগেই বলেছি কথা বার্তা ঠিক করে বল। এটা যদি আমার ভার্সিটি না হয়ে বাসা হতো তাহলে তোর মাথা আজ আমি ফাটিয়ে দিতাম। আর আপনি! আপনাকে তো আমি……বলে তেড়ে যায় ইফাদের দিকে। ইফাদ সানায়া’র সামনে থেকে সরে গিয়ে দাঁড়ায়। একটুর জন্য বেঁচে গেলো। তা না হলে বিয়ের আগেই বউয়ের হাতের থাপ্পড় খেতে হতো আজ। রাফি আর সাথী উচ্চ স্বরে হেসে ওঠে।।
ভরা ক্যাম্পাসে সানায়া কিছু করতে না পেরে হনহন করে ক্লাসরুমের দিকে হাঁটা ধরে। সানায়া কে চলে যেতে দেখে ইফাদ চেচিয়ে বলল,
“- কালকে তোমার জন্য সারপ্রাইজ আছে রুপবতী! তৈরি থেকো।
সাথী রাফি কে বলল, ভাই তুমি থাকো আমি গেলাম। তোমার পাগলা বোন খেপেছে। সাথীও চলে গেলো। শুধু থাকল ইফাদ আর রাফি।
রাফি আর কি করবে। তার ঘুরাঘুরি কিছুই তো হলো না। সেজন্য ভাবল ইফাদের সাথে তার হসপিটালে যাবে। আর তার ব্রো’র সাথে দেখাও হয়ে যাবে।
★★★
হসপিটালের চেম্বারে বসে আছে। এখন কোনো রোগী নেই। কোনো ইম্পরট্যান্ট অপারেশন ও নেই। সেজন্য চুপ করে ফোন ঘাটছে। তখনই দরজায় কড়া নাড়ে কেউ। মেঘ ভিতরে আসতে বলে। ইফাদ কে দেখে হাসি মুখে বলল,
“- আরে ইফাদ তুমি? ভিতরে আসো।
ইফাদের পিছন থেকে রাফি বলল,
“- আমাকে ভিতরে আসতে বলবে না ব্রো।
চেনা কন্ঠস্বর পেয়ে মাথা তুলে তাকিয়ে দেখে তার ছোটো ভাই। মেঘ উঠে দাড়িয়ে হেসে বলে,
“- আরে রাফি তুই এখানে? চিনলি কিভাবে ভাই?
“- চিনবো না মানে! দুলাভাই থাকতে প্যারা কিসের?
রাফি’র কথা শুনে ভ্রু দলা করে ইফাদের দিকে তাকাল। ইফাদ মুখ কাচুমাচু করে বলল,
“- আজ পুরো ফেঁসে গেছি ভাই! রাফি’র জন্য সবটা হয়েছে।
“- মানে…..
ইফাদ সব ঘটনা খুলে বলে। সব শুনে হেসে দেয় মেঘ। হাসতে হাসতে বলল,
“- ঠিক মতো অভিনয় টাও করতে পারলে না। রাফি কে যখন দেখছো তখন আমাকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারতে? আমি সবটা বলে দিতাম। তাহলে আর সব প্ল্যান ভেস্তে যেত না।
“- কি করব ভাই। নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি তো…
“- বুঝতে পারছি।
রাফি মাথা চুলকে বলল,
“- দুলাভাই দেখছি আমার আপু কে খুব ভালোবাসে। বোনের পাশে ভাই কে দেখে যা করল। বাই এনি চান্স যদি সেখানে অন্য কোনো ছেলে থাকতো। তখন কি হতো…?
রাফি খানিকটা ভাবুক হয়ে বলল,
“- দুলাভাই এত ভালোবাসলেন কেমনে? আমাকে একটু বলেন আমিও কোনো মেয়ে কে এভাবে ভালোবাসতে পারি৷
ইফাদ বলল,
“- কি বলো শালাবাবু!
মেঘ বলল,
“- রাফি তুই দেখছি খুব পাঁজি হয়ে গেছিস। তা কানাডায় কয়টারে পটাইছিস ভাই। নাকি তারা পাত্তা দেয় নি।
মেঘের কথা শুনে তিনজনে হেসে উঠল!
চলবে~