😠 Ragging To Loving 😍
Part:: 11
Writer:: Ridhira Noor
সকাল সকাল সবাই কাজে লেগে পড়ল। আজ মেহেদী অনুষ্ঠান আর বিয়ে দুইটা একসাথে তাই ঝামেলাও বেশি। মিলাকে রেডি করে মেহের আলিফা রেডি হয়ে গেল। মিলাকে দেয়ালেএ সাইড করে মাঝ বরাবর বসানো হলো। মেহের আলিফা দুইজন মিলার দুই হাতে মেহেদী দিচ্ছে। রাতুল ইয়াশ আরিফ ওরাও চলে এলো। রিয়াদ ভাইয়া আর মিলার বাবা মা তাদের স্বাগত করল। তাদের মিলার সামনাসামনি বসানো হলো। রাতুল মিলাকে দেখে মুচকি হাসি দিল। হাত সুন্দর ইশারা করল। মিলা এক লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে মাথা নিচু করে ফেলল। ইয়াশ আরিফ তাদের চোখ পড়ল মেহের আলিফার দিকে। সেলোয়ার কামিজ পরা। দুইজনকে দেখতে সিম্পল লাগলেও বেশ মানিয়েছে।
আরিফঃঃ- কে বলবে এই আলিফা মেয়েটা এত ফাজিল। দেখে মনেই হয় না। (মনে মনে)
ইয়াশঃঃ- মেহের মেয়েটা দেখতে কত ভদ্র। কিন্তু বদের হাড্ডি একটা। (মনে মনে)
মিলার লজ্জা দেখে আলিফা মেহের সামনে তাকিয়ে দেখে রাতুল আর তার পাশে আরিফ ইয়াশ। সিম্পল সাদা পাঞ্জাবি পরা তাও দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে।
আলিফাঃঃ- কে বলবে এই আরিফ এত ফাজিল। দেখে মনে হয় না। (মনে মনে)
মেহেরঃঃ- দেখতে ভদ্র মনে হলেও আস্তো বজ্জাত। আন্ডা আন্ডা চোখ দুটো শুধু ক্যামেরায় মেয়ের ছবিতে থাকে।
ইয়াশ আরিফ এগিয়ে এলো মিলার দিকে। হাতে ক্যামেরা নিয়ে। মেহের আলিফা মিলার দুই পাশে বসা ছিল।
আরিফঃঃ- এক্সকিউজ মি? আমরা ছবি তুলতে পারি? (দাঁতে দাঁত চেপে)
আলিফাঃঃ- জ্বি তুলেন। (ঠোঁট বাকিয়ে)
আরিফঃঃ- তাহলে তোমরা উঠে পড়।
মেহেরঃঃ- কেন? আমরা কেন উঠব?
ইয়াশঃঃ- কেন ভুলে গেলে। বলেছিলে না সুন্দরী মেয়ে দেখলেই ছবি তুলতে ইচ্ছে করে। তাই তোমরা উঠে পড়। কারণ আমরা চাই না আমাদের ক্যামেরায় দুই পেত্নীর ছবি ক্যাপচার হোক।
মেহেরঃঃ- কি বললেন? আমরা পেত্নী?
ইয়াশঃঃ- কোন সন্দেহ আছে? নাও প্লিজ মুভ। আমাদের সুন্দরী ভাবির ছবি তুলব।
ওদের কথা শুনে মিলা সহ সেখানে থাকা হেসে দিল। মেহের আলিফা রেগে হনহনিয়ে চলে গেল। ইয়াশ আরিফ হেসে হাই ফাইভ দিল। তারপর ছবি তোলায় মনোযোগ দিল।
আলিফাঃঃ- আমাদের এভাবে সবার সামনে অপমান করল। এদের ইজ্জতের ফালুদা যদি না বানায় তাহলে দেখিস।
মেহেরঃঃ- আইডিয়া! (চুটকি বাজিয়ে) এখন দেখ ইজ্জতের ফালুদার রেসিপি।
প্রায় আধ ঘণ্টা পর মেহের আলিফা এলো। একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে টিপে হাসছে। খাবারের জন্য সবাইকে বাইরে উঠানে নিয়ে যাওয়া হলো। আর এদিকে মেহের আলিফা তাদের কাজ সেরে নিল। খাবার খেয়ে একে একে সবাই ভিতরে আসছে। মেহের আলিফা সবাইকে জায়গা মতো বসিয়ে দিল। রাতুল ইয়াশ আরিফ বাকি ছিল বসার। একটা বড় সোফা খালি ছিল চাদর দিয়ে ঢাকা। রাতুল বসতে যাবে তার আগেই মেহের আলিফা তাকে টেনে নিল।
মেহেরঃঃ- জিজু কি করছেন আপনি? আপনার জায়গা এখানে নয়। মিলা আপুর পাশে।
আলিফাঃঃ- আর এই জায়গায় শুধু আমি আর মেহের বসব। অন্য কেউ যাতে না বসে। (আরিফ ইয়াশের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল)
রাতুল মুচকি হেসে মিলার পাশে বসল। আলিফার এমন বলায় ইয়াশ আরিফ জেদ ধরল তারা এই সোফায় বসবে। আলিফা মেহের কোন ভাবেই তাদের বসতে দিচ্ছে না। সবাই তাদের খুনসুটি দেখে আনন্দ উপভোগ করছে। বিয়ে বাড়িতে এসব চলতে থাকে। আরিফ ইয়াশ জোর করে সোফায় বসে পড়ল। বসার সাথে সাথে আওয়াজ হলো। “টুসসস টুসসস টুসসস” এমন আওয়াজে দুইজন অনেক লজ্জা পেল। বাকিরা হাসছে। আলিফা মেহের হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আরিফ রেগে চাদর উঠিয়ে দেখে ছোট ছোট অনেকগুলো বেলুন। যা তারা বসার সাথে সাথে ব্লাস্ট হয়ে গেল।
মেহেরঃঃ- আমাদের পেত্নী বলেছিলেন না? এই দেখুন পেত্নীর কাজ। (আবারও হাসতে লাগলো)
আলিফাঃঃ- আমরা তো আরও চিন্তা করছিলাম কি করে আপনাদের এই সোফায় বসাব। তারপর ভাবলাম আপনারা যেমন আপনাদের চিন্তা ভাবনাও তেমন। মানে উল্টো। যদি আপনাদের বসতে না দিই তাহলে আপনারা আরো জোর করে বসবেন। ব্যাস হয়ে গেল আমাদের কাজ।
আরিফ ইয়াশ রাগে ফুঁসছে। আলিফা মেহের চুল পিছন দিকে উড়িয়ে ভাব নিয়ে চলে গেল।
সন্ধ্যায় মিলাকে কনের সাজে সাজানো হচ্ছে। শুধু মাথায় ওড়না দেওয়া বাকি। তারপর সাজ কমপ্লিট। মিলার কাজিন রিসা ওড়না পরিয়ে দিল।
রিসাঃঃ- উফফ আপু কি লাগছে তোমায়। জিজু চোখ ফিরাতেই পারবে না।
তারপর মিলাকে নিয়ে গেল স্টেজের দিকে। আরিফ ক্যামেরায় সবার ছবি তুলছে। মিলার সব কাজিনরা একসাথে স্টেজে উঠল। আলিফা মেহের মিলার দুই পাশে দাঁড়াল।
ইয়াশঃঃ- আরে সুন্দর পোজ দিয়ে দাঁড়াও সবাই। আমি যেভাবে বলছি সেভাবে দাঁড়াও তাহলে ছবি সুন্দর হবে।
আলিফা মেহের বিরক্তিকর ভাব নিল। ইয়াশ যেভাবে বলল সবাই সেভাবে দাঁড়াল। আলিফা মেহেরকে বলল মিলার পিছনে দাঁড়াতে। তারা গিয়ে দাঁড়াল। আরিফ ইচ্ছে মতো ছবি তুলল। যখন সবাই ছবি দেখতে নিল তখন দেখল। মেহের আলিফার মাথা কাটা। তাদের চেহারা ছবিতে উঠেনি।
মেহেরঃঃ- আমাদের চেহারা কোথায়?
ইয়াশঃঃ- আরে সকালেই তো বলেছিলাম। আমাদের ক্যামেরায় পেত্নীর ছবি তুলব না।
মেহের ইয়াশের পায়ে আলিফা আরিফের পায়ে জোরে পা দিল। ইয়াশ আরিফ লাফাতে লাগলো। মেহের আলিফা রেগে চলে গেল। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলো। মেহের আলিফা পরের দিন চট্টগ্রাম ফিরে এলো। ইয়াশ আরিফ তাদের ফটোগ্রাফি জন্য আরও দুই দিন ছিল।
.
.
.
বর্তমানে ____________________________
আরিফঃঃ- ভাই এই ছিল আপদদের কাহিনি।
আফরান রিহান আহিল ওয়াসিম হাসতে হাসতে শেষ।
ইয়াশঃঃ- হারামিরা হাসা বন্ধ কর। এবার তোরা বল। তোদের কিভাবে চিনস।
আফরানঃঃ- (তাদের এই কয়দিনের কাহিনি বলল) ভাই একেকটা বদের হাড্ডি।
আহিলঃঃ- বদের হাড্ডি হোক মাংস হোক যাই হোক। এই হৃদয়ে তো ওর ছবি ছেপে গেল। প্রেমে পড়ে গেছি ওর।
রিহানঃঃ- তুই আর প্রেম? কত প্রেম করবি তুই?
আহিলঃঃ- দেখ অনেকের সাথে ফ্লার্ট করেছি বলতে পারিস। কিন্তু আজ পর্যন্ত কারো প্রেমে পড়িনি। জানি না কেমনে কিন্তু ওর জন্য এক অন্যরকম অনুভূতি অনুভব করি।
ওয়াসিমঃঃ- কার প্রেমে পড়েছিস ভাই?
আহিলঃঃ- আমরিন। (এক মুচকি হাসি দিল। যেন ওর নাম নিতেই মনে এক সুখ অনুভব হয়)
ওয়াসিমঃঃ- ভাগ্যিস। (বিড়বিড় করে)
রিহানঃঃ- ভাই তোকে শহীদ দিবসের শুভেচ্ছা। ওদের গ্রুপের কারো সাথে প্রেমে পড়া মানে শহীদ হওয়া।
সবাই হেসে উঠল। আহিলও মুচকি হাসি দিয়ে আমরিনের কথা ভাবতে লাগলো।
আফরানঃঃ- তারপর বল তোদের ফটো কনটেস্ট কেমন হলো। তার জন্যই তো দুই সপ্তাহ বাইরে গিয়েছিলি।
ইয়াশঃঃ- আমরা সেকন্ড রানারআপ হয়েছি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে বিজয়ী হব।
সবাই তাদের শুভেচ্ছা জানালো। এত দিন পর বন্ধুদের সাথে দেখা তাই সবাই অনেক্ষণ আড্ডা দিল।
.
.
.
পরের দিন ভার্সিটিতে
পুষ্পঃঃ- তাহলে এভাবে চিনিস ওদের। ওরে তোরাও কম না।
আলিফাঃঃ- হুহ্ যেমন কর্ম তেমন ফল। থুক্কু তেমন ইজ্জতের ফালুদা। (সবাই একসাথে হেসে উঠল)
পান্নার ড্রাইভার পান্নাকে ভার্সিটি ড্রপ করে দিল। পান্নার বাবা আফরানের বাবার বিজনেস পার্টনার আর ভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। আফরানের সাথে তার পরিচয় হয় ভার্সিটিতে উঠার পর। এক বছরের পরিচয়ে ভালো বন্ধু হয়ে গেল। পান্না যেমন সুন্দরী তেমন বাবার টাকায় অনেক অহংকার। তার সুন্দরে অনেকে ফিদা হলেও তার অহংকারের কারণে সবাই দূরে থাকে। ভার্সিটিতে তার দুই বান্ধবী আছে। পান্না ভার্সিটি আসতেই তার দুই বান্ধবী ঝিনু রিতার সাথে দেখা হলো।
রিতাঃঃ- পান্না কেমন আছিস তুই?
পান্নাঃঃ- ভালো।
ঝিনুঃঃ- ভালো? জানিস এই কয়দিন ভার্সিটিতে কি হয়েছে?
পান্নাঃঃ- জানি। ওই কি একটা ভিডিও নিয়ে কাহিনি হলো।
রিতাঃঃ- শুধু ভিডিও? আরো অনেক কিছু হয়েছে। কিছু নিউ স্টুডেন্টস আর আফরানদের মধ্যে যে যুদ্ধ চলছে জানিস কিছু?
পান্নাঃঃ- মানে কি হয়েছে?
ঝিনুঃঃ- তা জানবি কি করে? তুই তো তোর মডেলিং নিয়ে বিজি। তাই ভার্সিটিতে আসিস নি। (আফরান আর নূরের সব কাহিনি বলল)
পান্নাঃঃ- ওহ গড! তোরা এমন ভাবে বলছিস যেন কি না কি হয়েছে। আফরান জাস্ট ওর র্যাগিং করছে। দেটস ইট। সো জাস্ট চিল।
রিতাঃঃ- তুই বুঝছিস না কি থেকে কি হবে।
পান্নাঃঃ- কাট দ্যা ক্রেপ ইয়ার। চল ক্লাসে চল।
.
.
.
চলবে
😠 Ragging To Loving 😍
Part:: 12
Writer:: Ridhira Noor
ক্লাসে যাওয়ার পথে অগ্রসর হলো পান্না রিতা ঝিনু। তার মধ্যেও রিতা ঝিনু পান্নাকে নূর আর আফরানের কথা বলে কান ঝালাপালা করে দিচ্ছে। পান্নার বিরক্তির সীমা পেরিয়ে বলল।
পান্নাঃঃ- ঠিক আছে দেখি কে এই নূর। যার কথা বলে তোরা আমার দুই কান খাচ্ছিস। চল।
প্রথম বর্ষের ক্লাসের বাইরেই নূর পুষ্প দাঁড়িয়ে গল্প করছিল। রিতা দূর থেকে নূরকে দেখাল। নূরকে দেখেই পান্না অট্টহাসিতে ফেটে উঠল।
পান্নাঃঃ- আরে তোরা ওকে নিয়ে আমার জন্য ইনসিকিউর হচ্ছিস। আমি তো ভেবেছিলাম খুব সুন্দরী মেয়ে। এর তো গায়ের রঙ শ্যামলা। আর আমি ওর চেয়ে অনেক গুন বেশি সুন্দরী। আফরান আমার দিকে ভালো করে তাকায় নি। আর ওর দিকে তাকাবে। নো চান্স। সো প্লিজ ওর সাথে আমাকে তুলনা করা বন্ধ কর। আর দিন শেষে আফরান আমার হবে।
রিতাঃঃ- আমরা তোর ফ্রেন্ড তাই তোর জন্য চিন্তা করছি। বাকিটা তুই বুঝিস।
.
.
.
কিছু এনাউন্সমেন্ট করার জন্য ভার্সিটির সব স্টুডেন্টদের ক্যাম্পাস এরিয়ায় একত্রিত করল। সবাই আসার পর এনাউন্সমেন্ট করল। দুই সপ্তাহ পর ফ্রেশার পার্টি আর কালচারাল প্রোগ্রাম হবে। একটা বড় বাক্স রাখল। কেউ যদি অংশগ্রহণ করতে চাই তাহলে তার নাম ও তথ্য একটা কাগজে লিখে এই বাক্সের রাখবে। এনাউন্সমেন্ট এর পর সবাই চলে গেল। আফরান অনেক্ষণ ভেবে চিন্তে একটা বাক্সে রাখল। তারপর প্যান্টের দুই পকেটে হাত ঢুকিয়ে শিষ বাজাতে বাজাতে চলে গেল।
আহিল আমরিনের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিল। সাথে ওয়াসিমকেও নিয়ে গেল। আমরিন আর সিমা লাইব্রেরিতে তাদের এসাইনমেন্ট এর কাজ করছিল। পাশাপাশি বসে কাজ করছিল এমন সময় আহিল ওয়াসিম তাদের সামনাসামনি বসল। ওয়াসিমকে দেখে সিমা তড়িঘড়ি করে তার সব জিনিস নিজের কাছে টেনে নিয়ে আড়চোখে ওয়াসিমের দিকে তাকাল। ওয়াসিম অবাক হয়ে সিমার দিকে তাকাল।
সিমাঃঃ- আমি জানি আপনি কোন মতলবে এসেছেন।
ওয়াসিমঃঃ- মা.. মানে? কি.. কি মতলব নিয়ে এসেছি?
সিমাঃঃ- আপনি আমার জিনিসগুলো ছিনিয়ে নিতে এসেছেন তাই না? আমি সব জানি। শপিং মলে আপনার কাছ থেকে ওই শোপিস নিয়েছি তাই আপনি আমার কোন জিনিস নিতে এসেছেন। আমি সব বুঝি।
ওয়াসিম কিছুক্ষণ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে জোরে হেসে দিল। সিমার এমন বাচ্চামি দেখে। আর ভাবতে লাগলো মেয়েটা আসলেই পাগল।
ওয়াসিমঃঃ- সিরিয়াসলি? তোমার মনে হয় আমি তোমার জিনিস নিতে এসেছি। (কিছু একটা ভেবে বলল) আসলে নিতেই এসেছি। আর তা আমি নিয়েই ছাড়ব।
সিমা তার জিনিসপত্র বুকের মাঝে আঁকড়ে ধরল। ওয়াসিম আবারও হেসে দিল। আহিল তো আসার সাথে সাথে টেবিলের উপর কুনুই রেখে গালে হাত দিয়ে এক ধ্যানে আমরিনের দিকে তাকিয়ে আছে। তা দেখে আমরিনের অনেক অস্বস্তি লাগছে। রাগী দৃষ্টিতে আহিলের দিকে তাকালে সে কোন ভ্রুক্ষেপ না করে মুচকি হাসি দিয়ে আবারও আমরিনের দিকে তাকিয়ে আছে।
আমরিনঃঃ- কি সমস্যা আপনার?
আহিলঃঃ- তুমি। তুমি আমার সমস্যা। প্রথমে তোমার লজ্জা মাখা চেহারা দেখে প্রেমে পড়েছিলাম। রাগী চেহারায়ও তোমাকে বেশ লাগে। যখন তোমার দিকে তাকায় আশেপাশে কি হয় খেয়াল থাকে না। সেটা আমার সমস্যা। না চাওয়া সত্ত্বেও শুধু তোমার চিন্তা মাথায় আসে সেটা আমার সমস্যা। যখন প্রথম তোমার কাছে এসেছিলাম বুকের ভেতর এক হালকা বাতাস বয়ে গিয়েছিল সেটা আমার সমস্যা। সবসময় তোমাকে আমার কাছে চাই সেটা আমার সমস্যা। তাই যা বলব সোজাসাপ্টা বলব। আ…
ওয়াসিমঃঃ- আই লাভ ইউ।
আহিল আমরিন সিমা ওয়াসিমের দিকে তাকাল। ওয়াসিম অপ্রস্তুত হয়ে এদিক সেদিক তাকাতে লাগলো। আহিল রাগী দৃষ্টিতে ওয়াসিমের দিকে তাকাল।
ওয়াসিমঃঃ- আরে তুই ভুল বুঝছিস। আমি আমরিনকে না সিমাকে বলছি।
সিমা অবাক হয়ে তাকাল ওয়াসিমের দিকে সাথে আহিল আর আমরিনও। সিমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। মানে কি? ওয়াসিম কেন ওকে আই লাভ ইউ বলবে। সবাই প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওয়াসিমের দিকে। সিমার ভাবনার ঘোর যেন কাটছে না। তাও নিজেকে সামলিয়ে বলল।
সিমাঃঃ- মানে? আপনি আমাকে কেন আই লাভ ইউ বলছেন?
ওয়াসিমঃঃ- (হালকা মাথা চুলকালো) আই লাভ ইউ কেন বলে জানো না? আহিল এখন যা কিছু বলল সেসব আমি তোমার জন্য অনুভব করি। এই মাত্র যে বাচ্চামি করলে হঠাৎ সেই বাচ্চামির উপরও প্রেমে পড়ে গেলাম। আসলে আমি হয়তো ঠিক গুছিয়ে বলতে পারছি না। এমনিতে ছন্দ বলে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু তোমাকে নিয়ে কোন ছন্দই প্রকাশ করতে পারছি না। শুধু এই তিনটি শব্দই বের হচ্ছে। আই লাভ ইউ। মিস পিংকি।
সিমাঃঃ- (ভ্রু কুচকে চোখ ছোট করে) আমি পিংকি না সিমা।
ওয়াসিমঃঃ- এই যে এই ফেইস বানালে বুকের মাঝে কেমন যেন করে উঠল।
সিমা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে ওয়াসিমের দিকে।
আহিলঃঃ- আই লাভ ইউ মাই লাভ।
আমরিনও চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আহিলের দিকে। সিমা আমরিন একে অপরের দিকে তাকাল। কি করবে তারা কিছুই বুঝতে পারছে না। একে অপরের দিকে তাকিয়ে দুইজন একসাথে দৌড় দিল। আহিল ওয়াসিম অবাক হয়ে সেভাবেই বসে আছে। যখন ব্যাপারটা বুঝতে পারল দুইজন হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।
আহিলঃঃ- হায়রে অবশেষে আমরা প্রেমে পড়লাম তো দুই পাগলের উপর।
ওয়াসিমঃঃ- প্রেমে পড়েছিই তো এই পাগলামির উপর। গিয়েছিলাম র্যাগিং করতে কিন্তু আমাদের লাভ এক্সপ্রেস ট্রেনটা গিয়ে পৌঁছাল Ragging To Loving স্টেশনে।
আহিলঃঃ- বাই দ্যা ওয়ে। কংগ্রেস তুইও আমার সাথে শহীদ হয়ে গেলি। (বলেই দুইজনই হেসে উঠল)
আমরিন সিমা দৌড়াতে দৌড়াতে মাঠের মাঝে এসে দাঁড়াল। দুইজনই হাঁপাতে লাগলো। জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে লাগলো।
সিমাঃঃ- কি ছিল এটা? মনে হচ্ছে আমার হৃৎপিন্ড লাফাতে লাফাতে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাবে।
আমরিনঃঃ- আমারও তাই মনে হচ্ছে রে। তুই তো আজকে শুনলি। আমি তো সেই দ্বিতীয় দিন থেকে… (বলেই জিহ্বায় কামড় দিল।)
সিমাঃঃ- মানে এগুলো আগে থেকে চলছিল। তুই ফকিন্নি আমাদের বলিস নি।
আমরিনঃঃ- কি আর বলতাম। আমি নিজেই এতো দিন বিভ্রান্তিতে ছিলাম। কি হচ্ছে নিজেই বুঝতে পারছি না। এমনি ওয়াসিম কিন্তু খারাপ না।
সিমাঃঃ- ওয়াসিম কি? ভাই ডাক।
আমরিনঃঃ- জেলাস? সামথিং সামথিং?
সিমাঃঃ- নাথিং…. (মাথা ডানে বামে নেড়ে) বাই দ্যা ওয়ে আহিলও কিন্তু খারাপ না।
আমরিনঃঃ- আহিল কি? ভাই ডাক।
সিমাঃঃ- আর ইউ জেলাস?
আমরিনঃঃ- নো…..
একে অপরের দিকে তাকিয়ে জোর পূর্বক হাসি দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের মনে কি চলছে তারা নিজেরাই হয়তো বুঝতে পারছে না।
নূরঃঃ- কি হচ্ছে এখানে? তোরা এখানে কি করছিস? ক্লাস তো শেষ চল বাসায় যায়।
সিমা আমরিন চিন্তা করছে তাদের এই ব্যাপারে বলবে কি না? কিন্তু কি বলবে? তারাই নিজেরাই তো বুঝতে পারছে তাদের মনের খবর। তাই আর কিছু বলল না।
.
.
.
দুই সপ্তাহ কেটে গেল পলক ফেলতেই। এই দুই সপ্তাহে নূর আফরানের কতই না ঝগড়া খুনসুটি হলো। পুষ্প রিহানের রাগারাগি। মেহের ইয়াশ আর আলিফা আরিফের এই যুদ্ধ রেখা। সিমা আমরিন তারা তো যত পেরেছে ওয়াসিম আহিল থেকে লুকিয়ে ছিল।
আজ তাদের ফ্রেশার পার্টি আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। নূর পুষ্প সিমা আমরিন মেহের আলিফা নরমাল ড্রেসআপ এ এসেছে। সামনে তাকিয়ে দেখে বিলাতি বক মানে আফরান। ফুল সাদা ড্রেসআপ। প্লেইন সাদা শার্ট সাদা প্যান্ট। চুল গুলো সেই এলোমেলো কপালে ছুঁই ছুঁই। একবার চিন্তা করল ক্রাশ খাবে। আবার মনে পড়ল ইহা একটি অখাদ্য খাবার। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
নূরঃঃ- এই খাচ্চর বিলাতি বক সেজে আসলো কোন সুখে।
পুষ্পঃঃ- দাঁড়া জিজ্ঞেস করে আসি।
নূরঃঃ- তোকে বলছি?
পুষ্পঃঃ- তাহলে জানার এত আগ্রহ কেন? চুপচাপ দেখতে থাক।
স্টেজ থেকে এনাউন্সমেন্ট করা হলো। এই খাচ্চর বিলাতি বক নাকি গান গাইবে। তাই আগেই হাত দিয়ে দুই কান চেপে ধরল নূর।
.
.
.
চলবে