Ragging To Loving Part-15+16

0
879

😠 Ragging To Loving 😍
Part:: 15
Writer:: Ridhira Noor

আফরানকে রেগে যেতে দেখে ছেলেরা তার পিছনে গেল। রেগে আফরান বাইরে গিয়ে গাড়ির পাশে দাঁড়ায়। সানগ্লাস পড়ে আয়না তাকিয়ে জোরে জোরে হাসতে লাগলো। ছেলেরা বাইরে এসে দেখে আফরান হাসছে। এতই হাসছে যে হাসতে হাসতে গাড়িতে লুটিয়ে পড়ছে। ওকে এভাবে হাসতে দেখে বাকিরা হেসে তার কাছে গেল।

আরিফঃঃ- সেই কবে তোকে এত হাসতে দেখেছি মনে নেই। দীর্ঘ সময় পর তোকে মন খুলে হাসতে দেখেছি।

ইয়াশঃঃ- আগে এভাবেই হাসি খুশি থাকতি। অন্যদের হাসাতি। কিন্তু….

ওয়াসিমঃঃ- আসলেই নূরের মধ্যে নিশ্চয় কোন জাদু আছে। একটা মানুষের মন যতই খারাপ হোক পাঁচ মিনিট ওর সাথে থাকলে ডিপ্রেশনও ডিপ্রেশনে চলে যাবে। সবাইকে আনন্দ দেয়।

আফরানঃঃ- সে তো “আনন্দিতা”। (মুচকি হেসে আনমনে বলে উঠল। আবার মূহুর্তে চুপ হয়ে গেল) আচ্ছা চল। (সানগ্লাস পড়তে নিলে আবার হেসে পকেটে রেখে দেয়। তারপর গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।)

তাদের বের হওয়ার পর নূর আর বাকিরাও বেরিয়ে পড়ে। বাইরে এসে আফরানকে হাসতে দেখে তারাও অবাক। নূর তো অবাক দৃষ্টিতে আফরানের হাসি দেখছিল। এই প্রথম সে আফরানকে মন খুলে হাসতে দেখেছে। হাসলে তাকে অসম্ভব সুন্দর দেখায়। কিন্তু শেষে আফরান তাকে যে নাম দিল “আনন্দিতা”। নামটা শুনে তার অবাক হওয়ার সীমানা পেরিয়ে গেল।

নূরঃঃ- আনন্দিতা? (দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল)

মেহেরঃঃ- কিছু বললি?

নূরঃঃ- না। কিছু না। চল। আর শোন যে যার মতো করে প্রস্তুতি নিবি। যুদ্ধের জন্য অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়। আমাদের প্রধান অস্ত্র বাঁশ। এমন বাঁশ দিব জীবনে ভুলবে না।

বাকিদের ড্রপ করে আফরান আর রিহান বাসায় পৌঁছাল। আফরান সবার আড়ালে মুখ টিপে হাসছে। রিহান সেটা খেয়াল করলেও কিছু বলছে না। কারণ আফরানকে প্রায় অনেকদিন পর মন খুলে হাসতে দেখছে।

রিহানঃঃ- (থ্যাংকস নূর। আজ তোমার জন্যই আফরানকে সে আগের রূপে ফিরে পেলাম।)

আফরানের মাঃঃ- কি হয়েছে তোর এভাবে হাসছিস কেন?

আফরানঃঃ- পান্ডা… না মানে কিছু না এমনি।

আফরানের মাঃঃ- তুই পাগল নাকি যে এমনি এমনি হাসছিস।

রিহানঃঃ- পাগল না বড় মা। তোমার ছেলে পান্ডা হয়েছে। (আফরান তেড়ে আসতেই দিল দৌড়।)

আফরানের মাঃঃ- কিসের পান্ডা আফরান?

আফরানঃঃ- কিছু না মা। (মাথা চুলকাতে চুলকাতে চলে গেল।)

আফরানের মাঃঃ- জানি না কি হয়েছে? কিন্তু যাই হোক অনেকদিন পর এত আনন্দে দেখলাম। তোর এই আনন্দের কারণ যেন আজীবন থাকে।

ওয়াসিম আহিলকে ফোন করলো।

ওয়াসিমঃঃ- আহিল তুই কি কিছু খেয়াল করেছিস?

আহিলঃঃ- হ্যাঁ। আমরিন সিমা ওই দিনের পর থেকে আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে থাকছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে সামনেই আসছে না। ভার্সিটিতে আসলেও ক্লাস করে দুইজন একসাথে পালিয়ে যায়।

ওয়াসিমঃঃ- আজকেও এমন হয়েছে। প্রোগ্রামে আমি সিমার কাছে গিয়েছিলাম কথা বলতে। কিন্তু সে আমাকে এভয়েড করে দৌড়ে চলে গেল। আমার মনে হচ্ছে ওরা আমাদের ইগনোর করছে।

আহিলঃঃ- আমারও তাই মনে হয়। এতদিন আমরা ওদের পিছনে দৌড়েছি। এখন ওদের আমাদের পিছনে দৌঁড়াব। দেখবি ওরা নিজে এসে কথা বলবে।

ওয়াসিমঃঃ- কিন্তু কিভাবে? আমি সত্যি সিমাকে অনেক ভালবাসি। সে না আমার জবাব দিচ্ছে না কথা বলছে। ওর ইগনোর আমার ভীষণ খারাপ লাগছে। কি করে বুঝব সে আমাকে ভালবাসে কি না?

আহিলঃঃ- আমিও জানতে চাই আমরিন আমাকে ভালবাসে কি না? তা জানার জন্য আমার একটা প্লান আছে। যা কালকে এক্সিকিউট করব।

ওয়াসিমঃঃ- ওকে। থ্যাংকস ইয়ার। এই কয়দিন আমার কেমন ফিল হচ্ছিল বলে বুঝাতে পারব না।

আহিলঃঃ- বুঝাতে হবে না। আমারও সেম ফিল হচ্ছিল। ওকে বাই।

পরের দিন ভার্সিটিতে_________________

নূর ও বাকিরা ক্লাসের দিকে যাচ্ছিল। আমরিন সিমার কানে ফিসফিস করে বলছে।

আমরিনঃঃ- আজকেও আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। কোনো ভাবে ওদের সামনে আসা যাবে না। হলে আবার পিছনে পড়বে।

সিমাঃঃ- হ্যাঁ রে….. (সামনে তাকিয়ে দেখে আহিল ওয়াসিম) ওই দেখ সামনে। শয়তানের নাম নিলি শয়তান হাজির। (কিন্তু একি আহিল ওয়াসিম তাদের দেখেও না দেখার ভান করে চলে গেল।) কিরে আজ সূর্য কোন দিকে উঠল রে।

আমরিনঃঃ- মনে উত্তর দিকে। এমনি সবসময় আমাদের দেখলে দৌড়ে চলে আসে। ক্লাসের বাইরে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে। আর আজ এই দেখি অন্য দৃশ্য।

নূরঃঃ- তোদের কি হয়েছে বল তো। কিছুদিন ধরে দেখছি দুইজন কি খিচুড়ি রাঁধছিস। ফিসফিস করে কথা বলিস। ক্লাস করে এমন দৌড় দিস যেন কেউ বাঁশ নিয়ে তোদের তাড়া করে। আজ তো বলতেই হবে।

আমরিন সিমা একে অপরের দিকে তাকিয়ে এক ঢোক গিলল। ক্যান্টিনে গিয়ে বসল। সেখানে সিমা আমরিন সব কাহিনি বলল।

নূরঃঃ- অসভ্য অভদ্র বেয়াদব নির্লজ্জ বেহায়া। লজ্জা করে না তোদের। তোদের তো থাপরাইয়া…. থাক আর বললাম না। এত কিছু চলছে এতদিন ধরে আমাদের একটু জানালি না। ওহ এই ফ্রেন্ড আমরা তোদের। ভালো ভালো খুব ভালো। (ইমোশনাল অত্যাচার)

আমরিনঃঃ- আরে আমরা নিজেরাই বুঝতে পারছি না কি করব। তাই….

আলিফাঃঃ- ওদের দিকটা তো বললি। এবার তোদের বল।

সিমাঃঃ- আমাদের কি?

আলিফাঃঃ- তোরা ওদের ভালবাসিস? দেখ ওদের দুইজনকে যতটুকু দেখেছি ওরা কিন্তু খুব ভালো। হ্যাঁ আহিল ফ্লার্ট করত। কিন্তু ভার্সিটিতে আসার পর আর কোন মেয়ের সাথে দেখিনি। ওয়াসিম সত্যি খুব ভালো খুব মিশুক।

মেহেরঃঃ- তোরা সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে দেখ। ভালবাসা পাওয়া কিন্তু অনেক কঠিন। আর যদি পেয়েও হারিয়ে ফেলে তাহলে তার মতো হতভাগা আর নেই।

নূরঃঃ- ভালবাসা মন থেকে হয়। একবার নিজের মনকে জিজ্ঞেস কর সে কি চাই। বাকিটা তোদের উপর। আর যদি হয়ে যায়। তাহলে দুই ফকিন্নি মিলে ডাবল ট্রিট দিবি।

আমরিন-সিমাঃঃ- আগে হোক।

তারা গেল ক্লাসে। ক্লাস শেষে আমরিন আর সিমা বারবার বাইরে দেখছে আহিল ওয়াসিম আছে নাকি? কিন্তু তারা নেই। বাইরে বেরিয়ে দেখে সেখানেও নেই। আগে তাদের থেকে লুকিয়ে থাকত আর এখন তাদেরই খুঁজছে। সিমা পার্কিং এরিয়ায় দিকে চোখ যেতেই চোখ দুটো রসগোল্লা হয়ে গেল। আমরিন সিমাকে এমন অবস্থায় দেখে সেও সেদিকে তাকিয়ে দেখে তার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। আহিল ওয়াসিম পার্কিং এরিয়া তাদের সাথে দুইটা মেয়ে। খুব হেসে হেসে কথা বলছে। আহিল ওয়াসিম আড়চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে তাদের রিয়েকশন দেখছে আর হাসছে। সিমা চোখ কচলিয়ে আবার দেখতে লাগলো।

সিমাঃঃ- আমার চোখে কোন সমস্যা হয়েছে নাকি তুইও তা দেখছিস।

আমরিনঃঃ- আমিও তা দেখছি রে।

আহিল ওয়াসিম জীপে উঠে মেয়ে দুইটার সাথে চলে গেল। সিমা আমরিন হা হয়ে তাদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে।

ওয়াসিমঃঃ- তোর আইডিয়া কাজে আসলো।

আহিলঃঃ- এখন শুধু দেখব ওদের রিয়েকশন কেমন হয়।
.
.
.
ভার্সিটির ক্যাম্পাস এরিয়ায় সবাই একত্রিত হলো।

নিহাল স্যারঃঃ- প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ আসা করি সবাই ভালো আছেন। আপনারা হয়তো জানেন প্রতি বছর আমাদের ভার্সিটিতে প্রতিযোগিতা হয়। এই প্রতিযোগিতা বিভিন্ন খন্ডে বিভক্ত থাকবে। শুরু শক্তি নয় বুদ্ধিও প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিযোগিতা তিনদিন পর শুরু হবে। আশা করি সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন। প্রতিযোগিতা কি হবে সেটা সারপ্রাইজ। আর এই প্রতিযোগিতা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তার দায় দায়িত্ব আমার। যদি কারো কোন প্রশ্ন থাকে বা কিছু বলার থাকে তাহলে আমাকে জানাতে পারেন।

আফরান গুটিগুটি পায়ে নূরের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। কানে ফুহ্ দিল। আচমকা নূর কেঁপে উঠল।

আফরানঃঃ- হেই চাশমিশ। গেট রেডি টু লুজ। এন্ড বি প্রিপেয়ার্ড টু বি টর্চার্ড।

নূরঃঃ- (টর্চার তো আপনার প্রতিযোগিতায় করব। অভদ্র পান্ডা, বিলাতি বক।) ওহ তাই। লেটস সি।

.
.
.

চলবে

😠 Ragging To Loving 😍
Part:: 16
Writer:: Ridhira Noor

আজ তিন দিন ধরে আমরিন সিমা যখনই আহিল ওয়াসিমের সাথে কথা বলতে যায় তারা ইগনোর করে চলে যায়। ইদানিং তাদের সবসময় দুইটা মেয়ের সাথে দেখা যায়। হেসে হেসে কথা বলে। আমরিন সিমা প্রথম দিকে খুব একটা পাত্তা না দিলেও এখন প্রচুর বিরক্ত আর রাগ লাগে। মনে মনে ওদের দুইজনের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করে।

আজ প্রতিযোগিতা শুরু হবে। তাদের সব রুলস নিহাল স্যার জানিয়ে দিল।

নিহাল স্যারঃঃ- সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা আর ধন্যবাদ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য। আজকে হবে ট্রেজার হান্ট। অর্থাৎ আপনাদের কিছু ধাঁধা দেওয়া হবে। প্রত্যেক ধাঁধা সমাধান করতেই ধাঁধার উত্তরের সাথে একটি পতাকা পাবেন। এমন করে আপনাদের তিনটি ধাঁধা সম্পূর্ণ করতে হবে। সব ধাঁধা সমাধান করার পর যেই পতাকা পাবেন সেই পতাকায় একটি করে ক্লু থাকবে। সেই সব ক্লু মিলে একটা ধাঁধা হবে। সেটা হবে সর্বশেষ ধাঁধা। সেটা সমাধান করে হয়ে যাবে বিজয়ী। সময় দুই ঘন্টা। আর এটা দলগত ভাবে। প্রত্যেক দলে পাঁচজন থাকবে।

নূরঃঃ- স্যার আমরা তো ছয়জন। আর আমরা একে অপরকে ছাড়া অংশগ্রহণ করতে পারব না।

আফরানঃঃ- স্যার আমরাও ছয়জন। আর সবকিছু একত্রেই করি। তাই আমাদের পক্ষেও একজন ছাড়া সম্ভব না।

নিহাল স্যারঃঃ- ঠিক আছে তাহলে ছয়জন করে দল করেন।

নিহাল স্যার প্রত্যেক দলকে একটি করে ধাঁধা দিল। “ইউর টাইম স্টার্ট নাও।” সবাই তাদের ধাঁধা পড়তে লাগলো।

নূরঃঃ- লাল কালি দিয়ে লেখা “এটা এমন এক বস্তু যা থাকে হারে হারে, অন্যকে দিলে কমে না বরং আরো বাড়ে” এটা আবার কেমন ধাঁধা। দিলে কমে না বরং আরো বাড়ে?

সিমাঃঃ- থাপ্পড়। যেমন মনে কর আমি তোকে থাপ্পড় দিলাম। কিন্তু আমার মন ভরে না। আমি আরো দিব। এর মানে কমে না আরো বাড়ে।

নূরঃঃ- তোরে আমি থাপরাইয়া মুতাই দিমু।

সিমাঃঃ- তোরে লাত্থাইয়া হাগাই দিমু।

নূরঃঃ- তোরে ঘুসি দিয়া পাদাই দিমু।

পুষ্পঃঃ- বোইন থাম। আর বেশি দূর যাস না। নাইলে আমি এক্ষুনি বমি কইরা দিমু।

আলিফাঃঃ- তোর কি জ্ঞান নেই ফকিন্নি। থাপ্পড় কেমনে বাড়ে।

আমরিনঃঃ- ওয়াও আলু তুই তো অনেক ইন্টেলিজেন্ট। ধাঁধা সমাধান করে দিলি। আরে ধাঁধার উত্তর জ্ঞান। জ্ঞান অন্যকে দিলে কমে না বরং আরো বাড়ে।

মেহেরঃঃ- কিন্তু জ্ঞান পাব কোথায়? (সবাই ভাবতে লাগলো) জ্ঞানের ভান্ডার…..

“লাইব্রেরি” (একসাথে চিল্লিয়ে উঠলো) সবাই দৌড়ে গেল লাইব্রেরি। এত্তো গুলো বই আর বুকসেল্ফ। এখানে ফ্লাগটা পাবে কোথায়? ছয়জন ছয় দিকে ছড়িয়ে গেল। পুরো লাইব্রেরি খুঁজতে লাগলো। অবশেষে আলিফার চোখ পড়ল লাইব্রেরির সবচেয়ে বড় বুকসেল্ফে। সেখানে পতাকা ঝুলানো। দৌড়ে গিয়ে পতাকা নিয়ে বাকিদের দিল।

আফরানঃঃ- সবুজ কালি দিয়ে লেখা “জঙ্গল নয় চিড়িয়াখানা নয়, তবুও নানা ধরনের প্রাণী সেখানে রয়” নানা ধরনের প্রাণী সব তো আমার সাথে। (বাকি বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে)

ইয়াশঃঃ- হারামি কি বলতে চাস তুই। আমরা নানা ধরনের প্রাণী?

আফরানঃঃ- সেটা আবার বলতে হয়। বন্ধু মানে বিদেশি কুত্তা। আর তোরা তো মানে কি বলতাম।

আহিলঃঃ- উষ্টা মারমু তোরে। তোদের চাটনি বানিয়ে বায়োলজি ল্যাবে দিয়ে আসব। ওখানে তোদের পরিক্ষা নীরিক্ষা করে জানবে তোরা কোন গ্রহ থেকে এসেছিস।

রিহানঃঃ- (আহিলের মাথায় টোকা মারল) ইউ আর গ্রেট ইয়ার। আরে নানা ধরনের প্রাণী বায়োলজি ল্যাবে পাওয়া যায়। সাইন্সের স্টুডেন্টরা তাদের প্রাকটিকাল করে বায়োলজি ল্যাবে।

আরিফঃঃ- তো দাঁড়িয়ে আছিস কেন? দৌড়া হারামিস।

বায়োলজি ল্যাবে গেল। চারদিকে কাঁচের বাক্সের মধ্যে বিভিন্ন প্রাণী। ব্যাঙ, ইঁদুর, খরগোশ আরো অনেক প্রাণী।

ওয়াসিমঃঃ- ভাই রে ভাই এগুলো কি? ইইই ওয়াক। তোরা থাক আমি যায়। এগুলো দেখে আমি বেহুশ হয়ে পড়ে থাকব।

আফরানঃঃ- চুপচাপ চল আমাদের সাথে। যেই করে হোক জিততে হবে। আর তুই বেহুশ হলে ওরা চারজন তুলে নিয়ে যাবে। এখন ফ্লাগ খুঁজ।

খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে পেয়ে গেল। সেখানে পরবর্তী ধাঁধা লাল কালি দিয়ে লিখা। “সাত সাগরের রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা পেয়েছি”

ওয়াসিমঃঃ- শহীদ দিবসের গান কেন? এটা আবার কেমন ধাঁধা?

রিহানঃঃ- স্যারকে বল ফুল নিয়ে শ… শহীদ! শহীদ আরে শহীদ মিনার। ভার্সিটির শহীদ মিনারে পাব নেক্সট ক্লু। চল।

আহিল আগের পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর বাকিরা গেল শহীদ মিনারে। নূর আর বাকিরা তাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এলো মাঠে। আমরিন দেখে আহিল দাঁড়িয়ে আছে তার হাতে ধাঁধার ফ্লাগ।

আমরিনঃঃ- এই শোন। ওই দেখ আহিলের হাতে ফ্লাগ। নিহাল স্যার বলেছিল সর্বশেষ ধাঁধা সমাধান করতে সব ধাঁধা একত্রিত করতে হবে।

পুষ্পঃঃ- তো?

আমরিনঃঃ- আরে আমি যদি আহিল থেকে ওই ফ্লাগ নিয়ে নেই তাহলে ওরা ধাঁধা সমাধান করতে পারবে না। আর আমরা জিতে যাব।

আলিফাঃঃ- এটা তো চিটিং।

সিমাঃঃ- আরে কিসের চিটিং? স্যার তো এমন কোন রুলস বলে নাই। আমু যা আমি আছি তোর সাথে।

আমরিন গিয়ে সোজা আহিলের সামনে দাঁড়ালো। আহিল এক মুচকি হাসি দিয়ে কিছু বলতে যাবে তখন প্লানিং এর কথা মনে করে আমরিনকে ইগনোর করতে লাগলো। আমরিন রাগে ফুঁসছে। এক দুষ্টু হাসি দিয়ে আহিলের আরো কাছে যেতে লাগলো। আহিলের বুকের ভেতর ধুকপুকানি শুরু হয়ে গেল। আমরিন এক ধ্যানে তার চোখে তাকিয়ে আছে। আহিলও যেন ডুবে গেল সেই চোখে। আমরিন আস্তে করে হাত
থেকে ফ্লাগ নিয়ে নিল। সামনে থেকে সরে খানিকটা দূরে গিয়ে দাঁড়াল। আহিলের দিকে হেসে হাত উঠিয়ে ফ্লাগ দেখাল। আহিল তার হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে আমরিন তার হাত থেকে নিয়ে নিল।

আহিলঃঃ- দিস ইজ নট ফেয়ার।

আমরিনঃঃ- এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ এন্ড ওয়ার।

আহিলঃঃ- ইজ দিস লাভ?

আমরিনঃঃ- (হতচকিত হয়ে গেল) নো। ইটস ওয়ার। (ভাব নিয়ে বলল)

আহিলঃঃ- (আমার তরফ থেকে শুধুই লাভ)

সিমা দৌড়ে এসে আমরিনের হাত থেকে ফ্লাগটা নিল। নিয়ে নাচানাচি করতেই তার কাঁধে কেউ টোকা দিল। পিছন ফিরে দেখে ওয়াসিম। ওয়াসিম তার হাত থেকে ফ্লাগ ছিনিয়ে নিল।

ওয়াসিমঃঃ- মিস পিংকি চিটিং ইজ নট ফেয়ার। নেদার ইন লাভ নর ইন ওয়ার। (সিমা মুখ লটকিয়ে ফেলল। ওয়াসিম মৃদু হেসে চলে গেল)

আমরিন সিমা তাদের ভেঙচিয়ে চলে গেল।

নূরঃঃ- এবার আমাদের ধাঁধা সমাধান কর। সবুজ কালি দিয়ে লেখা “খুঁজছ যা স্থলে, পাবে তা শুধু জলে” এখানে জল কোথায়? এভাবে একসাথে পাব না। আলাদা হয়ে খুঁজ সবাই।

.
.
.

চলবে।