😠 Ragging To Loving 😍
Part:: 3
Writer:: Ridhira Noor
বারান্দায় রেলিং ধরে বাহিরের প্রকৃতি উপভোগ করছে আর কফি খাচ্ছে। টি-শার্ট আর ট্রাউজার পরা চুল গুলো এলোমেলো করে কপালে পড়া। হালকা বাতাসে চুল উড়ছে। হঠাৎই ঠাস করে রুমের দরজা খুলল। পিছন ফিরে দেখি এক কুত্তা না মানে আমার বন্ধু।
:::: কি রে তুই এখানে কি করছিস তাও এতো সকাল সকাল।
:::: দোস্ত,,,খাস তুই গোস্ত। তুই আমার বন্ধু,,, আমি ওয়াসিম তুই ছন্দু।
:::: ও হ্যালো! আমার যথেষ্ট সুন্দর নাম আছে আফরান আহমেদ। ছন্দু মন্দু নন্দু এগুলো কি ভাই? আর তোর এই সব কি কবিতা বলিস।
ওয়াসিমঃঃ- আরে ইয়ার আমি জানি তোর নাম আছে কিন্তু কবিতার সাথে তো মিলতে হবে না কি। রিহান কই? আর তুই এখনো রেডি হলি না কেন?
আফরানঃঃ- রিহান ওর রুমে ঘুমোচ্ছে। আর আমি মাত্রই ঘুম থেকে উঠলাম।
ওয়াসিমঃঃ- তোরা ভুলে গেছিস আজ রেস আছে। চ্যালেঞ্জটা যদি জিতে যায় তাহলে আর ওর ফালতু কথা শুনতে হবে না আর না ওর ফালতু চেহারা দেখতে হবে। (আফরানের চেহারার বিরক্তি ভাব প্রকাশ পাচ্ছে) আচ্ছা চল রিহানকে আগে লাত্থি মাইরা তুলি।
আফরান আর রিহান চাচাতো ভাই। আফরান রিহানের এক মাসের বড়। আফরান আর ওয়াসিম গেল রিহানের রুমে। কম্বল দিয়ে পুরো শরীর ঢাকা। কম্বলে মুড়িয়ে হুধুম খেলানি দিল।
ওয়াসিমঃঃ- কিরে কোন সাড়াশব্দ নেই। মইরা গেল নাকি? (কম্বল উল্টিয়ে দেখে বালিশ)
রিহান পিছন থেকে তাদের উপর কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে বেডের উপর ফেলে ইচ্ছা মতো খেলাতে লাগলো। আর বলতে লাগলো “হারামির দল আমাকে মারতে এসেছিস। আর তুই আমার ভাই নাকি শত্রু। লে মাইর।” আফরান উঠে ওয়াসিমের সাথে রিহানকে পেছিয়ে দুইজন কেই মারতে লাগলো।
আফরানের মাঃঃ- উফফফ কি হচ্ছে টা কি? ঘরের ছাদ ভেঙে ফেলবি নাকি?
কম্বলের নিচ থেকে রিহান বলে উঠল –
বড় মা দেখ তোমার ছেলে আমাকে মেরে ফেলছে।
আফরানের মাঃঃ- ছাড় ওকে। ১০ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়ে নিচে আয়। আর একটা শব্দ যদি শুনি তাহলে দেখবি। (বলে চলে গেল)
রেডি হয়ে খাবার খেয়ে বেরিয়ে পড়ল। সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ল কারণ রেস ভার্সিটিতে হবে। আহিল জীপ নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। ওয়াসিম রিহান আহিলের সাথে জীপে গেল। আফরান রেসের জন্য কার নিল। বেরিয়ে পড়ল গন্তব্যে। ভার্সিটিতে গিয়ে পৌঁছাতেই তাদের শত্রু সোহেল রিমন আর রানা দাঁড়িয়ে আছে।
রানাঃঃ- রেসটা হবে ____ থেকে ঘুরে ভার্সিটির মাঠে এক চক্কর দিবে। আর যে জিতবে সে হেরে যাওয়া পার্টিকে যা বলবে তাই করতে হবে।
আফরানঃঃ- তাহলে শুরু করা যাক।
এক কারে রিহান আর আফরান অন্য কারে রিমন আর সোহেল। বাকিরা ভার্সিটির মাঠেই অপেক্ষা করছে। কাউন্ট ডাউন শুরু করতে রেস শুরু।
_______________________________
কলিং বেল বাজতেই নূর গিয়ে দরজা খুলল। একটা দুইটা না বরাবর পাঁচটা ডায়নি দাঁড়িয়ে আছে। নূর এক জোর পূর্বক হাসি দিয়ে হুট করে দরজা বন্ধ করে দৌড় দিল। নূরকে দৌড়াতে দেখে তন্বি গিয়ে দরজা খুলে দেখে পুষ্প, আমরিন, সিমা, আলিফা, মেহের দাঁড়িয়ে আছে। তন্বির আর বুঝতে বাকি রইল না নূরের দেরি হয়েছে বিধায় দৌড়ে ঘরে গেল। নূর আবার দৌড়ে এলো।
নূরঃঃ- এই চল চল তোদের গোল মিটিং এর জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে।
আলিফাঃঃ- চোরের মার বড় গলা। নিজে দেরি করে আমাদের বলছে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
নূরঃঃ- এখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলে কে দেরি করছে?
আর কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে পড়ল। তাদের সাথে তন্বিও বের হলো। মাঝ পথে কলেজে চলে গেল আর ওরা ভার্সিটিতে এলো।
নূরঃঃ- শোন তোরা ভিতরে যা। আমার কলম লাগবে আমি কিনে আনছি। (বাকিরা ভিতরে গিয়ে একপাশে দাঁড়াল।)
_______________________________
আফরানের কার অনেকটা এগিয়ে আছে তাদের কিছু দুরত্বে পিছনে সোহেল। আফরান পাশ কাটিয়ে ভার্সিটির গেইটে প্রবেশ করবে তার আগেই হঠাৎ কেউ একজন সামনে চলে আসায় সাথে সাথে ব্রেক লাগায়। সোহেল পাশ দিয়ে ভার্সিটিতে প্রবেশ করে।
রিহানঃঃ- হোয়াট দ্যা হেল ম্যান। এখন আমরা হেরে যাব। আর তা আমি মানতে পারব না। আর যায় হোক সোহেল থেকে হার কখনো না।
আফরানঃঃ- হার আর আফরান? নেভার।
পাশ কাটিয়ে ফুল স্পীডে ড্রাইভ করে ভার্সিটিতে প্রবেশ করল। স্পীড সর্বোচ্চ বাড়িয়ে দিল। ভার্সিটির সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সোহেল আর আফরান প্রায় কাছাকাছি কিন্তু সোহেল এগিয়ে আছে। ফিনিশিং লাইন সামনে দেখা যাচ্ছে। আফরান সর্ব জোর লাগিয়ে ড্রাইভ করে সোহেল থেকে এগিয়ে এলো আর ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে বিজয় প্রাপ্তি করল। আফরান আর তার বন্ধুদের মুখে যেমন বিজয়ের হাসি উল্লাস তেমনই সোহেল রিমন আর রানার চেহারায় রাগ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
আহিলঃঃ- রেস আমরা জিতেছি। এখন আমরা যা বলব তোদের তাই করতে হবে।
আফরানঃঃ- এতো কিছু লাগবে না শুধু আমাদের থেকে দূরে থাকবি আর আমাদের কোন ব্যাপারে নাক গলাবি না। আর হ্যাঁ তুই ভালো করেই জানিস আফরান কিছুতেই হারে না। তো কোন কিছুতে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার আগে একটু ভেবে নিস। (সোহেলের কাঁধে হাত রাখতেই সোহেল কাঁধ সরিয়ে নেই। আফরান হাত ঝেড়ে সানগ্লাস পড়ে চলে এলো। সোহেল রাগে ফুঁসতে লাগলো।)
নূর ভার্সিটিতে ঢুকতেই দেখে ওকে ছাড়া ফকিন্নি গুলো সেলফি তুলছে। রাগী লুক নিয়ে গেল কাছে। কোমরে হাত দিয়ে তাদের সোজাসুজি দাঁড়ালো।
নূরঃঃ- তোদের সাহস তো কম না আমাকে ছেড়ে সেলফি তুলিস। তোদের তো আমি….. (বলেই তাদের মাঝে ধাক্কাধাক্কি করে ছবি তোলার জন্য দাঁড়ালো।)
সিমাঃঃ- সর শাকচুন্নি। দূরে গিয়ে মর। (এক ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেই মাঝ থেকে।)
সরে যেতে কারো সাথে ধাক্কা লাগে নূর তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নেই। ভয়ে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। নূর মনে মনে বলতে লাগলো “আমি শহীদ হয়ে গেলাম। বিদায় পৃথিবী। চলে যাচ্ছি ওপারে। আমার আত্মা হাওয়ায় ভাসছে।” কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করে চোখ এক চোখ খুলে দেখে সানগ্লাস পড়া একটি ছেলে তাকে ধরে আছে।
আফরানঃঃ- ও হ্যালো মিস চাশমিশ উঠবে নাকি ফেলে দিব? (নূর তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়ালো।) এক চশমা দিয়ে মনে হয় কম দেখ? আরও দুই তিনটা চশমা লাগিয়ে নিও।
নূরঃঃ- ও হ্যালো! চশমা আমার না আপনার প্রয়োজন। চোখে যে কালো পর্দা দিয়ে আছেন আগে তা সরান। তারপর দেখতে পারবেন।
পুষ্পঃঃ- (নূরকে টেনে পিছিয়ে নিলাম) আরে চুপ কর মা। একটু শান্ত হো। ওরা আমাদের সিনিয়র। (কানে কানে ফিসফিস করে)
নূরঃঃ- তো আমি কি করব?
আলিফাঃঃ- তুই না এখন এরা করবে। আমাদের র্যাগিং। আমাদের ভার্সিটির ২য় বর্ষে পড়ে। এই ভার্সিটির ট্রাস্টির ছেলে। ওদের ফুল গ্যাং আছে। ভার্সিটির সিনিয়ররাও এদের ভয় পায়।
নূরঃঃ- (একটি জোর পূর্বক হাসি দিল) হাই! (এক ঢোক গিলল) বাই। (বলে যেতে নিলে আফরান থামিয়ে দেয়)
আফরানঃঃ- ওয়েট। তোমাদের তো আগে দেখেনি। ফ্রেশারস নাকি? কালকে তো দেখিনি।
আমরিনঃঃ- জ্বি। আসলে কালকে একটা প্রবলেমের জন্য আসিনি।
আহিলঃঃ- ওহ্ তাই? (বলে আমরিনের দিকে এগিয়ে এলো) তাহলে তো ভার্সিটিতে তোমাদের ওয়েলকাম করতে হয়।
ওয়াসিমঃঃ- হেই ইউ পিংকি? (সিমা পিংক কালারের জামা পড়া ছিল।)
সিমাঃঃ- ওয়াও আপনি আমার নাম কি করে জানেন? জ্যোতিষী নাকি?
ওয়াসিমঃঃ- হোয়াট? এখন তুমি বল না তোমার নাম নীলা। (মেহেরকে উদ্দেশ্য করে। কারণ সে নীল রঙের জামা পড়া)
মেহেরঃঃ- বাহ আপনি দেখি সত্যি জ্যোতিষী।
রিহানঃঃ- তোমাদের নাম সত্যি পিংকি আর নীলা?
সিমা-মেহেরঃঃ- না। (দুইজনই ফিক করে হেসে দিল। তাদের হাসিতে নূর পুষ্প আমরিন আলিফা সহ হেসে দিল।)
আফরানঃঃ- তোমাদের কি আমাদের হাসির পাত্র মনে হয়? (রেগে বলল)
মূহুর্তে তাদের হাসি উধাও হয়ে গেল।
চলবে
😠 Ragging To Loving 😍
Part:: 4
Writer:: Ridhira Noor
আফরানের রাগী চেহারা দেখে পরিবেশে নিরবতা বিস্তার করছে। কারো মুখে সাড়াশব্দ নেই।
আহিলঃঃ- হেই ইউ লিসেন টু মি। (অনেকটা রাগী শব্দে বলল)
আমরিনঃঃ- ইউ আর মাই লাভ জানো তুমি। (বলেই মুখ চেপে ধরল।)
নূর সহ বাকি বান্ধবীরা মিটিমিটি হাসছে। নূর আর না পেরে জোরেই হেসে দিল। নূরের হাসি যেন আফরানের রাগ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। আফরান সাধারণত দুষ্টু প্রকৃতির। কিন্তু তা শুধু পরিবার আর বন্ধুদের জন্য। তার রাগ খুব কমই দেখা যায়। কিন্তু যখন রাগ করে তা সাত আসমান উপরে থাকে।
আফরানঃঃ- খুব তো হাসি পাচ্ছে তাই না? হাসিটা ক্ষনিকের জন্য। আর ভুল না আমরা তোমাদের সিনিয়র। আর ইতিহাসের এটাই নিয়ম সিনিয়ররা জুনিয়রদের র্যাগিং করে। আর আমরা বা কেন পিছিয়ে যাব। এই প্রথা আমরাও এগিয়ে নিয়ে যায়। (এক ভিলেন মার্কা হাসি দিল।)
নূরঃঃ- র্যাগিং করবেন তাই না। বের করছি আপনার র্যাগিং। (মনে মনে)
রিহানঃঃ- এন্ড ইউ (আমরিনকে) খুব শখ না গান গাওয়ার। এখন তুমি গান গাইবে।
আফরানঃঃ- আর তুমি নাচবে (নূরকে) আর বাকি জনগণ তোমরা দেখতে থাক।
নূর আর আমরিন যেন আকাশ থেকে পড়ল। দুইজনই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে একে অপরের দিকে। সিমা পুষ্প আলিফা মেহের তারাও হতভাগ। নূর আমরিনকে চোখ টিপি দিল। বাকিদের বুঝতে আর বাকি রইল না নূর নিশ্চয় কোন খুরাফাতি করবে। তাই তারা নিরবতা পালন করে মুখ টিপে হাসছে।
ওয়াসিমঃঃ- চল গুরু,,, হো যা শুরু।
আমরিন হালকা কেশে গলা ঠিক করছে। নূর ওড়না কাঁধের একপাশ হয়ে কোমরে বাঁধলো।
আমরিনঃঃ- হাম পে ইয়ে কিসনেএএএএএএ কালা রাং ডাআআলাআআআ খুশি নে হামারে হামেএএএ……. (চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে দুই হাত ছড়িয়ে গান গাইছে)
নূর হাত পা ছড়িয়ে নাচছিল। এক হাত এগিয়ে একবার ডান পাশে যায় আবার অন্য হাত এগিয়ে বাম পাশে যায়। তারপর ঘুরতে থাকে।ঘুরতে ঘুরতে হাত গিয়ে লাগলো আফরানের পিঠে। (ঠাসসসস)
আফরানঃঃ- মারডালা আআআ মারডালা।
পুষ্পঃঃ- বাহ্ আপনি তো ভালো গান গাইতে পারেন। চলেন একসাথে গান। হামপে ইয়ে কিসনেএএএএ…..
রিহানঃঃ- ওহ জাস্ট শাট আপ।
সবাই চুপ হয়ে গেল। নূর কাচুমাচু হয়ে গেল। এটা করার কোন উদ্দেশ্য তার ছিল না। সে শুধু হা পা ছড়িয়ে তাদের ভয় দেখাতে চেয়েছিল। আফরানের চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছে।
আফরানঃঃ- হাউ ডেয়ার ইউ। তুমি ইচ্ছে করে এমন করেছ।
নূরঃঃ- ভয় পেলে চলবে না নূর (মনে মনে) Tit for tat. আপনি যেমন করেছেন তেমন ফল পেয়েছেন। আপনি না আমার নাচ দেখবেন। তাই নাচ দেখালাম। আসছে র্যাগিং করতে। এখন থেকে র্যাগিং করতে আসলে তার যোগ্য জবাব পাবেন।
আফরানঃঃ- ওহ রিয়েলি! দেন লেটস সি। জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।
আফরান রিহান আহিল ওয়াসিম চলে গেল। নূর আর তার বান্ধবীরা এখনো মাঠে দাঁড়িয়ে আছে। নূর রাগী দৃষ্টিতে তাদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ চিন্তার ভাব নিয়ে জিজ্ঞেস করল।
নূরঃঃ- এক মিনিট তোরা জানলি কি করে? ওরা আমাদের সিনিয়র। আর আমাদের র্যাগিং করবে। তোরা তো ওদের চিনিস না।
সিমাঃঃ- যখন তুই বাইরে চিলি তখন এই ছেলেটা যে তোর সাথে ধাক্কা খেল ওর আর আরেকজনের কার রেস হয়েছিল। আমাদের ভার্সিটির একজন মেয়েকে জিজ্ঞেস করাই সে বলল।
আলিফাঃঃ- ভার্সিটিতে নাকি ওদের কথায় চলে। ট্রাস্টির ছেলে হওয়ায় কেউ ওদের কিছু বলতে পারে না। কিন্তু কারো সাথে তেমন কথা বলে না। আর যদি কারো সাথে কোন ঝামেলা হয় তাহলে তার র্যাগিং করে। রেসটা হয়েছিল তাদেরই ক্লাসের একজনের সাথে। কোন এক ঝামেলার কারণে। কারণটা কেউ জানে না।
নূরঃঃ- ওই খাচ্চর খাটাশ পোলাটা কোন কার চালাচ্ছিল?
মেহেরঃঃ- ব্লু কার।
নূরঃঃ- তার মানে সে আমাকে আগে থেকেই মারার প্লান করছে।
সবাই একসাথে চিল্লিয়ে উঠলো “মানে?”
নূরঃঃ- আরে আমি যখন ভিতরে আসছিলাম ব্লু কার হঠাৎ ফুল স্পীডে আমার সামনে চলে এলো। ভাগ্যিস আরেকটুর জন্য বেঁচে গেলাম। যেই না ঠাডা ফেলতে যাব ওরিম্মা দেখি মশাই গায়েব। তারপর ভিতরে এসে এই কাহিনি। আচ্ছা বাদ দে এসব। চল ভার্সিটি দেখি।
তারপর তারা পুরো ভার্সিটি ঘুরে দেখল। আজ তাদের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস হলো। সকল শিক্ষক শিক্ষিকার সাথে পরিচয় হলো। তাদের মধ্যে একজন স্যার খুবই ইয়াং ক্রাশ খাওয়ার মতো। অনেকে তো খেয়েও ফেলছে। স্যারের কথায় বোঝা গেল তিনি একদম স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড। যা বলবে সরাসরি। স্যারের নাম নিহাল হোসেন। ক্লাস শেষে সবাই বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল। বের হতেই আবার তাদের মুখোমুখি হলো। জ্বি আফরান আর নূর। একে অপরের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে যেন এক্ষুনি একজন আরেকজনকে পঁচা টমেটো মারবে। মনে মনে একে অপরের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করছে।
.
.
.
পরের দিন কলেজে_________________
আজ কোন ঝামেলা হয় নি। সবাই ভালো মতো ক্লাস করে নিল। নিহাল স্যার ক্লাসে আসতেই মেয়েরা যেন হাওয়ায় ভাসছে। একেকটার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে চোখ খুলে নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে। কেউ চুল ঠিক করছে, কেউ লিপস্টিক দিচ্ছে। স্যার তাদের পাত্তা না দিয়েই ক্লাস করে চলে গেল। নূর ও পুষ্প প্রথমে লাইব্রেরি গেল তারপর ক্যান্টিনে যাবে আর বাকিরা গেল ক্যান্টিনে। ক্যান্টিনে আফরান আর বাকিরা আগে থেকেই ছিল। রিহান আহিল পাশাপাশি তাদের সামনাসামনি আফরান ওয়াসিম। নূর ও পুষ্প ক্যান্টিনে গেল। নূর এগিয়ে আসতেই রিহান পা বাড়িয়ে দেয়। নূরের পা লেগে পড়ে যেতেই আফরান ধরে ফেলে। চোখ মুখ খিচকে ফেলে।
আফরানঃঃ- হাই চাশমিশ! (নূর চোখ খুলে দেখে আফরান তাকে কোমর জোড়ে ধরে আছে) তোমাকে বলেছিলাম না চশমা আরও দুই তিনটা লাগিয়ে নিও। দেখ একটা দিয়ে কাজ হচ্ছে না। লাগলে আমাকে বল। (বলে নূরকে ছেড়ে দিতেই নিচে মেঝেতে পড়ে যায়।)
নূরঃঃ- আহ্হহহ আমার কোমর ভেঙে গেল গো……
পুষ্প সজোরে রিহানের পায়ে পা দিল। ব্যাথায় রিহান চিৎকার করে উঠলো।
পুষ্পঃঃ- পা টা বেশি লম্বা হয়ে গিয়েছে। তাই যেদিক সেদিক ছড়িয়ে পড়ছে। (শান্ত গলায় বললেও চেহারায় রাগ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। পুষ্প হাত বাড়িয়ে নূরকে তুললো।)
নূরঃঃ- আমাকে চশমা না দিয়ে উনাকে একটা দড়ি দিন। যাতে পা গুলো বেঁধে রাখতে পারে।
আফরান দাঁড়িয়ে কিছু বলতে যাবে তারপর আগেই নূর চুল আফরানের মুখের ওপর ঝাড়া দিয়ে সেদিক থেকে সরে গেল। গিয়ে বাকিদের সাথে বসল।
ওয়াসিমঃঃ- রিহান? দড়ি লাগবে?
রিহানঃঃ- তুই চুপ কর। (পুষ্পর দিকে তাকিয়ে কটমট করে বলল) পা কার বেড়েছে তা সময় বলে দিবে।
মেহেরঃঃ- তুই ঠিক আছিস?
নূরঃঃ- কেমনে ঠিক থাকব। ওই খাচ্চর খাটাশ খবিশ পোলা আমার কোমর ভেঙে দিল।
আলিফাঃঃ- তুই কি চোখ হাতে নিয়েছিলি? দেখে হাটতে পারিস না।
নূরঃঃ- ওই তুই কার সাইডে। আমার নাকি ওই খাচ্চরের? আর ওরা ইচ্ছে করে এমন করছে।
আমরিনঃঃ- আচ্ছা তোরা বস আমি ওয়াশরুম থেকে আসছি।
আমরিন ক্যান্টিনের বাইরে গেল। তার পিছে আহিলও গেল। আমরিন ফিরে আসতেই আহিল পিছন থেকে বলে উঠল।
আহিলঃঃ- হাই মাই লাভ। (আমরিন পিছনে ফিরে দেখে আহিল। তারপর আসে পাশে তাকিয়ে চলে যেতে নিলে আহিল সামনে এসে দাঁড়ায়।) তোমাকেই বলছি মাই লাভ। (হালকা ঝুকে)
আমরিনঃঃ- লাভ মানে? কার লাভ? কিসের লাভ? কেমন লাভ? কিভাবে লাভ?
আহিলঃঃ- কুল ডাউন। এত প্রশ্ন একসাথে। আরে ভুলে গেলে? কালই তো বললে আর আজ ভুলে গেলে? (আমরিন প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে তাকানো দেখে আহিল আবার বলতে শুরু করল) কাল যখন বলেছিলাম “হেই ইউ লিসেন টু মি” তখন তুমিই তো বললে “ইউ আর মাই লাভ জানো তুমি”।
আমরিন চোখ বড় বড় করে তাকালো।
আমরিনঃঃ- ওইটা গানের লিরিক্স ছিল।
.
.
.
চলবে
বিঃদ্রঃ ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন 😊