অতিরিক্ত চাওয়া পর্ব : ১০+১১

0
1889

অতিরিক্ত চাওয়া ?
নাবিলা ইষ্ক
পর্ব : ১০+১১

দাত ব্রাশ করতে করতে রুফটুপে পৌছালাম ! ঘুমে আমি ঢুলুঢুলু! ওয়ালে হ্যালান দিয়ে চোখ বুঝে ব্রাশ করছি! দাত ব্রাশের পরিণতি নিচে ফালাতে যেতেই চোখ গেলো দূরবর্তী বিল্ডিং এর ছাদে! হট বডি রেডি করছেন প্রিন্স তৃষ্ণা স্যার! পাশেই এক মহিলা কাপড় মেলছেন! মহিলার দুই সাইডে দুটো বড়বড় আপু! একটি ওই বিল্ডিং এর মালিকের মেয়ে আরেকটা তার চাচাতো বোন! দুটোই আড়চোখে আমার প্রিন্সকে চেকআউট করছে! হুহ আমার প্রিন্সকে চেকআউট করছে! এ্যা..এ্যা…
আমি ব্রাশ মুখে রাখা অবস্থাই বড়বড় চোখ করে তার পুশআপ করা দেখছি! সাথে দুই আপুর কুনজর! পুশআপ করেই যাচ্ছে! আরেহ পাশে মেয়েরা কুনজর দিচ্ছে সেদিকে পাত্তাই নেই! পচা প্রিন্স..! পচা স্যার!
চলে যেতে নিচ্ছিলাম তখনি কি মনে করে পিছনে ফিরতেই দেখি স্যার আমার দিকে তাকিয়ে বটেলে পানি খাচ্ছেন! আমি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলাম! তাতে তার বিন্দুমাত্র রিয়েকশান দেখলাম না! মিষ্টি হেসে ঠোঁট নাড়ালো.. ” গুড মর্নিং ”
হাহ পাদের মর্নিং! সাতসকাল বেলায় মুডটাই জেলাসীতে মাখিয়ে দিলো! আবার মর্নিং! মুখ বেকিয়ে নিচে চলে আসলাম!
কেন রে দাদা..? রূম নেই? সেখানে উলঙ্গ হয়ে পুশআপ কর! কে বারন করেছে! তারপরও অন্য মেয়েদের সামনে খালি শরীরে কেন এগুলো করবে! মিষ্টি জল দিয়ে স্যারের গোসল করা উচিৎ! কুনজর কেটে যাবে! হুম?
শুক্রবার তাই আজ বিল্ডিং এর সকল ভাই_বোন বাসায়! নিচতালায় থেকে সুবিধাই হয়েছে! বাহিরের দৃষ্য দেখতে পারি রূমে বসেই! বসে বসে অন্য বাড়ির আপুদের সাজগোজ দেখছি! আমাদের ড্রেসিং এ একেকজন নায়িকা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে! বিয়ে বাড়ি বলে কথা!
লেহেঙ্গা পড়েছে ৫ টা আপুই! অপ্সরাকেও হারিয়ে দেবে ৫ জন ই! আমারই কিছু ভালো লাগছে না!
১২ টা বাজদে চলল! এখন রেডি হতে না গেলে নির্ঘাত কপালে থাপ্পড় জুটবে! জিন্স_গেঞ্জি বের করলাম পড়ার জন্য! সাথে সাথেই স্যারের কথাটা কানে আসলো ” মেয়েদের মতো ড্রেস আপ পরিয়ো ” হাহ মেয়েদের মতো? ধুর!
বাবা লং কামিজ কিনে দিয়েছিলেন! একদিনও পরে দেখা হয়নি! আজ পরবো! ফ্রেস হয়ে ড্রেসটা পরে নিলাম! চুলগুলো স্ট্রিট করে পিঠে ছেড়ে দিলাম! ওরনাটা সাইডে নিলাম! আর সাথে তো আছেই আটা_ময়দা! মানে ওই টুকটাক সাজ! ফাউন্ডেশন, ম্যাড লিপস্টিক, আই সেড, আই মেকআপ, ব্লাশেছ..! ফুল কাভার হালকা হিলস পরলাম! এন্ড ডান!
রেডি হয়ে সোফায় বসে আছি আমি আর বাবা! সাজুগুজুতে ব্যস্ত মা আর বিল্ডিং এর আপুরা! এখনও কি সাজছে মাবুদ জানে! এতো মেকআপ কেনো লাগাচ্ছে? হালকা দিলেই তো ভালো লাগে! বাবার ফোন টিপছি আর আড়চোখে সকলের সাজগোজ দেখছি!
১ টার দিক বেড়িয়ে পরলাম! ৪ লাইন যেতেই পৌছালাম গৌন্তব্যে! তখনও ফোন টিপাচ্ছি! আইডিতি নানান লোকের স্ট্যাটাস দেখছি! ভিতরে ঢুকতেই গলার আওয়াজ কানে ভাসলো! স্যারের ভয়েসের মতো?
গান গাচ্ছে..? আমি দ্রুত ভিতরে ঢুকতেই দেখতে পেলাম! কিছু আপু আর ভাইয়াদের মাঝে স্যার গিটার নিয়ে সুর তুলছেন!… আমার দিক মিষ্টি হেসে তাকালেন! ঠোঁটের ইশারা করলেন.. ” ওয়াও “! আমার সাজগোজের পুরষ্কার ছিলো স্যারের রিয়েকশান! গাল দু’টি মনে হচ্ছে উচু হয়ে লাল হচ্ছে! আমি লজ্জা পাচ্ছি..হুহ! কিন্তু আমি রেগে আছি..!
গিটারটা টুংটাং বাজিয়েই গেতে শুরু করলেন! সবাই হাত তালি দিয়ে ঠান্ডা হয়ে রইলো স্যারের আওয়াজ শুনার জন্য….
♪♪♪♪♪♪♪♪♪
চাইনা মেয়ে তুমি অন্যকারো হয়ওও..
পাবে না কেউ তোমাকে তুমি কারো নয়ওও..
চাইনা মেয়ে তুমি অন্যকারো হয়ওও..
পাবে না কেউ তোমাকে তুমি কারো নয়ওও
তুমি তো আমারি জানো না হোওওওও..
এ হৃদয়? তোমারি হো ওওওও..
তোমাকে ছাড়া আমি বুঝি না কোনো কিছু যে আর..!
পৃথিবী জেনে যাক তুমি.. শুধু.. আ..মার!
তোমাকে ছাড়া আমি বুঝি না কোনো কিছু যে আর..!
পৃথিবী জেনে যাক তুমি.. শুধু.. আ..মার!
হৃদয়ের নিল আকাশে স্বপ্ন আমার ওড়ে..
ভেঙে যায় আমারি মন অভিমানী ঝড়ে!
হৃদয়ের নিল আকাশে স্বপ্ন আমার ওড়ে..
ভেঙে যায় আমারি মন অভিমানী ঝড়ে!
তুমি তো আমারি জানো না হোওওওও..
এ হৃদয়? তোমারি হো ওওওও..
তোমাকে ছাড়া আমি বুঝি না কোনো কিছু যে আর..!
পৃথিবী জেনে যাক তুমি.. শুধু.. আ..মার!
তোমাকে ছাড়া আমি বুঝি না কোনো কিছু যে আর..!
পৃথিবী জেনে যাক তুমি.. শুধু.. আ..মার!
সুখেরি প্রদিপ জ্বলে মনের উঠন জুড়ে..!
দুচোখে বৃষ্টি নামে থাকো যদি দূরে..
তুমি তো আমারি জানো না হোওওওও..
এ হৃদয়? তোমারি হো ওওওও..
তোমাকে ছাড়া আমি বুঝি না কোনো কিছু যে আর..!
পৃথিবী জেনে যাক তুমি.. শুধু.. আ..মার!
তোমাকে ছাড়া আমি বুঝি না কোনো কিছু যে আর..!
পৃথিবী জেনে যাক তুমি.. শুধু..আ.. মার!
চাইনা মেয়ে তুমি অন্যকারো হয়ওও..
পাবে না কেউ তোমাকে তুমি কারো নয়ওও..
চাইনা মেয়ে তুমি অন্যকারো হয়ওও..
পাবে না কেউ তোমাকে তুমি কারো..
তুমি তো আমারি জানো না হোওওওও..
এ হৃদয়? তোমারি হো ওওওও..
তোমাকে ছাড়া আমি বুঝি না কোনো কিছু যে আর..!
পৃথিবী জেনে যাক তুমি.. শুধু.. আ..মার!
তোমাকে ছাড়া আমি বুঝি না কোনো কিছু যে আর..!
পৃথিবী জেনে যাক তুমি.. শুধু..আ..মার!
♥♥ [ হৃদয় খানের গানটা..! ]
আড়চোখে আমাকে দেখছিলেন! উফফ তার চাহনি? মন চাচ্ছিলো দৌড়িয়ে তাকে জড়িয়ে ধরি! টাইট করে! আমার চোখ দু’টি লাল হয়ে আছে! সে কেন এতো ভালোবাসে আমায়? আমিও দিনদিন পাগল হচ্ছি তার জন্য! চোখ থেকে চোখ এড়াতে যে ইচ্ছে হচ্ছে না! সারাজীবন তার এই চোখে তাকিয়ে থাকতে চাই! হুম সারাজীবন! আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত!
জড়সড় চিল্লানোর আওয়াজ আসলো! একেকজন তো স্যারের হাত ধরে ঝাকাচ্ছে! আর তার তারিফের পুল বাধছে! আর মেয়েগুলো স্যারকে উঠতে দেখেই সাজগোজ ঠিক করতে লাগলো! আর তার সামনে এগোতে লাগলো! জ্যালাসি ফিল হচ্ছে কেন? সে এতো সুন্দর কেন? সে এতো হ্যান্ডসাম না হলে কি কেউ নজর দিতো? আমাদের বিয়ে হলে, যখন বেড়াতে যাবো বাহিরে! তখন স্যারের মুখে কালি মেখে দেবো কেউ নজর দেবে না! কালি মাখতে না দিলে? মাস্ক লাগিয়ে দেবো! একে নিয়ে হাটা রিস্ক হবে! যদি মেয়েরা পটিয়ে নেয় আমার হ্যান্ডসাম প্রিন্সকে? হুহ
কিন্তু আমার নিজেকে প্রচন্ড সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে! স্যারের ভয়েস আগেও শুনেছি! কিন্তু আজ বেশি ভালোলাগছে! কেনো? আবষ্যই তার ভালোবাসার স্বাদে!
ড্যাসিং লাগছে, সুট পরে ! আড়চোখে তার তাকানোর চাহনি আমার মনে ঝড় তুলে দেয়! গরম লাগছে এই ঠান্ডা আআবহাওয়া! মায়ের পিছন পিছন চলে এলাম! আগে খেয়ে নেই! খেতে বসবো তখনি স্যার পাশে এসে দাড়ালেন..
” আসসালামুয়ালাইকুম আন্টি?
” আ’লাইকুম আসসালাম বাবা!
” আংকেল কোথায়?
” ওই তো বন্ধুদের সাথে খাচ্ছে!
” তা আপনিও যান! ওইযে সকল আন্টিরা আড্ডা দিচ্ছেন!
” বেলির নাকি খিদে পেয়েছে!
” আপনি যান! আমার সাথে খেয়ে নেবে!
” আচ্ছা ঠিকাছে.. বেলি আমি ওখানের দিক যাচ্ছি! তৃষ্ণার সাথেই থাকিস! কেমন?
আমি মাথা নাড়ালাম! স্যার মুচকি হেসে চেয়ার টেনে দিলেন! আমি বসতেই পাশে তিনিও বসলেন!..
” গানটা কেমন লেগেছে? তোমায় ডেডিকেটেড করা!
চাইনা তুমি অন্যকারো হও! পাবেনা কেউ তোমাকে! তুমি কারো নও! তুমি শুধু আমার!
আমি একনজরে তার দিক তাকিয়ে আছি! তার চোখ উফফ! সে ফিসফিসফিসিয়ে বলে উঠলো..
” লিপস্টিপ কেন লাগিয়েছো! [ আমি ভ্রু কুচকে তাকালাম ] আই কান্ট কান্ট্রল! কিস করতে মন চাচ্ছে তো!
আমি চোখ বড়বড় করে তার দিক তাকাতেই সে চোখটিপ মারলো! হায়? কি দিয়ে তৈরি এই লোক! তার শরীরের পশম গুলিয়ো মে বি রোমান্টিক!
আমি খেতে ব্যস্ত! হঠাৎ আমার বাম হাতে স্পর্শ পেলাম! খাবার মুখেই আটকে গেলো! পাশে তাকাতেই দেখলাম, অন্যদের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত! এমন ভাব সে কিছুই করছে না? খাচ্ছে আর কথা বলছে! অথচ আমাকে খেতে দিচ্ছে না! আঙুল এর মাঝে আঙুল গুজে দিচ্ছে! আর আমার দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা! হাত টান দিলাম? সাথে সাথে আরো চেপে ধরলো!
তাও কাপাকাপা হাতে খাওয়ার চেষ্টা চালালাম! কিন্তু পারছি না! বুকের ভেতর শুদ্ধে কাপছে!
আড়চোখে তার খাওয়া দেখছি! ঠোঁটের সাইডে খাবার লেগে আছে! দেখতে কিউট লাগছে তো? আমি তার হাতে খোচা দিতেই সে তাকালো.. হাতের ইশারায় ঠোঁট দেখিয়ে দিলাম..
” আউ..! বাহ তুমি দেখি লুচি হয়ে যাচ্ছো? পাবলিক প্লেসে স্যারের থেকে লিপ কিস চাচ্ছো? বেলি তুমি তো নতুন হিস্ট্রি তৈরি করতে চাচ্ছো?
হাহ? আমি ছোট, ছোট চোখ করে তার দিক তাকালাম! মুখ ভেঙিয়ে বলে দিলাম..
” আপনার ঠোঁটের আশেপাশে খাবার লেগে আছে! সেটাই বলছিলাম! আপনায় ওগুলো করার কনো ইচ্ছে আমার নেই!
” হুম তাই নাকি? ওগুলো বলতে কি বোঝালে?
” [ তার দিক ঠোঁট উল্টিয়ে তাকালাম ] আপনি আমায় লজ্জা দিতে চাচ্ছেন?
” হা হা হা হা? লজ্জা? আচ্ছা তুমি কি ওগুলো বলতে চুমুকে বুঝিয়েছো?
আমি মুখ ঘুড়িয়ে নিলাম! অনেক মেয়েরাই আড়চোখে তাকাচ্ছে! এই লোকের মাথায় ফালতু কথা ছাড়া কিছুই নেই! সে আমার হাত ছেড়ে দিলো! হাত পরিষ্কার করে ফোন টিপতে লাগলো! অথচ মুখ পরিষ্কার করলো না..
” বেলি?
” হু?
” ওই যে টিস্যু! ওটা নাও আর মুখটা মুছে দাও তো!
আহ! বুঝতে পেড়েছিলাম! এমন কিছুই করাবে! বড় ছোট সবাই আশেপাশে! কিভাবে করবো? তাও আমি কাপাকাপা হাতে টিস্যু নিলাম! তার দিক তাকাতেই সে আমার চোখের দিক তাকালো! আমি অন্যদিকে তাকিয়ে হাত বাড়িয়ে দিলাম! ধীরে ধীরে মুছে দিলাম তার ঠোঁট সহ কর্নারের খাবার! সে একধ্যানে আমায় দেখছিলেন! আমি মুচকি হেসে উঠতে যাবো তখনই হাত ধরে বসিয়ে দিলো!
” চুপচাপ খাবার গুলি ফিনিস করো! আমি ডিস্টার্ব করছি না এখন! ওই যে ওখানে আছি আমি! তোমার দিক নজর থাকবে! বুঝেছো?
আমি মাথা নাড়ালাম! আওয়াজ গুলো ভাড়ি ভাড়ি শুনাচ্ছিলো! ভয় পাচ্ছিলাম যে? সে গিয়ে ওখানের আপু ভাইয়াদের সাথে হাত মিলিয়ে কথা বলতে লাগলেন! আমি চুপচাপ খাচ্ছি! আড়চোখে তাকে দেখছি!
গান বাজছে লাউড হয়ে! কিছু আপুরা নেচেই যাচ্ছে! আমি আম্মুর হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি! এই লোকটা কখন থেকে আমায় ঘুড়েই যাচ্ছে! আমার মুখে কি টাকা ঝুলানো? আজিব? অবষ্য লোক না? ২৩ বয়সের মতো হবে! দেখতে ভদ্রলোক দেখাচ্ছে? কিন্তু আমাকে কেন বিরক্ত করছে! আমি নাচ দেখতে ব্যাস্ত! হঠাৎ ওপাশে প্রচন্ড রকমের হাসির শব্দ পাচ্ছি! হুহ কে আর? আমার স্যার? হাসি গড়িয়ে গড়িয়ে ঝড়ছে ঝড়ের গতিতে! আর আমায় শুধু সাশায়? আবার মেয়েদের নাচও দেখছে! আড়চোখে আমায় মিষ্টি হাদি উপহার দিচ্ছে! কিন্তু তার হাসি এখন আমার শরীরে কেরোসিন ঢেলে দিচ্ছে!
হঠাৎ পাশে এসে দাড়ালো সে অচেনা পুরুষ! আমি একবার তাকিয়ে আবার নাচ দেখায় মত্য হয়ে উঠলাম! ধীরু সাউন্ডে আওয়াজ আসলো…
” নাম কি?
আমি দ্রুত মাথা উঠাতেই চোখ কপালে! আমার দিক ঝুকে আছে! কিছু বলবো বা করবো? তার আগেই ঝড়ের গতিতে আমার হাত পিছনে কেউ মুর্চে ধরেছে! ব্যাথায় আমার হাত মনে হয় নেই! পিছনে ফিরতেই দেখি স্যার!…
” কি হয়েছে ছোট ভাই?
” ন.. নাহ শুধু পরিচয় হতে আসছিলাম!
” হুহ. পরিচয়? নাম বেলি! থাকে পাশের বাড়িতে! আর মষ্ট ইম্পরট্যান্ট.. মাই ওয়াইফ!
হাহ! ওয়াইফ? কে কার ওয়াইফ? ওয়াইফ না ওয়াইফাই বলল? আমার হাতের ব্যাথা ভুলে, বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে আছি! ছেলেটিও সকড! ধীরে ধীরে কেটে পরলো! অথচ আমার হাত আজ ভেঙেই ছাড়বে!
হাত ছূটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি! আশেপাশে তাকাচ্ছি? সবাই নাচ দেখতে ব্যাস্ত? তারপরও যদি কেউ দেখে ফেলে! ছাড়ে না কেন?
টানতেছে কেন এই লোক? খোদা মান_ইজ্জত তো নিজের ডুবাবে,সাথে আমারটাও!
” আ..আরেহ স্যার? এইটা আমার ছোট বিছানার নিচের জায়গা না! যে যেইটা ইচ্ছা করলেন কেউ দেখবে না? এইটা পাব্লিক বিয়ের প্লেস! আমার ছোট_খাটো মান_ইজ্জত তো ধুয়ে যাবে কেউ দেখলে! যাচ্ছি কোথায়?
আমার কথাগুলো শুনে সে থেমে গেলো! ভ্রু_কুচকে আমার দিক তাকালো!
” দিনদিন দেখছি বড্ড পেকে যাচ্ছো? মান_ইজ্জত ও বেড়ে যাচ্ছে দেখি? হুহ?
” ন..নাহ তা না?
” তো কি? আর ওই ছেলের সাথে কিসের আলাপ চলছিলো? কি বলেছিলাম? আন্টির সাথে থাকতে! তাহলে এদিক_ওদিক দৌড়াচ্ছিলে কেন?
” আর এমন হবে না! আচ্ছা তখন ওই লোক মানে ওই ভাইয়াকে কি বললেন? আমি আপনার ওয়াইফ না ওয়াইফাই? আবষ্যই ওয়াইফাই বলেছিলেন হয়তো! কারন আমাদের তো বিয়ে হয় নি! আচ্ছা আমি আপনার ওয়াইফাই কিভাবে হলাম?
মাথা তুলে তার দিক তাকালাম! সে তার নাক ফুলিয়ে, দু_ভ্রু মাথায় তুলে, আমার দিক তাকিয়ে? ?
চলবে….!

অতিরিক্ত চাওয়া ?
নাবিলা ইষ্ক
পর্ব : ১১
” ওয়াইফ… ইউ আর মাই ওয়াইফ! আমার বউ! হউ নি কিন্তু হবে! আর সেটা খুব শিঘ্রী!
মুহুর্তের মাঝেই শরীরের তাপ বেড়ে গেলো! তার ভয়েসেও একরকম যাদু আছে! আমি চুপচাপ দাড়িয়েই ছিলাম! আশেপাশে তাকাতে ব্যস্ত! কেউ দেখলে স্যারের নামে বাজে কথা ছড়াবে! তার দিক চোখ পরতেই আমি ২ পা পিছনে চলে এলাম! কারন সে আমার সামনে এগিয়ে আসছে! যথারীতি আমিও পিছনে যাচ্ছি! কি হচ্ছে?
” ক…কেউ দেখ..দেখলে প্রব্ল..
সম্পুর্ণ কথা বলার আগেই সে ৪_৫ পা এগিয়ে আমায় ঘেষে দাড়ালেন!…
” শুসসসস…! জবাব পেয়েছো? আর এতো পাকনা পাকনা কথা কবে থেকে শিখেছো? বড্ড বুঝতে শিখেছো আজকাল! তা বিয়ে নিয়েও হয়তো সব জানো! তাই না?
আমি রীতিমতো কাপছি! তার ফিসফিসানো আওয়াজ? আমার শরীরের পশমও দাঁড়িয়ে পাল্লা দিয়ে কাপছে! আমি আড়চোখে তার দিক তাকিয়ে, একটু পিছনে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম! কারন পিছনে দানবের মতো ওয়ালটা আমায় আটকিয়ে রেখেছে! আমি ডান সাইডে চাপতে নিচ্ছিলাম, তার আগেই সে সেখানে হাত রাখলেন! আমি এইবার থম হয়ে রইলাম!…
আড়চোখে তাকাতেই দেখলাম, উপর থেকে নিচ অবদি আমায় চোখ বুলালেন! আমার চোখের দিক চোখ পরতেই যথারীতি নিচে তাকালাম!…
” ছেলওয়ার সুট কি আমার জন্যই পরেছো?
আমি চোখ বুঝে মাথা নাড়ালাম! হঠাৎই গালে স্পর্শ পেলাম তার ঠোঁটের!
” খুব মায়াবী লাগছে!
সেদিন ডান গালে কিস করেছিলেন আজ বাম গালে! আমার দিক কিছুটা ঝুকে বললেন..
” কান্ট্রল হচ্ছে না যে? লিপস্টিক কেন দিছো? আর দেবে না!
আমি হতম্ভব হয়ে রইলাম! ঠোঁট দুটো কামড়ে মুখে ভোরে নিলাম! বড্ড লজ্জা লাগছে! কেন যে লিপস্টিক লাগাতে গেলাম! হাত দিয়ে ঠোঁট পুছতে নিচ্ছিলাম! তখনি তার আওয়াজ কানে আসলো…
” আমি পুছে দিচ্ছি!
আমিও হাত নামিয়ে চুপচাপ দাড়িয়েছিলাম! আমি তো আর জানতাম না? যে তার পুছানো মানে কি ছিলো! মুহুর্তের মাঝে ঠোঁটে তার স্পর্শ পেলাম! চোখ বন্ধ কি করবো? আমি আশেপাশে তাকাতে ব্যস্ত! কেউ দেখলে সর্বনাশ! এদিকে তার হুশ-তয়াক্কা নেই! নিজের গতিপথ অনুসরণ করেই, মনের আনন্দে চুমু খাচ্ছেন!
ওপাশ থেকে কাউকে আসতে দেখেই, তার নিচু হওয়া শরীরে ধাক্কা দিলাম! তাতে কিছুই না? সে ব্যস্ত এখন! আমি পিছনে ফিরে ২ কদম পিছনে চলে এলাম! হাটতে হাটতে বারবার স্যার, স্যার বলছি যাতে! মহিলাটা খারাপ কোনো কিছু না ভাবে! আর সে তো ভ্রু উচু করে আমার দিক তাকিয়ে! মহিলাটা চলে যেতেই সে আমার দিক আবার আসতে নিলেই আমি দৌড় দিলাম! পিছনে আর তাকাই নি!
বাসায় এসেছি ৮ টার দিক! এতোক্ষন যাবত মায়ের পিছন-পিছনেই ছিলাম! ভয় কাজ করছিলো? আবার কে না কে কথা বলতে আসে!
বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুম! ঘুমের মাঝেও চুমুর দৃষ্য বারবার ভেসে আসছে! লজ্জায় লাল_নিল হওয়ার মতো অবস্থা!
সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যায় ! আর সকালের আকাশ ছাদ থেকে দেখতে প্রচন্ড ভালো লাগে! ব্রাশে টুথপেস্ট লাগিয়ে, ছাদে পৌছালাম! হালকা হালকা কুয়াশা! শীতটা চলে যাচ্ছে অল্প অল্প করে! দুর-দুরান্তে চোখ যাচ্ছে বারবার! আকাশটা দেখতেও মারাত্বক সুন্দর দেখাচ্ছে! কানে আওয়াজ আসতেই সেদিকে তাকালাম… পাশের বাড়ির বড় ভাইয়া! মিষ্টি হাসি দিলেন সাথে আমিও..
” গুড মর্নিং বেলি?
” গুড মর্নিং আবির ভাইয়া!
আবির ভাইয়া প্রচন্ড ফ্রি মাইন্ডেড! সব কথা গোছালো আর সুন্দর ভাবে বলে! যা শুনতেও বেশ লাগে! তাও কেনো জানি, আমার শুধু আমার প্রিন্সের কথা,আওয়াজ,চলাফেরা সব ভালো লাগে! আমার প্রিন্স? চিল্লানোর আওয়াজ আসতেই ধরফরিয়ে সেদিকে তাকাতেই আমি থম… ওই পাশের বিল্ডিং থেকে স্যার ধমক দিচ্ছেন…
” স্কুল নেই? দ্রুত রেডি হয়ে স্কুলে আসো! আজ যদি দেড়ি করে পৌছাও?
কথাগুলো বলে? আগুনের দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো! আমিও ধীরে ধীরে নেমে এলাম নিচে! দ্রুত স্বাস নিলাম কয়েকবার! আজ মা স্কুলে যাবেন বেতন দিতে! আর এভাবেও গার্জেন ডাকা হয়েছে! ১২_১৩ দিন পর স্কুলে নাচ_গানের অনুষ্ঠান!
মায়ের সাথে স্কুলে পৌছালাম! ঢুকতেই দেখি স্যার আফরোজা মেমের সাথে কথা বলছেন! সেদিক দিয়ে যেতে হবে! আমি মা_কে ইশারায় জানিয়ে সেদিকে এগিয়ে গেলাম!…
” আসসালামুয়ালাইকুম ম্যাম, [ তার দিক তাকিয়ে ] আসসালামুআলাইকুম স্যার! শুভ সকাল!
দ্রুত পা চালিয়ে চলে আসলাম সেখান থেকে! হাহ স্যারের চোখ? ভয়াবহ দৃষ্য ছিলো! প্রত্যেকটা ক্লাস করে বাসায় পৌছালাম! স্যারের সাথে আইকন্টেক্ট ছাড়া একটি কথাও হয় নি আমাদের! বাসায় চলে আসলাম! আজ মায়ের সাথে আমিও রান্না করছি! কিন্তু পরক্ষনেই মায়ের কথা শুনে খুশি আর সকড দুটোই হলাম!…
” দ্রুত কাজ সেষ করতে হবে! আজ তৃষ্ণা কে দাওয়াত দিয়েছি বাসায়! বলেছে আসবে! আর তোর বাবাও একসাথেই খেতে বসবে!
তার জন্যই এতো রান্নাবান্না চলছে! এতো এতো আইটেম বাহ বাহ! জামাই আদর হবে নাকি?
” তা মা হঠাৎ?
” আরেহ তৃষ্ণা নাকি ঢাকা যাবে! সন্ধ্যার দিক রওনা দেবে! ওর মা নাকি অসুস্থ! ১০_১২ দিন তো থাকবেই!
কথাটা শুনে আমি স্তব্ধ! ১০_১২ দিনের জন্য চলে যাবেন! হু আমি এতোদিন কিভাবে থাকবো? মাথাটা মনে হচ্ছে ঘুরে পরে যাবে! আমি ধীরে সুস্থে রুমে এসে বিছানায় বসে পরলাম! মাথাটা দু-পাশে চেপে ধরে বিছানায় কাত হয়ে রইলাম! বড্ড যন্ত্রণা হচ্ছে যে? বুকের সাথে পুরো শরীরে..!
আমি সেই যে শুয়েছি আর উঠি নি! হঠাৎ তার আওয়াজ কানে আসতেই দ্রুত বিছানা ত্যাগ করে, সেদিকে চলে এলাম! সোফায় বসে বসে ফোন টিপছে! আমি লুকিয়ে তাকে দেখেই যাচ্ছি! মুখটা শুখনো হয়ে আছে! মেজাজ ভালো নেই তার! মা অসুস্থ তো তাই হয়তো? আমার জন্যই তো তাদের রেখে এখানে থাকছেন স্যার! কিন্তু সে চলে গেলে আমি কিভাবে থাকবো?
আমি যে পারবো না থাকতে! বড্ড ভালোবেসেছি যে স্যারকে! মায়ের ডাকে দ্রুত রান্নাঘরের দিক চলে এলাম! মা যা যা হাতে দিলো? তা নিয়ে টেবিলে সাজিয়ে রাখলাম! স্যার আমার দিক করূন চোখে তাকিয়ে! আর আমার বুকটা ধুক করব উঠলো! কষ্ট হচ্ছে যে! ভাবতেই আমার কান্না করতে ইচ্ছে করছে! ১_২ দিন না, ১০_১২ দিন তাকে দেখতে পাবো না!
টেবিলে বাবা, সে,আর আমি বসে আছি! মা খাবার বেরে দিচ্ছে! আমার আজ আর খাওয়া হবে না! গলা দিয়ে খাবার নামবে না! সে আড়চোখে তাকাচ্ছে আর খাচ্ছে! মায়ের রান্নার প্রশংসা করছে আর নানান কথা বলে যাচ্ছে! যখন শুনলাম মায়ের মুখে তার বিয়ের কথা?আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো! স্যারকে ঢাকা যেতে বলেছে তার মা! তার জন্য পাত্রী দেখা হয়েছে! ছেলের বিয়ে নিয়ে তার মা নাকি চিন্তিত! আমার চোখের পানি মনে হচ্ছে গড়িয়ে পরবে! অন্যদিক ফিরে চোখের পানি মুছে নিলাম! আড়চোখে তাকে দেখতে লাগলাম!
আমার প্রিন্স অন্যকারো হয়ে যাবে? সে কি আমার হবে না? আমাদের ভালোবাসায় কি কোনো শক্তি ছিলো না! রুমে বসে চোখের বন্যা ঝড়িয়ে ফেলছি! কান্নার বেগ মনে হচ্ছে শুধু বাড়ছে! হু হু হু করে আওয়াজ আসতে চাচ্ছে!
খানিকক্ষণ পর কারো পায়ের আওয়াজে চোখ মুছে সেদিকে তাকালাম! রুমে স্যার এসেছেন পিছনে মা! আমি দ্রুত বিছানার থেকে নেমে স্যারকে সালাম দিলাম! সে আমার দিক তাকালেন…
” ১০_১২ দিনের পড়া আমি দিয়ে যাবো! সেগুলো প্রতিদিন পড়ে সেষ করে ফেলবে কেমন?
আমি নিচে তাকিয়ে থেকেই মাথা নাড়ালাম! মায়ের আওয়াজে তার দিক তাকালাম..
” আমি চা নিয়ে আসি! মন দিয়ে সব বুঝে নে! যা না পারিস!
মা যেতেই আমি ৩-৪ পা পিছিয়ে গেলাম! স্যার দ্রুত আমায় জাপটে ধরলেন! মাথাটা তা বুকে চেপে ধরলেন…
” বেলি আমায় ঢাকা ফিরতে হবে! একবারের জন্য চলে যেতে হবে! আমার জন্য মা দিনদিন অসুস্থ হচ্ছে! কসম দিয়েছে তার! এখান থেকে না গেলে তার মৃত্যু দেখতে হবে!
আমি স্তব্ধ হয়ে রইলাম! কান্নাটাও এখন আসছে না “সে আবারও বলতে লাগলেন..
” ১ মাস সময় নিয়েছি! ১ মাসের মাঝেই ঢাকা সিফট হতে হবে! আর ১০_১২ দিনের জন্য ঢাকা যেতে হবে! মা
হসপিটালে এডমিট! সে যতদ্রুত সম্ভব আমার বিয়ে দিতে চান!
আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিলাম! হাউমাউ করে কান্না করতে লাগলাম! ভালোলাগা,ভালোবাসা শিখিয়ে এখন চলে যাবে! কিভাবে থাকবো আমি? কিভাবে বাচবো?
তার বকা, তার ছোয়া, তার হাসি, প্রতিচ্ছবি কিভাবে ভুলবো? পারবো না ভুলতে! পারবো না তো?
” আ..আমি কিভাবে থাকবো? আমি পারবো না থাকতে! বিস্বাশ করেন এক দিনও থাকতে পারবো না!
সে দ্রুত পা এগিয়ে আমায় জড়িয়ে ধরলেন!..
” আমিও পারবো না! আমি আসবো তো তোমায় দেখতে! আর বিয়ে? বিয়ে তোমায় ই করবো!
আমি তাকে জড়িয়ে কাদতে লাগলাম! আমি বেচে থেকেও মরে যাবো তাকে ছাড়া! হু কিভাবে থাকবো! সে আমার চোখের পানি মুছিয়ে দিলেন! পকেট থেকে একটি ফোন বের করলেন!,
” যখন মন চাইবে কল দেবে! দেখতে চাইলে ভিডিও কল দেবে! আমি কল দিলে সাথে সাথে রিসিভ করবে! সন্ধ্যায় চলে যাচ্ছি! কিছুদিনের মাঝে আবারও আসবো!
” তাতে কি? চিরদিনের জন্য তো চলে যাবেন!
আমি আবারও হু হু করে কেদে উঠলাম! কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে! এতো কষ্ট কেন হচ্ছে?
” শুসসস! কান্না বন্ধ! আন্টি আসছে! চুপ ”
আমি দ্রুত চোখের পানি মুছে নুলাম! সে আমার ১০_১২ দিনের পড়া দিয়ে দিলেন! কিভাবে চলবো, কিভাবে থাকবো, সব কিছু বলে দিচ্ছেন! আর আমি নিজেকে কান্ট্রল করছি! কান্নার বেগ যে বেড়িয়ে আসতে চাচ্ছে!
চা টা সেষ করে সে যেতে লাগলো! মা বেড়িয়ে যেতেই আমি দ্রুত তাকে জড়িয়ে কেদে দিলাম!
” আমার কষ্ট হচ্ছে? আমি আপনার সাথে যাবো!
” হুসশ কাদে না! [ চোখের পানি মুছিয়ে ] আমার সাথে যাবে! যখন সময় হবে!
সে আমার কপালে চুমু খেয়ে বেড়িয়ে গেলেন! আমি দ্রুত দরজা বন্ধ করে কেদে উঠলাম! নিস্তব্ধ হয়ে শরীরটা ফ্লোরে পরে গেলো! কষ্ট যে সজ্য হচ্ছে না! এমন কষ্টের সাথে তো আমি পরিচিত নই! সারাজীবনের জন্য কি তাকে পাবো?……..
চলবে……