অবশেষে তুমি আমার পর্বঃ২২

0
3860

অবশেষে তুমি আমার
পর্বঃ২২
তাসনিম রাইসা

রাজের খুব টেনশন হচ্ছে। অন্যান্যদিনের মত আজকেও অধরার পিছন পিছন যাওয়ার দরকার ছিল।

– এদিকে অধরার জ্ঞান ফিরতেই নিজেকে অন্ধকার রুমে আবিষ্কার করলো। হাত-পা বাঁধা তার। পাশ থেকে একজনের কথা শুনে চমকে উঠলো অধরা। লোকটা বলছে বস আগে মেয়েটাকে রেপ করবে। তারপর মেরে ফেলবে। আর মারার আগে আমরাও একটু মজা করবো। তারপর মেরে দিব। অধরার খুব ভয় করছে। হঠাৎ অন্ধকার রুমটা আলোকিত হয়ে উঠল!
– অধরা তিয়াসের বন্ধু তুর্যয় কে দেখে চমকে ওঠলো!

তুর্যয় চেয়ার টেনে অধরার সামনে বসে হাত দিয়ে গালে স্পর্শ করতে গেলেই অধরা চিৎকার দিয়ে বললো,’ প্লিজ আমাকে ছুঁবেন না। ‘ আল্লার দোহায় লাগে।

– আচ্ছা ছুঁলাম না তোমায়। কিন্তু যদি তিয়াস আমাকে আটঘন্টার মাঝে দশ লাখ টাকা না দেয়। তাহলে তোমাকে আদর করবো। শুধু আমি না সবাই। ভালো হবে না? তোমার লিপিস্টিকের স্বাদ নিবো। কী বলো?

– আমাকে কেন ধরে এনেছেন? প্লিজ আমাকে ছেড়ে দেন। আমার সাথে আপনার তো কোন শত্রুতা নেই।
-তাই বুঝি! তোমার সাথে শত্রুতা নেই! শত্রুতা হচ্ছে তোমার নাগর তিয়াসের সাথে। ওর সাথে অনেক হিসেব বাকি।
– ছিঃ লজ্জা করে না বন্ধু হয়ে বন্ধুর সাথে বেইমানী করতে। আর আমি তিয়াসকে ভালোবাসি না। আমার স্বামী রাজ যদি জানতে পারে তোমার খবর আছে।

– হা হা তোমার স্বামী আনিশা মেয়েটার সাথে হানিমুন করছে। তুমি মরে গেলেও তার কিছু যায় আসে না। কিন্তু তোমার কিছু হলে তিয়াস পাগলের মতো হয়ে যায়। তাই সুযোগটা কাজে লাগালাম।

– কথা বলতে বলতে তুর্যয়ের ফোনটা বেজে উঠল! ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে তিয়াস বললো,’ তুর্যয় তোর শত্রুতা যদিও থাকে সেটা আমার সাথে। ‘ আমার কলিজার টুকরা অধরার গায়ে যেন একটা ফুলের টোকাও না লাগে।
– তাই বুঝি! আহা, কি ভালোবাসা অন্যের বউয়ের প্রতি। খারাপ না তবে সময় কিন্তু বেশি বাকি নেই। সময় মতো টাকা না পেলে তোমার ভালোবাসার মানুষটাকে আদর করবো। খুব আদর করবো। বুঝতেই পারছো।

– তুর্যয় প্লিজ আমার অধরার কোন ক্ষতি যেন না হয়। আমি তোর টাকা নিয়ে যাচ্ছি। ওর কিছু হলে আমি কাকে নিয়ে বাঁচবো। ” কান্না করতে করতে তিয়াস কথাগুলো বললো।

– আরে তিয়াস! ছোট্ট বাবুর মতো কাঁদে না সোনা । খুব কষ্ট লাগছে অধরার জন্য। বাবুতা খুব ভালোবাসে অধরাকে দেখ তোরা। আমি কি অধরাকে কষ্ট দিতে পারি বল তো? আমি তো আদর করবো। সোহাগ দিবো। তবে টাকা দিলে ছুঁয়েন দেখবো না। আর এভাবে কাঁদলে যে আমার খারাপ লাগে। আর এভাবে কাঁদলে অধরাও কষ্ট পাবে যে। তাই যত তাড়াতাড়ি পারিস টাকাটা নিয়ে আসিস। কথাটা বলেই ফোনটা রেখে দিল।”

– অধরা কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না। তুর্যয় বারবার ঘড়ি দেখছে। এমন সময় পাশ থেকে আরেকটা ছেলে বললো,’ তিয়াস যদি পুলিশ নিয়ে আসে তাহলে?”
– আরে পুলিশ নিয়ে আসলে ওর কলিজার টুকরার শরীরের কোথায় কোথায় তিল আছে সেগুলো দেখবো। তারপর আদর সোহাগ দিয়ে লাশ বানিয়ে দিবো। আর আমি যতটুকু জানি তিয়াস অধরাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসে। সে বাঁচাতে অবশ্যই আসবে। হাজার হলেও কলিজার টুকরা!

– এদিকে রাজ থানায় থানায় অধরার ছবি মেইল করে পাঠিয়ে দেয়। রাজ পাগল হয়ে যাচ্ছে। অধরার কোন ক্রু খুঁজে পাচ্ছে না। খুব কষ্ট হচ্ছে। অধরার যদি সত্যি কিছু হয়ে যায়। চাঁদমুখটা যে তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এখন। আনিশা বারবার রাজকে বুঝাচ্ছে অধরার কিচ্ছু হবে না। অধরা হয়তো রাজকে ভয় পাওয়ানোর জন্য আত্মগোপন করে আছে। কিন্তু রাজের মন বলছে অন্য কিছু। হঠাৎ রাজের পুলিশ বন্ধুটা ফোন করে বললো, ‘ বাসস্টপে ছোট্ট একটা ছেলে অধরাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিতে দেখেছে।

– কি বলছিস এসব? আমার অধরাকে কে তুলে নিবে? ” দোস্ত প্লিজ তুই কিছু একটা কর। যেভাবেই হোক আমার অধরাকে খুঁজে বের কর। ”

-দোস্ত তুই চিন্তা করিস না। আল্লাহর উপর ভরসা রাখ। অধরার কিছু হবে না।

– এদিকে তিয়াস, তুর্যয়ের কথামতো টাকা নিয়ে যায় । তুর্যয় অধরার ঠিকানা দিয়ে ওখান থেকে কেটে পড়ে।

– তিয়াস পাগলের মতো ছোটে যায় লোকালয় থেকে অনেক দূরে পরিত্যক্ত সেই বাড়িতে। বাড়ির ভিতরে মাকড়সার জালে ঢুকে যাচ্ছে না। গা ছমছম করছে। তবুও বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই অন্ধকারের মাঝে কিছু একটা আবছা দেখা যায়। তিয়াস মোবাইলের ফ্লাশ অন করতেই তার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে ওঠে। অধরা অচেতন অবস্থায় চেয়ারে বসে আছে। তিয়াস তাড়াহুড়া করে অধরার হাত পায়ের বাধন খুলে অধরার চোখে জলের ছিটা দিতেই অধরা চিৎকার দিয়ে বলে,’ প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে ছুঁয়ো না।’ আপনাদের পায়ে পড়ি আমার কোন ক্ষতি করবেন না। আমার অন্তঃসত্ত্বা।অধরা ভয়ে জুড়োসুড়ো হয়ে চোখ বন্ধ করে এসব বলছে।

– তিয়াস অধরার হাতে স্পর্শ করে বলে, ভয় নেই আমি তিয়াস। ওরা চলে গেছে। তোমাকে আর কেউ কিছু করতে পারবে না। তিয়াস বেঁচে থাকতে।
– অধরা তিয়াসকে দেখে কান্না করে দেয়। আর বলে, ‘ জানো তিয়াস আমি ভেবেছি ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমার গর্ভের বেবীটা নষ্ট করে ফেলবে। মরার আগে বারবার রাজকে দেখতে ইচ্ছে করছিল।

– অধরার মুখে রাজের কথা শুনে তিয়াসের মনটা খারাপ হয়ে যায়।

– তিয়াসের মন খারাপ অধরার চোখ এড়ায় না। অধরা মনে মনে ভাবে ছেলেটা সত্যি ওকে ভালোবাসে। অধরা চোখের পানি মুছে বলে তিয়াস কেন করছো আমার জন্য এতোকিছু? কে আমি তোমার? এতোগুলো টাকা কেন নষ্ট করলে?
– তুমি আমার জীবন অধরা। আমি তোমার জন্য আমার জীবনটাই দিয়ে দিতে পারি। আর সামান্য টাকা দিতে পারবো না। আমি যে তোমায় বড্ডবেশি ভালোবাসি।

– তিয়াস আমাকে প্লিজ ভালোবেসে নিজেকে কষ্ট দিয়ো না। আমি সেই ছোটবেলা থেকেই রাজের হয়ে আছি। সেই ১১ বছর বয়স থেকেই সে আমার স্বামী। আমার হৃদয়ের পুরোটা জুড়েই রাজের বসবাস। আমি যে চাইলেও সেখানে অন্য কাউকে বসাতে পারবো না। প্লিজ তুমি আমাকে ভুলে যাও তিয়াস।

– অধরার কথা শুনে তিয়াসের চোখ বেয়ে টুপ-টাপ করে পানি পড়ছে। অধরা তিয়াসের দিকে তাকাচ্ছে না। কারণ সে চায় না অন্য কারো মায়ায় পড়তে। অধরার খুব করে ইচ্ছে করছে তিয়াসের চোখের পানি মুছে দিতে। কিন্তু সে পারছে না।

– তাই অন্য দিকে ফিরে বললো,’ তিয়াস সন্ধ্যা হয়ে অাসছে তুমি যদি আমাকে বাসায় ড্রপ করে দিয়ে আসতে অনেক ভালো হতো। ”

-তাই বুঝি জানেমন! এই বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে ফেলে তিয়াস।
– দরজা বন্ধ করলে কেন তিয়াস?
– কেন বুঝো না?

– কি বুঝবো?
– আমার তোমাকে চাই। তাই দরজা বন্ধ করলাম।
– তিয়াস কি বলছো এসব? প্লিজ তুমি না অনেক ভালো এমন করে না। আমি শুধু রাজের। ”

– রাজের হয়েছ তো কি হয়েছে শুধু একবার আমার হয়েই দেখো। এখানে কেউ নেই। আর তুমি চাইলেও পালাতে পারবে না।

– ছিঃ তিয়াস ছি। কে বলছে কেউ নেই এখানে? আমার আল্লাহ সব দেখছেন। তুমি আল্লাহকে ভয় করো। তুমি এতটা নীচ তোমাকে ভালো ভাবতাম আর তুমি কি না। প্লিজ আমাকে যেতে দাও।

– তাই বুঝি! তোমাকে যেতে দিবো তার আগে ছোট্ট কাজটা করতে চাই। এতোগুলো টাকা কিছুমুহূর্তের জন্য চেয়েছি। প্লিজ কাম অন। একটু ভালোবাসো আমায়। আমি তোমাকে ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিবো। অধরা তিয়াসের আচরণে ভয় পেয়ে যায়। তিয়াস এক পা দু’পা করে অধরার দিকে আগাচ্ছে। অধরার গা থেকে শাড়ির আচল ফ্লরে পড়ে যায়। তিয়াস একদম কাছে অধরার। অধরা তিয়াসের গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিয়ে বলে,’ তুই আমাকে ছুঁবি না। আমি শুধু রাজের আমানত। তুই ছুঁলে তোকে খুন করে ফেলবো।

– তিয়াস অট্টহাসি দিয়ে অধরার কাছে এসেই ফ্লরে পড়ে থাকা উড়নাটা অধরার মাথায় গুমটা দিয়ে দিয়ে বললো,’ সরি অধরা আমি ভেবেছি তুমি আমাকে ভালোবাসো। কিন্তু তোমার চোখে কোন ভালোবাসা দেখিনি। যা দেখছি সব ভয়। সরি এমন বিহেভ করার জন্য। তুমি কি করে ভাবলে আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে কষ্ট দিবো। আমি তোমার শরীর নয়। তোমার বুকের বা ‘পাশে দু’আঙুল নিচের সে মনটা ছুঁতে চায়। চলো তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি।

– অধরা তিয়াসের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে মুগ্ধ নয়নে। তিয়াসের কথাগুলো অমৃত্তের মতো লাগছে।

– রাজ বিমানের ফ্লাইটে কক্সবাজার থেকে বাসায় এসে পড়ে। যতগুলো সোর্স ছিল সব জায়গায় অধরার পাত্তা লাগিয়েছে। যতটাকা লাগুক অধরাকে তার চায়। বাসায় এসে ত্রিযামিনীকে জিজ্ঞেস করলো অধরা আসছে কি না?
– ত্রিযামিনী মনে মনে খুশি হয়েও মুখটা ভার করে বললো না সে তো আসেনি। না জানি কোন ছেলের সাথে ভাগছে।
– ত্রিযামিনী কি বলছো উল্টা-পাল্টা।
– কি আর বলবো দেখো আমার কথায় সত্যি হবে। ঠিক দেখবা কোন ছেলের সাথে ফুষ্টি-নষ্টি করে আসবে।

– ত্রিযামিনী চুপ করো। এমন সময় কলিংবেলটা বেজে উঠে। রাজ দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখে অধরা দাঁড়িয়ে আছে। অধরাকে দেখেই রাজ অধরাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়। আর বলতে লাগে কোথায় ছিলে তুমি কত্তো খুঁজেছি তোমায়।

– এমন সময় তিয়াসকে পাশে দাঁড়ানো দেখেই এক ধাক্কায় অধরাকে বুক থেকে সরিয়ে দেয়। অধরা ছিটকে ””’

”””’ চলবে”””””’