অবশেষে তুমি আমার পর্বঃ৩৫

0
3166

অবশেষে_তুমি_আমারর
পর্বঃ ৩৫
তাসনিম_রাইসা

– রাজ আর এটা দেখে সহ্য করতে পারলো না। দৌড়ে গিয়ে তিয়াসের গালে চড় বসিয়ে দিয়ে বললো,’ অন্যের স্ত্রীকে প্রপোজ করতে লজ্জা করে না। কথাটা শেষ করার আগেই অধরা রাজের গালে ঠাস করে চড় বসিয়ে দিয়ে বলে,’ আপনার সাহস তো কম না আপনি জানেন আপনি কার গায়ে হাত তুলেছেন? সে কে আমার জানেন? আমার ফিউচার হাসবেন্ড। কাল পর্যন্তও আপনাকে ভালোবেসে ছিলাম। কিন্তু আমি জানতাম না আপনি সে ভালোবাসার যোগ্য নয়। এই বলে তার ফোনটা রাজের দিকে এগিয়ে দিল। রাজ ভিডিওটি দেখে চমকে গেল। এটা কিভাবে সম্ভব। ভিডিওতে ত্রিযামিনীর সাথে রাজ রতক্রিয়ায় ব্যস্ত। রাজের শরীর হিম হয়ে আসছে।

– কি হলো, এর পরেও বলবি তুই আমাকে ভালোবাসিস? লজ্জা করে না আমার সামনে আসতে? একটা মানুষ কতটা নিচ হতে পারে তোকে না দেখলে হয়তো জানতাম না। প্লিজ দয়াকরে তুই আমার সামনে আর কোনদিন আসিস না। ভেবেছিলাম আগের সবকিছু ভুলে গিয়ে কাছে টেনে নিবো। বাট আমি ভুল ছিলাম একজীবনে সবাইকে আপন করে নেওয়া যায় না। তেমনি তোকেও না।

– অধরা তুমি ভুল করছো। প্লিজ তুমি একটু বিলিভ করো তোমার দেখানো ভিডিওটা আমার না। ইডিট করা। সেটা অন্য কেউ। প্লিজ একটা বার সুযোগ দাও আমি আর তোমাকে কষ্ট দিবো না। রাজের দু’চোখ টলমল করছে। মনে হচ্ছে আর একটু হলেই কান্না করে দিবে।

– রাজ তুমি তো দেখছি অভিনয়েও ফ্লাস ক্লাস। তোমার ন্যাকামি আমার সামনে না দেখিয়ে ক্যামেরার সামনে দেখাও দর্শকপ্রিয়তা পাবে। আর শোন সত্যি বলতে তোমাকে দেখলে ঘৃণা লাগে আমার। আমার সামনে এসো না। আসলে আমার চেয়ে বেশি আর কেউ খারাপ হবে না।

– অধরা রাজ ভাইয়ার সাথে খারাপ ব্যবহার করছো কেন? উনি তো তার ভুল বুঝতে পারছে। মানুষ মাত্রই ভুল করে। তবে তারাই উত্তম যারা নিজের ভুল বুঝতে পারে। আর এই যে রাজ ভাইয়া আমি ফুল নিয়ে অধরাকে প্রপোজ করিনি। অাপনি ভুল ভাবছেন।

– তিয়াস তুমি চুপ করবে? কার হয়ে কথা বলছো যার চরিত্রের ঠিক নেই। সে ভুল করেনি। সে যা করছে তা অপরাধ। আর ওর মতো দুশ্চরিত্রের মুখ আমি অধরা দেখতে চাই না।

– চলো তো তিয়াস। আজ দিনটাই মাটি বানিয়ে দিলো আমার।

– অধরা প্লিজ। তুমি আমি দু’জনেই কারো গেমের শিকার। আর সেটা তুর্যয় আর ত্রিযামিনী হচ্ছে সে গেমের রচয়িতা। এই নাও ভিডিও।

– রাজ অধরার হাতে ফোন দিতেই ফোনটা আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে বললো,’ তোর মতো মানুষকে বিশ্বাস করা পাপ। নিজের চোখে যা দেখছি তা কিভাবে অবিশ্বাস করবো? কোন ভিডিও দেখতে হবে না। এই বলে গাড়িতে উঠে চলে গেল।

– রাজ হাটুগেড়ে পার্কে বসে পড়ল। তার চোখের সামনে তার ভালোবাসা মানুষ অন্য একটা ছেলেকে নিয়ে চলে গেল। একটাবার ফিরেও তাকালো না। ভালোবাসা সত্যিই অদ্ভূত কখনো হাজার বছর বাঁচার ইচ্ছা জাগায় আবার কখনো এক মূহূর্তের জন্যও নয়।

-হঠাৎ রাজের ফোনটা বেজে উঠল। ফোনটা বের করতেই দেখতে পেল পরিচিত সেই নাম্বার।

ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে আনিশা বললো,’ কোথায় তুমি কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি হোটেলে? প্লিজ তুমি আসো আমার একাএকা ভালো লাগছে না। আর শোন আসার সময় চকলেট নিয়ে এসো।

– রাজ ফোন রেখে হোটেল ফিরে গেল। হোটেল রুমের দরজায় বারবার নক করছে বাট কেউ দরজা খুলছে না। আনিশার নাম্বারে বারবার ফোন দিচ্ছে। কিন্তু প্রতিবারই ফোন সুইচটপ দেখাচ্ছে। রাজ মনে মনে ভাবছে ভেতরে আনিশার কিছু হলো না তো।

– আবারো নক দিল। এবার আনিশা দরজাটা খুললো। কিন্তু পুরো রুম অন্ধকার। আলোর ছিটেফুটাও নেই। হঠাৎ রুমের লাইট গুলো জ্বলে উঠলো। আনিশা মুচকি হেসে বললো,’ হ্যাপি বার্থডে রাজ’ জন্মদিনে অনেক অনেক শুভকামনা রইল। তুমি দীর্ঘজীবী হও।

– রাজ অানিশার সারপ্রাইজে অবাক হয়ে যায়। গোলাপের পাপড়ির সাথে ছোট্ট ছোট্ট মোমবাতি দিয়ে হ্যাপি বার্থডে রাজ লেখেছে। রাজ ভাবতেও পারেনি কেউ তার বার্থডে মনে রাখবে।

– কি হলো হা করে থাকবে? নাকি কেকটা কাটবে?
– রাজ বিস্ময়মাখা দৃষ্টি নিয়ে আনিশার দিকে তাকিয়ে আছে।

– কি হলো কেক কাটো রাজ। রাজ কেক কেটে অানিশাকে যখন খাইয়ে দিবে তখন অধরার কথা মনে পড়ল। সত্যিই কি অধরা আমার বার্থডের কথা ভুলে গিয়েছে? চোখের সামনে বারবার অধরার মায়াভরা মুখটা ভেসে উঠছে। সময় এর পরক্রমায় তার ভালোবাসার মানুষটি আজ কতো দূরে। আর তার বার্থডের স্পেশাল গিফট হিসেবে গাল লাল করার চড়টিই যথেষ্ট ছিল।

– রাজ কতো হা করে থাকবো মুখে তো মশা ঢুকবে। হিহি হা করে থাকতে হবে না এই নাও খাও।
– রাজ আনিশাকে কেক খাইয়ে দিলো। আনিসা রাজকে কেক খাইয়ে দিতে গিয়ে তার গালে মুখে কেক মেখে দিয়ে দৌড় দেয়। রাজ আনিশার পিছু নিলে পা স্লিপ করে আনিশার উপরে গিয়ে পড়ে।

– আনিশা মাগো করে চিৎকার দেওয়ার আগেই রাজ মুখটি ধরে ফেলে। রাজ অবশ্য ব্যথা পায়নি সে আনিশার উপরে পড়েছে। এদিকে আনিশার মনে হচ্ছে কোমড়টা মনে হয় ভাঙলো। আনিশা মা’গো বলে চিৎকার দেওয়ার আগেই রাজ আনিশার মুখটি ধরে ফেলল। হাতে থাকা কেক আনিশার গালে মেখে দিয়ে যখনি উঠে যাবে। আনিশা একটানে রাজকে তার বুকে টেনে নিয়ে বললো,’ মশায় আমার গাল পরিষ্কার করে দেন। গালে এভাবে কেউ কেক মেখে দেয়।

-তুমি যে আমাকে দিলে?

– আমি কিছু জানি না পরিষ্কার করে দাও।
– কিভাবে করবো?
– কিভাবে করবে মানে? গালে লেগে থাকা কেক খেয়ে নাও।

– রাজ বুঝতে পারলো সে আনিশার বুকে। তাই তাড়াতাড়ি উঠে পড়ে বললো,’ এই যে মেডাম ওয়াশরুম আছে আপনার জন্য যান। ”

– এদিকে প্রায় সপ্তাহ খানিক রাজ অধরার সামনে যায়নি। দূর থেকেই অধরাকে প্রতিদিন একনজর হলেও দেখে আসতো। কিন্তু আজ আর অধরাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলো অধরা হসপিটালে। বেবি হবে সেজন্য গিয়েছে। রাজ খবরটা শুনে আর এক মূহূর্ত দেরি করে না। হসপিটালে চলে যায়। হসপিটালে গিয়ে একটা রুমের সামনে তিয়াস আর ইশুকে পায়চারী করতে দেখে তার আর বুঝতে বাকি থাকে না ওই রুমে অধরা রয়েছে। এদিকে ক্ষানিক বাদে ডাক্টর বের হয়ে বললো,’ মেয়ে বেবি হয়েছে। মা এবং বেবি দু’জনেই সুস্থ আছে। কিছুক্ষণ পর মা -মেয়েকে কেবিনে দেওয়া হবে। তখন আপনারা দেখতে পারবেন।

– রাজের কাছে মনে হচ্ছে সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ সে। বাবা হওয়ার আনন্দ এতটা মধুর সে ভাবতেও পারেনি। তার খুব ইচ্ছে করছে রাজকন্যার মুখ দেখতে। তাই অধরাকে কেবিনে দেওয়া হলে রাজ ইশু আর তিয়াসের আগেই কেবিনে ঢুকে পড়ে। অধরার পাশেই বেবিটাকে রাখা হয়েছে। অধরা চোখ বন্ধ করে আছে।

– রাজ কেবিনে ঢুকেই বেবিটাকে কুলে তুলে নেয়। কপালে চুমু দিয়ে বলে,’আজ থেকে আমি আর অনাত না আমার মা রয়েছে। এমন সময় অধরা চোখ খুলেই রাজকে দেখে অবাক হয়ে যায়।

– ইশু রুমে ঢুকলেই অধরা বলে,’ইশু আমি চাই না কোন দুশ্চরিত্রবান ব্যক্তি আমার কলিজার টুকরাকে স্পর্শ করুক। যে আমার কলিজার টুকরার জন্মের আগেই মেরে ফেলতে চেয়েছিল।

– রাজের দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। বেবিটাকে অধরার পাশে রেখে।

চলবে”:::