অবশেষে তুমি আমার পর্বঃ৩৯

0
3259

অবশেষে_তুমি_আমার
পর্বঃ৩৯
তাসনিম_রাইসা

আর ভালোবাসা না হয় তোমাদের দু’জনের মিলনেই পূর্ণতা পাক। বড্ডবেশি ভালোবাসি যে তোমাকে অধরা। নিজের থেকেও বেশি।

– তিয়াস কথাটা শেষ করার আগেই অধরা তিয়াসের গালে ঠাস -ঠাস করে কয়েকটা চড় বসিয়ে দিয়ে বললো,’ এই তোর এতটা খারাপ কিভাবে? আমার কলিজার টুকরাকে আমার বুক থেকে সরিয়ে ভালোবাসার কথা বলিস। আর এই মেয়ে কতটাকা নিয়েছো? অভিনয় করার জন্য?
– অধরা কি বলছো এসব। আমি তোমার কলিজার টুকরাকে কেন তোমার কাছ থেকে দূরে সরাবো?

– আপু আমি সত্যি বলছি আমি অভিনয় করছি না। আমার গর্ভে রাজের সন্তান।

– বাহ ভালো তো। চলেন আপনার প্রেগন্যান্সি টেস্ট করি। আর যদি রির্পোট নেগেটিভ আসে তাহলে কিন্তু জেলে যেতে হবে। পুলিশকে ফোন করছি।

– আর তুই তিয়াস তোর কত্তোবড় সাহস আমার সামনে এতোবড় নাটক সাজিয়েছিস?
– অধরা আমাকে এই দিনও দেখতে হবে কখনো ভাবিনি। তোমাকে ভালোবাসার প্রতিদান এভাবে অপমান করে দিবে?

-অধরা এইবার ঠাস করে তিয়াসের গালে চড় বসিয়ে দিয়ে বললো,’ এই দেখ ছোটলোকের বাচ্চা তোর ভিডিও। ‘

– তিয়াস তার সেই দিনের কথাবলার ভিডিও দেখে চমকে যায়। এটা কিভাবে সম্ভব?
– আর এই মেয়ে একটি অপেক্ষা কর পুলিশ আসছে।

– মেয়েটা তিয়াসের ভিডিও দেখে বলে দেয়,’ ম্যাম আমার কোন দোষ নেই। উনি টাকা দিয়ে ওসব বলতে বলছে।

– তিয়াস মাথা নিচু করে আছে।

– অধরার খুব রাগ হচ্ছে। মন চাচ্ছে কুকুরের মতো লাথি দিয়ে বের করে দিতে। এই তোর কি এখনো লজ্জা করে না? তুই আমার সামনে থেকে যাবি? সম্পদের জন্য এতটা নিচে নামতে পারিস তুই জানা ছিল না।

– অধরা আমি প্রথমে সম্পদের জন্যও তোমার সাথে অভিনয় করলেও পরিবর্তীতে তোমাকে ভালোবেসে ফেলি। আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি। তুমি পারবে না আমাকে ক্ষমা করতে?

– অধরার রাগে নিজের চুল ছিড়তে ইচ্ছে করছে।তার গার্ডদের বললো, ‘ এই তোমরা এই কুকুরটাকে বাহিরে বের করে দাও।” আর শোন তুই নেক্সট টাইম আমার নামটাও মুখে নিবি না। তুই কি জানিস না অধরার জীবনে রাজ ছাড়া কেউ নেই। সেই ছোট্টবেলা থেকেই যাকে হৃদয়ে স্থান দিয়েছি। যার বুকে একটু ঘুমাবো বলে কত কষ্ট সহ্য করে তার বাসায় পড়েছিলাম। নিজেকে রক্ষিতার সাথে তুলনা করলেও তার পায়ের নিচেই পড়ে থাকতাম। এতকিছু জানার পরেও কেন তুই আমাদের দু’জনকে আলাদা করলি? তুই মানুষ না অন্যকিছু?তোর জন্য আমার কলিজার টুকরা রাজকে কষ্ট দিয়েছি। জানি না আমার কলিজার টুকরা আমাকে ক্ষমা করবে কি না। তিয়াস আর কিছু না বলে চলে যায়।

– তিয়াস চলে যেতেই ইশু অধরাকে এসে বলে,’ আপু তিয়াস সত্যিই এতটা খারাপ? রাজ ভাইয়ার সাথে তুমি বড্ড অন্যায় করে ফেলছো।তুমি তো রাজ ভাইয়াকে ভালোবাসতে আপু। তবু রাজ ভাইয়াকে চিনতে পারোনি?
– ইশু প্লিজ। রাইমা কোথায়।

– রাইমা ঘুমাচ্ছে।

– অধরা রাইমার কাছে যেতেই বুকটা ছ্যাঁত করে উঠলো। রাইমার দোলনার পাশেই রাজকে দেওয়া অধরার ছোট্ট বেলার পুতুল। যেটা রাজ প্রায় একযুগ নিজের কাছে রেখেছিল। কিন্তু সেদিন রাজ কাঁদতে কাঁদতে পুতুলটা ফিরিয়ে দিয়ে যায়। অধরার এসব মনে পড়তেই চোখের কোণে জল এসে ভর করে। খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে। সে তার নিজের ভালোবাসাকে পায়ে ঠেলে দিয়েছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। তাই রাইমাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।

– চোখের সামনে বারবার রাজের ছবিটা ভেসে উঠছে। সেই মায়াবী মুখ। অধরার ধমঃবন্ধ হয়ে আসছে। সারা রাত আর ঘুমাতে পারেনি। মনে হচ্ছে সে তার রাজকে হারিয়ে ফেলেছে। মাঝ রাতে উঠে নামায পড়ে সিজদায় পড়ে যায় অধরা। আর বলতে থাকে হে পরওয়ারদেগার আমার আল্লাহ। মাঝরাতে যখন সবাই ঘুমাচ্ছে আমি তোমার দরবারে সিজদায় পড়েছি গো মাবুদ। আল্লাহ তুমি তো সব জানো। আমার হৃদয়ে কার বসবাস। ও আমার আল্লাহ তুমি আমার রাজকে ফিরিয়ে দাও। আমি যে ওকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না। আমি যে আমার স্বামীকে ছাড়া বাঁচবো না। ও আমার আল্লাহ রাজকে আমার করে দাও। বাকিটা জীবন যেন তার বুকেই কাটাতে পারি। আর কত কষ্ট দিবে? আমি যে আর পারছি না। ও আল্লাহ আমি অভাগী ছাড়া তোমার আরো কতো বান্দা-বান্দী আছে। কিন্তু তুমি ছাড়া আমার কেউ নেই। এসব বলে কাঁদতে কাঁদতে নামাযের সিজদাতেই ঘুমিয়ে যায় অধরা ।

– পরের দিন সকালে রাইমার কান্না শুনে ঘুম ভেঙে০ড়ড়দড়ড় যায় অধরার। রাইমাকে কুলে নিয়ে বাহিরে বের হতেই ইশু বলে,’ আপু তোমার টিকেট। রাতে ফ্লাইট। আর শোন প্লিজ টেনশন করো না আল্লাহ সব ঠিক করে দিবে।

– ইশু তুই ও আসই না আমার সাথে।

– আপু এদিকটা কে সামলাবে?
– আচ্ছা তুই এখানে সব দেখিস। আমি রাজকে নিয়েই ফিরবো। রাত্রেই অধরা রাইমা সাথে চারজন সেক্রোয়েটিকে নিয়ে বাংলাদেশের ফ্লাইটে চড়ে।

পরের দিন বাংলাদেশে এসে হোটেলে উঠে। সকালের ব্রেকফাস্ট করার জন্য অর্ডার দিলে, ‘ একটা ছেলে খাবার নিয়ে এসেই অধরাকে দেখে চমকে যায়।

– কাঁপা কাঁপা কন্ঠে ছেলেটা বলে,’ আপু তুমি ভালো আছো?
– অধরা ছেলেটাকে দেখেই চিনে ফেলে। এই সেই ছেলে যে হোটেল থেকে পালাতে সাহায্য করে অধরাকে।

– ভাইয়া কেমন আছো? আর তুমি তো কক্সবাজার ছিলে। তাহলে এখানে কিভাবে?
– আপু এখানে এসেছি প্রায় মাস খানেক হলো। আগের থেকে বেতনও ভালো। আর মন চাইলেই মায়ের কাছে চলে যেতে পারি।
– ওহ্ আচ্ছা। সেদিন তোমার কোন সমস্যা হয়নি পরে? আমাকে পালাতে সাহায্য করলেন যে
!

– আপু সমস্যা হয়নি।

– প্লিজ ভাইয়া একটা কথা সত্যি বলবেন?

– হ্যাঁ বলেন আপু চেষ্টা করবো।

– যেদিন আমাকে পালাতে সাহায্য করলেন। সে দিনের ঘটনাটা বলুন। প্লিজ সত্যিটা বলবেন।

– আপু সেদিন আমি পালাতে সাহায্য করিনি। যে ভাইয়াটা আপনাকে রুমে আকটে রেখে চলে গিয়েছিল। সে ভাইয়াই বলেছিল আপনাকে পালাতে সহযোগিতা করতে। আমি যা যা করছি সব ভাইয়ার প্লান মোতাবেক। তবে আপু ভাইয়াটা অনেক ভালো। আমাকে যা টাকা দেওয়ার কথা ছিল তার দ্বিগুণ দিয়েছিল। মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে সম্পূর্ণ দায়ভায় সে নিজের করে নিয়েছিল। আপনাকে সত্যিই অনেক ভালোবাসে ভাইয়া।

– অধরা কি বলবে বুঝতে পারছে না। অধরার আর বুঝতে বাকি থাকে না রাজ নিজেকে খারাপ বানানোর জন্যই এসব করেছে। অধরা আর একমুহূর্ত দেরী না করে রাজের বাসায় চলে যায়। রাজের বাসায় গিয়ে জানতে পারে রাজের ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগায় সে পথের ভিখারী হয়ে যায়। এতে করে বাড়ি বিক্রি করে ব্যাংক লুন পরিশোধ করে। বাড়িওয়ালাকে রাজের ঠিকানা জিজ্ঞেস করলে বলে যে তারা জানে না সে কোথায়।

– এদিকে দেখতে দেখতে প্রায় ছয় বছরে কেটে যায়। ছয় বছরে অধরা রাজকে কত জায়গায় খুঁজেছে।কিন্তু কোথাও পায়নি।

– এদিকে অধরা তার ব্যবসার কাজে আমেরিকায় গিয়ে রাজকে রেস্টুরেন্ট দেখে চমকে যায়। রাজের সাথে একটা চার- পাঁচ বছরের মেয়ে বসে আছে । রাজকে পাপা পাপা বলছে। রাজ নিজ হাতে মেয়েটাকে খাইয়ে দিচ্ছে।

—– চলবে”””