আমার আসক্তি যে তুমি Part-15+16

0
3673

পর্ব ১৫+১৬
#আমার_আসক্তি_যে_তুমি
#Part_15
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
.
???
অন্যদিকে নিস্তব্ধ এক প্রহরে রাতের অন্ধকারে কেউ একজন পৈচাশিক হাঁসিতে মেতে উঠেছে। স্তব্ধ পরিবেশটিও যেন তার হাসিতে কেঁপে উঠছে। দূর থেকে হিংস্র শেয়ালের হাঁকটিও যেন এই হাসির সাথে তাল মিলাচ্ছে।
হাতে থাকা ড্রিংকসের গ্লাসটি সমান তালে ঘুরিয়েই চলেছে আর হেসে চলেছে। চোখ মুখে এক তৃপ্তির ছোঁয়া।
সে আর কেউ নয় বরং আবির।
তার সামনেই কাঁচুমাচু হয়ে দাড়িয়ে আছে সূর্য। আবিরের এই ভয়ংকর হাসিটা তার শরীরে কম্পন সৃষ্টি করছে। শরীরটা বার বার কাটা দিয়ে উঠছে। আবির নিজের হাসি থামিয়ে বাঁকা হাসতে থাকে আর ড্রিংকসের গ্লাসে সিপ করতে থাকে।
সূর্য অনেক ধরেই আবিরকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না। অবশেষে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠে।
.
— এএএকটা ককথা জজিজ্ঞাস ককরি স্যার??
.
— হ্যাঁ করো!!
.
— আপনি রিয়ানা ম্যামকে নিজেই ধাক্কা দিয়ে পানিতে ফেলে দিলেন তার পর নিজে গিয়েই তাকে বাঁচালেন!! কিন্তু কেন?? এতে লাভ কি হলো?? আমি যতটুকু জানি আপনি রিয়ানা ম্যামকে ভালবাসেন তাহলে তাকে বিপদের মুখে কেন ফেললেন??
.
আবির বাঁকা হেসে উঠে দাড়ায় তারপর ধীর পায়ে সূর্যের দিকে এগিয়ে আসে। আবিরকে এইভাবে আসতে দেখে সূর্যের গলা শুকিয়ে যায়। পা রীতিমতো কাঁপতে শুরু করে। আবির ওর সামনে এসে ওর কাধে হাত রাখে তারপর বলে,
.
— অন্য দিন আমায় এমন প্রশ্ন করার দুঃসাহস দেখালে হয়তো তোমায় কঠোর হতে কঠোর শাস্তি দিতাম কিন্তু আজ আমার মন অনেক ভালো তাই বেঁচে গেলে। আজ যা জানতে চাও সব কিছুর উত্তর দিব আমি। বাঁকা হেসে!!
.
প্রথমে আবিরের এমন কথায় সূর্যের জান যায় যায় অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিল। দম বন্ধ হয়ে এসেছিল কিন্তু আবিরের শেষের কথায় সে স্বস্তির নিশ্বাস নেয়। কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘামগুলো মুছে নেয়। তারপর আগ্রহ নিয়ে আবিরের মুখের দিকে তাকায় আবিরের কথা শুনার জন্য।
আবির সূর্য থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজের জায়গায় গিয়ে বসে তারপর পায়ে পা তুলে বলে।
.
— যখন কোন জিনিস সোজা আঙুলে না পাওয়া যায় তখন আঙুল বেঁকা করতে হয়!! তেমনেই রিয়েল লাইফেও কখনো হিরো সাজতে হলে তার আগে ভিলেন সাজতে হয়!!ভালবাসার একটা খুব প্রচলিত কথা তো জানোই,
“Everything is fair in love and war.”
.
সূর্য হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ায়।
.
— ঠিক তেমনেই আমার বেলায়ও সেম। ভালবাসাকে পেতে আমি একটু বাঁকা পথ বেছে নিয়েছি। যেখানে ভিলেনও আমি আর হিরোও আমি। রিয়ানাকে নিজের আরও কাছে আনতে ওকে বিপদের মুখে ঢেলে দেওয়া আবশ্যক ছিল। ওর জীবনের একটা অংশে আমার অস্তিত্ব তৈরি করা অনেক জরুরি ছিল তাই তো এত কারসাজি করা। কিছু পাওয়ার জন্য কিছুটা রিস্ক নিতেই হয়। বলে আবার বাঁকা হাসে।
.
— আচ্ছা স্যার আরেকটা জিনিস জানতে চাই!!
.
— কি??
.
— ড. রিয়ানের সাথে আপনার কিসের সম্পর্ক??
.
রিয়ানের নাম শুনতেই আবিরের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। চোখ মুখ লাল হয়ে যায়। এক হিংস্রতা প্রকাশ পায় তার চেহারায়। হাতে থাকা গ্লাসটা সে ছুড়ে মারে আর চিল্লিয়ে উঠে।
.
— জাস্ট গেট লোস্ট ফ্রম হিয়ার!!! তোর সাহস কেমনে হয় আমাকে এই প্রশ্ন করার??? কিছু করার আগে বেড়িয়ে যা এইখান থেকে!! তা না হলে আজ তোর কোন ক্ষতি করে বসবো আমি!!
.
সূর্য আর কিছু না বলে দ্রুত পায়ে বেড়িয়ে আসে তা না হলে আজ ওর রক্ষা নেই। ভয়ে ওর সারা শরীর থরথর করে কেঁপেই চলেছে।
.
.
???
.
.
কিছুক্ষণ আগেই সূর্যমামা তার কিরন চারদিকে ছড়িয়ে দিয়ে এক মিষ্টি সকালের আহবান জানিয়েছেন। সূর্যের মিষ্টি আলো পাহাড়ের গায়ে পড়তেই তারা যেন প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে।আকাশে বসেছে সাদা মেঘের সমারোহ।পাখিদের মধুর ধ্বনিতে মেতে উঠেছে পরিবেশ।
সাথে এক শীতল হাওয়ার ছোঁয়া।
এমন এক সকাল যে রিয়ানা কখনো পাবে তা সে ভাবতেই পারেনি। প্রকৃতিকে উপভোগ করতে করতে হেটে চলেছে সে এক শূন্য পথে।
আজ সকলের আগেই তার ঘুম ভেঙে যায়। তাই বেরিয়ে পড়ে এই সুন্দর প্রকৃতিটাকে দেখায় জন্য।
হাটতে হাটতে তার সামনে একটি গাছ এসে পড়ে। সে তাকিয়ে দেখে কাঠগোলাপের গাছ। গাছ ভরতি গুচ্ছো গুচ্ছো কাঠগোলাপ। রিয়ানার বড্ড ইচ্ছে করলো ফুল গুলোকে ছুঁয়ে দিতে। সে হাত বাড়িয়ে ফুল ধরতেই টুপ করে ফুলটি তার হাতে এসে পড়ে। তাই সে ফুলটি নিয়ে ঘ্রাণ শুকতে শুরু করে।
হুট করেই তার সেই চিঠি পেরকের কথা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে যায় যে তার শেষ চিঠিটা এই কাঠগোলাপের সাথেই দিয়েছিল। রিয়ানা গাছের নিচে বসে এক ধ্যানে ফুলটির দিকে তাকিয়ে থাকে।
তখনই কোথ থেকে একটি আওয়াজ ভেসে আর তার কানে। সে পিছে ঘুরে দেখে এক যুবতি মেয়ে এক বৃদ্ধা মহিলার সাথে বসে আছে। বুঝাই যাচ্ছে এরা এখানকার স্থানীয় না। হয়তো ঘুরতে এসেছে। আর সে জিজ্ঞেস করছে,
.
— আচ্ছা দিদা ভাললাগা আর ভালবাসায় পার্থক্য কি? দুইটাই কি এক?
.
— নারে দুইটা এক না। দুইটাই আলাদা আলাদা। ভালবাসা তো এক শুভ্র অনুভূতি যা একবার ঝেঁকে ধরলে আর ছাড়তেই চায় না। আর ভাললাগা সে তো ক্ষনস্থায়ী। যখন তখন ছেড়ে চলে যেতে পারে।
ভাললাগার বিষয়বস্তু আছে কিন্তু ভালবাসার নেই। ভাললাগার হাজার কারণ আছে কিন্তু ভালবাসার একটাও না। অনেক সময় আমরা ভাললাগাকে ভালবাসা মনে করি। কিন্তু যখন ভালবাসার অনুভূতি যখন ঝাপটে ধরে তখন ভাললাগার কোন কিছুই আর মনে থাকে না। তাই বলা যায় ভালবাসার অনুভূতি গুলোই ভিন্ন।
.
.
তার কথা গুলো শুনে এইবার রিয়ানা বুঝতে পারে যে, ফুল পেরকের প্রতি তার না বুঝা অনুভূতি গুলো আসলে কি ছিল!! ফুল পেরক শুধু মাত্র তার ভাললাগা ছিল ভালবাসা নয়। কেন না রিয়ানের জন্য ও যে অনুভূতি অনুভব করে ওর কথা ভাবলে যেই অনুভূতিটা হয় তা কখনোই এই ফুল পেরকের জন্য হয়নি। সে তো তার এক বদঅভ্যাস ছিল মাত্র যা ছুটে যাওয়ায় তার হালকা কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সেই কষ্টটাও হারিয়ে যায়। প্রথমে তো সে ভেবেই ছিল হয়তো এইটাই ভালবাসা। কিন্তু না রিয়ানকে জানার পর বুঝেছে ভালবাসা কি!!
রিয়ানা নিজের মাথায় এক চাটি মেড়ে বলে।
.
— কত বোকা ছিলাম না আমি!! ভাললাগাকে ভালবাসার নাম দিয়ে বসেছিলাম। হয়তো রিয়ানকে ভাল না বাসলে এর তফাৎ কোন দিন বুঝতেই পারতাম না। কিন্তু তাতেও কি!! শেষ পর্যন্ত দুটোই আমার লাইফে অদৃশ্য। এই ভেবে আমি দীর্ঘ শ্বাস নেই।
ফুলের গুচ্ছোটা কানে গুজে উঠে দাড়ায় আবার হাটা ধরে সে।


[[ যারা যারা বলেছিলেন রিয়ানা এমন মেয়ে কেন?? যে কিছুদিন আগেই ফুল পেরকের জন্য ভালবাসা উথলিয়ে পড়ছি আজ আবার রিয়ানের জন্য!! কিছুদিন যেতে না যেতেই আগের প্রেম উদাও??
আচ্ছা আমি কি একবারও বলেছিলাম বা ক্লিয়ারি ফাই করেছিলাম যে রিয়ানা সেই ফুল পেরককে ভালবেসে ফেলেছে?? আমার মতে না!! আমি জিনিসটা ধোয়াশাই রেখেছিলাম। যা পরবর্তীতে আমি এমনেও ক্লিয়ার করে দিতাম। বাট আপনাদের জন্য এই কথাটা আগে ক্লিয়ার করলাম। এইবার ক্লিয়ার তহ রিয়ানার মনে কি ছিল!! ফুল পেরক রিয়ানার শুধু ভাললাগা ছিল ভালবাসা না।
এমনেই যদি কেউ আমাদের জন্য কিছুটা করে তখনই আমাদের মনে তার জন্য ভাললাগা সৃষ্টি হয়ে যায় আর ওইটা যদি দীর্ঘ দিন যাবৎ হয় তখন ভাললাগাটা আরও প্রখর হয়। কিন্তু সেটা ভালবাসা ধরা বকামি। এইটা শুধু ভাললাগা আর কিছুই না। যা আপনারা গুলিয়ে ফেলেছেন।
অবশ্য এইটা আমার ব্যর্থতা যে আমি আপনাদের তা বুঝাতে পারি নি। হয়তো বা আমি
দুইটা ফিলিংস একত্রিত করে ফেলেছিলাম যার জন্য আপনাদের বুঝতে পারেন নি। এর জন্য আমি দুঃখিত । ]]


??
.
.
সকাল থেকেই রিয়ান চারদিকে খালি রিয়ানকেই খুঁজে বেড়িয়েছে। কিন্তু কোথাও তার হদিস খুঁজে পায় নি। পড়ে একজন থেকে জানতে পারে যে রিয়ানাকে সে ওইদিকটাতে যেতে দেখেছিল।
রিয়ান আর কিছু না ভেবে সেই দিকে চলে যায়।
বেশ খানিক দূর যেতেই সে রিয়ানাকে পায় ঠিকই কিন্তু সে যা দেখলো তাতে ওর মাথা গরম হয়ে যায়। চোখ দুটো লাল হয়ে যায়। হাত দুটো মুষ্টি বদ্ধ করে ফেলে। সে দেখতে পায়…
.
.

#Part_16
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
.
?
রিয়ান সামনে তাকিয়ে দেখে আবির রিয়ানার পা তার কোলে নিয়ে মালিশ করে দিচ্ছে আর রিয়ানা চোখ বন্ধ করে আবিরের হাত খিঁচে ধরে আছে। যা রিয়ানের মোটেও সহ্য হচ্ছে না। সে পারছে না আবিরকে জিন্দা কবর দিতে। রিয়ান রাগে ফুসতে ফুসতে ওদের দিকে এগিয়ে যায়।
.
এইদিকে,
যখন আমি ক্যাম্পের দিকে আসছিলাম তখন কোন এক গর্তের সাথে পা বেজে আমি পড়ে যাই। যখন উঠতে নেই তখন ব্যথায় কুকড়িয়ে উঠি। বুঝতে পারি পা টা মচকে গিয়েছে। উঠে দাড়াতে পারছিলাম না অসহ্যনীয় ব্যথা অনুভব করছিলাম পায়ে। তাই সেখানেই পা টা ধরে বসেছিলাম।
হুট করেই কোথ থেকে আবির হলো কে জানে। আমার এই অবস্থা দেখে সে অস্থির হয়ে পড়ে। আমাকে ধরে উঠানোর চেষ্টা করে কিন্তু আমি কিছুতেই উঠতে পারছিলাম না বার বার ব্যথায় কুকড়িয়ে উঠছিলাম। তাই সে আমার পায়ে হাল্কা মালিশ করে দিচ্ছিল যাতে ব্যথাটা কমে যায়। ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ওর হাতটা খিঁচে ধরে বসে থাকি।। এমন সময় কানে সেই চিরচেনা কণ্ঠটি আসতেই ঝটপট চোখ খুলে সামনে তাকাই। তাকিয়ে দেখি রিয়ান আমার দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর রাগী কন্ঠে বলছে।
.
রিয়ানঃ এইখানে কি হচ্ছে?? এইভাবে এইখানে বসে আছো কেন?
.
আবিরঃ অহহহ ড. রিয়ান আপনি এইখানে!!! দাঁতে দাঁত চেপে।
.
রিয়ানঃ দ্যাট ইজ নান অফ ইউর বিজন্যাস! রিয়ানা কি হয়েছে তোমার?? এইখানে এইভাবে বসে আছো কেন?? চোয়াল শক্ত করে।
.
রিয়ানাঃ পড়ে গিয়ে পা মচকে গিয়েছে তাই হাটতে না পেরে এইখানে বসে আছি। আবির এইখান দিয়ে কোথাও যাচ্ছিল আমায় দেখে আমার হেল্প করতে আসে। মাথা নিচু করে।
.
রিয়ানঃ এইভাবে বুঝি হেল্প হয়?? ক্যাম্পে না এসে এইখানে বসে থেকে??
.
রিয়ানাঃ আমি তো হাটতেই পারছি না ক্যাম্প পর্যন্ত যাব কিভাবে?? উঠে দাড়াতেও পারছি না।
.
রিয়ানঃ তাই নাকি??
.
আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই আবির বলে উঠে।
.
আবিরঃ ইটস ওকে রিয়ু!! তুমি এত চিন্তা করো না আমি তোমায় ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছি।
এই বলে আবির উঠে দাড়াতে নেয় কিন্তু এরই মধ্যেই কিছু বুঝে উঠার আগেই হুট করেই রিয়ান আমায় কোলে তুলে নিয়ে হাটা শুরু করে। তাল সামলাতে না পেরে তার গলা জরিয়ে ধরি। সে একবার আমার দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে সামনে তাকায়। কিছু দূর গিয়ে একটু থেমে ঘাড় ঘুরিয়ে আবিরকে উদ্দেশ্য করে বলে।
.
রিয়ানঃ আমার স্টুডেন্টদের নিয়ে তোর এত মাথা না ঘামালেও চলবে!! বিশেষ করে রিয়ানার বেপারে তহ একদমই না। ওর জন্য আমি আছি!! এই বলে আবার হাটা শুরু করে।
আর আবির রাগে ফুসতে থাকে। মাটিতে জোরে একটা বারি দিয়ে রাগ সংযত করার চেষ্টা করে।
.
আমি তহ অবাক চোখে রিয়ানকেই দেখে চলেছি। কি বললো সে মাত্র!! আমার জন্য সে আছে!! আমাকে এমন তাকিয়ে থাকতে দেখে রিয়ান বলে উঠে।
.
— আমাকে দেখার আরও অনেক সুযোগ পাবে, আজই দেখে শেষ করার দরকার নেই। আড় চোখে একবার আমার দিকে তাকিয়ে।
.
আমি লজ্জায় চোখ ঘুরিয়ে নেই। ইশশ!! কি লজ্জা!! নিশ্চয়ই রিয়ান এখন আমায় বেহাইয়া টাইপ মেয়ে ভাবছে।। উফফফ!! কেন যে তাকাতে গেলাম!! তখনই রিয়ান বলে উঠে।
.
— তাকিয়ে কোন গুনাহ করো নি যে নিজেকে এত কিছু বলতে হবে। আর তার উপর আমার মত এত হ্যান্ডসাম ছেলে সামনে থাকলে চোখ আপনা আপনি আমার দিকে চলে আসবে এইটা স্বাভাবিক।
.
— এহহ!! আসছে একবারে হ্যান্ডস্যাম!! আমার বয়ে গিয়েছে আপনাকে দেখার জন্য হুহ!! আস্ত একটা খারুস! ভেংচি কেটে।
.
— শেষে কি বললে আমায়??? চোখ গরম করে।
.
— আব বলতাসিলাম যে, আস্ত একটা খরগোশ দেখেছেন কখনো?? অনেক কিউট না!!
.
— হুহ!!
.
.
ক্যাম্পে নিয়ে আসতেই সকল মেয়েরা আমাদের দিকে হ্যাঁ করে তাকিয়ে আছে।। অনেক মেয়েরা তহ রেগে মেগে শেষ। আমার নিজেরই কেমন জানি লাগছিল। রিয়ান আমায় চেয়ারে বসিয়ে পাটা দেখতে থাকে। পাশেই ছেলে মেয়েরা বলাবলি করতে থাকে তা দেখে ড. রিয়ান কিছুটা চেঁচিয়ে উঠে আর সকলকে উদ্দেশ্য করে বলে,
— এইখানে কি কোন মুভির শুটিং হচ্ছে যে এইভাবে সবাই তাকিয়ে আছো?? নিজের কাজ ফেলে এইখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি দেখছো??Go back to your work!!! Right nowwwww!!!!
.
সকলেই তার চেঁচানোতে কেঁপে উঠে আর যে যার কাজে চলে যায়। মূহুর্তের মধ্যেই জায়গায়টা পুরো খালি হয়ে যায়। রিয়ান কিছুটা শান্ত হয়ে আমার পা আবার দেখতে থাকে। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলে,
.
— ইউ আর জাস্ট ইম্পসিবল!! খালি বাচ্চাদের মত এইদিন সেইদিক চলে যাও আর ব্যথা পেয়ে আসো। তাও আবার সেই মাপের ব্যথা পাও।। আচ্ছা বলি কি তুমি এমন বাচ্চা মানুষ হয়ে মেডিক্যালে কিভাবে চান্স পেলে?? চিটিং করে!!
.
কথাটা শুনে রাগে শরীর কাপতে থাকে।। আমাকে বলে নাকি আমি চিটিং করে চান্স পেয়েছিইইই!!! আমি তেরে গিয়ে বলি।
.
— একদম বাজে বকবেন না। আপনি আমায় চিনেন!! আমি মোটেও… “আহহহ” বলে রিয়ানের কাধটা চেপে ধরি।
আমার কথার মাঝেই রিয়ান আমার পা টা একটু ঘুরিয়ে মোচর দেয়। আমি অগ্নি দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। রিয়ান একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে।
.
— তোমার পা ঠিক হয়ে গিয়েছ কিন্তু পুরোপুরি না। একদিন বেডরেস্টে থাকতে হবে।
.
— হু। বলে মুখ ঘুরিয়ে নেই।
.
— রিয়ুপাখি!! অনেকটা মিষ্টি কন্ঠে।
.
আমি সাথে সাথে তার দিকে ফিরে তাকাই। অবাক চোখে তাকে দেখতে থাকি। তিনি কখনো আমাকে রিয়ানা বাদে অন্য কোন নামে ডাকে নি। তাহলে আজ কি হলো!! সে তার দুটো আমার হাতের উপর রেখে বলে।
.
— রিয়ু আজ তোমার থেকে কিছু চাইবো!! দিবে কি? করুন কন্ঠে।
.
আমি কি বলবো কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে রিয়ানের দিকে তাকিয়ে আছি। আজ আমি তার কন্ঠে এক আলাদাই টান অনুভব করছি। তার সাথে কোন এক মিশ্রিত অনুভূতি আমায় বার বার ছুঁয়ে দিচ্ছে। অতঃপর মাথা দুলিয়ে “হ্যাঁ” সূচক উত্তর দিলাম।
.
— তুমি আর আবিরের সাথে মতো মিশবে না। ওর সাথে কোন ধরনের কথা বলবে না। ওর সাথে কোন বন্ধুত্ব রাখবে না তুমি।
.
আমি অবাক হয়ে বলি,
— এইসব কি বলছেন আপনি!! পাগল হলেন নাকি?? আবিরের সাথে কেন কথা বলা অফফ করবো কি করেছে ও??
.
— হুসসস। কোন কথা না!! আমি যা বলেছি ঠিক তাই করবে তা না হলে এর ফল অনেক খারাপ হবে। আমি চাই না এমন কিছু হোক তাই আগেই তোমায় সাবধান করছি।
.
— আপনি আমার কে হন যে আমি আপনার কথা গুলো শুনবো?? কেন আমার লাইফে এত ইন্টারফেয়ার করছেন?? কেন?? কিসের অধিকারে এইসব বলছেন আমায় আপনি।
.
অধিকারের কথা শুনে সে কিছুটা রেগে যায় তাই সে কিছুটা চেঁচিয়ে বলে,
— তোমাকে আমার কথা শুনতেই হবে!! আর তোমার লাইফে আমি ইন্টাফেয়ার করবোই তা তোমার ভালো লাগুক আর নাই লাগুক। Because I lo….
.
— Because you.. ভ্রু কুচকিয়ে।
.
— nothing!! শুধু এতটুকু যেনে রাখো তুমি যদি আবিরের সাথে আর কথা বলো তাহলে তোমার জন্য অনেক খারাপ হবে!!
.
আমি তার দিকে সরু দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। তারপর বলি।
.
— কেমন হবে??
.
বলার সাথে সাথে রিয়ান আমার গালে টুপ করে কিস করে বসলো। আমি চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। সে মুচকি হেসে বলে।
.
— এইটা শুধু ট্রাইলার ম্যাম!! তা বাকিটা আপনি বুঝে নিনেন। লো ভয়েসে।
.
আমি পিটিপিটি করে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। তারপর কিছু না বলে উঠে দাড়াই আর ধীর পায়ে নিজের তাবুর দিকে অগ্রসর হই। আর রিয়ান আমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।
.
.
??
.
.
রাতে সবাই বনফাইরের সামনে বসে আছি। আজকে সবাই আড্ডা দিবে বলে ঠিক করেছে। তাই সকলেই গোল হয়ে বসে আছি। আজ সকলেই গানের আসর জমিয়েছি। এর মধ্যে রিয়ানও আজ উপস্থিত। রিয়ান আমার পাশেই বসে আছে। আমি বার বার আড়চোখে তাকে দেখছি। সকালের কথা ভাবতেই গায়ে এক শিহরণ তৈরি হচ্ছে। সকাল থেকে বার বার এই একটা কথায় মাথায় ঘুরছে!!
” সকালে রিয়ান এইটা কি করলো?? কেমনে করলো??”
বার বার খালি এই কথাটাই মাথায় ঘুরছিল। নিজেকে যতটা পারছি তার সামনে নিজেকে ঠিক রাখার চেষ্টা করে চলেছি। কিছুতেই তাকে বুঝাতে চাচ্ছি না যে সকালের বিষয়টা আমার উপর ইফেক্ট করেছে। তাই বেশ স্বাভাবিকভাবেই বসে আছি।
আমাদের ব্যাচেরই একজন গিটার বাজাচ্ছে আর অনেকই গান গাইছে। ঠিক তখনই আবির এসে হাজির। সবাই তহ ওকে দেখে হৈ-হুল্লোড় করা শুরু করে দেয়। অতঃপর আবিরও আমাদের আড্ডায় অংশগ্রহণ করে। আমার বিপরীত পাশেই আবির বসে।
আমি একবার আবিরের তাকাচ্ছি আরেকবার রিয়ানের দিকে। আমি কিছু না বলে চুপচাপ বসে থাকি।
সকলেই গান গাইছে একেক করে।। আবিরও গান গিয়েছে। রিয়ানকে বলার কেউ সাহস পায় নি তাও একবার বলা হয়েছিল সে গান গায় নি।তাই কেউ আর জোরও করে নি। সবার গান শেষ হলে সকলেই আমায় গান গাইতে বলে। আমি না না করলেও শেষে গান গাই।
.
.
“? তোমার নামের রোদ্দুরে
আমি ডুবেছি সমুদ্দুরে
জানি না যাব কতদূরে এখনও (২×)
আমার পোড়া কপালে
আর আমার সন্ধ্যে সকালে
তুমি কেন এলে জানি না এখনও

ফন্দি আঁটে মন পালাবার
বন্দি আছে কাছে সে তোমার

যদি সত্যি জানতে চাও
তোমাকে চাই, তোমাকে চাই
যদি মিথ্যে মানতে চাও
তোমাকেই চাই(২×) ?”
.
.
গান শেষে সকলেই করতালিতে মেতে উঠে। আমি আড়চোখে রিয়ানের দিকে তাকাই। রিয়ান এতক্ষণ আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল। চোখে চোখ পড়তেই চোখ সরিয়ে নেই আমরা দুইজন। এইদিকে এইসব দেখে আবির রাগে ফুসছে। আবির মাঝেই উঠে বলে তার দরকারী কাজ আছে তাই সে চলে যায়।
আমি কিছুক্ষণ আবিরের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকি৷ অতঃপর এক দীর্ঘ শ্বাস বেড়িয়ে আসে ভিতর থেকে।
.
.
??
.
.
রুমের সব কিছু এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে আছে। রুমের বেশির ভাগ জিনিসই ভাঙা। আবির সোফায় বসে দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে বসে আছে। চোখ একদম লাল হয়ে আছে। হাতের পাশে থাকা ফ্লাওয়ার ভাসটা দূরে ছুঁড়ে মারে আর চিল্লিয়ে বলতে থাকে।
.
— নো রিয়ান নো!! আমি কোন মতেই আমার রিয়ানাকে তোর হতে দিব না!! কখনো না!! এই প্রথম কাউকে এতটা ভালবাসেছি!! এত সহজে নিজের ভালবাসাকে হারতে দিব না। ছোট থেকেই আমি যা চেয়েছি তা তুই কেড়ে নিয়েছিস। কিন্তু এইবার আর তা হতে দিব না। রিয়ানাকে পেতে যদি আমায় তোর খুনও করতে হয় তাহলে আমি পিছ পা হবো না। রাগে ফুসতে ফুসতে।
.
?
.
আড্ডা শেষে সকলেই যে যার রুমে চলে যাই। আমার ভালো লাগছিল না বলে আমি সেই টিলার দিকে চলে যাই। আকাশে আজ সাদা সাদা মেঘের ভেলা। তার মধ্যেই চলছে অজস্র তারার লুকোচুরির খেলা। বাইরে বেশ বাতাস বইছে। শীতল এক পরিবেশ। আমি ধীর পায়ে এগিয়ে চলেছি ঠিক এমন সময়…
.
.
.
#চলবে