আমার আসক্তি যে তুমি Part-23+24

0
3635

পর্ব ২৩+২৪
#আমার_আসক্তি_যে_তুমি
#Part_23
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
.
?
আবিরের কথা জিজ্ঞেস করতে আমি সূর্যকে ফোন দেই। প্রথম বারের মত ফোন কেটে গেল। দ্বিতীয়বার ফোন দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এক পুরুষের কন্ঠে কানে ভেসে আসে।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করি সে সূর্য কিনা? সে প্রতিউত্তরে হ্যাঁ সূচক উত্তর দেয়। আমি আমার পরিচয় বলে আবিরের খবর জানতে চাই। অতঃ সূর্য যা বললো তাতে আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। সূর্য বলে।
.
— স্যার এক্সিডেন্ট করেছেন। তিনি এখন হসপিটালে এডমিট।
.
— কিভাবে কি?? কবে হলো এইসব?? ও এখন কোথায়?? I want to know everything!
.
— স্যার সেইদিন একটা কাজে ঢাকায় চলে আসে। অতঃপর ঢাকায় এসে জানতে পারেন যে তাকে একটা Song composing এর জন্য নিউইয়র্ক যেতে হবে। তাই তিনি সেইদিনই নিউইয়র্কের জন্য রওনা দেন।
নিউইয়র্ক পৌঁছে তিনি নিজে ড্রাইভ করেই যাচ্ছিলেন এমন সময় তার গাড়ির ব্রেক ফেল হয়ে যায় আর তিনি অন্য এক গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট করেন। আর তার গাড়ি উল্টিয়ে যায়।
কাঁচ ঢুকে যায় বিভিন্ন জায়গায়। দুই হাত পুরো বাজে ভাবে কেটে যায়। গলায় পর্যন্ত কাঁচ ঢুকে যায়।
ওইখানের লোকাল পুলিশ তাকে হসপিটালে এডমিট করান আর তার মোবাইল থেকে আমার নাম্বার বের করে আমাকে ইনফর্ম করে। আমি তখন বাংলাদেশে ছিলাম। এই নিউজ শুনে আমি দ্রুত ছুটে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে।
এইদিকে তাকে আইসিউতে নেওয়া হয়। অপারেশন করা হয়। অপারেশন শেষ হতে হতে আমি সেখানে গিয়ে পৌঁছাই। অতঃপর ডাক্তার এসে বলে তিনি সুস্থ কিন্তু গলায় কাঁচ ঢুকার ফলে তিনি তার আওয়াজ হারিয়ে ফেলেছেন। সে আর কখনো কথা বলতে পারবে না। এতটুকু বলেই সূর্য কেঁদে দেয়।
.
আমিও পাথরের ন্যায় বসে থাকি। চোখ বেয়ে নেমে আসে অজস্র নোনা জল। যে মানুষটা কয়েকদিন আগেও আমার সামনে সুস্থ সবল ছিল তার আজ এই করুণ অবস্থা। আমি পরের আবিরের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে সূর্য জানায় যে এখন ঠিক আছে কিন্তু তাকে এখন অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। আমি আরও কিছু কথা বলে রেখে দেই। সোশাল মিডিয়াতে কিছু বলা হয় নি। বললে হয়তো এতক্ষণে তোলপাড় লেগে যেত।
তারপর রিয়ানকে ফোন দিয়ে এইসব জানাই। রিয়ান জানায় যে সে এইসব আগে থেকেই জানে। এইবার আমি বড়সড় একটা শোকড খাই। আমি বিষ্ময়কর কন্ঠে বলি।
.
— আপনি এইসব সম্পর্কে জানেন?
.
— হ্যাঁ জানি।
.
— তাহলে আপনি আমায় কেন এইসব বলেন নি?
.
— পরিস্থিতি একটু ঠিক হলেই তোমায় জানাতাম আমি। তুমি এমনেই ইমোশনাল। এইসব তুমি সহ্য করতে পারতে না।
.
— তাও একবার আপনার আমাকে জানানো উচিৎ ছিল।
.
এই নিয়ে অনেক মেলোড্রামা হয়। রিয়ান বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে রিয়ানাকে কনভেনেস্ করার ট্রাই করে। কিন্তু রিয়ানা রাগ করে ফোন রেখে দেয়। আর বালিশে মুখ লুকিয়ে নিজের অশ্রু বিসর্জন দিতে থাকে। এক সময় সেইভাবেই ঘুমিয়ে পড়ে সে।
.
ঘুমের মধ্যেই সে অনুভব করতে থাকি যে কেউ আমায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে আছে। আমি এইবার ভয়ে চিৎকার দিতে নেই। কিন্তু তার আগেই একটি হাত এসে আমার মুখ চেপে ধরে। আমি এইবার মোচড়ামুচড়ি শুরু করে দেই। তখন কানে একটি কন্ঠ ভেসে আসে।
.
— হুসস, রিয়ুপাখি। এইটা আমি রিয়ান।
.
রিয়ানের গলা শুনে আমি শান্ত হয়ে যাই। রিয়ান এইবার আমায় ছেড়ে দিয়ে উঠে বসে। তারপর রুমের লাইট জ্বালিয়ে দেয়। আমি ছোট ছোট চোখ করে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। তারপর বলি,
.
— আপনি এত রাতে এইখানে কি করছেন?? ঘরেই বা ঢুকলেন কি করে??
.
— ভুলে যেও না এই বাসার ডুপ্লিকেট চাবি আমার কাছে আছে। আর তা তুমি এই আমায় দিয়েছিল, আমার এইখানে আশা যাওয়াতে কোন প্রবলেম না হয় তাই।
.
— তাই বলে এই মধ্যরাতে যে কাউরো বাসায় ঢুকে যাবেন?? এইটা কোথাকার মেনারস্??
.
রিয়ান আমার পাশে এসে বসে আমার গালে হাত রেখে বলে।
— অন্য কাউরো বাসায় তো ঢুকি নি!! নিজের বউয়ের বাসায় ঢুকেছি। যে এখন আমার থেকে রাগ। ভীষণ রাগ!! তার রাগ ভাঙাতে এসেছি আমি।
.
আমি এক ঝাটকায় তার হাত সরিয়ে বলি।
— ছুঁবেন না আমায়!! আপনি কেন আমায় আগে আবিরের কথা বলেন নি!! কেন লুকিয়ে গেলেন!! আমি কি আপনার কেউ না!!
.
রিয়ান এইবার আমায় তার সাথে চেপে ধরলেন,
— আমি বুঝি নি তুমি এত কষ্ট পাবে। সরি আগে বলি বলে। ভেবেছিলাম পরিস্থিতি কিছু ঠিক হলে বলবো। আমি আবিরের জন্য বেস্ট ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করেছি সেখানে। ওর কোন প্রবলেম হবে না। হি উইল বি ফাইন!!
.
আমি এইবার রিয়ানকে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠি। যত যাই হোক আবির আমার বন্ধু ছিল। ওর এই অবস্থাটা জেনে নিজেরই অনেক বেশি খারাপ লাগছে৷
আমি কান্না মিশ্রিত কণ্ঠেই বলি।
.
— প্লিজ আর কখনো কোন কথা লুকাবেন না। কষ্ট হয় আমার।
.
— ওকে আর কিছু লুকাবো না সরি!! এখন কান্না বন্ধ করো। যা হয়ে গিয়েছে তা আমরা বদলাতে পারবো না। যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আল্লাহ এর কাছে দোয়া করো যেন ও ঠিক হয়ে যায়।
.
আমি ছোট করে “হুম” বলি। কথা বলতে ইচ্ছে করছে না আর আমার। বেশ বাজে লাগছে। কেন হলো এমন? আমি চুপচাপ রিয়ানের বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়ি।
রিয়ান আমায় শান্ত করার জন্য গুনগুন করতে শুরু করে।
.
.
??
.
Sun zaalima mere
Saanu koi dar na
Ki samjhega zamaana
Tu vi si kamli
Main vi sa kamla
Ishqe da rog sayana
Ishqe da rog sayana..

Sun mere humsafar
Kya tujhe itni si bhi khabar

Sun mere humsafar
Kya tujhe itni si bhi khabar
Ki teri saansein chalti jidhar
Rahunga bas wahin umrr bhar
Rahunga bas wahin umrr bhar, haaye
[পছন্দের একটি গান❤]
.
.
??
.
রিয়ান খেয়াল করে রিয়ানা তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে গেছে। তা দেখে কিছুটা স্বস্থির নিশ্বাস নেয় সে।
কিন্তু রিয়ানের মনে এইবার ভয় ঢুকতে শুরু করে। রিয়ুপাখি যে এতটুকুতেই এত রিয়েক্ট করছে। যদি সে সত্যিটা জানে তাহলে কি আদো তাকে ক্ষমা করতে পারবে??
হয়তো না!! না আমার সত্য কখনো রিয়ানার সামনে আসতে পারবে না। রিয়ানাকে এই সত্য থেকে আড়াল রাখতেই হবে এতে যত যাই করতে হোক না কেন আমার।
রিয়ুপাখি কখনো এইসব জানবে না। আমি তাঁকে এইসব জানতে দিব না। কখনো না। (মনে মনে)
.
.
??
.
সকালে নিজের উপর তরল কিছু অনুভব করতেই জেগে উঠে বসে আমি। তারপর চারপাশে তাকিয়ে খালি রক্ত আর রক্ত। নিজের শরীরে থাকা জামাও রক্তে পরিপূর্ণ।
এইবার আমি “রক্ত, রক্ত” বলে চেঁচিয়ে উঠি।
.
.

#Part_24
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
.
?
সকালে নিজের উপর তরল কিছু অনুভব করতেই জেগে উঠে বসে আমি। তারপর চারপাশে তাকিয়ে খালি রক্ত আর রক্ত। নিজের শরীরে থাকা জামাও রক্তে পরিপূর্ণ।
এইবার আমি “রক্ত, রক্ত” বলে চেঁচিয়ে উঠি। জোরে জোরে চেঁচাতে শুরু করি।
তখনই আরিশা আর রিংকি এসে আমায় জড়িয়ে ধরে।
.
— রিয়ানু শান্ত হো!! শান্ত হো!! এইটা রক্ত না। এইটা লাল রঙের পানি। (আরিশা)
.
— দেখ এইটা রক্ত না, লাল গুলালের সাথে মিশ্রিত পানি!!
.
আমি এইবার আস্তে আস্তে চোখ খুলতে শুরু করি। তারপর চারদিকে ভালো মতো চোখ বুলিয়ে দেখি সত্যি এইটা রক্ত নয়। খাটের পাশেই এক বালতির মধ্যে লাল পানি রাখা। এইবার আমার পরানে পরান ফিরে আসে। স্বস্তির এক নিশ্বাস নেই। কিন্তু তখনও হাত পা কাঁপা স্থির হয় নি আমার। মাথায় বিন্দু বিন্দু ঘাম। তা দেখে আরশি বলে,
.
— আমরা তো মজা করে এমন করেছিলাম! আমরা বুঝি নি রে তুই এত ভয় পেয়ে যাবি। সরি রেএ!! (আরশি)
.
— আ’ম রেইলি সরি রিয়ানু!! এইটা আমরা আইডিয়া ছিল যে তোকে রঙের পানি দিয়ে জাগিয়ে তুলবো। কিন্তু তুই যে এত ভয় পেয়ে যাবি তা বুঝি নি। (রিংকি)
.
— ইট ইজ ওকে গাইস। তোরা তো আর ইচ্ছে করে এইটা করিস নি, তাই না!! হুট করে এমন হওয়া ভয় পেয়ে গেছিলাম শুধু।
বাট তোরা ভিতরে কিভাবে আসলি??
.
তারা এইবার আমার কাছ থেকে সরে এসে আমার দিকে অবাক হয়ে তাকায়। আর বলে,
.
— আর ইউ সিরিয়াস রিয়ানু?? তোর বাসার এক্সট্রা চাবি যে আমার কাছে তা কি ভুলে গেছিস? (আরিশা)
.
— উপস! সত্যি ভুলে গিয়েছিলাম। জানি না কি হয়েছে আমার, আগের অনেক কিছুই ভুলে যাচ্ছি আমি। খেয়াল থাকছে না অনেক কিছু!
.
— এখন যে কত কিছু ভুলবি!! তোর মাথায় তো এখন শুধু বিয়ে আর বিয়েই ঘুরছে। এখন তো তোর মনে শুধু ড. রিয়ান আর ড. রিয়ানই ঘুরবে শুধু। বাকি দুনিয়া দাড়ির কথা কি তোর মনে থাকবে। দুষ্টুমির সুরে। (রিংকি)
.
রিয়ান এর নাম শুনতেই আমার খেয়াল আসে যে তিনি কোথায়?? রাতে তিনি আমার সাথেই ছিলেন। তিনি কোথায় গেলেন? আরিশা আর রিংকি যদি তাকে এইখানে দেখে তাহলে তো কেলাঙ্কারি লেগে যাবে।
আমি চারপাশে আবার ভালো ভাবে চোখ বুলাতে থাকি। না তিনি তো কথাও নেই। গেল কই তাহলে!!
আমি যখন এইসব ভাবছি তখন রিংকি আমায় ঢাক্কা দিয়ে বলে।
.
— কিরে এখনো তার খেয়ালেই ডুবে আছিস!! আরেহ বইন আমাদের দিকেও একটু মন দে। কয়েকদিন পর তো এমনেই তুই তোর মেরিড লাইফে বিজি হয়ে যাবি এখন তো একটু আমাদের টাইম দে!! ( রিংকি)
.
— এই প্রথম তোর কথার সাথে সহমত আমি। (আরিশা)
.
— হুম বুঝলাম। যা এখন থেকে আর কিছু ভাববো না। আমার পুরো সময় এখন তোদের যা।
.
দুইজনেই একসাথে “ইয়েএএএ” বলে উঠে। তারপর আবার আমায় জরিয়ে ধরে। আমি এইবার বলি,
— আরেহ বাবা ছাড়!! পুরো ভিজা আমি। চেঞ্জ তো করতে দে!!
.
ওরা আমায় ছেড়ে দিয়ে নিজেদের দিকে তাকায়। তারপর আরিশা বলে।
— ইসস পুরো ভিজে গিয়েছি!! এখন চেঞ্জ করতে হবে। (আরিশা)
.
— আমারও রে দোস্ত।( রিংকি)
.
— আচ্ছা তোরা যা পাশের রুমে গিয়ে চেঞ্জ করে আয়। ততোক্ষনে আমিও ফ্রেশ হয়ে আসছি।
.
দুইজনেই আচ্ছা বলে আমার রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আমিও ফ্রেশ হতে চলে যাই। ফ্রেশ হতে নিলে ডান হাতে দেখি কিছুটা রক্তের দাগ। পড়ে ভাবি রঙের দাগই মনে হয়। শুকিয়ে গেছে তাই এমন লাগছে।
ফ্রেশ হয়ে এসে হাতে মোবাইল নিতেই মোবাইল টুং করে শব্দ করে উঠে।
মোবাইল অন করে দেখি রিয়ানের মেসেজ। মেসেজ অপেন করে পড়তে শুরু করি।
.
” ❤আসব রাতে স্বপ্ন হয়ে
থাকব আমি কাছে।
চোঁখ খুলতেই চলে যাব
ভোরের আলোর দেশে।
মাঝে শুধু রয়ে যাবে
তুমি আর আমি।❤”
.
এইটা পড়া শেষে আরেকটি এসএমএস চলে আসে।
.
“আমায় খুঁজচ্ছো বুঝি!! চিন্তা করো না ঠিক আছি। আসলে আজকে সকালে একটা অপারেশন ছিল তাই ভোর বেলায় বেরিয়ে এসেছিলাম আমি। তোমায় একবার জাগাতে চেয়েছিলাম কিন্তু তোমার সেই স্নিগ্ধ শীতল চেহেরা দেখে আর জাগাতে ইচ্ছা করে নি। তাই না বলেই এসে পড়েছি।
টাইমলি নাস্তাটা করে নিও। লাভ ইউ❤ ”
.
মেসেজটি পড়ে ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে উঠে। লোকটি যে আমায় অনেক বেশি ভালবাসে তার প্রতি আমার কোন সন্দেহ নেই।
হুট করেই উপরে মেসেজের দিকে নজর যায়। রিয়ান যে এমন ছন্দও বলতে পারে তা আমার জানা ছিল না। কিন্তু ছন্দটা থেকেই আমার সেই ফুল পেরকের কথা মনে পড়তে থাকে।
তখনই রিংকি আর আরিশা রুমে চলে আর আমার এই ভাবনার ইতি সেখানেই ঘটে যায়। তারা এসেই নাস্তার জন্য তাড়া দিতে থাকে। তারা নাকি নাস্তা নিয়ে এসেছে একসাথে খাবে বলে। আমাকে প্রায় এক প্রকার টেনেই নিয়ে গেল তারা।
.
.
??
.
নিজের কেবিনে বসে আছে রিয়ান। তার চক্ষু দৃষ্টি এতক্ষণ মোবাইলের স্ক্রিনে চলা সিসিটিভি ফুটেজের মধ্যে থাকা তার রিয়ুপাখির উপর ছিল। কিন্তু এখন সে তার চক্ষু দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিয়ে নিজের বা হাতে থাকা “রিয়ানার” নামটির দিকে নিক্ষেপ করে।
নামটি একদম রক্তবর্ন হয়ে আছে। কোনায় কোনায় এখনো রক্ত জমাট বেঁধে আছে। যা ভাবছেন ঠিক তাই। রিয়ান কালকেও নামটি আবার ছুড়ি দিয়ে নতুন ভাবে লিখেছে।
[রিয়ানা ডান হাতে তখন রিয়ানের এই রক্ত লেগেছিল। কিন্তু ও তা রঙ মনে করে যার জন্য সে ততোটা গুরুত্ব দেয় না। ]
.
রিয়ান তার বাম হাতে ঠোঁট ছুঁয়ে বাঁকা হাসে।৷ তারপর বলে,
— যা দেখবে তা শুধুই ধোঁয়াশা। যা বুঝবে তা শুধুই মিথ্যে। মিথ্যে আর ধোঁয়াশার এই সংগমনে তৈরি হবে এক গোলক ধাঁধা। যার তীর সীমানায় থাকবো শুধু আমি আর আমি।
এই আমি নামক পিঞ্জারাতে খুব জলদি বন্দী হতে চলেছ তুমি রিয়ুপাখি। দ্যা গেম ইজ জাস্ট বিগেন। বাঁকা হেসে।
.
[ রিয়ানের এই রুপটাকে কে কে মিস করছিলেন হাত তুলেন। লেখিকা ম্যাম ( আমি কিন্তু অন্য কাউকে আবার মনে কইরেন না) তাদের দেখতে চায়।?]
.
.
??
.
দুপুরের খাবার শেষে রিংকি আর আরিশার সাথে মার্কেটে আসি, বিয়ের জন্য টুকটাক জিনিস কিনা কাটার জন্য। রিংকি আর আরিশা একের পর এক দোকানে ঘুরেই চলছে। তাদের নাকি এইসব কোন কিছুই ভালো লাগছে না। তাদের একদম ইউনিক কিছু চাই।
বুঝেন এই তো বিয়েতে নিজের চেয়ে বেস্টফ্রেন্ডদের শখ বেশি থাকে। একেক জনের একেক প্লেন।
কিনা কাটা করতে করতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে আসে। যেই না মার্কেট থেকে বের হতে নিব তখনই রিংকির মনে পড়ে যে সে লিপস্টিক কিনতে ভুলে গেছে।
কথাটা শুনে মেজাজ চটে গেল। আমি বলে উঠি,
.
— ওই বান্দরনী!! তোর কি লিপস্টিকের অভাব পড়সে? মাসে ৪০ টা লিপস্টিক কিনস তাও মন ভরে না তোর??
.
— বইন তোর এই প্রথম বিয়া, বুঝিতাসোস কতটি ফাংশন!! আমি মোটেও একটা লিপস্টিক সেকেন্ড টাইম কোন ফাংশনে পড়তে চাই না। একেক ফাংশনে একেক কালার পড়বো আমি। আর তাই আমার লিপস্টিক কম পইড়া যাইবো। যদি শেষ হয়ে যায়? তাই ব্যাকআপ কিনে রাখছি। (রিংকি)
.
— আচ্ছা সবই বুঝলাম কিন্তু আমার প্রথম বিয়া মানে কি?? তুই কি আমার বহুবিবাহ করাবি নি। ভ্র কুচকিয়ে।
.
— আসতাগফিরুল্লা!! কি বলস এইটি!! তোবা তোবা!!
তুই কেমনে পারলি এমন দোষ আমার উপর লাগাইতে। লজ্জা করলো না তোর একবারও? ভাবলিও না এই কথাটা আমারে কতটা হার্ট করবো?? নেকা কান্না শুরু করে। (রিংকি,)
.
— রিয়ানু কারে কি বলস তুই?? এই স্টার জলসার দোকানরে কিছু বলাই মানে লাইভ স্টার জলসা দেখা। ওর কথা ছাড় তো। (আরিশা)
.
— হুহ!!
.
— তুই লিপস্টিক কিনবি তো আয় আমার সাথে আয়!! তোর লিপস্টিক চুস করতে হেল্প করুম নে। ( আরিশা)
.
— তুই আমার জান্টুস। আমার পরান জিগারেএ দোস্ত। লাভ ইউ উম্মাহ। (রিংকি)
.
— দুরে থাক। তেল দিতে হইবো না। ওই রিয়ানু তুই যাবি নাকি দাড়াবি?? (আরিশা)
.
— একা দাড়িয়ে আর কি করবো চল।
.
অতঃপর একটা দোকানে গিয়ে দাড়াই আমরা। রিংকি একের পর এক লিপস্টিক দেখেই চলেছে। আমি পাশে দাড়িয়েই তা দেখছি।
এক সময় আমার প্রচন্ড পিপাসা পেতে শুরু করে। পানির বোতল বের করে দেখি খালি। তাই আমি ওদেরকে বলে পানি নেওয়ার জন্য বেরিয়ে আসি।
পানি কিনে তা খুলার চেষ্টা করতে করতে হাটতে শুরু করি। হুট করেই কাউরো সাথে ধাক্কা খাই। হাতে থাকা পানির বোতল আর ব্যাগটা পড়ে যায়। আমি “সরি” বলে দ্রুত নিচে বসে সে গুলো তুলতে শুরু করি। সেই ব্যক্তিটিও নিচু হয়ে কয়েকটা ব্যাগ উঠিয়ে দেয়।
সব উঠিয়ে মাথাটা উঁচু করে যেই না তাকে থেংক ইউ বলতে যাব তখনই তার চেহারা দেখে আমি থমকে যাই।
তাকে দেখে ভয়ে শরীর হাত-পা সমানে কাঁপতে শুরু করে। গলা শুকিয়ে একদম কাঠ হয়ে যায়। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে যায়। সেই ব্যক্তিটি আমায় দেখে বিদঘুটে হাসি হাসছে। যা আমার শরীরে কাটার মত বিদছে। নড়ার শক্তি পর্যন্ত পাচ্ছি না।
আমি কোনমতে একটু পিছিয়ে এক দৌড়ে সেখান থেকে চলে আসি। সেই ব্যক্তিটি এখনো সেই একই জায়গায় দাড়িয়ে বিদঘুটে হাসি হেসেই চলেছে।
.
.
.
#চলবে