আমার আসক্তি যে তুমি Part-27+28

0
3297

পর্ব ২৭+২৮
#আমার_আসক্তি_যে_তুমি
#Part_27
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
.
?
সকাল থেকেই বাসায় তোড়জোড় লেগে আছে। রিংকি আর আরিশার বাবা মাও এসে পড়েছে। তারা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমাকে তারা কোন অংশে নিজের মেয়ের থেকে কম ভালবাসে না। বরং একটু বেশিই ভালবাসে। তাই আমার বিয়েতে তারাই আমার রিলেটিভ হিসাবে থাকবেন। আর সব দ্বায়িত্ব পালন করবে।
কিছুক্ষণ আগেই রিয়ান আমার জন্য এংগেইজমেন্ট ড্রেস, অর্নামেন্টস, কসমেটিকস সব পাঠিয়ে দিয়েছে। রিংকি আর আরিশা,সব খুলে খুলে দেখছে। আমি খাটের এক কোনে বসে ড্রেসটার দিকে এক মনে তাকিয়ে আছি। মনের মধ্যে চলছে আমার এক ভয়ংকর ঝড়। যা আমাকে বার বার এলোমেলো করে দিচ্ছে।
কালকে রাতে মেসেজটি পড়ার সাথে সাথেই আমি বুঝে গিয়েছিলাম এইটা আরিয়ানের মেসেজ। আরিয়ান কোনদিনই আমায় খুশি থাকতে দিবে না। নিজেকে সংযত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি তাও বার বার ব্যর্থ হচ্ছি। অনেক কান্না পাচ্ছে কিন্তু কান্না করছি না। কোন মতে নিজেকে সামলিয়ে রেখেছি। আমাকে যে দূর্বল হলে চলবে না। নিজেকে শক্ত করার বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আমি যখন এইসব ভাবছি তখন আরিশা আর রিংকি আমার পাশে এসে বসে। আরিশা আমার কাধে হাত রাখতেই আমি চমকে উঠি। আরিশা আমাকে কিছু ছবি দেখিয়ে বলে।
.
— দেখ দেখ!! ড. রিয়ান তোর জন্য এংগেইজমেন্ট রিং এর কিছু ছবি পাঠিয়েছে। দেখ তোর কোনটা ভালো লাগে? (আরিশা)
.
— উফফ রিং টি জোস!! আমি তো দেখেই ক্রাশ খেলাম। (রিংকি)
.
— বইন! জীবন্ত মানুষ কি কম পড়েছিল নি যে এখন তুই এই জড়বস্তুর উপরও ক্রাশ খাওয়া শুরু করেছিস। (আরিশা)
.
— সাট আপ! ইউ ফক্কিন্নি! তুই কি বুঝবি ক্রাশ খাওয়া ও একটা আর্ট। যা সবাই পারে না হুহ! (রিংকি)
.
— কচু পারে না! হুহ! (আরিশা)
.
আমি এখনো আগের ন্যায় চুপচাপ বসে আছি। তা দেখে আরিশা কিছুটা খটকা লাগে। সে বলে,
.
— রিয়ানু কি হয়েছে তোর? সকাল থেকেই দেখছি তোর মন খারাপ। মুখে না আছে কোন কথা, না আছে কোন হাসি, না আছে কোন আনন্দের ঝলক। আজ যে তোর এংগেইজমেন্ট তার জন্য তোর মধ্যে আমি কোন এক্সাইটমেন্টই দেখতে পাচ্ছি না। কি হয়েছে আমায় বল?
.
আমি এইবার নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। আরিশাকে ধরে কেঁদে দিলাম। আরিশা আর রিংকি এইবার বেকুবের মত চেয়ে থাকে। কি হচ্ছে তারা কিছুই বুঝতে পারছে না। আরিশা এইবার আমায় জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। তারপর বলে,
.
— কি হয়েছে আমার জান্টুসটার? এইভাবে কাঁদছে কেন সে?
.
আমি কাঁদতে কাঁদতে বলি,
.
— মমোবাইল.. মমেসেজ! গলা ধরে আসছিল আমার যার জন্য কথা বলতে পারছিলাম না।
.
আরিশা এইবার রিংকিকে বলে আমার ফোনটা আনতে। রিংকি আমার ফোনটা খুঁজে নিয়ে আসে। আমার ফোনে লক না থাকায় আরিশা সহজেই মোবাইল খুলে মেসেজ অপশনে চলে যায়। তারপর আরিয়ানের দেওয়া মেসেজটা পড়ে। রিংকিও সাথে পড়তে থাকে মেসেজটা। তখন আমি বলি।
.
— আরিয়ান আমায় ভালো থাকতে দিবে না রে। ও আমায় এইবার আমার সকল খুশি কেড়েই নিবে। ধ্বংস করে দিবে আমায়।
.
আরিশা এইবার আমার দুই গালে হাত রেখে বলে।
— তুই এইবার আমায় বল, তুই কেন ভয় পাচ্ছিস? তুই কোন খারাপ কাজ করেছিস? (আরিশা)
.
আমি মাথা দুলিয়ে “না” সূচক উত্তর দেই।
.
— ওই ঘটনাতে তোর কোন দোষ ছিল? বা তুই কি নিজ ইচ্ছায় জড়িত ছিলি? (আরিশা)
.
আমি আবার মাথা দুলিয়ে “না” সূচক উত্তর দেই।
.
— তুই কি কোন ভুল বা অন্যায় করেছিস? আরিয়ানের সাথে কি তোর কোন সম্পর্ক ছিল?(আরিশা)
.
— না।
.
— তাহলে তুই কেন ভয় পাচ্ছিস? যা করেছে সব আরিয়ান করেছে। ভয় পেতে হলে ওকে পেতে হবে। তুই কেন ভয় পাচ্ছিস? তোর এইখানে কোন দোষ নাই রে। কেন তুই ওর সামনে নিজেকে দূর্বল করছিস? কেন ওকে তুই নিজের উপর জোর চালানোর সুযোগ দিচ্ছিস? (আরিশা)
.
— আমি কি করবো বল? ওর কথা মনে করলেই আমার সেই দিনের কথা মনে পড়ে যায়৷ যার জন্য ওকে দেখলেই আমায় ভয় করে। জানি ও আমার কিছু করতে পারবে না কিন্তু তাও। বার বার আমার সেই কালো অতীতটাই মনে পড়ে। তখন নিজেকে সামলিয়ে রাখা দায় স্বরুপ হয়ে উঠে। বিশ্বাসঘাকতা এত সহজে ভুলা যায় না। ও আমাকে পুরো পুরি ভাবে ভেঙে দিয়েছিল যা আমি জোরা ঠিকই লাগিয়ে নিয়েছিলাম কিন্তু দাগটা এখনো রয়েই গিয়েছে।
.
— আমি জানি! কোন মেয়ের পক্ষেই এইসব ভুলা সম্ভব না। কিন্তু তাও তুই পেরেছিলি। সব ভুলে মুভ অন করতে পেরেছিলি তুই। আর এর জন্য আমরা গর্বিত। (আরিশা)
.
— দেখ ভয় পেয়ে লাভ নেই। যা হবার হবেই। তুই যখন কোন ভুল করিস নি তখন ভয় কেন পাবি? এইবার ভয় ও আমাদের পাবে। আগের বার যে শাস্তি অর্ধেক রয়ে গিয়েছিল এইবার তা সে পূর্ণ রুপে পাবে। এইবার আমি ওকে কাছে পেলে ওর ছোট ছোট টুকরা করে তার কিমা করে আমার ইন্দুরদের খাওয়াবো। (রিংকি)
.
— আর আমি ওকে ব্ল্যান্ডারে জুস করে তার মধ্যে আদা, রসুন, মরিচ, তেলাপোকা শিং, মশা মগজ, হাতির নখ, হরিনের দাঁত, এনাকোন্ডার ডিম দিয়ে গন্ডারদের খাওয়াবো। ( আরিশা)
.
( কেউ কি এই ড্রিংক টেস্ট করতে চান??)
.
আমি এইবার না হেসে পারলাম না। আমার হাসি দেখে দুইজনে এইবার হেসে দেয়। আর দুই পাশ থেকে দুইজনেই জড়িয়ে ধরে। আর বলে,
.
— এইভাবেই সবসময় হাসতে থাকবি কেমন?
.
.
??
.
রিয়ান সকাল থেকেই দৌড়ের উপরে। বাসায় বেশ কিছু মেহমানও এসে পড়েছে। তাদের আপায়নে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে সে।
মেহমান বলতে, রিয়ানের দিদা, রিয়ানের ছোট ফুপু সাথে তার জামাই আর দুই মেয়ে, রিয়ানের দুই খালা তার সাথে তাদের জামাই আর তাদের চার ছেলে মেয়ে।
.
.
[[ পরিচয় পর্বঃ
ছোট ফুপুর নাম রাহেলা আর তার দুই মেয়ের নাম নিলা আর রিনা। জমজ দুইজন। দুইজনেই রিয়ানের বেশ ছোট। সবে মাত্র এইবার এইচএসসি দিবে।
বড় খালার নাম হিনা। তার ঘরে একটা মাত্র ছেলে সন্তান। ছেলের নাম শুভ। একটা প্রাইভেট কোম্পানি জব করে। বিয়ে করেছে আর তার একটা মেয়েও আছে। নাম রাইশা।
ছোট খালার নাম নাসরিন। তার ঘরে দুই ছেলে এক মেয়ে। এক ছেলের নাম হিমেল। এইবার অনার্ষের ৩য় বর্ষে পড়ে। অন্য ছেলের নাম সিয়াম। অনার্ষের ১ম বর্ষে ছাত্র। মেয়ের নাম মাইশা। এইবার এসএসসি দিবে। ]]
.
.
রিয়ান সকলকে তাদের ঘর দেখিয়ে দিয়ে তাদের রুমে নাস্তা পাঠিয়ে দেয়। ছোটরা সব এক রুমে আর বড়রা অন্য রুমে। দিদার জন্য আলাদা রুম দেওয়া হয়েছে। আর বড় খালার ছেলে শুভ আর তার বউ বাচ্চার জন্য আলাদা একটা রুম।
এত মানুষ হবে বলে রিয়ান আগে থেকেই দুইজন সার্ভেন্টকে ঠিক করে রেখেছিল।
রিয়ান এইবার ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ে। তারপর একটা দীর্ঘ শ্বাস নেয়। পকেট থেকে ফোন বের করে সিসিটিভি ফুটেজটা অন করে দেখার জন্য তার রিয়ুপাখি কি করছে!
সিসিটিভি অন হতেই রিয়ানার হাসউজ্জ্বল মুখ ভেসে উঠে৷ সে আরিশার আর রিংকি এর সাথে হেসে হেসে কথা বলছে আর সব কিছু দেখছে। এইটা দেখে রিয়ান স্বস্তির নিশ্বাস নেয়। তারপর মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে,
.
— “❤রিয়ুপাখি, তোমার হাসি
সহস্র মেঘের শুভ্রতা নিয়ে ছুঁয়ে যায় আমার হৃদয়,
ছুঁয়ে যায় আমার স্বপ্নগুলো,
ছুঁয়ে যায় আমার পাগল মনটা কে।
আমি দিশেহারা হয়ে তোমার প্রণয় সমুদ্রে
হারিয়ে নিজেকে খুঁজে পাই পৃথিবীর নতুন বিস্ময় ,
ভালোবাসি তোমায়। ❤”
.
.
এই বলে মোবাইল স্ক্রিনে ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে। তখন নিলা ( ছোট ফুপুর মেয়ে) এসে বলে,
— ভাইয়া আপনাকে দিদা ডাকছে। (নিলা)
.
রিয়ান কথাটা শুনে দাড়িয়ে পড়ে আর নিজের পকেটে মোবাইল ভরতে ভরতে বলে,
.
— তুমি যাও আমি আসছি। এই বলে হাটা ধরে।
.
.
রিয়ানের আর জানা হলো না এই হাসি মুখের পিছে লুকিয়ে থাকা কষ্ট আর যন্ত্রণাটা।
.
.
??
.
সকল জিনিস গুলোতে হাত বুলিয়ে দেখছি। দেখেই বুঝা যাচ্ছে একেকটা জিনিস খুব যত্নসহ কারে প্যাক করা হয়েছে। সব কিছুই আমার পছন্দের। আমি মুগ্ধ হয়ে সব দেখছি।
ঠিক তখন আরিশা বলে উঠে।
— রিয়ু প্রমিস কর তুই এখন থেকে আর ভয় পাবি না। যত যাই হোক। আরিয়ান সামনে এসে পড়লেও তুই নিজেকে দূর্বল হতে দিবি না। (আরিশা)
.
— ওকে প্রমিস। আমি নিজেকে ওর সামনে দূর্বল হতে দিব না।
.
— আর হ্যাঁ আজকেই ড. রিয়ানকে সব বলে দিবি। (রিংকি)
.
— হ্যাঁ আমিও ভেবেছি। আজ এংগেইজমেন্টের পর সব জানিয়ে দিব তাকে।
.
— দ্যাট ইজ লাইক এ গুড গার্ল। এখন রিং চুজ কর। ড. রিয়ানকে দিতে হবে তো। (আরিশা)
.
— আর কত ড. রিয়ান বলবি? এখন তো তিনি তোদের দুলাভাই। তো ভাইয়া বলতে শিখ।
দুইজনের মাথায় এক বারি মেরে।
.
— কি করুম অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। বদলাতে একটু টাইম লাগবে। (আরিশা)
.
— কেয়া কারু ও লেডিস মেহু আদাত সে মাজবুর। দাঁত কেলিয়ে। (রিংকি)
.
— হাইরে রিংকি রেএএ, সত্যি তুই স্টার জলসার দোকান। (আরিশা)
.
— আই নো বেবি। ভাব নিয়ে। (রিংকি)
.
এই বলে তিন জনেই হেসে উঠি। তখন দরজায় নক পড়াতে আমরা তিনজনে সেইদিকে তাকাই। আর যাকে দেখি তাতে তিনজনই শোকড হয়ে যাই। নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম যে আদো এইটা সত্যি কি না! হুট করেই চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো আমার।

#Part_28
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
.
?
দরজায় নক পড়াতে আমরা তিনজনে সেইদিকে তাকাই। আর যা দেখি তাতে আমি শোকড হয়ে যাই। নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম যে আদো এইটা সত্যি কি না! হুট করেই চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো আমার। কেন না সামনে রিংকির বাবা দাড়িয়ে আছে। তার হাতে ১৭-১৮ ইঞ্চি এর একটা ফটো ফ্রেম। ফটো ফ্রেমের মধ্যে থাকা ছবিটা আর কাউরো না বরং আমার আর আমার বাবা-মার। ছবিটা বেশ পুরানো। যখন আমার বয়স ৮ বছর তখন এক পার্কে দুইজনের সাথে এই ছবিটা তুলা। দেখতে একদম পার্ফেক্ট ফ্যামিলি লাগছে। একদম প্রাণবন্ত আর হাসউজ্জ্বল।আমি অশ্রু ভেজা মুগ্ধ চোখে ছবিটির দিকে তাকিয়ে আছি।
তখনই পাশ থেকে রিংকি আর আরিশা চেঁচিয়ে উঠে।
.
— সাপ্রাইসসসসস!!
.
আমি এইবার অবাক হয়ে দুইজনের দিকে তাকিয়ে আছি। দুইজন মুখে একটা হাসি টেনে বলে।
.
— কেমন লাগলো সাপ্রাইসটা? (আরিশা)
.
— জানিস কত কষ্ট করতে হয়েছে এই ছবিটা খুঁজতে? তার উপর এমন সাপ্রাইস প্লেন করতে! এখন সেই কষ্টের ফল হিসাবে ফিড ব্যাক দে কেমন লেগেছে সাপ্রাইসটা। (রিংকি)
.
আমি খুশিতে দুইজনকে জড়িয়ে ধরি আর বলি।
— আমার লাইফের বেস্ট সাপ্রাইস এইটা। আসলে বলতে গেলে তোরাই আমার লাইফের বেস্ট পার্ট।
তোদের বলে বুঝাতে পারবো না তোরা আমায় কি উপহার দিয়েছিস! এইটা যে আমার জন্য কি তা মুখে প্রকাশ্য নয়।
.
— হয়েছে হয়েছে এত সেন্টি হতে হবে না। এইটা আমরা আমাদের বেস্ট ফ্রেন্ডের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য করেছি। তোর কি তাতে হ্যাঁ? তোরে এইটা দিয়েছি নি! (রিংকি)
.
— ওরেএএ বাটপার! এই বলে হেসে দেই।
.
— আঙ্কেল ফ্রেমটা ওই দেওয়ালে ঝুলিয়ে দেন। (আরিশা)
.
— আচ্ছা। আর হ্যাঁ শুনো তোমাদের আন্টি কিন্তু নাস্তার জন্য সেই কখন থেকেই চলেছে। তারাতাড়ি যাও আর খেয়ে নাও। (রিংকির বাবা)
.
— আচ্ছা আঙ্কেল/বাবা। (সবাই এক সাথে)
.
.
( অবিশ্বাসের মান রাখতেই কালকে গল্পের শেষে এমন ঘোল খাইয়েছি? হুহ আমাকে অবিশ্বাস করা! এইবার বুঝো মজা?)
.
.
আঙ্কেল ছবিটি ঝুলিয়ে চলে সাথে তার পিছু পিছু আরশি আর রিংকিও রুম থেকে বেরিয়ে যায়। আমি ধীর পায়ে সেই ছবিটি কাছে যেয়ে ছবিটাকে ছুঁয়ে দেই। হুট করেই আবার আমার গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। আমি ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলি।
.
— দেখ তোমাদের সেই ছোট পরিটা আজ কত বড় হয়ে গিয়েছে। আজ তার এংগেইজমেন্ট বুঝলে। আর খুব শীঘ্রই বিয়ে। আচ্ছা তোমরা দুইজন খুশি তো! আমি কিন্তু অনেক খুশি। আচ্ছা তোমরা কি পারতে না আমার এই খুশির সময়ে আমার পাশে থাকতে? বাকি ৮-১০ টা মেয়ের মত কি আমার বিয়েটা হতে পারতো না? যেখানে আমার পুরো পরিবার থাকতো!
.
এই ভেবেই ভিতর থেকে এক বুক ফাঁটা আর্তনাদ বেড়িয়ে আসে। আমি যে ভিতরে ভিতরেই কষ্টের আগুনে পুড়ছি।
.
— একা তো রেখেই চলে গেলে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ করতে। তোমরা যাওয়ার পর কোন আত্মীয় ও এসে জিজ্ঞাস করলো না “কেমন আছি? ভালো আছি কি না?”
ভুলেও গিয়েছি তাদের। এত স্বার্থবাদি লোকদের মনে রেখে কি লাভ বলো? কিন্তু একটা কথা কি জানো তোমাদের না বড্ড বেশি মনে পড়ে। এখন যেন একটু বেশি। আজ শুধু একটা কথাই জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে, ” আমি কি অনাথ না হলে পারতাম না? ”
একটা মেয়ের কতই না স্বপ্ন থাকে তার বিয়ে নিয়ে অথচ আমাকে দেখো আমি এই স্বপ্ন কখনো দেখি এই নি। কেন জানো, ভাবতাম আমার মত অনাথকে কে ভালবাসবে? সবাই তো টাকাই দেখেই। কিন্তু না, আমি ভুল ছিলাম। সবাই টাকা দেখে না। অনেকে শুধু ভালবাসাই চায়।
তাই তো আজ আমি আমার রিয়ানের রিয়ুপাখি। শেষের কথাটা নিজের ঠোঁটের কোনে একটা মুচকি হাসি টেনে বলি।
.
তখনই রিংকি এর ডাক পড়ে নাস্তা খাওয়ার জন্য। আমি নিজের চোখ মুছে বেড়িয়ে আসি রুম থেকে।
.
.
??
.
.
— দীদা ডেকেছিলে?
.
— হ্যাঁ রে। এইদিকে আয় তো। বোস আমার কাছে।
.
রিয়ান তার পাশে বসে।
— বলো।
.
দীদা তার ব্যাগ থেকে একটা সেট বের করে। ডাইমোন্ডের সিম্পল একটা সেট। কিন্তু তার সরু কাজটাই এইটাকে ফুটিয়ে তুলেছে। দীদা সেটা রিয়ানের হাতে দিয়ে বলে।
— এইটা এতদিন আমি আমার নাত বউয়ের জন্য যত্নে তুলে রাখছিলাম। আমি চাই এইটা ওই আজকের অনুষ্ঠানে পড়ুক।
.
— ইট ইজ সো বিউটিফুল দীদা। রিয়ুপাখি অবশ্যই আজ এইটা অনুষ্ঠানে পড়বে।
.
— তোর মা আজ বাইচ্চা থাকলে দেখতি নে তোর বউরে পা থেকে মাথা পর্যন্ত অলঙ্কারে ভরাইয়া দিতো। কোন কমতি রাখতো না তোর বিয়াতে।
কিন্তু সেটা আর হইলো কই? তাই আমার থেইক্কা যতটুকু হইবক ততোটুকুই করার চেষ্টা করতাসি।
.
— উফফ দীদা!! কি কথা নিয়ে বসলা বলতো। আর তোমার নাতী এর কি যোগ্যতা নেই নিজের বউকে অলঙ্কারে সাজিয়ে রাখার? চিন্তা করো না আমার বিয়েতে সব একদম পার্ফেক্ট হবে। আমি কোন কিছুর কমতি রাখতে দিব না এই বিয়েতে।
.
— হাইরে আমার পাগলা নাতীরে!!
.
— আচ্ছা দীদা বড় ফুপু কখন আসবে?
.
— কইসে তোর অনুষ্ঠানের আগে আইয়া পরবো। প্লেন নাকি ছাড়তে দেরি হইবো।
.
— আচ্ছা।
.
.
??
.
— এই রিংকি তোর হয় নাই? আর কতক্ষণ ওয়েট করবো? (আরিশা)
.
— আরেহ হয়ে গেছে। আর ৫ মিনিট!(রিংকি)
.
— তোর এই ৫ শেষ আর হয় না! সেই ৩০ মিনিট ধরেই এই একই কথা বলে যাচ্ছিস। রিয়ানুকেও দেখতে যেতে হবে তো ওর মেকাপ ঠিক মত হয়েছে কি না! তারাতারি কর নারে বইন! একটু চেঁচিয়ে। ( আরিশা)
.
রিংকি ইয়ারিং পড়তে পড়তে বলে,
— এই যে এসে পড়েছি। এখন চল রিয়ানুকে দেখে আসি।
.
[ দুপুরে মেকাপ আর্টিস্টরা ঠিক টাইমে এসে পড়ে। তারা আসতেই রিয়ানা, রিংকি, আরিশা, রিংকির আম্মু, আরিশার আম্মু সাজতে বসে পড়ে। রিয়ানাকে স্পেশিয়ালি আলাদা রুমে সাজানো হয়েছে যাতে কোন ডিস্টার্বেন্স বা তোড়জোড় না হোক। বাকি সবাই অন্য রুমে সেজেছে।
সব মেকাপ আর্টিস্টরাই নিজেদের কাজ করে চলে গেছেন। এখন সবাই শুধু নিজেদের মত অর্নামেন্টস পড়ছে। ]
.
— রিয়ানু তোর হয়ে.. আরিশা আর বলতে পারলো না। রিয়ানাকে দেখেই ওর মুখ হা হয়ে গিয়েছে।
রিংকিও রিয়ানাকে দেখে হা। তাকে আজ অনেক বেশি সুন্দর লাগছে।
.
রিয়ানা আজ ব্ল্যাক এন্ড রেডের একটা কম্বিনেশনের একটা গাউন পড়েছে। ফুল ন্যাক প্লাস ফুল হাতা। গলার মধ্যে হাল্কা হোয়াইট আর ব্ল্যাক স্টোনের কাজ করা। গাউনের নিচের অংশে ছোট ছোট হোয়াইট স্টোন বসানো। মুখে হ্যাভি মেকাপ। ডাগর ডাগর চোখে হাল্কা চিকন কাজল। ঠোঁটে ডার্ক রেড লিপস্টিক। চুল গুলো সামনে দিয়ে পাফ করা আর পিছন দিয়ে স্ট্রেট করা। কপালে ছোট ছোট চুল এসে পড়েছে। কাধে একপাশে ওরনা আর তার উপর একটা হোয়াইট ব্ল্যাক স্টোনের ব্রজপিন। কানে ব্ল্যাক এন্ড রেডের কম্বিনেশনের ইয়ারিং। রিয়ানা হলদে ফরসা হওয়াতে কালো রংটি তার উপর বেশ মানিয়েছে। একদম ফুটে উঠেছে।
সব মিলিয়ে একদম ব্ল্যাক কুইন লাগছে। যেহেতু রিয়ানা বেশি একটা সাজে না তাই রিংকি আর আরিশা রিয়ানাকে এমন বেশে দেখে একদম হা হয়ে আছে।
.
আমি হাতে ব্রেসলেট পড়তে পড়তে দরজার দিকে তাকাতেই দেখি আরিশা আর রিংকি দুইজন হা হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ধীর পায়ে ওদের সামনে গিয়ে তুরি বাজিয়ে বলি।
.
— কিরে তোরা এমন করে হ্যাঁ হয়ে কি দেখছিস?
.
— তোকে। (আরিশা)
.
— খুব কি বাজে লাগছে? বলেছিলাম মেকাপ বেশি লাগছে। জানিস এই তো আমি এত মেকাপ পছন্দ করি না। তারপরও!
.
— বইন রে বইন থাম! তোরে একদম হুরের মত লাগছে। জাস্ট ওয়াও ইয়ার। আ’ম ক্রাশড। (রিংকি)
.
— এই প্রথম তোর সাথে আমিও ক্রাশ খেলাম বইন। রিয়ানু তোকে আজ যা লাগছে না। আমি ছেলে তোরে এখনই তুলে নিয়ে বিয়ে করে নিতাম। (আরিশা)
.
— কঁচু!
.
— সিরিয়াসলি রিয়ানু!! তোকে যা লাগছে না। আমি তো সিউর ড. রিয়ান আজকে তোকে দেখে নির্ঘাত হার্ট এটাক করবে।
.
আমি কিছু বলতে যাব তখনই আরিশার আম্মু এসে বলে,
.
— তারাতারি সবাই নিচে চল গাড়ি এসে পড়েছে।
.
আরিশার আম্মুও আমাকে দেখে থমকে গেলেন। তিনি আমার কাছে এসে বলেন।
.
— মাশাল্লাহ। আজ আমাদের রিয়ানাকে তো বেশ লাগছে।
এই বলে ডেসিং টেবিল থেকে কাজলের কোটা থেকে একটু কাজল হাতে নিয়ে আমার কানের পিছে লাগিয়ে বলে।
.
— কাউরো নজর যাতে না লাগে। সব সময় যাতে এইভাবেই হাসি খুশি থাকো।
এখন তারাতারি চল দেরি হয়ে যাচ্ছে।
.
আমি মুচকি হেসে মাথা নাড়িয়ে “হ্যাঁ” সূচক উত্তর দেই। বেড়িয়ে যাওয়ার আগে একবার মা বাবার ছবির সামনে গিয়ে তাদের দোয়া চেয়ে নেই। তারপর বেড়িয়ে যাই সেন্টারের উদ্দেশ্যে।
.
.
??
.
.
চারদিকে আলোর ঝলক। পুরো সেন্টারটি আজ নিজ সজ্জায় সজ্জিত হয়ে উঠেছে। চারদিকটা ফ্যাক ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট রোজ দিয়ে সাজানো হয়েছে। উপর দেয়ালে ঝুলছে সাদা আর কালো রঙের নেটের কাপড়। স্টেজের পিছনটাও ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট রোজ দিয়ে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।
রিয়ান স্টেজের নিচে দাড়িয়ে অন্যদের সাথে কথা বলছিল তখন তার নজর যায় গেটের দিকে।
রিয়ানা তার গাউন ঠিক করে গেট দিয়ে ঢুকছে। রিয়ান তো রিয়ানাকে দেখে একদম হ্যাঁ। রিয়ান বুঝতে পারছে না যে সে এই কোন রিয়ানাকে দেখছে। রিয়ানাকে আগে তারও এমন রুপে দেখা হয় নি। সে ঘোর লাগা চোখে তার রিয়ুপাখিকে দেখেই চলেছে।
রিয়ান ঠোঁটের কোনে একটা মিষ্টি হাসি ঝুলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। তারপর রিয়ুপাখির সামনে গিয়ে দাড়ায়।
.
আমি চোখ তুলে সামনে তাকাতেই দেখি রিয়ান হাসি মুখে দাড়িয়ে আছে। তাকে দেখা সাথে সাথেই আমি মুখে হাসি ফুটে যায়। রিয়ান আমার দিকে হাত বারিয়ে দেই। তারপর আরিশা আর রিংকির দিকে তাকিয়ে বলে।
.
— কি গো শালি সাহেবা আপনার বান্ধবীকে নিয়ে যাওয়ার পারমিশন আছে তো নাকি? (রিয়ান)
.
— কি যে বলেন না? ও তো আপনারই। নিয়ে যান। (আরিশা)
.
এইবার আমিও আলতো হাতে ওর হাতে হাত রাখি। তারপর সে আমায় নিয়ে স্টেজের দিকে যাওয়ার শুরু করে। এর মধ্যে আমি এক রিয়ানকে দেখে নিলাম।
আজ সে ব্ল্যাক সুট এন্ড প্যান্ট পড়েছে। তার ভিতরে রেড কালারের একটা শার্ট। বা হাতে একটা ব্ল্যাক চেইনের ঘড়ি। চুল গুলো ব্রাশ করা। শ্যাম বর্ন ছেলেদের এমনেও কালো রঙটা একটু বেশি ফুটে। আর রিয়ানের বেলায়ও তার ব্যতিক্রম নয়।
.
.
রিয়ান আমাকে নিয়ে স্টেজে বসিয়ে দেয়। তারপর আমার কানের কাছে এসে লো ভয়েসে বলে।
.
— ?এসে না মুঝে তুম দেখো
সিনে সে লাগা লুংগা।
তুমকো মে চুরা লুংগা তুমসে।
দিম মে ছুপা লুংগা। ?
এই বলে সরে এসে আমার দিকে দুষ্টু হাসি দিয়ে চোখ টিপ দেয়।
.
সাথে সাথে লজ্জায় আমার মাথা নিচু হয়ে যায়।আমি মনে মনে বলতে থাকি।
— ইশশ!! রিয়ান না দিন দিন বেশ নির্লজ্জ হয়ে যাচ্ছে।
.
.
অতঃপর একেক করে সবাই স্টেজে আসতে শুরু করে। রিয়ান আমাকে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে থাকে। আর তখন দীদা এসে আমার গলায় একটা নেকলেস পড়ি দেয়। দেখতে বেশ সুন্দর। তিনি আমার পাশে বসে আমার সাথে কথা বলতে শুরু করে।
.
?
.
আরিশা একটা চেয়ারে বসে নিজের গাউনের নিচের দিকটা ঠিক করছিল তখনই পাশে থেকে কেউ বলে উঠে।
.
— লুকিং টু মাচ গরজিয়াস।
.
আরিশা চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে ড. সিয়াম। সিয়ামকে দেখার সাথে সাথে আরিশা মাথা নিচু করে নেয়।
আরিশাও আজ ব্ল্যাক কালারের একটা গাউন পড়েছে। মুখে মেকাপ আর ঠোঁটে চেরি রেড লিপস্টিক। চুল গুলো এক পাশ দিয়ে খোপা করা।
সিয়ামও আজ ব্ল্যাক সুট আর প্যান্ট পড়েছে। ভিতরে হোয়াইট শার্ট।
.
আরিশাকে লজ্জা পেতে দেখে সিয়াম বলে।
— ইশ এই লজ্জা মাখা মুখে তোমায় যেন আরও বেশি মায়াবি লাগছে। মন করছে..
.
— চুপ একদম চুপ। যান গিয়ে নিজের কাজ করেন। সবসময় খালি আজেবাজে কথা।
.
— আরে বাহ!! এখন থেকেই দেখি বউ গিরি শুরু করে দিয়েছো। বাট আই লাইক ইট। কিন্তু বিয়ের পর তোমার এই বউ গিরি কিন্তু চলতে দিব না। তখন কিন্তু.. বলে চোখ টিপ দেয়।
.
— নির্লজ্জ অসভ্য!! যান তো আপনি এইখান থেকে!!
.
— আচ্ছা বাবা যাচ্ছি। আমি এইখানেই আছি কিছু লাগলে আমাকে জানিও।
.
— হুহ! এই বলে আরিশা রিংকির কাছে চলে যায়।
.
.
এই দিকে রিংকি গ্লাসে কোকাকোলা খাচ্ছে আর হাটছে। সাথে ওর বিশ্ব বকর বকর তো আছেই ।
.
— সবাই মিঙ্গেল একা আমিই সিঙ্গেল। এ কেমন বিচার গো আল্লাহ!! আমার এই দুঃখের কথা কাকে বলতাম। দুঃখি দুঃখি ভাব নিয়ে।
.
হাটতে হাটতে গিয়ে সে কাউরো সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নিলে কেউ ওকে ধরে ফেলে। রিংকি বড় বড় চোখ সামনে থাকা লোকটির দিকে তাকিয়ে আছে। মোটামুটি ওর বয়সের একটা ছেলে। ছেলেটি ওকে সোজা করে দাড় করিয়ে দেয়। রিংকি এখনো বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। ওর হাতে থাকা কোকাকোলার কিছুটা সেই ছেলের সু জুতার উপর পড়ে যায়। রিংকি বেশিটা খেয়েই ফেলেছিল তাই গ্লাসে কমই ছিল যার জন্য জামাতে পড়ে নি। সেই ছেলেটা রিংকির সামনে তুরি বাজিয়ে বলে।
.
— আর ইউ ব্লাইন্ড? হোয়াট হ্যাভ ইউ ডান? মাই সুজ!!
.
রিংকির এইবার হুস আসে। সে বিরবির করে বলে।
— ব্রিটিশরা চলে গেল আর এই জুরাসিকের বান্দরকে রেখে গেল।
.
— হোয়াট ডিড ইউ সে?
.
— নাথিং। ভেংচি কেটে।
.
— লুক হোয়াট হ্যাভ ইউ ডান! নাও সে সরি।
.
— মগের মুল্লুক নাকি? যে বলবেন আর আমি চেলাইয়া চেলাইয়া সরি বলুম। যা করেছি বেশ করেছি। হুহ!
.
— সাচ এ ইলমেনারস পারসোন! রিডিকুলাস!!
.
— হোয়াট ডিড ইউ সে!! আমি ইলমেনারস। এত বড় অপবাদ! দ্বারা!
এই বলে হাতে থাকা বাকি কোকও সেই ছেলেটার জুতায় ঢেলে দেয়। তারপর বলে।
.
— ব্রিটিশ বান্দর কেমন লাগলো ইলমেনারসটা। সুন্দর না? এই বলে দাঁত কেলিয়ে দেয় দৌড়।
.
আর সেখানে দাড়িয়েই সেই ছেলেটা রাগে ফুসতে থাকে।
.
.
??
.
রিয়ান এইবার মাইক নিয়ে সবার এটেনশন নিজের দিকে করে। সকলের এই আগ্রহ এইবার রিয়ানের দিকে গিয়ে স্থির হয়। সবাই কৌতূহলি দৃষ্টিতে রিয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে। এমনি কি আমিও।
রিয়ান একবার আমার দিকে তাকিয়ে মাইক ঠিক করে বলা শুরু করলো। অতঃপর ও যা বললো তাতে আমার পায়ের নিচ থেকে জমিন স্বরে গেল।
.
.
#চলবে