আমার আসক্তি যে তুমি Part-33+34

0
3401

পর্ব ৩৩+৩৪
#আমার_আসক্তি_যে_তুমি
#Part_33
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
.
?
— রিয়ান আ…
.
আর কিছু বলতে পারলো না সে। তার আগেই রিয়ান রিয়ানার গালে স্বজোরে এক থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। আমি এইবার গালে হাত দিয়ে বিষ্ময়কর চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকি। হুট করেই চোখটা ছল ছল করে উঠে। তা দেখে রিয়ান বলে।
.
— একদম ন্যাকা কান্না করবি না বলে দিলাম। কি ভাবিস তুই নিজেকে? হ্যাঁ কি ভাবিস! তুই যা ভাববি আর করবি তাই ঠিক। আর বাদ বাকি সব বেঠিক?
আমাকে কি তোর মানুষ মনে হয় না? নাকি এইটা মনে করস যে আমার কষ্ট হয় না? একবারও ভেবে দেখেছিস যে তোর যদি আজ কিছু হয়ে যেত আমার কি হতো? আমি কিভাবে বাঁচতাম?? ভেবেছিলি একবারও!
নিজের থেকে বেশি ভালবাসি তোকে, আমার জীবন তুই! তোর কিছু হলে আমি কিভাবে বাঁচতাম বল!
.
বলতে বলতেই রিয়ানের চোখ দুই দুই ফোটা নোনাজল গড়িয়ে পড়ে। চোখে তার এখন রিয়ানাকে হারানোর ভয়টা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
রিয়ান তারাতারি নিজের চোখের পানিটা মুছে ফেলে। সে কোন মতে নিজেকে দূর্বল প্রমাণিত করতে চায় না।
এইদিকে রিয়ানার চোখ দিয়ে টুপটুপ করে পানি পড়ছে।
.
.
— আচ্ছা একবার কি আমায় আরিয়ানের ব্যাপারে বলা যেত না? বলতে পারতি না তুই যে আরিয়ান তোর সাথে কি করেছে? কি পারতি না বলতে!
তুই ভাবলিও কি করে যে আমি সত্যিটা জানলে তোকে ছেড়ে দিব? বিশ্বাস করবো তোকে! তোকে দোষারোপ করবো! তোকে ঘৃণা করবো! এই বলে একটু দম নেই। তারপর আবার বলে।
.
— আমার জন্য পুরো দুনিয়া একদিকে আর আমার রিয়ুপাখি আরেকদিকে। নিজেকে ছাড়তে পারি কিন্তু তোকে না। আরেহ তুই যদি ১০ বাচ্চার মাও হতি না তাও আমি তোকে ছাড়তাম না। তুই ধর্ষিতা, চরিত্রহীনা, রাস্তার মেয়ে যাই হতি না কেন তবুও আমি তোকে নিজের থেকে দূর করতাম না। আমার জন্য তুই সবসময়ই ফুলের মত পবিত্র। আর থাকবিও।
আমি না জানতে চেয়েছি তোর অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ। আমি তো শুধু তোকে চেয়েছিলাম। আর কিছু না।
তাহলে কেন তুই আমাকে বললি না আরিয়ানের কথাটা। যদি আগেই বলতি তাহলে হয়তো আজ আরিয়ান এমন করার সাহসটা পেত না। একটু বিশ্বাস করা যেত না আমায়? আমার ভালবাসার উপর কি একটু আস্থা রাখা যেত না বল! তুই কোন সাহসে সুসাইড করতে গিয়েছিলি বল! শেষের কথাগুলো একটু চেঁচিয়ে বলে সে।
.
রিয়ানা এইবার এমন চেঁচানোতে ভয়ে কেঁপে উঠে। সে অস্পষ্ট সুরে বলে।
.
— আ’ম সরি রিয়ান। আমি আসলে…
.
— চুপ একদম চুপ। আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না। আমার ভালবাসা তোর কাছে এতই ঠুকনো যে তুই তার উপর ভরসা করতে পারলি না? হাহ!
আচ্ছা এতটা স্বার্থপর কিভাবে হলি তুই? একবারও আমার কথা ভাবলি না তোর কিছু হলে আমার কি হবে? আমি কিভাবে বাঁঁচবো? আজ আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট দিয়েছিস তুই। তোকে আমি কোনদিনও ক্ষমা করতে পারবো না।
.
এই বলে রিয়ান উল্টো পথে হাটা শুরু করে। রিয়ানা শুধু এইবার চোখের জল ফেলতে থাকে। ওর যে কিছু বলার নেই। সে যে অনেক বড় ভুল করে বসেছে তা হারে হারে টের পাচ্ছে। রিয়ান দরজার সামনে গিয়ে দাড়িয়ে রিয়ানার না তাকিয়ে বলে।
.
— যদি এইটা ভেবে থাকিস যে এত কিছুর পর আমি তোকে ছেড়ে দিব তাহলে তুই ভুল। আমি তোকে কোন মতেই ছাড়তে পারবো না। তুই আমার এমন আসক্তি যা এখন আমার রক্তের সাথে মিশে গিয়েছে। শিরায় উপশিরায় শুধু তুই আর তুই। যা এখন চাইলেও আমি ছাড়তে পারবো না।
তাই বিয়ে তোকে আমাকেই করতেই হবে আর আমার সাথেই থাকতে হবে। কিন্তু আমার ভালবাসা আর তুই পাবি না। এক ছাদের নিচে থেকেও স্বামী স্ত্রী কোন সম্পর্ক থাকবে ন্স আমাদের মধ্যে। এইটাই হলো তোর শাস্তি।
.
.
এই বলে গটগট করে রিয়ান বেড়িয়ে যায়। আর রিয়ানা মূর্তির ন্যায় বসে থাকে। তার একটা ভুল যে তাকে রিয়ান থেকে দূরে সরিয়ে দিবে তা রিয়ানা কোনদিনও ভাবে নি।
.
.
??
.
.
আবছা অন্ধকার এক রুমে চেয়ারে হাত পা বাঁধা অবস্থায় বসে আছে আরিয়ান। চোখ ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে তার। আরিয়ান বার বার চিল্লানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তখন রুমের দরজা খুলার আওয়াজে আরিয়ান কিছুটা সর্তক ভঙ্গিতে চুপ হয়ে যায়। কিন্তু কোন আওয়াজ শব্দ না পেয়ে সে আবার গোঙ্গাতে শুরু করে।
হুট করেই কেই তার চোখের কাপড় কেউ খুলে দেয়। আরিয়ান এইবার পিটি পিটি চোখে চোখ মেলে। আবছা অন্ধকারে কাউকে চোখে পড়ছে না তার।
তখনই কেউ লাইট জ্বালিয়ে খটখট শব্দে হাটতে শুরু করে। আরিয়ান এইবার চোখ দুটো বহুত কষ্টে খুলার চেষ্টা করে। তারপর খুলে সামনে রিয়ানকে দেখে চমকে যায়। কিন্তু তাও নিজেকে সাভাবিক রাখার চেষ্টা করে “উমম” করা শুরু করে।
.
রিয়ান এইবার আরিয়ানের মুখ খুলে দেয়। মুখ ছাড়া পেতেই আরিয়ান বলে উঠে।
.
— হোয়াট দ্যা হেল ইজ দিস ব্রো? আমাকে এইখানে এইভাবে বেঁধে রাখার মানে কি?
.
— তুই জানিস না আমি কেন তোকে এইখানে বেঁধে রেখেছি। কি করেছিস তুই জানিস না??
.
— ককি ববলছিস এএএইসব! ককি ককরেছি আআমি?
.
— আমার রিয়ুপাখির দিকে বাজে দৃষ্টি দিয়েছিস তুই। ওর দিকে হাত বাড়িয়েছিস তুই! তাকে অপবিত্র করার চেষ্টা করিছিস তুই। ব্ল্যাকমেইল করেছিস। ওকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছিস। আর বলছিস কি করেছিস!! চেঁচিয়ে!!
.
— আমি এমন কিছু করি নি ব্রো। ওই মেয়ে মিথ্যা বলছে। আমাকে ফাসাতে চাচ্ছে। তুই কিভাবে ওই দুই টাকার রাস্তার মেয়ের কথা বিশ্বাস করে আমাকে ভুল বুঝছিস। আরেহ আমি বলি ওর আসল সত্যি। ওই মেয়ে একটা নষ্টা মেয়ে। যখন যাকে পায় তার সাথেই…
.
আর বলতে পারলো না রিয়ান কষিয়ে আরিয়ানের গালে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। তারপর ওর গলা চাঁপ দিয়ে বসে। রিয়ান চোখ ভয়ংকর ভাবে লাল হয়ে আছে। কপালের রগ ফুলে উঠেছে। রাগে তার শরীর রি রি করে কাঁপছে। রিয়ান হুংকার দিয়ে উঠে।
.
— তোর সাহস কিভাবে হয় আমার রিয়ুপাখিকে নষ্টা বলার? ওকে রাস্তার মেয়ে বলার! ওর সম্পর্কে উল্টা পাল্টা বলার? তোকে তো আমি জানে মেরে দিব!!
.
আরিয়ান এইবার কাশতে শুরু করে। রিয়ান আরেকটু চাপ দিয়ে বলে তারপর তাকে ছেড়ে দেয়। আরিয়ান মুক্তি পেয়ে কাশতে শুরু করে। রিয়ান এইবার একটু দূরে গিয়ে একটা ব্যাগ বের করে। সে ব্যাগটা খুলে তার মধ্যে একটা লোহার রড বের করে। তারপর আরিয়ানের কাছে এসে ওর চারদিকে ঘুরতে থাকে।
.
— তোর সাহস কিভাবে হয় আমার রিয়ুপাখির দিকে নজর দেওয়ার। ওকে হেরাস করার!!
.
এই বলে রড দিয়ে ওর পায়ে জোরে বারি মারে।আর আরিয়ান ব্যথায় চিৎকার করে উঠে।
.
— আমার রিয়ুপাখির দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস কিভাবে হলো তোর?
.
এই বলে রড দিয়ে ওর হাতে জোরে বারি মারে।
.
— ওকে বাজে অফার করার সাহস কোথায় পেলি তুই? আমার কলিজার দিকে হাত দেওয়ার সাহস পেলি কোথায়??
.
এই বলে রড দিয়ে আবার ওর পায়ে জোরে বারি মারে।
.
— তোর জন্য আজ আমার রিয়ুপাখি আমার থেকে দূরে চলে যেতে নিয়েছিল। জানিস ওকে আমি কতটা ভালবাসি? ওর জন্য আমি সকল সীমানা লঘ্ন করতে পারি। আর তুই ওকেই দিনের পর দিন কষ্ট দিয়েছিস। তোকে তো আমি..
.
এই বলে সেই রড দিয়ে অনাবরত মারতে শুরু করে। আরিয়ান এইবার চেঁচিয়ে উঠে।
.
— ব্রো প্লিজ মাফ করে দে। ভুল হয়ে গিয়েছে। প্লিজ মাফ করে এমন আর হবে। ব্রো প্লিজ!!
.
রিয়ান এইবার থামে তারপর আরিয়ানের চুল গুলো মুঠো করে ধরে বলে।
.
— বল কতটা মেয়ের সাথে এমন করেছিস? কত জনের জীবন এইভাবে নষ্ট করেছিস? বল!!
.
— হহহিসাব নননেই। কাঁপা কাঁপা গলায়।
.
রিয়ান এইবার আবার পিটানো শুরু করে তখন আরিয়ান বলে উঠে।
.
— ব্রো প্লিজ ছেড়ে দে।
.
— মেয়েরা খেলনা না যে তুই তাদের সাথে এমনে খেলা করবি আর পরে ইউস করে ফেলে দিবি। মেয়েরা মায়ের জাত। তাদের অসম্মান করার, তাদের ইউস করার, তাদের জীবন নষ্ট করার সাহস তোকে কে দিয়েছে বল।
.
এই বলে আরিয়ানের পায়ে মারতেই থাকে। এক সময় ওর পা অবশ হয়ে আসে। রক্তাক্ত হয়ে যায় পা দুটো।
.
— ব্রো প্লিজ মাফ করে দে। প্লিজজ! তুই যা বলবি আমি তাই করবো। প্লিজ ছেড়ে দে।
.
রিয়ান এইবার থামে তারপর বলে,
— আমি যা বলবো তা করবি??
.
— হ্যাঁ।
.
— তাহলে চল আমার সাথে।
এই বলে রিয়ান আরিয়ানকে খুলে টেনে বাইরে নিয়ে আসে। তারপর ওকে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসিয়ে ওর সামনে একটা ক্যামেরা সেট করে। তারপর ওকে বলে,
.
— তুই আজ পর্যন্ত যার যার সাথে যা যা করেছিস তা সব কবুল কর। কিভাবে কোন মেয়েকে ব্ল্যাকমেইল করেছিস সব বল। তাদের কিভাবে ইউস করে ফেলে দিয়েছিস সব বল। আর যদি না বলিস এই ছুড়ি এখনই তোর গলা কেটে দিব।
.
বলে গাড়ির সাইডে থাকা একটা ছুরি হাতে নিয়ে আরিয়ানের পেটের দিকে ধরে রাখে আর ক্যামেরা অন করে দেয়। আরিয়ান এইবার বাধ্য হয়ে সব বলতে শুরু করে।
.
এর পর আরিয়ান যা যা বললো তা রিয়ানের কাম্য ছিল না। আরিয়ান বলে যে,
.
— সে আজ পর্যন্ত ১০০+ মেয়েদের সাথে ঘুরেছে এবং তাদের ইউস করে ফেলে দিয়েছে। তাদের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। তার মধ্যে অনেকেই আত্মহত্যা করেছে এবং অনেকেই ওর উপর ধর্ষণের কেসও করেছে। কিন্তু আরিয়ান প্রতি বার টাকার জোরে বেঁচে গিয়েছে।
যারা আরিয়ানের কথা মত না চলতো ওদের ফ্যাক ছবি বানিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতো। তারপর তাদেরকে নিজের কথা মানতে বাধ্য করতো।
আরও এমন অনেক কিছুই বলে।
.
রিয়ান সব কিছু শুনে রাগে ফুসতে থাকে। সবশেষে রিয়ান ক্যামেরাটা পোস করে বলে।
.
— এখন বল তুই যা করেছিস তার জন্য অনেক বেশি দুঃখিত। আর তুই এখন এই পাপের ভার নিতে পারছিস না বলে তুই আত্মহত্যা করছিস। এখনই তুই নিজেই নিজের গাড়ি এক্সিডেন্ট করিয়ে নিজেকে মেরে ফেলছিস।
.
— এইসব কি বলছিস তুই। আমি এইসব কিছু বলবো না।
.
আরিয়ান এই কথা বলার সাথে সাথে রিয়ান আরিয়ানের হাতে সেই ছুরি দিয়ে আঘাত করতে শুরু করে। লাগাতার আঘাত করতেই থাকে। আরিয়ান এইবার সহ্য না করতে পেরে বলে।
.
— বলবো বলবো সব বলবো।
.
রিয়ান এইবার আমার ক্যামেরা অন করে তারপর আরিয়ান রিয়ানের বলা কথাগুলোই বলে।
রিয়ান এইবার ক্যামেরা অফ করে দেয় আর আরিয়ানকে গাড়ি থেকে বের করে আবার টেনে সেই রুমের মধ্যে নিয়ে আসে। তারপর তাকে আবার বেঁধে দিয়ে ওর মুখ বেঁধে দেয়।
একটা চেয়ার নিয়ে এসে ওর সামনে বসে তারপর সেই ছুরি দিয়ে ওর নক উপড়ে তুলতে থাকে। আর বলে থাকে।
.

— এক মাত্র তোর জন্য আমার রিয়ুপাখিকে পেতে ৫ টা বছর লেগে যায়। ৫ টা বছর বুঝতে পারছিস তুই?
যখন ওকে ভালবাসতে শুরু করি তখন থেকেই ওর সম্পর্কে সব খোঁজ খবর নিতে শুরু করি। তখন জানতে পারি যে আমার রিয়ুপাখি ভালবাসাকেই ঘৃণা করে। ও ভালবাসা নামকেই অবজ্ঞা করে। এর কারণ যখন খুঁজতে শুরু করি তখন জানতে পারি ওর জীবনে এমন এক কালো অধ্যায় আছে। যে নাকি তাকে ভালবাসি বলে আর তারপর যখন সে মানা করে সে তাকে মলেস্ট করার ট্রাই করে। তখন থেকেই তার মনে ভালবাসার জন্য এত ঘৃণা জন্ম নেয়। অনেক চেষ্টা করেও জানতে পারি নি সেই জা***টা কে। যার জন্য আমার রিয়ুপাখি এত কষ্ট পেয়েছিল।
.
এই বলে সে থাকে। সাথে আরিয়ানের সব নখও উপড়ে ফেলে। তারপর ওর হাত ক্ষত বিক্ষত করতে থাকে।
.
— জানিস ওর মনের মধ্যে ভালবাসা অনুভূতি গুলো তৈরি করতে কতটা সময় লেগেছে আমার? ভালবাসার আগে ওর মনে প্রথমে ভাললাগার অনুভূতি গুলো সৃষ্টি করতে হয়েছিল।
প্রথম ২ টা বছর ওকে জেনেছি বুঝেছি। ওকে মুখস্ত করেছি। ওকে ফলো করেছি। পাগলের মত চেয়েছি। ওকে নিজের চোখে চোখে রাখার জন্য ওর বাসার পাশের ২ টা ফ্ল্যাটই আমি কিনে নেই। যাতে আমি বাদে ওর আশে পাশে আর কেউ না থাকতে পারে। কিছু কাজের বাহানায় লোক পাঠিয়ে ওর সিসিটিভি লাগাই। যাতে ওকে আমি প্রতিটা মুহূর্ত চোখের সামনে দেখতে পাই।
ওর জন্য আড়াল থেকে কিছু না কিছু করেই যেতাম।
রাতের আধারে ওকে কাছ থেকে ছুঁয়ার ইচ্ছাটা ধরে রাখতে না পেরে ওর বাসার ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়ে ওর বাসায় ঢুকতাম ওকে কাছ থেকে একটু ছুঁয়ে দিব বলে। এইভাবেই আমি পুরো ১ বছর কাটাই। ওর মুখে হাসি ফুটাতে কি না করেছি। দূর থেকেই ওকে সকল কষ্ট থেকে দূরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।
তারপর তাকে ফুল দিয়ে স্পেশাল ফিল করাতাম। তার মনের মধ্যে ভাললাগার এক অনুভূতি জাগ্রত করার চেষ্টা করতাম। চিঠির মাধ্যমে আমার অনুভূতি গুলো তার কাছে প্রকাশ করতাম। এইভাবে ২ টা বছর পার করি আমি। শুধু মাত্র ওর মনে ভাললাগার অনুভূতি গুলো সৃষ্টি করতেই।
তারপর ওর সামনে আসি ওকে ভালবাসার আসল মানে বুঝাতে। ওর মনে ভালবাসার মিষ্টি অনুভূতি অনুভব করাতে। নিজেকে ওর অভ্যাসে পরিনত করতে। আর দেখ আজ সে আমার। আমার ৫ বছরের সাধনা সে।
আর তুই ওকে এতটা কষ্ট দিয়েছিস! তা আমি কিভাবে সহ্য করবো বল!! তার উপর তোর জন্যই আমাকে আমার রিয়ুপাখিকে পেতে এত কষ্ট করতে হয়েছে। তোকে আমি কিভাবে ক্ষমা করি বল?? এই হাত দিতে তুই ওকে ছুঁয়েছিস তাহলে আমি কিভাবে এই হাত ভালো থাকতে দেই।
.
.
এই বলে রিয়ান ছুরিটা আরিয়ানের হাতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। তারপর মরিচের গুঁড়ো তার উপর লাগিয়ে দেয়। আরিয়ানের এইবার আত্না বেড়িয়ে যাবার মত অবস্থা।
রিয়ান তার সেই ব্যাগটি থেকে একটা ছোট সিসি বের করে। যাতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড রাখা। রিয়ান গ্লাভস পড়ে সেটার ঢাকনা খুলে আরিয়ানের চুলের মুঠি ধরে ওর চোখের উপর এইটা ফেলতে শুরু করে। আরিয়ান এইবার গলা কাটা মুরগির মত ছটফট করতে থাকে। তা দেখে রিয়ান বলে।
.
— এই চোখ দিয়ে তুই আমার রিয়ুপাখির দিকে বাজে দৃষ্টিতে তাকিয়েছিস। এই চোখ তো কোন মতেই ভালো থাকতে পারে না।
.
.
আরিয়ানের দুইটো চোখ এইবার পুরো জ্বলসে যায়। রিয়ান এইবার একটা ছুড়ি নিয়ে আরিয়ানের জিহ্বা কেটে দেয়। আর বলে,
.
— এই জিহ্বা দিয়ে তুই আমার রিয়ুপাখিকে বাজে কথা বলেছি না। নে তোর জিহ্বায় আমি কেটে দিলাম।
.
আরিয়ান আর সহ্য না করতে পেরে সেখানে নিজের নিশ্বাস ত্যাগ করে। তা দেখে রিয়ান এইবার একটু শান্ত হয়। তার মধ্যে এতক্ষণ আগুন জ্বলছিল।
রিয়ান তারপর তার লোক ডেকে আরিয়ানকে নিয়ে যায়। তারপর ওকে গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে ওর লোকদের বলে,
.
— এক্সিডেন্টটা এমন ভাবে দেখাবে যে গাড়িটা অনেক জোরে বারি খেয়ে ব্লাস্ট হয়ে গিয়েছে। আর ব্লাস্টটা এমন ভাবে করবে যেন শরীরের একটা অংশও যাতে ঠিক না থাকে। আর হ্যাঁ এক্সিডেন্ট করার ১০ মিনিট আগে এই ভিডিওটা বিভিন্ন সোশিয়াল মিডিয়াতে আপ করে দিবে। বুঝলে।
.
রিয়ানের কাছ থেকে মোবাইলটা নিয়ে তারা সম্মতি জানিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে যায়। আর রিয়ান সেইদিকে তাকিয়ে বলে।
.
— যে আমার রিয়ুপাখির দিকে বাজে দৃষ্টিতে তাকাবে তার অবস্থাও ঠিক এমনই হবে। আমার আসক্তি যে সকল আসক্তিকে হার মানাবে। কেন না এইটা রিয়ানের আসক্তি।
.
.
তখনই রিয়ানের ফোনে একটা কল আসে। কল রিসিভ করতেই তার চোখ মুখের ভঙ্গি বদলে যায়। সে কিছুটা ভয় মাখা চিন্তিত কন্ঠে বলে।
.
— আমি এখনই আসছি।

#Part_34
#Writer_Asfiya_Islam_Jannat
.
?
হসপিটালের করিডোরে দৌড়ে চলেছে রিয়ান। উদ্দেশ্য তার রিয়ানার কেবিন। রিয়ানার কেবিনের সামনেই আসতেই রিয়ান থমকে দাড়ায়। তারপর এক দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে মুখ গাম্ভীর্য করে সে কেবিনের মধ্যে প্রবেশ করে।
.
[ এইখানে আশার আগে রিয়ান ফ্রেশ হয়ে এসেছে প্লাস সেই সব জামাকাপড় চেঞ্জ করেও এসেছে। ]
.
রুমে প্রবেশ করে রিয়ান দেখে রিয়ানা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। রিয়ান গিয়ে এইবার রিয়ানার পাশে বসে তারপর গম্ভীর গলায় বলে।
.
— আপনি কি এইটা প্রতিজ্ঞা করে রেখেছেন যে আমাকে একটুও শান্তিতে থাকতে দিবেন না?
.
কাউরো কন্ঠ কানে আসতেই আমি চমকে উঠি। তারপর চোখ খুলে পাশে তাকাতেই রিয়ানকে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে যাই। অতঃপর নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে সরু চোখে তার দিকে তাকাই। তারপর বলি,
.
— আপনি আমাকে “আপনি” করে কেন সম্মোধন করছেন?
.
— এইটা কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর নয়।
.
বুঝতেই পারছি রিয়ান ভীষণ রেগে আছে। তাই কথা না বাড়িয়ে বলি।
.
— আমি এমন কোন প্রতিজ্ঞা করি নি।
.
— তাহলে বার বার কেন নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন আর আমাকে সেই কষ্টে আগুনে পুড়াচ্ছেন? আমি যেতে না যেতেই নিজের রক্ত ঝড়িয়ে বসে আছেন। যানেনও আপনার এক ফোটা রক্ত আমার কাছে ঠিক কতটা দামী? তার উপর কিছু খেতেও চাচ্ছে না আর না মেডেসিন খেতে চাচ্ছেন।
চাচ্ছেন টা কি আপনি শুনি? আমার থেকে দূরে যেতে চাচ্ছেন নাকি এই বিয়েতে এখন অমত করছেন! যদি এমন কিছু চেয়ে থাকেন তাহলে দুঃখিত আমার দূরে যাওয়া এই জন্মে সম্ভব না। আর বিয়ে তো আপনাকে আমাকেই করতে হবে।
.
— আরেহ আরেহ ভাই থামেন! একটু দম তো নেন। নিজেই যদি এতকিছু ভেবে নেন তাহলে কিভাবে হবে বলুন?
আমি ইচ্ছে করে তখন নিজের রক্ত ঝড়াই নি। হাতে টান লাগার কারণে ক্যানালটা ছিড়ে যায় রক্ত বের হওয়া শুরু হয়ে যায়। এতে আমার দোষ কোথায়?
আর আমি আপনার হাতে খাব বলে খাচ্ছিলাম না। এখন যখন আপনি এসেই পড়েছেন তো এখন খায়িয়ে দেন। আড় চোখে তাকিয়ে।
.
— আপনি কি ছোট বাচ্চা নাকি যে আমাকে খায়িয়ে দিতে দিতে হবে?? আল্লাহ আপনাকে সুস্থ সবল দুইটা হাত দিয়েছে তার প্রয়োগ করুন।
.
— আপনি না খায়িয়ে দিলে আমিও খাব না। বলে মুখ ফুলিয়ে বসে রইলাম।
.
রিয়ান এইবার বাধ্য হয়ে আমাকে খায়িয়ে দিতে রাজি হয়ে যায়। তারপর বাইরে দিয়ে খাবার আর মেডিসিন নিয়ে আসে। তারপর খাবার গুলো আমার সামনে ধরে আমাকে খায়িয়ে দিতে শুরু করে।
আমি রিয়ানের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলি।
.
— জানি রিয়ান আমি অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। যা আমি এখন হারে হারে বুঝতে পারছি। ডিপ্রেশনের বসে কি থেকে কি করতে চলেছিলাম আমি! অনেক বড় বোকামি করে ফেলেছি।
তাই আপনার রাগ জায়েজও। জানি আপনি এখন ভীষণ রেগে আছেন। তাই আপনার রাগ ভাঙতে হলে আমাকে আপনার কাছে থাকতে হবে যা আপনি দিবেন। তাই আপনাকে নিজের কাছে আনার জন্য এত কিছু করা। সরি রিয়ান। কিন্তু খুব জলদি আপনাকে মানিয়ে নিব। প্রমিস! (মনে মনে)
.
.
খাওয়া শেষে রিয়ান আমাকে মেডিসিন খায়িয়ে শুয়ে দেয়। তারপর খাবার প্লেট নিয়ে যেতে নিয়ে থমকে দাড়ায়৷ আমার দিকে না তাকিয়ে বলে।
.
— যদি মনে করে থাকেন আপনাকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি তাহলে আপনি সম্পূর্ণ ভুল। আমি।আপনাকে এখনো ক্ষমা করি নি।
আর হ্যাঁ আমাদের মধ্যে এখন শুধু এই “আপনি” শব্দটাই বিদ্যমান।
.
এই বলে রিয়ান বেড়িয়ে যায়। রিয়ানের প্রত্যেকটা কথা আমার বুকে তীরের মত লাগছিল। তখন আরিশা আর রিংকি রুমে আসে আর আমার পাশে এসে বসে।
.
— কি এতটুকুতেই অনেক কষ্ট হচ্ছে? ( আরিশা)
.
— সহ্য হচ্ছে না তাই না? ( রিংকি)
.
— এর চেয়ে বেশি কষ্ট সহ্য করেছে ড. রিয়ান। জানিস তুই আমাদের সবার থেকে তার অবস্থা বেশি খারাপ ছিল। প্রায় পাগল পাগল হয়ে গিয়েছিল সে। (আরিশা)
.
— তুই যখন এই অপারেশন রুমে ছিলি তখন সে বাইরে বসে তোর সুস্থতার দোয়ার করছিল আর নিজের চোখের জল ফেলছিল। বুঝতে পারছিস আজ যদি তোর কিছু হয়ে যেত তাহলে ড. রিয়ানের কি হতো? (রিংকি)
.
— এত কিছুর পরও সে তোকে নিজ থেকে দূর করতে চাচ্ছে না। তোকে সেই আগের ন্যায় আগলে রাখছে। ভালবেসেই যাচ্ছে। আজ কালকার দিনে কে এমন করে ভালবাসে শুনি?
এর বদলে তার একটু রাগ, অভিমান সহ্য হচ্ছে না তোর। আর তুই যে ঘা তাকে দিয়েছিস তার কি? (আরিশা)
.
— আচ্ছা তুই এত স্বার্থপর কিভাবে হলি রে? আমাদের কথা একবারও ভাবলি না। তোর কিছু হলে আমাদের কি হতো একবার ভেবেছিস। (রিংকি)
.
— আরেহ আমাদের একবার আরিয়ানের কথা বলেই দেখতি। নিজের ভিতরে এইসব কেন চেঁপে রাখলি? নিজেকে কেন ডিপ্রেশনের দিকে ঠেলে দিলি। বল! ( আরিশা)
.
— সরি রে!! অনেক বড় ভুল করে বসেছি। তার জন্য মাফ করে দে প্লিজ। তোরা প্লিজ আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিস না। আ’ম সরি! এমন ভুল আর কোনও করবো না। প্লিজ মাফ করে দে।
.
আরিশা আর রিংকি এইবার না পেরে আমায় আলতো করে জরিয়ে ধরে যাতে আমার ক্যানালে টান না পড়ে। তারপর বলে,
.
— শালী জানিস তোকে ওই অবস্থায় দেখে জান বেরিয়ে গিয়েছিল আমাদের। আর এমন করবি না বলে দিলাম। (আরিশা)
.
— হুহ!! আর ওই আরিয়ান এই সুসাইডের ডিসিশনটা একদম ঠিক নিয়েছে। শালা কত জনের লাইফ নষ্ট করেছে। ( রিংকি)
.
— কেমনে! কখন! কিভাবে? তুই জানলি কিভাবে?
.
— ওয়েট দেখাই। ( রিংকি )
.
তারপর আরিয়ানের কনফেশন আর সুসাইড করার সিদ্ধান্ত জানানোর ভিডিওটা প্লে করে। ২ ঘন্টার মধ্যে সব জায়গায় এইটা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সাথে সাথে যাদের সাথে ও অন্যায় করেছে তারাও বেড়িয়ে এসেছে আর স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে আরিয়ান তাদের সাথে অন্যায় করেছে।
কিছুক্ষণ আগেই আরিয়ানের গাড়ি পাওয়া যায়। খুবই বাজে বাজে অবস্থা সেটির। ব্লাস্ট হয়ে যাওয়ার কারণে পুরো গাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছে আর লাশের একেকটা অংশ ছিটকে পড়ে গিয়েছে।
যেহেতু আরিয়ান মরার আগে এই সুসাইড নোট টাইপ ভিডিও করে গিয়েছে সেহেতু কেসটি একটু সুসাইড কেস হিসাবে ফাইল করা হয়। যা একটি অপেন এন্ড সাট কেস।
.
.
??
.
রিয়ানের বাসায় পুলিশ যাওয়ায় সকলের কাছেই আরিয়ানের মৃত্যু খবর পৌঁছে যায়। রিয়ানের কাজিনটা নেট অন করতেই তাদের সামনে আরিয়ানের ভিডিও সামনে চলে আসে। তারপর সেটা সকলের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায় আর সকলেই ছি ছি কর‍তে শুরু করে। রিয়ান অনেক সুক্ষ্ম ভাবে রিয়ানার বেপারটা সকলের কাছ থেকে লুকিয়ে গিয়েছে। তাই কেউ রিয়ানার বর্তমান অবস্থা আর আরিয়ানের সাথে হওয়া তার অতীতের কথা কেউ জানে না।
এইদিকে রিয়ানের বড় ফুপু পুরো ভেঙে পড়ে। তার ছেলের মৃত্যু সে সহ্য করতে পারে নি। সে চিৎকার করে কান্না করতে শুরু করে। কিন্তু কেউ তাকে শান্তনা দিচ্ছে না। এমন এক ছেলে যে মারা গিয়েছে তাতে তারা মনে করছেন সমাজ থেকে যেন আবর্জনা কমেছে।
দুই-একজন তো শান্তনার বদলে কটু কথা শুনিয়ে দিচ্ছে।
রিয়ান এইবার এসে সবাইকে চুপ করায় আর সে তার বড় ফুপুকে রুমে নিয়ে গিয়ে বসায়। তারপর তাকে একটা ঘুমের ঔষধ খায়িয়ে শুয়ে দিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। তারপর তার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলে।
.
— আরিয়ান যতটা অপরাধী ঠিক তুমিও তার সমান অপরাধী। তুমি যদি বার বার ওকে না বাঁচিয়ে একটু শাসন করতে তাহলে আজ পরিস্থিতি এই পর্যন্ত আসতে পারতো না।
আরিয়ান তার শাস্তি পেয়েছে আর তুমিও পেয়েছ। কোন মাই নিজের চোখে নিজের ছেলের লাশ সহ্য করতে পারে না।
আর তুমিও পারবে না। ভিতরে ভিতরে তুমি কষ্টে মরে যাবে। এক শূন্যতা তোমায় হ্রাস করে দিবে। আর এইটা হচ্ছে তোমার জন্য সবচেয়ে উত্তম শাস্তি।
.
.
??
.
রিয়ানের ছবির সামনে বসে আছে রিয়ান। চোখে মুখে তার অসংখ্য অভিযোগ। রিয়ান এইবার বলতে শুরু করে।
.
— ❤ তুমি কি দেখতে পারো না,
আমার চোখ ভরা হাজারো অভিযোগ।
আমার মুখ ভঙ্গিতে তোমার জন্য,
পাহাড় ন্যায় অভিমান।
এই হৃদয় ভরা এক রাশ কষ্ট, বেদনা। ❤
.
— ভালবেসেছি দূরে সরিয়ে দিতে নয়! তুমি আমাকে মারো কাটো আর যাই করো আমার থেকে দূরে যেতে পারবে না। কিন্তু আমাকে আজ তুমি যে কষ্ট দিয়েছো, আমার থেকে দূরে যাওয়ার যেই দুঃসাহস তুমি দেখিয়েছ তার শাস্তি তুমি পাবে। আমার ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে তুমি আমার ভালবাসার মর্মটা বুঝবে। আমার কাছে থেকেও আমাকে আর আমার ভালবাসা পাবে না।
ভালবাসা যেমন আবশ্যক তেমনই শাসনও অতি আবশ্যক। তা না হলে ভালবাসার গতি বিগড়ে যায়। এখন সময় হয়েছে তোমাকে আমার প্রতি সেই ভালবাসা উপলব্ধি করাতে যা সকল তীরসীমানা পেড়িয়ে যেতে প্রস্তুত।
.
তারপর রিয়ান গুনগুন করতে থাকে,
.
” ❤ হামে তুমসে পেয়ার কিতনা
ইয়ে হাম নেহি জানতে
মাগার জি ভি নেহি সাকতে
তুমহারে বিনা
হামে তুমসে পেয়ার কিতনা ❤ ”
.
.
.
??
.
.
আজ ৩ দিন হলো রিয়ানের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি কিন্তু তাও রিয়ানের সাথে যোগাযোগ করতে পারি নি। সে কেমন আছে, কি করছে তার সম্পর্কে কিছু জানি না।
এইসব ভেবে আমি মন খারাপ করে বসে আছি। ঠিক তখনই আরিশা আর রিংকি আমার রুমে আসে। তার আমাকে যা বলে আমি দুইটার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকি।
.
.
#চলবে