ওড়নার দোষ (২য় অংশ)

0
750

গল্পঃ ওড়নার দোষ
(২য় অংশ)
Israt Jahan

পিঠে আর মাথায় লিফ্টের গায়ের সঙ্গে ধাক্কা খেলাম।সামনের লোকটা ছুটে এসে দ্রুত আমাকে আগে ধরল তারপর সুবিধা করতে না পেরে আমার গলা থেকে বাকি অর্ধেক ওড়না হ্যাঁচকা টানে খুলে নিলো।আমার দম তখন বন্ধ হয়ে আসার মত অবস্থা। হুড়মুড়িয়ে তার গায়ের ওপর গিয়ে পড়লাম।ওড়নার আঁচল বুকের ওপর কিছু অংশ রেখে কাঁধের দুপাশ দিয়ে পেছনের দিকে ঝুলিয়ে দেওয়া ছিল। ডিবিটাকে দেখার সময় লিফ্টে ঢুকে একদম লিফ্টের মুখের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।ওড়নার এক পাশের আঁচল লিফ্টের দরজার মাঝে ঢুকে লিফ্ট ওপরে উঠতেই একদম গলার সাথে ওড়না এঁটে ধরে। এত বেশি ভয় পেয়ে গিয়েছি যে ওড়নাটা গলা থেকে খুলে ফেলার কথাই ভুলে যায়। আর এই মুহূর্তে এখন আমি ডিবিটার বুকের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে আছি।ভয়টা এখনো কাটেনি।গলার চামড়া জ্বলে যাচ্ছে একদম।এখন আমার ঠিক সেই ফাইনাল ডেসটিনি মুভিটার কথা মনে পরছে। কত নাম্বার পার্ট তা ঠিক খেয়াল নেই। আজকে হয়তো গলা কেটে ওই মহিলার মত অবস্থা হতো আমার।কিন্তু আজকের ঘটনাটা ঠিক দুর্ঘটনা নাকি সুঘটনা?এটা মোটেও নিশ্চই সুঘটনা নয়।একটু দেরী হলেই প্রাণটা আজ বেরিয়েই যেত। তবে আজকের ঘটনার দোষটা কার? আমার নাকি আমার ওড়নার?
“এক্সকিউজমি!”
ওনার কন্ঠ শুনে মাথা উচুঁ করে আস্তে আস্তে তাকালাম।একি!লোকটা হাসছে আমার এমন অবস্থার পরও?
“একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ালে ভালো হতো।”
ইশ আমি নির্লজ্জের মত ওনার বুকের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে আছি।ওনার কাছ থেকে সরে এসে দাঁড়াতেই দেখলাম আমার গায়ে ওড়না নেই।বুকের ওপর দুহাত দিয়ে সামনে ঢেকে দাঁড়ালাম।লিফ্ট তখন সেকেন্ড ফ্লোরে এসে থেমেছে।দুটো ইয়াং ছেলে তখন লিফ্টে ঢুকল।প্রচন্ড লজ্জা লাগছে আমার।আমি উল্টো ঘুরে দাঁড়িয়ে রইলাম।ব্যাপারটা উনি বুঝতে পেরেছে কিনা জানিনা।উনি হুট করেই আমার সামনে এসে আমাকে আড়াল করে দাঁড়ালো।
আমি ওনার পেছনে দাঁড়িয়ে বুকের ওপর হাত মুড়ে দাঁড়িয়ে আছি।ছেলে দুটো বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছে।উফ লজ্জাতে আমার এখন মরেই যেতে ইচ্ছে করছে।আমি কী করে যে বের হবো এই অবস্থায় সেটা ভাবতেই লজ্জাতে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আমার।থার্ড ফ্লোরে এসে ছেলে দুটো বেরিয়ে যাওয়ার পর মিনিমাম সাত আটজন মানুষ লিফ্টে ঢুকে পরল।এভাবে উনি আর কতক্ষণ আমাকে আড়াল করে দাঁড়িয়ে থাকবে?কোনো মহিলা মানুষও নেই লিফ্টের মধ্যে।এভাবে মুখ কাচুমাচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে লোকগুলো কেমন কনে যেন তাকাচ্ছিল ডিবিটার দিকে আর আমার দিকে।ব্যাপারটা খুব খারাপ দিকে যাবে মনে হচ্ছে।আমাকে আস্তে করে উনি ডেকে বললেন,
“এইযে ম্যাম শুনতে পাচ্ছেন?”
“হ্যাঁ বলুন।”
“আপনি আমার সামনে এসে দাঁড়ান।”
“এভাবে?কিন্তু কেন?”
“সবাই আমাকে অন্যকিছু ভেবে সন্দেহ করতে পারে।”
“কিন্তু এভাবে আমি দাঁড়াতে পারবোনা সবার সামনে।”
“সবার সামনে আমি আপনাকে দাঁড়াতে বলিনি।যেভাবে প্রথমদিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন ঠিক সেভাবে এসে দাঁড়ান।”
আমি চুপচাপ সেটাই করলাম।ওনার দিকে ঘুরে একদম ওনার বুকের সাথে মিশে দাঁড়িয়ে রইলাম।একদিকে লজ্জা আর ভয় কাজ করছে আর অন্যদিকে…।কিছুক্ষণ পর একজন লোক জিজ্ঞেস করে বসল,
“ওনার কী কোনো সমস্যা?”
উনি সত্যিটা বলতে গিয়েও বললেন না। কথাটা ঘুরিয়ে বললেন,”এটা একান্তই আমাদের ব্যাপার।”
কিন্তু কথাটা ওই লোক কোনোরকমেই গায়ে মাখলেন না।উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন,”এই যে মেয়ে তুমি কী কোনো সমস্যাই পরেছো?”
আমি ওনার মুখের দিকে তাকালাম।ওনার দৃষ্টিও তখন আমার দিকে।আমি ঘাড় ঘুড়িয়ে ওই লোককে বললাম,”না কোনো সমস্যা নেই।”
লোকগুলো তখনো কানাকানি করছিল। এরমধ্যেই ওনার ফোনে কল আসল।
“হ্যাঁ মামনি।আমি এইতো পৌঁছে গেছি। তুমি চিন্তা করোনা।তোমার বউমা আমার সাথেই আছে।হ্যাঁ হ্যাঁ রাগ কমেছে।কথা বলবে?আচ্ছা ধরো দিচ্ছি।”
কথাগুলো বলে উনি আমার দিকে ফোন আগাল।বলল,”মামনির সাথে কথা বলবে?”
আমি হ্যাঁ না কিছুই বললাম না।তাজ্জব বনে তাকিয়ে আছি ওনার দিকে।তারপর কিছু না বলেই ফোনটা কানে নিয়ে বলল,
“মামনি ও এখন কথা বলবেনা।আচ্ছা পরে কথা বলো,কেমন?রাখছি।”
কথাগুলো বলে উনি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।সবটাই আমার মাথার ওপর দিয়ে গেল।আর লোকগুলোও তখন কানাকানি বন্ধ করল।ফোর্থ ফ্লোরে এসে উনি কাকে যেন ফোন দিয়ে বললেন,
“তুই কী মামনির সাথে আছিস?”
ফোনের ওপাশ থেকে কী বলল জানিনা। উনি বলল,
“তুই একটু কষ্ট করে একটা ওড়নার দোকানে ঢোক।দরকার আছে।এত প্রশ্ন করিসনা পরে বলব।একটা ওড়না কিনে লিফ্টের সামনে এসে দাঁড়া।কী কালারের ওড়না কিনবি?ওয়েট….”
উনি আমার ড্রেসের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“একটা গোল্ডেন কালারের ওড়না কিনবি।মামনিকে কিছু বলিসনা।”
আমার এখন কেমন যেন খুব অস্বস্তি অস্বস্তি লাগছে ওনার বুকের সাথে এভাবে মিশে দাঁড়িয়ে থাকতে।এখন দু তিন জন লোক আছে লিফ্টে।আমি ওনার থেকে সরে একটু দূরে দাঁড়াতে গেলে উনি আমার কোমড় ধরে টেনে আবারো একই জায়গায় এনে বললেন,
“যেভাবে আছেন সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকেন।আর মুখটাকে একদম স্বাভাবিক রাখেন।যেন আমি আপনি পরিচিত।অলমোস্ট ফাঁসিয়ে দিচ্ছিলেন আমাকে।”
“মানে?”
কথার মধ্যেই আমরা ফিফ্থ ফ্লোরে চলে এলাম।লিফ্ট খুলতে সেদিনের ওই ব্যাকসিটে বসা মেয়েটা ওনাকে দেখে লিফ্টে ঢুকে বলল,
“এই মেয়েটা কে?আর তুই ওকে এভাবে ধরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?”
“পরে শুনিস।ওড়নাটা এনেছিস?”
“হুম।”
“দে।”
ওড়নাটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
“ধরুন।এবার নিশ্চই আমি বেরোতে পারি?”
“এই ও সেই মেয়েটা না যার ওড়নার ওপর দিয়ে বাইক চালিয়েছিলি বলে আমাদেরকে পাবলিকের মাড় খাওয়াতে চেয়েছিল?”
মেয়েটার কথা শুনে এবার দৌঁড়ে এখান থেকে পালাতে ইচ্ছা করছে।
“হুম।আমিও নিশ্চিত হলাম যখন আজও ওনার ওড়নাটা মার্ডার হলো।”
“ওড়না মার্ডার হলো মানে?”
“কিছুনা চল।”
ওদের পিছু পিছু আমিও লিফ্ট থেকে বের হলাম।তারপর ওনাকে পিছু থেকে ডাকলাম।
“এই যে শুনুন।”
উনি আমার দিকে ঘুরে তাকালে বললাম,
“থ্যাংকস।আর সেদিনের জন্য স্যরি।”
“কেন?”
“দোষটা আপনার ছিলনা।আমারই ছিল।”
উনি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল,
“সুন্দরী মেয়েদের কখনো দোষ দিতে নেই।দোষটা আপনার ওড়নার ছিল।আর আজও।”
কথাটা বলে উনি চলে যাচ্ছিল তারপর আবার ঘুরে তাকিয়ে মুখটা সিরিয়াস করে বলল,
“আপনার না উচিত ওড়না জিনিসটা এভোয়েড করা।”
তারপর দুষ্টুমি একটা হাসি দিয়ে সামনের দিকে চলে গেল।হাসিটা জাস্ট মাই গড। এই ছেলেটাকে আল্লাহ্ কী দিয়ে গড়েছে? আমার তো এখন ওনাকে ছাড়া থাকাই বেকায়দা হয়ে যাবে।যতক্ষণ অবদি আমি ওনার বুকে ছিলাম মনে হচ্ছিল উনি আমার খুব আপন কেউ। এভাবেই আমাকে সারাজীবন বুকের মধ্যে নিয়ে আগলে রাখবে।এই যা ওনার নাম ধাম কিছুই তো শোনা হলোনা।আজও কী ওনাকে হারিয়ে ফেলব?এর মধ্যেই চাচ্চুর ফোন।
“কীরে কই তুই?”
“ফ্লোরে।”
“কত নাম্বার ফ্লোরে?”
“জানিনা।পরে ফোন করো।আগে আমাকে খুঁজতে দাও।”
“আরে কী খুঁজবি?
চাচ্চুর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় নেই। আশেপাশে সবজায়গায় খুঁজলাম।এইটুক সময়ের মধ্যে কর্পূরের মত উবে গেল নাকি?নাহ্ অনেক খুঁজলাম কিন্তু কোথাও দেখলাম না।এখন তো ফ্লোরে বসেই কাঁদতে ইচ্ছা করছে আমার।না পেয়ে অবশেষে গাড়িতে গিয়ে বসলাম।চাচ্চু ফোন দিচ্ছে বার বার।কিন্তু কথা বলতে ইচ্ছা করছেনা।আধাঘন্টা পর চাচ্চু গাড়িতে এসে বসল।চাচ্চুর মুখ দেখে মনে হচ্ছে রাগে তার চোখ থেকে আগুন বের হচ্ছে।
“তোকে কী আমি গাড়িতে বসে থাকার জন্য নিয়েসেছি?”
আমি মাথা নিচু করে বসে আছি।চাচ্চু আবার বলতে শুরু করল,
“তোর জন্য আজ তোর ফুপিকে নিয়ে আসতে পারলাম না।”
“ফুপি?ফুপি কী এখানে এসেছিল?”
“তো আমি কী তোকে শপিং করতে নিয়েসেছি এখানে?ওকে বলেছিলাম তুই আর তার আমি ওকে নিতে আসছি।ও তোর কথা শুনে খুব খুশি হয়েছিল।তুই ওর সামনে যাসনি বলে ও ভেবেছে তুই ও হয়তো তোর বাবা আর দাদীর মত ওকে পছন্দ করিসনা।তাই ওর সামনে যাসনি।”
“কী বলছো তুমি চাচ্চু?চলো আমি এখনি ফুপিকে গিয়ে নিয়ে আসব।”
“হ্যাঁ ও তো তোমার জন্য বসে আছে এখনো।”
“তাহলে ওনারা যে হোটেলে উঠেছে সেখানে চলো।তবুও আমি ফুপিকে নিয়ে তারপর বাসায় ফিরব।”
“না।আজকে নয়।কাল যাব তাহলে।”
আমি চাচ্চুর কাঁধে মাথা রেখে বললাম,
“আজকে হয়তো আমি মরেই যেতাম চাচ্চু।”
“কী বলছিস এসব?”
চাচ্চুকে সবটা বললাম।ওই ফেইক ডিবিটার কথাও বললাম।চাচ্চু বলল,
“আজও একটা ইন্সিডেন্ট ঘটেছিল।তাও আবার ও তোকে সেইফ করেছে।তার মানে তোদের আবার দেখা হবে।”
“কীভাবে?আমি তো আর ওনাকে খুঁজেই পেলাম না।”
“হয়তো আবারো কোনো ইন্সিডেন্টের মাধ্যমেই দেখা হবে।চিন্তা করিস না।মন বলছে হবে হবে।”
সারাটা রাত আর সেদিন ঠান্ডা মাথায় ঘুমাতে পারলাম না।ঘুমালেই ওনাকে নিয়ে কোনো স্বপ্ন দেখে ঘুমটা ভেঙ্গে যাচ্ছে।ওই হাসিটা আমার অন্তরে এসে একদম ঘায়েল করেছে।এভাবে যে কারো প্রেমে পরে নাস্তানাবুদ হবো কল্পনাতেও ভাবিনি। প্রথম দেখাতেই পনেরো দিনের ঘুম হারাম করেছে।আর এবার যে অনির্দিষ্টকালের জন্য হারাম করে নিলো।
খুব ভোরে চাচ্চুর ডাকে ঘুম ভাঙল।আমি চোখ খুলে একটা ছোট খাটো ভয় পেয়ে বললাম,
“চাচ্চু তুমি এভাবে চাদর মুড়ি দিয়ে আছো কেন?কী হয়েছে?”
“হয়নি হবে।তাড়াতাড়ি ওঠ।”
“উঠে?”
“গাড়িতে উঠে বলব।ওঠ ওঠ।”
“আরে কোথায় যাবো?আর আমি নাইটি পরে আছি।”
“সমস্যা নেই।আমিও নাইট ড্রেসে আছি। তুই শুধু গায়ে একটা চাদর মুড়ে নে।”
চাচ্চুকে আর কিছু বলেই লাভ নেই।তার মাথায় যখন যা চাঁপবে তা না করা অবদি কাউকে শান্তি দিবেনা।
“আমরা কোথায় যাচ্ছি চাচ্চু?”
“তোর ফুপির কাছে?”
“সত্যি?”
“হুমম।”
“কিন্তু তাই বলে এই ভোরবেলা।”
“হ্যাঁ।”
*************************
চাচ্চুর কাজের আগা মাথা কিছুই বোঝার উপায় নেই।ফুপির কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে মেঘার আরো একটা ঘুম হয়ে গেল।
“এই মেঘা?মেঘা?”
মেঘা ঘুমকন্ঠে বলল,”কফিটা রেখে যাও খালা।”
“তোর খালা কফি বেডে রেখেই আসছে। তুই এবার ওঠ।আরে ওঠনা।”
চাচ্চুর ধাক্কায় মেঘা ধড়ফড়িয়ে উঠে বসল।
“আমরা চলে এসেছি চাচ্চু?”
“হুম।গাড়ি থেকে নাম।”
মেঘা ওর চাচ্চুকে ফলো করে লিফ্টে উঠে চারতলায় চলে গেল।তারপর একটা রুমের সামনে গিয়ে দরজায় নক করতেই ধূসর বর্ণের চুলওয়ালা একজন সুন্দর ফর্সা মহিলা দরজা খুললেন।তাকে দেখে মেঘার চোখ কপালে ওঠার মত অবস্থা।প্রায় মেঘার দাদীবুর মত দেখতে।লম্বা মেঘার মত পাঁচ ফিট চার।আর চেহারার ভাব দেখে মনে হবে মাত্র থার্টি ফাইভ।মেঘাকে দেখামাত্রই ওকে জাপটে ধরে কেঁদে ফেলল।
“রুবেল এটাই কী আমার সেই ছোট্ট ফুলকলিটা?”
“হ্যাঁরে আপা।এটাই সেই ছোট্ট ফুলকলিটা।”
ওদেরকে ঘরে নিয়ে গেল মেঘার ফুপি রুবা জান্নাত।সেই তখন থেকেই মেঘাকে জড়িয়ে ধরে বসে কাঁদছে রুবা।ছোটবেলার কত কথা বলছে মেঘাকে।মেঘার এতকিছু ঠিক মনে নেই।কিন্তু ওর খুব কান্না পাচ্ছে।বাড়িতে তখন একমাত্র ওই মেঘাই একটা পিচ্চি ছিল।সবার চোখের মণি একরকম।আর সবথেকে বেশি আদরের ছিল রুবা আর রুবেলের।রুবা মেঘাকে আদর করে ফুলকলি বলে ডাকতো ছোটবেলায়।তারপর রুবা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে ওই নামে আর কেউ ডাকতোনা।রুবেল ডাকলে মেঘার দাদীবু রাগারাগি করতো।
“ফুপি তুমি তাড়াতাড়ি গুছিয়ে নাও।আমি তোমাকে এখনি নিয়ে যাবো।তুমি যদি আরো আগে দেশে আসতে তাহলে আমি কবেই তোমাকে বাড়িতে নিয়ে যেতাম।”
“ইশ মেয়েটাকে বোধহয় ঘুম থেকে তুলে নিয়েসেছিস?চোখমুখ একদম ফুলে আছে। একটু বস তো আমার মা টা।আগে নাস্তা রেডি করি তোদের জন্য।”
“আমি আর একটা মুহুর্তও নষ্ট করবোনা ফুপি।তুমি এখনি যাবে ওই বাড়িতে।”
“তোর যে আরো দুটো ভাই বোন আছে। তাদেরকেও তো বলতে হবে আমায়।”
“হ্যাঁ তো ওদের বলোনি তুমি?ওদেরকে ঘুম থেকে উঠতে বলো।”
“ছেলেটা ওয়াকে বের হয়েছে। আর মেয়েটা এখনো ঘুমোচ্ছে।”
“কিন্তু আপা আমি তোকে কাল রাতে ফোনে বলেছিলাম কী করতে হবে।যার জন্য এত ভোরে আসা।”
“রুশা তো আমার সাথেই যেতে চেয়েছিল।কিন্তু…”
“ও তো পরে আসতে চেয়েছে নাকি।আর ও তো বলেইছে যে তুই যাওয়ার পর সব ঠিক হলে ও নিজেই যাবে ওই বাড়িতে। তাহলে সমস্যা কিসের?ওর জন্য একটা মেসেজ রেখে চল বেরিয়ে পরি।”
“রুশা তো ওর ভাইকে ছাড়া যাবেইনা। রুশাও নাকি ওর ভাইয়ের সঙ্গেই যাবে বলেছে।”
“তো তুই এখন কী করবি?দ্যাখ আমি যেহেতু মেঘাকে নিয়েসেছি তাই তোকে ছাড়া কিন্তু মেঘা এক পাও নড়বেনা।”
“হ্যাঁ ফুপি।তুমি কী করবে আমি জানিনা।তুমি আমাদের সাথে না যাওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে নড়বোওনা আর কিছু খাবোওনা।”
অগত্যা রুবা রুশার থেকে বিদায় নিয়ে তৈরি হয়ে মেঘা আর রুবেলের সঙ্গে বেরিয়ে গেল।বাড়ি ফিরে মেঘার মা মল্লিকার সঙ্গে আগে দেখা হলো।তারপর মেঘার ছোটচাচি এলিনা আর কাজের মহিলা আফিয়ার সঙ্গে পরিচয় হলো। মল্লিকা কতসময় ধরে জড়িয়েছিল রুবাকে তার হিসাব নেই।এখন রুবেলের প্ল্যানমাফিক কাজ শুরু হয়ে গেছে কিচেনে।রুবা ওর বড়ভাই আর মায়ের প্রিয় খাবারগুলো রান্না করে ফেলল।এ বাড়িতে রুবার হাতের রান্নার সাথে অন্য কারো হাতের রান্না তুলনা করা অসম্ভব। সকালবেলা খাবার টেবিলে বসে মেঘার বাবা রুমেন আর ওর দাদীবু খাবার সামনে নিয়ে বেশকিছুক্ষণ বসে আছে। তারপর গাপুসগুপুস করে রুমান সাহেব খাওয়া শুরু করল।সেটা দেখে মেঘা আর ওর ছোট ভাই মিশু হাসতে হাসতে শেষ।
রুমান সাহেব রেগে তাকিয়ে বলল,
“তোরা হাসছিস কেন না খেয়ে?”
মিশু মুখ চেপে হাসি থামিয়ে বলল, “একটু আস্তে খাও বাবা।তোমার খাবার কেউ কেড়ে নেবেনা।”
“কিরে এলিনা তোর ভাবী কী আজ রান্নার ক্লাস করে রান্না করেছে নাকি?”
“হয়তো ভাইয়া।খাবার মজা হয়েছে?
রুমান সাহেব কিছু বললেননা।গপগপ করে খেতে থাকলেন।কিন্তু ওদিকে দাদীবু খাবার স্পর্শ করেও দেখছেনা।