ক্রাশ ২য় পর্ব

0
680

#ক্রাশ
#নিহিন_ইলিয়ানা
#২য়_পর্ব

কিন্তু সকাল বেলা হঠাৎ দেখি আম্মুর চিৎকার।
আম্মু চিৎকার করে ডাকছে আমাকে,
নিহিন নিহিন,দেখে যা।
এখানে আয়।
আমি দৌড়ে এসে যা দেখি,তা দেখার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।

এসে দেখি আমাদের বাড়ীর উঠোন জুড়ে অনেক গুলো গোলাপের পাপড়ি দিয়ে,গাদা ফুল দিয়ে লিখা Happy Birthday Nihin.
আর এই একই লিখা উঠোন জুড়ে জায়গায় জায়গায়।

আর আশেপাশে অনেক গোলাপ ছড়ানো ছেটানো।
আমিতো দেখে অবাক।এসব কে করলো?
আর আমি তো কোন প্রেম ট্রেমও করিনা যে আমার বয়ফ্রেন্ড/লাভার আমার জন্য এগুলো করবে।

আম্মু বল্লো,কি এসব হ্যাঁ?
-আমি কিভাবে বলবো?
-কে করেছে এগুলো?
-আমি জানিনা আম্মু।
-কিন্তু আমি জানি।
-কি জানো আম্মু?
-এসব অর্পন করেছে।যাকে তুই থাপ্পড় মেরেছিস।
কিন্তু ও তোর জন্মদিনের কথা জানলো কি করে?

আমিও অবাক,ও আমার জন্মদিনের কথা জানলো কি করে?

-কি দরকার ছিলো ঝামেলায় পড়ার?
এখন কোথাকার জল কোথায় গড়ায় তাই দেখ।

-উফফ এত চিন্তা করোনাতো আম্মু।যা হবার পরে দেখা যাবে।
যাও নাস্তা বানাও।
আমি খেয়ে কলেজে যাবো।

-কিহ?কলেজে যাবি তুই?
-হুম।ফ্রেন্ডরা সবাই যেতে বলেছে।
ওরা একটা ছোটখাটো প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে আমার জন্মদিন উপলক্ষে।
আমি না গেলে কিভাবে হয়?

-আচ্ছা যাবি ভালো কথা।সাথে আমিও যাবো।
-তুমি আমাকে সন্দেহ করছো আম্মু?
-আরে আমি তোকে একা ছাড়বো নাকি?
যদি ওই অর্পন তোর কোন ক্ষতি করে।

-ওহ।
-এখন ভাব,কলেজে যেতে হলে আমাকে সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।
না হলে আমি যেতে দিবোনা।

-আমিও রাজি।
ওকে যেও।

আম্মু নাস্তা বানালো।
খাওয়া দাওয়া করে রওনা দিলাম আম্মুকে নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে।

কিছু দূর যেতেই আমার চোখ এবার চড়কগাছ।

আমি যেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি,সেই রাস্তায় রং দিয়ে লিখা,Happy Birthday Nihin!

আর পুরো রাস্তায় জায়গায় জায়গায় ফুল ছেটানো।

কিছু দূর যেতেই একটা ব্রিজ।
ব্রিজ টা যে কি পরিমাণে সাজানো হয়েছে তা না দেখলে বিশ্বাস করার কায়দা নেই।

আর ওখানেও লিখা শুভ জন্মদিন নিহিন।

আমি সারপ্রাইজ পেলাম,নাকি বিপদের পূর্বাভাস পেলাম কিছুই বুঝতে পারছিনা।
ভয়ে তো আমি শেষ।

আমি আমার একটা হাত শক্ত করে ধরে বল্লো,

এসব কি?
আল্লাহ্‌ রে,সারা এলাকার মানুষ দেখেছে এগুলো।
মান সম্মান আর কিছুই থাকবেনা।

-আম্মু তুমি এমন করছো কেন?
আমার দোষ কি এখানে?
আমি তো কিছুই করলাম না।
আমি কি বলেছি কাউকে এসব করতে?

আমি সারা রাস্তা আমাকে বকতে বকতে কলেজে নিয়ে গেলো।

আর এত ক্ষণে রাস্তার অনেকেই আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে চলে গেছে।

আম্মু সাথে ছিলো বলে হয়তো কেউ কিছু বলেনি।

কিছু ক্ষণ পর কলেজে পৌছালাম।
বান্ধবীরা কলেজের গেইটের সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
সবাই আম্মুকে সালাম দিলো।

পাশেই একটা রেস্টুরেন্টে ওরা আয়োজন করেছে।
আমরা সবাই ওখানে গেলাম।
ওখানে গিয়ে বর্ষাকে একটু দূরে টেনে নিয়ে বর্ষার কানের কাছে গিয়ে আস্তে করে বললাম,

-আমার আজ জন্মদিন,
সেটা অর্পন জানলো কি করে?
-আরে ও তো সব সময় কলেজের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকে।
আমরা যখন রেস্টুরেন্টে এসে প্রোগ্রামের কথা বলছিলাম ও তখন শুনেছে।
পরে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে কার জন্মদিন?

আমি বলেছি নিহিনের।

-তুই জানিস,ও কি করেছে?
আমাদের বাড়ীর উঠোন,রাস্তা জুড়ে Happy Birthday Nihin লিখে রেখেছে।

-কি বলিস?
-যা শুনতে পেলি।
-ও কি তাহলে তোর প্রেমে পড়ে গেলো নাকি?
মানুষ থাপ্পড় খেয়ে শত্রু হয়।আর ও দেখি তোর প্রেমে পড়ে গেলো।
-ধুর,কিছুই ভালো লাগছেনা আমার।
কি যে হচ্ছে।

-আচ্ছা এখন এসব বাদ দে,
এখন কেক কাট ইঞ্জয় কর।
-আর ইঞ্জয়,দিছে আমার জন্মদিনের ১২ টা বাজিয়ে।

সবাই মিলে কেক কাটলাম।
খাওয়াদাওয়া করলাম।
সবাই আমাকে গিফট দিলো।

তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে
বাসায় ফিরলাম।
বাসায় আসার সময় কোথাও আমি অর্পনকে দেখিনি।
মনে মনে ভাবতে লাগলাম যাক বাবা বেঁচে গেছি।

বাসায় এসে ফ্রেশ হলাম।
আম্মুও ফ্রেশ হয়ে রান্না করতে চলে গেলো।
সারাদিন ভালোই কাটলো।

বিকেলে বোনকে নিয়ে মেইন গেইটের সামনে গেলাম।
আর তখনই হুট করে অর্পন এসে হাজির।

আমি ওকে দেখে বাসার ভেতরে ঢুকবো সেই শক্তি টুকুও নেই।

ছোট বোন বল্লো,আপু চলো।

আর তখনই অর্পন আমার সামনে এসে দাঁড়ায়।

-দেখুন কি চান আপনি?
চলে যান।কেউ দেখলে খারাপ বলবে আমাকে।

-কে খারাপ বলবে?
ওর জিহ্বা কেটে ফেলবোনা?
-দেখুন আপনার পায়ে পড়ি প্লিজ চলে যান এখান থেকে।
লোকে খারাপ বলবে।

-তাহলে কথা দাও কাল কলেজে আসবে।
-না আসবোনা।
-যদি না আসো তাহলে আমি তোমার বাসায় এসে বসে থাকবো।
তখন কেউ মন্দ বল্লে আমার দোষ না।
এখন বলো,আসবে কিনা কাল কলেজে?

-আচ্ছা আসবো।
এবার আপনি যান প্লিজ।

এরপর অর্পন আমার হাতে একটা শপিং ব্যাগ দিয়ে চলে যায় ওখান থেকে।

আমিতো ভয়ে শেষ।
কেউ দেখলো কিনা ভাবতে ভাবতে মাথা খারাপ আমার।
যদি কেউ দেখে তাহলেই তো বদনাম হয়ে যাবে আমার।

ছোট বোনকে বল্লাম,কি জ্বালায় পড়লাম আমি বল?

হাত থেকে ব্যাগ টা ছুড়ে ফেল্লাম মাটিতে।
আর তখনই একজন প্রতিবেশিনী এসে দেখে বলে,কি এটায়?

আর সাথে সাথে আমার বোন ব্যাগ টা হাতে নিয়ে বল্লো,

গিফ্ট এটাতে।
আপুকে তার এক ফ্রেন্ড দিয়ে গেলো।
আজ আপুর জন্মদিন তো তাই।

-তুমি না।
একটুও বুদ্ধি নাই তোমার।
যদি এটায় চিঠি পত্র কিছু থাকে তখন কি হবে?কেউ যদি পড়ে ফেলে?

এই কথা বলে,বোন আমাকে নিয়ে আর ব্যাগ টা নিয়ে আমার রুমে চলে আসলো।

তারপর দরজা আটকে দিয়ে নিজেই খুল্লো ওটা।
খুলে দেখে সত্যি সত্যি একটা চিঠি।
আর সাথে একটা শাড়ী আর অনেক গুলো লিপস্টিক।

চিঠিটা খুলে ও নিজেই পড়া শুরু করলো।

নিহিন,
আমি চিঠি পত্র কিছুই লিখতে পারিনা।জানা ও নেই আমার কিভাবে লিখতে হয় চিঠি।তাই মনের ভাব এলোমেলো ভাবেই প্রকাশ করে ফেললাম।
রাত ১২ টায় আমিই তোমার বার্থডে সেলিব্রেট করি ব্রিজে।আর আতশবাজির আওয়াজ সেখানেই হয়।
আর রাস্তায়,উঠোনে আমিই লিখে রেখেছি ওগুলো।
এই শাড়ীটা তোমার জন্মদিনের গিফ্ট।
আমি চাই আগামীকাল তুমি এই শাড়ীটা পরেই আমার সামনে আসো।
আর এখান থেকে যেকোন একটা লিপস্টিক দিয়ে আসলেই হবে।
বাকি কথা দেখা হলে সামনাসামনিই বলবো।

ইতি
অর্পন

আম্মু যদি জানে এইসবের কথা রে পিচ্চি,
তাহলে আজ মেরেই ফেলবে আমাদের।
এগুলো এখন কি করবো?
আর আমি এই ছাইপাঁশ পরবো তো দূরে থাক।
ঘর থেকেই বের হবোনা আর।

কিন্তু আপু,সে যদি সত্যি সত্যি বাসায় চলে আসে?

ধুর।আসবেনা।
এমনিতেই ভয় দেখিয়েছে।
বাদ দে এসব।

রাতে টেনশনে না খেয়েই শুয়ে পরি।
ছোট বোনকে তো বুঝালাম যেভাবেই হোক।
কিন্তু নিজের মন তো বলছে,ও যদি সত্যি সত্যি চলে আসে?
আর ও যে ভয়ংকর।আসলেই বা কি করবো আমি।

কোন রকম রাত টা পাড় হয়।
সকালে ইচ্ছে করেই বিছানা থেকে উঠিনা আমি।
ভয়ে আছি।যদি চলে আসে অর্পন।

বেলা ১২ টা।
আম্মু ডেকে গেছে অনেক বার।
আমি তাকে বলে দিয়েছি,ভালো লাগছেনা ঘুমাবো,সারারাত ঘুমাইনি।

আম্মু খেয়ে ঘুমাতে বলছে।
কিন্তু খাবার যে আমার গলা দিয়ে নামবে না।
যে ভয়ে আছি আমি।

কিছু ক্ষণ পর বোন আমার দৌড়ে রুমে আসে।
আর বলে,
আপুরে,উঠ তাড়াতাড়ি।
অর্পন তো বাইরের বারান্দায় এসে বসে পড়েছে।

আমাদের বাসাটা অনেক বড় আর খোলামেলা।
শুধু এক পাশ দিয়ে দেয়াল করা।আর পুরো বাসায় কোনো দেয়াল নেই।
তাই যে কেউ আমাদের বাসায় সহজেই আসতে পারে।
আর আমাদের বাসার মেইন গেইট দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে বলে গেইট টা খোলাই রাখতে হয় সারাদিন।

আমি তো শোয়া থেকে লাফ দিয়ে কোন রকম উঠে বসে পড়লাম বোনের কথা শুনে।
কিন্তু ভয়ে যেন এখন আমার আত্মাটা বেড়িয়ে আসছে।

এখন কি করবে অর্পন?

হঠাৎ করেই শুনি অর্পন “কাকী,এই যে কাকী একটু শুনবেন”

এই বলে আম্মুকে ডাকছে।

আর আমি দৌড়ে রুম থেকে বেড়িয়ে এসে অর্পনকে বলি,

আ আ আ আপনি এখানে?

আর অর্পন আমার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আমার সামনে এসে আমার বাম হাত টা শক্ত করে মুঠো করে ধরে।

চলবে,