গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য পর্বঃ ৯+১০

0
1086

গল্পঃ তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ৯+১০
লেখকঃ #Mohammad_Asad

নিশাত বিকেলে জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়ে অঝরে বৃষ্টি ঝরে যাচ্ছে নিশাতের। কতদিন হয়ে গেলো ছাদিকের সঙ্গে কথা হয়না নিশাতের। জীবনটা কেন এমন ভাবে উল্টো পাল্টো হয়ে গেলো।
-আমার উপর হয়তো অনেক রাগ করে আছে পাগলটা। ১মাস ধরে কথা বলিনাই। আমিও কি ভালো আছি ওর সাথে কথা না বলে।

নিশাত জানালার পার্শে বসে আছে। কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে আব্বু। বাড়ির বাইরে যেতে পারেনা নিশাত। আর ছাদিকের ফোন নম্বরটাও মুখস্থ ছিলো না নিশাতের। তাই তো কল দিতে পারেনা ছাদিককে নিশাত।

নিশাতের মাথায় হঠাৎ করে দুষ্টু বুদ্ধি আসে
-আব্বু আমার সিমটা নিজের রুমে রাখেনি তো? আব্বু তো এখন অফিসে।
“নিশাত দৌড়ে আব্বুর রুমে যায়। ডয়ারে দেখে সিম আর ভাঙা ফোনটা পড়ে আছে।
ভাঙা ফোনটা একবারে নষ্ট হয়ে গেছে। আর সিমটা ভালো আছে। নিশাত আম্মুর রুমে গিয়ে আম্মুর ফোনে সিমটা চালু করে।

আজ দিয়ে ১মাস কথা বলেনি নিশাত ছাদিকের সঙ্গে। মনটা কেমন যানি করছে পাগলটার জন্য। কি যানি কতটা রাগ করে আছে আমার হনুমানটা আমার উপর।

নিশাত ছাদিকের ফোনে কল দিতে যাবে তখন আম্মু রুমে চলে আসে।
-কি রে নিশাত, কি করছিস ফোনটা নিয়ে?
-কই আম্মু কিছু না তো। এমনি তোমার ফোনটা দেখছিলাম। কতদিন ধরে ফোন ব্যবহার করিনা আমি।
-হুম সব বুঝিরে বুঝি। সেদিনের পর থেকে চোখ মুখের কি হাল বানিয়েছিস তুই। ভালো মতো খাস না। যানি রে মা যানি। তুই ছেলেটার জন্য কষ্ট পেয়েছিস তাই না রে। তবে ওই ছেলেটার সঙ্গে কেন নোংরামি করেছিলিস?
-আম্মু এগুলা সব ভুল ছিলো। ওই ছেলেটাকে আমি ভালোবাসি না।

নিশাত আম্মুকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে।
-কি বলছিস নিশাত তাহলে সবকিছু সাজানো ছিলো।
-হ্যাঁ আম্মু হ্যাঁ।
-তোর আব্বু তোকে শুধু শুধু ভুল বুঝেছে। ওই ছেলেটার জন্য তোকে কতটা মেরেছিলো সেদিন।
“নিশাত কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে”
-হ্যাঁ আম্মু
-আমার ফোনটা নিজের রুমে নিয়ে যা। তোর আব্বুকে সবকিছু খুলে বলবো আমি।
আর তোর বিয়ের ব্যবস্তাটাও করবো।
-সত্যি আম্মু
-হ্যাঁ সত্যি,

নিশাত দৌড়ে নিজের রুমে চলে যায়। ছাদিকের ফোনে কল দিয়ে কান্না শুরু করে দেয় নিশাত।
-আসসালামু আলাইকুম কে বলতেছেন?
-আমি নিশাত চিনতে পারছো না আমাকে?
-হুম চিনতে পেরেছি।
“ছাদিক ফোনটা কেঁটে দেয়। অনেক রাগ করে আছে ছাদিক। এই ৩০টা দিন ভালো মতো ঘুমতে পারিনি ছাদিক। প্রতেকটা দিন নিশাতের ফোনে কল দিয়েছে ছাদিক। তবে সব সময় বন্ধ পেয়েছে ছেলেটা।

নিশাত আবার ছাদিকের ফোনে কল দেয়। তবে কেঁটে দেয় ছাদিক। ৩০বারের মতো কল দেওয়ার পর ছাদিক ফোনটা রিসিভ করে। নিশাত কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলে
-তুমি ফোন ধরছিলে না কেন? ৩০বার ফোন দেওয়া পর রিসিভ করলে তুমি।
” ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে।”
-কি অনেক রাগ হচ্ছে তাই না। মাত্র ৩০বার ফোন দিয়ে কাহিল হয়ে গেলে। আমি তোমাকে হাজার বার কল দিয়েছি তখন ধরোনি কেন? ফোন বন্ধ করে রেখেছিলে কেন তুমি? কোনো ছেলেকে পেয়েছো তাই না।

“নিশাত রেগে দাঁত কটমট করে বলে।”
-হনুমান তোকে যাদি আমি কাছে পাইনাম না। ছিঁরে ছিঁরে খেতাম।
-ওরে বাবারে পেত্নীটা দেখছি খুব রাগ করেছে।
-হ্যাঁ অনেক রাগ করেছি। কেমন আছো তুমি।
-তুমি যেমন রেখেছো আমায়। খুব ভালোই আছি। তুমি কেমন আছো?

নিশাত কেঁদে উঠে।
-এই পেত্নী কান্না করছো কেন?
-একটুও ভালো নেই, তোমাকে ছারা আমি।
-ইসস রে। আগে বলোতো এতোদিন কি হয়েছিল তোমার। আমি ভালোভাবে যানি তুমি কোনো সমস্যার মধ্যে ছিলে।
-হু
-আমি যানিতো আমার পেত্নীটা আমাকে খুব ভালোবাসে।
-হু
-আমি যানি তো আমার এই পেত্নীটা অন্য ছেলেকে ভালোবাসে এখন।
-এই হনুমান। কি বললে তুমি।
-স্যরি কিছুনা।
-হিহিহিহি। আমি তোমাকে ছারা অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারি বলো।
-তাই তো।
-আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।
-হুম যানি তো।
-যানো খুব কষ্ট হয়েছিল আমার তোমার সঙ্গে কথা না বলে।
-আহারে পেত্নী, তোমার শুধু একার কষ্ট হয়েছে বুঝি। আমার একটুও কষ্ট হয়নি তাইনা।
-যানো আমার আব্বু আমাকে ঘর বন্ধি করে রেখেছে। বাড়ির বাইরে যেতে পারিনা আমি।
-মানে?
-হুম কলেজেও যেতে পারি না আমি।
-পেত্নী তোমার কি হয়েছে। তোমার পড়াশোনা বন্ধ করেছে নাকি?
-নাহহ্ পড়াশোনা বন্ধ করেনি এখনো। বাড়িতে পড়তে বলেছে আমাকে।

-তোমার আব্বুটা কেন এমন করলো পেত্নী।
-একটু দুষ্টুমি করেছিলাম তাই। “আলামিনের সঙ্গে ঘটনাটা এড়িয়ে চলে নিশাত”

-কি দুষ্টুমি করেছিলে তুমি?
-বলবো না,,
-কেন বলবে না।
-এমনি
-আচ্ছা বলতে হবে না।
-হুম, যানো আমার ফোনটাও ভেঙে দিয়েছে আব্বু।
-আহারে
-এই তুমি মজা করতেছো কেন আমার সঙ্গে।
-কই মজা করছি নাতো।
-তুমি খুব পাজি।
-হুম একটু,
-যানো আব্বু বলেছে বই পড়তে। কলেজে না গেলে কি বই পড়বো বলোতো আমি। কিছু তো বুঝছি না।

“ছাদিক মিস্টি হেঁসে বলে”
-হুম ঠিক তো। আমার বুড়ো শশুরটা খুব খারাপ তাই না।
-এই আমার আব্বুকে তুমি বুড়ো বললে কেন?
-কেন আমার শশুড় মশাই কি ছেমড়া।

“নিশাত রেগে বলে”
-এই কি বললে তুমি। হনুমান, বাঁদর
-আচ্ছা এইসব বাদ দেও। যানো তোমার সঙ্গে কথা না বলে অনেক কষ্ট হয়েছিল আমার। ভেবেছিলাম যেদিন তোমার সঙ্গে কথা বলবো আমি। সেদিন তোমার উপর অনেক রাগ দেখাবো। তবে তা তো আর হলোনা। তোমার এই মিস্টি কন্ঠটা পাগল করে দিলো আমাকে।
-তাই নাকি হনুমান।
-হ্যাঁ।
-হনুমান কি করো এখন।
-এই তো সুয়ে আছি। স্কুল থেকে ফিরলাম কিছুক্ষণ আগে।
-ওহ আচ্ছা।
-হুম
-আমাকে বিয়ে করবে কবে?
-ইসস রে ১মাস পর আবার সেই কথাটা শুনলাম। সত্যি নিশাত মনটা খুশি হয়ে গেলো।
-এই পাজি ছেলে সবকিছু নিয়ে মজা করো কেন?
-কই মজা করলাম?

ছাদিক আর নিশাত ১মাস পর আবার কথা বলছে ফোনে। কিছুটা মান অভিমান নিয়ে। ছাদিক ভেবেছিলো যে নিশাতের সঙ্গে যেদিন কথা বলবে সেদিন অনেক বকা দিবে নিশাতকে। তবে নিশাতের মিস্টি কন্ঠটা শুনে ছাদিকের মন সান্ত হয়ে যায়।
.
.
রাতে নিশাতের আব্বু আম্মু আরাফাত সকলে টেবিলে বসে ভাত খাচ্ছে। নিশাতের আব্বু বলে উঠে।
-নিশাত তোর বিয়ে ঠিক করেছি আমি।
-মা,,,মানে কি বলছো আব্বু। বিয়ে ঠিক করেছো মানে? আমি এখন খুব ছোট্ট বিয়ে করতে পারবোনা আমি। আমি এখন পড়াশোনা করতে চাই।

“অনেকদিন পর আব্বুর সঙ্গে কথা বলছে নিশাত। নিশাতের আব্বু বড় বড় চোখে নিশাতের দিকে তাকায়। নিশাত মাথাটা নিচু করে নেয়। আব্বু বলতে থাকে।
-নিশাত বিয়ে ঠিক করেছি আমি। ছেলেটা অনেক ভালো। আর অনেক সুখে থাকবি তুই ছেলেটার সঙ্গে। পড়াশুনা করার দরকার নেই আর। অনেক পড়াশুনা করেছিস তুই।
-আমার বিয়ে ঠিক করেছো আমাকে অন্তত যানানোর দরকার বোদ্ধ করনিনি আব্বু।

নিশাতের আব্বু রেগে যায়।
-আমি তোর বাবা। তুই আমার মুখের উপর কথা বলছিস কেন। দেখো দেখো তোমার মেয়ে কতবড় হয়ে গেছে। আমি যার সঙ্গে বিয়ে দিবো তার সঙ্গে বিয়ে করবি। আর একটাও কথা বলবি না তুই। এই তোমার মেয়েকে বুঝাও তুমি।

কথাগুলো বলে টেবিল থেকে উঠে যায় নিশাতের আব্বু। নিশাতের আম্মু নিশাতকে বলে।
-নিশাত, যার সঙ্গে তোর আব্বু বিয়ে ঠিক করেছে তাকে বিয়ে কর। সুখে থাকবি তুই। বাইরের ছেলেটাকে ভুলে যা। তোর আব্বু কখনো তোর খারাপ চাইবেনা।
-আম্মু আমি শুধু একজনকে ভালোবাসি। আর একজনকে বিয়ে করবো। আর কাউকে বিয়ে করতে পারবোনা আমি। দরকার হলে আত্যহত্যা করবো। এই আরাফাত আমার রুমে একটু আসিস কথা আছে তোর সঙ্গে। “কথাগুলো বলে নিজের রুমে চলে যায় নিশাত।”

এদিকে নিশাতের আম্মু ভাত খেয়ে নিজের রুমে যায়। নিশাতের আব্বুকে অনেক বুঝানোর চেষ্টা করে আম্মু।
-এভাবে জোর করে বিয়ে দিলে মেয়েটার জীবন নষ্ট হয়ে যাবে।
“তবে নিশাতের আব্বু এক কথা বলে যার। যার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেছি তাকেই বিয়ে করবে নিশাত।
.
.
আরাফাত নিশাতের রুমে আসে।
-আপু এসেছি আমি। তখন আসতে বললে কেন?
-আরাফাত। তুই কি যানিস কার সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক করেছে আব্বু?
-নাতো আপু।
-আব্বুর কাছ থেকে যেনে আয়। আব্বুকে বলবি আপু রাজি আছে বিয়েতে। তবে ছেলেটার ছবি দেখাতে হবে।

-আচ্ছা আপু এখনি যাচ্ছি।

আরাফাত দৌড়ে আব্বুর রুম যায়। কিছুক্ষণ পর নিশাতের রুমে আসে আব্বুর ফোনটা নিয়ে আরাফাত। নিশাত ফোনটা হাতে নিয়েই ভ্যবাচ্যাকা খেয়ে যায়। এই আলামিনের সঙ্গে আমার বিয়ে। নিশাত আরাফাতের হাতে ফোনটা দিয়ে বলে।

-আব্বুকে গিয়ে বলবি আপু রাজি আছে।

আরাফাত খুশি হয়ে আব্বুর রুমে চলে যায়। এদিকে নিশাত রাগে রুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি শুরু করে। রুমের দরজা বন্ধ করে ছাদিকের ফোনে কল করে নিশাত।
-আসসালামু আলাইকুম,
-হুম বলো নিশাত।
-তোমার সঙ্গে কথা আছে।
-হুম বলো।
-কালকে আমাকে নিয়ে যাও বিয়ে করে।
-মানে কি বলছো নিশাত।
-আব্বু আমার বিয়ে ঠিক করেছে। বিয়ে হয়ে গেলে আঙুল চুসো সারাজীবন।
-আচ্ছা ঠিক আছে নিশাত। তুমি চিন্তা করোনা কলকে রেডি থেকো তুমি।

(চলবে?)

গল্পঃ #তুমি_ছারা_আমি_শূন্য
পর্বঃ ১০
লেখকঃ #Mohammad_Asad

“ছাদিক এখন কি করবে কিছু বুঝছেনা। কালকে নাকি বিয়ে করতে হবে নিশাতকে।
ছাদিক বন্ধুদের ফোন করে। রিয়াদ, ফয়সাল, তুহিন। তিনজন বন্ধুকে সবকিছু খুলে বলে ছাদিক। এই তিনজন বন্ধু ছাদিকের অনেক কাছের। বলা যায় ছাদিকের প্রাণের মতো। ছাদিক আর কোনোকিছু চিন্তা না করে ঘুমিয়ে পড়ে।
.
.
অনেক সকালে উঠে ছাদিক। বিয়ের কিছু বাজার করে নেয় বন্ধুদেরকে নিয়ে। নিশাতের জন্য শাড়ী কিনা হয়। আরো অনেককিছু। যদিও পালিয়ে বিয়ে তবুও এগুলা তো লাগেই তাই না।
.
.
-এই তুমি কখন আসবে?
-সন্ধ্যায় রেডি থেকো। এখন তোমার কাছে আসলে অনেকে সন্দেহ করবে। তুমি কোনোরকমে কলেজের কোনো একটা রুমে বসে থেকো আমি যাচ্ছি।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
.
.
নিশাত কোনোরকমে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। নিশাত কালেজের একটা রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। কি কারণে যানি রাইসুল ছাদিকের ভাই কলেজে আসে অনেক রাতে। নিশাত নিজাব পড়ে ছিলো।
-কে ওখানে?
-,,,,,,,,,

রাইসুল নিশাতের কাছে আসে। ”
-আরে তুমি নিশাত না?
-হুম
-এখানে কি করো?
-কিছু না।
-এতোদিন কলেজে আসোনি কেন?
-স্যার, আব্বু ঘর বন্ধি করে রেখেছিলো।
-কেন নিশাত।

নিশাত ছাদিকের ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলতে থাকে। এদিকে ছাদিক এসে পড়ে। তখন রাত প্রায় ৭;৩০।
ছাদিক আর তিনজন বন্ধুকে নিয়ে আসে।
ছাদিককে দেখতে পেয়ে নিশাত দৌড়ে ছাদিকের কাছে যায়। আর ছাদিকের চোখের দিকে তাকিয়ে। ছাদিককে জরীয়ে ধরে শক্ত করে। আর বলতে থাকে।
-আমি মনে করেছিলাম তুমি মনে হয় আসবেই না। তুমি সন্ধ্যায় আসতে বলছিলে। আমি বিকেল থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। কতটা কষ্ট হচ্ছিলো আমার যানো তুমি।
-পাগলী
-হুম
-এই তো এসে পরেছি।

ছাদিক আর নিশাত দুজনদুজনকে জরীয়ে ধরে কথা গুলো বলছে। আর এদিকে ছাদিকের তিনজন বন্ধু কান্না করে দিয়েছে প্রায়। একটা মেয়ে এতোটা ভালোবাসে ছাদিককে।

রাইসুল পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। এগুলা কি হচ্ছে ছাদিক এখানে কেন?
-তবে রে ভাই মনে মনে বলে। ছাদিকের কাছে যায় রাইসুল।

-ছাদিক,

ছাদিক বুঝে যায় এইটা ভাইয়ার কন্ঠ। ছাদিক নিশাতকে নিয়ে সোজা দাঁড়িয়ে থাকে। মাথা নিচু করে।
-ছাদিক তুই আজকে নওগাঁ এসেছিস আমাকে বলিস নাই কেন?
-ভাইয়া, ভাইয়া,
-হ্যাঁ বল। আর এইসবের মানে কি। নিশাত এখানে কেন?
-আসলে ভাইয়া নিশাতকে আমি খুব ভালোবাসি। আর নিশাতের বিয়ে ঠিক করেছে নিশাতের বাবা-মা। তাই আমরা পালিয়ে বিয়ে করতে যাচ্ছি।
-মানে,, তুই পালিয়ে বিয়ে করবি। এগুলা কি বলছিস ছাদিক। আমি ভাবতেই পাচ্ছি না এমনটা হয়েগেছিস তুই। মানসম্মান সব খাবি নাকি। কালকেই আমি নিশাতের পরিবারের কাছে যাবো। তোর বিয়ের জন্য।

নিশাত বলে,
-স্যার, আব্বু মেনে নিবেনা আমাদের দুজনের বিয়ে। আসলে আব্বু আম্মু সকলে যেনে ফেলেছে আমাদের দুজনের ব্যপ্যারে।
-নিশাত এটা কেমন করে হয় বলো। তোমার আব্বু আম্মু কষ্ট পাবে। তোমরা এভাবে বিয়ে করলে।
-কষ্ট একটু পাওয়া দরকার স্যার। আমাকে তো আর কম কষ্ট দেইনাই, এই ১মাস। আব্বু ভুল বুঝে আমাকে বন্ধি করে রেখেছিল।

নিশাত ছাদিকের হাতে হাত রেখে হাঁটা শুরু করে। পিছন থেকে রাইসুর ধির কন্ঠে বলে উঠে।

-কিরে আমাকে নিয়ে যাবি না।
.
.
কাজি অফিস থেকে ছাদিক আর নিশাত বিয়ে করে নেয়। ছাদিক আর নিশাত। নিজের বাড়িতে উঠে। কালকে খালাম্মাদের বাড়ি চলে যাবে দুজনে। খালাম্মাদের বাড়িটাই যে ছাদিকের নিজের বাড়ি। ছাদিক না থাকলে যে ওই বাড়িটা অচল।

ছাদিক আর নিশাত, রাইসুলের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তিনজন বন্ধু সহ। কলিংবেল বাজানোর পর নুসরাত ভাবি দরজা খুলে দেয়। রাইসুল নুসরাতকে বলে।
-এই যে দেখো কাদের নিয়ে এসেছি।
-এইসবের মানে কি?
-আমার ভাই, আর পিচ্চি ভাবি। কেমন,
-এই দাঁড়াও আগে বলো এইসবের মানে কি?
-আচ্ছা সবকিছু খুলে বলছি। আগে ভিতরে তো ডুকি।

নিশাত আর ছাদিক বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। তবে কিছু বুঝতে পাচ্ছে না নুসরাত ভাবি। বারবার রাইসুলকে বলেই যাচ্ছে।
-এইসবের মানে কি। ওই মেয়েটা কে।
-আরে পাগলী মেয়েটা হচ্ছে আমার ছোট্ট ভাবি। ছাদিক বিয়ে করেছে এবার বুঝছো। রুমে চলো সবকিছু বুঝিয়ে বলছি।

-আচ্ছা ঠিক আছে।

রাইসুল ছাদিকের তিনজন বন্ধুকে গেস্ট রুমে পাঠিয়ে দেয়।, এদিকে ছাদিক নিশাতকে নিয়ে নিজের রুমে চলে যায়। ছাদিকের দুইটা নিজের বাড়ি, বললেই চলে। নওগাঁ ভাইয়ার বাড়ি। আর রাজশাহীতে নিজের বাড়ি।
.
.
.
নিশাতকে না পেয়ে আব্বু অনেক রেগে যায়। আম্মুকে অনেক গালি দিতে থাকে নিশাতের আব্বু।
-আমি যানতাম এই মেয়ে ভালো না। নিশাত ওই লম্পট ছেলেটার সঙ্গে পালিয়ে গেছে। এখন কি ভাবে মুখ দেখাবো মানুষকে আমি। আজ থেকে আমার কোনো মেয়ে নেই। এই বাড়িতে কারো মুখ থেকে যেন নিশাতের নাম না শুনি।

আব্বু কথা গুলো বলে নিশাতের ঘর থেকে বের হয়ে যায়। নিজের রুমে গিয়ে দেখে একটা কাগজের টুকরো রেখে গেছে নিশাত।
-আব্বু আমি যানি তো। তুমি এখন খুব রেগে আছো। আমার রুমে আমাক না পেয়ে তুমি পাগল হয়ে গেছো। তবে কি যানোতো আব্বু। আমি তোমাক খুব ভালোবাসি। তুমি আমাক ভুল বুঝে আমার বিয়ে ঠিক করেছো। তুমি যে ছেলেটার সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক করেছো। সে ছেলেটাই এইসব ঘটিয়েছে। আমি যানি ছেলেটার নাম আলামিন। আলামিন আমাদের কলেজের বড় ভাই ছিলো। আমাকে প্রপোজ করেছিলো। তবে আমি অন্য কাউকে ভালোবাসতাম তাই রিজেক্ট করেছি। তাই আমাক পাবার জন্য তোমাকে মিথ্যা ছবি দেখিয়েছে আলামিন। স্যরি আব্বু, বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য। ভালো থেকো আব্বু। আই লাভ ইউ আব্বু। ক্ষমা করে দিও আমাকে।
.
.
.
ছাদিক রুমের দরজা লেগে দিলে নিশাত একটু ভয় পেয়ে যায়। রুমের লাইটটা জালিয়ে দেয় ছাদিক। লাইট জালানোর পর নিশাত ছাদিকের দিকে তাকিয়ে আছে। ছাদিক নিশাতের ঠোঁটের কাছে নিজের ঠোঁট নিয়ে যায়। ছাদিক খেয়াল করে নিশাতের চোখে জল। ছাদিক বুড়ো আঙুল দিয়ে নিশাতের চোখের জল মুছিয়ে দেয়।
-ইসস আমার লাল টুকটুকে বউটা দেখছি কান্না করছে। কান্না করার মানেটা কি বাবু। আমরা তো এক হয়ে গেছি তাই না বলো। আর কান্না করবে না। আর তো বলতে হচ্ছে না। আমাকে কবে বিয়ে করবে।
“নিশাত খিকখিক করে হেঁসে উঠে। ছাদিকের বুকে কিল ঘুশি দিতে শুরু করে। ছাদিক নিশাতকে খুব শক্ত করে জরীয়ে নেয় নিজের বুকে।
“ছাদিক নিশাতকে পাজোকলা করে কোলে তুলে নেয়। খাটে সুয়ে দেওয়া সঙ্গে সঙ্গে কে যেন দরজায় টুকা দিচ্ছে। এদিকে নিশাত লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।

ছাদিক দরজাটা খুলে দেয়। দেখে রাইসুল ভাইয়া দুই প্লেট ভাত তরকারি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
-এই যে ছাদিক, আর ছোট্ট ভাবি। আজকে সারাদিনে কিছু খেয়েছো? না আবার না খেয়ে থাকবে আজকে। এই ছাদিক ভাতের প্লেট দুইটা ধর। নিশাতকে খাইয়ে দে।

-আচ্ছা ভাইয়া।

রাইসুলের হাত থেকে ভাতের দুইটা প্লেট নিয়ে টেবিলে রেখে দেয় ছাদিক। আরেকটু পর রাইসুল ভাইয়া তরকারির বাটি নিয়ে আসে। টেবিলে রেখে চলে যায়। ছাদিক ঘরের দরজাটা ভিতর থেকে লাগিয়ে দেয়।

নিশাত মাথা নিচু করে বসে আছে। অনেক লজ্জা পাচ্ছে হয়তো। ছাদিক নিশাতের পার্শে বসে বলে উঠে।
-পেত্নী
-হুম
-আজকে সারাদিনে কিছু খেয়েছো?
-হুম
-মিথ্যা বলছো নাতো।
-খেয়েছি একটু।
-তাই
-হু
-আচ্ছা একটা কথা বলবো।
-হুম বলো।
-তোমাকে একদম লাল টুকটুকে বউ লাগছে।
-হিহিহিহি
-পেত্নী একটা।
-আমি তো তোমারি বউ তাই না বলো।
-হুম
-এবার কাপড় বদলিয়ে ভাত খাবে চলো।
-তোমার সামনে বদলাবো।
-হুম অবশ্যই।
-ছিঃ তুমি খুব খারাপ।

-কেন আমি তোমাকে দেখলে সমস্যা কি! আমি তোমার জামাই তাই না। তাছাড়া আরেকটু পর তো,,,,,,,

-এ্যা, আমার লজ্জা করেনা বুঝি তাই না।
-জামাইয়ের কাছে লজ্জা কি হুম।
-না, আমি পারবোনা। তুমি ওই দিকে ফিরে তাকাও।
-আচ্ছা ঠিক আছে।

নিশাত ব্যাগ থেকে একটা সাদা সালোয়ার-কামিজ বের করে পড়ে নেয়। ছাদিক ততক্ষণ জানালার পার্শে দাঁড়িয়ে আছে।

-এই যে পড়া শেষ।

ছাদিক নিশাতের দিকে তাকায় একদম বাচ্চাদের মতো লাগছে নিশাতকে।
-আমার পিচ্চি বউটাতো দেখছি খুব সুন্দর।
-ইসস কত্ত পাম দিচ্ছে।
-কই পাম দিচ্ছি না তো।
-হুম হইছে।

(চলবে?)