গ্রামের পিচ্চি বউ পর্ব :- ১৩ + ১৪ এবং ১৫

0
965

গল্প :- গ্রামের পিচ্চি বউ
পর্ব :- ১৩ + ১৪ এবং ১৫
লেখিকা :- বাবুনি
.
.
.
-:”অবশেষে ওকে দেখতে পেলাম বেলকুনিতে..
দাঁড়িয়ে আছে বাইরের পরিবেশ টা হয়তো উপলব্ধি করছে ..
আমি ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম ..(ওর আমার দিকে কোনো মনযোগ নেই…)
কয়েক মিনিট পর হঠাৎ ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম ওর চোখে পানি ঝড়ছে..ও কান্না করছে কিন্তু কেন…
আমি ওর কাঁধে হাত রেখে বললাম কি হয়েছে রুমকি তুমি কান্না করছো কেন…?
রুমকি: আমার কথা শুনে তারাতাড়ি চোখ মুছে ফেলল.. তারপর বলল কই না আমি কানছি না…
আমি: আমার পিচ্চি বউ আমার কাছে লোকাচ্ছ কেন.. আমি একটু আগেই তো তোমার চোখে জল দেখলাম..
এবার ও আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো..
আমি:ঐ রুমকি কি হলো এভাবে কান্না করছো কেন ..কি হয়েছে .. আম্মু আব্বু কি কিছু বলছেন তুমাকে..
রুমকি: কান্না করতে করতে বলল .. না..
আমি: তাহলে কাঁদছো কেন..?
রুমকি: চুপ করে আছে..আর কান্না করছে.. (আমার শার্ট টা চোখের জলে ভিজিয়ে দিয়েছে..)
আমি: তাহলে কি তুমার বাসার সবার কথা মনে পড়ছে…?
রুমকি:বলল হুমম..বলে ই কান্নায় ভেঙে পড়লো আবার ও..
আমি:ঐ বোকা মেয়ে ..এই ভাবে বাচ্চাদের মতো কান্না করতে হয় না কি.. আমাকে বললেই পারতে যে তুমি বাসায় যেতে চাও, বাসার সবাইকে মিস করছো..
রুমকি:কইলে কিতা আপনে লইয়া যাইবা নি..আপনে যে সয়তান , ঘরমোরগী…(বলে যা ইচ্ছা বকা দিচ্ছে আর কান্না করছে..)
আমি: দূর পিচ্চি আমি তুমাকে নিয়ে যাবো আজকেই ওকে..
রুমকি: আমার কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ..বলল, সত্যি নি..
আমি:হুমমম সত্যি …
রুমকি:সরি..
আমি:কেন..?সরি কেন…?
রুমকি:আপনারে যে গালি দিলাম এর লাগি..
আমি:হা হা হা .. It’s ok.আমার পিচ্চি বউ..
রুমকি: আমার দিকে তাকিয়ে মুখে ভেঙ্গছি কেটে চলে যেতে চাইলো..
আমি:পিছন থেকে ওর হাত ধরে বললাম এই কোথায় যাচ্ছো..?
রুমকি: নামাজ পড়তাম..হাত ছাড়ইন ..আপনে ও আইন আমার লগে …
আমি: আমি গিয়ে কি করবো…?
রুমকি:আপনে ও নামাজ পড়তা আইন…
আমি:কি আর করা পিচ্চি বউ এর সাথে গেলাম..
নামাজ আদায় করে .. নাস্তা খেতে টেবিলে গেলাম…
খেতে খেতে আম্মু আব্বু কে বললাম রুমকিদের বাসায় যাওয়ার কথা..
আম্মু আব্বু সম্মতি দিলেন..
আমি রুমকি কে বললাম রেডি হতে.. বেলা প্রায় ১০টা হয়ে গেছে..
রুমকি রেডি হয়ে নিচে এলো..বাহ বেশ সুন্দর লাগছে আমার পিচ্চি বউ টা কে… আমি আরেকবার প্রেমে পড়লাম আমার পিচ্চি বউ এর রুপ দেখে মুগ্ধ হয়ে … আমি সত্যি ভোরে ফোঁটা যেন এক পদ্মফুল দেখতে পেলাম আমার সামনে…
আমি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি ওর দিকে…
.
.
#Part :- 14
.
.
-:”হঠাৎ চিমটি খেয়ে আমি বাস্তবে ফিরে এলাম..
আআআআহ রুমকি লাগছে তো ..
আমার হাত ছাড়ো..
রুমকি হাত সরিয়ে নিলো..
আমি: আমি আমার হাতটাতে হাত বুলাতে বুলাতে বললাম..
ওই পিচ্চি চিমটি কাটলে কেন..?(একটু রাগি টাইপের চোখ নিয়ে তাকিয়ে ..)
রুমকি:আপনে যেলা আমার মুখায় চাইরা আম্মু আব্বু এ দেখলে কিতা কইবা, ওউ চিমটা দিছি..
আমি:একটু ভেবে বললাম তা ও ঠিক..(পিচ্চি হলে কি হবে বুদ্ধি আছে অনেক..)
রুমকি: মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে..
আমি:ওই পিচ্চি বউ চিমটি কাটছো..তাই এখন তুমাকে শাস্তি পেতে হবে..
রুমকি: আমতা আমতা করে বলল.. আমি কিতা ইচ্ছা করি চিমটা দিছি নি..
আমি: চিমটি কাটলে কেন এখন তুমাকে শাস্তি পেতে হবে, না হলে আজ আর কোথাও যাচ্ছি না..
রুমকি:কিতা শাস্তি .. আর যাইতা নায় মানে…?
আমি: তুমি আমাকে চিমটি কাটছো.. এখন তুমি এর শাস্তি ভোগ করতে হবে.. না হলে তুমাকে নিয়ে যাবো না..
রুমকি :একটু নরম কন্ঠে ..ওকে, কিতা শাস্তি পাওয়া লাগবো কইন..?
আমি: তুমাকে এখন আমি এইখান থেকে কোলে নিয়ে গাড়ি পর্যন্ত যাবো.. যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি গাড়ি অবধি পৌছাই .. তুমি আমাকে চুমু দিয়ে যাবে ততক্ষণ..
রুমকি: আমার দিকে তাকিয়ে আছে হা করে..
আমি:কি হলো রাজি তো .. না হলে কিন্তু যাবো না..
রুমকি: মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো..
তারপর আব্বু আম্মু কে বিদায় জানিয়ে..ওকে কোলে তুলে নিলাম..
ও চোখ বন্ধ করে দিয়েছে..
আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবছি..এত সুন্দর অপরুপা একটা মেয়ে আমার বউ.. সত্যি ওর তুলনা হয়না কোন কিছুর সাথে..
তারপর ও আমার মনে হচ্ছে ঠিক এই মুহূর্তে আকাশ থেকে নেমে আসা একটা পরি ,যেন আমার কোলে এসে পড়েছে..
আমি বললাম ওই পিচ্চি বউ তুমাকে না আজ অনেক অনেক সুন্দর লাগছে..
এই শাড়িতে..
(শাড়ি টা আমি পছন্দ করে এনেছি কাল.. কালোর মধ্যে হালকা লাল রং..)
আমার বউ টা হিজাব পরেছে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে..
বেশ সুন্দর লাগছে ,ওর গায়ের রং এর সাথে শাড়িটা বেশ মানিয়েছে..
আমি:ওই পিচ্চি চিমটি কাটলে এখন আমার চুমু কোথায়..?
ও চুপ করে আছে চোখ বন্ধ করে..
আমি:ওই পিচ্চি তারাতাড়ি চুমু দেওয়া শুরু কর..লেট হয়ে যাচ্ছে তো , বাসায় যাবা না তুমার..?
রুমকি: চোখ বন্ধ অবস্থায়ই চুমু খাচ্ছে আমাকে..(কোনো টা আমার নাকে, কোনো টা কপালে, কোনো টা চোখে..)
আমি ও আমার পিচ্চি বউ এর কপালে ভালোবাসার প্রতীক এঁকে দিলাম..
ও একটু কেঁপে উঠলো..
তারপর আমি ওকে বললাম কি হলো থামলে কেন ..?দাও..
রুমকি: আবার ও অনিচ্ছা সত্ত্বেও দিতে লাগল..
আমি:ওই দিন ইচ্ছে করে অনেক ধীরে ধীরে হেটে গাড়ির কাছে গিয়েছিলাম..(যাতে আমার পিচ্চি বউ টার পরশ বেশি পাই..)
৫মিনিটের পথ ২০মিনিটে গেলাম..
অবশেষে গাড়ির কাছে এসে গেলাম..
রুমকি কে আমার পাশে সামনের সিটে বসালাম..
ও এখন ও চোখ বন্ধ করে আছে_
আমি ও ওর পাশের সিটে বসে ড্রাইভিং করতে লাগলাম..
ও ঘুমিয়ে আছে ..
.
.
#Part :- 15
.
.
-:”আমি ড্রাইভিং করছি আর ভাবছি..
কত ইনুসেন্ট আমার পিচ্চি বউ টা..
ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আমি আমার পুরো লাইফ কাটিয়ে দিতে পারবো নিশ্চিন্তে..
পারবো না ই বা কেন ঐ মুখের দিকে তাকালে সব দুঃখ কষ্ট নিমিষেই উধাও হয়ে যাবে..
হঠাৎ একটা ট্রানিং পার হতে গিয়ে একটা ধাক্কা লাগল গাড়িতে..
গাড়ি টা কেঁপে উঠল.. আমার পিচ্চি বউ এর মাথা টা সিট থেকে নেমে আসলো আমার কাঁধে..
আমি মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলাম,যাতে ওর ঘুম না ভাঙ্গে..
তারপর সামনের দিকে মনোযোগ দিলাম..
গাড়ি চলছে তার আপন গতিতে..
হঠাৎ রুমকি চোখ খুলে তাকালো, আমার দিকে তাকিয়ে আছে..
আমি ড্রাইভিং নিয়েই ব্যস্ত, প্রথমে খেয়াল করি নি .. হঠাৎ চোখ পড়লো ওর দিকে..
(কেমন যেনো অসহায়ের মত আমার দিকে তাকিয়ে আছে..)
আমি:কি হয়েছে রুমকি ..ঘুম ভেঙ্গে গেছে তুমার..?
রুমকি: আমার কাঁধ থেকে মাথা উঠিয়ে নিয়ে বলল.. কিচ্ছু নায় ..দেখরা তো ঘুম যে ভাঙ্গছে তো আবার জিকাইরা কেনে..
আমি:না আমি খেয়াল করি নি কখন তুমার ঘুম ভেঙ্গেছে..তাই জিজ্ঞেস করলাম..
ও চুপ করে বসে আছে..

কেন যেন ওর মুখটা শুকনো লাগছে..মনে হয় ওর খিদে পেয়েছে ..লাগবে না ই বা কেন অনেক্ষণ ধরে না খেয়ে আছে.. নাস্তা করে বেরিয়ে আসছিলাম ..আর তো কিছু খাওয়া হয় নি..
আমি:এই পিচ্চি বউ তুমার কি খিদে পেয়েছে..?
রুমকি: মুখে ভেংচি কেটে বলল .. না আমার তো খাওয়া লাগে না আমি তো রোবট…(গাল ফুলিয়ে বলল ..)
আমি:হাসতে হাসতে বললাম.. তুমি রোবট আজ প্রথম শুনলাম…হা হা হা…
রুমকি: এবার রেগে আগুন হয়ে গেছে..আপনারে আপনারে আমি এখন খাইলিমু..
আমি:ও মা তুমি বললে তুমি রোবট .. এখন দেখছি আস্ত একটা শাকচুন্নী..শুনছি শাকচুন্নীরা মানুষ খায়..
রুমকি:কিতা আমি শাকচুন্নী নি ..আপনারে আমি আইজ মারিলিমু..(বলেই আমার চুল ধরে দু হাতে টানতে লাগলো..)
আমি:এই কি করছ তুমি,ছাড়ো বলছি লাগছে তো..
রুমকি: না আইজ ছাড়তাম নায়…

বুঝতে পারছি বেশি রাগিয়ে দিয়েছি.. এখন রাগ কমানোর সহজ উপায় বের করতে হবে..
অবশেষে মাথায় বুদ্ধি খাটিয়ে বললাম..
ওই পিচ্চি চুল থেকে হাত সরাও না হলে তুমাকে নিয়ে যাবো না কিন্তু…
রুমকি: সাথে সাথে হাত সরিয়ে নিল..

আমি মনে মনে বললাম যাইহোক রাগের তো ঔষধ একটা পেলাম..
আস্তে আস্তে গাড়ি টা একটা রেস্টুরেন্টের সামনে পার্কিং করলাম..
আমি গাড়ি থেকে নেমে রুমকি কে বললাম, তুমি একটু ওয়েট কর আমি এক্ষুনি আসছি..
এই বলে রেস্টুরেন্টে গিয়ে কিছু খাবার পেকেট করে ও পানি নিয়ে আসলাম..
রুমকির হাতে খাবারের পেকেট টা দিলাম..
ও পেকেট খুলে খাওয়া শুরু করলো..
মনে হয় খিদে পেয়েছে অনেক.. আমি দেখছি আর হাসছি একদম বাচ্চাদের মত খাচ্ছে..
ও আমার দিকে খাবারের পেকেট এগিয়ে দিয়ে বলল..এলা না চাইয়া খাইন .. আমার নজর লাগবো পরে..
খাওয়া শেষে আবার গাড়ি চালানো শুরু করলাম..
.
.
চলবে…………♥