চাঁদের আলো সূচনা পর্ব

0
1275

চাঁদের আলো
সূচনা পর্ব
Writer Tanishq Sheikh

মাতবর খালু,খালি এক কেজি চাল দেন।তার বদলে যেই কাম কইবেন তাই করুম।”
মাতব্বর হারান চেয়ারে গা এলিয়ে বসে আছে। নিরুদ্দেশ হওয়া মিন্টুর যুবতি বউটার দিকে কামুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে কান চুলকাতে চুলকাতে বলে,
” তোর কি ধারণা চাল আসমান থেইকা ছ্যাঁরাত ছ্যাঁরাত করে পড়ে?পয়সা লাগে চাল কিনতে বুঝলি!টাকা নিয়ে আয় তারপর নিয়ে যাস।”
মিন্টুর যুবতি বউ জরিনের চোখ ভিজে আসে।গত দু’দিন ধরে মেয়েটাকে শাকপাতা ছাড়া আর কিছুই মুখে দিতে পারে নাই সে।সকাল থেকে পেটের পীড়ায় ভুগছে মেয়েটা।আবার শাক-কচু খাওয়ালে নির্ঘাৎ মারা যাবে।জরিনে ছুটে গিয়ে মাতব্বরের পা জড়িয়ে ধরে।
” ও খালু,আপনি দয়া করেন গো!মাইয়্যাডা মইরা যাইব।আচ্ছা এক পোয়ায় দেন।তবুও চাল দেন খালু।”
” আরে করস কি? করস কি? মানসম্মান ডুবাইবি নাকি?ওঠ! জরিনের শুকনো বাহুধরে টেনে তোলে হারান মাতব্বর। তার চোখ বার বার জরিনের বুক আর ঠোঁটে আঁটকে যাচ্ছে। বড্ড তৃষ্ণা লাগছে।জরিনেকে স্বান্তনা দেওয়া ছলে জরিনের হাতে পিটে হাত বুলাতে থাকে।মনের তৃষ্ণা যেন তাতে আরও বাড়তে থাকে।পান খাওয়া হলদেটে দাঁত বের করে পিশাচীয় হাসি হেসে বলে,
” দ্যাখ জরিনে,আইজ তোরে সাহায্য করুম তো কাইল আরেকজন আইসা পড়বো।আমি কি কুবেরের খাজানা পাইছি ক তো? তয় তোরে দেখে আমার পরাণে মায়া লাগছে।যা গুদাম থেইকা লইয়া যা এক কেজি চাল।”
জরিনের জীর্ণশীর্ণ ক্ষুধার্ত শরীর মুহূর্তে প্রাণফিরে আসে।খুশিতে মাতব্বরের পা ছুঁতেই মাতব্বর কাছে টেনে আনে।জরিনের কাঁধে হাত রেখে বলে,
” আরে কান্দিস না।তোগো সুখ দুঃখ দেখোনোর জন্যই তো আমি।যা! ”
জরিনে খুশিতে ছুটে যায় চালের গুদামে।চালের গুদামটা তার জন্য বেহেশতখানার মতো লাগে।খুশি মনে চাল নিয়ে ফিরে আসে বাড়ি।এরওর বাড়ি থেকে তেল,লবন, হলুদ,মরিচ চেয়ে নিয়ে আসে।পাশের ডোবায় নেমে শাড়ির আঁচল ছেঁকে ছোট মাছ ধরে।উৎফুল্ল চিত্তে রান্না সাড়ে।অসুস্থ মেয়েটাকে কোলে তুলে ভাত তরকারি মাখিয়ে মুখে তুলে দেয়।প্রথম দুনলা মুখে দিলেও পরের নলা নিয়ে হড়হড় করে বমি করে দেয় জরিনের মেয়ে হাসি।জরিনে মেয়ের মুখ মুছিয়ে আবার খাবার তুলে দিতে গেলে অসুস্থ হাসি দূর্বল স্বরে বলে,
” মা, আর খামু না।পেটে বেদনা করে মা।মেলা বেদনা করে।”
” ও মা, আরেকনলা খা।দেখবি সব সাইরা যাইব।খা মা! খা।”
” পারতাছি না মা।বেদনা করতাছে আমার পেটে।মারে,মইরা যামুগা আমি।আব্বারে মনে হয় দেখতে পারুম না।আব্বা কবে আইব মা? আমি মইরা গেলে তো আব্বারে দেখতে পামু না।”
” এডি কইতে অয় না মা।কিচ্ছু হইব না তোর।আমার হাসির কিচ্ছু হইব না।আব্বা শীঘ্রই চইলা আইবো।”জরিনে মেয়েকে বুকে টেনে নিয়ে শব্দ করে কাঁদতে থাকে।রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে সে শব্দ কারও কানে পৌঁছায় না।ব্যথার চোটে হাসির জ্বর চলে আসছে রাতে।সারারাত বেদনা!বেদনা! করে কাতরেছে হাসি।জরিনে মুখে আঁচল গুঁজে শুধু কেঁদেই চলেছে।চাল না হয় মাতুব্বরের পায়ে ধরে এনেছে কিন্তু ওষুধের টাকা কই পাবে? জরিনা অসহায়ের মতো মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে।সারারাত সে ঘুমাতে পারে নি।চোখ দুটো স্থির, ফ্যাকাশে হয়ে আছে।দাওয়ায় কুকুর, বিড়াল গুটিশুটি মেরে শুয়ে আছে।জরিনে ওদের দিকে তাকিয়ে ভাবছে
“জীবনটা আজ এদের থেকেও খারাপ পর্যায়ে চলে এসেছে।অথচ একসময় সুখে না থাকলেও এমন দুরবস্থায় তো ছিল না সে।কতো স্বপ্ন নিয়ে মিন্টুর হাত ধরে ঘর ছেড়েছিল সে।মিন্টুর জন্য আপন লোক পর করেছিল।আর আজ! সেই মিন্টুই তাকে ছেড়ে নিরুদ্দেশ। একটিবার কি তার মনে জরিনে আসে না।তার যে একটা সন্তান হয়েছে সেকথা কি সে জানে?জরিনের ফ্যাকাশে চোখ দুটো রক্তিম হয়ে ওঠে।বিরতি দিয়ে বানের জলের মতো জল উপচে পড়ে সেখান থেকে।হাসি পেটের পীড়ায় আবার চেতন হয়ে কান্না করে।৩বছরের মেয়েটা শুকনো কাঠির মতো বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছে। নড়াচড়া করারও শক্তি অবশিষ্ট নাই।জরিনে হাঁটুতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল। ভেজা চোখ দুটো মুছে মেয়ের শিওরে বসল।
” কিছু খাইবি মা?”
” মুরগির ঝোল দিয়া ভাত খামুরে মা।খাওয়ায় দে আআআ।”বন্ধ চোখেই হা করে বিরবির করে বলে হাসি।জরিনে মেয়ের মাথা, বুকে হাত বুলিয়ে বলে,
” রাইতে দিমুনে।এহন মাছের তরকারি দিয়া পান্তা মাখায়ে দেই?”
হাসি নিস্তব্ধ মেরে যায়।জরিনে ঝুঁকে দেখে মেয়ে আবার জ্ঞান হারিয়েছে।পাশের বাড়ির কলপাড় থেকে পানি এনে মেয়ের মাথায় দেয়।শরীর মুছিয়ে জোর করে কিছু খাওয়ায়।এবারও দু’নলা খেয়ে বদহজম করে হাসি।পাশের বাড়ির মিনারা হাসির অবস্থা দেখে চিন্তিত হয়ে বলে।
” অবস্থা তো সুবিধের না লো জরিনে।তাড়াতাড়ি ডাকতর দেহা।মাইয়্যার তো মরমর অবস্থা। ”
” কি করুম বুজি কও?টেহা পয়সা নাই কেমনে ডাকতর দেহামু?”জরিনে মুখে আঁচল গুঁজে কাঁদতে থাকে।
” আমারও হাতে কিছু নাই রে।উনি তো ভ্যান চালাইয়া যা পায় সংসারেই লাইগা যায়।তোর এই অবস্থায় কিছু করতে পারলেও মনে শান্তি লাগত।তা তোর ভাসুররা কি কয়? গেছিলি ও বাড়ি।”
“তুমি তো জানোই সব।তারা কি আমারে মাইনা নিসে?তাগো ধারনা তাগো ভাইরে আমিই ভাগাইছি।লজ্জা শরম ফালাইয়া গেছিলাম দুইবার।দুর দুর করে তাড়াই দিসে।”
” কান্দিস না! পাষান না হইলে এমন সময়েও কেউ এমন করে!”
” ও বুজি, একটা উপকার করবা?”
“কি! ”
” একটা মুরগার বাচ্চা দিবা? মাইয়্যাডা মুরগার ঝোল খাইতে চাইছে।সময়মতো টাকা শোধ করে দেব।”
মিনারা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে।না করতেও পারছে না আবার হ্যাঁ করতেও পারছে না।একটা মুরগির বাচ্চা দেড়শো/ একশ টাকা।জরিনেকে দেওয়া মানে খয়রাত করা।টাকা জরিনের কাছে মিনারা কোনোদিন পাবে না।যার নুন আন্তে পান্তা ফুরায় সে দেবে টাকা।ভালো সাজতে এসে ভালোই ফেঁসেছে মিনারা।অনিচ্ছা স্বত্বেও হাসি দেয় জরিনের দিকে তাকিয়ে।
” তোরে কেমনে কমু কতাটা?আমার মুরগার বাচ্চা রবিনের মা আগেই কিনে নিছে।না হলি তোরে ঠিক দিতাম রে।”জরিনে মাথা নুইয়ে বসে ভাবে একদিন এই মিনারাকে সে চাল,নুন,তেল দু’হাতে দিয়েছে।কুটুমকে আপ্যায়ন করতে পারছে না দেখে ধারে বড় পালা মোরগটাও দিয়েছিল।আর আজ! সে কিছুই পেল না।জরিনের হাসি পায় নিজের দূর্ভাগ্যের উপর।মিনারা দুএক কথা বলেই তড়িঘড়ি চলে যায়।জরিনে শূন্য উঠানে চেয়ে থাকে।এই উঠানের মতোই তার জীবন আজ শূন্য।জরিনের বুকটা হুহু করে ওঠে কষ্টে।দাওয়ায় হেলান দিয়ে কাঁদতে থাকে।
পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে যায়।সামর্থ্যবান লোকের ঘরে টাকার আলো জ্বলে।আর জরিনের ঘরে জ্বলে চাঁদের আলো।এই তো শেষ ভরসা জরিনের।
চাঁদের আলোতে দাওয়ায় বসে মেয়েকে ঝোল দিয়ে ভাত মেখে খাওয়াচ্ছে।মুরগি কেনার সামর্থ্য জরিনের নাই।তাইতো মিন্টুর বন্ধু স্বপনের দোকান থেকে লং, এলাচ,জিরে গোটা দুয়েক চেয়ে আনতে গিয়েছিল।স্বপন দোকান ভর্তি লোকের সামনে যাচ্ছে তাই ব্যবহার করল।শেষে হামজা মাস্টার এগিয়ে এসে স্বপনকে ধমকে, নিজের পয়সায় মসলা কিনল।জরিনের হাতে দিয়ে কিছু বলার আগেই লজ্জায় অপমানে জরিনে কাঁদতে কাঁদতে ছুটে চলে আসে।জরিনে সেকথা ভাবতে ভাবতে চোখ মোছে।হাসি আধো খোলা চোখে বলে,
” মা’রে,এক কামড় গোশত দে।গোশত খামু।”
” গোশত কাইল বিয়ানে খাইস মা।রাইতে খাইলে পেটে বেদনা করবো।”মেয়েকে মিথ্যা বুঝিয়ে ভাত খাইয়ে দিল জরিনে।অসুস্থ শরীরে মায়ের কোলে অল্প কয়েক গাল ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে গেল। জরিনা মেয়ের জন্য মাখানো ভাত চোখের জলে ভিজে খেতে লাগল।আশেপাশের সব ঘরের মানুষের চোখে গভীর নিদ্রা।মেয়ের পাশে শুয়ে তালপাতায় বাতাস করছে জরিনে। ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আসা চোখ দুটোকে খুলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সে।গত কয়েকরাত তার চোখে ঘুম ছিল না।আজ যেন সব পোষাতে চোখের পাতা বন্ধ করতে চাইছে শরীর।হঠাৎ দরজায় খটখট আওয়াজে সজাগ হয়ে বসে।গলা শুকিয়ে আসে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে।গত পরশুদিন মেঝো ভাসুর মিজান এসে কুপ্রস্তাব দিয়ে গেছে জরিনেকে।জরিনের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল ভাসুরের কথা শুনে।রাগের মাথা অনেকগুলো কথা শুনিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিল কিন্তু তবুও বেশ কয়েক রাতে এসে দরজা টুকিয়েছিল।আজও এসেছে ভেবে জরিনে কর্কশ গলায় বলে,
” ক্যাডা রাত দুপুরে দরজা টুকায়?বটি আনুম নি?”
” জরিনে আমি তোর মাতুব্বর খালু।খোল ভয় পাইস নে।”
” মাতুব্বর খালু!এতো রাইতে কি করতি আইছেন? বিয়ান বেলা আইসেন খালু।এহন যান।”
” আরে ভয় পাইস নে।জরুরি আলাপ আছে খোল।দ্যাখ কি আনছি তোর মাইয়্যার জন্যি।”
জরিনে ভীরু পায়ে নেমে ভেবেচিন্তে বটিটা পেছনে লুকিয়ে দরজা খুলে দাঁড়ায়।অন্ধকারে সাদা পাঞ্জাবি পড়া কালো বর্ণের বিশালদেহী হারান মাতুব্বর দাঁড়িয়ে আছে সামনে।দাঁত বের করে হেঁসে বলে,
” এমনে পথ আগলায় দাঁড়ায় আছোস ক্যান!সর ভেতরে ঢুকতে দে।”
” না আপনি এইহান থেইকায় কন।”
” এইডা কেমন ব্যবহার তোর জরিনে? ঐদিন তোরে বিনা পয়সায় চাল দিলাম তার প্রতিদান এমনে দিচ্ছিস?সর ভেতরে ঢুকতে দে।”হারানকে এমনভাবে এগোতে দেখে না চাইতেও সরে দাঁড়াল জরিনে।হারান দু’টো থলি নিচে রেখে হাসির শিওরে গিয়ে বসল।
” স্বপনের দোকানে সবাই কওয়াকওয়ি করতাছিল, তোর মাইয়্যা মুরগি খাইতে চাইছে তুই নাকি কিনতে পারোস নাই।তাই মসলার ঝোল বানায়া খাইয়াছিস?
” হ! আমি তো খালি স্বপন ভাইরে কইছিলাম কিন্তু সে তো মাগনা মসলাপাতি দেয় নাই।হামজা মাস্টার টাকা দিল দেখে দিছে।”
“হামজা মাস্টর দিব ক্যা!আমারে কইতে পারলি না।আমি কি পর!আচ্ছা যা ঐ প্যাকেটে মাংস ভাত আছে।তোর মাইয়্যারে খাওয়ায় দে।” জরিনে খুশিতে কেঁদে দেয় অবস্থা।হারান মাতুব্বররে ফেরেশতা ভেবে মনে মনে তার জন্য দুয়া করে।ছুটে গিয়ে মাতুব্বরের পা জড়িয়ে কাঁদে
” খালু আপনে মানুষ না সাক্ষাৎ ফেরেশতা।আল্লাহ আপনার ভালা করবো খালু।”
” আরে কি করিস? কি করিস? তোর জায়গা তো পায়ে না রে পাগলি।” হারান জরিনেকে তুলে দাঁড় করায়।জরিনের জীর্ণশীর্ণ বাহু দু’টোতে হাত বুলাতে বুলাতে লোভাতুর দৃষ্টি মেলে বলে,
“তোরে এমন গরিবি হালে দেইখা পরান পোড়ে রে জরি!এতো কম বয়সে রূপ যৌবন সব বৃথা গেল বুঝি।” জরিনে চোখ মুছে কপাল কুঁচকে তাকায় হারানের দিকে।হারানের চোখের দৃষ্টিতে লালসা ভাসছে।জরিনের বুকের ভেতর ছ্যাঁত করে ওঠে।দুকদম পিছিয়ে যায়।জরিনেকে সরতে দেখে হারান এগিয়ে আসে।অদ্ভুত ভঙ্গিতে হেসে বলে,
” ঐ যে আরেকটা প্যাকেট ঐটাতে তোর জন্য লাল জামদানি আনছি।যা পড়ে আয়।”
” এসব কতা কন কেন খালু?”
” ক্যা কই বুঝোস না! তোরে আমার মনে ধরছে রে জরিনে।আমার মনের খায়েশ মিটায় দে। আমি তোর সব দুঃখ দূর করে দেব।”হারান জরিনের বাহুদ্বয় শক্ত করে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে।জরিনের মাথা থেকে ঘোমটা টেনে সরিয়ে নাক টেনে সুবাস নেয়।
” খালু দোহায় লাগে ছাড়েন আমারে।আপনি আমার বাপের বয়সী।আমার ক্ষতি করবেন না।আমার কিছু লাগবো না। আপনি যান।”
” যান কইলেই কি যাওন যায় রে ছেরি।চাইলের দাম দিবি না!ফ্রিতে হারান মাতুব্বর কাওরে কিচ্ছু দেয় না।”হারানের বিশালদেহী শরীরের সাথে জরিনের দূর্বল শরীর পেরে ওঠে না।মাটিতে ফেলে জরিনের উপর ওঠে পড়ে হারান।মুখ চেঁপে ধরে জরিনের।জরিনের চোখ পাশে পড়ে থাকা বটিটার দিকে যেতেই টেনে তুলে নেয় হাতে।চোখ বন্ধ করে কোপ বসিয়ে দেয় হারানের কান বরাবর।ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে পড়ে জরিনের মুখে।হারান গোঙাতে গোঙাতে পালিয়ে যায়।যাওয়ার আগে অশ্রাব্য ভাষায় ধমকি দিয়ে যায়।
রাতে প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হয়েছিল মিনারা।হঠাৎ জরিনের উঠানে থেকে হারান মাতুব্বরের গোঙানি শুনে ছুটে আসে।আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখে ঘরে চলে যায়।
সূর্য পুরোপুরি পৃথিবীকে আলোকিত করার আগেই গ্রামময় রটে যায় গতরাতের ঘটনার কথা।হারান মাতুব্বর রাতে জরিনের ঘরে এসছিল। একথা শুনে পুরো গ্রামে থু থু পড়ে যায়।জরিনের তাতে কিছু আসে যায় না।তার পিঠ ঠেকে গেছে মানুষের বহুরূপী চেহারা দেখে।সে শুধু মাটি কামড়ে পড়ে আছে তার মিন্টুর জন্য। জরিনের বিশ্বাস একদিন মিন্টু ফিরে আসবে।সেদিন তার সব দুঃখের অবসান হবে।এই সব বহুরূপী মানুষকে সে উচিত জবাব দেবে সেদিন।তার হাসি ঘরজুড়ে হেঁসে খেলে বেরাবে।জরিনার চোখে মুখে অশ্রুমিশ্রিত খুশি ঝরে।