জান্নাতের খুশবু পর্বঃ০৩(শেষ)

0
3016

#জান্নাতের_খুশবু
#পর্বঃ০৩(শেষ)
#Mst_Liza

খুশবু যেন রাজের কথায় অবাক হয়ে যায়। নিজের কানকে যেন বিশ্বাস করতে পারে না যে রাজ এমন কথা বলছে।খুশবু রাজকে বলে, এতো টাকা নিয়ে আমি কি করবো?

রাজ বলে, তোমার টাকা তুমি ভালো যানো।নিজের কাছে রাখও। যখন যেভাবে ইচ্ছা খরচ করো।

তবুও এতো টাকা যদি অযথা নস্ট করি? আপনি বরং আপনার কাছেই তুলে রাখুন।

উহহ এতো বেশি বুঝো কেন বউ?

রাজের চোখ রাঙানো দেখে খুশবু আর কোনো কথা বলে না।একদম চুপ হয়ে থাকে।

রাজ খুশবুর গালটা টেনে বলে, ভয় পেয়ে গেলে নাকি? একদম নিশ্চুপ হয়ে গেছো? আরে বাবাহ আমি আমার বউকে ভয় কেন দেখাবো?
চলো বউ দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করে নিই।নিয়মে আছে নামাজ আদায় করে নেওয়ার কথা।আমরা নামাজ পড়ে আমাদের আগামী দিনের জন্য স্রষ্ঠার কাছে দোয়া চাইবো।

আপনি এটাও জানেন?

হ্যাঁ। তোমাকে বিয়ের আগে সব নিয়ম জেনে নিয়েছি।

খুশবু আর কথা বলে না।দু’জনে মিলে নামাজ পড়ে নেয়। স্রষ্টার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।

সকালে,,
রাজ ছোট্ট বাচ্চাদের মতো দৌড়াদৌড়ি করছে।ফজরের নামাজ পড়ে সেই যে ঘুমিয়েছে আর উঠতে অনেক দেরি করে ফেলেছে।সব কিছু খুব দ্রুত গতিতে করছে।কারণ ভার্সিটির দেরি হয়ে যাবে তো।

রাজ রেডি হয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখে খুশবু এখনো বিছানায় পা গুটিয়ে বসে আসে।রাজ খুশবুর সামনে এসে দাড়িয়ে বলে, এখনো রেডি হও নি? এমনিতেই দেড়ি করে ফেলেছি তার উপর…

আমি কোথায় যাবো?

রাজ এবার রেগে যায়। খুশবুর সামনে দাড়িয়ে হাত জোড় করে বলে, এবার বলো না বউ আমরা কোথায় যাবো সেটা তুমি জানো না।আজ ভার্সিটির নবীন বরণ উৎসব।সিনিয়ররা আমাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেবে। দয়া করো।দ্রুত রেডি হও।

খুশবু ভাবে রাজ কি তাহলে বুঝে ফেললো খুশবু তার ক্লাস মিট?

কি ভাবছো? তাড়াতাড়ি রেডি হও।

হ্যাঁ, রেডি হবো।কিন্তু তার আগে বলুন আপনি জানলেন কিভাবে আমি আপনার ভার্সিটিতে পড়ি?

রাজ খুশবুর সামনে বসে বলে, বউ হও তুমি আমার।তোমার কন্ঠ আর বিয়ের দিন বোরখার সাজটা।ঠিক যেমন সাজে তোমাকে ভার্সিটির প্রথমদিন দেখেছিলাম।এবার যাও তো রেডি হয়ে নাও।খুশবু উঠে রেডি হয়ে নিলেই রাজ খুশবুকে নিয়ে ভার্সিটিতে আসে।

খুব সুন্দর করে ভার্সিটির মাঠটা সাজানো হয়েছে।সিনিয়ররা স্টেজের সামনে দাড়িয়ে আছে ফুল হাতে।রাজের চেয়ারটা আগে থেকেই ফাঁকা করে রেখেছে রিয়ারা।রাজ যেতেই পাশের চেয়ারটা ছেড়ে দিতে বললে ছেড়ে দেয়।রাজ চেয়ারে বসে পাশের চেয়ারটায় খুশবুকে টেনে বসায়।আর খুব মনোযোগ দিয়ে সিনিয়রদের বক্তিতা শোনে।খুশবু ভাবে সে এই তিনদিন ভার্সিটিতে আসে না।তার মধ্যে না যানি রাজ কি কি কান্ড করেছে।

অবশেষে নবীন বরণের অনুষ্ঠান শেষ হলো।রাজ খুব খুশি। কারণ তাদের আসতে একটুও দেরি হয় নি।যেই টাইমে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিলো তার অনেক পরে শুরু হয়েছে।এখন রাজ তার সব বন্ধুদের ডেকে জড়ো করেছে।আর খুশি মনে সবাইকে খুশবুর সাথে তার বিয়ের সংবাদটা দিয়েছে।

সবাই যেন তাদের বিয়ের কথাটা শুনে আকাশ থেকে পড়লো।সবাই মজা ভেবে হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে। রাজ বলছে কিন্তু কেউ বিশ্বাস করছে না।তাই রাজ খুশবুকে বলতে বললে খুশবু বললো তখন সবাই বিশ্বাস করলো।একজন তো খুশবুকে খুঁচিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো, দুনিয়ায় কি আর কোনো ছেলে পেলে না তুমি, যে ওই পাগলটাকে বিয়ে করতে হলো।আর কি দেখে ওকে পছন্দ করলে ওর পাগলামি দেখে? ব্যাপারটা রাজের চোখ এড়াই নি।রাজ কিছু বলতে যাবে খুশবু রাজকে থামিয়ে দিয়ে নিজে বলে।

দেখও তোমরা যা ভাবছো তা নয়।আমাদের মাঝে বিয়ের আগে কোনো পরিচিতি ছিলো না।এমন কি কেউ কাউকে দেখি নি পর্যন্ত।হ্যাঁ তোমাদের মতো আমার মনেও রাজকে নিয়ে অন্য ধারণা ছিলো।কিন্তু কাল রাতে আমার সব ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। রাজের মধ্যে অনেক ছেলে মানুষি আছে যার কারণে ও একটু বেশি বারাবাড়ি করে ফেলে।কিন্তু সবাইকেই রেসপেক্ট দিতে যানে।আর আমি স্ত্রী হিসেবে বলবো ওর কাছ থেকে যথেষ্ট সম্মান পেয়েছি।

কথাগুলো বলে খুশবু রাজের হাত ধরে টেনে ভার্সিটি থেকে নিয়ে চলে আসে।রাজকে বলে, আপনি আর কখনো বাচ্চাদের মতো বিহেভ করবেন না।আর লেখাপড়ায় মন দিবেন।যেন আর ইয়ার ড্রাব না যায়। কেউ যেন আপনাকে নিয়ে আর মজা করার সুযোগ না পাই তেমন ভাবে চলবেন।

বউ আমি তো পড়তে বসলে পড়া বুঝি না।কোনো টিচার্সও বুঝাতে পারে না।একটু বকা দিলেই রাগ চলে আসে।

আচ্ছা আমি আপনাকে পড়া বুঝিয়ে দেবো।আপনাকে এবার পাশ করতেই হবে।আর শ্বশুর আব্বারও তো বয়স হচ্ছে। সারাদিন এভাবে লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে না বেড়িয়ে তার সাথে গিয়ে কিছু কাজও তো বুঝে নিতে পারেন।

আচ্ছা করবো।তুমি বলছো তাই।নইলে করতাম না।

রাজ পড়ায় মন দেয়। অফিসে গিয়ে বাবার বিজনেসের ফাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করে কিচ্ছু বোঝে না।আস্তে আস্তে চার চারটা বছর পার হয়ে যায়। ধীরে ধীর রাজও বুঝতে শেখে।এখন সে বিজনেসের সব বোঝে।সারাদিন ল্যাপটপ সামনে কাজ নিয়ে পরে থাকে।ফাইনাল ইয়ার শেষ। আজ রেজাল্ট দেবে।

রাজ এই ইয়ারেও সব সাবজেক্টে পাশ করেছে।শুধু পাশ করেছে বললে ভুল হবে ফাস্ট ক্লাস রেজাল্ট।সিজিপিএ-৩.৬১।
খুশবুর থেকে মাত্র এক পয়েন্ট কম।ভার্সিটির সবাই রাজকে এখন খুব রেস্পেক্ট দেয়।বন্ধু- বান্ধবদের আড্ডায় রাজের আগের চাল-চলন নিয়ে কথা বলতে গেলে সবাই এখনো হেসে লুটোপুটি খাই।সবাই বলে রাজ তুমি এতোটা চেঞ্জ কিভাবে হলে? রাজ মুচকি হেসে উত্তর দেয়, সব আমার স্ত্রীর জন্য সম্ভব হয়েছে।আমার খুশবু। #জান্নাতের_খুশবু।

।।।সমাপ্ত।।।