জোরপূর্বক ভালোবাসা part 14+15

0
2106

#জোরপূর্বক_ভালোবাসা
#Writer_Ashiya_Nur
#part 14&15

বাসর ঘরে বসে আছি এমন কি করবো সত্যি চাইনি। আকাশে কে মন থেকে ভালোবেসে ছিলাম কিন্তু ও আমাকে ঠকিয়েছে তাই তো অন্য কাউকে বিয়ে করতে হলো। এটা করা দরকার ছিলো নয় আকাশ আমাকে আর ও ডিসটার্ব করতো। একটা কথা ভেবে পাচ্ছি না ও আমাকে ভালো না বাসলে এই একমাস কেন পেছনে পেছনে ঘুরলো আর ভালোবাসলে কেন ই বা অশির সাথে না না আর ভাবতে পারছি না চোখ দিয়ে অজরে পানি পরছে।

কেন আকাশ কেন এমন করলে কেন। তোমার জন্য আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে রাগের মাথায় বিয়ে টা করেই ফেললাম কিন্তু এখন আমি কি ভাবে থাকবো তোমাকে ছাড়া। কার সাথে বিয়ে হয়েছে তাও জানি না তাকে দেখি ও নি বাবা অনেক বার দেখা করতে বলেছে কিন্তু আমি পা করে দিয়েছে। কারণে আকাশের জায়গা কাউকে দিতে পারবো না।

আকাশের ওই ব্যবহার আর অশির সাথে রিলেশনের কথা শুনে অনেক কষ্ট পেয়েছিলাম। তারপর নিজেই সরে আসি আকাশে জীবনে থেকে। কিন্তু অবাক করা বিষয় আকাশে আবার আমাকে জালানো শুরূ করলো না। অশিকে যেহেতু ভালোবাসে তাহলে আমাকে কেন তাই বাবাকে বিয়ের কথা বলি বাবা আমাকে অনেক বার বলেছে বিয়ের কথা হঠাৎ আমি বলাতে রাজি সাথে খুশি ও ছিলো।

হঠাৎ দরজায় শব্দে ভাবনা বাদ দিয়ে জরোসরো হয়ে বসলাম। বুকের ভেতরে টিপটিপ করেছে কি করবো এখন আমি অন্য একজনের সাথে কি করে মানিয়ে নেবো। ভালোবাসি একজনকে আর থাকতে হবে অন্য একজনের সাথে না আমি কিছু তেই পারবো না।

মাথা নিচু করে কথা গুলো ভাবছিলাম হঠাৎ একটা কণ্ঠ শুনে শক হয়ে উপর তাকালাম,,

আকাশ আমার সামনে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে কিছু বুঝতে পারছি আকাশ এখানে কি করছে। ওর রাগ দেখে তো আমি ভয়ে শেষ। শেষ এই রাগ আমি আরমানের সাথে মিশেছিলাম বলে দেখিয়েছি আজ আবার সেই রাগী ফেস।

আমি : আকাশ আপনি এখানে?( ভয়ে ভয়ে)

আকাশ : কেন কি ভেবেছিলি আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারবি। কিন্তু এই আকাশ যত দিন বেচে আছে তা কোন দিন পূর্রণ হবে না। তুই শুধু এই আকাশের আর কারো না।

আমি : মানে কি

আকাশ : মানে খুব সহজ তুই আমাকে রেখে অন্য কাউকে বিয়ে করতে চেয়েছিলি কিন্তু তোর আসা পূরণ হয় নাই বিয়ে তো আমার সাথে হয়েছে।

আকাশের কথায় বুঝতে পারলাম ওর সাথে আমার বিয়ে হয়েছে কিন্তু।

আকাশ : এতো ভেবে লাভ নেই তুই আমাকে বিশ্বাস না করে খুব ভুল করেছি। আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছিস তার জন্য তোকে শাস্তি পেতেই হবে।

আমার মাথা কিছু ই ঢুকছে না কিভাবে কি হয়েছে সব মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। আকাশ আর কিছু না বলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে খাটে ফেলে দিল। নিজে ও ঝাপিয়ে পরল আমার উপর। আমি বারবার বলছি প্লিজ আকাশ আমি এসবের জন্য প্রস্তুত নয় কিন্তু আকাশ কোন কথা না শুনে আমার ঠোট নিজের মাঝে নিয়ে নিলো।

এটা আকাশের ভালোবাসা না রাগ এতো কষ্ট হচ্ছে মনে হচ্ছে মরে যাচ্ছি র সহ্য করতে না পেরে আমি জ্ঞান হারালাম।

#চলবে

#জোরপূর্বক_ভালোবাসা
#Writer_Ashiya_Nur
#part 15

রাত দুই টা বাজে আকাশ আশিয়ার হাত ধরে বসে আছে। আশিয়ার জ্ঞান নাই এখন আকাশের খারাপ লাগছে কিন্তু এটা করা দরকার ছিলো এতো ভালোবাসা দিলাম তবুও সামান্য বিশ্বাস করতে পারলো না ভুল বুঝে চলে যেতে চাইলো কি ভাবে ও কি জানে না আমি ওকে ছাড়া এক মূহুর্তে ও থাকতে পারবো না। আজকের পর আর আমাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা মুখে আনতে পারবে না।

আকাশ আশিয়ার মুখের দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। কি করে অন্য কাউকে বিয়ে করতে রাজি হলি তুই। আমার কথা কি একবার ও মনে হয়নি তোর। আকাশের চোখ দিয়ে ও পানি পরছে। আশিয়াকে দেখে খারাপ লাগছে তাকানো যাচ্ছে আমার জন্য এই অবস্থা কিন্তু আমি কি করবো ও তো আমাকে রাগী য়ে দিয়েছিল।

উঠে গিয়ে ঔষধ এনে কামুরের জায়গায় দিতে লাগল। তারপর মুখে পানি ছিটা দিতে লাগল,, আশিয়া নরে উঠলো।

আকাশ : তুমি ঠিক আছ জান।

গালে হাত দিয়ে
আশিয়া চোখ খুলে সামনে আকাশ কে দেখে ওর সামনে বসে আছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আকাশের কথা শুনে সেই সময়ের কথা মনে পরে আর ঝারি দিয়ে হাত সরিয়ে দের।

আশিয়া- ডোন্ট টাচ মি?

আকাশ – আশিয়া এভাবে চিৎকার করছো কেন।

আশিয়া- আমাকে একদম ছুবেন না আপনি। এটাই তো চেয়েছিলেন আপনি আমার শরীর তাই না এখন তো পেয়ে গেছেন আর আমাকে ডিসটার্ব করবেন না। এটাই আপনার ভালোবাসা তাই না ( বলেই কান্না করতে লাগল )

আকাশ – আশিয়া এসব কি বলছো আমি তোমার শরীর,, এটা তুমি বলতে পারলে

আশিয়া- হুম পারলাম যা সত্যি তা বলতে সমস্যা কি। আপনি আমাকে ভোগ করার জন্য।

আকাশ – আর একটা বাজে কথা শুনলে তোকে আমি

আশিয়া- আমাকে কি মেরে ফেলবেন ফেলেন।

আশিয়া আকাশের হাত নিজের গলায় নিয়ে। আকাশে হাত সরিয়ে ঠাস করে গালে চর বসিয়ে দেয়।

আকাশ -কেন তুই আমার ভালোবাসা বুঝছিস না কেন আমি শুধু তোকে ভালোবাসি আর কাউকে না।

বলেই আশিয়াকে জরিয়ে ধরলো। আশিয়া ছুটানোর চেষ্টা করছে পারছে না।

আশিয়া – তাহলে অশি

আকাশ – আবার অশি কিসের অশি আমি কেন ওকে ভালোবাসতে যাবো আমি তো শুধু

আশিয়া- থাক আর মিথ্যে বলতে হবে না। আমি সব জানি শুধু মাঝখানে আমার জীবনে টা কেন নষ্ট করে দিলেন।

আকাশ – তুই আমাকে কেন বিশ্বাস করছিস না।

আশিয়া- যেটা সত্যি সেটা বিশ্বাস আমি করেছি।

আকাশ – ভুলটা করেছিস সময় মতো ঠিক বুঝবি। এখন ঘুমা কথা বাদ দিয়ে।

বলেই আকাশ আশিয়াকে জরিয়ে ধরে শুয়ে পরলো। আশিয়া ছুটার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারে নি।

পরদিন

দরজায় ধাক্কায় আশিয়ার ঘুম ভেঙে যায় ঘরি তে তাকিয়ে দেখে আটটা বাজে তারাতারি উঠেতে গেলে আকাশ কে খেয়াল করে আষ্টেপৃষ্ঠে জরিয়ে ধরে আছে। আকাশে দিকে তাকালাম কতো সপ্ন ছিলো সকালে আগে আমি উঠেওর মুখটা দেখবো কিন্তু আজ কালের ব্যবহারের পর আর দেখতে মন সেই ফিলিংস আসছে না।
আকাশ অশিকেই ভালোবাসলে আমাকে কেন বিয়ে করলো আমি তো ওদের জীবন থেকে চলে যাওয়ার জন্য ই বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম।

না চাইতে ও আকাশের মুখে আমার হাত চলে গেল। দ্রুত সরিয়ে উঠে দাড়ায়ে বাথরুমে চলে গেলাম। কতো বেলা হয়ে গেছে নিশ্চয়ই সবাই বলছে নতুন বউ কতো ঘুমায়। ফ্রেশ হয়ে বাইরে এসে আয়নার সামনে দাড়ালাম আর আতকে উঠলাম,, এভাবে সবার সামনে যাবো কি করে
ঠোঁট কেটে গেছে এই জন্যই তো ব্যাথা করছিল গলায় কামরের দাগ দেখা যাচ্ছে। এভাবে সবার সামনে কি করে যাবো হঠাৎ পেছনে থেকে কেউ জরিয়ে ধরলো,

আকাশ – আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কি ভাবছো জান।

আশিয়া ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে,,, বলছি না আমাকে ছুবেন না।

আকাশ আবার কাছে এসে,,, ছুয়ার কি কিছু বাদ রেখেছি যে মানা করছো আর তুমি ভাবলে কি করে আমি তোমার কথা শুনবো।

বলেই আবার আশিয়াকে কোমর জরিয়ে কাছ টেনে নিলো। তারপর ঠোটে হাত দিয়ে বলতে লাগল,,, এখন ও কি ব্যাথা করছে।

আশিয়া রেগে কথা বলছে না আর বললেই কি শুনবে। আবার দরজায় ঠোকা পরলো আশিয়া আকাশের থেকে নিজেকে ছারিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে গেল। আর আকাশ হা করে তাকিয়ে আছে তার যাওয়া দিকে।

#চলবে