জোরপূর্বক ভালোবাসা Part- 2

0
1774

#জোরপূর্বক_ভালোবাসা
#Writer-Ashiya Nur
#Part 2

পেছনে থেকে আকাশ আমার হাত টেনে ধরেছে। এই ছেলের হাত থেকে যে কবে রেহাই পাবো। কিন্তু কিছু বলতে ও পারছি না আমি জানি একে কিছু বলা আর না বলা সমান তার কথা না শুনলে আজ যে অবস্থা করতে যাচ্ছিল আবার না জানি করে। ভয়ে ভয়ে তাকালাম,,

আশিয়া: আবার কি হয়েছে আমার দেরি হচ্ছে এবার যেতে দিন। ( অসহায় ভঙ্গিতে )

আকাশ : আহ জানেমন তুমি আমাকে এতো ভয় কেন পাও বল তো ! তোমার চোখে আমি আমার জন্য ভয় নয় ভালোবাসা দেখতে চাই।

আশিয়া: কি জন্য আটকালে তারাতারি বলেন?

আকাশ : এতোক্ষণ তো খুব আমাকে জরিয়ে ধরে শান্তিতে এলে যাওয়ার কথা মনে ছিলো না আর এখন যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে।( কথা গুলো বলে একটান দিয়ে একদম নিজের কাছে নিয়ে গেল )

আশিয়া: সব সময় এমন ভালো লাগে না এটা আমার বাড়ি এখানে যদি কেউ আমাদের এক সাথে দেখে কি হবে ভাবতে পারছেন। আপনার জন্য আর কতো অশান্তিতে থাকবো বলেন তো?

আকাশ : কেউ কিছু বলার সাহস পাবে না জানেমন। আমি আকাশ চৌধুরীর আর তুমি তার ভালোবাসা তোমাকে কিছু বলার সাহস হবে না কারো!

আকাশ আমাকে নিজের সাথে জরিয়ে আছে। এক হাত আমার কোমরে আরেক হাত দিয়ে আমার একগালে দিয়ে রেখেছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কপালে একটা কিস করল আমি সঙ্গে সঙ্গে নিজের থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলাম।

আশিয়া: রাস্তায় ও এসব অসহ্য,,( বলেই দৌড়ে চলে গেলাম বাড়ির ভেতরে)

আর আকাশ যতক্ষণ আশিয়াকে দেখা যায় সেখানে দাড়িয়ে তাকিয়ে আছে তার মায়াবতীর দিকে। হঠাৎ কারো ডাকে বাস্তবে ফিরল,,আকাশ

তাকিয়ে দেখে রাজু আর বাচ্চু এসে গেছে ওরা আকাশের পেছনে পেছনে আসছিল।

বাচ্চু- ভাই ভাবি তো চলে গেছে অনেক ক্ষণ আপনি এখন ও ওইদিকে কি দেখছেন ( চিন্তা করা ভঙ্গিতে )

রাজু- আরে ভাই আমাদের ভাবির মাঝে নিজেকে হারিয়ে তাকিয়ে আছে। কখন চলে গেছে টেরই পায়নি।( বলেই হাসতে লাগল)

আকাশ : তোরা চুপ করবি রাজু তুই বাইক নিয়ে আয় আর বাচ্চু আমার সাথে গাড়িতে চল। ( বলেই গাড়িতে উঠে বসলো)

গাড়িতে

আকাশ : বাচ্চু কি আছে আশিয়ার মাঝে বলতো আমি ওকে এক মূহুর্ত ও না দেখে থাকতে পারি না সব সময় শুধু দুচোখ ওর ওই মায়া ভরা চোখে হারিয়ে যেতে চায়।

বাচ্চু: ভাই এটাকেই ভালোবাসা বলে। আমার ও তো শুধু সুমিকে দেখতে মন চায়। হারিয়ে যেতে ( আর কিছু বলতে পারল না কান মলা খেতে হচ্ছে কারণ আকাশ ও কান টেনে ধরেছে)

আকাশ : কি বললি তুই সুমিকে দেখতে মন চায়। এই সুমি আবার কে আমাকে না জানিয়ে প্রেম করা হচ্ছে তাই না!

বাচ্চু: ভাই না আমি প্রেম কোথায় করলাম। এখন পযর্ন্ত তো বলতেই পারি নাই। যেয়ে বললে আমায় আস্ত রাখবে নাকি।

আকাশ : তুই এতো ভিতু হলি কবে থেকে একটা মেয়েকে ভয় পাচ্ছিস।( কানে থেকে হাত সরিয়ে)

বাচ্চু: ওর কাছে গেলেই আমার ভয়ে হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যায় ভাই।

আকাশ : এই সুমি নাম টা কোথায় যেন শুনেছি?

বাচ্চু: ভাই ভাবির বান্ধবী তো।

আকাশ : ও হুম ওই মেয়েটা বাবা রে বাবা কি চাপা প্রথম যেদিন তোর ভাবির সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম কেমন করছিল মনে আছে তোর আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম। আমার টা তাও ঠান্ডা আছে। তুই টেনশন নিস না তোদের মিল আমি করিয়ে দেব আগে তোদের ভাবি কে পটিয়ে নেয়।

এদিকে

আশিয়া ভয়ে ভয়ে বাড়িতে ঢুকছে কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না আম্মু এসে দাড়ালো সামনে।

আম্মু: এতো দেরি হলো কেন,,

আশিয়া: একটি সুমিদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ও অনেক জোর করেছিল তাই আর না করি নি।

আম্মু: তাই বলে রাত করবি। আর কখনো গেলে জানিয়ে যাবি। আমি যে চিন্তা করে শেষ হয়েছি।

আশিয়া: আচ্ছা।

পরদিন
রেডি হয়ে কলেজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলাম না আজ আকাশের গাড়ি আসে নি। আল্লাহ বাচা গেল। আবার যদি আসে ভেবে তারাতারি গাড়িতে উঠে পরলাম আজ তারাতারিই গাড়ি পেয়েছি।

কলেজে

সুমি: কি ব্যাপার আজ বাসে এলি যে তোর আশিকি গাড়ি নিয়ে যায় নি।

আশিয়া: কিসের আশিকি হ্যা? আজ যায় নি বলেই তো আমি কতো খুশি দেখছিস না সেই যে জালাতন শুরু করেছে আজ কতো দিন পর শান্তি মতো এসেছি।

সুমি- হুম কিন্তু এই শান্তি কতোক্ষণ থাকবে কে জানে।

আশিয়া: এই পাগলের হাত থেকে কবে যে ছাড়া পাবো।

লিমা: আর ছাড়া পাওয়া হলো না ওই যে দেখো তোমার আকাশ এসে গেছে।

হাত উঠেয়ে আকাশ কে দেখিয়ে আশিয়া আকাশ কে দেখেই ব্যাগ নিয়ে পেছনের দরজার দিকে যেতে লাগল,,

লিমা: ব্যাগ নিয়ে কই যাছ?

আশিয়া: আকাশ যদি জিগ্গেস করে আমি এসেছি নাকি তোরা বলে দেবি আমি আজ আসব না কেমন।

বলেই পেছনে দৌড় দিবো কিন্তু ঠাস করে করো সাথে ধাক্কা খেয়ে পরে গেলাম।

এদিকে

আকাশ আজ ঘুম থেকে উঠতে দেরি করেছে তাই আজ আশিয়াকে আনতে যেতে পারে নি। ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠেছে কোন রকম ফ্রেশ হয়ে না খেয়েই চলে এসেছে কলেজে…..

আশিয়া আরমানের সাথে ধাক্কা খেয়েছে।

আশিয়া: ওফ আরমান দেখে চলতে পারো না। এভাবে কেউ ধাক্কা দেয়।

আরমান : আশিয়া তোমাকে কাল ছুটির পর কতো খুজলাম কোথায় ছিলে!

আশিয়া: আমি এখন ব্যস্ত আছি।

বলেই আরমানের কথার উওর না দিয়ে বেরিয়ে আরেক দফা শক খেলো কারণ সামনে আকাশ দাড়িয়ে আছে। তাহলে কি আরমানের সাথে কথা বলতে দেখেছে। আল্লাহ না দেখে যেন দেখলে কি যে করবো এই ছেলে……

#চলবে