জোর করে বিয়ে পার্টঃ০৪

0
1633

জোর_করে_বিয়ে
পার্টঃ ৪
লেখকঃ সিয়াম হোসেন

সানজিদা মিম ও মিমের মামা মামি সবাই রাতে খেতে বসেছে ।
-কিরে কেমন লাগলো প্রথম দিন । (মিমের মামা)
-হুমম অনেক ভালো । (মিম)
-সানজিদা তোমার এখানে থাকতে সমস্যা হচ্ছে নাতো । (মামা)
-কি যে বলেন না মামা সমস্যা হবে কেনো । (সানজিদা)
-কখনও ‌কোনো কিছু লাগলে আমাকে জানাবে । (মামা)
-ঠিক আছে । (সানজিদা)
তারপর খেয়ে শুয়ে পড়লো ।

পরের দিন ভার্সিটিতে এসে দেখে কালকের সেই ছেলেটা তার দিকে তাকিয়ে আছে । সানজিদা ও মিম যথা সম্ভব দূর দিয়ে যাবার চেষ্টা করলো । কিন্তু তা হয়তো আর হলো না কারণ সিয়াম প্রায় ওর কাছেই চলে এসেছে ।

-এইযে আপু শুনছেন । (সিয়াম)
দুজনেই দাড়িয়ে গেলো ।
-কেমন আছেন । (সিয়াম)
– আপনার সাথে আমাদের আগে কখনও দেখা হয়েছে বা আমরা কি একে অপরে চিনি । (সানজিদা)
-না কেনো । (সিয়াম)
-তাহলে এভাবে ভার্সিটির সকলের সামনে দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কেনো কেমন আছি । (সানজিদা)
-চিনি না তবে পরিচিত হলে দোষ কথায় । (সানজিদা)
-দেখুন আমি কোনো অপরিচিত ছেলের সাথে কথা বলি না সরে যান ক্লাসে যাবো । (সানজিদা)
-ক্লাসে গিয়ে কি হবে । (সিয়াম)
-আমরা এখানে পড়তে এসেছি আপনার মতো ঘুরে বেড়াতে না । (সানজিদা)
-আপনি এমন কেনো আপনার সাথে তো শুধু কথায় বলতে চেয়েছি এর বেশি কিছু তো না । (সিয়াম)
-দেখুন আমার কথা বলার কোনো ইচ্ছা নেই‌ আপনার সাথে তাছাড়া মানুষ জনও দেখছে খারাপ কিছু ভাবতে পারে । (সানজিদা)
-তারা কি ভাবলো কি না ভাবলো সেটা নিয়ে আমি পরোয়া করি না । (সিয়াম)
সানজিদা আর কোনো কথা না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যাবার চেষ্টা করলো । ওমনি সিয়াম পিছন থেকে হাতটা চেপে ধরলো ।‌
-হাত ছাড়ুন । (সানজিদা)
-যদি না ছাড়ি । (সিয়াম)
সানজিদা নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিয়ামের গালে একটা থাপ্পর মেরে চলে গেলো । সিয়ামের থাপ্পর মারা দেখে সারা ভার্সিটির ছেলে মেয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে । সিয়াম গালে হাত দিয়ে শুধু সানজিদার চলে যাওয়া দেখছে । সিয়ামের বন্ধুরাও অবাক ।

-তোর গায়ে ওই মেয়ে হাত তুললো আর তুই‌ কিছু বললি না । (আশিক)
-না এটা হতে পারে না চল গিয়ে ওই‌ মেয়ের খবর নিয়ে আসি । (রাফি)
-তোরা কেউ‌ যাবি না এখানেই দাড়া । (সিয়াম)
-মানে কি বলছিস তুই মেয়েটা তোকে থাপ্পর মারছে‌। (রাফি)
– আরে এটা থাপ্পর না এটা হচ্ছে ভালোবাসার পরশ । আমি তো এমন একজন মেয়েকেই চেয়েছিলাম যে আমাকে ভয় পাবে না বরং আমাকে শাষন করবে । (সিয়াম)
-আমার মনে হয় তুই পাগল হয়ে গেছোস চল ডাক্তার দেখাতে হবে তোকে । (আশিক)
-পৃথিবীতে এমন কোনো ডাক্তার নেই যে আমাকে ভালো করতে পারবে শুধু এই মেয়েটা ছাড়া । (সিয়াম)
ওরাও আর কিছু বললো না । বুঝতে পেরেছে যে সিয়ামকে বলে কিছুই হবে না ।

-কাজটা কি তুই ঠিক করলি । (মিম)
-কেনো আমি আবার কি করলাম । (সানজিদা)
-তুই ছেলেটাকে থাপ্পর মারলি কেনো । (মিম)
-তো কি করবো দেখলি না কেমন অসভ্যতামি করছিলো । (সানজিদা)
-দেখেছি তবে থাপ্পরটা মারা তোর ঠিক হয়নি । (মিম)
-কেনো । (সানজিদা)
-শোন এটা ঢাকার শহর এখান কার মানুষরা তেমন একটা সুবিধার না কখন কি করে ফেলবে তুই বুঝতেও পারবি না (মিম)
-আচ্ছা বাদ দে যখন হবে তখন দেখা যাবে । (সানজিদা)
কথা বলতে বলতে ক্লাসের দিকেই যাচ্ছে হঠাৎ করে একটা ছেলে এসে হাজির ।
-কে আপনি এমন করে সামনে চলে এলেন । (সানজিদা)
-আমি নিলয় আর আপনি ।‌(ছেলেটা)
-সানজিদা কিন্তু আপনি আমার পথ আটকালেন কেনো ।
-আপনাকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য । (নিলয়)
-কেনো (সানজিদা)
-ওই ছেলেটাকে থাপ্পর মারার জন্য । ছেলেটা প্রচুর বেয়াদপ । (নিলয়)
-এর জন্য আমাকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারলে তাকে গিয়ে কিছু বলুন । (সানজিদা)
-আমি কোনো ঝামেলার মধ্য জড়াতে চাই না । তাছাড়া ওরা একটা বেয়াদপ কি করবে জানি না । আমি সাধারন ভাবে থাকতে পছন্দ করি । (নিলয়)
-ওহ্ ভালো । (সানজিদা)
-আচ্ছা একটা কথা বলবো । (নিলয়)
-কি
-আমরা কি বন্ধু হতে পারি । (নিলয়)
-ঠিক আছে । (সানজিদা)
-চলুন ক্লাসে যায় । (নিলয়)
-হুমম

– এই তুই না একটু আগে ওই ছেলেটাকে বললি কোনো অপরিচিত ছেলের সাথে কথা বলিস না তাহলে ওর সাথে বন্ধুত্ত করলি যে । (মিম আস্তে করে সানজিদার কানে বললো)
-শোন স্যার কালকে বলছিলো যে ওই ছেলের থেকে দূরে দূরে থাকতে । আর ও হচ্ছে বেয়াদপ কিন্তু এই ছেলেটাকে দেখে ভালো মনে হলো তাই বন্ধুত্ত করলাম । এখন বাদ দে ক্লাদে চল । (সানজিদা)
সানজিদা মিম ও ‌নিলয় এক সাথেই বসেছে ।
-আচ্ছা সানজিদা আপনার বাসা কোথায় । (নিলয়)
-আমার বাসা ফরিদপুর আপনার (সানজিদা)
-আমি এখানেই থাকি আর আমার বাবা হচ্ছেন একজন কোম্পানির মালিক । (নিলয় সানজিদাকে ইমপ্রেস করার জন্য একটু বাড়িয়ে বললো)
-ওহ্

– ওই চল ক্লাসে যায় । (সিয়াম)
-তুই যা আমরা যাবো না । (আশিক)
-ঠিক আছে না গেলি । (সিয়াম)
ক্লাসের দিকে যাচ্ছে সিয়াম ।
-ওই সিয়াম এমন হলো কেনো কিছু বুঝতে পারছিস (আশিক)
-ওই যে মেয়েটার জন্য । (রাফি)

ক্লাসের কাছে আসতেই হঠাৎ করে ফোনটা বেজে উঠলো । বের করে দেখে বাবার ফোন । কি বেপার বাবা তো কখনও এই সময় ফোন করে না ।
-হ্যালো । (সিয়াম)
– সিয়াম কোথায় তুই । (বাবা)
-ভার্সিটিতে কেনো । (সিয়াম)
-তাড়াতাড়ি বাসায় আয় । (বাবা)
-কেনো ।
-তোর মায়ের কি যেনো হয়েছে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে । (বাবা)
-কি দাড়াও আমি এখনই আসছি । (সিয়াম)
সিয়াম তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়ে তার মাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো ।
-ডাক্তার কি হয়েছে আমার মায়ের । (সিয়াম)
-তেমন কিছু না অনেক বেশি চিন্তা করার জন্য এমনটা হয়েছে । সাথে প্রেসারটাও বেড়ে গিয়েছিলো । আমি কিছু ঔষুধ দিয়ে দিচ্ছি নিয়মিত খাওয়াবেন আর বেশি চিন্তা যেনো না করে তা নাহলে আরও বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে । (ডাক্তার)
-আচ্ছা ঠিক আছে । (সিয়াম)
ওর মাকে নিয়ে বাসায় আসছে ।
-আম্মু একটা কথা বলি । (সিয়াম)
-কি
-তুমি এতো কি চিন্তা করো । (সিয়াম)
-কই চিন্তা করি । (মা)
-ডাক্তার আমাকে বলছে বলনা কিসের এতো চিন্তা । (সিয়াম)
-তোকে নিয়ে । (মা)
-আমাকে নিয়ে মানে । (সিয়াম)
-এই যে সারাদিন এই ভাবে ঘুরে বেড়াস ঠিক মতো পড়িস না এটা নিয়ে অনেক চিন্তা হয় যদি তোর কিছু হয়ে যায় । আবার তোকে মানাও করতে পারিনা হয়তো তোর মুখের হাসিটা নষ্ট হয়ে যাবে সেটা ভেবে(মা)
সিয়াম আর কিছু না বলে চুপ হয়ে গেলো । ভাবছে মা আমার খুশির জন্য আমাকে এসব করি বলে বাড়ন করে না । না এখন থেকে একটু ভালো হওয়া দরকার । অন্তত মায়ের জন্য হলেও পড়বো অনেক তো হলো একটু ভালো হয়ে দেখি কেমন লাগে । এটা ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে এলো ।

অপর দিকে সানজিদা আর মিম ভার্সিটির শেষে ক্লাস থেকে বের হচ্ছে । অবশ্য নিলয় আগেই বেড়িয়ে গিয়েছে । সানজিদা আর মিম গেটের কাছে আসতে নিলয় গাড়ি এনে ওদের সামনে দাড়ালো ।
-উঠুন আপনাদের বাসায় নামিয়ে দিচ্ছি (নিলয়)
-সমস্যা নেই আমরা হেটে চলে যেতে পারবো আপনি যান। (সানজিদা)
-এটা কি করে হয় নতুন বন্ধুকে তার বাসা পর্যন্ত পৌছে দিবো না উঠে পড়ুন । (নিলয়)
-আপনি যান আমাদের বাসা এখানেই চলে যেতে পারবো । (সানজিদা)
-দেখুন যদি না উঠেন তাহলে ভাববো আপনি আমাকে নিজের বন্ধু ভাবছেন না । (নিলয়)
কি আর করার ইচ্ছা না থাকা সত্তেও সানজিদা ও মিম উঠে পড়লো । নিলয় ওদেরকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে চলে গেলো ।

চলবে…..