জোর করে বিয়ে পার্টঃ ১২

0
1703

জোর_করে_বিয়ে
পার্টঃ ১২
লেখকঃ সিয়াম হোসেন

এদিকে সানজিদা সিয়ামের জন্য অপেক্ষা করছে । সিয়ামের জন্য মনটা খারাপ হয়ে আছে কেনো যে তখন এমনটা করতে গেলাম । এখন তো মনে হয় সিয়াম আমার উপর রেগে আছে । না অনেক হয়েছে আর না এবার সিয়ামকে বলে দেওয়া উচিত যে আমিও তাকে ভালোবাসি আজকে আসুক । সানজিদা অপেক্ষায় বসে আছে । রাত প্রায় ১০টার কাছা কাছি কিন্তু সিয়াম এখনও বাসায় আসেনি । এমনটা তো কোনো সময় হয় নি কোথাও গেলে সন্ধ্যার সময় বাসায় চলে আসতো তাহলে কি আমার উপর এখনও রেগে আছে (সানজিদা বসে বসে এসব ভাবছে )
– কিরে মা রাত প্রায় ১০ টা বাজতে চললো সিয়াম এখনও‌ আসছে না কোথায় গেছে ও (সিয়ামের মা)
-জানি না মা (সানজিদা)
-ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা কর কোথায় (মা)
-দিছিলাম কিন্তু ফোন বন্ধ বলছে । (সানজিদা)
-ঠিক আছে তুই গিয়ে শুয়ে থাক সময় হলে ও চলে আসবে যা (মা)
-না মা আপনি গিয়ে শুয়ে পড়ুন সিয়াম হয়তো এখনই চলে আসবে । (সানজিদা)
-ঠিক আছে টেবিলে খাবার রাখা আছে খেয়ে নিস (মা)
-হুমম
সিয়ামের মা নিজের রুমে চলে গেলো । এদিকে সানজিদার টেনশনটা বেড়ে চলেছে সিয়াম এখন আসছে না রাত প্রায় সাড়ে দশটা বাজতে চললো ।
সানজিদা চেয়ারের উপর বসে আছে আর ঝিমোচ্ছে হঠাৎ করেই দরজায় বেল । সানজিদা ফাল দিয়ে উঠলো‌ হয়তো সিয়াম এসেছে ।
দরজার এপাশে সিয়াম দাড়িয়ে দরজায় বেল বাজিয়েই যাচ্ছে ভালো মতো দাড়াতেও পারছে না হ্যা আজকে সিয়াম ড্রিংস করেছে ।
সানজিদা দরজা খুলে দিলো
-কি হলো এতোক্ষন্ত লাগে দরজা খুলতে কোথায় ছিলে । (সিয়াম)
-উহু কি গন্ধ ড্রিংস করছো তুমি (সানজিদা)
-আমি ড্রিংস করবো কি না করবো সেটা তোমাকে বলতে বাধ্য নয় (সিয়াম)
-কি হয়েছে তোমার কেনো আজকে ড্রিংস করছো (সানজিদা)
-সরো আমার সামনে থেকে আমার ঘুম পাচ্ছে । (সিয়াম)
সানজিদাকে সরিয়ে দিয়ে সিয়াম সামনের দিকে গিয়ে পড়ে যেতে লাগলো তখনই সানজিদা এসে সিয়ামের হাতটা ধরে
-আমাকে ধরতে হবে না আমি যেতে পারবো ছেড়ে দাও (সিয়াম)
-না তুমি পারবে না আমার কাধে হাত দাও আমি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি (সানজিদা)
-বললাম তো সরে যাও আমি যেতে পারবো (সিয়াম)
আবারও সানজিদাকে সরিয়ে দিয়ে কোনো মতে রুমে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ে ।
-আজকের থেকে‌ আমি সোফায় ঘুমাবোনা আমি‌ খাটে ঘুমাবো কেউ আমাকে আটকাতে পারবে না (বলতে বলতেই ঘুমিয়ে যায়)
সানজিদা সিয়ামকে ঠিক ভাবে শুয়ে দিয়ে গায়ের উপরে চাদরটা দিয়ে দেয় । আর সিয়ামের পাশে একই‌ সাথে শুয়ে পড়ে ।
-আজকে আমার জন্যই‌ সিয়াম ড্রিংস করেছে না ওর রাগ আমাকে ভাঙাতে হবে । আমিই দায়ি ওর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে আমাকে (সানজিদা এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ে)

সকালে সিয়ামের ঘুম ভেঙে যায় দেখে যে সে খাটে শুয়ে আছে আর সানজিদা তার পাশে ঘুমন্তু অবস্থায় । সিয়াম এক ভাবে তাকিয়ে আছে । ঘুমিয়ে থাকলে সানজিদাকে অনেক সুন্দর দেখায় এর‌ আগেও দেখেছে সিয়াম সানজিদাকে ঘুমন্তু অবস্থা । সিয়াম ভাবতে থাকে
কেনো যে ও‌‌ আমার সাথে এমন করে বুঝতে পারিনা । কালকে যে থাপ্পরটা মেরেছে এর জন্য ওকে শাস্তি পেতে হবে অনেক সহ্য করেছি আর না ।

সিয়াম বিছানা থাকে ঠেলে উঠে যার জন্য সানজিদার ঘুম ভেঙে যায় ।
-কি বেপার আজকে এতো সকালে উঠলে কেনো (সানজিদা)
সিয়াম সানজিদার মুখে তুমি শব্দটা শুনে কিছুটা অবাক হয় কিন্তু ওর এখন নরম হলে চলবে না প্রতিশোধ নেওয়া দরকার ।
-তুমি আমার পাশে কেনো (সিয়াম)
-কেনো থাকতে পারিনা (সানজিদা)
-দেখো‌ আমার সামনে‌ ওই সব ভাব করবে না বুঝলে কালকের থাপ্পরের কথা এখনও মনে আছে । (সিয়াম)
-আমি সরি সত্যি আমি কালকে তোমাকে ইচ্ছা করে থাপ্পরটা মারিনি (সানজিদা)
-ইচ্ছা করে মারো নি তাই না এতোদিন তো আমার সাথে যে ব্যবহারটা করে এসেছো‌ এতে আমার ওই কালকের থাপ্পটাই প্রাপ্ত ছিলো শুধু । (সিয়াম)
-দেখো কালকের ওইটার জন্য সরি আমাকে মাফ করে দাও । (সানজিদা)
-আমার ভালো লাগছে না তুমি এখান থেকে যাও (সিয়াম)
-আমার কথাটা তো‌ শুনো (সানজিদা)
-তুমি যাবে এখান থেকে (সিয়াম ঝারি মেরে)
-হুমম যাচ্ছি (সানজিদা মাথা নিচু করে বেড়িয়ে এলো )

-না সিয়াম আমার উপর প্রচন্ড রেগে‌ আছে কিন্তু ওর রাগ ভাঙাবো কি করে আচ্ছা ওতো পায়েসটা অনেক পছন্দ করে আজকে নিজের হাতে ওকে‌ পায়েস রান্না করে খাওয়াবো যদি রাগটা কমে (সানজিদা এটা ভেবে রান্না ঘরে গেলো )
-কিরে মা ঘুম ভাঙলো (সিয়ামের মা)
-হুমম আম্মা সিয়াম তো ‌পায়েস খেতে পছন্দ করে তাই না (সানজিদা)
-হুমম কেনো (মা)
-না ওই যে‌ ওর জন্য একটু পায়েস রান্না করবো (সানজিদা)
-ঠিক‌ আছে তুই ‌যা আমি করে দিচ্ছি (মা)
– না আজকে আমি নিজের হাতে সিয়ামের জন্য পায়েস রান্না করবো (সানজিদা)
-বাহ্ আজকে দেখি‌ সিয়ামের উপর তোমার ভালোবাসা প্রকাশ পাচ্ছে বেশি করে (মা)
-আম্মা (সানজিদা লজ্জা মাখা মুখে )
-থাক আর লজ্জা পেতে হবে না নে রান্না কর আমি তোকে সব কিছু এগিয়ে দিচ্ছি (মা)
-ঠিক আছে । (সানজিদা)
সানজিদা সিয়ামের জন্য পায়েস রান্না করছে ।
আর এদিকে সিয়াম ফ্রেশ হয়ে এসে খাবার টেবিলে বসলো ।
-আম্মু খেতে দাও(সিয়াম)
-হুমম আসছি (মা)
– কিরে তোর হলো‌ পায়েস রান্না সিয়াম তো‌ ওখানে অপেক্ষা করছে (সিয়ামের মা)
-হুমম এই তো হয়ে গেছে (সানজিদা)
-কি হলো আম্মু দাও (সিয়াম)
-আরে বউমা যাচ্ছে তো (মা)
কিছুক্ষন বাদে সানজিদা সিয়ামের জন্য পায়েস নিয়ে হাজির ।
-এটা কি । (সিয়াম)
-কেনো ‌পায়েস আপনার জন্য আজকে আমি নিজ হাতে রান্না করেছি (সানজিদা )
-তোমাকে কে বলেছে আমার জন্য পায়েস রান্না করতে (সিয়াম)
-কেনো তুমি তো পায়েস পছন্দ করো তাই রান্না করেছি খেয়ে দেখো না কেমন হয়েছে । (সানজিদা)
-আমার খাবার কোনো ‌ইচ্ছা নেই‌ আমার বাইরে কাজ আছে আমি গেলাম । (সিয়াম খাবার টেবিল থেকে উঠে যেতে লাগলো)
-কিরে সিয়াম কি হয়েছে তোর বউ মা এতো কষ্ট করে তোর জন্য রান্না করলো‌ আর তুই না খেয়ে উঠে যাচ্ছিস (মা)
-আমার খাবার কোনো ইচ্ছা নেই বাইরে থেকে খেয়ে নিবো (সিয়াম)
সিয়াম বাইরে যেতে লাগলো । পকেটে হাত দিয়ে দেখে যে কাছে টাকা নাও
-আব্বু টাকা দাও তো (সিয়াম)
-কেনো কি করবি (বাবা)
-এমনি লাগবে দাও (সিয়াম)
-ঠিক আছে বউমার কাছ থেকে গিয়ে নে যা (বাবা)
-এই সব সময় বউমার কাছ থেকে নে বলো কেনো তো তোমাদের কাছে কি বউমা বড় হয়ে গেলো ‌আর আমি কিছুই না । থাক লাগবে না টাকা (সিয়াম রাগ দেখিয়ে বেড়িয়ে যেতে লাগলো)
-শুনুন (পিছন থেকে সানজিদা )
এই নিন টাকা
-লাগবে না ওটা আপনার কাছেই রেখে দিন (সিয়াম বলেই‌ বেড়িয়ে গেলো)
-কিরে মা ওর সাথে তোর‌ কি হয়েছে যে আজকে এতো রেগে আছে তোর উপর (মা)
-জানি না আম্মা (সানজিদা সত্যটা বললো না)
-কিছু একটা তো ‌নিশ্চয় হয়েছে নাহলে তো ও‌ কখনও এমন করেনা (মা)
-সমস্যা নেই ‌এমনি ঠিক‌ হয়ে যাবে‌ আমি রুমে গেলাম (সানজিদা)
সানজিদা নিজের রুমে এসে মন খারাপ করে বসে আছে ।
অপর দিকে সিয়াম চলে গেলো ওর বন্ধুদের কাছে ।
-কিরে কেমন আছিস তোরা (সিয়াম)
-এইতো ভালো তুই (আশিক)
-ভালোই
-ভাবির সাথে কি সমস্যা ঠিক হইছে (আশিক)
-আরে ওর কথা বাদ দে তুই বল তোর‌ ওই ‌মেয়েটার কি খবর (সিয়াম)
-ওটার সাথে তো লাইন ক্লিয়ার (আশিক)
-কি এতো‌দূর হয়ে গেলো‌ আর আমাকে বলিস নি (সিয়াম)
-আরে এখনও‌ কাউকে বলিনি‌(আশিক)
-কেনো রে আমরা কি নিয়ে যাবো নাকি হি হি হি চল‌ এখন তুই‌ আমাদের সবাইকে পার্টি দিবি (সিয়াম)
-কি এখন (আশিক)
-হুমম এখন বাসা থেকে কিছু খেয়ে আসিনি চল । (সিয়সম)
-ঠিক আছে চল । (আশিক)
সিয়াম বন্ধুদের সাথে গিয়ে পার্টি উপলক্ষে নাস্তাটা করে নিলো । তার পর আর সিয়াম সারাদিন বাসায় আসেনি । সানজিদা অনেক বার ফোন দিছে কিন্তু ধরে নি ।
সিয়াম রাত ১০ টার সময় বাসায় এসেছে ।
– কোথায় ছিলে সারাদিন (সানজিদা)
-আমি যেখানেই থাকি না কেনো তোমাকে বলতে বাধ্য নই (সিয়াম বলেই ঘরের দিকে হাটা দিলো)
-কোথায় যাচ্ছো (সানজিদা)
-ঘরে আমার ঘুম পাচ্ছে । (সিয়াম)
-খেয়ে যাও তোমার জন্য আমিও না খেয়ে বসে আছি (সানজিদা)
সিয়াম কিছুটা অবাক হলো আমার জন্য বা খেয়ে বসে আছে ।
-আমার ক্ষুদা নেই বাইরের থেকে খেয়ে এসেছি তুমি পারলে খেয়ে নাও আমার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না । (সিয়াম বলেই ঘরে চলে গেলো)
সানজিদা সিয়ামের এমন ব্যবহারে অনেক কষ্ট পেয়েছে আসলেই দোষটা তো তারই । সানজিদাও না খেয়ে রুমে গিয়ে সিয়ামের পাশে শুয়ে পড়লো ।

সিয়াম অন্য দিকে মুখ করে শুয়ে আছে । সানজিদা এসে যে ওর পাশে শুয়েছে এটাও বুঝতে পারছে তার মানে সানজিদাও রাতে খায়নি । সানজিদা যে ওর পাশে শুয়ে কান্না করছে এটাও বুঝতে পারছে সিয়াম ।
একটু কান্না করুক দেখি কতক্ষন কাঁদতে পারে । এটা ভাবতে ভাবতেই সিয়াম ঘুমিয়ে পড়লো ।

চলবে…..