জোর করে বিয়ে পার্টঃ ৮

0
1707

জোর_করে_বিয়ে
পার্টঃ ৮
লেখকঃ সিয়াম হোসেন ।

সিয়াম নিজের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সানজিদাকে বিছানায় শুয়ে দিলো । সানজিদা এখনও অজ্ঞান হয়ে আছে । সিয়াম ওর মুখের দিকে এক ভাবে তাকিয়ে আছে । আহ্ কি মায়াবী চেহারা । কিন্তু কেনো যে এমন করে সিয়াম বুঝতে পারেনা । সিয়াম একভাবে তাকিয়েই আছে ।

এদিকে সানজিদার জ্ঞান ফিরে দেখে সিয়াম তার মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে । ওমনি জোরে এক চিৎকার দিলো সানজিদা ।
-কি হলো চিৎকার দিলে কেনো । (সিয়াম)
-আমাকে কোথায় নিয়ে এসেছে । (সানজিদা)
-আমার বাসায় । (সিয়াম)
-প্লিজ আপনি আমার কাছে আসবেন না। (সানজিদা)
-কেনো আজকে তো আমাদের বাসর রাত । (সিয়াম)
-আমি এই বিয়ে মানি না আপনি আমাকে জোর করে বিয়ে করছেন আমাকে যেতে দিন । (সানজিদা)
-তোমাকে যেতে দেওয়ার জন্য তো আমি বিয়ে করিনি । (সিয়াম)
-প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন । (সানজিদা)
-কেনো (সিয়াম)
কথা বলছে আর সানজিদার দিকে এগোছে সানজিদা পিছনে যেতে যেতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ।
-প্লিজ আমার সাথে কিছু করবেন না আপনার পায়ে পড়ি । (সানজিদা)
-শোন আমি তোমাকে ভালোবেসেছি কিন্তু তুমি আমাকে বাসো না সেই জন্য জোর করে বিয়ে করে নিয়ে এসেছি । তবে তুমি যখন চাইছো তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছুই করবো না । তবে একটা কথা যদি আমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলো তাহলে তারপর ফল কিন্তু ভালো হবে না বলে দিলাম। (সিয়াম)
সিয়াম বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো ।
-আমার পাশে এসে শুয়ে পড়ো । (সিয়াম)
সানজিদা কোনো কিছু না বলে সেখানেই দাড়িয়ে রইলো ।
-তোমাকে আসতে বলছি আসবে না আমি‌ আসবো । (সিয়াম জোর গলায় )
সানজিদা ভয় পেয়ে এসে সিয়ামের পাশে শুয়ে পড়লো ।
-আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দাও । (সিয়াম)
সানজিদার সিয়ামের মাথায় নিজের বা হাত দিয়ে চুল গুলো হালকা করে নাড়িয়ে দিচ্ছে । সিয়াম সানজিদার নরম হাতের ছোয়া পেয়ে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে জানে না ।
সানজিদা দেখলো যে সিয়াম ঘুমিয়ে পড়েছে আস্তে করে উঠে গিয়ে দেওয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে কান্না করছে ।

অপরদিকে মিমের যখন জ্ঞান ফিরলো দেখলো যে সানজিদা নেই তাড়াতাড়ি করে রুমের বাইরে চলে এলো ।
-মামা (মিম)
-কিরে মিম কি হয়েছে । (মিমের মামা)
-মামা সানজিদা নেই । (মিম)
-নেই মানে কি বলছিস এই সব । (মামা)
-আমি ঠিকই বলছি সন্ধ্যার সময় সিয়াম ও তার বন্ধুরা এসে ওকে তুলে নিয়ে গেছে । (মিম)
-মানে সন্ধ্যার সময় নিয়ে গেছে আর তুই আমাদের ডাক দিলি না । (মামা)
-কি করে ডাক দিবো আমাকে অজ্ঞান করে দিছিলো এই মাত্রই জ্ঞান ফিরলো । (মিম)
-ঠিক আছে কি করা যায় আমি দেখছি । (মামা)
-কি হয়েছে আমার মেয়ের । (পিছন থেকে সানজিদার মা)
-আন্টি একটা ছেলে আপনার মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে । (মিম)
-মানে কি বলছো কে তুলে নিয়ে গেছে আমার মেয়েকে (সানজিদার মা বলেই কেঁদে উঠলেন)
-ভেঙে পড়বেন না আন্টি চলুন পুলিশের কাছে যায় । (মিম)
-এতো রাতে পুলিশ কি থাকবে তার থেকে আমার স্যারের কাছে ফোন দিচ্ছি দেখি উনি কি বলে । (মামা)
মিমের মামা নিলয়ের বাবার কাছে ফোন দিয়ে সানজিদার না থাকার কথাটা বললো । সকাল হবার সাথেই নিলয় নিলয়ের বাবা ও পুলিশ মিমের মামা বাসায় এসে হাজির ।
-কে কে তুলে নিয়ে গিয়েছে সানজিদাকে । (নিলয়)
-সিয়াম ।
-সিয়াম কোন সিয়াম তুমি চেনো । (পাশের থেকে পুলিশ)
-হ্যা আমাদের সাথে একই ভার্সিটিতে পরে খুব বখাটে সানজিদাকে এর আগেও জ্বালিয়েছে । আর এখন তুলে নিয়ে গেছে । (মিম)
-স্যার এখন কথা না বলে আমার সাথে চলুন সিয়ামদের বাসায় । (নিলয়)
সবাই মিলে সিয়ামের বাসায় হাজির ।
দরজায় কলিং বাজানোর সাথেই সিয়ামের বাবা দরজা খুলে দিলেন ।
সিয়ামের বাবা সকাল করে নিজের বাসার সামনে পুলিশদের দেখে তো অবাক ।
-পুলিশ অফিসার আপনি । (সিয়ামের বাবা)
-ও নজরুল সাহেব আপনি । আপনার ছেলে কোথায় । (পুলিশ)
-ওতো ওর রুমে আছে কেনো । (সিয়ামের বাবা)
-দেখুন নজরুল সাহেব আপনি হয়তো সব জানেন যে আপনার ছেলে কালকে সন্ধ্যার সময় একটা মেয়েকে তুলে নিয়ে এসেছেন । আপনি অনেক ভালো মানুষ কিন্তু আপনার ছেলে এমন কাজ করবে ভাবতেও পারিনি । এখন আপনার ছেলেকে ডাকুন । (পুলিশ)
-আচ্ছা আপনারা ভিতরে আসুন । (সিয়ামের বাবা)
রুমের ভিতরে ঢুকে সানজিদার বাবা ডাকা শুরু করে দিলেন ।
-সানজিদা মা কোথায় তুই দেখ আমরা তোকে নিতে এসেছি (সানজিদার বাবা)

সানজিদা বাবার কন্ঠ শুনে দৌড়ে বেরিয়ে এসেছি বাবাকে জড়িয়ে ধরলো । কিছুক্ষন পর সিয়ামও এসে দাড়ালো
-কাঁদিস না মা ভয় নেই আমরা তো চলে এসেছি তাই না । (সানজিদার বাবা)
-সানজিদা এদিকে এসো । (সিয়াম ধমক দিয়ে)
-বাহ্ খুব সাহস দেখছি তোমার এখানে আমরা দাড়িয়ে আছি তারপরও এই কথা বলার সাহস কোথা থেকে পাও এই এরেস্ট করো ওকে । (পুলিশ)
-আমাকে ধরার সাহস কোথা থেকে পান আপনি । (সিয়াম)
-পুলিশরা তোমার কথায় চলে না ওকে এরেস্ট করো । (পুলিশ )
-বাবা কিছু বলো ওদের কে ।(সিয়াম)
-অফিসার (সিয়াম)
-দেখুন নজরূল সাহেব আমরা জানি আপনি অনেক ভালো মানুষ তাই‌ আমাদের কাজে যদি বাধা না দেন তাহলে ভালো হবে । (পুলিশ)
সানজিদাকে নিয়ে সবাই বাসায় চলে গেলো আর সিয়ামকে পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে এসেছে । সিয়ামের বন্ধুরা খবর পাওয়ার সাথে সোজা চলে গেলো থানায় ।

-সিয়াম কি করে । (আশিক)
-যেই করে হোক সেটা বড় কথা নয় তোদের একটা কাজ করতে হবে (সিয়াম)
-কি কাজ । (আশিক)
-কালকে নিলয় আর সানজিদার বিয়ে হবে তোদের যে করেই হোক বিয়েটা বন্ধ করতে হবে । (সিয়াম)
-কিন্তু তুই এখানে । (আশিক)
-আমার কথা তোদের চিন্তা করতে হবে না আগে বিয়েটা বন্ধ কর । (সিয়াম)
-ঠিক আছে । (আশিক)

কথা গুলো বলে সিয়ামের বন্ধুরা মিলে বেড়িয়ে গেলো । নিলয়কে খুজছে সবাই মিলে ।
-আরে ওই দেখ নিলয়ের গাড়ি না । (রাফি)
-হুমম নিলয়ের গাড়িই তো মনে হচ্ছে এদিকেই আসছে দাড়া আসতে দে । (আশিক)
সবাই মিলে রাস্তার মাঝ খানে দাড়িয়ে আছে ।
-কি হলো সবাই এই ভাবে পথের মাঝ খানে দাড়িয়ে আছিস কেনো সামনে থেকে সর । (নিলয়)
-আরে সরে তো যাবো তার আগে তোর সাথে একটা কথা আছে । (আশিক)
-আমি বখাটে ছেলেদের সাথে কথা বলতে চাই না । (নিলয়)
-আরে তোকে বলতে হবে না যা বলার আমরাই বলছি । (আশিক)
-কি
-কেমন ছেলে তুই একটা বিবাহিত মেয়েকেই বিয়ে করছিস । (আশিক)
-ওই‌শোন এই ‌বিয়েতে সানজিদার কোনো মত ছিলো না বুঝলি (নিলয়)
-তোর কি মনে হয় সিয়াম ওকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে কিছু করে নি । (আশিক)
-মানে । (নিলয়)
-আরে তুই এখনও ছোট না যে তোকে বলে দিতে হবে বিয়ে করবি কর তাতে আমাদের কি সিয়ামও কিছু মনে করবে না যা করার তা তো করে নিয়েছে । (আশিক)
নিলয় কোনো কথা না বলে গাড়ি চালুু করলো ।
-বিশ্বাস না হলে সানজিদাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে দেখ দেখবি ও না করবে যে কিছুই করেনি আসলে এটা সবাই গোপন রাখে বুঝলি । (আশিক)
বলার সাথেই সবাই হেঁসে উঠলো ।
নিলয় গাড়ি চালিয়ে সোজা সানজিদার কাছে চলে গেলো ।
-সানজিদা তোমার সাথে আমার একটা কথা আছে । (নিলয়)
-কি কথা । (সানজিদা)
-আচ্ছা সিয়াম তোমার সাথে কালকে রাতে কি করছে । (নিলয়)
-মানে কি বলছো তুমি বুঝতে পারছি না । (সাবজিদা)
-আমি কি বলতে চাইছি সেটা হয়তো তুমি বুঝতে পারছো সিয়াম কি তোমার সাথে কিছু করেছে । (নিলয়)
-কি বলছো তুমি এটা ও আমার সাথে কিছুই করেনি । (সানজিদা)
-আমার বিশ্বাস হচ্ছে না ও তোমাকে তুলে নিয়ে গেছে আর কিছুই করেনি এটা কি করে হয় । প্রমাণ দেখাও । (নিলয়)
নিলয় কথাটা বলার সাথেই সানজিদা ওর গালে একটা থাপ্পর মেরে দিলো
– ছি এটাই তোমার বিশ্বাস এই বিশ্বাস নিয়ে তুমি‌ আমার সাথে বিয়ে করতে চেয়েছিলে । আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না বেরিয়ে যাও‌ এখান থেকে । (সাবজিদা)
নিলয় সোজা বেরিয়ে গেলো পথে আবারও সিয়ামের বন্ধুদের সাথে দেখা ।
-কি না বলেছে তাইতো তার মানে সিয়াম কিছু করেছে । গালে থাপ্পরের দাগ কেনো প্রমাণ চাই ছিলে সেই জন্য । তাহলে বুঝে নে যদি প্রমান দিতে না পারে সেই জন্য তোকে থাপ্পর মেরে হয়তো বিশ্বাসের কথা বলেছে হি হি হি যা এখনই গিয়ে তোর বাবাকে বলে দে এই বিয়ে করবি না । (আশিক)
নিলয় বাসায় এসেই ওর বাবার কাছে গেলো ।
-বাবা তোমাকে একটা কথা বলবো । (নিলয়)
-কি
-বাবা আমি সানজিদাকে বিয়ে করতে পারবো না । (নিলয়)
-হঠাৎ করে কি হলো তোর তুই জানিস না কালকে তোদের বিয়ে । (বাবা)
-বাবা সিয়াম ওকে তুলে নিয়ে গিয়ে ওর সাথে কিছু করেনি তার কি প্রমাণ আছে আর আমি একবার বিয়ে হয়ে গিয়েছে সেই মেয়েকে বিয়ে করতে পারবো না । (নিলয়)
কথা গুলো বলে রুমে চলে গেলো ।
অপরদিকে সিয়ামের বন্ধুরা সোজা সিয়ামের সাথে দেখা করতে থানায় চলে গেলো ।
-মামা কাজ হয়ে গেছে । (আশিক)
– তাই নাকি রে এবার আমাকে এখান থেকে বের করার চেষ্টা কর তারপর যা করার আমিই করবো । (সিয়াম)
-আংকেল তোকে বের করার জন্য চেষ্টা করছে চিন্তা করিস না । (আশিক)
-ঠিক আছে তোরা এখন যা আর খেয়াল রাখবি সানজিদা কখন কি করছে সব আমাকে এসে বলবি । (সিয়াম)
-ঠিক‌ আছে । (আশিক)
সিয়ামের বন্ধুরা ওখান থেকে চলে গেলো ।

চলবে….