জোড় করে বিয়ে পার্টঃ ৩

0
1852

জোর_করে_বিয়ে
পার্টঃ ৩
লেখকঃ সিয়াম হোসেন

সকালে উঠে ফ্রেশ হয়ে সানজিদা আর মিম ভার্সিটির উদ্দেশ্য বেড়িয়ে পড়লো । দুজনেই গেটের সামনে চলে এসেছে ।
– হালকা ভয় ভয় লাগছে তো । (সানজিদা)
-আমারও সমস্যা নেই চল । (মিম)
দুজনেই গেটের ভিতর দিয়ে ঢুকছে ।

অপরদিকে সিয়াম ও তার বন্ধুরা সকলেই প্রতিদিনের মতো সেখানে বসে আছে ।
-সিয়াম দেখ নতুন দুইটা মেয়ে আসছে (রাফি)
-তোর তো চোখ সবসময় গেটের দিকে থাকে তুই তো দেখবি আজকে আমার ভালো লাগছে না তোরা আগে যা । (সিয়াম)
-আরে একবার তাকিয়ে দেখনা মেয়েটাকি সু্দর । (রাফি)
-কি মেয়ে না কি…..(এটা বলতে বলতেই গেটের দিকে তাকালো ।
সিয়াম যেনো নিজের চোখের পাতা বন্ধ করার কথাও ভুলে গিয়েছে । এক ভাবে তাকিয়ে আছে । কি মায়াবী চেহারা হরিণীর মতো চোখ আর‌ চুল গুলো দেখা যাচ্ছে না মাথায় হিজাব করা । এক ভাবেই তাকিয়ে আছে ।

-দেখনা ছেলেটা কেমন হা করে তাকিয়ে আছে । (সানজিদা)
-ওই দিকে না তাকিয়ে ক্লাসে চল । (মিম)

-কিরে মেয়ে দুইটা তো চলে যাচ্ছে কিছু বলবি না । (রাফি)
-অপূর্ব (সিয়াম)
-মানে কি বলছিস এই সব । (রাফি)
-মেয়েটা কি সুন্দর এক বার দেখলে মনে হয় সুধু দেখতেই‌ থাকি । (সিয়াম)
-তোর আবার কি হলো পাগল হয়ে গেলি না তো । চল মেয়ে দুই টাকে টিজ করে আসি । (রাফি)
কথাটা বলার সাথেই রাফির কলারটা টেনে ধরলো ।
-শোন ওইটার সাথে টিজ করবি না বুঝলি । (সিয়াম)
-কেনো তোর কিছু হয় নাকি । (রাফি)
-তোদের হবু ভাবি (সিয়াম)
-ধুর কিসের ভাবি এই পর্যন্ত ৫০ টার উপরে ভাবি পায়ছি এটাও সবার মতোই চল টিজ করে আসি । (রাফি)
-নারে সত্যি মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দর । এই‌ প্রথম কোনো মেয়েকে দেখে মনের মাঝে কেমন জানি একটা অনুভুতি হচ্ছে হতে পারে মেয়েটাকে আমার পছন্দ হয়ে গিয়েছে আবার দেখতে মন চাচ্ছে । (সিয়াম)
-হুমম বুঝলাম তুমি এখন প্রেম সাগরে ডুবে আছো দেখো আবার ডুবে মইরো না তার আগেই বেড়িয়ে এসো । (রাফি)
-ওই তোদের ওই‌ প্রেম বাদ দে চল সিনেমা দেখে আসি । (সোহাগ)
-নারে চল ক্লাসে যাই‌। (সিয়াম)
– এতো দেখি ভুতের মুখে রাম রাম ক্লাসে যাওয়ার কথা বলছে চল সিনেমা দেখে আসি । (সোহাগ)
-তোরা গেলে যা আমি ক্লাসে যাচ্ছি । (সিয়াম)

ওদের ওখান থেকে চলে আসলো । ক্লাসে এসে দেখে মেয়ে দুইটা এক সাথে বসে আছে । সিয়ামও তার পাশের সিটে গিয়ে বসে পড়লো । এক ভাবে শুধু তার দিকে তাকিয়ে আছে ।
-দেখনা ছেলেটা কেমন বেহায়ার মতো করে এক ভাবে তাকিয়ে আছে । (সানজিদা)
-ও দিকে না তাকিয়ে সামনে থাকা । (মিম)
-কিভাবে তাকাবো কেউ যদি এমন ভাবে তাকিয়ে থাকে বিরক্তি লাগে আমার কাছে । (সানজিদা)
-বাদ দে না । (মিম)

সিয়াম তো এক ভাবেই তাকিয়ে আছে ।
-সিয়াম এই সিয়াম (স্যার গায়ে হাত দিয়ে)
-জ্বী স্যার । (সিয়াম)
-কোথায় হারিয়ে গিয়েছো সেই কখন থেকে ডাকছি । (স্যার)
সিয়ামের তো স্যারের উপর সেই মাপের রাগ উঠতেছে । কারণ এতোক্ষন তো কল্পনার রাজ্য ডুবে ছিলো সেটা থেকে বের করার জন্য ।
-কোথায় তাকিয়ে ছিলে এতোক্ষন । আর ক্লাস তো করোনা তো কি মনে করে আজকে ক্লাসে আসছো । (স্যার)
-ওহ্ স্যার এমনি ভালো লাগলো তাই আসছি আপনি ক্লাস করান। (সিয়াম)
-ভালো লাগলো নাকি অন্য কোনো কারণ আছে । (স্যার)
-কেনো স্যার ক্লাস করতে কি কোনো কারণ লাগে এই প্রথম আপনার কাছ থেকে শুনলাম । (সিয়াম)
-চুপ বেয়াদপ ।(স্যার)
এই বলে চলে গেলো ।

-দেখলি ছেলেটা কি বেয়াদপ স্যারদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় সেটাও জানে না । (সানজিদা)
-হুমম । (মিম)

-এই তোমরা দুজন দাড়াও (স্যার)
সানজিদা লক্ষ্য করলো যে স্যার তাদের উদ্দেশ্য করেই কথাটা বলেছে ।
-তোমরা দুজন কি আজকে নতুন আসছো । (স্যার)
-জ্বী স্যার । (মিম)
-নাম কি তোমার । (স্যার )
-মিম ।
-আর তোমার নাম কি । (স্যার)
-সানজিদা
-ঠিক আছে বসো আর ওই যে ছেলেটা দেখছো ওর কাছ থেকে সব সময় দূরে থাকার চেষ্টা করবে । (স্যার সিয়ামকে উদ্দেশ্য করে )
-জ্বী স্যার । (দুজনেই)

এদিকে তো সিয়ামের কাছে নাম টাও যেনো সুন্দর লাগছে । আবার স্যারের উপরে রেগেও আছে মেয়েটাকে আমার থেকে সাবধান থাকার জন্য । ভার্সিটির ছুটির পরে সবাই চলে যাচ্ছে । সানজিদা আর মিম গল্প করতে করতে বের হচ্ছে । আর সিয়াম তাদের পিছনে হাটছে ।
-আজকে ভালো লাগলো ভার্সিটির প্রথম দিনটা তাই না । (মিম)
-হুমম তবে খারাপও লাগছে । (সানজিদা)
-কেনো । (মিম)
-দেখলি না ওই ছেলেটা সারাক্ষন আমার দিকে কেমন হা করে তাকিয়ে ছিলো । (সানজিদা)
-সেটা কোনো বেপার না চল । (মিম)
-ভার্সিটি তে থাকতে তাকিয়ে ছিলো‌ ঠিক আছে এখন দেখ আবার পিছনেও আসছে । (সানজিদা)
-কই ।
-পিছনে তাকিয়ে দেখ এখন যদি পিছনে আসতে আসতে বাসাটা চিনে নেয় তাহলে তো সারাক্ষন বাসার সামনে এসে জ্বালাবে । (সানজিদা)
-একটা কাজ কর । (মিম)
– কি
-আমরা বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকবো আর এমন ভাব করবো যে এমনি হাঁটছি যখন সুযোগ পাবো কেটে পরবো তাহলে ঠিকও পাবে না বাসা কোথায় । (মিম)
-বাহ্ তোর মাথায় এতো বুদ্ধি এলো কোথা থেকে । (সানজিদা)
-হি হি হি চল । (মিম)
ওরা দুজনে হাটছে আর সিয়াম পিছনে পিছনে হাটছে । এমন সময় হারামী গুলা এসে হাজির ।

-কিরে সিয়াম সিনেমা তো দেখতে গেলি না সেই‌ একটা ছবি হচ্ছিলো (সোহাগ)
-সর চলে গেলো (সিয়াম)
-কি চলে গেলো (সোহাগ)
-সকালের ওই মেয়েটা(সিয়াম)
-কি এখনও সেই মেয়েটাকে নিয়েই পড়ে আছিস (রাফি)

ওদের কে কথা বলতে দেখে সানজিদা ও মিম বাসার ভিতরে ঢুকে গেলো ।

– যা কোথায় গেলো ধুর তোদের জন্য ওর বাসা কোনটা সেটাও দেখতে পেলাম না । (সিয়াম)
-কি বাদ দে না চল বাসায় যায় । (আশিক)
-হুমম যাবো ।তবে তার আগে একটা কাজ করতে হবে । (সিয়াম)
-কি কাজ । (আশিক)
-ওই যে মকলেজ স্যার আছে না ওরে একটু শিক্ষা দেওয়া লাগবে । (সিয়াম)
-তোকে আবার কি করছে । (আশিক)
-আরে আজকের এই মেয়েটার সামনে আমাকে অপমান করছে । (সিয়াম)
-বলিস কি তাহলে এখন কি করবি । (রাফি)
-আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আছে । (সিয়াম)
-কি বুদ্ধি । (রাফি)
-ওই যে কয়েকদিন আগে ভার্সিটিতে একটা অনুষ্ঠান হলো সেখানে মকলেজ স্যারের সাথে একটা মেয়ে দাড়িয়ে ছিলো মনে আছে । (সিয়াম)
-হুমম আছে তাছাড়া আমার কাছে তো ছবিও আছে তুলছিলাম । (রাফি)
-এই তো হয়ে গেলো । (সিয়াম)
-মানে । (রাফি)
-এই আশিক তুই তো ভালো এডিট করতে পারিস তোকে এই ছবিটা কি করতে হবে বুঝতে পারছিস তো । (সিয়াম)
-হুমম আর বলতে হবে না । (আশিক)
আশিক মোবাইলটা নিয়ে এডিট করে ভার্সিটির দিকে যাচ্ছে কারণ স্যার সবার পরে বের হয় ভার্সিটি থেকে ।
-ওই তো স্যার আসছে । (আশিক)
-হুমম মোবাইলটা দে । (সিয়াম)
-স্যার আসসালামু আলাইকুম (সিয়াম)
-আরে সিয়াম তুমি এখানে বাসায় যাওনি কেনো । (স্যার)
-এই তো এখনি যাবো কিন্তু আপনাকে একটা কথা বলার ছিলো‌। (সিয়াম)
-কি কথা । (স্যার)
-আপনি ওই মেয়েটাকে আমার থেকে সাবধানে থাকতে বললে কেনো । (সিয়াম)
-কারণ তুমি যেই মাপের বেয়াদপ তাতে ওই মেয়েটার জীবন তুমি নষ্টও করে দিতে পারো নিজের প্রেমে ফাঁদে ফেলে । (স্যার)
– ঠিক আছে স্যার তবে আপনার জন্য একটা উপহার আছে । (সিয়াম)
–কি
সিয়াম নিজের মোবাইলটা বের করে দেখালো । স্যার তো দেখার সাথে অজ্ঞান হবার অবস্থা ।
-এটা কি (স্যার)
-এটাই তো উপহার এর পর থেকে আর ওই মেয়ের সামনে আমাকে উল্টা পাল্টা কিছু বলবেন না নাহলে এইতো ছবিটা দেখতে পারছেন কোথায় কোথায় ভাইরাল হবে বুঝতেও পারবেন না । (সিয়াম)
কথা গুলো বলে সবাই হাঁসতে হাঁসতে চলে গেলো ।

চলবে ….