টর্চার Part-11

0
1990

#টর্চার
#Apis_Indica(suraiya_sattar)
#part-11
.
-ঘোমটা তুলার সাথে সাথে নুহা, আমু আর তার সাথে অনেকেই নাচতে দেখা গেল।।আয়মান, আর এহসান তাদের দেখে শকড।।
-এহসান নুহাকে দেখে প্রথমতো খুশি হলেও, যখন তার চোখ যায় আমুর দিক, তখনি মুহুর্থেই তার চেহারার রং পাল্টে যায়।। একদম চুপসে যায় সে,,,
– হায়েরে কপাল,,, কথায় বলে না যেখানে বাঘের ভয় সেখানে রাত হয়।। আজ তুমার সেই অবস্থা। যার জন্য দেশ ছাড়লা আবার তার কাছেই এসে পাড়লা।।(এহসান)

-আয়মান এখনো আমুর দিকে তাকিয়ে তার চাহনীও স্থির। সে এখন ড্যাবড্যাব করে আমুর দিকে তাকিয়ে আছে। আমুকে যেন তার কাছে এন্জেল মনে হচ্ছে। হঠাৎ করেই কোথা থেকে শীতল হওয়া বইতে লাগলো।। সাথে আয়মানের মনেও দোলা দিতে লাগলো।। হঠাৎ অজানা অনুভূতি এক ঝাক কালো মেঘের মতো করে তার শরীরে দোলা দিতে লাগলো।। আয়মান এখন ভাবছে এ অনুভূতির মানে টা কি শুধু কি ভালবাসা না ভালো লাগা।।
-আমি সত্যি আমুকে ভালবেসে ফেলাম না তো।।।
আজ আমুকে এখানে দেখেতো আমার রাগ করার কথা।। কিন্তু আমি রাগের আরও করতে পারছিনা।। আমার তো আমু দেখতেই মন চাইছে।।
হয়তো সত্যি এবার তোমার প্রেমে পরে গেলাম।। পরতে মানা কিসের সব কিছুরিতো টেষ্ট করা উচিত।।{মুচকি হাসি দিয়ে মনে মরে ভাবলো} (আয়মান)

-আয়মানের এ ভাবান্তর চেহারা দেখে এহসানো ভাবেছে বেপার কি ভাই এত শান্ত চাহনী।। তাহলে কি ভাই আমুকে দেখে শকড কাটেনি হয়তো।। এহসান আয়মানের ঘারে হাত দিলো আয়মান তাও কোনো রিয়েকসেন দেখতে পেল না।। সে তার ভাইয়ের সাথে দাড়ি তাদের ডেন্স দেখায় ব্যস্ত।। নুহা নাচছে আর এহসান তা মুগ্ধ হয়ে দেখছে।।(এহসান)

-আর এএদিকে নুহা আর আমু মনের সুখে নেচেই চলছে।। যেহেতু চারিপাশে অন্ধকার থাকায় কাউকে তেমন দেখা যাচ্ছে না।।

-হঠাৎ গান শেষ হয়ে গেল।। আর চারিদিক আলো জলে উঠে।। আমু তার সামনের দিক তাকিয়ে ভয়ে শেষ,, হাত পা কাপতেসে তার,,,
সে পিছাতে লাগলো আর হুট করে নুহার সাথে ধাক্কা খেলো।।(আমায়রা)

-ও আম্মা গো,,, এ কানি চোখে দেখিস না,, দিলিতো পাটা আমার ভেঙ্গে।। ওই ধাক্কা দিয়ে কি হইসে তোর এতো ঘামোস কেন?(নুহা)

-আমু হাত তুলে সামেনর দিক আঙ্গুল তুললো,,,
নুহাও তার আঙ্গুল বরাবর তাকালো,,, সামনে আয়মান কে দেখে নুহা বলে উঠে ওরে বাবা গো বলেই আমুকে নিয়ে স্টেজ থেকে দৌড় দিল,, আয়মান হঠাৎ তাদের তাদের দেখতে না পেয়ে খুজতে লাগলো,, এহসানের ফোনে ফোন আসায় এহসান কিছুটা দূরে গিয়ে ছিল কথা বলতে,, এসে না ভাইকে পেল না তার মো না লি সা কে এ দিক সেদিক সেও খুঁজতে লাগলো।।

-এদিকে নুহা আর আমু তারা খাবার টেবিলের নিচে লুকিয়ে,,, নুহা বার বার টেবিলের কাপড় উঠাচ্ছে আর নামাচ্ছে আর এ দিক ও দিক উকি দিচ্ছে,, এবার যদি আয়মান ধরতে পারে নির্ঘাত ঘাড় মটকাবে।। আর এদিকে আমু তো ভয়ে কান্না করছে একবার অধিকারের কথা বলেছে বলে তার হাতে খোদাই করে দিয়েছে সুইচ অনেক ইশারা করে বাট বেটা কানা দেখেই না।। হুট করে আয়মানকে দেখে কাপড়টা নামিয়ে ফেলে নুহা।। হঠাৎ আয়মান চলে আসায় ভয় পায়ে গেছে,, বুকে বার বার থুতু দিয়েই যাচ্ছে,,
-আল্লাহ গো,,, থু থু,,(নুহা)

-কাঁদতে কাদতে কি হইসে মনে হয় ভুত দেখসোস হুম,,,(আমায়রা)

-ভুতিতো ভুতের চেয়ে কম কই ওই বেটা,,,
তখনি আবার কাপড় তুলেই চিৎকার দিয়ে উঠলো নুহা
-ওহ আল্লাহ গো,,,,(নুহা)

-ইশশ! দিলেতো কানের বারটা বাজিয়ে,,, তা আমার সাথে হাইড এন্ড সিক খেলছো বুঝি বের হও,, আমুর সাথে কথা আছে বের হও,,,কি হলো বের হও?(আয়মান)

-যখন নুহা আয়মানকে দেখে কাপড় টা নামিয়ে দেয় তখন আয়মান তা দেখে ফেলে।। আর সে দ্রুত টেবিলের কাছে এসে বসে আর আমু আর নুহার কল কথা শুনে ফেলে,, নুহা যখন লাস্টবার কাপড় উঠায় তখন হুট করেই আয়মান কে দেখে ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে,, আশেপাশে যেহেতু গানবাজনা চলছে তাই সবার ধেন এক দিকেই।। নুহার চিৎকার শুনে সাথে সাথে ধমক দিয়ে বসে আয়মান আর বের দেয় টেবিলের নিচ থেকে নুহা বের হতেই আয়মান টেবিলের নিচে ডুকে যায়।। আর দু পা ভাজ করে আমুর সামনে বসে পরে,,
-বেচারা আমু ভয়ে কাচুমাচু হয়ে বসে গেসে,,, তার এখন এক চিন্তা সে তো পালিয়েছে না জামনি এখন কি করে,,,

??⚫(past)

-আমুকে টানতে টানতে রুমে নিয়ে ছুড়ে ফেলাম,, আর সে নিচে পড়ে গেছে,, তার সামনে এক হাটু ভাজ করে বসে তার গাল চেপে ধরলাম,,,
-কিরে সমস্যা কি হুম ওই ছেলে কিস করলো আর তুই করতে দিলি কেন?তার পর ছেলে কিস করার পর ওকে কিছু বলিস নি কেন হুম।তোর তো ওকে কসে থাপর দেয়ার দরকার ছিল।(আয়মান)

-আয়মানের হাতটা শরিয়ে দিয়ে,,, চিৎকার করে বলে উঠলো
-থাপর তাকে না আপনাকে দেয়া উচিৎ, আপনার জন্য আজ আমার এ অবস্থা। আপনি কাল যখন ওই রুমে টেনে নিয়ে গিয়ে কিস করে ছিলেন তখন ওই ছেলে গুলো পিক তুলেছিল।। যার ফল আজ সবার সামনে আমাকে ওই ছেলে, বলতে না পেরে ফুঁপিয়ে কাদতে লাগলো নিচের দিক তাকিয়ে(আমায়রা)

-আয়মানের এসব শুনে মাথায় রক্ত চেপে গেল,, সে বের হয়ে এলোপাথাড়ি ওই ছেলেটাকে মারতে লাগলো,,,এহসান তার ভাইকে থামাতে ব্যস্ত,, কারন সে যাকে মারছে সে কলেজের ছাএ নেতা।। + তার বাবার বিজনেস পার্টনারের ছেলে।।

– অনেক কষ্টে এহসান ছাড়ায় আয়মান।। আর ছেলে টাকে তার দলবল নিয়ে যায় হাসপাতালে।
আয়মান এখনো সেখানে স্থীর রাগে তার হাত পা চাবাচ্ছে।। হুট করে আয়মান আমুর হাত ধরে মাঠের মাঝ বরাবর নিয়ে এসে দাড়কড়ায়। আর আমুর হাত জোড়ে চেপে ধরে রাখে।। আমু হাতের বেথায় কুকরে যাচ্ছে আর ছাড়া বার ট্রাই করছে। কিন্তু আয়মানের সেদিক কোনো ধেন না দিয়ে সবার উদ্দেশ্য চিৎকার করে বলতে লাগে খবর দার যদি ওর দিক কেউ চোখ দেও।। তাহলে চোখ উপরে ফলবো,, কেউ ওর নামে কোনো খারাপ কথা বললে তার মুখ শিলি করে দেব।। মাইন্ড ইট,,, আঙ্গুল উচিয়ে বলে উঠলো।।

– ও আমার প্রোপার্টি।। ওকে আমি যা ইচ্ছে করবো মারবো কাটবো না চুমু খাবো তা আমার বিষয় নেক্সট টাইম এমন কিছু দেখলে, শুনলে মেরে লাশ ফেলে দেব।। আয়মানের কথা শেষ হতে না হতেই আয়মানের গালে তুলতুলা হাতের থাপর পরলো।। জানেনই তো নরম হাতের মার লাগে বেশি।। এই কাজটি আর কেউ না আমু করেছে তার সর্বশ শক্তি দিয়ে কশে চড় মেরে দিয়েছে।।
আয়মান অবাক হয়ে আমুর দিক তাকিয়ে আছে,,,যেন বাকশক্তি হাড়িয়ে গেছে।। সে ভাবতে পারে নি আমু এমন কিছু করবে।।

আমু আয়মানের শার্টের কলার ধরে চিৎকার করে বলে উঠে কে হন আপনি আমার হুম কে হন কোন অধিকারে আমার ওপর অধিকার দেখান হুম বলেন বলে কলার ছেড়ে জোড়ে ধাক্কা দেয়।। আমি মানুষ কারও প্রোপার্টি না আঙ্গুল তুলে,, আমি মানুষ আমার উপর শুধু আমার বাবা মার অধিকার আছে নোট ইউ ওকে।। কেমন ছেলে আপনি হুম আজ আপনার নিজের বোনের সাথে এমন হলে কি করতেন বলেনতো,, বলেন ওকেও এভাবে অপমানিতো হতে দিতেন বলেন কি হলো বলেন না কেন আরে আপনি কি বলবেন হুম,,,,
আয়মান চোখ বন্ধ করে রাগ কান্টোল করতে ট্রাই করছে।। আজ পর্যন্ত তার বাবা মা তার গায় একটা ফুলের টোকা দেয়নি সেখানে আমু তাকে এতো মানুষের সামনে থাপর দিয়েছে।। ওর জায়গায় অন্য কেউ হলে হাতটাই কেটে দিত।।।

আমু আবার বলতে লাগলো,,,
-আপনাদের মতো কাপুরুষরা এর থেকে কি পারে আপনি একটা জানোয়ার।। বলেই আমু নুহাকে নিয় বসায় চলে আসে।।

-ভাই চল,,,, পিছন থেকে এহসান পিঠে হাত রাখলো,, (এহসান)

-আয়মান চোখ খুলে এহসানের দিক তাকায়,, এহসান আয়মানের চোখ থেকে ২ কদম পিছিয়ে যায়।। আর আয়মান হনহন করে গাড়ির কাছে চলে যায়।। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে অজনা গন্তব্য চলে যেতে থাকে।। এটা এহসানের জানা বিষয়,, তার ভাই রাগ করলে দূরে কোথাও চলে যায়।। মন শান্ত হলে আবার ফিরে আসে।।

এহসান ও জোড়ে শ্বাস নিয়ে সেও বাসার দিক পা বাড়ায়।।


এভাবে কেটে যায় এক মাস আমুকে এখন আয়মান বিরক্ত করে না।। না তার সামনে আসে,, ১ মাসে ২ বার আমু আয়মানকে দেখে ছিল।। আয়মান আমুকে ইগনোর করে চলে গেছে।। তখন অবশ্য আমুর কিছুটা খারাপ লেগে ছিল।।
কিন্তু আমু যানে না যে আয়মান ঠিকি দূর থেকে তাকে নজরে রেখেছে।। তার আশে পাশে কাউকে গেসতে দেয়নি।।
-এই এক মাসে সব চেয়ে বেশী ভালো দিন কেটেছে এহসান আর নুহার।। তারা ভালোবাসা নামক অদৃশ্য বাঁধনে আবদ্ধ হয়ে গেছে।। প্রতিদিন খুনসুটি ঝগড়া ছাড়া দিন যেন তাদের চলে না।।

চলবে,,,