ঠোঁট ৩+৪

0
1023

#ঠোঁট

৩+৪

ঝর্নার শাড়িটা হাতে নিয়ে বুকের সাথে ঘেষে নিলাম। এখনও ভেসে আসছে তার ঘামের ঘ্রানটা। কিন্তু ঝর্না উঠে গেল কোথায়।

শাড়িটা হাতে নিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠলাম। বাথরুম ,রান্নাঘর , বারান্দা সব খুঁজলাম। কিন্তু কোথাও পেলামনা। দরজার কাছে এসে দেখি,দরজাটা খোলা। এই দরজা খোলা দেখে আমার মাথা ঘেমে উঠলো চরম ভাবে। এই অচেনা শহরের রাস্তায় ঝর্না হারিয়ে গেল নাতো।
পরক্ষনে কিছু ভাবলাম না। ঘরে গিয়ে হাত মুখ না ধুয়েই জামা পরে নিলাম।

তবে এতক্ষনেও আমার চোখ একটা জিনিস খেয়াল করেনি। আমাদের জামার ব্যাগটা পুরো খোলা। তার ভেতর থেকে সব কাপর হুলুস্তুল ভাবে বের করে রাখা বাহিরে।

আমি এসব দেখে যেন নিস্তেজ হয়ে পরছি। এসব কী হচ্ছে আমার চোখের সামনে।
খুব ভয় নিয়ে ব্যাগের কাছে গেলাম। ব্যাগের কাছে গিয়ে দেখি,গহনার বাক্স গুলো আর সেই লাল শাড়িটা নেই।

এবার আমার মাথা ঘুরে উঠে। দম আটকিয়ে যায় ভেতর থেকে। যেন পুরো পৃথিবীটা উল্টিয়ে যাচ্ছে আমার সামনে থেকে।

আমি মাথায় হাত দিয়ে বসে পরি ব্যাগের পাশে। কিছুই ভাবতে পারছিলাম না।

ঠিক এমন সময় একটা শব্দ কানে ভেসে আসতে শুরু করে।
সম্ভবত নুপূরের শব্দ। আমি মাথা তুলে তাকায় দরজার দিকে।

এবার যেন আরো গভীর ভাবে ধাক্কা খায়।

ঝর্না সেজে এসেছে । সেই লাল শাড়ি। সেই গহনা। আর পায়ে নুপূর।

কিন্তু ব্যপারটা মেনে নিতে পারছিনা। এতক্ষন কী হলো আমার সাথে।

ঝর্না ধীর পায়ে এসে আমার সামনে দাড়ায়। তারপর মিস্টি কন্ঠে জিজ্ঞেস করে।
দেখেনতো ইমতি,কেমন লাগছে আমাকে।

কিন্তু আমি শুধু তাকিয়ে আছি তার দিকে। মুখ থেকে যেন কথা বের করতে পারছিনা।

কিছু বলতে না পেরে উঠে পরলাম। জামা কাপর খুলে এগিয়ে যাচ্ছিলাম ফ্রেশ হতে।
কিন্তু পেছন থেকে ঝর্না হাত টেনে ধরে।

এই ,কোথায় যাচ্ছেন হ্যা। দেখছেন না। সকালে আপনার জন্য কত সুন্দর করে সেজেছি।

আমি যেন এবারও কথা টেনে আনতে পারছিনা ভেতর থেকে। আসলে খুব বড় ধাক্কা খেয়ে ফেলেছি।

শুধু এটাই বললাম। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।

কিন্তু ঝর্না বলে উঠলো। আগে চুমু খেয়ে আমার ঠোঁট টা রসে জবজবে করে ভিজিয়ে দেন।

উহু ,নাহ। ব্রাশ করিনি। ব্রাশটা করে আসি।

এই,তুই দিবি। নাকি আমি ভিজাবো হ্যা। কোনটা।

আমি ভেতর থেকে মনে হচ্ছে অনুভূতিটাই হারিয়ে ফেলেছি এই মুহূর্তে। কোনো টান আসছেনা।
কিন্তু তখন আমি অপ্রস্তুত ছিলাম।
হঠাৎ ঝর্না আমকে ধাক্কা মেরে বিছানায় ফেলে দেয়।

কোনো ভাবেই তাল সামলিয়ে উঠতে পারিনি।
শুধু বুঝতে পারছি,ঝর্না তার খসখসে শাড়িটা পরে আমার উপরে চাপ দিয়ে উঠছে।

খুব শক্ত করে আমার দুই গাল চেপে ধরে তার হাল্কা ভেজা নরম ঠোঁটটা ডুবিয়ে দেয় আমার ঠোঁটের ভেতর। যেন তার ভেতর থেকে গলে পরছে উষ্ণ রস।

আমিও সপে দিই তার ভেতর। কিন্তু ভেতরের টানটা তবুও জেগে উঠেনা।

কিন্তু যখন দেখি তার হাত দিয়ে আমার হাতটা টেনে তার নিতম্ভের উপরে রাখে। তল পেটটা তখন কিচ করে উঠে। মনে হলো অজানা কোনো আতঙ্ক চেপে বসছে।

চলবে*

Written by-ibna imtiaj ( Abdullah bin imtiaj)

#ঠোঁট

চার,
তবুও যেন ভিজে উঠছে তার ঠোঁট আমার ঠোঁটের সাথে। এবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে তার ঠোঁট টা টেনে নিজের ভিতর নিলাম। আস্তে আস্তে হাত দিতে থাকলাম তার পিঠ থেকে নিচের দিকে। চরম ভাবে উত্তেজিত হতে হতে নিচের দিকটা কেমন যেন ভুলেই গেছিলাম।

এবার মনে হতে থাকলো নিজের অস্তিত্ব যা আস্তে আস্তে ফিরে পাচ্ছি। নিজেকে তলিয়ে নিয়েছি ঝরনার উষ্ণ ভালোবাসায়।

এবার তাকে নিয়ে নিই আমার ভালবাসার উষ্ণতার আয়ত্তে। আরো গভীরে নিতে চাই। কিন্তু একটা বাধা সামনে এসে যায় আমার। আমি ভাবতে থাকি সকালে আমার সাথে একি হলো।যার কারনে ভিতরটাকে আমি আবার সেই তাপ প্রয়োগ করতে পার। মুহূর্তে যেন বাঁকিয়ে বসে আমার উষ্ণতা।

আমি ঠোঁট ছেড়ে দিয়েছি ঝরনা কে বলি।

সকালে আমার সাথে কি হয়েছে জানেন?

প্রশ্ন করার সাথে সাথে,
ঝরনা আমার দিকে রাগের চোখে তাকায়।
গা ঝাড়া দিয়ে বলে আমি এখন এসব শুনতে চাচ্ছি না। ঠোঁটটা সুন্দর করে ভিজিয়ে দেন তারপর সব শুনবো।

আমি তখন তার নগ্ন পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে বলি।
ঝরনা আমি ভেতর থেকে কোন অনুভূতি পারছি না।

এ কথা শোনার পর থেকে যেন ঝরনার চোখ গুলো বিশাল বড় বড় হয়ে যায়। ঠিক কতটা বড় তা বোঝানো সম্ভব নয়।

ঝরনা তখন আমার দুই গালে দুই হাত দিয়ে অনেক গভীর ভাবে প্রশ্ন করে। ইমতি, কি হয়েছে আপনার। আমি তখন থেকে খেয়াল করছি আপনার কাছ থেকে আমি কোন উষ্ণতায় ডুবে যেতে পারছিনা।

কথা শোনার পরে ভাবলাম। তাকে কি সকালে ঘটনার খুলে বলবো। না কি বলবো না। যদি বলি তাহলে সে হয়তো অন্য দিকে মন ঘুরিয়ে ফেলবে। যেটা আমি এখন চাইছি না।আমি চাই সে তার গভীর ভালোবাসা ও গভীর চাওয়া নিয়ে আমার কাছে থাকুক।

তবুও মন মানল না। নিজের অজান্তেই বেরিয়ে আসলো সকালে ঘটনাটা।
তবে সকালে ঘটনা শোনার পর। ঝরনা মুখের অবস্থাটা ঠিক কেমন ছিল সেটাও বোঝানো সম্ভব নয়।ও ভাবতে পারেনি আমাকে খুশি করতে গিয়ে সে আমাকে উল্টো বিপদে ফেলে নিজের ভেতরটা ঘাবড়িয়ে তুলবে।

ঝরনা তখন খুব শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাফ চায় আমার কাছে। আমি অবাক হয়ে যাই। আমি মানা করি যে, না আমি আপনাকে কাছে পাওয়ার পরে এখন ঠিক আছি। আমাকে ভয় ধরিয়ে দিয়েন না। আপনি ছাড়া কেউ নেই আমার। আপনি ছাড়া আমি নিঃস্ব। আমাকে ভালবাসার মত দ্বিতীয় আর কোনো মানুষ নেই। আমার যা কিছু এবং সবকিছুই আপনার জন্য। কথাগুলো বলার পরে তার গালে ছোট্ট করে চুমু দিই।

তখন তাকে হাসির ছলে বলি। কি সুন্দর এসে আমার ঠোট টা তো খেয়ে ফেললে। আমি ফ্রেশ হয়ে আসি তারপর তোমাকে বুঝাবো ঠেলা।

ঝরনা তখন নাভির নিচে চিমটি কেটে বলে।
এহহ, কি ঠেলা বুঝাবে শুনি?

আমি এবার চোখ টিপে হাসি দিই।

নিতম্বের উপর আস্তে করে চাপ দিয়ে বলি।
সেটা না হয় এসেই দেখাবো। কিন্তু আমাকে ভালোবাসতে গিয়ে এমন কোন কাজ করিয়েন না। যা আমাকে খুব বিভ্রান্তি কর অবস্থায় ফেলে। আমি আপনার হাত ধরেছি সারাজীবন সুখে রাখার জন্য আপনাকে। আর আমার জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

এই কথাটা বলার পরে ঝরনা দিকে একবার তাকালাম। তখন খেয়াল করলাম। তার চোখ দুটো চিকচিক করছে। আমি তখন তার ঠোটে চুমু দিয়ে বলি।

ভালোবাসি।

বাথরুমে আসার পর সেই কখন থেকে ব্রাশ খুঁজছি। কিন্তু একটা বেশি দুটো বাঁশ খেয়াল করতে পারছি না। বাথরুম থেকে ঝর্ণাকে বললাম। কালকে ব্রাশ কি দুটো বের করেননি। আরেকটা কোথায়।

ঝরনা কেমন চিল্লিয়ে বলে।
আমাদের না একটা ব্রাশ ব্যবহার করার কথা ছিল। সকালেই সকালে ভুলে গেছেন।

আমি তখন সামনে আয়নার দিকে তাকিয়ে হা করে আছি। গতকাল রাতে না বলল এহ একটা ব্রাশ দুজনে ব্যবহার করে। ভেবেছিলাম ও হয়তো রাজি না বা মানতে পারবে না। কিন্তু এ দেখি আমার চেয়ে উপরে।
তখন ভাবলাম। না এ জীবনে এক অসাধারণ সঙ্গিনী পেয়েছি। যা শুকরিয়া আদায় করে ও ফুরাবে না। বড্ড ভালোবাসার একটি মেয়ে। যার সঙ্গী হিসেবে খোদা আমাকে নির্বাচন করেছে। খুব ভাগ্যবতী আমি। আচ্ছা ভাগ্যবতী মেয়েকে বলে তাহলে আমার ক্ষেত্রে কি ব্যবহার করা হবে। ভাগ্য বতা নিশ্চয়?

বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি। ঝরনা তখনও বউ সেজে আমার জন্য খাটের উপর অপেক্ষা করছিল। আমাকে দেখার পরে দুষ্টুমি হাসি দিয়ে বলে। এবার দেখি আপনার সেই ঠেলাটা।
তার কথা শুনে আমি হাসিতে লুটিয়ে পরি।

তবে এখন মনে হচ্ছে ভেতরটা আস্তে আস্তে উষ্ণতার তাপমাত্রা বাড়ছে।

চলবে*

Written by- Ibna Imtiaj (Abdullah bin imtiaj)