তবুও_তুমি ১০ম পর্ব

0
841

তবুও_তুমি
১০ম পর্ব

” এমন করার কোন মানেই হয় না রাসেল ভাই। বারবার কেন এমন করেন আপনি যদি পারেন তো একবারে নিজের করে নিয়েন” এই বলেই স্বজোরে ধাক্কা দিয়ে স্টোর রুম থেকে বের হয়ে চলে আসলাম। রাসেল ভাই আমার থেকে হয়ত এমন ফিডব্যাক কখনোই আশা করে নি। পেছনে তাকালে হয়ত দেখতাম হতভম্ব চোখে তাকিয়ে আছে লোকটা আমার দিকে। সে যাই হোক করুক আমার কি তাতে।খালার কাছে যেয়ে বললাম ” খালা শরীর খারাপ লাগছে আমার বাসায় যাবো”। ” হঠাৎ কি হল তোর, আমি আসি তোর সাথে? ” খুব চিন্তার সাথে খালা বলল।” না ঠিক আছে আমিই চলে যেতে পারব সমস্যা নেই” এই বলে মিলির কাছ থেকে পার্সটা নিয়েই বেরিয়ে গেলাম। মাথায় জানি না কোন ভূত চাপল ভাবলাম হেঁটে হেঁটেই বাড়ি যাব। কতক্ষন হেঁটেছিলাম জানি না মাঝ পথেই নামলো ঝুম বৃষ্টি। ভালই হল চোখের পানিগুলো তো আর কেউ দেখতে পাবে না। হাঁটতে হাঁটতে খুব বেশি আম্মুর কথা মনে পড়ছিল আম্মু থাকলে হয়ত এমন হতো না আর আজকে। হয়ত মনের আনাচে-কানাচেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সব কথা বলাতাম আম্মুকে। আজকে যেন চোখের পানি বাঁধ ভেঙ্গেছে। সারা পথ বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় এসে লক খুলে যখন ঢুকলাম প্রায় তিনটার উপরে বাজে। কোন রকমে পার্সটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে শাওয়ার নিতে ঢুকলাম। কতক্ষন ঝরণার নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম জানি না যখন শীত লাগা শুরু হল বুঝলাম জ্বর আসবে হয়ত। ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে চুল মুছতে মুছতে বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম। এখনও অঝোরে বৃষ্টি পড়ে যাচ্ছে। কপালে হাত ছুঁইয়ে দেখলাম মাথাটা যেন আগুন হয়ে যাচ্ছে। খালার রুমে যেয়ে মেডিসিন বক্স থেকে একটা নাপা ট্যাবলেট নিয়ে পানি গিয়ে গিলে ফেললাম। কেন জানি না বারবার কান্না দলা পাকিয়ে আসছিল গলার কাছে। এ হয়ত কাউকে নিজের অভিমান টুকু কাউকে না বোঝাতে পারার এই কান্না আমার। বারান্দায় কতক্ষন দাঁড়িয়ে ছিলাম বলতে পারব না ঘোর ভাঙ্গল ডোরবেলের শব্দে। দরজা খুলেই দেখি ভাইয়া ভাবি ছোট খালমনি খালু এরা সহ মোটামুটি দশবারো জনের গ্রুপ ব্যাক করেছে সবার মুখ মোটামুটি থমথমে একটা অবস্থা।সারাজীবন শুনে এসেছি মেয়ে পক্ষ মেয়ে বিদায় দিয়ে কান্না মার্কা অবস্থায় বাড়ি ফেরে। আর এরা দেখি ছেলে বিদায় দিয়ে কান্না করতে করতে এসেছে। দরজা খুলে দিয়ে আমি রুমে গেলাম। এত দিন পরে মনে হচ্ছে হ্যাঁ এটা আমার রুম। পাতলা একটা কাঁথা গলা পর্যন্ত টেনে দিয়ে চোখ বন্ধ করতেই মনে হল আমি যেন ঘুমের দেশে হারিয়ে গেলাম। আসলে গত তিনদিনে সব মিলিয়ে মনে হয় ছয় ঘন্টাও ঘুমাই নি। শরীর আর এই অনিদ্রার ধকল কুলিয়ে উঠতে পারছিল না। তাই হয়ত এই অবেলায় নিদ্রা দেবী এসে ভর করেছিল আমার চোখে।

ঘুমের মধ্যেই মনে হয় আমার আশেপাশে প্রচুর শব্দ। আমি যেন রাস্তার মাঝে শুয়ে শুয়ে ঘুমাচ্ছি। কিন্তু আমি তো বিছানায় ঘুমাচ্ছিলাম রাস্তায় আসলাম কি করে। এসব ভাবতে ভাবতে চোখ খুলে দেখলাম আমাদের বেডরুমে তিল ধারন করার জায়গা পর্যন্ত নেই।এত মানুষ এখানে কেন। স্বপ্ন ভেবে চোখ বন্ধ করে আবার খুললাম, না এতো স্বপ্ন না সত্যিই সবাই আমাদের বেডরুমে। কিন্তু ঘটনা কি। আমাকে ঘুম থেকে উঠে বসতে দেখেই সবাই একসাথে কথা বলে উঠলো। আর আমার কান পর্যন্ত যেন কথায়ই পৌঁছাচ্ছে না। হঠাৎই শুনলাম বড় আপু বলতেছে ” সবাই থামো তোমরা নিপা ঘুম থেকে উঠে কিছুই শোনে না কিছুই বোঝে না “। বড় আপুর কথা যেন টনিকের মত কাজ করল। সবাই একদম চুপ হয়ে গেল। ভাল করে খেয়াল করে দেখলাম রুমে কোন ছেলে নাই সব মেয়েরা। এখানে কি গার্লস পার্টি দেবে নাকি। উফফ কিচ্ছু ধরছে না মাথায়। একটু ধাতস্থ হয়ে সবার দিকে তাকিয়ে বললাম ” কি ব্যাপার কি হয়েছেটা কি? “। বড় খালাম্মা গলা খাঁকি দিয়ে কথা বলার জন্য প্রস্তুতি নিল। উনার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল যেন ৭ই মার্চের ভাষণ দিতে রেসকোর্স ময়দানে যাবেন। বড় খালাম্মার দেরি দেখে মানহা আপু অধৈর্য হয়ে বলেই ফেলল ” খালাম্মা একটু তো রহম করেন আমাদের উপরে। এতক্ষন বলেছেন নিপা উঠুক। নিপা তো উঠেছে এবার বলেন “। বড় খালাম্মা বিশাল এক ধমক দিয়ে বললেন ” দেখ মানহা তোর যদি গাড়ি ছুটে যাওয়ার ভয় থাকে তাহলে তুই যা। আমি আস্তে ধীরেই বলব”। ছোট খালামনি চোখ গরম করে মানহা আপুকে আর কিছু বলতে নিষেধ করল। কিন্তু এত আয়োজন কিসের। পরিস্থিতি যা বুঝতেছি মামলা ভয়াবহ। ভয়ে ভয়ে জিমি মিলির দিকে তাকালাম। দুটোই মাথা নেড়ে জানিয়ে দিল কিছুই জানে না এ ব্যাপারে। বড় আপুর দিকেও তাকিয়ে বুঝলাম ফলাফল শূন্য। বড় খালাম্মা বড় করে একটা নিশ্বাস টেনে ভিতরে নিলেন।” শোন তোরা মেয়ে হয়ে জন্মানো মানেই অন্যের ঘরে যেতে হবে এটাই নিয়ম। ফারাক হল এই যে কেউ যায় দুই দিন আগদ কেউ যায় দুইদিন পরে। কিন্তু যেতে তো হয়ই” বড় খালাম্মার কথা আগা মাথা কেউই বুঝলাম না।খালারা ভাবিরা সব চুপ করে আছে তারমানে ঘটনা গুরুতর। ” মানতাশা, মানহা আর নিপা তোদের বলছি তোদের কোন ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে? যার মানে তোদের ভাষায় রিলেশন আছে? ” বড় খালাম্মার কথা শুনে যেন আমরা আকাশ থেকে পড়লাম। মহিলা বলতেছেটা কি? ” খালাম্মা আমি আর জিমি কিন্তু বাদ আছি। আমাদের এই প্রশ্নটা করলেন না? ” মিলি খুব আগ্রহ নিয়ে প্রশ্নটা করল
।” ঠাটিয়ে এক চড় মারবো চুপ করে দাঁড়িয়ে থাক না হলে রুম থেকে কান ধরে বের করে দেবো ” ছোট খালামনি হাইছা এক ধমকে মিলিকে থামিয়ে দিলেন। আমরা সবাই তাক ধরে বড় খালাম্মার দিকে চেয়ে আছি উওর কি দেবো। সবার আগে আমি বললাম ” আমার কোন পছন্দ নেই “। তারপর মানহা আপু আর বড়আপুও সেইম উওর দিল। কিন্তু আমার জানামতে বফ আপু একজনকে কঠিন আকারে ভালবাসে। বড় খালাম্মা বলে উঠলেন ” ঠিক আছে তাহলে তো আমাদের পছন্দের উপরে তোমাদের আস্থা আছে নাকি? গত চার পাঁচদিনে জয়ের বিয়ে নিয়ে আমরা খুব ব্যস্ততার মধ্যে ছিলাম। কিন্তু আজকে একটু আগে কিছু খুশির খবর পাওয়া গেছে তাই আমরা খুব খুশি সবাই”। সবাই হা করে চেয়ে আছি বড় খালাম্মার দিকে হচ্ছেটা কি এসব। নিপা, মানতাশা আর মানহা তোমাদের তিনজনের একসাথে কলমা করে রাখবো বলে আমরা ঠিক করেছি। ছেলে পক্ষরা বেশ কিছু দিন পরে তোমাদের তুলে নেবে তাদের বাড়িতে। যেহেতু ভাল সন্মন্ধ সব সময় আসে না তাই এই ডিসিশন নেওয়া।

বড় খালাম্মার কথা শুনে আমার মনে হচ্ছিল এটম বোমা যদি আমার মাথায় পড়তো তাও এত চমকে যেতাম না।বড় আপু যে পাথর হয়ে গেছে। মানহা আপু বিড়বিড় করছে আর মাথা নাড়াচ্ছে। মিলি জিমিও যেন হাসতে ভুলে গেছে। ” একসাথেই তিনবোনের কলমা কাবিন কেমন জানো দেখায় না খালাম্মা ” বড় ভাবি প্রশ্ন করলেন। বড় খালাম্মা আমাদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন ” তোদের কারো কোন আপত্তি থাকলে বলতে পারিস “। বলে কি মহিলা কথা না বার্তা নাই ওঠ ছেমড়ি তোর বিয়া এ কি হয় নাকি কখনো? কিন্তু এসব শুধুই মনে মনেই বললাম। বড় আপু আস্তে করে বলল ” হঠাৎ করে এসব কি? আমাদের পড়াশোনা তো আছে “। ” তোমাদের চেয়ে তোমাদের চিন্তা আমাদের বেশি তাই অযথা তর্ক করো না। পড়াশোনায় যাতে ক্ষতি না হয় তাই তোমাদেরকে এখনই তুলে দেওয়া হচ্ছে না”। এই বলেই বড় খালাম্মা উঠে গেলেন অন্যান্যরা তাদের পিছনে গেল। রুমে শুধু থাকলাম আমরা পাঁচ বোন।
মানুষ মরে গেলে যেমন আপনজন দের কষ্ট লাগে তেমনি আমারও প্রচন্ড খারাপ লাগছে। কেন যে খারাপ লাগছে এতটা জানি না। বড় আপু উঠে দরজা লক করতেই সবাই একসাথে কথা বলে উঠলো। ” আচ্ছা এটা কি মগের মুল্লুক নাকি যে যা মন চায় আমাদের সাথে করবে ” রাগের ঠেলায় মানহা আপু বলল। ” তোদের দুই জনের তো সমস্যা নেই আমি ফয়সালকে কি বলে জবাব দেবো। ওকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করা পসিবল না আমার ” বড় আপু কাঁদোকাঁদো স্বরে বলল। আসলে কে কি বলবে কি না বলবে সেটাই এখনও বুঝে উঠতে পারছে না। এটা কি কখনও হয় নাকি যে তিন বোনের একসাথে বিয়ে। ” বুঝলিরে মিলি আল্লাহ বাঁচাইছে তোরে আর আমারে লেট পয়দা হয়ে ” এই বলে জিমি মিলির দিকে তাকালো। ” ঠিকই বলছিস রে, এদের বয়সী হলে একসাথেই পাঁচ জনেরই বিয়ে করায়ে দিত ” মিলি একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বলল। আমার মনে চাচ্ছিল আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করি। মন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল যেন। এক নিমেষেই এই ক্ষনিকের ভালবাসাটুকু যেন আমার কাছে অনেক কিছুই মনে হচ্ছিল। তাই হয়ত ওই মানুষটাকে বার বার প্রশ্রয় দিয়ে গেছি তার সব কাজে। আর তার কাছে আমার কোন মূল্যই নেই। অহেতুক রাগ আমি কেন বারবার দেখবো। ভালই হয়েছে বিয়ে করে রাসেল ভাইয়ের সামনে থেকে ঢ্যাং ঢ্যাং করে ঘুরে বেড়াবো। তখন যেমন কুকুর তেমন মুগুর হব্দ।

পরের কয়েকদিন কি করে যে কেটে গেলে নিজেও টের পেলাম না। এত পরিমান রাগ হয়েছিল যে একবারের জন্য জানার আগ্রহ করি নি কার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করা হল এত তুরুত জলদি। বড় আপু নানান প্লান করেই যাচ্ছে। একবার বলে পালিয়ে যাবে অন্যবার বলে সুইসাইড করবে। বেচারী শেষ পর্যন্ত কিছুই করেনি। এদিকে জয় ভাইয়া পরীভাবিও চলে এসেছে। আগে হল ভাইয়ার বিয়ে এর পর তিন তিনটা বোনের বিয়ে একত্রে। আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে যেন সে এক অন্য রকম হুল্লোড় পড়ে গেছে। খালারা সিদ্ধান্ত নিল গায়ে হলুদ করা হবে না। এতে অনেক ঝামেলা।এখন তো শুধু কলমা কাবিন যখন একবারে তুলে নেবে তখন বড়সড় অনুষ্ঠান হবে। একসপ্তাহে বাসা যেন মানুষখানা থেকে চিড়িয়াখানায় রুপান্তরিত হল। কিন্তু বউভাতের পর থেকে রাসেল ভাইকে আর দেখি নাই আমাদের বাসায়। সে কি জানে যে আমার বিয়ে। জানবে না কেন অবশ্যই জানে কিন্তু ওই,যে পিচাশ মার্কা স্বভাব মরলেও যাবে না। ভালই হইছে আসে না। মাঝখানে একদিন বড় খালাম্ম সবার সামনে ছোট খালুকে দিয়ে কান ধরে ওঠবস করাইছিলেন। আমার কেন জানি না খুব খারাপ লেগেছিল খালুর মুখটুকু দেখে। মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হয় তা আমার খালাদের দেখে বুঝা যায়। শুক্রবার পর্যন্ত দিন গুলো যে কি করে কেটেছিল আমি নিজেও জানি না। শুনলাম শুক্রবার বিয়ে তাও বাসায় না মসজিদে। আমাদের ওলীমা দেবে ছোট খালু আর মেঝ খালু।ছেলেরা কেউই আসবে না।
সকাল থেকে বারবার মনে চাচ্ছিল একটু কল দেই রাসেল ভাইকে। তাকে বলি আমি যে আজ অন্যকারো হয়ে যাচ্ছি। কাকে দেখাবেন এত রাগ তখন। কিন্তু ওই যে বললাম জিদ কাজ করছিল অনেক। সারাদিন সবাই হৈহৈঝৈঝৈ করে কাটালো। বড় আপু কেঁদে চোখ ফুলালো ফয়সালের জন্য। আমি মুখ অন্ধকার করলাম কার জন্য তাও জানি না। কিন্তু মানহা আপুও বিশাল খুশি। বাদ জুম্মা তিন বোনেরই ওলীমা হয়ে গেল। বাসায় সবাই এসে মিষ্টি মুখ করল একে অন্যের। মিলির কাছে শুনলাম বড় আপুর বিয়ে হয়েছে সাদের সাথে। মনে মনে এত হাসি আসল যা বলার মত না। রাসেল ভাইয়ের কথা অনুসারে বড় আপুকে এখন সবাই পাদের বউ বলবে! সাদ চলে যাবে ইতালি তাই এত হুড়ঝুড় করে বিয়ে করানো। মানহা আপুর বিয়ে হয়েছে পরী ভাবির আপন ভাইয়ের সাথে। বাহ ভালই তো আত্মীয়তার মধ্যে আত্মীয় আমার খালাদের চয়েস আছে বলে মানতেই হবে। কিন্তু কথা হল আমার বিয়েটা হল কার সাথে। নিজের কাছেই আজব লাগতেছে আমার বিয়ে হল আমিই জানি না যে কার বউ হলাম আমি। এ যেন বাংলা সিনেমাকেও হার মানায় আমার জীবনের কাহিনী। আচ্ছা যার সাথে বিয়ে হইছে তার হাত পা ঠিক আছে তো। ল্যাংড়া কানা না তো। কি যে এক চিন্তায় আছি। বাহ একজনের ঘরের বউ হয়ে গেছি তাকেই আমি চিনি না অন্তত রাস্তায় হাঁটার সময় তাকে চেনার জন্য তো আমার স্বামীকে আমার চিনতে হবে। মিলিকে খুব আশা করে জিজ্ঞেস করলাম ” আচ্ছা সবারটাই তো বললি আর বাকি থাকে একজন। ওই একজন কে “। মিলি বিমল এক হাসি দিয়ে বলল,” নিপাপু আমার দুলারে চিনতে চায়। সেটা সারপ্রাইজ তোমার জন্য আপু”। আমার বিয়ে ধুম করে বলা নেই কওয়া নেই একসপ্তাহের মধ্যে দিয়ে দিল এর চেয়ে বেশি কি সারপ্রাইজ লাগবে আর। বাইরে বের হলাম বরের পরিচয় উদ্ধার অভিযানে। কিন্তু মাঝ পথেই অভিযান বাদ দিয়ে রুমে এসে পড়া লাগল বড় খালাম্মার চোখ রাঙ্গানিতে।রাতে বড় আপু গেল সাদ দুলাভাইয়ের সাথে বাইকে ঘুরতে ফ্যামিলি পারমিশনে। সাদ দুলাভাই বেশি দিন থাকবে দেশে তাই সে চায় বউয়ের সাথে একটু কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করতে। তাই বিয়ের প্রথম রাতেই বউকে নিয়ে ফারার। মানহা আপুর বর হুট করেই এসে হাজির। জামাই খাতির শেষে আপু ভাইয়াকে নিয়ে রুমের দোরে খিল দিয়েছে। মনে কষ্টে আমি প্রায় পাগলপার।সবাই জামাইর সাথে ঘুরতে পর্যন্ত চলে গেছে আমি হতভাগী জামাইয়ের পরিচয় পর্যন্ত জানি না। আহা কি কপাল আমার। রাতের খাওয়া শেষে আকাশে বিদুৎ চমকাতে শুরু করল। প্রচন্ড ঝড় আর বাতাস। সবাই প্রস্তাব দিল লুডু আর ক্যারাম খেলবে। যারা যারা খেলতে বসল তারা তো বসলই আর যারা না খেলতে পারলো তারাও গোল হয়ে বসে খেলা দেখতে লাগল। আমার আজকে বিয়ে হয়েছে আর আমি লুডু আর ক্যারাম খেলা দেখি। আস্তে করে উঠে আমি আমাদের রুমে চলে আসলাম এসে বারান্দায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছি আর মনের ভেতরে একটাই ভাবনা ঘোরপাক খাচ্ছে যে মানুষটা কে যে আমার জীবন সঙ্গী? কেন জানি না মনে হচ্ছি ঘরের ভেতরে গন্ধরাজ ফুল এর ঘ্রাণ আসছে। কিন্তু গন্ধরাজ ফুল আসবে কোথা থেকে আজব তো। কারেন্টটাও চলে গেল একটু পরে। চোখ বন্ধ করে শুধু বৃষ্টির শীতল ছোঁয়া অনুভব করছিলাম। হঠাৎ বিদুৎ চমকানোর আলোতে একপলকের জন্য দেখলাম রাসেল ভাই হাতে সাদা সাদা কি নিয়ে যেন হাঁটু গেড়ে আমার সামনে বসে আছে “……

চলবে
মারিয়া আফরিন নুপুর